📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 কর্মীর ব্যবসা উপলক্ষে সফর করা

📄 কর্মীর ব্যবসা উপলক্ষে সফর করা


মুদারাবা ব্যবসার পুঁজি নিয়ে কর্মী সফর করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ফকীহগণ এখতেলাফ করেছেন। হানাফী ও মালেকী মাযহাবের আলেমদের মত, যা হাম্বলী আলেমদের বিশুদ্ধ মত হিসাবে মাযহাবে গৃহীত, বুয়াইতী বর্ণনা করেছেন, এটি শাফেয়ীদেরও একটি মত, পুঁজির মালিক যদি কোনো শর্তারোপ না করে ব্যবসা করার নিছক অনুমতি প্রদান করে, তাহলে ব্যবসা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও সফর করা কর্মীর জন্যে জায়েয। কেননা কোনো শর্তারোপ ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া এ কথাই বোঝায়, ব্যবসা উপলক্ষে যা কিছু করতে হয়, সচরাচর সকলে যা করে সবই সে করতে পারবে। সে হিসাবে সে সফরও করতে পারবে।

তা ছাড়া মুদারাবাতে উদ্দেশ্যই হচ্ছে পুঁজিতে বৃদ্ধি ঘটানো এবং লাভ অর্জন। তা ব্যবসার মাধ্যমে যেভাবে আরো বেশি অর্জিত হয়, কর্মীর তা করাই বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া ব্যবসার জন্যে কোনো স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি, সুতরাং কর্মী পুঁজি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতেই পারে। নির্ধারিত স্থান না থাকাই এখানে ধর্তব্য হবে। তা ছাড়া মুদারাবা শব্দটিও সফরের ইঙ্গিত প্রদান করে, যেহেতু শব্দটি নির্গত হয়েছে الضرب থেকে; যার এক অর্থ হচ্ছে দেশ বিদেশ সফর করা জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে। পবিত্র কুরআনেও এ অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে : وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত কল্যাণ (রিজিক) অন্বেষণ করে।”৮৮

আবু হানিফার বক্তব্য উপস্থাপন করে আবু ইউসুফ বলেন, যদি পুঁজিদাতা ও কর্মী উভয়ে কুফার অধিবাসী, এ শহরে থাকাবস্থাতেই পুঁজিদাতা তার কর্মীকে পুঁজি বুঝিয়ে দেয়, তাহলে কর্মীর এ পুঁজি নিয়ে কোথাও সফরে যাওয়ার অধিকার নেই। কিন্তু যদি কুফা শহর ব্যতীত অন্য কোথাও এ হস্তান্তরকর্ম সংঘটিত হয়, তাহলে কর্মী এ পুঁজি নিয়ে যে কোনো স্থানে যেতে পারবে। তিনি এমনটা বলেন এ জন্যে, পুঁজি নিয়ে নানা স্থানে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ; যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিদ্যমান। তাই তা নিয়ে কোথাও যাওয়া কর্মীর জন্যে জায়েয হবে না। তবে যদি পুঁজিদাতা প্রকাশ্যভাবে বা আকারে ইঙ্গিতে অনুমতি প্রদান করে তবে কর্মীর তা নিয়ে সফর করা জায়েয হবে। এ প্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে দেখা গেল, পুঁজিদাতা নিজ শহরে থেকেই তার কর্মীকে পুঁজি প্রদান করেছে, সেক্ষেত্রে মালিকের পক্ষ থেকে কর্মীর পুঁজি নিয়ে সফর করার প্রকাশ্য বা ইঙ্গিতে কোনোভাবেই অনুমতি না দেওয়াই প্রকাশিত হয়েছে। তাই এ অবস্থায় কর্মী পুঁজি নিয়ে সফরে যেতে পারবে না। কিন্তু পুঁজির মালিক যখন তার কর্মীর হাতে পুঁজি প্রদান করে অন্য কোনো শহরে যা তাদের দুজনের কারো শহর নয়, এর দ্বারা এ পুঁজি নিজ শহরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি বোঝা যায়। যেহেতু নিজের শহরে ব্যবসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ সে শহর বাদ দিয়ে অন্য কোনো শহরে ব্যবসা করবে, এটা কারো স্বভাব নয়। তাই এর দ্বারা ইঙ্গিতে এ কথাই বোঝা যায়, পুঁজি নিয়ে তার নিজ শহরে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।

মালেকী আলেমগণ বলেন, পুঁজি নিয়ে কর্মী ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পূর্বেই যদি পুঁজিদাতা কর্মীকে পুঁজি নিয়ে সফর করার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান না করে এবং নিষেধ না করে, তাহলে কর্মী সে পুঁজি নিয়ে সফর করতে পারে। কিন্তু যদি ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে পুঁজির মালিক তাকে বাধা প্রদান করে, তাহলে এ বাধা প্রদান চুক্তি সম্পাদনের পরে হোক, কর্মীর তা নিয়ে সফর করা জায়েয হবে না। যদি কর্মী নিষেধ অমান্য করে সফর করে, তাহলে তাকে এরপর ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু যদি কর্মী ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পর মালিক নিষেধ করে, কর্মীকে যেহেতু মালিকের নিষেধ করার তখন অধিকার ছিল না, তাই তার এখন ক্ষতিপূরণ নেওয়ারও অধিকার থাকবে না। ৮৯

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক সফরের অনুমতি বা নির্দেশ দেয় অথবা নিষেধ করে অথবা সুস্পষ্ট ভাষায় না হলেও ইশারা ইঙ্গিতে তার অনুমতি বা নিষেধ বুঝতে পারা যায়, তাহলে মালিক যা ইচ্ছা করবে তা নির্ধারিত হবে। ফলে সে যা আদেশ বা অনুমতি দেবে তা কার্যকর হবে। যদি নিষেধ করে তবে তা নিষিদ্ধ হবে। মালিক অনুমতি বা নির্দেশ দিক বা নিষেধ করুক, যদি ভীতিকর স্থান হয় তাহলে কর্মী সেখানে কিছুতেই সফরে যাবে না। এমনিভাবে পুঁজিদাতা যদি শর্তহীনভাবে যে কোনো স্থানে সফরের অনুমতি প্রদান করে তবুও কর্মীর ভয়ংকর কোনো পথে বা ভীতিপূর্ণ কোনো শহরে বন্দরে যাওয়া বৈধ হবে না। যদি এ ধরনের জায়গায় যাওয়ার পর তার ক্ষতি সাধিত হয় তাহলে কর্মী তার ক্ষতিপূরণের জিম্মাদার হবে। কেননা তার জন্যে যা অনুচিত ছিল সে তা করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ৯০

শাফেয়ী আলেমদের নিকট যা অধিক আলোচিত মত, এটি হাম্বলীদেরও একটি মত, তা হলো, কর্মী পুঁজি নিয়ে কোনো স্থানে যাওয়া, যদি স্থানটি নিকটবর্তীও হয়, পথ যদি নিরাপদ ও শঙ্কাহীনও থাকে, মালিকের অনুমতি না থাকলে তা জায়েয নয়। সফরের প্রস্তুতি নেওয়াও তার জন্যে যথাযথ হবে না। যেহেতু সফরে নানা বিপদের আশঙ্কা থাকে। আবু ইউসুফ রহ.-এর নিকট যারা শিক্ষাগ্রহণ করেছে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি তাঁরও একটি মত। ৯১

শাবরামাল্লিসী বলেন, যদি এমন জায়গা বা বাজারে যাওয়া হয় যা কর্মীর এলাকার নিকটবর্তী হলেও সেখানে কর্মীর এলাকার লোকেরা বেচাকেনার জন্যে সচরাচর যায় না, তা পুঁজির মালিকও জানে; তাহলে সেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু যদি তেমন না হয়, বরং এ এলাকার লোকজন সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করে, তবে তা নিষেধের আওতায় পড়বে না। এভাবে বিষয়টি সাধারণের অভ্যাস ও প্রচলনের সাথে সম্পর্কিত হবে।

শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা তার কর্মীর সাথে মুদারাবা চুক্তি করে এমন স্থানে যা বসবাসের উপযোগী নয়, যেমন মরুভূমি এলাকায়, তাহলে এটিই স্বাভাবিক যা আযরাঈও বলেছেন, যেখানে বাস ও ব্যবসা করার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান সেখানে পুঁজিসহ চলে যাওয়া জায়েয হবে। এরপর তার এ আবাসস্থল ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্যে নতুন করে সফর করা জায়েয হবে না। অবশ্য মালিক অনুমতি দিলে তা-ও জায়েয হবে অনুমতির ভিত্তিতে। তাই নির্দিষ্ট স্থানের অনুমতি দিলে সেখানেই সফর সীমিত রাখতে হবে। কোনো স্থান নির্ধারণ না করলে সে সকল স্থানে যাওয়া যাবে যে সব স্থানে এলাকার লোকদের নিরাপদ চলাচল রয়েছে।

এ আলোচনায় এ কথাই সাব্যস্ত হলো, প্রদত্ত পুঁজিতে পুঁজিদাতার আর কোনো কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট থাকবে না, মুদারাবা বিশুদ্ধ নিয়মে করতে হলে এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। বিষয়টি এতোটাই পালনীয় যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সম্পদ তার পিতা বা পিতার অবর্তমানে অসী কাউকে মুদারাবা হিসাবে প্রদান করে, তাতে সে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাজে অংশী হওয়ার শর্ত করে, তাহলেও মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সে কমবয়সী হোক, সে হলো পুঁজিদাতা, তাই তার কর্তৃত্ব থাকায় এখানে পুঁজি হস্তান্তর ও সমর্পণ বাস্তবায়িত হবে না। ৯২

যদি এমন হয়, কর্মী যে শহরে গিয়েছে সেখানে অন্য জায়গার তুলনায় পণ্যের মূল্য অধিক, ফলে লাভের অংক অধিক অথবা বর্তমান অবস্থানস্থল ও সফরের এলাকায় মূল্য সমান হয়, তবে সে এলাকায় সফর করে পণ্য বিক্রি করা সহীহ হবে এবং সফরের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করলেও কর্মী অর্জিত লাভে তার প্রাপ্য অংশের হকদার হবে। সফরে থাকাবস্থায় সে যা বিক্রি করবে সেগুলোর মূল্য তার দায়ে থাকবে। সফর থেকে চলে এলেও এ দায় আবশ্যক হবে, যেহেতু এ দায়ের কারণ হচ্ছে সফর করা, ফিরে এলেও এ কারণ যথাপূর্ব ধর্তব্য হবে।

কর্মী সফর করে অন্য যে জায়গায় গিয়ে বিক্রি করছে, যদি সেখানে মূল্য কম থাকে তাহলে এ বিক্রি সহীহ হবে না। তবে যদি মূল্যের স্বল্পতা সহনীয় পরিমাণ হয়, যতটুকু সকলে মেনে নেয় তাহলে তা সহীহ বলে গণ্য হবে।

তারা আরো বলেন, বিপদসংকুল হওয়ার দরুন কর্মী সামুদ্রিক সফর করবে না। এক্ষেত্রে মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া যথেষ্ট নয়, বিপদের আশঙ্কাও যাচাই করে দেখতে হবে। তবে যদি এমন হয়, মালিক ব্যবসার জন্যে কোনো এলাকা নির্ধারণ করে দেয়, সমুদ্রপথ ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকে, যেমন দ্বীপের অধিবাসী ব্যক্তি যার নৌপথে সফর করা ছাড়া গতি নেই, তার সমুদ্র পথে ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে, তাকে সুস্পষ্টভাবে অনুমতি ব্যক্ত না করলেও। এমন স্থানে থাকা অবস্থায় তাকে কর্মী নিয়োজিত করাই এক্ষেত্রে অনুমতি বলে ধর্তব্য হবে। আযরাঈ এবং আরো অনেকে এ কথাই বলেছেন।

এ আলোচনায় বাস্তবিক সাগরের ভ্রমণই ধর্তব্য, ইসনাভী তা-ই বলেছেন। এর সাথে নীলনদের মতো নদীগুলোতে সফর করাও কি ভুক্ত হবে? এ প্রশ্নের জবাবে আযরাঈ বলেছেন, আমি এক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা বা মতামত পাইনি। খতীব শারবীনী বলেন, এর উত্তরে এটি বলাই শ্রেয়, যদি স্থলভাগের ভ্রমণ থেকে তাতে বিপদ-আপদের শঙ্কা বেশি থাকে তাহলে তা জায়েয হবে না। অবশ্য নদীপথে সফরের অনুমতি থাকলে তা-ও জায়েয হবে। ইবনে শুহবা এমনটাই বলেছেন।

দুই. কর্মীকে চুক্তিপত্রে বর্ণিত শর্তাবলি মেনে চলতে হবে, অনুমতি ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারবে না (مَا لَيْسَ لِلْمُضَارِب عَمَلُهُ إِلَّا بِالنَّص عَلَيْهِ) (এল্লা বিন্নাসি আলাইহি)।

