📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 বিশেষ কারণসমূহ

📄 বিশেষ কারণসমূহ


প্রথম : হানাফীদের মতে শারিকাতুল আমওয়াল-এ পুঁজি ধ্বংস হওয়া। উভয়ের সম্পদ নষ্ট হওয়া। শারিকার পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে হোক বা পরে, শারিকার আংশিক পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে একজনের সম্পদ নষ্ট হোক না কেন, বিধান অভিন্ন। যখন সম্পদের শ্রেণীভিন্নতাহেতু বা মিশ্রিত না থাকার কারণে একজনের সম্পদ অন্যজনের সম্পদ থেকে পৃথক হয় এসময় শুধু পুনরাবৃত্তির দ্বিতীয় দিক ধারণা করা যায়। থাকা অসম্ভব। যদি উভয়ের পুঁজি একজাতীয় হয় আর উভয়টিকে এক করা হয়, এরপর এই একত্র সম্পদ থেকে যা নষ্ট হবে তা উভয়ের সম্পদ থেকে নষ্ট হবে। যেহেতু এটা নিশ্চিত বলা যায় না, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ এই শরীকের; ঐ শরীকের নয়। যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে তা শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে।

পুঁজি ধ্বংস হওয়ার কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার মূল কারণ হলো, যখন শারিকার সমুদয় পুঁজি নষ্ট হয়ে যায় তখন চুক্তির নির্দিষ্ট ক্ষেত্র-ই নষ্ট হয়ে যায়। আর ক্ষেত্র বাতিল হওয়ার কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। যেমন পণ্য নষ্ট হলে বিক্রি বাতিল হয়ে যায়।

নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদ এক্ষেত্রে চুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র হয়। এর কারণ, মূল্যজাতীয় বস্তু যদিও বিনিময় চুক্তিসমূহে নির্দিষ্ট হয় না, নতুবা তা মূল্য হওয়ার গুণশূন্য হয়ে যায়। এবং সত্তাগত উদ্দিষ্ট পণ্য হয়ে যায়। তবে অন্য ক্ষেত্রে যেমন হেবা ও অসিয়্যতের মত এমন প্রতিটি চুক্তির ক্ষেত্রে, যেখানে পণ্যজাতীয় বস্তুর বিপরীতে কোনো বিনিময় থাকে না, সেক্ষেত্রে (নির্দিষ্ট করার কারণে) নির্দিষ্ট হয়। আর শেষোক্তটি শারিকার ধরন। ২৫৯

পণ্য কেনার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে যখন শারিকা বাতিল হয়ে যায়, তখন অবশিষ্ট সম্পদ তার মালিকের জন্য নির্দিষ্ট ও একক হয়ে যায়। এরপর অন্য শরীক সে সম্পদ দিয়ে যা কিনবে, তা তার একক মালিকানাধীন হবে। পুঁজি নষ্ট হয়ে যাওয়া শরীকের এতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। শারিকার পন্থায় নয়, যেহেতু জানা আছে যে, সেটি বাতিল। শারিকার আওতাধীন ওকালাতের পন্থায়ও নয়, যেহেতু শারিকা বাতিল হওয়ার অনুগামী হিসেবে সেটিও বাতিল। তবে যদি শারিকা ওকালাত শব্দ ছাড়া সম্পাদিত হয়ে থাকে। ২৬০ তাহলে অবশিষ্ট সম্পদের মালিক যা কিনবে ওকালাতের হুকুম হিসেবে তা যৌথ মালিকানাধীন হবে। কেননা স্পষ্টভাবে ওকালাত শারিকা বাতিল হওয়ার কারণে বাতিল হয় না। ২৬১ আর (ক্রেতা) শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার অংশের মূল্য উসুল করবে। তবে এক্ষেত্রে ওকালাত হবে যৌথ মালিকানা, যেহেতু তাদের মাঝে শারিকা চুক্তি নেই।

