📄 ফাসিদ শারিকার বিধানবলি
أَحْكَ مُ الشَّركة الْفَاسِدَة
প্রথম : বিশুদ্ধ শারিকা দ্বারা যে উপকার অর্জিত হয় ফাসিদ শারিকা দ্বারা তা হয় না। এটি হানাফীদের স্থিরীকৃত মত। শারিকা যেহেতু শাফেয়ীদের নিকট স্বতন্ত্র চুক্তি নয়, বরং অন্যান্য ওকালাতের ন্যায় একটি ওকালাত, তাই তারা বলেন, ফাসিদ শারিকার শরীকের যাবতীয় কার্যক্রম অনুমতি থাকার কারণে কার্যকর হবে। হাম্বলীদের মতও অনুরূপ। ২২১
দ্বিতীয় : হানাফীদের মতে, যে শারিকায় সম্পদ রয়েছে তা এককভাবে শ্রমদানকারী শরীকের মালিকানাধীন হবে। সাধারণ মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের শারিকা চুক্তির ক্ষেত্রে যখন এক শরীক সে বস্তু গ্রহণ করবে আর অপরজন তাকে সহযোগিতার কোনো চেষ্টা করবে না, সেক্ষেত্রে বস্তুটি যে নিয়েছে তার হবে। কারণ মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কারণ সে সরাসরি সম্পাদন করেছে। তার শরীকের এতে কোনো অংশ নেই। যদি উভয়ে একসাথে নেয়, তাহলে উভয়ের মাঝে অর্ধেক হারে বণ্টিত হবে। কেননা উভয়ে মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অংশগ্রহণ করেছে।
সুতরাং তারা উভয়ে যদি তা বিক্রি করে, বিভিন্ন মূল্যমানধারী বস্তুর ক্ষেত্রে মূল্যের বিবেচনা করে, যেমন কাঠ ও ঘাস এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বস্তু বিদ্যমান জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সদৃশ বস্তুর বিবেচনা করে, যেমন পাত্রের পরিমাপে পানি এবং ওজন করে খনিজ দ্রব্য, আর উভয়ের মালিকানার হার তো জানা রয়েছেই, তাহলে বস্তুর মূল্য উভয়ের মাঝে উল্লিখিত হারে বণ্টন হবে। আর যদি আনুপাতিক হার মনে না থাকে, তাহলে অর্ধেক মূল্যের ক্ষেত্রে উভয়ের দাবিকে সত্যায়ন করা হবে। কেননা এক্ষেত্রে দাবি বাহ্য অবস্থার বিপরীত নয়। যেহেতু তারা দুইজন একইসাথে তা অর্জন করেছে এবং তাতে তাদের কর্তৃত্ব বহাল রয়েছে। সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থা এটাই যে, বস্তুর মালিকানায় তারা সমপর্যায়ের। বস্তুর অর্ধেকের বেশি অংশে এক শরীকের দাবি প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা হবে না, যেহেতু এক্ষেত্রে তার দাবি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত।
যদি এক শরীক মুবাহ বস্তু গ্রহণ করে, আর অপরজন তাকে এ পরিমাণ সাহায্য করে, যা গ্রহণ বলে বিবেচিত নয়, সে সাহায্য কাজ হোক বা অন্যকিছু, যেমন একজন বস্তুটি উপড়ে তুলে দিল আর অপরজন বস্তু জমা করেছে অথবা একজন বস্তুটি উপড়ে তুলল, জমা করল ও বাঁধল, আর অপরজন তা বহন করল। অথবা একজন পানি সংগ্রহ করল আর অপরজন পানি বহন করার জন্য মশক, পাত্র, গাধা বা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে এলো- এ সকল অবস্থায় যে বস্তুটি নেবে তারই মালিকানাধীন হবে। আর যে সাহায্য করেছে তাকে এই ব্যক্তি আমাদের উল্লিখিত মতানুসারে তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক অথবা তার অনুরূপ যন্ত্রের পারিশ্রমিক, সে পারিশ্রমিক যত হোক না কেন, দেওয়া আবশ্যক হবে।। এর কারণ, প্রথম ব্যক্তি ফাসিদ চুক্তি দিয়ে তার উপকার উসুল করেছে। (তাই এক্ষেত্রে ফাসিদ শারিকার বিধানাবলি প্রয়োগ হবে।) ২২২
মালেকী ও শাফেয়ীগণ এককভাবে একজনের শ্রমদানের ক্ষেত্রে হানাফীদের সাথে অভিন্ন মতপোষণ করেন। তবে উভয় শরীকের পক্ষ থেকে কাজটি হলে তারা তিনটি অবস্থায় ভাগ করেন : ১. উভয়ের কাজ পরস্পর ভিন্ন হওয়া। তখন প্রত্যেকে নিজ উপার্জন লাভ করবে; ২. উভয় কাজ মিশ্রিত হওয়া। তবে এভাবে মিশ্রিত হওয়া যে, একের কাজ অপরের দিকে সম্বন্ধ হয়ে বিভ্রাট হবে না। সেক্ষেত্রে উপার্জন উলিস্নখিত অনুপাতে বণ্টিত হবে; ৩. কাজ দুটি এমনভাবে মিশে যাওয়া যে, দুটির সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে তারা হানাফীদের সাথে ভিন্নমত করেন। এ অবস্থায় তাদের মতে দুটি সম্ভাব্য অবস্থা রয়েছে। প্রথম সম্ভাবনা : উভয়ে সমান উপার্জন ভোগ করা। কেননা এটি মূল অবস্থা; মালেকীদের বাহ্যিক বক্তব্য এটিই। দ্বিতীয় সম্ভাবনা : উভয়কে আপোষ রফার জন্য ছেড়ে দেওয়া। এখানে একটি ভিন্নমতের ক্ষেত্র রয়েছে।
মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের জন্য শারিকা চুক্তির আওতায় এক শরীক এককভাবে যে মুবাহ বিষয়াদি অর্জন করে সে বিষয়গুলো তার ও অপর শরীকের মাঝে বণ্টিত হবে, যতক্ষণ ধরে নেওয়া হবে যে, উভয়ের মাঝে বণ্টনের নিয়তে সে বস্তুটি তারা অর্জন করেছে। কারণ মুবাহ বস্তু অর্জনে স্থলবর্তী বানানো সহীহ। এটি মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের মত। ২২৩