এ প্রকারের আওতায় সে সকল কাজ রয়েছে যেগুলো সাধারণভাবে ব্যবসায়ীরা করে না এবং সাধারণভাবে মুদারাবা চুক্তির আওতায়ও সেগুলো আসে না। যেমন কর্মীর কাছে যে পুঁজি রয়েছে তা হাতে আসার পর তার অধিক মূল্যের পণ্য ক্রয় করা। এভাবে ঋণ করে অর্থাৎ মূল্য বাকী রেখে কোনো কিছু কেনা তার কাছে নগদ অর্থ না থাকার প্রেক্ষিতে। এক্ষেত্রে মূল পুঁজির অধিক যা ঋণ করা হলো তা কর্মীর কাঁধে ন্যস্ত থাকবে; পুঁজিদাতার দায়িত্বে আসবে না। যেহেতু মালিক তাকে এর অনুমতি দেয়নি। তথাপি সে যে ঋণ নিয়েছে এর দ্বারা মালিকের অনুমতি ছাড়াই পুঁজিতে বৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে মালিকের কাঁধে জিম্মাদারি বাড়ছে, অথচ সে তাতে রাজী নয়। এটি মালিকের কাঁধে আসার কারণ, পুঁজির অর্থ দিয়ে কর্মী যে পণ্য কেনে তার মূল্য পরিশোধ পুঁজিদাতার দায়িত্বে থাকে। এ কথাটি এভাবে আরো স্পষ্ট হয়, যদি কর্মী পুঁজির টাকা দিয়ে কোনো পণ্য কেনে কর্মীকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্বেই তা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তেমনি অপর একটি কিনতে কর্মী মালিকের দ্বারস্থ হবে। এমনি অবস্থায় যদি পুঁজির অধিক কর্জ নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হয় তাহলে পুঁজিদাতার ওপর এমন দায় দায়িত্ব চাপানো হবে যা গ্রহণে সে সম্মত নয়।

পণ্য কেনার জন্যে যেমন ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না, তেমনি পণ্য সংস্কার, মেরামত ও সারাই করতেও ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না।

তবে যদি পুঁজির মালিক কর্মীকে ঋণ নিতে অনুমতি প্রদান করে তাহলে তা জায়েয হবে। এ পর্যায়ে যা সে ঋণ নেবে তা তাদের দুজনের (মালিক ও কর্মী) মাঝে হবে শিরকাত উজুহ, (শিরকাত উজুহ হচ্ছে এমন অংশীদারি কারবার যেখানে পুঁজি ছাড়াই কেবল পরিচিতি ও আস্থার ভিত্তিতে একাধিকজন একত্র হয়ে কোনো পণ্য কেনে, তা বিক্রি করে যা লাভ হয় তা সকল অংশীদারের মাঝে বণ্টিত হয়।)

কর্মী হুন্ডি গ্রহণ করতে পারবে না, যেহেতু তা হচ্ছে ঋণগ্রহণ, যা মালিকের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কর্মীর জন্যে জায়েয নয়। এমনিভাবে হুন্ডি প্রদানও তার জন্যে জায়েয হবে না, যেহেতু তাতে ঋণপ্রদান করা হয়, এটিও মালিকের অনুমতি ছাড়া করার কর্মীর কোনো অধিকার নেই।

কর্মীর এত অধিক মূল্যে কোনো জিনিস খরিদ করা জায়েয নয় যা সহনীয় পর্যায় অতিক্রম করে যায়, সচরাচর এত অধিক মূল্যের ক্ষতি স্বীকার করে কেউ কিনতে রাজী হয় না। তুমি তোমার মর্জিমত কাজ করো, বলে কর্মীকে মালিক অবাধ অনুমতি দিলেও তার জন্যে এটা জায়েয হবে না। তথাপি যদি সে এরুপ করে তবে সে নির্দেশ অমান্যকারী বলে বিবেচিত হবে। এর কারণ, মুদারাবা হচ্ছে পণ্য কেনায় কর্মীকে প্রতিনিধি নিয়োগ দান। যদি কোনো কিছু নির্ধারণ করা ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় তাহলে তার অধিকার থাকে জানা শোনো কোনো জিনিস ক্রয় করার যা স্বাভাবিক মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে অথবা তা থেকে এতটুকু বেশি দামে যা সহনীয়, যা সাধারণভাবে সকলে মেনে নেয়। সহনীয় পর্যায়ের অধিক মূল্য দিয়ে কেনা এজন্যেও জায়েয নয়, তাতে কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও আনুকূল্য প্রদর্শন করা হয় যা স্বেচ্ছাসেবার অন্তর্ভুক্ত। কোনো স্বেচ্ছাসেবা মুদারাবার অন্তর্ভুক্ত হয় না। এ হচ্ছে হানাফী আলেমদের মাযহাব ও মত। ৯৩

মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতা অনুমতি দিলে কর্মী এ ব্যবসায়ে অপর কাউকে অংশীদার হিসাবে গ্রহণ করতে পারে। এমনিভাবে তার সম্পদের সাথে নিজের সম্পদ বা মুদারাবার পুঁজি মিলাতে পারবে। পুঁজিদাতার অনুমতিতে সে ইবযাও করতে পারবে। (ইবযা হচ্ছে কারো পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে পুরো লাভ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া, যা স্বেচ্ছাসেবার অন্তর্ভুক্ত।) যদি পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়া কর্মী কাউকে অংশীদার করে তবে কর্মী তার দায় বহন করবে। কেননা, পুঁজিদাতা তাকে নেওয়া নিরাপদ ভাবছে না, সে তার প্রতি আস্থাবান নয়।

কর্মীকে পুঁজিদাতা অনুমতি দিলেও তার বাকীতে কোনো পণ্য কেনা জায়েয নয়। সাভী বলেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এ জন্যে, পুঁজিদাতা তাহলে জিম্মাদার নয় এমন বস্তুর লাভ হস্তগত করবে, অথচ হাদীসে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ৯৪ তবে এই নিষেধাজ্ঞা সে অবস্থায় যখন কর্মী ব্যবসার মূল পরিচালক না হয়ে কেবল সহায়ক হবে। কিন্তু যদি কর্মীই হয় মূল পরিচালক ও ব্যবস্থাপক, তাহলে সে বাকীতে পণ্য কিনতে পারবে- এটি ইবনে কাসেম থেকে শ্রুত তার মত। ৯৫

শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, কর্মীকে পুঁজিদাতা যে পণ্য বা যে ধরনের পণ্যের নির্দেশ করবে কর্মী সে পণ্যের ব্যবসা করতে পারবে; অন্য কিছুর নয়। যেহেতু তার সকল কাজ ও পদক্ষেপ পুঁজিদাতার নির্দেশের অধীন, তাই পুঁজির মালিকের অনুমতি ব্যতীত সে কিছু করতে পারবে না, তেমনি তার নির্দেশিত পণ্য ছাড়া অন্য কিছুর ব্যবসাও সে করতে পারবে না। তাই পুঁজির অধিক অর্থব্যয় করে সে কোনো পণ্য কিনতেও পারবে না, অধিক লাভে বেচতেও পারবে না, পুঁজির মালিকের যদি এগুলোতে অনুমতি না থাকে। অনুমতি না থাকলে এ কথাই সাব্যস্ত হবে, কর্মী এ সকল কাজে ব্যস্ত থাকাতে মালিকের সম্মতি নেই। তাই সে সব কাজ মুদারাবার কাজ বলে বিবেচিত হবে না। ৯৬

কর্মী যদি কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োজিত করে, সে তৃতীয় ব্যক্তি কাজে ও লাভে অংশীদার হবে, তাতে পুঁজিদাতা সম্মত হলেও তা জায়েয হবে না; এটিই সর্বাধিক সহীহ মত। যেহেতু মুদারাবা চুক্তি হচ্ছে কিয়াস ও যুক্তি বিরোধী, তাতে যা লক্ষ করা হয়েছে তা হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ দুজনের একজন হবে পুঁজির মালিক সে ব্যবসায়িক কোনো কাজ করবে না, অপরজন হবে ব্যবসাকর্মী, কর্মী একাধিক ব্যক্তি হতে পারে, তারা হবে মালিকানাহীন। কর্মীর কর্মী নিয়োগ করা হলে চুক্তিতে দুপক্ষ থাকে না, তাই তা জায়েয হবে না। নিষেধাজ্ঞাটি দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রতি সম্পর্কিত, প্রথম কর্মীর সাথে নয়, যেহেতু তার সাথে সম্পাদিত চুক্তি তো বহালই রয়েছে। যদি তথাপি দ্বিতীয় কর্মী ব্যবসায়ে শ্রমদান করে তবে পুঁজিদাতা তাকে যথাযথ পারিশ্রমিক প্রদান করবে, এটি মালিকের কর্তব্য। এক্ষেত্রে লাভ সবটুকু এককভাবে মালিক লাভ করবে এবং প্রথম কর্মী যেহেতু কোনো কাজ করেনি, তাই এ ব্যবসা থেকে সে কিছুই পাবে না। শাবরামালাসী বলেন, যদি প্রথম কর্মীও কাজ করে তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মালিক ও তার মধ্যে লাভ বণ্টিত হবে।

সর্বাধিক সহীহ মতের বিপরীত ফকীহদের অপর একটি মত হচ্ছে, কর্মী অপর কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োগদান জায়েয ও সহীহ হবে, যেমন পুঁজির মালিক চুক্তির সূচনাতেই একাধিক কর্মী নিয়োগ করা বৈধ ও সহীহ হয়।

যদি মালিক কর্মীকে অনুমতি প্রদান করে, সে অপর কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োজিত করবে, নিজে মুদারাবা থেকে বিমুক্ত হয়ে স্রেফ প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে, তাহলে তা সহীহ হবে। ইবনে রাফআ বলেন, এটি তখন পর্যন্ত করা যাবে যে পর্যন্ত পুঁজি নগদ মুদ্রা থাকবে, যা দিয়ে মুদারাবা করা সহীহ হয়ে থাকে। তাহলে এ অপর কর্মী নিয়োগকেও মুদারাবার সূচনা-ই গণ্য করা হবে। কিন্তু যদি প্রথম কর্মী পুঁজিতে হস্তক্ষেপ করে, তাতে নগদ মুদ্রা থেকে ব্যবসাপণ্যে রূপান্তর ঘটিয়ে ফেলে তাহলে আর তা জায়েয হবে না।

যদি কর্মী অপর কারো সাথে মুদারাবা চুক্তি করে পুঁজিদাতার অনুমতি ছাড়াই তাহলে মূল মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। প্রথম কর্মী দ্বিতীয় কর্মীকে নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে উভয়ে কাজে ও লাভে অংশীদার হিসাবে থাকবে অথবা প্রথম কর্মী কেবল লাভে অংশীদার হবে অথবা প্রথম কর্মী চুক্তি থেকে বিমুক্ত থাকবে, সে যে বিবেচনা করেই দ্বিতীয় কর্মীকে কাজে নিক, তাতে মূল মালিকের অনুমতি না থাকায় তা জায়েয হবে না। তা ছাড়া পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়া তার পুঁজি অন্য ব্যক্তির হাতে আমানত হিসাবে প্রদান করা হবে, যা জায়েয নয়।

যদি দ্বিতীয় কর্মী পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসাকর্মে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তার সে কাজ হবে লুটেরা ব্যক্তির কাজ করার সদৃশ। তাই সে যা করবে তার দায় থাকবে তার প্রতি, যেহেতু তাকে যে কাজের অনুমতি দিয়েছে (প্রথম কর্মী) সে পুঁজির মালিকও নয়, মালিকের প্রতিনিধিও নয়। তাই তার এ অনুমতি মোটে ধর্তব্য হবে না। যদি প্রথম কর্মীর দায়িত্বের আওতায় থেকে দ্বিতীয় কর্মী কোনো পণ্য খরিদ করে এবং মুদারাবার পুঁজি দ্বারা তার মূল্য পরিশোধ করে তা বিক্রি করে লাভ অর্জন করে তাহলে এ লাভের অধিকারী হবে প্রথম কর্মী। এটি সর্বাধিক সহীহ মত। এটি এজন্যে যে, দ্বিতীয় কর্মী প্রথম কর্মীর অনুমতি ও নিয়োগদানে এ কাজগুলো করেছে, তাই সে প্রথম কর্মীর প্রতিনিধি তুল্য হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় কর্মী তার কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক পাবে যা প্রথম কর্মীর তাকে প্রদান করা দায়িত্ব। যেহেতু দ্বিতীয় ব্যক্তি মুফতে কাজ করেনি, তাই ব্যবসায়ে লাভ ক্ষতি বিবেচনা না করেই তার পারিশ্রমিক তাকে দিতে হবে, যা প্রথম কর্মীর দরুন আবশ্যক হয়েছে, তাই প্রথম কর্মীই তা প্রদান করবে।