হাম্বলীদের মতে, কোনো শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়া নিঃশর্তভাবে শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে। অনুরূপভাবে নষ্ট না হওয়া অবশিষ্ট সম্পদও শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে। কেননা স্রেফ শারিকা চুক্তির মাধ্যমেই তারা উভয়ের সম্পদ একত্র হওয়ার মত দেন। তারা বলেন, সম্পদ এক শব্দে বন্টন হতে পারে, যেমন খারস (অনুমান করে বিক্রি)-র ক্ষেত্রে। সুতরাং এক শব্দ দ্বারা সম্পদ যৌথ হওয়ায় কোনো বাধা নেই, যেমন শারিকার ক্ষেত্রে যদি সম্পদ দ্বারা শারিকা হয়ে থাকে অর্ধেক লাভের হারে, তাহলে শুধু শারিকা চুক্তির দাবি হলো প্রত্যেক শরীকের অর্ধেক সম্পদে অপর শরীকের মালিকানা সাব্যস্ত হবে। ২৬২

নির্ভরযোগ্য বর্ণনামতে মালেকীগণ মাঝামাঝি একটি মত দিয়েছেন। তারা বলেন, উভয়ের সম্পদ এক করার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হলে, যদিও বিধানগত বিচারে শরীকদ্বয় সম্পদ এক করেছে, তা এককভাবে সম্পদের মালিকের দায় থেকে ধর্তব্য হবে। শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে না। তবে এরপরও শারিকা বহাল থাকবে। এমনকি অবশিষ্ট সম্পদ দ্বারা যা কেনা হবে তা শারিকার জন্য বলে সাব্যস্ত হবে। যে শরীকের সম্পদ নষ্ট হয়েছে তার নিজ মূল্যের অংশ পরিশোধ আবশ্যক হবে। তবে ক্রেতা শরীক যদি অপর শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানার পর কিনে থাকে, আর সম্পদ নষ্ট হওয়া শরীক সেটিকে শারিকার জন্য অনুমোদন না করে অথবা সে অনুমোদন করে তবে অন্য শরীক দাবি করে যে, সে বস্তুটি নিজের জন্য কিনেছে তাহলে বস্তুটি এককভাবে অবশিষ্ট সম্পদের মালিকের জন্য হবে। ২৬৩

এ ব্যাপারে শাফেয়ীদের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমি দেখিনি। তবে তাদের মতে, শারিকা সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদ এক করার শর্ত দাবি করে। একজনের সম্পদ বা উভয়ের সম্পদ নষ্ট হলে শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। ২৬৪

দ্বিতীয় : শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় সমতাবিধান ছুটে যাওয়া। ছুটে যাওয়া বিষয় শারিকার পুঁজিতে সমতা হোক বা নিয়ন্ত্রণের যোগ্যতার সমতা হোক, বিধান অভিন্ন। উল্লিখিত যে কোন কারণে যদি শারিকাতুল মুফাওয়াযা বাতিল হয়ে যায় তাহলে তা শারিকাতুল আনান-এ রূপান্তরিত হবে, যেহেতু শারিকাতুল আনান-এ সমতাবিধানের শর্ত নেই। এটি হানাফীদের মত। ২৬৫

তৃতীয় : সময়াবদ্ধ শারিকায় সময় ফুরিয়ে যাওয়া। ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, হানাফী ইমাম তাহাবী রহ. ছাড়া সকল ফকীহর মতে শারিকাকে সময়াবদ্ধ করা সহীহ।

টিকাঃ
২৫৯. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৫৪
২৬০. 'যেমন তারা বলল, আমরা এক হলাম এই মর্মে যে, আমাদের প্রত্যেকে যা কিনবে তা আমাদের মাঝে যৌথ হবে। রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪
২৬১. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩-৩৫৪
২৬২. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৮
২৬৩. ‘বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮
২৬৪. ‘নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ১০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২১৫
২৬৫. ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১১

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية