📄 মুদারাবায় অর্জিত লাভের সাথে সম্পর্কিত শর্তাবলি
(مَا يَتَعَلَّقُ بِالرِّبِّحِ مِنَ الشروط)
এক. লভ্যাংশ নির্দিষ্ট থাকা জ্ঞাত ও সুবিদিত হওয়া (كَوْنُ الرِّبِّحِ مَعْلُومًا) :
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, মুদারাবা যথাযথ ও সঠিক হওয়ার জন্যে শর্ত হলো, অর্জিত লাভে কার কত অংশ তা উভয়ের জানা থাকতে হবে। কেননা, এ চুক্তির মূল কাম্য বিষয় হচ্ছে ব্যবসায়ে লাভ অর্জন। তাই তা অজানা থাকলে মুদারাবাই বাতিল হয়ে যাবে। ৭১
শাফেয়ী আলেমদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে এবং হানাফী ও হাম্বলী আলেমদের মতে, কেউ যদি অপর কাউকে এ কথায় এক হাজার দিরহাম প্রদান করে যে তারা উভয়ে প্রাপ্ত লাভে অংশীদার হবে, কিন্তু কে কত অংশ তা আলোচনা না করে, তবুও মুদারাবা সহীহ হবে। এ ক্ষেত্রে লাভ তাদের দুজনের মাঝে অর্ধেক হারে বণ্টিত হবে। ৭২ এর কারণ, অংশীদার হওয়ার স্বাভাবিক দাবি হচ্ছে, সকল অংশীদার সমভাগের অধিকারী হবে। যেমন মৃতের সম্পত্তি বণ্টনের বিধানে আল্লাহ তাআলা বলেন : فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُتْ “তারা (মৃতের বৈপিত্রেয় ভাইবোনেরা) মৃতের এক তৃতীয়াংশ সম্পত্তিতে (সম) অংশীদার।”৭৩
দারদীর বলেন, যদি টাকা দেওয়ার সময় পুঁজিদাতা কেবল এটুকু বলে, অর্জিত লাভ আমাদের দুজনের মধ্যে বণ্টিত হবে (কার কত অংশ তা না বলে); তাহলে এটিই স্বাভাবিক ও প্রকাশ্য যে, উভয়ে অর্ধেক করে নেবে। এর কারণ, শুধু এতটুকু কথা সাধারণ্যে এটিই বোঝায় যে, উভয়ে সমহারে পাবে। কিন্তু পুঁজিদাতা যদি এভাবে বলে, তুমি আমার টাকা নিয়ে ব্যবসা করো, লাভে তোমার অংশ থাকবে, তাহলে তার এ কথা যদি সুস্পষ্টভাবে কিছু বোঝায়, সে এলাকায় এভাবে বললে যদি অর্ধেক বা অন্য কোনো অংশ বোঝানোর প্রচলন থাকে তাহলে মুদারাবা সহীহ হবে। নতুবা শুধু এতটুকু বলা, 'লাভে তোমার অংশ রয়েছে', অথচ সে অংশটা কত তা নির্ধারিত না হয়, তাহলে মুদারাবা সহীহ হবে না, বাতিল হয়ে যাবে। ৭৪
দুই. প্রাপ্ত লাভ বিস্তৃত অংশ হতে হবে (كَوْنُ الرِّبْحِ جُزْءًا شَائعًا) :
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, পুঁজিদাতা ও কর্মী উভয়ের লাভ হবে বিস্তৃত অংশ : অর্ধেক অর্ধেক, একজনের এক তৃতীয়াংশ, অপর জনের দুই তৃতীয়াংশ ইত্যাদি। যদি তারা দুজনে মিলে কোনো একজনের জন্যে নির্ধারিত পরিমাণ শর্ত করে; যেমন কর্মীর জন্যে একশ দিরহাম বা অন্য এমন কোনো সংখ্যা, অবশিষ্ট লাভ পুঁজিদাতার, তাহলে এ বণ্টন জায়েয হবে না। তাই মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মুদারাবা হচ্ছে এক প্রকার অংশীদারি। এই চুক্তিতে অংশীদারি হবে প্রাপ্ত লাভে। কিন্তু এখানে যে শর্ত আলোচিত হলো তা অংশীদারি বাতিল করে দিতে পারে, যেহেতু এমন হতে পারে, কর্মী ব্যবসা করে এই পরিমাণ লাভই অর্জন করেছে। যদি একজনকে একশ দিরহাম দেওয়ার শর্ত থাকে এবং তাকে তা দেওয়া হয়, তাহলে অপরজন লাভপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যেহেতু এভাবে অংশীদারি বহাল থাকে না, তাই এমন শর্ত করা হলে মুদারাবাই সহীহ হবে না। ৭৫
কাসানী বলেন, এমনিভাবে যদি তারা শর্ত করে, পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের কোনো একজনের প্রাপ্ত অংশ হবে মোট লাভের অর্ধেক এবং একশ দিরহাম, তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। কেননা হতে পারে মোট লাভ হয়েছে দুশ দিরহাম। সেক্ষেত্রে তার অর্ধেক একশ দিরহাম এবং সেই সাথে উল্লেখকৃত একশ দিরহাম দিলে পুরো লাভ একজনকেই দেওয়া হবে, অপরজন কিছুই পাবে না। এভাবে প্রমাণিত হলো, অর্ধেক ও একশ দিরহাম এমন শর্ত যা অংশীদারির পরিপন্থী; এটা অংশীদারিকে বিঘ্নিত করে। তেমনিভাবে যদি বলা হয়, একজনের লাভ অর্ধেক থেকে একশ দিরহাম কম, তাহলে হতে পারে মোট লাভ হয়েছে দুশ দিরহাম। তা থেকে অর্ধেক হিসাবে একশ দিরহাম নেওয়ার পর আবার একশ দিরহাম ফেরত দিলে তার লাভ নেওয়া পড়ে না মোটেই, এটিও অংশীদারিকে বিনষ্ট ও বাতিল করে। তাই এ ধরনের শর্ত করা হলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
যদি পুঁজিদাতা ও কর্মী শর্ত করে, ব্যবসায়ে লোকসান হলে তা দুজনের মাঝে বণ্টিত হবে, তাহলে তাদের এ শর্ত বাতিল হবে; তা কার্যকর হবে না। তবে মুদারাবা বাতিল হবে না, তা বহাল থাকবে। শর্ত বাতিল হওয়ার কারণ, লোকসান যা হয় তা পুঁজির এক অংশ, যা বিনষ্ট বা বিলীন হয়ে যায়। সুতরাং এটি কেবল পুঁজিদাতার একার কাঁধে পড়বে। তা ছাড়া মুদারাবা হচ্ছে প্রতিনিধিত্ব, কর্মী পুঁজিদাতার প্রতিনিধি হয়ে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে। নিয়ম হচ্ছে, কোনো ফাসেদ শর্ত করা হলে তা প্রতিনিধিত্বে কার্যকর হয় না। তাই শর্তটি বাতিল হবে, তবে মুদারাবা বাতিল হবে না। তাই ক্ষতি উভয়ের কাঁধে না এসে তা কেবল পুঁজিদাতার কাঁধে আসবে।
হানাফী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজি সরবরাহকারী শর্ত করে : লাভের এক অংশ গরীবদের মাঝে বণ্টন করা হবে, হজযাত্রীদের দেওয়া হবে ইত্যাদি, তাহলে চুক্তিটি বহাল থাকলেও শর্ত বাতিল বলে প্রত্যাখ্যাত হবে। ফলে এ সকল খাতে বরাদ্দ সবটুকু লাভ পুঁজিদাতার নামে বরাদ্দ হবে।
যদি শর্ত করা হয় কর্মী যাকে খুশি লাভের এক অংশ প্রদান করবে, এক্ষেত্রে কর্মী যদি তা নিজের বা পুঁজিদাতার নামে বরাদ্দ করে তা সহীহ হবে। কিন্তু এ দুজন ব্যতীত আর কারো জন্যে ধার্য করলে সে শর্ত বাতিল হয়ে যাবে। তৃতীয় কারো নামে লাভের অংশ বরাদ্দ করার সময় সে যদি তার কাজে অংশগ্রহণ করার শর্ত করে তবে এ বরাদ্দ কার্যকর হবে। নতুবা তা কার্যকর হবে না। অবশ্য কাহাস্তানী বলেন, তৃতীয় ব্যক্তি কোনো কাজে অংশী হোক বা না হোক তার জন্যে বরাদ্দ করা সহীহ হবে।
তৃতীয় ব্যক্তির জন্যে যা শর্ত করা হবে তা সে পাবে যদি তার কাজ করার শর্ত করা হয়, নতুবা তার জন্যে বরাদ্দ অংশ পুঁজির মালিক পাবে। ৭৬
যদি শর্ত করা হয়, আংশিক লাভ ব্যয় করা হবে কর্মীর কোনো ঋণ পরিশোধে বা পুঁজিদাতার কোনো ঋণ পরিশোধে, তাহলে তা জায়েয হবে এবং শুধু এই ঋণ পরিশোধেই তা ব্যয়িত হবে, সকল পাওনাদারের দাবিপূরণে তা ব্যয় করা হবে না। ৭৭
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, লাভের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্ত রয়েছে চারটি :
এক. পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের মাঝেই লাভ বণ্টন নির্ধারিত থাকবে, তাতে তৃতীয় কেউ অংশী হবে না। তাই যদি তৃতীয় কাউকে আংশিক লাভ প্রদানের শর্ত করা হয় তবে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি সে তৃতীয় ব্যক্তির অংশীদার হয়ে কাজ করার শর্ত উল্লেখ করা হয়, সেও এ মুদারাবায় কর্মী হিসাবে কাজ করে, তবে লাভেও অংশীদার হবে।
