📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


ফাসিদ শারিকায় বিক্রেতা এক শরীকের কাছে যা বিক্রি করেছে তার মূল্য কিভাবে দাবি করবে, যদি এক শরীক অনুপস্থিত থাকে আর অপর শরীক উপস্থিত থাকে?

মালেকীগণ বলেন, এর তিনটি অবস্থা রয়েছে :
প্রথম অবস্থা : ফাসিদ শারিকার বিষয়টি বিক্রেতার জানা রয়েছে। তখন সে উপস্থিত শরীকের নিকট শুধু তার অংশের মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার পাবে।

দ্বিতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা চুক্তি সম্পর্কে জানে, তবে শারিকা যে ফাসিদ তা জানে না। তখন বিক্রেতা উপস্থিত শরীকের কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার রাখে, যদিও এমন হতে পারে যে, এই শরীক তার নিকট থেকে পণ্য কিনেনি।

তৃতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা সম্পর্কেই জানে না। এ অবস্থায় উপস্থিত শরীক খোদ যদি তার নিকট থেকে পণ্য কিনে থাকে তাহলে তার কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করবে। কেননা বিক্রেতা তার সাথে এ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি যে, সে অর্ধেক মূল্যের ক্ষেত্রে অন্যের উকিল। (আর বাকি অর্ধেকে সে মূল ব্যক্তি, সুতরাং বিক্রেতা তার কাছে পূর্ণ মূল্য দাবি করবে মূল ব্যক্তি হিসেবেই।) আর যদি উপস্থিত শরীক তার কাছ থেকে না কিনে থাকে, তাহলে বিক্রেতা এই শরীককে শুধু মূল্যে থাকা তার অংশ আদায়ের দাবি জানাবে। কেননা উপস্থিত শরীক তো শুধু সেই আংশিক মূল্যের পরিবর্ত পণ্যের মালিক।

এ মাসআলা এভাবেই তারা উল্লেখ করেছেন লাখামীর সূত্রে। তবে খিরাশী যা উল্লেখ করেছেন তাতে মতভিন্নতা রয়েছে। ইচ্ছে হলে দেখে নিন।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শারিকা শেষ হওয়ার কারণসমূহ

📄 শারিকা শেষ হওয়ার কারণসমূহ


أَسْبَابُ انتهاء الشركة : et ca Rata pie

সাধারণ কারণ : শারিকা শেষ হওয়ার সাধারণ কারণগুলো এমন, যেগুলো কোনো এক প্রকার বাদ দিয়ে অন্য প্রকার শারিকার সাথে বিশিষ্ট নয়। বরং সকল প্রকার শারিকায় এগুলোর প্রয়োগ হয়।

প্রথম : এক শরীকের চুক্তি বাতিল করা। শারিকা চুক্তি আবশ্যক না হওয়া সংক্রান্ত আলোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় : হানাফীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, এক শরীকের শারিকা চুক্তি অস্বীকার করা চুক্তি বাতিলের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং যদি কেউ অস্বীকার করে, তাহলে অস্বীকারকারী শরীকের জন্য শারিকার সম্পদে অপর শরীকের অংশে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমনিভাবে অপর শরীকের অস্বীকারের বিষয়টি জানার পর সে অস্বীকারকারীর অংশে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে গাসিব (জবরদখলকারী) এর ন্যায় তার ওপর ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। সে পাবে এর লাভ, বহন করবে এর ক্ষতি। কেননা সে মালিকের অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করেছে। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ রহ.-এর মতে লাভ ভোগ করা তার জন্য ভাল হবে না। তাই সে লাভ দান করে দেবে। ২৪২

শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, শরীকের ওকালাত বা প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করার মাধ্যমে শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। যদি অস্বীকারকরণ হয় ইচ্ছাকৃত এবং এ দ্বারা অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরণের ইচ্ছা না করা হয়, যেমন প্রচন্ড জালেমের হাত থেকে ওকালাতের সম্পদ রক্ষা করা। শাফেয়ীদের উক্ত মতের কারণ, শারিকা তাদের মত কেবল ওকালাত। এই মতে হাম্বলীদের মতভিন্নতা রয়েছে। ২৪৩

