📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. পুঁজি মুদারাবার বা ইবযার হওয়া নিয়ে বিতর্ক

📄 খ. পুঁজি মুদারাবার বা ইবযার হওয়া নিয়ে বিতর্ক


মুদারাবার দু পক্ষ মালিক ও কর্মীর মাঝে পুঁজি নিয়ে মুদারাবা বা ইবযা হওয়া নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। হানাফী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে এ সম্পদ দিয়েছি ইবযা হিসাবে, কর্মী বলল, অর্ধেক হারে মুদারাবা হিসাবে, তাহলে এক্ষেত্রে মালিকের কথাই গৃহীত হবে। যেহেতু কর্মীর কথা অনুযায়ী এটি মুদারাবা হলে কর্মী শর্তমাফিক লাভের অংশ পাবে। কিন্তু পুঁজির মালিক তাকে এই লাভ দিতে অসম্মত।

মালেকী আলেমগণ বলেন, যদি কর্মী মুদারাবা হওয়ার দাবি করে, মালিক বলে, আমি তোমাকে ইবযা হিসাবে দিয়েছি, যেন তুমি তা দ্বারা আমার জন্যে কাজ করতে পার। এ সময় মালিক শপথসহ যে কথা বলবে তা গ্রহণীয় হবে। সে দাবি করবে এটি মুদারাবা নয়, ফলে কর্মীকে পরিশ্রমের যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা বলে, পুঁজি ইবযা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এর লাভ এককভাবে আমার। কর্মী বলে, এ পুঁজি মুদারাবা হিসাবে দেওয়া হয়েছে, অতএব এর লাভ আমাদের দুজনের, তাহলে দুজনেই তার প্রতিপক্ষের কথা শপথসহ অস্বীকার করবে।

টিকাঃ
১৬৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০
১৬৪. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭; আল-খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২২৪
১৬৫. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৪

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 গ. পুঁজি মুদারাবার না-কি লুণ্ঠনের? এ নিয়ে বিতর্ক

📄 গ. পুঁজি মুদারাবার না-কি লুণ্ঠনের? এ নিয়ে বিতর্ক


হানাফী আলেমগণ বলেন, কর্মী যদি বলে, তুমি এ পুঁজি আমাকে দিয়েছ মুদারাবা হিসাবে। আমি তা নিয়ে কাজ শুরু করার আগেই তা ধ্বংস হয়ে গেছে। অপরদিকে পুঁজির মালিক বলল, তুমি এ টাকা লুট করে নিয়েছ। যদি দলিলহীন কেবল এমন দাবি হয়, তাহলে কর্মীকে এ লুণ্ঠনের অভিযোগের বিপরীতে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে না। কেননা, পুঁজির মালিক জরিমানা অত্যাবশ্যক করে এমন কোনো কারণ তার বক্তব্যে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।

যদি কর্মী সে পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করার পর তা ধ্বংস হয় তাহলে সে তা পরিশোধে দায়বদ্ধ থাকবে। কেননা, অন্যের সম্পদে তার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কর্তৃত্ব বা পরিচালনা প্রদর্শন করা তাতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কারণ। এখানে পুঁজির মালিক তাকে অনুমতি প্রদান না করা মূলত অর্থ প্রদানেরই অস্বীকৃতি প্রকাশ করছে।

টিকাঃ
১৬৬. আল-মাবসূত, খ. ২২, পৃ. ৯৪; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩৩৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘ. চুক্তি মুদারাবা না প্রতিনিধিত্ব তা নিয়ে বিরোধ