হাম্বলীদের মতে, উভয় শরীকের কাজ করার অবস্থায় লাভ উভয়ের মাঝে সমানহারে বণ্টিত হবে। কেননা লাভের হকদার হওয়ার কারণ হচ্ছে শ্রমদান যৌথ। এরপর প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার জন্য করা নিজ শ্রমের পারিশ্রমিক উসুল করবে। অর্থাৎ দুইজনের চুক্তি হলে প্রত্যেকে নিজ কাজের পারিশ্রমিকের অর্ধেক, আর তিনজনের চুক্তি হলে তার কাজের পারিশ্রমিকের এক তৃতীয়াংশ, এবং চারজনের চুক্তি হলে কাজের পারিশ্রমিকের এক চতুর্থাংশ, এভাবে যতজনের চুক্তি তত অংশ হিসেবে নিজ পারিশ্রমিকের অংশ উসুল করবে। তবে হাম্বলী ফকীহ আবু জাফর রহ. শারিকাতুল আমওয়াল-এর ক্ষেত্রে সহীহ শারিকা ও ফাসিদ শারিকা-র লাভ বণ্টনে সমতাবিধানের মত দেন। সুতরাং উভয় শরীক যদি শর্ত করে তাহলে লাভ উভয়ের শর্ত হিসেবে বণ্টিত হবে।
কেননা (লাভের পরিমাণ) অজানা থাকা সত্ত্বেও শারিকা চুক্তি সহীহ। সুতরাং ফাসিদ শারিকায় নির্ধারিত লাভ সাব্যস্ত হবে, যেমন নিকাহ ফাসিদ হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত মহর সাব্যস্ত হয়। ২২৪
মালেকী ও শাফেয়ীদের মতে শারিকাতুল ওজুহ পুঁজিশূন্য ফাসিদ শারিকার শ্রেণীভুক্ত। তাদের মতে এই শারিকার তিনটি অবস্থা রয়েছে :
প্রথম অবস্থা : দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এই মর্মে এক হলো যে, একজন নিজ দায়ে আবশ্যক ঋণের বিনিময়ে যা কিনবে অপরজন সে বস্তুতে তার শরীক হবে। আর লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে। কতক মালেকী ফকীহ এটিকে শারিকাতুয যিমাম (شركة الذمم) নামে পৃথক করেন। ২২৫
শাফেয়ীদের মতে এক্ষেত্রে প্রত্যেক শরীক যা কিনবে তা এককভাবে তার জন্য হবে। এর লাভ ক্ষতি উভয়টি সে ভোগ করবে। ২২৬ এর অর্থ হলো, উভয়ে একসাথে যা কিনবে শুধু তা চুক্তিতে কৃত শর্তানুযায়ী উভয়ের যৌথ মালিকানাধীন হবে।
কিন্তু মালেকীগণ বলেন, শারিকা ফাসিদ হওয়া সত্ত্বেও তারা যে বস্তু একসাথে কিনবে আর যে বস্তু একজন কিনবে, উভয়টি তাদের নির্ধারণকৃত শর্ত অনুযায়ী যৌথ মালিকানাধীন হবে। ২২৭
লক্ষণীয়, উল্লিখিত অবস্থায় মালেকী ও শাফেয়ীগণ উভয়ে কেনার ক্ষেত্রে একে অপরকে ওকীল না বানানোর ভিত্তিতে আলোচনা করেছেন। যদি একে অপরকে ওকীল বানানো হয়ে থাকে, তাহলে মুতাআখখির শাফেয়ী ফকীহদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, এই শারিকা যথার্থ শারিকাতুল আনান হবে; পুঁজির পরিমাণ না জানা থাকলে উভয়ের মাঝে লাভের হার উল্লেখ করার শর্তে। এমন হলে যে শরীক কেনার দায়িত্বমুক্ত, এককভাবে তার ওপর আবশ্যক মূল্য তার দেনা হিসেবে থাকবে। ২২৮
নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে উভয়ের শারিকানার জন্য নির্দিষ্ট বস্তু কেনার অনুমতি দেওয়া বা ওকীল বানানো সহীহ। সকলের মতে এটি যৌথ মালিকানা অপরিহার্য করে, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। যেমন যদি তারা উভয়ে নিজের ওপর আবশ্যক ঋণের বিনিময়ে একসাথে সে বস্তু কিনতো তাহলে যেমন যৌথ মালিকানা সাব্যস্ত হতো অনুরূপ এক্ষেত্রে যৌথ মালিকানা সাব্যস্ত হবে।
মালেকীগণ ও কতক শাফেয়ী ফকীহ বলেন, বিক্রেতা প্রত্যেক শরীকের কাছে শুধু তার অংশের মূল্য দাবি করবে, যদি এক শরীকের পক্ষে অপর শরীকের যামানের শর্ত না করা হয়। শাফেয়ীদের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে ওকীল এক্ষেত্রে কাফীলের স্থলবর্তী। ২২৯
দ্বিতীয় অবস্থা : একজন প্রখ্যাত ও একজন অখ্যাত ব্যক্তি শারিকা চুক্তিবদ্ধ হলো এই মর্মে যে, প্রখ্যাত ব্যক্তি কিনবে আর অখ্যাত ব্যক্তি বিক্রি করবে। এই শারিকায় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি যা কিনবে তা এককভাবে তার মালিকানাধীন হবে। আর অখ্যাত ব্যক্তি হবে ফাসিদ জিআলা (পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করা)-র শ্রমদাতার ন্যায়, যেহেতু শ্রমের বিনিময় অজ্ঞাত। তাই সে প্রখ্যাত ব্যক্তির নিকট তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিকের হকদার হবে। যেমনটা শাফেয়ীদের স্থিরীকৃত মত। ২৩০
মালেকীদের বক্তব্যে প্রথম অবস্থা থেকে এ অবস্থার বিধানে কোনো পরিবর্তন নেই। তবে স্পষ্টভাবে তারা উল্লেখ করেছেন, প্রত্যেক শরীক অপরের পক্ষ থেকে কৃত শ্রমের পারিশ্রমিক আদায় করবে। এ মতে তাদের কতক ভিন্নমত করেছেন এবং এই শারিকা সহীহ হওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছেন।
তৃতীয় অবস্থা : অখ্যাত ব্যক্তির সম্পদে প্রখ্যাত ব্যক্তি শ্রমদান করবে, অখ্যাত ব্যক্তি সম্পদ তার কাছে অর্পণ করা ছাড়াই। অথবা (এভাবে বলা যায়) প্রখ্যাত ব্যক্তির দায়িত্ব শুধু অখ্যাত ব্যক্তির সম্পদ বিক্রি করা, যদিও সে তার কাছে সম্পদ অর্পণ করে।
