📄 সুবিধা ও মুনাফা দ্বারা মুদারাবা
(الْمُضَارَبَةُ بِالْمَنْفَعَةِ)
শাফেয়ী আলেমগণ সুস্পষ্ট ভাষায় আলোচনা করেছেন, মুনাফা বা কোনো সুবিধা ইত্যাদি মুদারাবা চুক্তিতে বিনিয়োগ করা সহীহ ও জায়েয নয়। সে হিসাবেই তারা বলেন, বাড়িতে অবস্থান করা মুদারাবা চুক্তির মূলধন ধার্য করা যথার্থ নয়। যেহেতু দ্রব্যসামগ্রীই মূলধন হতে পারে না, দ্রব্যসামগ্রী থেকে প্রাপ্ত উপকার ও সুবিধা অর্জন অবশ্যই মূলধন হতে পারবে না। ৫২
টিকাঃ
৫২. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১১৯
📄 সারাফ বিক্রির মাধ্যমে মুদারাবা
(الْمُضَارَبَةُ بالصَّرْفِ)
মালেকী মাযহাবের আলেমগণ সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন, যদি পুঁজি সরবরাহকারী তার কর্মীকে স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রা প্রদান করে, যেন সে অন্য কারো সাথে সারাফ বিক্রির মাধ্যমে মুদ্রাবিনিময় সম্পাদন করে, তারপর সে সারাফ বিক্রি করে যা হাতে পাবে তা দিয়ে মুদারাবা করবে, তাহলে তা জায়েয হবে না। যদি নাজায়েয হওয়া সত্ত্বেও কর্মী সারাফ বিক্রি করে এবং তাতে তার কজায় যে মুদ্রা আসে তা দিয়ে যদি সে মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসা করে, তবে সে ব্যবসাতে ক্ষতিগ্রস্ত হোক বা পুঁজি বিনষ্ট হোক, পুঁজিদাতার দায়িত্ব হলো সে তার কর্মীকে তার পরিশ্রমের যথাযথ পারিশ্রমিক প্রদান করবে। যদি সে ব্যবসাতে লাভ হয়ে থাকে তবে লাভের সে অংশটুকু দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসা করা যাবে। যদি সে লাভটুকু ব্যবসা করতে গিয়ে বিনাশ হয়ে যায় বা তাতে কোনো লাভ না হয় তাহলে পুঁজিদাতার কর্মীকে কিছু প্রদানের দায় থাকবে না। ৫৩
টিকাঃ
৫৩. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৭১
📄 দুই. মুদারাবাতে পুঁজির পরিমাণ জ্ঞাত হওয়া
(كَوْنُ رَأْسٍ مَالِ الْمُضَارَبَةِ مَعْلُومًا)
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, মুদারাবা চুক্তি সম্পাদনকালে পুঁজি কত তা উভয়পক্ষের অবগতিতে থাকা শর্ত। কোন্ ধরনের মুদ্রা, তার বৈশিষ্ট্য কী, তার সংখ্যা বা পরিমাণ কত- এসব কথাই চুক্তির উভয়পক্ষের পুরোপুরি জানা থাকতে হবে, যেন কারো কোনো বিষয় অজানা না থাকে এবং ফলে কোনো ঝগড়ার আশঙ্কাও না থাকে। যদি এমন স্পষ্টভাবে উভয়পক্ষের বিষয়টি জানা না থাকে তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
আলেমসমাজ এর কারণ বর্ণনা করে বলেন, যদি মুদারাবা চুক্তিতে পুঁজির পরিমাণ এমন বিশদভাবে উভয়পক্ষের জানা না থাকে, তাহলে তাতে লাভের পরিমাণও উভয়ের সুস্পষ্ট জানা হবে না। অথচ লাভের পরিমাণ জানা থাকা মুদারাবা যথাযথ হওয়ার জন্যে শর্ত, তাই পুঁজির পরিমাণ সুস্পষ্ট হওয়া আবশ্যক। ৫৪
টিকাঃ
৫৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮২; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৪; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৭২; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫১৮; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২১৯-২২০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৯
📄 দু’ থলের এক থলে মুদ্রা দিয়ে মুদারাবা
(الْمُضَارَبَةُ بِأَحَدِ الْكَيسَيْنِ أو الصُّرْتين)
হাম্বলী আলেমগণ বলেন, শাফেয়ী আলেমগণ তাদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হিসাবে বলেন এবং কতক হানাফী আলেম বলেন, যদি পুঁজি সরবরাহকারী স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রায় পূর্ণ দুটো থলে বা ব্যাগ এনে কর্মীর হাতে দেয়, যদি কোনটিতে কতটি মুদ্রা বা কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা দুজনের জানা থাকে। এ অবস্থায় সে তার কর্মীকে যদি বলে, এ দুটো থলে বা ব্যাগে রাখা সম্পদের কোনো একটি তোমাকে মুদারাবার পুঁজি হিসাবে দিলাম, তাহলে পুঁজির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না করার দরুন মুদারাবা সংঘটিত হবে না, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। এমনকি যদি উভয় থলে বা ব্যাগে সমান পরিমাণ সম্পদ থাকে তবুও মুদারাবা সংঘটিত হবে না, তাতে অস্পষ্টতা থাকার দরুন। অস্পষ্টতার দরুন এ চুক্তিতে প্রতারণার আশঙ্কা বিদ্যমান। এ অবস্থায় এ চুক্তি বহাল রাখার কোনোই আবশ্যকতা নেই।
শাফেয়ী আলেমদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতের বিপরীত, এটি হানাফী আলেমদের অপর কতক আলেমের মত, যদি উভয় থলেতে রাখা মুদ্রা একজাতীয়, একই বৈশিষ্ট্যের সমসংখ্যক বা সমপরিমাণের হয় তাহলে দু থলের যে কোনো একটি কর্মী তার পুঁজি হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে, তা দ্বারা মুদারাবা সহীহ ও সঠিক হবে। সে যেটি গ্রহণ করবে পুঁজি হিসাবে সেটিই নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে যা জরুরি তা হচ্ছে, থলেগুলোতে মোট কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা উভয়ের জানা থাকতে হবে।
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, তাদের প্রথম মতটি যা তাদের দৃষ্টিতে বিশুদ্ধতম তার আলোকে এ মাসআলা নির্গত হয় যদি পুঁজি বিনিয়োগকারী কর্মীকে দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) বা দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করে মুদারাবা চুক্তির ভিত্তিতে, কিন্তু তা নির্দিষ্ট না করেই দিয়েছিল। এরপর সে মজলিসেই হিসাব করে তা নির্ধারণ করে নিলে চুক্তি বহাল ও সঠিক থাকবে। অপর এক বর্ণনায় মজলিসে হিসাব করলেও সহীহ না হওয়ার মত ব্যক্ত হয়েছে। ৫৫
টিকাঃ
৫৫. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১১৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৭; আস সামনানী প্রণীত রওযাতুত কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৮২