📄 ঘ. চুক্তি মুদারাবা না প্রতিনিধিত্ব তা নিয়ে বিরোধ


শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে মুদারাবা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক হয়। কর্মী বলে, তুমি আমাকে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসার জন্যে পুঁজি দিয়েছ। পক্ষান্তরে মালিক বলে, আমি তোমাকে প্রতিনিধি হিসাবে টাকা দিয়েছি। এক্ষেত্রে মালিক তার কথা শপথসহ বললে তা সত্যায়ন করা হবে। কারণ মৌলিক অবস্থা হচ্ছে, কাজের বিপরীতে কোনো কিছুই প্রদত্ত হয় না। এক্ষেত্রে কর্মী কাজ করার প্রেক্ষিতে মুদারাবার দাবি করেছে। কিন্তু তার পক্ষে কোনো দলিল না থাকার পরিস্থিতিতে পুঁজির মালিককে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে তা অস্বীকার করলে পুঁজি ও লাভ সবটাই মালিকের হাতে চলে আসবে। এ সময় ব্যবসার অংশ হিসাবে অপরকে তার কিছু দেওয়া জরুরি নয়। যদি তারা দুজনেই দলিল উপস্থাপন করে তবে আনসারী যা বলেছেন তা-ই প্রকাশ্য অভিমত, তাহলে কর্মীর দলিলটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, যেহেতু তার দলিলটিতে অধিক জ্ঞাতব্য রয়েছে।

শিহাব রামলী বলেন, মালিকের কথা শপথসহ গ্রহণ করা হবে। যেহেতু নিয়ম হচ্ছে, মূল বিষয়ে যার কথা গ্রহণীয় মূল বিষয়ের বৈশিষ্ট্য আলোচনায়ও তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। সেই সাথে জরিমানার বিধান থেকে রক্ষা করে কারো প্রতি এমন আস্থা না থাকাই স্বাভাবিক।

টিকাঃ
১৬৭. শারহুল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২২৩-২২৫
১৬৮. আসনাল মাতালিব ও হাশিয়া আর-রামালী, খ. ২, পৃ. ৩৯২; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঙ. কর্মী মুদারাবা চুক্তি অস্বীকার করা

📄 ঙ. কর্মী মুদারাবা চুক্তি অস্বীকার করা


হানাফী আলেমগণ বলেন, যদি কর্মী মুদারাবা অস্বীকার করে পুরোপুরিভাবে। অপরদিকে মালিক তাকে মুদারাবা হিসাবে পুঁজি যোগান দেওয়ার দাবি করে, তাহলে কর্মীর কথা গ্রহণীয় হবে। কেননা, পুঁজিদাতা দাবি করছে, সে তাকে পুঁজি দিয়েছে, তা কর্মী কজা করেছে। (কিন্তু যেহেতু পুঁজি দাতার কোনো দলিল নেই তাই যখন) কর্মী তা অস্বীকার করছে তার অস্বীকৃতিই গ্রহণ করা হবে।

যদি প্রথমে অস্বীকার করার পর স্বীকার করে, তাহলে আবু ইউসুফ-এর নিকট ইবনে সামাআ শুনেছেন, এমন লোক সম্পর্কে যে অপর একজনকে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্যে টাকা দেওয়ার পর এখন সে টাকা ফেরত চাইছে। এসময় দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, তুমি আমাকে কিছুই দাওনি। এরপর আবার তওবা ইসতেগফার করে বলল, হাঁ তুমি আমাকে মুদারাবা ব্যবসার পুঁজি হিসাবে এক হাজার দিরহাম দিয়েছ, তাহলে এ লোক হবে সেই পুঁজির জিম্মাদার। যেহেতু আমানতদার হিসাবে তার কাছে পুঁজি রাখা হয়েছিল। যদি আমানতদার ব্যক্তি তার কাছে রাখা আমানত অস্বীকার করে, তখন সে হয়ে যায় জিম্মাদার ও দায়বদ্ধ। এমনিভাবে কর্মীও দায়ী থাকবে, এক্ষেত্রে এই বিধান সাব্যস্ত করার কারণ, মুদারাবা চুক্তি অবশ্যই পালনীয় কোনো চুক্তি নয়। এটি হচ্ছে নিছক বৈধ ও অনুমোদিত চুক্তি, যা যে কোনো সময় ভেঙ্গে ফেলা যায়। তাই কর্মীর অস্বীকৃতিতে মুদারাবা বাতিল করা বা তুলে ফেলা হবে। মুদারাবা বাতিল ও রহিত হওয়ার পর কর্মীর কাছে যে পুঁজি রয়ে গেছে সে তার জন্যে দায়বদ্ধ থাকবে।

টিকাঃ
১৬৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০-১১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00