আলোচিত মাসআলার সর্বাধিক সহীহ মতের বিপরীত অপর মত হচ্ছে, দ্বিতীয় কর্মী ব্যবসায়ে যা লাভ করবে তার সবটুকুই সে পাবে, যেহেতু সে মালিকের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করেনি। তাই সে হয়েছে লুটেরাতুল্য, লুণ্ঠনকারী লুণ্ঠিত মাল দিয়ে ব্যবসা করলে, যদিও তা অবৈধ, পুরোলাভ সে-ই পায়। সুবকী এ মত ও ফয়সালা পছন্দ করেছেন। তবে এ দ্বিতীয় কর্মী যদি নিজ দায়িত্বে কোনো পণ্য খরিদ করে তবে এর দায় তার কাঁধেই ন্যস্ত থাকবে। যদি সে সরাসরি মুদারাবার পুঁজি বিনিয়োগ করে পণ্য খরিদ করে তবে তার এ পণ্যক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে। যেহেতু এ পরিস্থিতিতে সে হবে ফুযুলী। (ফুফুলী হচ্ছে সে ব্যক্তি যে মালিক নয়, তার প্রতিনিধিও নয়, অথচ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় কাজ সম্পাদন করে। তার কাজ মূল মালিকের অনুমতি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।)

যদি পুঁজিদাতা অনুমতি প্রদান করে তাহলে কর্মী পণ্য বাকীতে কিনতেও পারবে, বেচতেও পারবে। এমনিভাবে অত্যধিক মূল্য দিয়ে কিনতে পারে, অনেক কমদামে বেচতেও পারবে। যেহেতু এ সবক্ষেত্রে বাধা ও আপত্তি প্রদানের অধিকার এককভাবে মালিকের, মালিক অনুমতি প্রদান করায় সে বাধা দূর হয়ে যায়। জায়েয আছে বলেই কোনো জিনিসে সহনীয় পরিমাণের অধিক ক্ষতি স্বীকার করা কাম্য নয়। যেমন যেটির মূল্য একশ টাকা তা দশ টকায় বিক্রি করে ফেলা। বরং এমন দামে বিক্রি করা বাঞ্ছনীয় পরিস্থিতির আলোকে সাধারণভাবে সবাই যা বিবেচনা করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মী যদি স্বাভাবিক থেকে অত্যধিক বেশি মূল্যে কিছু কেনে বা অত্যধিক কম মূল্যে বেচে তবে তার এ কেনাবেচা যথাযথ হবে না। বাকী লেনদেনে সাক্ষী রাখা আবশ্যক। নতুবা সে দায়বদ্ধ থাকবে। কিন্তু নগদ লেনদেনে সাক্ষী থাকা জরুরি ও আবশ্যক নয়; যেহেতু ব্যবসায়ী মহলে নগদ লেনদেনে সাক্ষী রাখার প্রচলন নেই। ৯৭

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতার জন্যে জায়েয (করণীয়), কর্মী নগদ লেনদেন করবে না বাকীতেও, তা পুঁজিদাতা সুস্পষ্টভাবে তাকে বলে দেবে। কর্মীর সেক্ষেত্রে বলে দেওয়া নির্দেশের বিপরীত কোনো কিছু করা জায়েয হবে না, যেহেতু কর্মী মালিকের অনুমতিসাপেক্ষে পুঁজিতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লাভ করে। তাই তাকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হবে ততটুকুতে তার কাজ নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। অনুমতির বাইরে তার যাওয়া বৈধ হবে না। তা ছাড়া মালিকের অনুমতিতে সীমিত থাকা মুদারাবার মূল উদ্দেশ্য লাভ অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে না। দেখা যায়, সে বিধিনিষেধের মাধ্যমেই ব্যবসার এ উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তা লঙ্ঘনের কিইবা আবশ্যক। ৯৮

তারা বলেন, পুঁজি থেকে অধিক মূল্যের পণ্য খরিদ করা কর্মীর জন্যে বৈধ নয়, তা তার অধিকার বহির্ভূত। যেহেতু পুঁজিদাতা যে পুঁজি সরবরাহ করে তার আওতায় সর্বাধিক অংক পর্যন্ত তার অনুমতি থাকে। তাই পুঁজি যদি থাকে এক হাজার টাকা, কর্মী যদি এক হাজার টাকার পণ্য কেনার পর আরো এক হাজার টাকার পণ্য কেনে, তবে তার পরবর্তী এ পণ্যক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে। কেননা সে এ পণ্য কিনেছে সেই মুদ্রা দিয়ে যা প্রথমবার পণ্য কেনাতে বিক্রেতার হাতে অর্পণ করার উপযোগী ছিল। যদি কর্মী পরবর্তী পণ্যগুলো নিজ দায়িত্বে কেনে তাহলে এ ক্রয় সহীহ হবে এবং সে পণ্য এককভাবে তার বলে গণ্য হবে। কেননা কর্মী তার নিজের জিম্মায় কিনেছে, মালিক তাকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তা নিজের জন্যেই কেনা হয়েছে। সুতরাং এ পণ্য ক্রয় এবং তার ব্যবসা এককভাবে কর্মীর সাথে সংশিষ্ট হবে।

যদি কর্মী মুদারাবা হিসাবে অপর কারো কাছে পুঁজি হস্তান্তর করায় পুঁজির মালিক সম্মতি জ্ঞাপন করে, তাহলে তা জায়েয হবে। ইবনে কুদামা বলেন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. সুস্পষ্টভাবে জায়েযের রায় প্রদান করেছেন। তাতে কারো মতপার্থক্য থাকার বিষয় আমাদের জানা নেই। এ অবস্থায় প্রথম কর্মী হয়ে যাবে এ লেনদেনে পুঁজির মালিকের পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধি। এ সময় সে যদি দ্বিতীয় কর্মীর নিকট পুঁজিপ্রদানকালে নিজের জন্যে লাভের কোনো অংশ নির্ধারণ না করে তবে এ লেনদেন সহীহ হবে। যদি এর বিপরীত সে নিজের জন্যে লাভের এক অংশ নির্ধারণ করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু প্রথম কর্মীর পক্ষ থেকে এ মুদারাবা চুক্তিতে পুঁজির বিনিয়োগ হয়নি কাজও করা হয়নি। অথচ মুদারাবাতে লাভের অধিকারী হতে হয় এ দুটির কোনো একটির মাধ্যমে। ৯৯

