📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শারিকাতুল আমাল-এর উভয় শরীকের মাঝে উপার্জন বণ্টন এবং উভয়ের ক্ষতি বহন করা

📄 শারিকাতুল আমাল-এর উভয় শরীকের মাঝে উপার্জন বণ্টন এবং উভয়ের ক্ষতি বহন করা


হানাফী, হাম্বলী ও কতক মালেকী ফকীহের মতে, শারিকাতুল আমাল শারিকাতুল আনানভুক্ত হলে তা থেকে লব্ধ উপাজর্ন উভয় শরীকের মাঝে শর্তকৃত হারে বণ্টিত হবে। এক্ষেত্রে উভয় শরীকের জন্য শর্তের সমন্বয় বা শ্রমদানের শর্তের সাথে এই শর্তের অসমন্বয়কে বিবেচনা করা হবে না। এ বিধানের কারণ ও শারিকাতুল ওজুহ-এ লাভ বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বিধানের বিপরীত হওয়ার কারণ ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

এটি একটি মৌলিক নীতি। উভয় শরীক শ্রমদান করম্নক বা এক শরীক, শ্রমদানে অনিচ্ছুক শরীক কোনো ওজরের কারণে; যেমন সফর বা অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে; যেমন অলসতা ও অহংকারের কারণে শ্রমদানে বিরত থাকুক না কেন এই মৌলনীতি কার্যকর। কেননা শ্রমদাতা শরীক অপর শরীকের সাহায্যকারী, আর শর্তকৃত বিষয় হলো নিঃশর্ত শ্রমদান। এ কারণে শ্রমদানের জন্য মজদুর নিয়োগ করা, এমনকি বিনামূল্যে সহযোগিতা নিতে কোনো বাধা নেই। ২০৪

যদি উভয় শরীক নির্দিষ্ট অংশ অনুপাতে শর্তকৃত শ্রমদানে উদ্যোগী না হয়, তাহলে শ্রমদান আবশ্যক হবে উভয়ের শর্তকৃত লাভ অনুপাতে। কেননা লাভ অনুপাতে শ্রম বণ্টনই মূল নীতি। সুতরাং স্পষ্ট বক্তব্য ছাড়া এর অন্যথা করা যাবে না।

শারিকাতুল আমাল-এর ক্ষতি কাজের দায় অনুপাতেই বণ্টিত হবে। কাজের দায় বলে উদ্দেশ্য প্রত্যেক শরীকের জন্য যে পরিমাণ কাজ করার শর্ত করা হয়েছে তার পরিমাণ হিসাব। শারিকাতুল আমওয়ালে যেমন পুঁজির পরিমাণ হিসেবে ক্ষতি বহন করা লাগে, তেমনি শারিকাতুল আমাল-এর শর্তকৃত কাজের পরিমাণ হিসেবে ক্ষতি বহন করা আবশ্যক, যেহেতু কাজের দায়বদ্ধতা এই শারিকায় পুