📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 এক. মালিক ও কর্মীতে ব্যাপকতা ও সংকোচন নিয়ে বিরোধ

📄 এক. মালিক ও কর্মীতে ব্যাপকতা ও সংকোচন নিয়ে বিরোধ


হানাফী আলেমগণ মালিক ও কর্মীতে ব্যাপকতা ও সীমিত হওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা বলেন, যদি তাদের মাঝে ব্যাপকতা ও সংকোচন নিয়ে মতবিরোধ হয় তবে যে ব্যাপকতার দাবি করবে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। এটি এভাবে হতে পারে, মালিক ও কর্মীর কোনো একজন দাবি করবে ব্যবসাপণ্য ব্যাপক হওয়ার বা ব্যাপক স্থানে উপস্থিত হয়ে ব্যবসা করার বা যে কোনো লোকের সাথে ব্যবসা করার। অপরদিকে অপরজন দাবি করবে নির্ধারিত এক বা একাধিক পণ্যের, নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসা করার, নির্দিষ্ট লোকের সাথে ব্যবসা করার। এ সময় যে ব্যাপকতার দাবি করবে তার কথা গৃহীত হবে, যেহেতু তার কথা ব্যবসার উদ্দেশ্যের অনুকূল। তা হচ্ছে লাভ অর্জন। ব্যবসায়ে যত ব্যাপকতা গৃহীত হবে তত লাভের দিক উন্মুক্ত হবে।

যদি ব্যবসার কোনো পর্যায়ে শর্তযুক্ত করা বা শর্তমুক্ত থাকা নিয়ে মতবিরোধ হয় তাহলে যে শর্তমুক্ত থাকার দাবি করবে তার কথা গ্রহণ করা হবে, যেহেতু তার কথা ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য লাভ অর্জনের অধিক উপযোগী। হাসান ইবনে যিয়াদ বলেন, এ উভয়ক্ষেত্রে পুঁজিদাতার কথা গ্রহণ করা হবে। বলা হয়েছে, এটি যুফার-এর কথা। তারা এর কারণ হিসাবে বলেন, ব্যবসার অনুমতি মালিকের পক্ষ থেকে আসার দরুনই এ ব্যবসা হচ্ছে, তাই তার কথাই এখানে গৃহীত হবে।

যদি মতবিরোধের চূড়ান্ত পর্যায়ে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উভয়েই দলিল প্রদান করে, তাহলে মতবিরোধ যদি ব্যাপকতা ও নির্ধারণ নিয়ে হয় তাহলে ব্যাপকতার পক্ষে যে দলিল উপস্থিত করবে তার দলিল গ্রহণ করা হবে। যেহেতু এ দলিল দ্বারা আধিক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। অপরদিকে মতবিরোধ যদি শর্তযুক্ত বা শর্তমুক্ত হওয়া নিয়ে হয়, তাহলে যার দলিল শর্তযুক্ত অবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে তা গৃহীত হবে, যেহেতু তার দলিল আধিক্য প্রতিষ্ঠা করে। মালিক ও কর্মী দুজনেই সীমিত ও নির্ধারিত হওয়ার ক্ষেত্রে একমত হলেও যদি তাদের নির্ধারণে পার্থক্য হয়। যেমন মালিক বলল, আমি তোমাকে মুদারাবা পদ্ধতিতে গমের ব্যবসা করতে অর্থ দিয়েছি, কর্মী বলল, খাদ্যদ্রব্যর ব্যবসা করতে দিয়েছেন, তাহলে সকল ইমামের মতে এক্ষেত্রে পুঁজিদাতার কথা গৃহীত হবে।

টিকাঃ
১৫৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৯; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৪, পৃ. ৩২৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দুই. পুঁজির পরিমাণ নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ

📄 দুই. পুঁজির পরিমাণ নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ


যদি মালিক ও কর্মীর মাঝে পুঁজির পরিমাণ নিয়ে বিরোধ হয়, যেমন: মালিক বলল, আমি মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্যে দু হাজার দিরহাম দিয়েছি, কর্মী বলল, আপনি এক হাজার দিরহাম দিয়েছেন, তাহলে কর্মীর কথাই এ সময় গ্রহণ করা হবে। যেহেতু সে বিবাদী ও অভিযুক্ত এবং পুঁজির আমানতদার। তা ছাড়া যা কব্জা করা হয়েছে তাতে যে কজা করেছে তার কথা গৃহীত হয়, সে আমানতদার হোক বা জামিনদার হোক।