দুই. লাভটা তাদের দুজনের মাঝে বণ্টিত হবে, একজন পুঁজির মালিক হিসাবে অপরজন কর্মী হিসাবে। এ দুজনের কোনো একজনকে লাভ প্রদানে নির্ধারিত এবং তাতেই সীমিত করা চলবে না। যদি কোনো একজনকে শুধু লাভ প্রদানের শর্ত করা হয় তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
তিন. লাভে কার কত অংশ তা উভয়ের জানা থাকতে হবে। যদি পুঁজিদাতা বলে, আমি তোমার সাথে মুদারাবা করছি এ শর্তে যে, প্রাপ্ত লাভে তোমারও অংশ থাকবে। কিন্তু সে অংশ কতটুকু তা যদি না বলে, তাহলে মুদারাবা সহীহ হবে না; বাতিল হয়ে যাবে।
চার. লাভ বণ্টিত হতে হবে অংশ হিসাবে, তাতে নির্ধারিত পরিমাণ উল্লেখ করা যথাযথ হবে না। তাই যদি কেউ বলে, প্রাপ্ত লাভ থেকে তোমার বা আমার একশ দিরহাম নেওয়ার পর অবশিষ্টটুকু সমানভাগে বণ্টিত হবে, তাহলে মুদারাবা সহীহ হবে না, যেহেতু এখানে শুধু অংশ না বলে পরিমাণসহ অংশ উল্লেখ করা হয়েছে। ৭৮
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি শর্ত করা হয় ব্যবসায়ে অর্জিত পুরো লাভ পাবে কর্মী, তাহলে এটি আর মুদারাবা বলে অভিহিত হবে না, এটি হয়ে যাবে ঋণপ্রদান। যেহেতু লাভ একজনে সীমাবদ্ধ করায় তাতে মুদারাবা সহীহ হয় না, তাই তা বাদ দিয়ে এর নাম হবে ঋণপ্রদান। এখানে পুঁজিদাতা কর্মীকে পুরো পুঁজিটাই ঋণপ্রদান করেছে, তাই এটি পরিচিত হবে কর্জ বলে। মুদারাবাকেও কিরায বলা হয়, যা কর্জ শব্দ হতেই নির্গত। যে কোনো চুক্তিতে তার অন্তর্নিহিত অর্থেরই মূল্যায়ন হয়ে থাকে, এখানেও তাই কর্জের দিকটি গুরুত্ব পাবে। ৭৯
এমনিভাবে যদি শর্ত করা হয় পুরো লাভ পাবে পুঁজিদাতা একাই, তাহলে এটা হবে ইবযা, তাতে ইবযা-এর বৈশিষ্ট্য থাকার দরুন, তা মুদারাবা হবে না। ইবযা হচ্ছে কর্মী স্বেচ্ছাসেবা হিসাবে ব্যবসা করে পুঁজিদাতাকে সে লাভ পাইয়ে দেওয়া।
মালেকী ফকীহদের মাযহাব উপরিউক্ত কথাগুলোর খুবই কাছাকাছি। তারা বলেন, ব্যবসায়ে অর্জিত পুরো লাভ পুঁজিদাতা অথবা কর্মী অথবা অন্য কারো জন্যে সাব্যস্ত করা জয়েয হবে। তখন তা আর মুদারাবা থাকবে না, হয়ে যাবে ইবযা। তথাপি যদি তাকে মুদারাবা বলা হয় তবে তা হবে রূপক, সাদৃশ্য থাকার দরুন তা কথিত হবে। এটি হবে তখন সম্পূর্ণ সেবামূলক কার্য, বাণিজ্যভিত্তিক কাজ নয়। ৮০
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজি সরবরাহকারী তার কর্মীকে বলে, তুমি পুঁজি হিসাবে এ সম্পদ হস্তগত করে তা দিয়ে ব্যবসা করো, তাতে যা লাভ হবে তার সবটা তোমার একার, তাহলে এটি হবে কর্জ, কর্মীকে ঋণ প্রদান; কিরায (মুদারাবা) নয়। সে যখন বলেছে তুমি পুঁজি হিসাবে এ সম্পদ হস্তগত করে তা দিয়ে ব্যবসা করো, তার এ কথায় কর্জ ও কিরায (মুদারাবা) দুটিরই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরে যখন সে বলেছে তাতে যা লাভ হবে তার সবটা তোমার একার, তাতে কর্জের দিকটিই প্রবল হয়ে উঠেছে, তাই তা আর কিরায থাকেনি। যদি পুঁজিদাতা সে কথাগুলোর সাথে একথাও বলে, তাতে তোমার কোনো দায়দায়িত্ব নেই, তাহলে তার এ কথা বলার দরুন সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে না। বরং দায়মুক্তির এ শর্তই বাতিল হয়ে যাবে। যেমন কেউ অপর কাউকে বলল, কর্জ হিসাবে তুমি এ টাকা নাও, তাতে তোমার কোনো দায় নেই, এর সদৃশ, তাতে সে দায়মুক্ত হয়ে যায় না।
যদি কেউ কাউকে বলে, তুমি পুঁজি হিসাবে এ সম্পদ গ্রহণ করো, তা দিয়ে ব্যবসা করো। তাতে যা লাভ হবে তার সবটুকু আমার, তাহলে এটি মুদারাবা না হয়ে হবে ইবযা (إبْضاع)। ইবযা হচ্ছে কারো পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করে তাকে লাভের মালিক বানানো, যা স্বেচ্ছাসেবার অন্তর্ভুক্ত। যদি কেউ বলে, মুদারাবা হিসাবে তুমি এ পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করো, তাতে যা লাভ হবে তার সবটা আমার অথবা তোমার, তাহলে এটি মুদারাবা হবে না, হবে ইবযা অথবা কর্জপ্রদান। শাফেয়ী আলেমগণ তাদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে এ কথাটিই গ্রহণ করেছেন।
তাদের এই মতের বিপরীত যে মত আলোচিত হয়েছে তা হলো, যদি কেউ কাউকে বলে, আমি তোমার সাথে মুদারাবা চুক্তি করছি, তাতে পুরো লাভটা তোমারই থাকবে, তাহলে তা যথাযথ মুদারাবা বলেই গণ্য হবে। কিন্তু যদি বলে, পুরো লাভটা থাকবে আমার, তাহলে তা আর মুদারাবা থাকবে না, ইবযা হয়ে যাবে। ৮১
টিকাঃ
৭১. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৫; আশ শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৮২ ও ৬৮৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৩; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৬, পৃ. ১২২-১২৪; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫১৪
৭২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৬৫; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১২৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩২৮; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৩
৭৩. সূরা নিসা, আয়াত ১২
৭৪. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৮৭
৭৫. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৫-৮৬; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৮২-৬৮৭; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১২২-১২৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৯-৩২
৭৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৫-৮৬
৭৭. আদ-দুররুল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৫, ৪৮৮-৪৮৯
৭৮. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১২২-১২৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২-৩১৩
৭৯. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৫
৮০. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, প. ৬৯২; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২০৯
৮১. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২
📄 কর্মীর কাজকর্ম ও ক্ষমতা
(تَصَرُّفَاتُ الْمُضَارِبِ)
কর্মীর সকল কাজ এবং তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিম্ন আলোচিত চার প্রকারের অন্তর্ভুক্ত :
