📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চার. কর্মী যা মোটেও করতে পারবে না

📄 চার. কর্মী যা মোটেও করতে পারবে না


(مَا لَيْسَ الْمُضَارِبِ عَمَلُهُ أَصْلًاً)
ফকীহগণ বলেন, কর্মী হারাম কোনো বস্তু কিনতে পারবে না। যেমন : মৃত জন্তু, রক্ত, মদ ও শুকর ইত্যাদি। ১০৫ এর কারণ, মুদারাবা চুক্তিতে সে সকল কাজেরই অনুমোদন বিদ্যমান যে সব কাজ দ্বারা লাভ অর্জিত হয়। লাভ হবে পণ্য কেনা ও বেচার মাধ্যমে। কিন্তু কেনার পরও যদি মালিক না হওয়া যায় তাহলে তাতে লাভ আসে না। কোনো কিছু কেনার মাধ্যমে মালিক হওয়ার পরও যদি সে তা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাতেও লাভ আসে না। তাই যে সব ক্ষেত্রে লাভ আসবে না সেগুলো অনুমোদনের আওতায়ও আসবে না।

যদি এ সকল হারাম বস্তুর কোনোটি কর্মী কেনে তাহলে তা তার নিজের জন্যে কেনা ধর্তব্য হবে; মুদারাবার পণ্য হিসাবে তা গণ্য হবে না। যদি সে হারাম বস্তু কেনার সময় সে মুদারাবার পুঁজি থেকে মূল্য প্রদান করে তবে তার জরিমানা প্রদান করবে। ১০৬

টিকাঃ
১০৫. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫১
১০৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলি

📄 মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলি


(مَا لَيْسَ لِلْمُضَارِبِ عَمَلُهُ أَصْلًاً)
হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলির প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল বিবেচনা করে এগুলোকে দুভাবে বিভক্ত করেছেন : কতক শর্ত মুদারাবা বাতিল করে, কতক বহাল রাখে বাতিল করে না।

তারা এ কথায় একমত, যদি ত্রুটিপূর্ণ কোনো শর্তের দরুন লাভে কার কতটুকু অংশ তা অজানা হয়ে যায় তাহলে তা মুদারাবা বাতিল করে দেবে। কিন্তু যদি শর্তটি লাভের অংশ অজানা বা অস্পষ্ট না করে তাহলে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার দরুন শর্তটিই বাতিল হয়ে যাবে, মুদারাবা সহীহ থাকবে। এটি হানাফীদের অভিমত এবং হাম্বলী আলেমদেরও এটি সর্বাধিক প্রকাশ্য ও গৃহীত মত।

কাসানী বলেন, ত্রুটিপূর্ণ শর্তাবলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, কোনো শর্ত যখন কোনো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে তা যদি লাভের পরিমাণে অজ্ঞতা সৃষ্টি করে তাহলে তা চুক্তি বাতিল করে দেবে। কেননা মুদারাবাতে লাভ অর্জন হচ্ছে চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। সে মূল বিষয়ই যদি অজানা থাকে তাহলে তা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। কিন্তু যদি শর্তটি লাভের পরিমাণে অজ্ঞতা সৃষ্টি না করে তাহলে সে শর্তটি বাতিল হয়ে যায়, মুদারাবা চুক্তিটি বহাল থাকে। যেহেতু এটি হচ্ছে এমন চুক্তি, লাভ কজা করার ওপর যার সহীহ হওয়া নির্ভরশীল ও স্থগিত থাকে। তাই যে শর্ত চুক্তিতে অতিরিক্ত, যা লাভের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত নয় তা চুক্তি বাতিল করবে না। যেমন মুদারাবার কর্মীর বন্ধক রাখা বা দান করার শর্ত করা। সেই সাথে এ বিষয়টিও এখানে লক্ষণীয়, মুদারাবা হচ্ছে পুঁজির মালিকের পক্ষ হতে কর্মীর প্রতিনিধিত্ব। প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটিপূর্ণ শর্ত হলে তা কার্যকর ও গ্রহণীয় হয় না। ১০৭

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, ত্রুটিপূর্ণ শর্ত মোট তিন প্রকার :
এক. এমন শর্ত যা মুদারাবার চাহিদা ও মেজাযের পরিপন্থী। যেমন, মুদারাবা বাধ্যতামূলক করা (অথচ এটি ঐচ্ছিক), নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মী বহাল রাখার শর্ত, যার কাছ থেকে পণ্য কেনা হয়েছে তাকে ছাড়া আর কারো কাছে তা বিক্রি না করার শর্ত করা, পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনার পর সে দামে বা তা থেকে আরো কম দামে তা বিক্রি করার শর্ত। এ সকল শর্তই ত্রুটিপূর্ণ ও বাতিল যোগ্য শর্তাবলি, যেহেতু এগুলো মুদারাবার মূল লক্ষ্যের বিপরীত (যেমন শেষ শর্ত), তা লাভ অর্জনে প্রতিবন্ধক 'অথবা সে শর্ত মুদারাবা বাতিল করতে বাধা দেয় (যেমন প্রথম শর্ত)। অথচ মুদারাবা ঐচ্ছিক বিষয়, আবশ্যিক নয়।

