📄 মুদারাবা (مُضَارَبَةٌ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
শাব্দিক অর্থ : الْمُضَارَبَةُ (মুদারাবা) শব্দটি مُفَاعَلَةٌ ওযনে মাসদার বা মূলধাতু। তা ضَرَبَ فِي الْأَرْضِ থেকে গৃহীত; এর অর্থ : ঘুরে বেড়ানো, সফর করা, ভ্রমণ করা। এ অর্থে শব্দটি পবিত্র কুরআনেও ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ “একদল দেশে দেশে সফর করে।”১ যেহেতু মুদারাবা চুক্তির প্রেক্ষিতে একজনের পুঁজি নিয়ে অপরজন ব্যবসা উপলক্ষে দেশবিদেশ সফর করে তাই একে মুদারাবা বলে।
পারিভাষিক অর্থ : أَنْ تُعْطِيَ إِنْسَانًا مِنْ مَالِكَ مَا يَتَّجِرُ فِيهِ عَلَى أَنْ يَكُونَ الرِّبْحُ بَيْنَكُمَا ، أَوْ يَكُونَ لَهُ سَهْمٌ مَعْلُومٌ مِنَ الرِّبِّحِ 'একজনের পুঁজি অপরজনের হাতে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে দেওয়া, তাতে যা লাভ হবে তা সমহারে অথবা চুক্তিনামায় বিবৃত হারে বণ্টন করা হবে- এ ধরনের চুক্তিকে মুদারাবা বলে।’
ইরাক এলাকায় এ চুক্তিকে মুদারাবা বলা হলেও মক্কা-মদীনা এলাকায় বলা হয় মুকারাযা (مُقَارَضَة) বা কিরায (قراض)। প্রখ্যাত ভাষাবিদ যামাখশারী এ সম্পর্কে বলেছেন, মুকারাযা বা কিরায-এর মূল শব্দ الْقَرْض। যার অর্থ : পরিভ্রমণ করা, দেশভ্রমণ করা।
আলোচনাকালে হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ মুদারাবা শব্দটি ব্যবহার করেছেন; অপরদিকে মালেকী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ ব্যবহার করেছেন কিরায বা মুকারাযা শব্দ।
عقد شركة في الربح بمال من جانب ، وَعَمَلٍ من جانب : 'লাভ-ক্ষতির অংশীদারিভিত্তিক যৌথ ব্যবসা, যার পুঁজি এক পক্ষ থেকে এবং কাজ অপর পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়।’৪ অন্যান্য মাযহাবেও মুদারাবার সংজ্ঞা এর অনুরূপ।
টিকাঃ
১. সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ২০
২. লিসানুল আরব -ضرب مادة
৩. লিসানুল আরব, আল-কামূসুল মুহীত।
৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৭৯; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৬৮১; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১১৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৮
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 ক. الإِبْضَاعُ
শব্দটি أَبْضَعَ -এর মাসদার বা মূলধাতু, এর অর্থ : কোনো বস্তুকে পণ্য বানানো। বলা হয়, أَبْضَعَ الشَّيْء أَيْ جَعَلَهُ بِضَاعَةً 'সে বস্তুটিকে পণ্য ও বিক্রয়সামগ্রী করল।’ أَبْضَعْتُهُ غَيْرِي 'আমি তার জন্যে বিষয়টিকে পণ্য বানালাম।’ استبضعة 'আমি জিনিসটিকে পণ্য হিসাবে নিলাম।’৫
পরিভাষায় الإبْضَاعُ বলা হয়, নিছক স্বেচ্ছাসেবা হিসাবে ব্যবসা করবে এমন কাউকে পুঁজি যোগান দেওয়া।
الْإِبْضَاعُ ও الْمُضَارَبَةُ -এ দুটোতে কিছু সাদৃশ্য এবং কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এ দুটোতে সাদৃশ্য হচ্ছে, মুদারাবা ও ইবযা দুটোতেই পুঁজি যোগানদাতার নিকট থেকে পুঁজি নেওয়া হয়, পুঁজি গ্রহণকারী তা দিয়ে ব্যবসা করে। এ দুটোতে পার্থক্য হচ্ছে, মুদারাবা পদ্ধতিতে পুঁজি যোগানদাতা ও পুঁজিগ্রহণকারী উভয়ের মধ্যে লাভ-ক্ষতির অংশ আলোচনাসাপেক্ষে নির্ধারিত হয়, আর সে হিসাবেই উভয়ের মাঝে তা বণ্টিত হয়। কিন্তু ইবযাতে যে পুঁজি গ্রহণ করে সে নিছক সেবার মনোভাবে অপরের পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে, যা লাভ হয় তার পুরোটাই পুঁজিদাতাকে দিয়ে দেয়। নিজে তা থেকে কিছু রাখে না।
টিকাঃ
৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৩
৬. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ.৫১৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩০৯-৩১০
৭. আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-মুজামুল ওয়াসীত, بضع مادة
৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২
📄 খ. الْقَرْضُ
الْقَرْضُ শব্দের আভিধানিক অর্থ : ما تعطيه غَيْرَكَ مِنَ الْمَالِ لتَتَقَاضَاهُ 'যা নিজের কিছু সম্পদ অপরকে তার প্রয়োজন পূরণের জন্যে দেওয়া।’ বাংলা ভাষায় একে কর্জ বা ঋণ দেওয়া বলে। এ শব্দ থেকেই বলা হয় : أَقْرَضَهُ الْمَالِ إِقْرَاضًا ও اقرض منى 'সে আমার নিকট কর্জ চাইলে আমি তাকে কর্জ দিলাম ও استقرَضَ منی 'সে আমার নিকট কর্জ চাইল’। اقرض 'সে কর্জ নিল বা ঋণ গ্রহণ করল।
পরিভাষায় الْقَرْض (কারয) হচ্ছে دَفْعُ مَالِ إِرْفَاقًا لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَرُدُّ بَدَلَهُ এমন কাউকে সেবা ও সহায়তা করতে সম্পদ দেওয়া যে এর দ্বারা উপকৃত হবে এবং পরে তার বদল ফিরিয়ে দেবে।১০
الْقَرْضَ ও الْمُضَارَبَةُ এ দুটোতে কিছু সাদৃশ্য এবং কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্য হচ্ছে, এ উভয়টিতে একে অপরকে সম্পদ প্রদান করে। বৈসাদৃশ্য হচ্ছে, মুদারাবাতে সম্পদটা গ্রহীতার হাতে থাকে আমানত হিসাবে এবং কর্জের মধ্যে তা থাকে জামানত হিসাবে।
টিকাঃ
৯. আল-মিসবাহুল মুনীর, আমীমুল ইহসান কৃত কাওয়াইদুল ফিকহ قرض مادة
১০. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩১২