এক. কোনো কিছু বলে না দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিস্তৃত ও ব্যাপক : পুঁজির মালিক যদি কর্মীর কাজ নির্ধারণ করে না দেয়, বরং তার কাজের স্থান সময় বা কাজের ধরন ও বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি কিছুই না বলে, কর্মীর সাথে আরো কেউ সহায়তা করবে কিনা তাও যদি না বলে, এভাবে কোনো কিছুই না বলে কেবল এটুকু বলে, তুমি মুদারাবার পুঁজি হিসাবে এ সম্পদ গ্রহণ করো, তাতে এভাবে লাভ বণ্টিত হবে, তাহলে কর্মী সব কিছুই করতে পারবে। সে-ই কিনবে, সে-ই ভাড়া দেবে, সেই বিক্রি করবে, সেই ভাড়া নেবে, সে-ই ঋণ দেবে, সে-ই ঋণ নেবে, সে-ই বন্ধক রাখবে, সে-ই কাউকে প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে। সে-ই ইবযা করতে চাইলে করবে, সে-ই একালা করতে চাইলে করবে ইত্যাদি, সব কিছুই তার এখতিয়ারে থাকবে। কেননা, এ সবই ব্যবসার কাজ, আর কর্মী তো ব্যবসাই করছে।
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ এ কথাই বলেন। ৮২ অধিকাংশ ফকীহ এর কাছাকাছি বক্তব্যই প্রদান করেছেন। শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কর্মী ব্যবসাপণ্য কেনা ও বেচা করে যেতে পারবে, পুঁজির মালিক তাকে এ কাজগুলো করার অনুমতি না দিলেও। কারণ তার উদ্দেশ্য ব্যবসায়ে লাভ করা এবং পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমেই লাভ অর্জিত হয়। ৮৩
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, মুদারাবাতে অংশীদারি কারবারের সে সকল বিধান কার্যকর হবে যেগুলো কর্মীর সাথে সম্পর্কিত। সে হিসাবে কর্মী পণ্য কেনা, বেচা, কব্জা করা, কজা করানো ইত্যাদি সব কিছুই করতে পারবে। ৮৪
যদি পুঁজিদাতা শর্তহীনভাবে পণ্য বিক্রির অনুমতি প্রদান করে তবে কর্মী তা নগদ বিক্রি করতে পারবে, তা নিয়ে হাম্বলী আলেমদের কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু বাকীতে বিক্রি করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে পরস্পর বিপরীত দুটো মতের উল্লেখ পাওয়া যায়। এক. কর্মী বাকীতে কোনো কিছু বিক্রি করতে পারবে না। যেহেতু সে বেচাকেনায় পুঁজির মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি এবং তার স্থলবর্তী, তাই পুঁজিদাতার এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কর্মীর এ ভাবে বিক্রি করা জায়েয হবে না; যেমন বিক্রির প্রতিনিধির জন্যে তা জায়েয নয়। এমনটা এজন্যে, যেহেতু স্থলবর্তী ব্যক্তির যে কোনো ক্ষেত্রে সতর্কতার ভিত্তিতে কাজ করে যাওয়া বাঞ্ছনীয়, সতর্কতার পরিপন্থী কোনো কাজ করা তার জন্যে জায়েয নয়। মূল্য বাকী রাখা হলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই তা জায়েয হবে না। মালিক কোনো শর্ত ছাড়া বললেও এ অবস্থা তার কথাটিকে শর্তযুক্ত করে দিয়েছে। তাই মালিক যদিও বলেছে, তুমি বিক্রি করো, কিন্তু অবস্থার আলোকে তা ধরা হবে, তুমি নগদ বিক্রি করো।
দুই. তাদের দ্বিতীয় মতটি হচ্ছে, কর্মী বাকীতে বিক্রি করতে পারবে, তা তার জন্যে জায়েয। ইবনে আকীল এটি পছন্দ করেছেন। এ মতের যুক্তি হচ্ছে, পুঁজির মালিক কর্মীকে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে। তার সাথে সে মুদারাবা চুক্তি করেছে। এর দ্বারা স্বাভাবিকভাবে প্রচলিত ব্যবসা করাই বোঝায়। প্রচলিত ব্যবসাতে যেমন নগদ বিক্রি রয়েছে, বাকীতে বেচাকেনারও প্রচলন রয়েছে। সেই সাথে ব্যবসাতে যেহেতু উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভ করা, তাই বাকীতেও সে ব্যবসা করতে পারবে, যেহেতু বাকীতে লাভের পরিমাণ থাকে বেশি। নিছক প্রতিনিধি হয়ে কোনো পণ্য কেনা বা বেচার সাথে এটিকে মিলানো যথার্থ নয়। যেহেতু প্রতিনিধিত্বে লাভের কোনো বিষয় থাকে না, সেখানে শুধু থাকে উপযুক্ত দামে বিক্রি করা। তাই নগদ বিক্রি করলে যেহেতু ঝুঁকিহীনভাবে মূল্য হস্তগত হয়ে যায় তাই সেক্ষেত্রে নগদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। বাকীতে বিক্রি হলে ধোঁকার সম্ভাবনা থাকার প্রেক্ষিতে তার অনুমতি দেওয়া হয় না। ৮৫
শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমদের মতে কর্মী ত্রুটিপূর্ণ বস্তু কেনার অধিকার রাখে, যদি সে তা কেনা লাভজনক বিবেচনা করে। যেহেতু কর্মী লাভ করতে এসেছে, আর ত্রুটিপূর্ণ বস্তুতে সে হয় তো লাভ অধিক দেখছে, তাহলে সে তা কেনে বেচতে পারবে। ৮৬
শাফেয়ীগণ তাদের অপর মতে বলেন, যদি পণ্যে ত্রুটি থাকার প্রেক্ষিতে তা ফিরিয়ে দেওয়াই লাভজনক বিবেচনা করা হয়, তাহলে তা বিক্রি না করে বরং মূল মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেবে। যদি ত্রুটি থাকলেও তা রেখে দেওয়া লাভজনক বিবেচিত হয় তাহলে তা রেখে দেবে, এটিই সর্বাধিক সঠিক মত। এ উভয় অবস্থায় ত্রুটি থাকা ব্যবসায়ে লাভ বা ক্ষতি টেনে আনবে কি না, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৮৭
টিকাঃ
৮২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৭-৯০; আল-ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ২০
৮৩. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৯-২৩১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৭
৮৪. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১১
৮৫. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৯-৪০
৮৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৯-২৩১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৪
৮৭. পূর্ববর্তী সূত্র।
📄 কর্মীর ব্যবসা উপলক্ষে সফর করা
মুদারাবা ব্যবসার পুঁজি নিয়ে কর্মী সফর করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ফকীহগণ এখতেলাফ করেছেন। হানাফী ও মালেকী মাযহাবের আলেমদের মত, যা হাম্বলী আলেমদের বিশুদ্ধ মত হিসাবে মাযহাবে গৃহীত, বুয়াইতী বর্ণনা করেছেন, এটি শাফেয়ীদেরও একটি মত, পুঁজির মালিক যদি কোনো শর্তারোপ না করে ব্যবসা করার নিছক অনুমতি প্রদান করে, তাহলে ব্যবসা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও সফর করা কর্মীর জন্যে জায়েয। কেননা কোনো শর্তারোপ ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া এ কথাই বোঝায়, ব্যবসা উপলক্ষে যা কিছু করতে হয়, সচরাচর সকলে যা করে সবই সে করতে পারবে। সে হিসাবে সে সফরও করতে পারবে।
তা ছাড়া মুদারাবাতে উদ্দেশ্যই হচ্ছে পুঁজিতে বৃদ্ধি ঘটানো এবং লাভ অর্জন। তা ব্যবসার মাধ্যমে যেভাবে আরো বেশি অর্জিত হয়, কর্মীর তা করাই বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া ব্যবসার জন্যে কোনো স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি, সুতরাং কর্মী পুঁজি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতেই পারে। নির্ধারিত স্থান না থাকাই এখানে ধর্তব্য হবে। তা ছাড়া মুদারাবা শব্দটিও সফরের ইঙ্গিত প্রদান করে, যেহেতু শব্দটি নির্গত হয়েছে الضرب থেকে; যার এক অর্থ হচ্ছে দেশ বিদেশ সফর করা জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে। পবিত্র কুরআনেও এ অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে : وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত কল্যাণ (রিজিক) অন্বেষণ করে।”৮৮