দুই. যে সকল শর্ত মুদারাবাতে কার কী পরিমাণ লাভ তা বুঝতে বাধা দেয়। যেমন, শর্ত করা হলো, কর্মীর জন্যে লাভের অংশ থাকবে, কিন্তু তা কতটুকু তা বলা হলো না। দু হাজার থেকে এক বা দু থলের মধ্য থেকে এক থলের লাভ কর্মীর জন্যে বরাদ্দ করা। এ সকল শর্ত ত্রুটিপূর্ণ হিসাবে বাতিল। কেননা, এ ধরনের শর্তে কর্মীর ও মালিকের লাভে কার কতটুকু অংশ তা কারো জানা থাকে না অথবা লাভটা একেবারে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। অথচ যথাযথভাবে সম্পাদিত মুদারাবার শর্ত হচ্ছে, তাতে লাভের পরিমাণ উভয় পক্ষের জানা থাকতে হবে।

তিন. যা মুদারাবা চুক্তির জন্যে মঙ্গলজনকও নয়, তার চাহিদা ও দাবির অনুকূলও নয়- এমন বিষয় শর্ত করা। যেমন : কর্মীকে ক্ষতির অংশ প্রদান করা, কর্মী যা কেনাবেচা করে তাতে কর্মীকে জিম্মাদার বানানো অথবা পুঁজি হিসাবে যা দেওয়া হয়েছে তা ভিন্ন অন্য কিছু দিয়ে ব্যবসা করা ইত্যাদি শর্ত করা। এসবই হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ ও বাতিলযোগ্য শর্তাবলি।

যে ত্রুটিপূর্ণ শর্ত করার দরুন লাভের পরিমাণ অজানা থাকবে তার প্রেক্ষিতে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ব্যবসায়ে লাভ হচ্ছে মূল উদ্দিষ্ট বিষয়। তাই তাতে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে তা মূল চুক্তিটিকেই ত্রুটিপূর্ণ করে দেবে। তা ছাড়া লাভের পরিমাণ অজানা থাকলে সঠিক পরিমাণ লাভ হস্তান্তর করা হবে না। সঠিক পরিমাণ জানা না থাকার দরুন দুপক্ষের দুজন ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ ধারণা করবে, ফলে মতান্তর ও ঝগড়া পর্যন্ত তা গড়াবে। কর্মীকে মালিক লাভ হিসাবে কত দেবে, কাজ শেষ না করা পর্যন্ত কর্মী তার কিছুই জানবে না। অথচ কোনো লেনদেনে বা চুক্তিতে মতান্তর, ঝগড়া বা অজ্ঞানতায় থাকার পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বাতিল হয়ে যায়।

এ ধরনের শর্ত ব্যতীত অন্য সকল ত্রুটিপূর্ণ শর্ত সম্পর্কে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল তার দুটি মতের মধ্যে অধিকতর প্রকাশ্য মতটিতে বলেছেন, এ ধরনের শর্ত থাকার পরও চুক্তিটি সহীহ হবে। যেহেতু এটি এমন চুক্তি যার ফলাফল অজানা থাকলেও তা সহীহ হয়। তাই বিবাহ, তালাক বা গোলামের মুক্তিদান ইত্যাদি ফাসেদ শর্ত (ত্রুটিপূর্ণ শর্ত) উল্লেখ করা হলেও চুক্তি বহাল থাকবে; বাতিল হবে না। কাজী ইয়ায ও আবুল খিতাব তাদের অপর মতটি বর্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে, এ ধরনের শর্ত মুদারাবা চুক্তি বাতিল করে দেবে। যেহেতু শর্তটি ত্রুটিযুক্ত, তাই তা চুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ করে দেবে। ১০৮

টিকাঃ
১০৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৬
১০৮. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭০-৭১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 নিম্নে আমরা কতক ফাসেদ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি

📄 নিম্নে আমরা কতক ফাসেদ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 এক. ব্যবসা কাজে মালিকের অংশগ্রহণের শর্ত করা

📄 এক. ব্যবসা কাজে মালিকের অংশগ্রহণের শর্ত করা


(شَرْطُ اشْتَرَاكَ الْمَالِكَ فِي الْعَمَلِ)
হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী আলেমদের এবং হাম্বলী আলেমদের মাঝে ইবনে হামেদ ও কাজী ইয়ায-এর মত হচ্ছে, যদি ব্যবসাকাজে মালিকের অংশগ্রহণের শর্ত করা হয় তাহলে তা মুদারাবা বাতিল করে দেবে। এর কারণ, মুদারাবাতে প্রদত্ত পুঁজি হচ্ছে আমানত। তাই অন্য আমানতের ন্যায় পুঁজি কর্মীর হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত আমানত রাখা সম্পন্ন হবে না। এ অবস্থায় যদি পুঁজিদাতার ব্যবসায়িক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত করা হয় তাহলে পুঁজি কর্মীর হাতে হস্তান্তর এবং তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে দেওয়া বাস্তবায়িত হবে না। যেহেতু কাজ করার প্রেক্ষিতে পুঁজিতে তারও নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে, যা পূর্ণ হস্তান্তরে বাধার সৃষ্টি করবে। ১০৯

তবে হাম্বলী ফকীহদের গৃহীত মত ও মাযহাব হচ্ছে, যে পুঁজি সরবরাহ করবে এ উদ্দেশ্যে যে, তা নিয়ে সে এবং অপর ব্যক্তি ব্যবসা করবে, তাতে যা লাভ হবে তা তাদের দুজনের মাঝে বণ্টিত হবে, সে চুক্তি সহীহ হবে। ১১০

টিকাঃ
১০৯. হাশিয়া শালাবী বিহামিশ তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৫, পৃ. ৫৬; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬০৯; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১১৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩০৯-৩১০
১১০. আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪৩২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00