শাফেয়ীগণ উল্লেখ করেছেন, এই শারিকা উভয় অবস্থাতেই ফাসিদ মুদারাবা হবে। হয়তো পুঁজি নগদ না হওয়ার কারণে অথবা পুঁজি মুদারাবার শ্রমিকের হাতে অর্পণ না করার কারণে। তাই মুদারাবার শ্রমিকের প্রাপ্য হবে শুধু তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক, অন্যকিছু নয়। ২৩১
মালেকীগণ প্রথম অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেননি। দ্বিতীয় অবস্থায় তারা শাফেয়ীদের সাথে একমত, শ্রমিক তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক পাবে। তারা এটিকে জুঅল (جعل) নামে অভিহিত করেছেন। তারা যোগ করেছেন, প্রতারণা থাকায় ক্রেতার ইচ্ছাধিকার থাকবে, যদি পণ্য অবশিষ্ট থাকে। অন্যথায় তার অধিকার রয়েছে পণ্যের বাজারমূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটি গ্রহণ করার। ২৩২
তৃতীয় : যে শারিকার পুঁজি হবে এক শরীকের পক্ষ থেকে, আর যে কোনো কারণে শারিকা ফাসিদ হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে কর্তৃত্ব থাকবে পুঁজিদাতা শরীকের আর অপর শরীক পাবে তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। এটি হানাফীদের মত কেননা কর্তৃত্ব মালিকানার বর্ধিত ফল। যেমন অনুরূপ মত তারা দিয়েছেন ফাসিদ মুযারাআ চুক্তিতে, সেক্ষেত্রে ফসল বীজদাতার জন্য হবে।
কিছু ঘর, ঘোড়ার গাড়ি বা কিছু গবাদিপশুর মালিক কোনো ব্যক্তি যদি অপরকে ভাড়ায় খাটানোর জন্য সেগুলো দেয় এই শর্তে যে, ভাড়া উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে, তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তি পাবে শুধু তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে মালিকের।
যেমন যদি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে ইচ্ছুক কোনো ব্যক্তির ঘোড়ার গাড়ি বা গবাদিপশুর প্রয়োজন হয়, যেটি তার পণ্য স্থানান্তর করবে, সেক্ষেত্রে ঘোড়ার গাড়ি বা পশুর মালিক যদি স্রেফ এই শর্তে বাহন দিতে রাজি হয় যে, অর্ধেক লাভ সে পাবে তাহলে এই শর্ত বাতিল হবে আর শারিকা-চুক্তি ফাসিদ হবে। সমুদয় লাভ পাবে পণ্য মালিক। কেননা লাভ তার মালিকানা বস্তুর বর্ধিত ফল। ঘোড়ার গাড়ি বা পশুর মালিক পাবে শুধু অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। যেহেতু সে ফাসিদ চুক্তিতে এর মুনাফা উসুল করেছে। ২৩৩
হানাফী ছাড়া অন্যদের মত, অনুরূপ লাভ হবে পুঁজির অনুগামী। ২৩৪ এ কারণে শাফেয়ীগণ বলেন, যদি তিনজন যৌথচুক্তিতে আবদ্ধ হয়, একজন সম্পদ দিয়ে, অন্যজন এই সম্পদ দিয়ে পণ্য কেনার মাধ্যমে আর তৃতীয়জন এই পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে, এই শর্তে যে, লাভ বণ্টন হবে তাদের মাঝে; তাহলে লাভ পাবে সম্পদের মালিক। অন্য দুই শরীক পাবে শুধু নিজ শ্রমের প্রচলিত পারিশ্রমিক। ২৩৫
চতুর্থ : ফকীহদের ঐকমত্যে যদি উভয় শরীকের পক্ষ থেকে পুঁজি দেওয়া হয় তাহলে এই পুঁজির ক্ষেত্রে প্রদত্ত অংশ অনুযায়ী উভয়ের কর্তৃত্ব থাকবে। যেমন শারিকাতুল আমওয়াল-এ লাভের ক্ষেত্রে উভয় শরীকের প্রত্যেকের অংশ যদি অজানা থাকে (তাহলে পুঁজিতে প্রদেয় পরিমাণ অনুসারে লাভ বণ্টিত হয়।) যেমন এক ব্যক্তির মালবাহী গাড়ি আছে, আর অপরের আছে আরোহণের গাড়ি। এরপর তারা শারিকা চুক্তিবদ্ধ হলো যে, প্রত্যেকে নিজের ও অপরের মালিকানার অংশ ভাড়া দেবে আর অর্জিত লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে সমানহারে অথবা নির্দিষ্ট অনুপাতে, তাহলে এই শারিকা ফাসিদ হবে। কারণ এই শারিকার সারকথা হলো, প্রত্যেক শরীক অপরকে বলল, তুমি তোমার মালিকানাধীন ঐ বস্তুর মুনাফা এবং আমার মালিকানাধীন এই বস্তুর মুনাফা বিক্রি করো এই শর্তে যে, এটি ও ঐটির মূল্য আমাদের মাঝে এত হারে বণ্টন হবে। এমন চুক্তি তো স্রেফ কোনো শ্রম বা সামান ছাড়া অন্যের সম্পদ দ্বারা লাভ অর্জন করা মাত্র। অথচ পুঁজি, শ্রম বা সামান ছাড়া লাভ অর্জন করা যায় না।
তবে এই ফাসিদ শারিকাকে যদি বাস্তবায়নের অর্থে গ্রহণ করা হয়, উভয়ে যদি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া দেয়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ মালিকানা বস্তুর ভাড়া পাবে। আর যদি এক চুক্তির অধীনে প্রত্যেকে নিজ নিজ গাড়ি ভাড়া দেয় নির্দিষ্ট শ্রমক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, তাহলে এটি হবে সঠিক ইজারা চুক্তি। অর্জিত লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে, প্রত্যেকের মালিকানাধীন বস্তুর অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে। যেভাবে পৃথক দুটি বিক্রিত বস্তুর ক্ষেত্রে বাজারদর হিসেবে মূল্য ভাগ করা হয় সেভাবে। ২৩৬ লাভ উভয়ের শর্ত অনুযায়ী বণ্টিত হবে না। এর কারণ, ফাসিদ শারিকার অন্তর্নিহিত শর্ত অর্থহীন শর্ত, এই শর্তের কোনো বিবেচনা করা হবে না। ২৩৭