আবু হানিফার বক্তব্য উপস্থাপন করে আবু ইউসুফ বলেন, যদি পুঁজিদাতা ও কর্মী উভয়ে কুফার অধিবাসী, এ শহরে থাকাবস্থাতেই পুঁজিদাতা তার কর্মীকে পুঁজি বুঝিয়ে দেয়, তাহলে কর্মীর এ পুঁজি নিয়ে কোথাও সফরে যাওয়ার অধিকার নেই। কিন্তু যদি কুফা শহর ব্যতীত অন্য কোথাও এ হস্তান্তরকর্ম সংঘটিত হয়, তাহলে কর্মী এ পুঁজি নিয়ে যে কোনো স্থানে যেতে পারবে। তিনি এমনটা বলেন এ জন্যে, পুঁজি নিয়ে নানা স্থানে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ; যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিদ্যমান। তাই তা নিয়ে কোথাও যাওয়া কর্মীর জন্যে জায়েয হবে না। তবে যদি পুঁজিদাতা প্রকাশ্যভাবে বা আকারে ইঙ্গিতে অনুমতি প্রদান করে তবে কর্মীর তা নিয়ে সফর করা জায়েয হবে। এ প্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে দেখা গেল, পুঁজিদাতা নিজ শহরে থেকেই তার কর্মীকে পুঁজি প্রদান করেছে, সেক্ষেত্রে মালিকের পক্ষ থেকে কর্মীর পুঁজি নিয়ে সফর করার প্রকাশ্য বা ইঙ্গিতে কোনোভাবেই অনুমতি না দেওয়াই প্রকাশিত হয়েছে। তাই এ অবস্থায় কর্মী পুঁজি নিয়ে সফরে যেতে পারবে না। কিন্তু পুঁজির মালিক যখন তার কর্মীর হাতে পুঁজি প্রদান করে অন্য কোনো শহরে যা তাদের দুজনের কারো শহর নয়, এর দ্বারা এ পুঁজি নিজ শহরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি বোঝা যায়। যেহেতু নিজের শহরে ব্যবসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ সে শহর বাদ দিয়ে অন্য কোনো শহরে ব্যবসা করবে, এটা কারো স্বভাব নয়। তাই এর দ্বারা ইঙ্গিতে এ কথাই বোঝা যায়, পুঁজি নিয়ে তার নিজ শহরে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
মালেকী আলেমগণ বলেন, পুঁজি নিয়ে কর্মী ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পূর্বেই যদি পুঁজিদাতা কর্মীকে পুঁজি নিয়ে সফর করার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান না করে এবং নিষেধ না করে, তাহলে কর্মী সে পুঁজি নিয়ে সফর করতে পারে। কিন্তু যদি ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে পুঁজির মালিক তাকে বাধা প্রদান করে, তাহলে এ বাধা প্রদান চুক্তি সম্পাদনের পরে হোক, কর্মীর তা নিয়ে সফর করা জায়েয হবে না। যদি কর্মী নিষেধ অমান্য করে সফর করে, তাহলে তাকে এরপর ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু যদি কর্মী ব্যবসায়ে লিপ্ত হওয়ার পর মালিক নিষেধ করে, কর্মীকে যেহেতু মালিকের নিষেধ করার তখন অধিকার ছিল না, তাই তার এখন ক্ষতিপূরণ নেওয়ারও অধিকার থাকবে না। ৮৯
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক সফরের অনুমতি বা নির্দেশ দেয় অথবা নিষেধ করে অথবা সুস্পষ্ট ভাষায় না হলেও ইশারা ইঙ্গিতে তার অনুমতি বা নিষেধ বুঝতে পারা যায়, তাহলে মালিক যা ইচ্ছা করবে তা নির্ধারিত হবে। ফলে সে যা আদেশ বা অনুমতি দেবে তা কার্যকর হবে। যদি নিষেধ করে তবে তা নিষিদ্ধ হবে। মালিক অনুমতি বা নির্দেশ দিক বা নিষেধ করুক, যদি ভীতিকর স্থান হয় তাহলে কর্মী সেখানে কিছুতেই সফরে যাবে না। এমনিভাবে পুঁজিদাতা যদি শর্তহীনভাবে যে কোনো স্থানে সফরের অনুমতি প্রদান করে তবুও কর্মীর ভয়ংকর কোনো পথে বা ভীতিপূর্ণ কোনো শহরে বন্দরে যাওয়া বৈধ হবে না। যদি এ ধরনের জায়গায় যাওয়ার পর তার ক্ষতি সাধিত হয় তাহলে কর্মী তার ক্ষতিপূরণের জিম্মাদার হবে। কেননা তার জন্যে যা অনুচিত ছিল সে তা করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ৯০
শাফেয়ী আলেমদের নিকট যা অধিক আলোচিত মত, এটি হাম্বলীদেরও একটি মত, তা হলো, কর্মী পুঁজি নিয়ে কোনো স্থানে যাওয়া, যদি স্থানটি নিকটবর্তীও হয়, পথ যদি নিরাপদ ও শঙ্কাহীনও থাকে, মালিকের অনুমতি না থাকলে তা জায়েয নয়। সফরের প্রস্তুতি নেওয়াও তার জন্যে যথাযথ হবে না। যেহেতু সফরে নানা বিপদের আশঙ্কা থাকে। আবু ইউসুফ রহ.-এর নিকট যারা শিক্ষাগ্রহণ করেছে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি তাঁরও একটি মত। ৯১
শাবরামাল্লিসী বলেন, যদি এমন জায়গা বা বাজারে যাওয়া হয় যা কর্মীর এলাকার নিকটবর্তী হলেও সেখানে কর্মীর এলাকার লোকেরা বেচাকেনার জন্যে সচরাচর যায় না, তা পুঁজির মালিকও জানে; তাহলে সেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু যদি তেমন না হয়, বরং এ এলাকার লোকজন সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করে, তবে তা নিষেধের আওতায় পড়বে না। এভাবে বিষয়টি সাধারণের অভ্যাস ও প্রচলনের সাথে সম্পর্কিত হবে।
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা তার কর্মীর সাথে মুদারাবা চুক্তি করে এমন স্থানে যা বসবাসের উপযোগী নয়, যেমন মরুভূমি এলাকায়, তাহলে এটিই স্বাভাবিক যা আযরাঈও বলেছেন, যেখানে বাস ও ব্যবসা করার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান সেখানে পুঁজিসহ চলে যাওয়া জায়েয হবে। এরপর তার এ আবাসস্থল ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্যে নতুন করে সফর করা জায়েয হবে না। অবশ্য মালিক অনুমতি দিলে তা-ও জায়েয হবে অনুমতির ভিত্তিতে। তাই নির্দিষ্ট স্থানের অনুমতি দিলে সেখানেই সফর সীমিত রাখতে হবে। কোনো স্থান নির্ধারণ না করলে সে সকল স্থানে যাওয়া যাবে যে সব স্থানে এলাকার লোকদের নিরাপদ চলাচল রয়েছে।
এ আলোচনায় এ কথাই সাব্যস্ত হলো, প্রদত্ত পুঁজিতে পুঁজিদাতার আর কোনো কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট থাকবে না, মুদারাবা বিশুদ্ধ নিয়মে করতে হলে এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। বিষয়টি এতোটাই পালনীয় যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সম্পদ তার পিতা বা পিতার অবর্তমানে অসী কাউকে মুদারাবা হিসাবে প্রদান করে, তাতে সে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাজে অংশী হওয়ার শর্ত করে, তাহলেও মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সে কমবয়সী হোক, সে হলো পুঁজিদাতা, তাই তার কর্তৃত্ব থাকায় এখানে পুঁজি হস্তান্তর ও সমর্পণ বাস্তবায়িত হবে না। ৯২
যদি এমন হয়, কর্মী যে শহরে গিয়েছে সেখানে অন্য জায়গার তুলনায় পণ্যের মূল্য অধিক, ফলে লাভের অংক অধিক অথবা বর্তমান অবস্থানস্থল ও সফরের এলাকায় মূল্য সমান হয়, তবে সে এলাকায় সফর করে পণ্য বিক্রি করা সহীহ হবে এবং সফরের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করলেও কর্মী অর্জিত লাভে তার প্রাপ্য অংশের হকদার হবে। সফরে থাকাবস্থায় সে যা বিক্রি করবে সেগুলোর মূল্য তার দায়ে থাকবে। সফর থেকে চলে এলেও এ দায় আবশ্যক হবে, যেহেতু এ দায়ের কারণ হচ্ছে সফর করা, ফিরে এলেও এ কারণ যথাপূর্ব ধর্তব্য হবে।