তৃতীয় : কোনো শরীকের পূর্ণ পাগল হওয়া। ২৪৪ হানাফীদের মতে পাগলামী একমাস বা পূর্ণ একবছর অব্যাহত না থাকলে তা পূর্ণ পাগলামী বলে ধর্তব্য হবে না। ২৪৫ তবে কতক হানাফীর এতে ভিন্নমত রয়েছে। সুতরাং পাগলামী শুরু হওয়ার পর উল্লিখিত সময় পর্যন্ত অব্যাহত না থাকলে শারিকা শেষ হবে না।

উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হবে। কারণ শারিকা ওকালাতনির্ভর। ওকালাত থেকে শারিকা মুক্ত হয় না। আর পূর্ণ পাগল অবস্থা ওকালাতের যোগ্যতা লুপ্ত করে দেওয়ার কারণে ওকালাত বাতিল হয়ে যায়। এক শরীকের শারিকা অস্বীকার সংক্রান্ত বিগত আলোচনা ২৪৬ পাগল শরীকের অংশে অন্য শরীকের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো সময়ের শর্ত ছাড়া উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার স্পষ্ট মত দিয়েছেন শাফেয়ীগণ ও হাম্বলীগণ। ২৪৭

চতুর্থ : এক শরীকের মারা যাওয়া। কারণ মৃত্যুর কারণে ওকালাত বাতিল হয়ে যায়। আর শারিকার অন্তর্ভুক্ত ওকালাত শারিকার সত্তাগত অংশ। শুরু করা বা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে শারিকা ওকালাতমুক্ত হতে পারে না। কারণ শারিকা শুরম্ন হওয়ার পর শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক শরীকের অপরের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত ও অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে মৃত্যুর কারণে শারিকা বাতিল হওয়া অপর শরীকের জানার ওপর নির্ভর করে না। যেহেতু এটি অনিচ্ছাকৃত বিধানগত অপসারণ, যার আগপিছ করা অসম্ভব। কারণ স্রেফ মৃত্যুর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পদের মালিকানা শরীয়ভাবে ওয়ারিছদের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। আর শরীয়ত যা নগদ কার্যকর করে তা স্থগিত করা সম্ভব নয়। ২৪৮

শুধু মৃত শরীকের বিবেচনায় শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং তার যদি একজন মাত্র শরীক থাকে, তাহলে আবশ্যকীয়ভাবে শারিকার কিছুই আর বহাল থাকবে না। তবে একাধিক শরীক থাকলে অন্য শরীকদের জীবদ্দশা পর্যন্ত শারিকা অবশিষ্ট থাকবে। ২৪৯

শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার বিষয় স্পষ্টভাবে বলেছেন। ২৫০

শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের স্থিরীকৃত মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসের সম্পদ বণ্টন করা এবং নতুন করে শারিকা শুরু করার- এ দুটির যে কোনটি করার এক্তিয়ার রয়েছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসের অভিভাবক অথবা পাগলামীর কারণে শারিকা শেষ হয়ে যাওয়া শরীকের অভিভাবকের জন্য আবশ্যক উল্লিখিত দুটি বিষয়ের মাঝে লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির জন্য অধিক উপকারী বিষয়টি গ্রহণ করা। তবে হ্যাঁ, যদি পরিত্যক্ত সম্পদে ঋণ থেকে থাকে অথবা অনির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য অসীয়ত থাকে তাহলে সেগুলো আদায় করার সাথে নতুন করে শারিকা শুরু করা ঝুলে থাকবে। পরিত্যাক্ত সম্পদের বহির্ভূত সম্পদ দ্বারা ঋণ বা অসীয়ত আদায় করা হোক না কেন, কেননা এ দুটি বিষয় পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে বন্ধকের ন্যায় ঝুলন্ত। আর বন্ধকের বস্তুতে শারিকা সহীহ হয় না।