এই বিধান যেটিকে এই প্রকার শারিকা (অর্থাৎ যেখানে পুঁজি উভয় শরীকের হয়) ব্যাপক মূলনীতিরূপে গ্রহণ করেছে তা অধিকাংশ আহলে ইলমের মত। এ বিধানে ঐকমত্য পোষণ করেছেন মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ। তারা বলেন, প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের পক্ষ থেকে কৃত শ্রমের অনুরূপ পারিশ্রমিক উসুল করবে। তবে যদি কোনো শরীক স্বেচ্ছাদান হিসেবে শ্রমদান করে তাহলে সে উসুল করবে না।
তবে মালেকীগণ মুযারাআ সংক্রান্ত তাদের আহরিত মৌলনীতিতে অটল। যেমনটা আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি। তারা সে মূলনীতির ক্ষেত্র এলেই সে নীতি অনুসারে মত দিয়েছেন। এজন্যই তাদেরকে বলতে পাই, যদি তিনজন লোক শারিকা চুক্তিবদ্ধ হয় : একজন বাড়ি দিয়ে, অন্যজন গবাদিপশু দিয়ে, আর অন্যজন চাকরি দিয়ে এই শর্তে যে, পেষণের কাজ নির্দিষ্ট একজন করবে, আর সে যেন হয় পশুর মালিক, তাহলে এককভাবে যে শ্রমদান করবে সে পাবে পূর্ণ লাভ। অন্যদের প্রদত্ত বিষয়াদি অনুসারে সেগুলোর যথাযথ ভাড়া প্রদান করা আবশ্যক হবে এই শ্রমদানকারীর ওপর। ২৩৮ সম্ভবত তাদের ছাড়া এই মত অন্য কারোর নেই। অনুরূপ মত মালবাহী গাড়ী ও আরোহণের গাড়ির উল্লিখিত মাসআলায়, যদি এককভাবে এক শরীক শ্রমদান করে।
উল্লিখিত ব্যাপক মূলবিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে কখনো কখনো মতভিন্নতা হতে পারে। হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, যেমন ইবনে কুদামা রহ. উল্লেখ করেছেন দুই পশুর মাসআলায়, দুই শরীক যদি নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট বস্তুর বাহনকে নিজ দায়ে গ্রহণ করে। এরপর তারা বাহন দুটিতে বা অন্য বাহনে বহন করে তাহলে এটি সহীহ শারিকা হবে। আর পারিশ্রমিক বষ্টিত হবে উভয়ের শর্ত অনুযায়ী। ২৩৯
তবে হানাফীদের মূলনীতি এ মতের সমর্থন করে না। এর কারণ, তাদের মতে চুক্তি সহীহ হওয়ার জন্য উভয় শরীকের যৌথ কবুল করা আবশ্যক; এই কবুল করা ইবনে কুদামা রহ.-এর উল্লিখিত কবুল করার পূর্বে। ২৪০ ইবনে কুদামা পুনরায় আলোচনা করেছেন। তিনি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শারিকা চুক্তি সহীহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এমনকি সে অবস্থাতেও সহীহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যখন উভয় শরীক নিজ নিজ বাহন ভাড়া দেয়। তাদের মতে মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা সহীহ হওয়ার সাথে তুলনা করে। ২৪১
টিকাঃ
২২১. ‘বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬; কাওয়াঈদ ইবনে রজব, পৃ. ৬৫
২২২. ‘ফাতহুল কাদীর আল-ঈনায়া, খ. ৫, পৃ. ৩২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬০-৩৬১
২২৩. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২; আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১
২২৪. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫১১
২২৫. 'আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২২৬. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২২৭. 'হাওয়াশীত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১১; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯
২২৮. 'আল বাজীরামী আলাল মানহাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০
২২৯. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৩১
২৩০. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩
২৩১. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪-৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২৩২. 'হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২৩৩. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৩৪. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৮৪
২৩৫. 'আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩
২৩৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২৩৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৭; আল-খিরশী, খ. ৪, পৃ. ২৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২৩৮. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১
২৩৯. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২৪০. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৪১. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৬
📄 পরিশিষ্ট
ফাসিদ শারিকায় বিক্রেতা এক শরীকের কাছে যা বিক্রি করেছে তার মূল্য কিভাবে দাবি করবে, যদি এক শরীক অনুপস্থিত থাকে আর অপর শরীক উপস্থিত থাকে?