কর্মী সফর করে অন্য যে জায়গায় গিয়ে বিক্রি করছে, যদি সেখানে মূল্য কম থাকে তাহলে এ বিক্রি সহীহ হবে না। তবে যদি মূল্যের স্বল্পতা সহনীয় পরিমাণ হয়, যতটুকু সকলে মেনে নেয় তাহলে তা সহীহ বলে গণ্য হবে।
তারা আরো বলেন, বিপদসংকুল হওয়ার দরুন কর্মী সামুদ্রিক সফর করবে না। এক্ষেত্রে মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া যথেষ্ট নয়, বিপদের আশঙ্কাও যাচাই করে দেখতে হবে। তবে যদি এমন হয়, মালিক ব্যবসার জন্যে কোনো এলাকা নির্ধারণ করে দেয়, সমুদ্রপথ ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকে, যেমন দ্বীপের অধিবাসী ব্যক্তি যার নৌপথে সফর করা ছাড়া গতি নেই, তার সমুদ্র পথে ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে, তাকে সুস্পষ্টভাবে অনুমতি ব্যক্ত না করলেও। এমন স্থানে থাকা অবস্থায় তাকে কর্মী নিয়োজিত করাই এক্ষেত্রে অনুমতি বলে ধর্তব্য হবে। আযরাঈ এবং আরো অনেকে এ কথাই বলেছেন।
এ আলোচনায় বাস্তবিক সাগরের ভ্রমণই ধর্তব্য, ইসনাভী তা-ই বলেছেন। এর সাথে নীলনদের মতো নদীগুলোতে সফর করাও কি ভুক্ত হবে? এ প্রশ্নের জবাবে আযরাঈ বলেছেন, আমি এক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা বা মতামত পাইনি। খতীব শারবীনী বলেন, এর উত্তরে এটি বলাই শ্রেয়, যদি স্থলভাগের ভ্রমণ থেকে তাতে বিপদ-আপদের শঙ্কা বেশি থাকে তাহলে তা জায়েয হবে না। অবশ্য নদীপথে সফরের অনুমতি থাকলে তা-ও জায়েয হবে। ইবনে শুহবা এমনটাই বলেছেন।
দুই. কর্মীকে চুক্তিপত্রে বর্ণিত শর্তাবলি মেনে চলতে হবে, অনুমতি ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারবে না (مَا لَيْسَ لِلْمُضَارِب عَمَلُهُ إِلَّا بِالنَّص عَلَيْهِ) (এল্লা বিন্নাসি আলাইহি)।
এ প্রকারের আওতায় সে সকল কাজ রয়েছে যেগুলো সাধারণভাবে ব্যবসায়ীরা করে না এবং সাধারণভাবে মুদারাবা চুক্তির আওতায়ও সেগুলো আসে না। যেমন কর্মীর কাছে যে পুঁজি রয়েছে তা হাতে আসার পর তার অধিক মূল্যের পণ্য ক্রয় করা। এভাবে ঋণ করে অর্থাৎ মূল্য বাকী রেখে কোনো কিছু কেনা তার কাছে নগদ অর্থ না থাকার প্রেক্ষিতে। এক্ষেত্রে মূল পুঁজির অধিক যা ঋণ করা হলো তা কর্মীর কাঁধে ন্যস্ত থাকবে; পুঁজিদাতার দায়িত্বে আসবে না। যেহেতু মালিক তাকে এর অনুমতি দেয়নি। তথাপি সে যে ঋণ নিয়েছে এর দ্বারা মালিকের অনুমতি ছাড়াই পুঁজিতে বৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে মালিকের কাঁধে জিম্মাদারি বাড়ছে, অথচ সে তাতে রাজী নয়। এটি মালিকের কাঁধে আসার কারণ, পুঁজির অর্থ দিয়ে কর্মী যে পণ্য কেনে তার মূল্য পরিশোধ পুঁজিদাতার দায়িত্বে থাকে। এ কথাটি এভাবে আরো স্পষ্ট হয়, যদি কর্মী পুঁজির টাকা দিয়ে কোনো পণ্য কেনে কর্মীকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্বেই তা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তেমনি অপর একটি কিনতে কর্মী মালিকের দ্বারস্থ হবে। এমনি অবস্থায় যদি পুঁজির অধিক কর্জ নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হয় তাহলে পুঁজিদাতার ওপর এমন দায় দায়িত্ব চাপানো হবে যা গ্রহণে সে সম্মত নয়।
পণ্য কেনার জন্যে যেমন ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না, তেমনি পণ্য সংস্কার, মেরামত ও সারাই করতেও ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না।
তবে যদি পুঁজির মালিক কর্মীকে ঋণ নিতে অনুমতি প্রদান করে তাহলে তা জায়েয হবে। এ পর্যায়ে যা সে ঋণ নেবে তা তাদের দুজনের (মালিক ও কর্মী) মাঝে হবে শিরকাত উজুহ, (শিরকাত উজুহ হচ্ছে এমন অংশীদারি কারবার যেখানে পুঁজি ছাড়াই কেবল পরিচিতি ও আস্থার ভিত্তিতে একাধিকজন একত্র হয়ে কোনো পণ্য কেনে, তা বিক্রি করে যা লাভ হয় তা সকল অংশীদারের মাঝে বণ্টিত হয়।)
কর্মী হুন্ডি গ্রহণ করতে পারবে না, যেহেতু তা হচ্ছে ঋণগ্রহণ, যা মালিকের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কর্মীর জন্যে জায়েয নয়। এমনিভাবে হুন্ডি প্রদানও তার জন্যে জায়েয হবে না, যেহেতু তাতে ঋণপ্রদান করা হয়, এটিও মালিকের অনুমতি ছাড়া করার কর্মীর কোনো অধিকার নেই।
কর্মীর এত অধিক মূল্যে কোনো জিনিস খরিদ করা জায়েয নয় যা সহনীয় পর্যায় অতিক্রম করে যায়, সচরাচর এত অধিক মূল্যের ক্ষতি স্বীকার করে কেউ কিনতে রাজী হয় না। তুমি তোমার মর্জিমত কাজ করো, বলে কর্মীকে মালিক অবাধ অনুমতি দিলেও তার জন্যে এটা জায়েয হবে না। তথাপি যদি সে এরুপ করে তবে সে নির্দেশ অমান্যকারী বলে বিবেচিত হবে। এর কারণ, মুদারাবা হচ্ছে পণ্য কেনায় কর্মীকে প্রতিনিধি নিয়োগ দান। যদি কোনো কিছু নির্ধারণ করা ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় তাহলে তার অধিকার থাকে জানা শোনো কোনো জিনিস ক্রয় করার যা স্বাভাবিক মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে অথবা তা থেকে এতটুকু বেশি দামে যা সহনীয়, যা সাধারণভাবে সকলে মেনে নেয়। সহনীয় পর্যায়ের অধিক মূল্য দিয়ে কেনা এজন্যেও জায়েয নয়, তাতে কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও আনুকূল্য প্রদর্শন করা হয় যা স্বেচ্ছাসেবার অন্তর্ভুক্ত। কোনো স্বেচ্ছাসেবা মুদারাবার অন্তর্ভুক্ত হয় না। এ হচ্ছে হানাফী আলেমদের মাযহাব ও মত। ৯৩
মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতা অনুমতি দিলে কর্মী এ ব্যবসায়ে অপর কাউকে অংশীদার হিসাবে গ্রহণ করতে পারে। এমনিভাবে তার সম্পদের সাথে নিজের সম্পদ বা মুদারাবার পুঁজি মিলাতে পারবে। পুঁজিদাতার অনুমতিতে সে ইবযাও করতে পারবে। (ইবযা হচ্ছে কারো পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে পুরো লাভ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া, যা স্বেচ্ছাসেবার অন্তর্ভুক্ত।) যদি পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়া কর্মী কাউকে অংশীদার করে তবে কর্মী তার দায় বহন করবে। কেননা, পুঁজিদাতা তাকে নেওয়া নিরাপদ ভাবছে না, সে তার প্রতি আস্থাবান নয়।
কর্মীকে পুঁজিদাতা অনুমতি দিলেও তার বাকীতে কোনো পণ্য কেনা জায়েয নয়। সাভী বলেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এ জন্যে, পুঁজিদাতা তাহলে জিম্মাদার নয় এমন বস্তুর লাভ হস্তগত করবে, অথচ হাদীসে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ৯৪ তবে এই নিষেধাজ্ঞা সে অবস্থায় যখন কর্মী ব্যবসার মূল পরিচালক না হয়ে কেবল সহায়ক হবে। কিন্তু যদি কর্মীই হয় মূল পরিচালক ও ব্যবস্থাপক, তাহলে সে বাকীতে পণ্য কিনতে পারবে- এটি ইবনে কাসেম থেকে শ্রুত তার মত। ৯৫