নির্দিষ্ট কারো জন্য অসীয়ত করা হলে উল্লিখিত বিধানে সে ওয়ারিসের পর্যায়ভুক্ত। ওয়ারিসদের গণনার সময় তাকে একজন ওয়ারিসরূপে গণ্য করা হবে। শাফেয়ীদের মতে নতুন করে শারিকা করার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া যথেষ্ট; যদিও তাদের কতক কিতাবের বক্তব্যে বুঝে আসে, এই যথেষ্ট হওয়া সীমিত সেই শারিকার ক্ষেত্রে, যার পুঁজি হয় পণ্য। ২৫১

হানাফীদের মতে, মুরতাদ হয়ে দারুল হারবে কোনো শরীকের আশ্রয় নেওয়ার রায় দেওয়া হলে এর মাধ্যমেও শারিকা শেষ হয়ে যায়। কেননা এভাবে সে শরীফ দারুল হারবের অধিবাসীভুক্ত হয়ে যায়। আর হানাফীদের মতে উল্লিখিত রায় দেওয়া বিধানগত মৃত্যু হিসেবে গণ্য। বরং ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মত হলো, উল্লিখিত রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বিধানগত মৃত্যুর সূচনা মুরতাদ হওয়ার সময় থেকে। ২৫২ সুতরাং এই কারণে যদি শারিকা বাতিল হয়, এরপর শরীফ আবার মুসলমান হয়, তবু শারিকার বিবেচনায় তার সুযোগ নেই। কারণ শারিকা বাতিল হয়ে গেছে এবং বাতিল হওয়াই চূড়ান্ত।

উল্লিখিত রায় ছাড়া শরীক মুরতাদ হলে সে দারুল হারবে আশ্রয় নিক বা না নিক, তার মুরতাদ হওয়ার ভিত্তিতে শারিকা স্থগিত থাকবে। এমনকি মুরতাদ শরীফ যদি মুসলমান হয়ে ফিরে আসে তাহলে পূর্ব লেনদেন অবস্থা পুনরায় বহাল হবে। আর যদি মুরতাদ অবস্থায় যে মারা যায় বা নিহত হয় তাহলে মুরতাদ হওয়ার সময় থেকে শারিকা বাতিল হওয়া প্রতীয়মান হবে। ২৫৩

ছয় : চুক্তির শর্তের অন্যথা করা : যেমন শরীক শারিকায় নির্ধারিত জায়গার সীমা অতিক্রম করল। ২৫৪ তবে এক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল হবে বিরুদ্ধাচরণের পরিমাণ অনুযায়ী, আংশিক বা পরিপূর্ণ। পূর্ণ বিরুদ্ধাচরণের নমুনা হলো : এক শরীক অন্যকে পণ্য নিয়ে বের হতে নিষেধ করল। এরপরও সে শরীক পণ্য নিয়ে বের হলো। আংশিক বিরুদ্ধাচরণের নমুনা হলো : এক শরীকের বাকিতে বিক্রি করা আর অপর শরীকের তা অনুমোদন না করা। এক্ষেত্রে অন্য শরীকের অংশে বিক্রি বাতিল হবে, আর বিক্রেতা-শরীকের অংশে বিক্রি কার্যকর হবে। তখন কার্যকর হওয়া অংশে শারিকা বাতিল হবে।

মালেকীগণ কেবল চুক্তির শর্ত নয়, বরং চুক্তির স্বভাবের বিরুদ্ধাচরণ করার ভিত্তিতে কোনো বিধানের মত দেন না। তবে যে অংশে বিরোধিতা হয়েছে অন্য শরীককে সে অংশে হস্তক্ষেপ রদ করার অধিকার প্রদান এবং বিরোধিতার কারণে সম্পদ নষ্ট হলে বিরোধিতাকারী শরীককে জরিমানা আদায়ের মত দেন।

শারিকাতুল আনান-এর শরীক এককভাবে হস্তক্ষেপ করার আলোচনায় তারা এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। উল্লিখিত বিধানের কারণ, এক শারিকা এক শরীককে জানানো ছাড়া অন্য শরীকের একক শারিকায় হস্তক্ষেপ না করা দাবি করে। ২৫৫ অনুরূপ হানাফীদের মত। এক শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য শরীকের বাকিতে বিক্রি করার কার্যক্রম সম্পর্কে শাফেয়ীদের আলোচনায় ও ২৫৬ এটি বুঝে আসে। তাদের মতে, এটি শারিকা চুক্তির ধরন দ্বারা সমর্থিত, বাকিতে বিক্রির অধিকার নয়। ২৫৭

সপ্তম : শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ শারিকা বাতিল করে এমন বিষয়ের মধ্যে এটিও উল্লেখ করেন, নির্বুদ্ধিতার কারণে কোনো এক শরীকের হঠাৎ লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়া। শাফেয়ীগণ দেউলিয়া হওয়ার কারণে লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়াকেও শারিকা বাতিল করার কারণ গণ্য করেন। তবে দেউলিয়া হওয়া শুধু দেউলিয়া সম্পর্কিত অংশে শারিকা বাতিল করে। অর্থাৎ দেউলিয়া হওয়া শরীকের লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার পর এমন কোনো হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে না। লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়া শরীককে সে হস্তক্ষেপ প্রয়োগের যোগ্যতাশূন্য করেছে। শাফেয়ীদের একটি মূলনীতি হলো, দেউলিয়া হওয়া ব্যক্তির জিম্মায় আবশ্যক হওয়া বিক্রি ও ক্রয় কার্যকর হয়।

নির্বোধ ব্যক্তির (নির্বুদ্ধিতার কারণে যার লেনদেন নিষিদ্ধ) কোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৈধ নয়। তবে অসীয়ত ও তাদবীরের (মৃত্যুকালে দাসদাসীকে মুক্তিদানের প্রতিশ্রুতি) ক্ষেত্রে বৈধ। সুতরাং যদি নিঃস্ব শরীক বা তার শরীক শারিকার কোনো সম্পদ বিক্রি করে, তাহলে অনিঃস্ব শরীকের অংশে বিক্রি কার্যকর হবে। আর যদি নিঃস্ব ব্যক্তি নিজ দায়ে শারিকার জন্য কিনে তাহলে তাদের মতে এটি শারিকায় কার্যকর হবে। ২৫৮

টিকাঃ
২৪২. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৪; রদ্দুল মুহতার, পৃ. ৩৫৭-৩৬২
২৪৩. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৪, ২৩৩; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৫৮
২৪৪. 'শব্দটির উচ্চারণ فطبقا সবাই বলে فطبقا এভাবে বললে শব্দটি সহীহ হওয়ার একটি দিক রয়েছে। তবে তা বর্ণিত নয়, আল মিসবাহুল মুনীর-এ এমনটি আছে।
২৪৫. 'প্রথম মত আবু ইউসুফ রহ.-এর, দ্বিতীয়টি ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর। দুটি মতের একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া মতভেদপূর্ণ বিষয়। অগ্রাধিকার দেয়ার কারণসহ দেখুন, বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৩৮; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ২৩৭
২৪৬. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬২
২৪৭. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৩
২৪৮. 'ফাতহুল কাদীর, খ, ৫, পৃ. ৩৪
২৪৯. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৫০. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৩
২৫১. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
২৫২. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১১২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩০৯
২৫৩. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৪; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৫৪. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৭
২৫৫. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১
২৫৬. 'আর ইজাযাতের ব্যাপারে তাদের অবস্থান তো প্রসিদ্ধ।
২৫৭. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৯
২৫৮. 'আর-রশীদ আলা নিহায়াতিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বিশেষ কারণসমূহ