যদি কর্মী সীমালঙ্ঘন করে যা তার করণীয় নয় তা সে করে ফেলে তাহলে সে হবে দায়বদ্ধ ও জিম্মাদার-এর কারণ সে অপরের সম্পদে তার অনুমতি ছাড়া এ হস্তক্ষেপ করেছে। তাই তাতে কোনো ক্ষতি হলে তাকে এর ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। যেমন লুণ্ঠনকারী তার লুণ্ঠিত দ্রব্যের ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য। তাই যা কেনায় মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি ছিল না তা কেনাবেচায় যদি লাভ হয় তবে তার অধিকারী হবে পুঁজির মালিক। ইবনে কুদামা বলেন, ইমাম আহমদ এ কথা বলেছেন। ইমাম আহমদ-এর পক্ষ থেকে এ রায়ও প্রকাশিত হয়েছে, মালিক ও কর্মী উভয়েই এ পণ্যের লাভ দান করে দেবে। কাজী ইয়ায বলেন, ইমাম আহমদের প্রথম মতটি-লাভের অধিকারী হবে পুঁজিদাতা-এটি হচ্ছে ফয়সালা এবং তার পরবর্তী রায়-উভয়ে এ লাভ দান করে দেবে-তাকওয়া ও পরহেযগারি হিসাবে বলেছেন। ১০০

তিন. কর্মীকে যখন বলা হবে, তুমি তোমার মনোমতো করো, তার করণীয় কী তা সুস্পষ্টভাবে না বলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার করণীয় (الثَّالِثُ : مَا لِلْمُضَارِبِ عَمَلُهُ إِذَا قِيلَ لَهُ اعمل برأيك)
হানাফী আলেমগণ বলেন, কর্মী অপর কাউকে কর্মী নির্ধারণ করে তার সাথে মুদারাবা চুক্তি করা এবং সে হিসাবে তার হাতে পুঁজির টাকা তুলে দেওয়া জায়েয। এমনিভাবে অপর কাউকে মুদারাবার পুঁজিতে শিরকাতে আনান হিসাবে অংশীদার করাও জায়েয। (শিরকাতে আনান হচ্ছে কোনো কারবারে একাধিক ব্যক্তি অংশীদার হওয়া, যাদের প্রত্যেকে সমান অংশের মালিক হওয়া শর্ত নয়।) এমনিভাবে নিজের সম্পদের সাথে মুদারাবার সম্পদ একত্র করাও জায়েয। কিন্তু উপরিউক্ত কাজগুলোর কোনোটিই করতে পারবে না যদি না তাকে বলা হয়, তুমি তোমার বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত মত করো।

অনুমতি ও মুক্ত রায়ের স্বাধীনতা না দিলে এ কাজগুলো মূলত অনুমতি প্রদানের উপযোগী বিবেচিত হয় না। মুদারাবা চুক্তিতে যাকে কর্মী সাব্যস্ত করা হলো সে আবার অপরের সাথে মুদারাবা করলে সেখানে যা বিবেচনা করা হয় তা হচ্ছে, এ মুদারাবা পূর্ববর্তী মুদারাবা তুল্য। যেহেতু কোনো বিষয় তার সদৃশ কোনো বিষয়কে অধীন ও অনুবর্তী করে না, তাই মালিকের অনুমতি না থাকলে এক মুদারাবার অধীনে অপর মুদারাবা সম্পন্ন হবে না।

শিরকাত বা অংশীদার হওয়ার বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট। এটি মুদারাবা থেকে ব্যাপক। কোনো বিষয় যেহেতু তার তুল্য বিষয়কে অধীন করতে পারে না, তা থেকে যা বিস্তৃত ও ব্যাপক তাকে তো সেক্ষেত্রে অধীন করতে পারেই না। তাই মালিকের যথেচ্ছ কাজ করার অনুমতি প্রদান ব্যতীত কর্মীর তা করা সহীহ হবে না।

একজনের পুঁজির সাথে অপরজনের পুঁজি মিলানোর ক্ষেত্রে যা লক্ষণীয় তা হচ্ছে, এমন করা হলে পুঁজিদাতার সম্পদে অন্যের অধিকার ও কর্তৃত্ব সংশিষ্ট হয়। তাই তা পুঁজিদাতার অনুমতি ছাড়া জায়েয হবে না। ১০১

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতা যখন কর্মীকে বলে, তুমি তোমার বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করো, তোমার ইচ্ছামাফিক তুমি লেনদেন করো, কর্মী সে অবস্থায় বাকীতে লেনদেন করতে পারবে। এর কারণ, মালিকের কথার ব্যাপকতায় এ ধরনের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত। সেই সাথে মালিকের স্বাভাবিক অবস্থাও এ কথাই বোঝায়, সে কর্মীর যে কোনো ধরনের ব্যবসা এবং যে কোনো পদ্ধতিতে তা সম্পাদনে সম্মত রয়েছে। বাকীতে লেনদেন যেহেতু এ ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত, তাই এতেও মালিকের সম্মতি থাকা ধর্তব্য হবে।

ইবনে কুদামা বলেন, আমরা যখন বলি, সে বাকীতে লেনদেন করতে পারবে, তার এ ধরনের বেচাকেনা সহীহ হবে। এ সময় যদি মূল্যের কিছু অংশ হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে কর্মীর সে জন্যে জরিমানা প্রদান আবশ্যক হবে না। তবে যদি কর্মী এক্ষেত্রে চরম শিথিলতা প্রদর্শন করে, যাকে সে চেনে না অথবা যার প্রতি তার আস্থা বিশ্বাস গড়ে উঠেনি যদি তার নিকট বাকীতে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে ক্রেতার কাঁধে থাকা মূল্যের দায় থাকবে কর্মীর ওপর (অর্থাৎ ক্রেতা সে মূল্য আদায় না করলে কর্মীকে তা পরিশোধ করতে হবে।) যদি আমরা (পূর্বের কথা না বলে) বলি, কর্মী বাকীতে লেনদেন করতে পারবে না, তাহলে বাকী লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে; যেহেতু যার অনুমতি নেই তা সে করেছে।