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, কর্মীকে পুঁজিদাতা যে পণ্য বা যে ধরনের পণ্যের নির্দেশ করবে কর্মী সে পণ্যের ব্যবসা করতে পারবে; অন্য কিছুর নয়। যেহেতু তার সকল কাজ ও পদক্ষেপ পুঁজিদাতার নির্দেশের অধীন, তাই পুঁজির মালিকের অনুমতি ব্যতীত সে কিছু করতে পারবে না, তেমনি তার নির্দেশিত পণ্য ছাড়া অন্য কিছুর ব্যবসাও সে করতে পারবে না। তাই পুঁজির অধিক অর্থব্যয় করে সে কোনো পণ্য কিনতেও পারবে না, অধিক লাভে বেচতেও পারবে না, পুঁজির মালিকের যদি এগুলোতে অনুমতি না থাকে। অনুমতি না থাকলে এ কথাই সাব্যস্ত হবে, কর্মী এ সকল কাজে ব্যস্ত থাকাতে মালিকের সম্মতি নেই। তাই সে সব কাজ মুদারাবার কাজ বলে বিবেচিত হবে না। ৯৬
কর্মী যদি কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োজিত করে, সে তৃতীয় ব্যক্তি কাজে ও লাভে অংশীদার হবে, তাতে পুঁজিদাতা সম্মত হলেও তা জায়েয হবে না; এটিই সর্বাধিক সহীহ মত। যেহেতু মুদারাবা চুক্তি হচ্ছে কিয়াস ও যুক্তি বিরোধী, তাতে যা লক্ষ করা হয়েছে তা হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ দুজনের একজন হবে পুঁজির মালিক সে ব্যবসায়িক কোনো কাজ করবে না, অপরজন হবে ব্যবসাকর্মী, কর্মী একাধিক ব্যক্তি হতে পারে, তারা হবে মালিকানাহীন। কর্মীর কর্মী নিয়োগ করা হলে চুক্তিতে দুপক্ষ থাকে না, তাই তা জায়েয হবে না। নিষেধাজ্ঞাটি দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রতি সম্পর্কিত, প্রথম কর্মীর সাথে নয়, যেহেতু তার সাথে সম্পাদিত চুক্তি তো বহালই রয়েছে। যদি তথাপি দ্বিতীয় কর্মী ব্যবসায়ে শ্রমদান করে তবে পুঁজিদাতা তাকে যথাযথ পারিশ্রমিক প্রদান করবে, এটি মালিকের কর্তব্য। এক্ষেত্রে লাভ সবটুকু এককভাবে মালিক লাভ করবে এবং প্রথম কর্মী যেহেতু কোনো কাজ করেনি, তাই এ ব্যবসা থেকে সে কিছুই পাবে না। শাবরামালাসী বলেন, যদি প্রথম কর্মীও কাজ করে তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মালিক ও তার মধ্যে লাভ বণ্টিত হবে।
সর্বাধিক সহীহ মতের বিপরীত ফকীহদের অপর একটি মত হচ্ছে, কর্মী অপর কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োগদান জায়েয ও সহীহ হবে, যেমন পুঁজির মালিক চুক্তির সূচনাতেই একাধিক কর্মী নিয়োগ করা বৈধ ও সহীহ হয়।
যদি মালিক কর্মীকে অনুমতি প্রদান করে, সে অপর কাউকে কর্মী হিসাবে নিয়োজিত করবে, নিজে মুদারাবা থেকে বিমুক্ত হয়ে স্রেফ প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে, তাহলে তা সহীহ হবে। ইবনে রাফআ বলেন, এটি তখন পর্যন্ত করা যাবে যে পর্যন্ত পুঁজি নগদ মুদ্রা থাকবে, যা দিয়ে মুদারাবা করা সহীহ হয়ে থাকে। তাহলে এ অপর কর্মী নিয়োগকেও মুদারাবার সূচনা-ই গণ্য করা হবে। কিন্তু যদি প্রথম কর্মী পুঁজিতে হস্তক্ষেপ করে, তাতে নগদ মুদ্রা থেকে ব্যবসাপণ্যে রূপান্তর ঘটিয়ে ফেলে তাহলে আর তা জায়েয হবে না।
যদি কর্মী অপর কারো সাথে মুদারাবা চুক্তি করে পুঁজিদাতার অনুমতি ছাড়াই তাহলে মূল মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। প্রথম কর্মী দ্বিতীয় কর্মীকে নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে উভয়ে কাজে ও লাভে অংশীদার হিসাবে থাকবে অথবা প্রথম কর্মী কেবল লাভে অংশীদার হবে অথবা প্রথম কর্মী চুক্তি থেকে বিমুক্ত থাকবে, সে যে বিবেচনা করেই দ্বিতীয় কর্মীকে কাজে নিক, তাতে মূল মালিকের অনুমতি না থাকায় তা জায়েয হবে না। তা ছাড়া পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়া তার পুঁজি অন্য ব্যক্তির হাতে আমানত হিসাবে প্রদান করা হবে, যা জায়েয নয়।
যদি দ্বিতীয় কর্মী পুঁজির মালিকের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসাকর্মে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তার সে কাজ হবে লুটেরা ব্যক্তির কাজ করার সদৃশ। তাই সে যা করবে তার দায় থাকবে তার প্রতি, যেহেতু তাকে যে কাজের অনুমতি দিয়েছে (প্রথম কর্মী) সে পুঁজির মালিকও নয়, মালিকের প্রতিনিধিও নয়। তাই তার এ অনুমতি মোটে ধর্তব্য হবে না। যদি প্রথম কর্মীর দায়িত্বের আওতায় থেকে দ্বিতীয় কর্মী কোনো পণ্য খরিদ করে এবং মুদারাবার পুঁজি দ্বারা তার মূল্য পরিশোধ করে তা বিক্রি করে লাভ অর্জন করে তাহলে এ লাভের অধিকারী হবে প্রথম কর্মী। এটি সর্বাধিক সহীহ মত। এটি এজন্যে যে, দ্বিতীয় কর্মী প্রথম কর্মীর অনুমতি ও নিয়োগদানে এ কাজগুলো করেছে, তাই সে প্রথম কর্মীর প্রতিনিধি তুল্য হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় কর্মী তার কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক পাবে যা প্রথম কর্মীর তাকে প্রদান করা দায়িত্ব। যেহেতু দ্বিতীয় ব্যক্তি মুফতে কাজ করেনি, তাই ব্যবসায়ে লাভ ক্ষতি বিবেচনা না করেই তার পারিশ্রমিক তাকে দিতে হবে, যা প্রথম কর্মীর দরুন আবশ্যক হয়েছে, তাই প্রথম কর্মীই তা প্রদান করবে।
আলোচিত মাসআলার সর্বাধিক সহীহ মতের বিপরীত অপর মত হচ্ছে, দ্বিতীয় কর্মী ব্যবসায়ে যা লাভ করবে তার সবটুকুই সে পাবে, যেহেতু সে মালিকের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করেনি। তাই সে হয়েছে লুটেরাতুল্য, লুণ্ঠনকারী লুণ্ঠিত মাল দিয়ে ব্যবসা করলে, যদিও তা অবৈধ, পুরোলাভ সে-ই পায়। সুবকী এ মত ও ফয়সালা পছন্দ করেছেন। তবে এ দ্বিতীয় কর্মী যদি নিজ দায়িত্বে কোনো পণ্য খরিদ করে তবে এর দায় তার কাঁধেই ন্যস্ত থাকবে। যদি সে সরাসরি মুদারাবার পুঁজি বিনিয়োগ করে পণ্য খরিদ করে তবে তার এ পণ্যক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে। যেহেতু এ পরিস্থিতিতে সে হবে ফুযুলী। (ফুফুলী হচ্ছে সে ব্যক্তি যে মালিক নয়, তার প্রতিনিধিও নয়, অথচ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় কাজ সম্পাদন করে। তার কাজ মূল মালিকের অনুমতি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।)
যদি পুঁজিদাতা অনুমতি প্রদান করে তাহলে কর্মী পণ্য বাকীতে কিনতেও পারবে, বেচতেও পারবে। এমনিভাবে অত্যধিক মূল্য দিয়ে কিনতে পারে, অনেক কমদামে বেচতেও পারবে। যেহেতু এ সবক্ষেত্রে বাধা ও আপত্তি প্রদানের অধিকার এককভাবে মালিকের, মালিক অনুমতি প্রদান করায় সে বাধা দূর হয়ে যায়। জায়েয আছে বলেই কোনো জিনিসে সহনীয় পরিমাণের অধিক ক্ষতি স্বীকার করা কাম্য নয়। যেমন যেটির মূল্য একশ টাকা তা দশ টকায় বিক্রি করে ফেলা। বরং এমন দামে বিক্রি করা বাঞ্ছনীয় পরিস্থিতির আলোকে সাধারণভাবে সবাই যা বিবেচনা করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মী যদি স্বাভাবিক থেকে অত্যধিক বেশি মূল্যে কিছু কেনে বা অত্যধিক কম মূল্যে বেচে তবে তার এ কেনাবেচা যথাযথ হবে না। বাকী লেনদেনে সাক্ষী রাখা আবশ্যক। নতুবা সে দায়বদ্ধ থাকবে। কিন্তু নগদ লেনদেনে সাক্ষী থাকা জরুরি ও আবশ্যক নয়; যেহেতু ব্যবসায়ী মহলে নগদ লেনদেনে সাক্ষী রাখার প্রচলন নেই। ৯৭