মালেকীগণ বলেন, এর তিনটি অবস্থা রয়েছে :
প্রথম অবস্থা : ফাসিদ শারিকার বিষয়টি বিক্রেতার জানা রয়েছে। তখন সে উপস্থিত শরীকের নিকট শুধু তার অংশের মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা চুক্তি সম্পর্কে জানে, তবে শারিকা যে ফাসিদ তা জানে না। তখন বিক্রেতা উপস্থিত শরীকের কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার রাখে, যদিও এমন হতে পারে যে, এই শরীক তার নিকট থেকে পণ্য কিনেনি।
তৃতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা সম্পর্কেই জানে না। এ অবস্থায় উপস্থিত শরীক খোদ যদি তার নিকট থেকে পণ্য কিনে থাকে তাহলে তার কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করবে। কেননা বিক্রেতা তার সাথে এ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি যে, সে অর্ধেক মূল্যের ক্ষেত্রে অন্যের উকিল। (আর বাকি অর্ধেকে সে মূল ব্যক্তি, সুতরাং বিক্রেতা তার কাছে পূর্ণ মূল্য দাবি করবে মূল ব্যক্তি হিসেবেই।) আর যদি উপস্থিত শরীক তার কাছ থেকে না কিনে থাকে, তাহলে বিক্রেতা এই শরীককে শুধু মূল্যে থাকা তার অংশ আদায়ের দাবি জানাবে। কেননা উপস্থিত শরীক তো শুধু সেই আংশিক মূল্যের পরিবর্ত পণ্যের মালিক।
এ মাসআলা এভাবেই তারা উল্লেখ করেছেন লাখামীর সূত্রে। তবে খিরাশী যা উল্লেখ করেছেন তাতে মতভিন্নতা রয়েছে। ইচ্ছে হলে দেখে নিন।
📄 শারিকা শেষ হওয়ার কারণসমূহ
أَسْبَابُ انتهاء الشركة : et ca Rata pie
সাধারণ কারণ : শারিকা শেষ হওয়ার সাধারণ কারণগুলো এমন, যেগুলো কোনো এক প্রকার বাদ দিয়ে অন্য প্রকার শারিকার সাথে বিশিষ্ট নয়। বরং সকল প্রকার শারিকায় এগুলোর প্রয়োগ হয়।
প্রথম : এক শরীকের চুক্তি বাতিল করা। শারিকা চুক্তি আবশ্যক না হওয়া সংক্রান্ত আলোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় : হানাফীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, এক শরীকের শারিকা চুক্তি অস্বীকার করা চুক্তি বাতিলের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং যদি কেউ অস্বীকার করে, তাহলে অস্বীকারকারী শরীকের জন্য শারিকার সম্পদে অপর শরীকের অংশে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমনিভাবে অপর শরীকের অস্বীকারের বিষয়টি জানার পর সে অস্বীকারকারীর অংশে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে গাসিব (জবরদখলকারী) এর ন্যায় তার ওপর ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। সে পাবে এর লাভ, বহন করবে এর ক্ষতি। কেননা সে মালিকের অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করেছে। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ রহ.-এর মতে লাভ ভোগ করা তার জন্য ভাল হবে না। তাই সে লাভ দান করে দেবে। ২৪২
শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, শরীকের ওকালাত বা প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করার মাধ্যমে শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। যদি অস্বীকারকরণ হয় ইচ্ছাকৃত এবং এ দ্বারা অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরণের ইচ্ছা না করা হয়, যেমন প্রচন্ড জালেমের হাত থেকে ওকালাতের সম্পদ রক্ষা করা। শাফেয়ীদের উক্ত মতের কারণ, শারিকা তাদের মত কেবল ওকালাত। এই মতে হাম্বলীদের মতভিন্নতা রয়েছে। ২৪৩
তৃতীয় : কোনো শরীকের পূর্ণ পাগল হওয়া। ২৪৪ হানাফীদের মতে পাগলামী একমাস বা পূর্ণ একবছর অব্যাহত না থাকলে তা পূর্ণ পাগলামী বলে ধর্তব্য হবে না। ২৪৫ তবে কতক হানাফীর এতে ভিন্নমত রয়েছে। সুতরাং পাগলামী শুরু হওয়ার পর উল্লিখিত সময় পর্যন্ত অব্যাহত না থাকলে শারিকা শেষ হবে না।
উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হবে। কারণ শারিকা ওকালাতনির্ভর। ওকালাত থেকে শারিকা মুক্ত হয় না। আর পূর্ণ পাগল অবস্থা ওকালাতের যোগ্যতা লুপ্ত করে দেওয়ার কারণে ওকালাত বাতিল হয়ে যায়। এক শরীকের শারিকা অস্বীকার সংক্রান্ত বিগত আলোচনা ২৪৬ পাগল শরীকের অংশে অন্য শরীকের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো সময়ের শর্ত ছাড়া উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার স্পষ্ট মত দিয়েছেন শাফেয়ীগণ ও হাম্বলীগণ। ২৪৭
চতুর্থ : এক শরীকের মারা যাওয়া। কারণ মৃত্যুর কারণে ওকালাত বাতিল হয়ে যায়। আর শারিকার অন্তর্ভুক্ত ওকালাত শারিকার সত্তাগত অংশ। শুরু করা বা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে শারিকা ওকালাতমুক্ত হতে পারে না। কারণ শারিকা শুরম্ন হওয়ার পর শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক শরীকের অপরের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত ও অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে মৃত্যুর কারণে শারিকা বাতিল হওয়া অপর শরীকের জানার ওপর নির্ভর করে না। যেহেতু এটি অনিচ্ছাকৃত বিধানগত অপসারণ, যার আগপিছ করা অসম্ভব। কারণ স্রেফ মৃত্যুর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পদের মালিকানা শরীয়ভাবে ওয়ারিছদের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। আর শরীয়ত যা নগদ কার্যকর করে তা স্থগিত করা সম্ভব নয়। ২৪৮