তাহলে তার এ বিক্রি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির পণ্য বিক্রি করার সদৃশ হবে, যা বাতিল বলে সাব্যস্ত হবে। অবশ্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বিক্রি করলে তা বাতিল হয় না; বরং মূল মালিকের অনুমতির ওপর তা স্থগিত থাকে। তেমনি অনুমতি ছাড়াই বা নিষেধ করার পরও বাকীতে বিক্রি করলে তা মালিকের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। খারকী এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা লেনদেনের অনুমতি না থাকলেও সহীহ হওয়া বোঝায়। যাই হোক, শিথিলতা প্রদর্শন করার প্রতিটি ক্ষেত্রে দায় থাকবে কর্মীর ওপর, যেহেতু মূল্য হাতছাড়া হলে তা হবে তার শিথিলতার দরুন।

বাজারে স্বাভাবিক যে দাম রয়েছে তা থেকে কম মূল্যে কর্মী কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বাজারে যে দাম রয়েছে তা থেকে অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিমাণ বেশি মূল্যে কোনো পণ্য কিনতেও পারবে না। যদি এ ধরনের কাজ সে করে তাহলে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তার বেচাকেনা সহীহ বলে গণ্য হবে, কর্মী এ ক্ষতিপূরণের দায় বহন করবে, যেহেতু ক্ষতিপূরণ দ্বারা ক্ষতির প্রতিকার হওয়া সম্ভব। ইবনে কুদামা বলেন, কিয়াস ও যুক্তি হিসাবে এ ধরনের বেচাকেনা বাতিল। কেননা কর্মীকে এ ধরনের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই এটি তৃতীয় কারো বিক্রির সদৃশ হবে। এক্ষেত্রে পণ্য ফেরত আনা সম্ভব না হলে যা ক্ষতি হবে, কর্মীকে তার দায় বহন করতে হবে। যদি পণ্য ফেরত আনা সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই তা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি পণ্যটি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে তার মূল্য ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। পুঁজির মালিক এটি কর্মী ও ক্রেতা যে কারো নিকট চাইতে পারে।

কর্মী যে দেশে রয়েছে সে দেশ ব্যতীত অন্য দেশের মুদ্রা দিয়ে কেনাবেচা করলে সে সম্পর্কে দুটি মত পাওয়া যায়। এক. এভাবে বেচাকেনা করা জায়েয হবে যদি তাতে কোনো উপকার নিহিত থাকে এবং তাতে লাভ অর্জিত হয়। যেমন জিনিসের বদলে জিনিস কেনা ও বেচা জায়েয। দুই. জায়েয হবে না। ইবনে কুদামা বলেন, এ পরিস্থিতিতে যদি আমরা বলি, এভাবে কোনো বস্তু বিক্রয় করা হলে ক্রেতা তার মালিক হবে না, তাহলে এটি সে মাসআলার অনুরূপ হবে, যখন কর্মী স্বাভাবিক দাম থেকে বেশি বা কমে কেনে বা বেচে। সেক্ষেত্রে কর্মী তার দায় বহন করবে যদি ফেরত সম্ভব না হয়। সম্ভব হলে ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি মালিক কর্মীকে বলে, তোমার সিদ্ধান্ত মতো তুমি করো, তাহলে অন্য দেশের মুদ্রা দিয়ে লেনদেন করাও বৈধ হবে। ১০২

টিকাঃ
৮৮. সূরা মুযযাম্মেল, আয়াত ২০
৮৯. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৯৪
৯০. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪১। আল-ইনসাফ, খ. ৫, প. ৪১৮
৯১. আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪১৮; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪১
৯২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৩৪; নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়া আশ শাবরামাল্লিসী, খ. ৫, পৃ. ২৩২-২৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৭
৯৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯০; আল-ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ২০
৯৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর বর্ণনায় তিরমিযী শরীফে বর্ণিত। তিরমিযী রহ. হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন, হাদিসুন হাসানুন সহীহ।
৯৫. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৯৫-৬৯৮
৯৬. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৬-৩৮৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৬
৯৭. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৭-২২৮ ও ২৩২
৯৮. নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়া আশ শাবরামাল্লিসী, খ. ৫, প. ২২৯-২৩১; আল-মুহাযযাব; খ. ১, পৃ. ৩৮৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৫
৯৯. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৯
১০০. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৭
১০১. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৫; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৫
১০২. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪০-৪৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চার. কর্মী যা মোটেও করতে পারবে না

📄 চার. কর্মী যা মোটেও করতে পারবে না


(مَا لَيْسَ الْمُضَارِبِ عَمَلُهُ أَصْلًاً)
ফকীহগণ বলেন, কর্মী হারাম কোনো বস্তু কিনতে পারবে না। যেমন : মৃত জন্তু, রক্ত, মদ ও শুকর ইত্যাদি। ১০৫ এর কারণ, মুদারাবা চুক্তিতে সে সকল কাজেরই অনুমোদন বিদ্যমান যে সব কাজ দ্বারা লাভ অর্জিত হয়। লাভ হবে পণ্য কেনা ও বেচার মাধ্যমে। কিন্তু কেনার পরও যদি মালিক না হওয়া যায় তাহলে তাতে লাভ আসে না। কোনো কিছু কেনার মাধ্যমে মালিক হওয়ার পরও যদি সে তা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাতেও লাভ আসে না। তাই যে সব ক্ষেত্রে লাভ আসবে না সেগুলো অনুমোদনের আওতায়ও আসবে না।

যদি এ সকল হারাম বস্তুর কোনোটি কর্মী কেনে তাহলে তা তার নিজের জন্যে কেনা ধর্তব্য হবে; মুদারাবার পণ্য হিসাবে তা গণ্য হবে না। যদি সে হারাম বস্তু কেনার সময় সে মুদারাবার পুঁজি থেকে মূল্য প্রদান করে তবে তার জরিমানা প্রদান করবে। ১০৬

টিকাঃ
১০৫. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫১
১০৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলি

📄 মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলি


(مَا لَيْسَ لِلْمُضَارِبِ عَمَلُهُ أَصْلًاً)
হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ মুদারাবা চুক্তিতে অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলির প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল বিবেচনা করে এগুলোকে দুভাবে বিভক্ত করেছেন : কতক শর্ত মুদারাবা বাতিল করে, কতক বহাল রাখে বাতিল করে না।

তারা এ কথায় একমত, যদি ত্রুটিপূর্ণ কোনো শর্তের দরুন লাভে কার কতটুকু অংশ তা অজানা হয়ে যায় তাহলে তা মুদারাবা বাতিল করে দেবে। কিন্তু যদি শর্তটি লাভের অংশ অজানা বা অস্পষ্ট না করে তাহলে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার দরুন শর্তটিই বাতিল হয়ে যাবে, মুদারাবা সহীহ থাকবে। এটি হানাফীদের অভিমত এবং হাম্বলী আলেমদেরও এটি সর্বাধিক প্রকাশ্য ও গৃহীত মত।