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতার জন্যে জায়েয (করণীয়), কর্মী নগদ লেনদেন করবে না বাকীতেও, তা পুঁজিদাতা সুস্পষ্টভাবে তাকে বলে দেবে। কর্মীর সেক্ষেত্রে বলে দেওয়া নির্দেশের বিপরীত কোনো কিছু করা জায়েয হবে না, যেহেতু কর্মী মালিকের অনুমতিসাপেক্ষে পুঁজিতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লাভ করে। তাই তাকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হবে ততটুকুতে তার কাজ নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। অনুমতির বাইরে তার যাওয়া বৈধ হবে না। তা ছাড়া মালিকের অনুমতিতে সীমিত থাকা মুদারাবার মূল উদ্দেশ্য লাভ অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে না। দেখা যায়, সে বিধিনিষেধের মাধ্যমেই ব্যবসার এ উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তা লঙ্ঘনের কিইবা আবশ্যক। ৯৮
তারা বলেন, পুঁজি থেকে অধিক মূল্যের পণ্য খরিদ করা কর্মীর জন্যে বৈধ নয়, তা তার অধিকার বহির্ভূত। যেহেতু পুঁজিদাতা যে পুঁজি সরবরাহ করে তার আওতায় সর্বাধিক অংক পর্যন্ত তার অনুমতি থাকে। তাই পুঁজি যদি থাকে এক হাজার টাকা, কর্মী যদি এক হাজার টাকার পণ্য কেনার পর আরো এক হাজার টাকার পণ্য কেনে, তবে তার পরবর্তী এ পণ্যক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে। কেননা সে এ পণ্য কিনেছে সেই মুদ্রা দিয়ে যা প্রথমবার পণ্য কেনাতে বিক্রেতার হাতে অর্পণ করার উপযোগী ছিল। যদি কর্মী পরবর্তী পণ্যগুলো নিজ দায়িত্বে কেনে তাহলে এ ক্রয় সহীহ হবে এবং সে পণ্য এককভাবে তার বলে গণ্য হবে। কেননা কর্মী তার নিজের জিম্মায় কিনেছে, মালিক তাকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তা নিজের জন্যেই কেনা হয়েছে। সুতরাং এ পণ্য ক্রয় এবং তার ব্যবসা এককভাবে কর্মীর সাথে সংশিষ্ট হবে।
যদি কর্মী মুদারাবা হিসাবে অপর কারো কাছে পুঁজি হস্তান্তর করায় পুঁজির মালিক সম্মতি জ্ঞাপন করে, তাহলে তা জায়েয হবে। ইবনে কুদামা বলেন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. সুস্পষ্টভাবে জায়েযের রায় প্রদান করেছেন। তাতে কারো মতপার্থক্য থাকার বিষয় আমাদের জানা নেই। এ অবস্থায় প্রথম কর্মী হয়ে যাবে এ লেনদেনে পুঁজির মালিকের পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধি। এ সময় সে যদি দ্বিতীয় কর্মীর নিকট পুঁজিপ্রদানকালে নিজের জন্যে লাভের কোনো অংশ নির্ধারণ না করে তবে এ লেনদেন সহীহ হবে। যদি এর বিপরীত সে নিজের জন্যে লাভের এক অংশ নির্ধারণ করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু প্রথম কর্মীর পক্ষ থেকে এ মুদারাবা চুক্তিতে পুঁজির বিনিয়োগ হয়নি কাজও করা হয়নি। অথচ মুদারাবাতে লাভের অধিকারী হতে হয় এ দুটির কোনো একটির মাধ্যমে। ৯৯
যদি কর্মী সীমালঙ্ঘন করে যা তার করণীয় নয় তা সে করে ফেলে তাহলে সে হবে দায়বদ্ধ ও জিম্মাদার-এর কারণ সে অপরের সম্পদে তার অনুমতি ছাড়া এ হস্তক্ষেপ করেছে। তাই তাতে কোনো ক্ষতি হলে তাকে এর ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। যেমন লুণ্ঠনকারী তার লুণ্ঠিত দ্রব্যের ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য। তাই যা কেনায় মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি ছিল না তা কেনাবেচায় যদি লাভ হয় তবে তার অধিকারী হবে পুঁজির মালিক। ইবনে কুদামা বলেন, ইমাম আহমদ এ কথা বলেছেন। ইমাম আহমদ-এর পক্ষ থেকে এ রায়ও প্রকাশিত হয়েছে, মালিক ও কর্মী উভয়েই এ পণ্যের লাভ দান করে দেবে। কাজী ইয়ায বলেন, ইমাম আহমদের প্রথম মতটি-লাভের অধিকারী হবে পুঁজিদাতা-এটি হচ্ছে ফয়সালা এবং তার পরবর্তী রায়-উভয়ে এ লাভ দান করে দেবে-তাকওয়া ও পরহেযগারি হিসাবে বলেছেন। ১০০
তিন. কর্মীকে যখন বলা হবে, তুমি তোমার মনোমতো করো, তার করণীয় কী তা সুস্পষ্টভাবে না বলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার করণীয় (الثَّالِثُ : مَا لِلْمُضَارِبِ عَمَلُهُ إِذَا قِيلَ لَهُ اعمل برأيك)
হানাফী আলেমগণ বলেন, কর্মী অপর কাউকে কর্মী নির্ধারণ করে তার সাথে মুদারাবা চুক্তি করা এবং সে হিসাবে তার হাতে পুঁজির টাকা তুলে দেওয়া জায়েয। এমনিভাবে অপর কাউকে মুদারাবার পুঁজিতে শিরকাতে আনান হিসাবে অংশীদার করাও জায়েয। (শিরকাতে আনান হচ্ছে কোনো কারবারে একাধিক ব্যক্তি অংশীদার হওয়া, যাদের প্রত্যেকে সমান অংশের মালিক হওয়া শর্ত নয়।) এমনিভাবে নিজের সম্পদের সাথে মুদারাবার সম্পদ একত্র করাও জায়েয। কিন্তু উপরিউক্ত কাজগুলোর কোনোটিই করতে পারবে না যদি না তাকে বলা হয়, তুমি তোমার বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত মত করো।
অনুমতি ও মুক্ত রায়ের স্বাধীনতা না দিলে এ কাজগুলো মূলত অনুমতি প্রদানের উপযোগী বিবেচিত হয় না। মুদারাবা চুক্তিতে যাকে কর্মী সাব্যস্ত করা হলো সে আবার অপরের সাথে মুদারাবা করলে সেখানে যা বিবেচনা করা হয় তা হচ্ছে, এ মুদারাবা পূর্ববর্তী মুদারাবা তুল্য। যেহেতু কোনো বিষয় তার সদৃশ কোনো বিষয়কে অধীন ও অনুবর্তী করে না, তাই মালিকের অনুমতি না থাকলে এক মুদারাবার অধীনে অপর মুদারাবা সম্পন্ন হবে না।
শিরকাত বা অংশীদার হওয়ার বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট। এটি মুদারাবা থেকে ব্যাপক। কোনো বিষয় যেহেতু তার তুল্য বিষয়কে অধীন করতে পারে না, তা থেকে যা বিস্তৃত ও ব্যাপক তাকে তো সেক্ষেত্রে অধীন করতে পারেই না। তাই মালিকের যথেচ্ছ কাজ করার অনুমতি প্রদান ব্যতীত কর্মীর তা করা সহীহ হবে না।
একজনের পুঁজির সাথে অপরজনের পুঁজি মিলানোর ক্ষেত্রে যা লক্ষণীয় তা হচ্ছে, এমন করা হলে পুঁজিদাতার সম্পদে অন্যের অধিকার ও কর্তৃত্ব সংশিষ্ট হয়। তাই তা পুঁজিদাতার অনুমতি ছাড়া জায়েয হবে না। ১০১
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, পুঁজিদাতা যখন কর্মীকে বলে, তুমি তোমার বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করো, তোমার ইচ্ছামাফিক তুমি লেনদেন করো, কর্মী সে অবস্থায় বাকীতে লেনদেন করতে পারবে। এর কারণ, মালিকের কথার ব্যাপকতায় এ ধরনের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত। সেই সাথে মালিকের স্বাভাবিক অবস্থাও এ কথাই বোঝায়, সে কর্মীর যে কোনো ধরনের ব্যবসা এবং যে কোনো পদ্ধতিতে তা সম্পাদনে সম্মত রয়েছে। বাকীতে লেনদেন যেহেতু এ ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত, তাই এতেও মালিকের সম্মতি থাকা ধর্তব্য হবে।