শুধু মৃত শরীকের বিবেচনায় শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং তার যদি একজন মাত্র শরীক থাকে, তাহলে আবশ্যকীয়ভাবে শারিকার কিছুই আর বহাল থাকবে না। তবে একাধিক শরীক থাকলে অন্য শরীকদের জীবদ্দশা পর্যন্ত শারিকা অবশিষ্ট থাকবে। ২৪৯
শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ উল্লিখিত কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার বিষয় স্পষ্টভাবে বলেছেন। ২৫০
শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের স্থিরীকৃত মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসের সম্পদ বণ্টন করা এবং নতুন করে শারিকা শুরু করার- এ দুটির যে কোনটি করার এক্তিয়ার রয়েছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসের অভিভাবক অথবা পাগলামীর কারণে শারিকা শেষ হয়ে যাওয়া শরীকের অভিভাবকের জন্য আবশ্যক উল্লিখিত দুটি বিষয়ের মাঝে লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির জন্য অধিক উপকারী বিষয়টি গ্রহণ করা। তবে হ্যাঁ, যদি পরিত্যক্ত সম্পদে ঋণ থেকে থাকে অথবা অনির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য অসীয়ত থাকে তাহলে সেগুলো আদায় করার সাথে নতুন করে শারিকা শুরু করা ঝুলে থাকবে। পরিত্যাক্ত সম্পদের বহির্ভূত সম্পদ দ্বারা ঋণ বা অসীয়ত আদায় করা হোক না কেন, কেননা এ দুটি বিষয় পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে বন্ধকের ন্যায় ঝুলন্ত। আর বন্ধকের বস্তুতে শারিকা সহীহ হয় না।
নির্দিষ্ট কারো জন্য অসীয়ত করা হলে উল্লিখিত বিধানে সে ওয়ারিসের পর্যায়ভুক্ত। ওয়ারিসদের গণনার সময় তাকে একজন ওয়ারিসরূপে গণ্য করা হবে। শাফেয়ীদের মতে নতুন করে শারিকা করার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া যথেষ্ট; যদিও তাদের কতক কিতাবের বক্তব্যে বুঝে আসে, এই যথেষ্ট হওয়া সীমিত সেই শারিকার ক্ষেত্রে, যার পুঁজি হয় পণ্য। ২৫১
হানাফীদের মতে, মুরতাদ হয়ে দারুল হারবে কোনো শরীকের আশ্রয় নেওয়ার রায় দেওয়া হলে এর মাধ্যমেও শারিকা শেষ হয়ে যায়। কেননা এভাবে সে শরীফ দারুল হারবের অধিবাসীভুক্ত হয়ে যায়। আর হানাফীদের মতে উল্লিখিত রায় দেওয়া বিধানগত মৃত্যু হিসেবে গণ্য। বরং ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মত হলো, উল্লিখিত রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বিধানগত মৃত্যুর সূচনা মুরতাদ হওয়ার সময় থেকে। ২৫২ সুতরাং এই কারণে যদি শারিকা বাতিল হয়, এরপর শরীফ আবার মুসলমান হয়, তবু শারিকার বিবেচনায় তার সুযোগ নেই। কারণ শারিকা বাতিল হয়ে গেছে এবং বাতিল হওয়াই চূড়ান্ত।
উল্লিখিত রায় ছাড়া শরীক মুরতাদ হলে সে দারুল হারবে আশ্রয় নিক বা না নিক, তার মুরতাদ হওয়ার ভিত্তিতে শারিকা স্থগিত থাকবে। এমনকি মুরতাদ শরীফ যদি মুসলমান হয়ে ফিরে আসে তাহলে পূর্ব লেনদেন অবস্থা পুনরায় বহাল হবে। আর যদি মুরতাদ অবস্থায় যে মারা যায় বা নিহত হয় তাহলে মুরতাদ হওয়ার সময় থেকে শারিকা বাতিল হওয়া প্রতীয়মান হবে। ২৫৩
ছয় : চুক্তির শর্তের অন্যথা করা : যেমন শরীক শারিকায় নির্ধারিত জায়গার সীমা অতিক্রম করল। ২৫৪ তবে এক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল হবে বিরুদ্ধাচরণের পরিমাণ অনুযায়ী, আংশিক বা পরিপূর্ণ। পূর্ণ বিরুদ্ধাচরণের নমুনা হলো : এক শরীক অন্যকে পণ্য নিয়ে বের হতে নিষেধ করল। এরপরও সে শরীক পণ্য নিয়ে বের হলো। আংশিক বিরুদ্ধাচরণের নমুনা হলো : এক শরীকের বাকিতে বিক্রি করা আর অপর শরীকের তা অনুমোদন না করা। এক্ষেত্রে অন্য শরীকের অংশে বিক্রি বাতিল হবে, আর বিক্রেতা-শরীকের অংশে বিক্রি কার্যকর হবে। তখন কার্যকর হওয়া অংশে শারিকা বাতিল হবে।
মালেকীগণ কেবল চুক্তির শর্ত নয়, বরং চুক্তির স্বভাবের বিরুদ্ধাচরণ করার ভিত্তিতে কোনো বিধানের মত দেন না। তবে যে অংশে বিরোধিতা হয়েছে অন্য শরীককে সে অংশে হস্তক্ষেপ রদ করার অধিকার প্রদান এবং বিরোধিতার কারণে সম্পদ নষ্ট হলে বিরোধিতাকারী শরীককে জরিমানা আদায়ের মত দেন।
শারিকাতুল আনান-এর শরীক এককভাবে হস্তক্ষেপ করার আলোচনায় তারা এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। উল্লিখিত বিধানের কারণ, এক শারিকা এক শরীককে জানানো ছাড়া অন্য শরীকের একক শারিকায় হস্তক্ষেপ না করা দাবি করে। ২৫৫ অনুরূপ হানাফীদের মত। এক শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য শরীকের বাকিতে বিক্রি করার কার্যক্রম সম্পর্কে শাফেয়ীদের আলোচনায় ও ২৫৬ এটি বুঝে আসে। তাদের মতে, এটি শারিকা চুক্তির ধরন দ্বারা সমর্থিত, বাকিতে বিক্রির অধিকার নয়। ২৫৭
