📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দুই. পুঁজির পরিমাণ নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ

📄 দুই. পুঁজির পরিমাণ নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ


যদি মালিক ও কর্মীর মাঝে পুঁজির পরিমাণ নিয়ে বিরোধ হয়, যেমন: মালিক বলল, আমি মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্যে দু হাজার দিরহাম দিয়েছি, কর্মী বলল, আপনি এক হাজার দিরহাম দিয়েছেন, তাহলে কর্মীর কথাই এ সময় গ্রহণ করা হবে। যেহেতু সে বিবাদী ও অভিযুক্ত এবং পুঁজির আমানতদার। তা ছাড়া যা কব্জা করা হয়েছে তাতে যে কজা করেছে তার কথা গৃহীত হয়, সে আমানতদার হোক বা জামিনদার হোক।

হানাফী আলেমগণ এক্ষেত্রে আরো কথা যুক্ত করেন। তারা বলেন, যদি পুঁজির পরিমাণ নিয়ে ঝগড়া করার সাথে সাথে লাভের পরিমাণ নিয়েও যদি বিতর্ক হয়, তবে পুঁজির মালিকের কথা কেবল লাভের পরিমাণে গ্রহণ করা হবে, যেহেতু তার পক্ষ থেকে পুঁজি প্রদত্ত হওয়ায় এ উপকার অর্জিত হয়েছে। এ সময় দুজনের যে-ই তার মতের বক্তব্যের পক্ষে দলিল দেবে তার সে দলিলই গৃহীত হবে। যদি উভয়ে দলিল দেয় তাহলে পুঁজি অধিক হওয়ার দাবি- যা পুঁজিদাতার দাবি- তা গৃহীত হবে।

টিকাঃ
১৫৮. আদ-দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৯২; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৬; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তিন. মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে বিরোধ

📄 তিন. মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে বিরোধ


মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ নানাভাবে হতে পারে। ফকীহগণ সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. পুঁজির সম্পদ মুদারাবা অথবা কর্জ হিসাবে নেওয়ার প্রশ্নে বিরোধ

📄 ক. পুঁজির সম্পদ মুদারাবা অথবা কর্জ হিসাবে নেওয়ার প্রশ্নে বিরোধ


পুঁজির সম্পদ পুঁজিদাতার নিকট থেকে কর্মী মুদারাবা হিসাবে নিয়েছে না কর্জ হিসাবে, তা নিয়ে যদি মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়, তবে এক্ষেত্রে হানাফী আলেমগণ যা বলেন তা হচ্ছে: যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে মুদারাবা চুক্তি করে এ অর্থ সম্পদ দিয়েছি। অপরদিকে কর্মী বলে, তুমি আমাকে ঋণ হিসাবে এ টাকা দিয়েছ। অতএব, এর লাভ শুধুই আমার, তাহলে এক্ষেত্রে পুঁজির মালিকের কথাই চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে। যেহেতু কর্জের কথা বলার মাধ্যমে কর্মী মূলত দাবি করছে, মালিক তাকে এ টাকার মালিক করে দিয়েছে। মালিক তার এ দাবি অস্বীকার করছে।

যদি কর্মী বলে, আপনি আমাকে মুদারাবা হিসাবে দিয়েছেন, মালিক বলল, না আমি তো কর্জ হিসাবে দিয়েছি, তাহলে কর্মীর কথা গৃহীত হবে। মালেকী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে মুদারাবা হিসাবে টাকা দিয়েছি। কর্মী বলল, না বরং কর্জ হিসাবে দিয়েছ, তাহলে কর্মীর কথা গৃহীত হবে, যেহেতু মালিক তার এ কথার দ্বারা লাভের দাবি করছে, যা দলিল ছাড়া বিশ্বাস করা হবে না। শাফেয়ী আলেমদের মতে, যখন কর্মী বলবে, টাকা দিয়েছি মুদারাবা হিসাবে; কর্মী বলে, কর্জ হিসাবে, সে সময় মূল পুঁজি ও লাভ উভয়টি বিদ্যমান, তাহলে ফতোয়া হিসাবে যা গৃহীত তা হচ্ছে, যে কর্জ হওয়ার দাবি করেছে অর্থাৎ কর্মী তার কথা গ্রহণ করা হবে। হাম্বলী আলেমগণ বলেন, যদি মালিক কর্মীকে ব্যবসার জন্যে পুঁজি প্রদানের পর তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়, মালিক বলে, অর্ধেক লাভের শর্তে মুদারাবার জন্যে টাকা দিয়েছি। অপরদিকে কর্মী বলে, এ টাকা কর্জ হিসাবে নিয়েছি, এক্ষেত্রে মালিকের কথা গ্রহণ করা হবে।

টিকাঃ
১৫৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০
১৬০. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭
১৬১. আসনাল মাতালিব ও হাশিয়া আর-রামালী, খ. ২, পৃ. ৩৯২; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭
১৬২. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২৩-৫২৪

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. পুঁজি মুদারাবার বা ইবযার হওয়া নিয়ে বিতর্ক

📄 খ. পুঁজি মুদারাবার বা ইবযার হওয়া নিয়ে বিতর্ক


মুদারাবার দু পক্ষ মালিক ও কর্মীর মাঝে পুঁজি নিয়ে মুদারাবা বা ইবযা হওয়া নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। হানাফী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে এ সম্পদ দিয়েছি ইবযা হিসাবে, কর্মী বলল, অর্ধেক হারে মুদারাবা হিসাবে, তাহলে এক্ষেত্রে মালিকের কথাই গৃহীত হবে। যেহেতু কর্মীর কথা অনুযায়ী এটি মুদারাবা হলে কর্মী শর্তমাফিক লাভের অংশ পাবে। কিন্তু পুঁজির মালিক তাকে এই লাভ দিতে অসম্মত।

মালেকী আলেমগণ বলেন, যদি কর্মী মুদারাবা হওয়ার দাবি করে, মালিক বলে, আমি তোমাকে ইবযা হিসাবে দিয়েছি, যেন তুমি তা দ্বারা আমার জন্যে কাজ করতে পার। এ সময় মালিক শপথসহ যে কথা বলবে তা গ্রহণীয় হবে। সে দাবি করবে এটি মুদারাবা নয়, ফলে কর্মীকে পরিশ্রমের যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা বলে, পুঁজি ইবযা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এর লাভ এককভাবে আমার। কর্মী বলে, এ পুঁজি মুদারাবা হিসাবে দেওয়া হয়েছে, অতএব এর লাভ আমাদের দুজনের, তাহলে দুজনেই তার প্রতিপক্ষের কথা শপথসহ অস্বীকার করবে।

টিকাঃ
১৬৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০
১৬৪. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭; আল-খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২২৪
১৬৫. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00