হানাফী আলেমগণ এক্ষেত্রে আরো কথা যুক্ত করেন। তারা বলেন, যদি পুঁজির পরিমাণ নিয়ে ঝগড়া করার সাথে সাথে লাভের পরিমাণ নিয়েও যদি বিতর্ক হয়, তবে পুঁজির মালিকের কথা কেবল লাভের পরিমাণে গ্রহণ করা হবে, যেহেতু তার পক্ষ থেকে পুঁজি প্রদত্ত হওয়ায় এ উপকার অর্জিত হয়েছে। এ সময় দুজনের যে-ই তার মতের বক্তব্যের পক্ষে দলিল দেবে তার সে দলিলই গৃহীত হবে। যদি উভয়ে দলিল দেয় তাহলে পুঁজি অধিক হওয়ার দাবি- যা পুঁজিদাতার দাবি- তা গৃহীত হবে।

টিকাঃ
১৫৮. আদ-দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৯২; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৬; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তিন. মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে বিরোধ

📄 তিন. মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে বিরোধ


মুদারাবা চুক্তি সংগঠন নিয়ে মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ নানাভাবে হতে পারে। ফকীহগণ সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. পুঁজির সম্পদ মুদারাবা অথবা কর্জ হিসাবে নেওয়ার প্রশ্নে বিরোধ

📄 ক. পুঁজির সম্পদ মুদারাবা অথবা কর্জ হিসাবে নেওয়ার প্রশ্নে বিরোধ


পুঁজির সম্পদ পুঁজিদাতার নিকট থেকে কর্মী মুদারাবা হিসাবে নিয়েছে না কর্জ হিসাবে, তা নিয়ে যদি মালিক ও কর্মীর মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়, তবে এক্ষেত্রে হানাফী আলেমগণ যা বলেন তা হচ্ছে: যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে মুদারাবা চুক্তি করে এ অর্থ সম্পদ দিয়েছি। অপরদিকে কর্মী বলে, তুমি আমাকে ঋণ হিসাবে এ টাকা দিয়েছ। অতএব, এর লাভ শুধুই আমার, তাহলে এক্ষেত্রে পুঁজির মালিকের কথাই চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে। যেহেতু কর্জের কথা বলার মাধ্যমে কর্মী মূলত দাবি করছে, মালিক তাকে এ টাকার মালিক করে দিয়েছে। মালিক তার এ দাবি অস্বীকার করছে।

যদি কর্মী বলে, আপনি আমাকে মুদারাবা হিসাবে দিয়েছেন, মালিক বলল, না আমি তো কর্জ হিসাবে দিয়েছি, তাহলে কর্মীর কথা গৃহীত হবে। মালেকী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক বলে, আমি তোমাকে মুদারাবা হিসাবে টাকা দিয়েছি। কর্মী বলল, না বরং কর্জ হিসাবে দিয়েছ, তাহলে কর্মীর কথা গৃহীত হবে, যেহেতু মালিক তার এ কথার দ্বারা লাভের দাবি করছে, যা দলিল ছাড়া বিশ্বাস করা হবে না। শাফেয়ী আলেমদের মতে, যখন কর্মী বলবে, টাকা দিয়েছি মুদারাবা হিসাবে; কর্মী বলে, কর্জ হিসাবে, সে সময় মূল পুঁজি ও লাভ উভয়টি বিদ্যমান, তাহলে ফতোয়া হিসাবে যা গৃহীত তা হচ্ছে, যে কর্জ হওয়ার দাবি করেছে অর্থাৎ কর্মী তার কথা গ্রহণ করা হবে। হাম্বলী আলেমগণ বলেন, যদি মালিক কর্মীকে ব্যবসার জন্যে পুঁজি প্রদানের পর তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়, মালিক বলে, অর্ধেক লাভের শর্তে মুদারাবার জন্যে টাকা দিয়েছি। অপরদিকে কর্মী বলে, এ টাকা কর্জ হিসাবে নিয়েছি, এক্ষেত্রে মালিকের কথা গ্রহণ করা হবে।

টিকাঃ
১৫৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০
১৬০. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭
১৬১. আসনাল মাতালিব ও হাশিয়া আর-রামালী, খ. ২, পৃ. ৩৯২; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭
১৬২. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২৩-৫২৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00