📄 বিশেষ কারণসমূহ


প্রথম : হানাফীদের মতে শারিকাতুল আমওয়াল-এ পুঁজি ধ্বংস হওয়া। উভয়ের সম্পদ নষ্ট হওয়া। শারিকার পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে হোক বা পরে, শারিকার আংশিক পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে একজনের সম্পদ নষ্ট হোক না কেন, বিধান অভিন্ন। যখন সম্পদের শ্রেণীভিন্নতাহেতু বা মিশ্রিত না থাকার কারণে একজনের সম্পদ অন্যজনের সম্পদ থেকে পৃথক হয় এসময় শুধু পুনরাবৃত্তির দ্বিতীয় দিক ধারণা করা যায়। থাকা অসম্ভব। যদি উভয়ের পুঁজি একজাতীয় হয় আর উভয়টিকে এক করা হয়, এরপর এই একত্র সম্পদ থেকে যা নষ্ট হবে তা উভয়ের সম্পদ থেকে নষ্ট হবে। যেহেতু এটা নিশ্চিত বলা যায় না, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ এই শরীকের; ঐ শরীকের নয়। যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে তা শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে।

পুঁজি ধ্বংস হওয়ার কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার মূল কারণ হলো, যখন শারিকার সমুদয় পুঁজি নষ্ট হয়ে যায় তখন চুক্তির নির্দিষ্ট ক্ষেত্র-ই নষ্ট হয়ে যায়। আর ক্ষেত্র বাতিল হওয়ার কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। যেমন পণ্য নষ্ট হলে বিক্রি বাতিল হয়ে যায়।

নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদ এক্ষেত্রে চুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র হয়। এর কারণ, মূল্যজাতীয় বস্তু যদিও বিনিময় চুক্তিসমূহে নির্দিষ্ট হয় না, নতুবা তা মূল্য হওয়ার গুণশূন্য হয়ে যায়। এবং সত্তাগত উদ্দিষ্ট পণ্য হয়ে যায়। তবে অন্য ক্ষেত্রে যেমন হেবা ও অসিয়্যতের মত এমন প্রতিটি চুক্তির ক্ষেত্রে, যেখানে পণ্যজাতীয় বস্তুর বিপরীতে কোনো বিনিময় থাকে না, সেক্ষেত্রে (নির্দিষ্ট করার কারণে) নির্দিষ্ট হয়। আর শেষোক্তটি শারিকার ধরন। ২৫৯

পণ্য কেনার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে যখন শারিকা বাতিল হয়ে যায়, তখন অবশিষ্ট সম্পদ তার মালিকের জন্য নির্দিষ্ট ও একক হয়ে যায়। এরপর অন্য শরীক সে সম্পদ দিয়ে যা কিনবে, তা তার একক মালিকানাধীন হবে। পুঁজি নষ্ট হয়ে যাওয়া শরীকের এতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। শারিকার পন্থায় নয়, যেহেতু জানা আছে যে, সেটি বাতিল। শারিকার আওতাধীন ওকালাতের পন্থায়ও নয়, যেহেতু শারিকা বাতিল হওয়ার অনুগামী হিসেবে সেটিও বাতিল। তবে যদি শারিকা ওকালাত শব্দ ছাড়া সম্পাদিত হয়ে থাকে। ২৬০ তাহলে অবশিষ্ট সম্পদের মালিক যা কিনবে ওকালাতের হুকুম হিসেবে তা যৌথ মালিকানাধীন হবে। কেননা স্পষ্টভাবে ওকালাত শারিকা বাতিল হওয়ার কারণে বাতিল হয় না। ২৬১ আর (ক্রেতা) শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার অংশের মূল্য উসুল করবে। তবে এক্ষেত্রে ওকালাত হবে যৌথ মালিকানা, যেহেতু তাদের মাঝে শারিকা চুক্তি নেই।