কাসানী বলেন, ত্রুটিপূর্ণ শর্তাবলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, কোনো শর্ত যখন কোনো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে তা যদি লাভের পরিমাণে অজ্ঞতা সৃষ্টি করে তাহলে তা চুক্তি বাতিল করে দেবে। কেননা মুদারাবাতে লাভ অর্জন হচ্ছে চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। সে মূল বিষয়ই যদি অজানা থাকে তাহলে তা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। কিন্তু যদি শর্তটি লাভের পরিমাণে অজ্ঞতা সৃষ্টি না করে তাহলে সে শর্তটি বাতিল হয়ে যায়, মুদারাবা চুক্তিটি বহাল থাকে। যেহেতু এটি হচ্ছে এমন চুক্তি, লাভ কজা করার ওপর যার সহীহ হওয়া নির্ভরশীল ও স্থগিত থাকে। তাই যে শর্ত চুক্তিতে অতিরিক্ত, যা লাভের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত নয় তা চুক্তি বাতিল করবে না। যেমন মুদারাবার কর্মীর বন্ধক রাখা বা দান করার শর্ত করা। সেই সাথে এ বিষয়টিও এখানে লক্ষণীয়, মুদারাবা হচ্ছে পুঁজির মালিকের পক্ষ হতে কর্মীর প্রতিনিধিত্ব। প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটিপূর্ণ শর্ত হলে তা কার্যকর ও গ্রহণীয় হয় না। ১০৭

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, ত্রুটিপূর্ণ শর্ত মোট তিন প্রকার :
এক. এমন শর্ত যা মুদারাবার চাহিদা ও মেজাযের পরিপন্থী। যেমন, মুদারাবা বাধ্যতামূলক করা (অথচ এটি ঐচ্ছিক), নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মী বহাল রাখার শর্ত, যার কাছ থেকে পণ্য কেনা হয়েছে তাকে ছাড়া আর কারো কাছে তা বিক্রি না করার শর্ত করা, পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনার পর সে দামে বা তা থেকে আরো কম দামে তা বিক্রি করার শর্ত। এ সকল শর্তই ত্রুটিপূর্ণ ও বাতিল যোগ্য শর্তাবলি, যেহেতু এগুলো মুদারাবার মূল লক্ষ্যের বিপরীত (যেমন শেষ শর্ত), তা লাভ অর্জনে প্রতিবন্ধক 'অথবা সে শর্ত মুদারাবা বাতিল করতে বাধা দেয় (যেমন প্রথম শর্ত)। অথচ মুদারাবা ঐচ্ছিক বিষয়, আবশ্যিক নয়।

দুই. যে সকল শর্ত মুদারাবাতে কার কী পরিমাণ লাভ তা বুঝতে বাধা দেয়। যেমন, শর্ত করা হলো, কর্মীর জন্যে লাভের অংশ থাকবে, কিন্তু তা কতটুকু তা বলা হলো না। দু হাজার থেকে এক বা দু থলের মধ্য থেকে এক থলের লাভ কর্মীর জন্যে বরাদ্দ করা। এ সকল শর্ত ত্রুটিপূর্ণ হিসাবে বাতিল। কেননা, এ ধরনের শর্তে কর্মীর ও মালিকের লাভে কার কতটুকু অংশ তা কারো জানা থাকে না অথবা লাভটা একেবারে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। অথচ যথাযথভাবে সম্পাদিত মুদারাবার শর্ত হচ্ছে, তাতে লাভের পরিমাণ উভয় পক্ষের জানা থাকতে হবে।

তিন. যা মুদারাবা চুক্তির জন্যে মঙ্গলজনকও নয়, তার চাহিদা ও দাবির অনুকূলও নয়- এমন বিষয় শর্ত করা। যেমন : কর্মীকে ক্ষতির অংশ প্রদান করা, কর্মী যা কেনাবেচা করে তাতে কর্মীকে জিম্মাদার বানানো অথবা পুঁজি হিসাবে যা দেওয়া হয়েছে তা ভিন্ন অন্য কিছু দিয়ে ব্যবসা করা ইত্যাদি শর্ত করা। এসবই হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ ও বাতিলযোগ্য শর্তাবলি।

যে ত্রুটিপূর্ণ শর্ত করার দরুন লাভের পরিমাণ অজানা থাকবে তার প্রেক্ষিতে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ব্যবসায়ে লাভ হচ্ছে মূল উদ্দিষ্ট বিষয়। তাই তাতে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে তা মূল চুক্তিটিকেই ত্রুটিপূর্ণ করে দেবে। তা ছাড়া লাভের পরিমাণ অজানা থাকলে সঠিক পরিমাণ লাভ হস্তান্তর করা হবে না। সঠিক পরিমাণ জানা না থাকার দরুন দুপক্ষের দুজন ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ ধারণা করবে, ফলে মতান্তর ও ঝগড়া পর্যন্ত তা গড়াবে। কর্মীকে মালিক লাভ হিসাবে কত দেবে, কাজ শেষ না করা পর্যন্ত কর্মী তার কিছুই জানবে না। অথচ কোনো লেনদেনে বা চুক্তিতে মতান্তর, ঝগড়া বা অজ্ঞানতায় থাকার পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বাতিল হয়ে যায়।

এ ধরনের শর্ত ব্যতীত অন্য সকল ত্রুটিপূর্ণ শর্ত সম্পর্কে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল তার দুটি মতের মধ্যে অধিকতর প্রকাশ্য মতটিতে বলেছেন, এ ধরনের শর্ত থাকার পরও চুক্তিটি সহীহ হবে। যেহেতু এটি এমন চুক্তি যার ফলাফল অজানা থাকলেও তা সহীহ হয়। তাই বিবাহ, তালাক বা গোলামের মুক্তিদান ইত্যাদি ফাসেদ শর্ত (ত্রুটিপূর্ণ শর্ত) উল্লেখ করা হলেও চুক্তি বহাল থাকবে; বাতিল হবে না। কাজী ইয়ায ও আবুল খিতাব তাদের অপর মতটি বর্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে, এ ধরনের শর্ত মুদারাবা চুক্তি বাতিল করে দেবে। যেহেতু শর্তটি ত্রুটিযুক্ত, তাই তা চুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ করে দেবে। ১০৮

টিকাঃ
১০৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৬
১০৮. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭০-৭১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 নিম্নে আমরা কতক ফাসেদ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি

📄 নিম্নে আমরা কতক ফাসেদ শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00