সপ্তম : শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ শারিকা বাতিল করে এমন বিষয়ের মধ্যে এটিও উল্লেখ করেন, নির্বুদ্ধিতার কারণে কোনো এক শরীকের হঠাৎ লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়া। শাফেয়ীগণ দেউলিয়া হওয়ার কারণে লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়াকেও শারিকা বাতিল করার কারণ গণ্য করেন। তবে দেউলিয়া হওয়া শুধু দেউলিয়া সম্পর্কিত অংশে শারিকা বাতিল করে। অর্থাৎ দেউলিয়া হওয়া শরীকের লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার পর এমন কোনো হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে না। লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়া শরীককে সে হস্তক্ষেপ প্রয়োগের যোগ্যতাশূন্য করেছে। শাফেয়ীদের একটি মূলনীতি হলো, দেউলিয়া হওয়া ব্যক্তির জিম্মায় আবশ্যক হওয়া বিক্রি ও ক্রয় কার্যকর হয়।
নির্বোধ ব্যক্তির (নির্বুদ্ধিতার কারণে যার লেনদেন নিষিদ্ধ) কোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৈধ নয়। তবে অসীয়ত ও তাদবীরের (মৃত্যুকালে দাসদাসীকে মুক্তিদানের প্রতিশ্রুতি) ক্ষেত্রে বৈধ। সুতরাং যদি নিঃস্ব শরীক বা তার শরীক শারিকার কোনো সম্পদ বিক্রি করে, তাহলে অনিঃস্ব শরীকের অংশে বিক্রি কার্যকর হবে। আর যদি নিঃস্ব ব্যক্তি নিজ দায়ে শারিকার জন্য কিনে তাহলে তাদের মতে এটি শারিকায় কার্যকর হবে। ২৫৮
টিকাঃ
২৪২. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৪; রদ্দুল মুহতার, পৃ. ৩৫৭-৩৬২
২৪৩. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৪, ২৩৩; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৫৮
২৪৪. 'শব্দটির উচ্চারণ فطبقا সবাই বলে فطبقا এভাবে বললে শব্দটি সহীহ হওয়ার একটি দিক রয়েছে। তবে তা বর্ণিত নয়, আল মিসবাহুল মুনীর-এ এমনটি আছে।
২৪৫. 'প্রথম মত আবু ইউসুফ রহ.-এর, দ্বিতীয়টি ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর। দুটি মতের একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া মতভেদপূর্ণ বিষয়। অগ্রাধিকার দেয়ার কারণসহ দেখুন, বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৩৮; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ২৩৭
২৪৬. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬২
২৪৭. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৩
২৪৮. 'ফাতহুল কাদীর, খ, ৫, পৃ. ৩৪
২৪৯. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৫০. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৩
২৫১. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
২৫২. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১১২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩০৯
২৫৩. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৪; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৫৪. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৭
২৫৫. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১
২৫৬. 'আর ইজাযাতের ব্যাপারে তাদের অবস্থান তো প্রসিদ্ধ।
২৫৭. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৯
২৫৮. 'আর-রশীদ আলা নিহায়াতিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৩
📄 বিশেষ কারণসমূহ
প্রথম : হানাফীদের মতে শারিকাতুল আমওয়াল-এ পুঁজি ধ্বংস হওয়া। উভয়ের সম্পদ নষ্ট হওয়া। শারিকার পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে হোক বা পরে, শারিকার আংশিক পুঁজি দ্বারা পণ্য কেনার আগে একজনের সম্পদ নষ্ট হোক না কেন, বিধান অভিন্ন। যখন সম্পদের শ্রেণীভিন্নতাহেতু বা মিশ্রিত না থাকার কারণে একজনের সম্পদ অন্যজনের সম্পদ থেকে পৃথক হয় এসময় শুধু পুনরাবৃত্তির দ্বিতীয় দিক ধারণা করা যায়। থাকা অসম্ভব। যদি উভয়ের পুঁজি একজাতীয় হয় আর উভয়টিকে এক করা হয়, এরপর এই একত্র সম্পদ থেকে যা নষ্ট হবে তা উভয়ের সম্পদ থেকে নষ্ট হবে। যেহেতু এটা নিশ্চিত বলা যায় না, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ এই শরীকের; ঐ শরীকের নয়। যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে তা শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে।
পুঁজি ধ্বংস হওয়ার কারণে শারিকা বাতিল হওয়ার মূল কারণ হলো, যখন শারিকার সমুদয় পুঁজি নষ্ট হয়ে যায় তখন চুক্তির নির্দিষ্ট ক্ষেত্র-ই নষ্ট হয়ে যায়। আর ক্ষেত্র বাতিল হওয়ার কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। যেমন পণ্য নষ্ট হলে বিক্রি বাতিল হয়ে যায়।
নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদ এক্ষেত্রে চুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র হয়। এর কারণ, মূল্যজাতীয় বস্তু যদিও বিনিময় চুক্তিসমূহে নির্দিষ্ট হয় না, নতুবা তা মূল্য হওয়ার গুণশূন্য হয়ে যায়। এবং সত্তাগত উদ্দিষ্ট পণ্য হয়ে যায়। তবে অন্য ক্ষেত্রে যেমন হেবা ও অসিয়্যতের মত এমন প্রতিটি চুক্তির ক্ষেত্রে, যেখানে পণ্যজাতীয় বস্তুর বিপরীতে কোনো বিনিময় থাকে না, সেক্ষেত্রে (নির্দিষ্ট করার কারণে) নির্দিষ্ট হয়। আর শেষোক্তটি শারিকার ধরন। ২৫৯
পণ্য কেনার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে যখন শারিকা বাতিল হয়ে যায়, তখন অবশিষ্ট সম্পদ তার মালিকের জন্য নির্দিষ্ট ও একক হয়ে যায়। এরপর অন্য শরীক সে সম্পদ দিয়ে যা কিনবে, তা তার একক মালিকানাধীন হবে। পুঁজি নষ্ট হয়ে যাওয়া শরীকের এতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। শারিকার পন্থায় নয়, যেহেতু জানা আছে যে, সেটি বাতিল। শারিকার আওতাধীন ওকালাতের পন্থায়ও নয়, যেহেতু শারিকা বাতিল হওয়ার অনুগামী হিসেবে সেটিও বাতিল। তবে যদি শারিকা ওকালাত শব্দ ছাড়া সম্পাদিত হয়ে থাকে। ২৬০ তাহলে অবশিষ্ট সম্পদের মালিক যা কিনবে ওকালাতের হুকুম হিসেবে তা যৌথ মালিকানাধীন হবে। কেননা স্পষ্টভাবে ওকালাত শারিকা বাতিল হওয়ার কারণে বাতিল হয় না। ২৬১ আর (ক্রেতা) শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার অংশের মূল্য উসুল করবে। তবে এক্ষেত্রে ওকালাত হবে যৌথ মালিকানা, যেহেতু তাদের মাঝে শারিকা চুক্তি নেই।
হাম্বলীদের মতে, কোনো শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়া নিঃশর্তভাবে শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে। অনুরূপভাবে নষ্ট না হওয়া অবশিষ্ট সম্পদও শারিকার জন্য ধর্তব্য হবে। কেননা স্রেফ শারিকা চুক্তির মাধ্যমেই তারা উভয়ের সম্পদ একত্র হওয়ার মত দেন। তারা বলেন, সম্পদ এক শব্দে বন্টন হতে পারে, যেমন খারস (অনুমান করে বিক্রি)-র ক্ষেত্রে। সুতরাং এক শব্দ দ্বারা সম্পদ যৌথ হওয়ায় কোনো বাধা নেই, যেমন শারিকার ক্ষেত্রে যদি সম্পদ দ্বারা শারিকা হয়ে থাকে অর্ধেক লাভের হারে, তাহলে শুধু শারিকা চুক্তির দাবি হলো প্রত্যেক শরীকের অর্ধেক সম্পদে অপর শরীকের মালিকানা সাব্যস্ত হবে। ২৬২
নির্ভরযোগ্য বর্ণনামতে মালেকীগণ মাঝামাঝি একটি মত দিয়েছেন। তারা বলেন, উভয়ের সম্পদ এক করার পূর্বে একজনের সম্পদ নষ্ট হলে, যদিও বিধানগত বিচারে শরীকদ্বয় সম্পদ এক করেছে, তা এককভাবে সম্পদের মালিকের দায় থেকে ধর্তব্য হবে। শারিকা থেকে ধর্তব্য হবে না। তবে এরপরও শারিকা বহাল থাকবে। এমনকি অবশিষ্ট সম্পদ দ্বারা যা কেনা হবে তা শারিকার জন্য বলে সাব্যস্ত হবে। যে শরীকের সম্পদ নষ্ট হয়েছে তার নিজ মূল্যের অংশ পরিশোধ আবশ্যক হবে। তবে ক্রেতা শরীক যদি অপর শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানার পর কিনে থাকে, আর সম্পদ নষ্ট হওয়া শরীক সেটিকে শারিকার জন্য অনুমোদন না করে অথবা সে অনুমোদন করে তবে অন্য শরীক দাবি করে যে, সে বস্তুটি নিজের জন্য কিনেছে তাহলে বস্তুটি এককভাবে অবশিষ্ট সম্পদের মালিকের জন্য হবে। ২৬৩
এ ব্যাপারে শাফেয়ীদের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমি দেখিনি। তবে তাদের মতে, শারিকা সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদ এক করার শর্ত দাবি করে। একজনের সম্পদ বা উভয়ের সম্পদ নষ্ট হলে শারিকা বাতিল হয়ে যাবে। ২৬৪
দ্বিতীয় : শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় সমতাবিধান ছুটে যাওয়া। ছুটে যাওয়া বিষয় শারিকার পুঁজিতে সমতা হোক বা নিয়ন্ত্রণের যোগ্যতার সমতা হোক, বিধান অভিন্ন। উল্লিখিত যে কোন কারণে যদি শারিকাতুল মুফাওয়াযা বাতিল হয়ে যায় তাহলে তা শারিকাতুল আনান-এ রূপান্তরিত হবে, যেহেতু শারিকাতুল আনান-এ সমতাবিধানের শর্ত নেই। এটি হানাফীদের মত। ২৬৫
তৃতীয় : সময়াবদ্ধ শারিকায় সময় ফুরিয়ে যাওয়া। ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, হানাফী ইমাম তাহাবী রহ. ছাড়া সকল ফকীহর মতে শারিকাকে সময়াবদ্ধ করা সহীহ।
টিকাঃ
২৫৯. 'বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৫৪
২৬০. 'যেমন তারা বলল, আমরা এক হলাম এই মর্মে যে, আমাদের প্রত্যেকে যা কিনবে তা আমাদের মাঝে যৌথ হবে। রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪
২৬১. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩-৩৫৪
২৬২. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৮
২৬৩. ‘বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮
২৬৪. ‘নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ১০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২১৫
২৬৫. ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩১১