📄 ক. الإِبْضَاعُ
শব্দটি أَبْضَعَ -এর মাসদার বা মূলধাতু, এর অর্থ : কোনো বস্তুকে পণ্য বানানো। বলা হয়, أَبْضَعَ الشَّيْء أَيْ جَعَلَهُ بِضَاعَةً 'সে বস্তুটিকে পণ্য ও বিক্রয়সামগ্রী করল।’ أَبْضَعْتُهُ غَيْرِي 'আমি তার জন্যে বিষয়টিকে পণ্য বানালাম।’ استبضعة 'আমি জিনিসটিকে পণ্য হিসাবে নিলাম।’৫
পরিভাষায় الإبْضَاعُ বলা হয়, নিছক স্বেচ্ছাসেবা হিসাবে ব্যবসা করবে এমন কাউকে পুঁজি যোগান দেওয়া।
الْإِبْضَاعُ ও الْمُضَارَبَةُ -এ দুটোতে কিছু সাদৃশ্য এবং কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এ দুটোতে সাদৃশ্য হচ্ছে, মুদারাবা ও ইবযা দুটোতেই পুঁজি যোগানদাতার নিকট থেকে পুঁজি নেওয়া হয়, পুঁজি গ্রহণকারী তা দিয়ে ব্যবসা করে। এ দুটোতে পার্থক্য হচ্ছে, মুদারাবা পদ্ধতিতে পুঁজি যোগানদাতা ও পুঁজিগ্রহণকারী উভয়ের মধ্যে লাভ-ক্ষতির অংশ আলোচনাসাপেক্ষে নির্ধারিত হয়, আর সে হিসাবেই উভয়ের মাঝে তা বণ্টিত হয়। কিন্তু ইবযাতে যে পুঁজি গ্রহণ করে সে নিছক সেবার মনোভাবে অপরের পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে, যা লাভ হয় তার পুরোটাই পুঁজিদাতাকে দিয়ে দেয়। নিজে তা থেকে কিছু রাখে না।
টিকাঃ
৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৩
৬. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ.৫১৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩০৯-৩১০
৭. আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-মুজামুল ওয়াসীত, بضع مادة
৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২
📄 খ. الْقَرْضُ
الْقَرْضُ শব্দের আভিধানিক অর্থ : ما تعطيه غَيْرَكَ مِنَ الْمَالِ لتَتَقَاضَاهُ 'যা নিজের কিছু সম্পদ অপরকে তার প্রয়োজন পূরণের জন্যে দেওয়া।’ বাংলা ভাষায় একে কর্জ বা ঋণ দেওয়া বলে। এ শব্দ থেকেই বলা হয় : أَقْرَضَهُ الْمَالِ إِقْرَاضًا ও اقرض منى 'সে আমার নিকট কর্জ চাইলে আমি তাকে কর্জ দিলাম ও استقرَضَ منی 'সে আমার নিকট কর্জ চাইল’। اقرض 'সে কর্জ নিল বা ঋণ গ্রহণ করল।
পরিভাষায় الْقَرْض (কারয) হচ্ছে دَفْعُ مَالِ إِرْفَاقًا لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَرُدُّ بَدَلَهُ এমন কাউকে সেবা ও সহায়তা করতে সম্পদ দেওয়া যে এর দ্বারা উপকৃত হবে এবং পরে তার বদল ফিরিয়ে দেবে।১০
الْقَرْضَ ও الْمُضَارَبَةُ এ দুটোতে কিছু সাদৃশ্য এবং কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্য হচ্ছে, এ উভয়টিতে একে অপরকে সম্পদ প্রদান করে। বৈসাদৃশ্য হচ্ছে, মুদারাবাতে সম্পদটা গ্রহীতার হাতে থাকে আমানত হিসাবে এবং কর্জের মধ্যে তা থাকে জামানত হিসাবে।
টিকাঃ
৯. আল-মিসবাহুল মুনীর, আমীমুল ইহসান কৃত কাওয়াইদুল ফিকহ قرض مادة
১০. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩১২
📄 গ. الشَّرِكَةُ
عقد بين اثنين : أَوْ أَكْثَرَ لِلْقِيَامِ بِعَمَلٍ مُشْتَرَك : ‘কোনো সম্মিলিত ও যৌথ কাজে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণের চুক্তি।’ الشركة শব্দটি شرك ক্রিয়ার মাসদার বা মূলধাতু। বলা হয় : شَرِكُتُهُ فِي الْأَمْرِ أَشْرَكُهُ شَرْكًا وَشَرِكَةً 'আমি তাকে বিষয়টিতে অংশীদার করলাম।’১১
الشركة এর অর্থ الخلطة وثبوت الحصة : ‘সংযুক্ত হওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া।’১২ অথবা ثُبُوتُ الْحَقِّ فِي شَيْءٍ لَاثْنَيْنِ فَأَكْثَرَ عَلَى جِهَةِ السُّيُوعِ বিস্তৃতির সাথে কোনো বস্তুতে একাধিক ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া। الْمُضَارَبَةُ ও الشركة এ দুটোতে সম্পর্ক হচ্ছে, মুদারাবার তুলনায় শারিকা ব্যাপক।
টিকাঃ
১১. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-মুজামুল ওয়াসীত شرك- مادة আল-ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ১১
১২. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১১
📄 মুদারাবা শরীয়তসম্মত হওয়ার আলোচনা
মুদারাবা শরীয়তসম্মত ও জায়েয, ফকীহগণ এ কথায় একমত। তারা এটি বলেছেন শরীয়তের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ছাড় হিসাবে এবং বিভিন্ন দলিল প্রমাণের আলোকে।১৪ নতুবা স্বাভাবিক কিয়াস ও যুক্তির বিধান হচ্ছে, এটি নাজায়েয ও অবৈধ। কেননা, মুদারাবাতে যাকে পুঁজি দেওয়া হয় তাকে কার্যত কর্মী হিসাবে ব্যবসায়িক কাজে নিয়োজিত করা হয়। কিন্তু তাতে পারিশ্রমিক থাকে অজ্ঞাত ও অজানা। বরং কাজ হচ্ছে অজানা এবং পারিশ্রমিক বর্তমানে অস্তিত্বহীন।
তবে ফকীহগণ কিয়াস বাদ দিয়ে শরীয়তের ছাড় ও অনুমতি কাজে লাগিয়েছেন। মুদারাবাকে জায়েয ও বৈধ বলে আভিহিত করার সপক্ষে তাদের নিকট যে সকল দলিল রয়েছে সেগুলোকে তারা উত্তম বিবেচনা করেছেন। এ পর্যায়ে আল্লামা কাসানী বলেন, আমরা এ বিষয়টিতে কিয়াস বর্জন করেছি, মুদারাবার পক্ষে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থাকার দরুন। পবিত্র কুরআনের আয়াত হচ্ছে : وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ “তারা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে দেশে সফর করে।”১৫ মুদারাবা ব্যবসাকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ তালাশ করে দেশে দেশে সফর করে। অতএব তার এ ব্যবসাকার্য হবে বৈধ।
টিকাঃ
১৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৭৯; মাওয়াহিবুল জলীল, খ. ৫, পৃ. ৩৫৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২১৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৭
১৫. সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ২০