📄 শরীয়তসম্মত মুদারাবা হলে মালিক যা কিছুর অধিকারী হয়
মুদারাবা শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় যথাযথ নিয়মে করা হলে মালিক শর্ত মোতাবেক লাভের অধিকারী হয়- যদি ব্যবসায়ে লাভ হয়। আর যদি লাভ না হয় তাহলে কর্মীর নিকট তার কোনো কিছু পাওনা থাকে না।
টিকাঃ
১৪৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৮
📄 মুদারাবার সম্পদে যাকাত
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, মুদারাবা ব্যবসাতে যে পুঁজি বিনিয়োগ করা হয় তার মালিক তার যাকাত প্রদান করবে। ব্যবসায়ে যা লাভ হবে তার যাকাত নিয়ে ফকীহদের নানা মত হয়েছে, যা বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে যাকাত অধ্যায়ে।
টিকাঃ
১৫০. সারাখসী প্রণীত আল-মাবসূত, খ. ২, পৃ. ২০৪; আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ১০৮; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ৯৮; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ৩১; আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৩৮
📄 বাতিল মুদারাবার প্রতিক্রিয়া
হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, মুদারাবা বাতিল বা বিনষ্ট হলে যে সকল বিষয় ধারাবাহিকভাবে সাব্যস্ত হয় সে সব হচ্ছে: এক. যদি লাভ হয় তবে সবটুকু পাবে পুঁজির মালিক। কেননা লাভ হচ্ছে তার সম্পদে সংঘটিত বৃদ্ধি। কর্মী সে লাভের এক অংশের অধিকারী হয় শর্ত করার প্রেক্ষিতে। সে শর্ত এখন আর কার্যকর থাকবে না, যেহেতু মুদারাবা যখন বাতিল হয়ে যায় তার শর্তগুলোও বাতিল হয়ে যায়। তাই কর্মী এখন আর লাভের অংশ পাবে না, ফলে সবটুকু লাভ চলে যাবে মালিকের হাতে। দুই. ব্যবসায়ে লাভ হোক বা লোকসান, কর্মী তার কাজের উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবে। এর কারণ, সে যে পরিশ্রম করে তার বিনিময়ে লাভের নির্দিষ্ট অংশের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যেহেতু সে শর্ত বাতিল হয়েছে তাই তার সে নির্দিষ্ট অংশও বাতিল হয়েছে। লাভের আলোচনা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে এখন তার পরিশ্রম তাকে ফিরিয়ে দেওয়া কর্তব্য। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়, তাই যথাযথ পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে। বাতিল মুদারাবা হচ্ছে বাতিল ইজারাতুল্য। ইজারা বাতিল হওয়ার দরুন মজুর পূর্বনির্ধারিত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী থাকে না। সে যথাযথ পরিশ্রম বিবেচনায় পারিশ্রমিক পায়।
হানাফী আলেমদের মতে, কর্মী যথাযথ পারিশ্রমিক পাবে শর্তহীনভাবে অর্থাৎ ব্যবসায়ে লাভ হোক বা না হোক। এটিই তাদের গৃহীত মত। শর্তমত দেওয়া হলে লাভের যে অংশ দেওয়া হতো পারিশ্রমিক তা থেকে বেশি হবে না। মুহাম্মদ রহ. বলেন, পারিশ্রমিক যা-ই হবে তা দেওয়া হবে। তা নির্ধারিত লাভের তুলনায় বেশি বা কম, তা দেখা হবে না। আবু ইউসুফ রহ. বলেন, সম্পদে যদি কোনো লাভ না আসে তাহলে কর্মীকেও কোনো বেতন ভাড়া দেওয়া হবে না। ইবনে আবিদীন বলেন, এভাবে কর্মীকে পারিশ্রমিক প্রদানের বিধান যথাযথ ও সঠিক।
মালেকী আলেমদের মুদারাবা সম্পর্কে মূলনীতি হচ্ছে, যে ব্যবসাকর্ম মুদারাবার মূল বৈশিষ্ট্য থেকে বের হয়ে গেছে তাতে কর্মী পাবে যথাযথ পারিশ্রমিক। যেটি মুদারাবার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে রাখবে- তবে তাতে কোনো শর্ত যোগ করা হয়েছে যা মুদারাবার চাহিদার বিপরীত, সেক্ষেত্রে এটি মুদারাবাতুল্য বলে বিবেচিত হবে এবং শর্ত অনুযায়ী লাভ বণ্টিত হবে। তারা বলেন, যখন মুদারাবা বাতিল বা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় তখন কর্মীর প্রাপ্য বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন হয়ে থাকে।
টিকাঃ
১৫১. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১২৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১১-৫১২
১৫২. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৪
১৫৩. আল-শারহুস সাগীর ও বুলগাতুস সালিক, খ. ৩, পৃ. ৬৮৬-৬৯০; হাশিয়া দুসূকী ও আশ-শারহুস কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৫১৯
📄 ফাসিদ মুদারাবাতে যা করা জায়েয
আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা গ্রন্থে আল-ফুসূল আল-ইমাদিয়্যা গ্রন্থের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, মুদারাবা যথাযথ ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে কর্মী পণ্য কেনা, বেচা, ভাড়া দেওয়া, পুঁজির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি যেমন করতে পারে, মুদারাবা ফাসেদ হলেও করতে পারে।
শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমগণ বলেন, ফাসেদ মুদারাবাতে কর্মীর সকল কার্যক্রম কার্যকর হয়, যেমন মুদারাবা সহীহ ও সঠিক হলে হয়ে থাকে। এর কারণ, পুঁজির মালিক সহীহ মুদারাবার ন্যায়, ফাসেদ হলেও তাতে কর্মীর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের অনুমতি প্রদান করেছে। হানাফী ও হাম্বলী আলেমগণ বলেন, মুদারাবা ফাসেদ ও ত্রুটিপূর্ণ হলে তাতে কর্মী কাজ করার দরুন তাকে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে না। যেহেতু নিয়ম হচ্ছে, মুদারাবা সহীহ হলে যে কাজে জরিমানা নেই, ফাসেদ হলে তাতেও জরিমানা নেই।
টিকাঃ
১৫৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ২৯৬
১৫৫. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১২৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৮-২২৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১১-৫১২
১৫৬. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১২