হাম্বলীদের মতে, কোনো শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়া নিঃশর্তভাবে শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে। অনুরূপভাবে নষ্ট না হওয়া অবশিষ্ট সম্পদও শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে। কেননা স্রেফ শারিকা চুক্তির মাধ্যমেই তারা উভয়ের সম্পদ একত্র হওয়ার মত দেন। তারা বলেন, সম্পদ এক শব্দে বন্টন হতে পারে, যেমন খারস (অনুমান করে বিক্রি)-র ক্ষেত্রে। সুতরাং এক শব্দ দ্বারা সম্পদ যৌথ হওয়ায় কোনো বাধা নেই, যেমন শারিকার ক্ষেত্রে যদি সম্পদ দ্বারা শারিকা হয়ে থাকে অর্ধেক লাভের হারে, তাহলে শুধু শারিকা চুক্তির দাবি হলো প্রত্যেক শরীকের অর্ধেক সম্পদে অপর শরীকের মালিকানা সাব্যস্ত হবে। ২৬২

নির্ভরযোগ্য বর্ণনামতে মালেকীগণ মাঝামাঝি একটি মত দিয়েছেন। তারা বলেন, উভয়ের সম্পদ এক করার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হলে, যদিও বিধানগত বিচারে শরীকদ্বয় সম্পদ এক করেছে, তা এককভাবে সম্পদের মালিকের দায় থেকে ধর্তব্য হবে। শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে না। তবে এরপরও শারিকা বহাল থাকবে। এমনকি অবশিষ্ট সম্পদ দ্বারা যা কেনা হবে তা শারিকার জন্য বলে সাব্যস্ত হবে। যে শরীকের সম্পদ নষ্ট হয়েছে তার নিজ মূল্যের অংশ পরিশোধ আবশ্যক হবে। তবে ক্রেতা শরীক যদি অপর শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানার পর কিনে থাকে, আর সম্পদ নষ্ট হওয়া শরীক সেটিকে শারিকার জন্য অনুমোদন না করে অথবা সে অনুমোদন করে তবে অন্য শরীক দাবি করে যে, সে বস্তুটি নিজের জন্য কিনেছে তাহলে বস্তুটি এককভাবে অবশিষ্ট সম্পদের মালিকের জন্য হবে। ২৬৩

এ ব্যাপারে শাফেয়ীদের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমি দেখিনি। তবে তাদের মতে, শারিকা সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদ এক করার শর্ত দাবি করে। একজনের সম্পদ বা উভয়ের সম্পদ নষ্ট হলে শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। ২৬৪

দ্বিতীয় : শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় সমতাবিধান ছুটে যাওয়া। ছুটে যাওয়া বিষয় শারিকার পুঁজিতে সমতা হোক বা নিয়ন্ত্রণের যোগ্যতার সমতা হোক, বিধান অভিন্ন। উল্লিখিত যে কোন কারণে যদি শারিকাতুল মুফাওয়াযা বাতিল হয়ে যায় তাহলে তা শারিকাতুল আনান-এ রূপান্তরিত হবে, যেহেতু শারিকাতুল আনান-এ সমতাবিধানের শর্ত নেই। এটি হানাফীদের মত। ২৬৫

তৃতীয় : সময়াবদ্ধ শারিকায় সময় ফুরিয়ে যাওয়া। ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, হানাফী ইমাম তাহাবী রহ. ছাড়া সকল ফকীহর মতে শারিকাকে সময়াবদ্ধ করা সহীহ।

টিকাঃ
২৫৯. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৫৪
২৬০. 'যেমন তারা বলল, আমরা এক হলাম এই মর্মে যে, আমাদের প্রত্যেকে যা কিনবে তা আমাদের মাঝে যৌথ হবে। রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪
২৬১. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩-৩৫৪
২৬২. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৮
২৬৩. ‘বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮
২৬৪. ‘নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ১০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২১৫
২৬৫. ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00