ইবনে কুদামা বলেন, আমরা যখন বলি, সে বাকীতে লেনদেন করতে পারবে, তার এ ধরনের বেচাকেনা সহীহ হবে। এ সময় যদি মূল্যের কিছু অংশ হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে কর্মীর সে জন্যে জরিমানা প্রদান আবশ্যক হবে না। তবে যদি কর্মী এক্ষেত্রে চরম শিথিলতা প্রদর্শন করে, যাকে সে চেনে না অথবা যার প্রতি তার আস্থা বিশ্বাস গড়ে উঠেনি যদি তার নিকট বাকীতে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে ক্রেতার কাঁধে থাকা মূল্যের দায় থাকবে কর্মীর ওপর (অর্থাৎ ক্রেতা সে মূল্য আদায় না করলে কর্মীকে তা পরিশোধ করতে হবে।) যদি আমরা (পূর্বের কথা না বলে) বলি, কর্মী বাকীতে লেনদেন করতে পারবে না, তাহলে বাকী লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে; যেহেতু যার অনুমতি নেই তা সে করেছে।
তাহলে তার এ বিক্রি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির পণ্য বিক্রি করার সদৃশ হবে, যা বাতিল বলে সাব্যস্ত হবে। অবশ্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বিক্রি করলে তা বাতিল হয় না; বরং মূল মালিকের অনুমতির ওপর তা স্থগিত থাকে। তেমনি অনুমতি ছাড়াই বা নিষেধ করার পরও বাকীতে বিক্রি করলে তা মালিকের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। খারকী এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা লেনদেনের অনুমতি না থাকলেও সহীহ হওয়া বোঝায়। যাই হোক, শিথিলতা প্রদর্শন করার প্রতিটি ক্ষেত্রে দায় থাকবে কর্মীর ওপর, যেহেতু মূল্য হাতছাড়া হলে তা হবে তার শিথিলতার দরুন।
বাজারে স্বাভাবিক যে দাম রয়েছে তা থেকে কম মূল্যে কর্মী কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বাজারে যে দাম রয়েছে তা থেকে অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিমাণ বেশি মূল্যে কোনো পণ্য কিনতেও পারবে না। যদি এ ধরনের কাজ সে করে তাহলে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তার বেচাকেনা সহীহ বলে গণ্য হবে, কর্মী এ ক্ষতিপূরণের দায় বহন করবে, যেহেতু ক্ষতিপূরণ দ্বারা ক্ষতির প্রতিকার হওয়া সম্ভব। ইবনে কুদামা বলেন, কিয়াস ও যুক্তি হিসাবে এ ধরনের বেচাকেনা বাতিল। কেননা কর্মীকে এ ধরনের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই এটি তৃতীয় কারো বিক্রির সদৃশ হবে। এক্ষেত্রে পণ্য ফেরত আনা সম্ভব না হলে যা ক্ষতি হবে, কর্মীকে তার দায় বহন করতে হবে। যদি পণ্য ফেরত আনা সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই তা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি পণ্যটি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে তার মূল্য ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। পুঁজির মালিক এটি কর্মী ও ক্রেতা যে কারো নিকট চাইতে পারে।
কর্মী যে দেশে রয়েছে সে দেশ ব্যতীত অন্য দেশের মুদ্রা দিয়ে কেনাবেচা করলে সে সম্পর্কে দুটি মত পাওয়া যায়। এক. এভাবে বেচাকেনা করা জায়েয হবে যদি তাতে কোনো উপকার নিহিত থাকে এবং তাতে লাভ অর্জিত হয়। যেমন জিনিসের বদলে জিনিস কেনা ও বেচা জায়েয। দুই. জায়েয হবে না। ইবনে কুদামা বলেন, এ পরিস্থিতিতে যদি আমরা বলি, এভাবে কোনো বস্তু বিক্রয় করা হলে ক্রেতা তার মালিক হবে না, তাহলে এটি সে মাসআলার অনুরূপ হবে, যখন কর্মী স্বাভাবিক দাম থেকে বেশি বা কমে কেনে বা বেচে। সেক্ষেত্রে কর্মী তার দায় বহন করবে যদি ফেরত সম্ভব না হয়। সম্ভব হলে ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি মালিক কর্মীকে বলে, তোমার সিদ্ধান্ত মতো তুমি করো, তাহলে অন্য দেশের মুদ্রা দিয়ে লেনদেন করাও বৈধ হবে। ১০২
টিকাঃ
৮৮. সূরা মুযযাম্মেল, আয়াত ২০
৮৯. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৯৪
৯০. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪১। আল-ইনসাফ, খ. ৫, প. ৪১৮
৯১. আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪১৮; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪১
৯২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৩৪; নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়া আশ শাবরামাল্লিসী, খ. ৫, পৃ. ২৩২-২৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৭
৯৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯০; আল-ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ২০
৯৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর বর্ণনায় তিরমিযী শরীফে বর্ণিত। তিরমিযী রহ. হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন, হাদিসুন হাসানুন সহীহ।
৯৫. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৯৫-৬৯৮
৯৬. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৬-৩৮৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৬
৯৭. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৭-২২৮ ও ২৩২
৯৮. নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়া আশ শাবরামাল্লিসী, খ. ৫, প. ২২৯-২৩১; আল-মুহাযযাব; খ. ১, পৃ. ৩৮৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৫
৯৯. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৯
১০০. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৭
১০১. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৫; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৫
১০২. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪০-৪৩
📄 চার. কর্মী যা মোটেও করতে পারবে না
(مَا لَيْسَ الْمُضَارِبِ عَمَلُهُ أَصْلًاً)
ফকীহগণ বলেন, কর্মী হারাম কোনো বস্তু কিনতে পারবে না। যেমন : মৃত জন্তু, রক্ত, মদ ও শুকর ইত্যাদি। ১০৫ এর কারণ, মুদারাবা চুক্তিতে সে সকল কাজেরই অনুমোদন বিদ্যমান যে সব কাজ দ্বারা লাভ অর্জিত হয়। লাভ হবে পণ্য কেনা ও বেচার মাধ্যমে। কিন্তু কেনার পরও যদি মালিক না হওয়া যায় তাহলে তাতে লাভ আসে না। কোনো কিছু কেনার মাধ্যমে মালিক হওয়ার পরও যদি সে তা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাতেও লাভ আসে না। তাই যে সব ক্ষেত্রে লাভ আসবে না সেগুলো অনুমোদনের আওতায়ও আসবে না।
যদি এ সকল হারাম বস্তুর কোনোটি কর্মী কেনে তাহলে তা তার নিজের জন্যে কেনা ধর্তব্য হবে; মুদারাবার পণ্য হিসাবে তা গণ্য হবে না। যদি সে হারাম বস্তু কেনার সময় সে মুদারাবার পুঁজি থেকে মূল্য প্রদান করে তবে তার জরিমানা প্রদান করবে। ১০৬
টিকাঃ
১০৫. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫১
১০৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৯৮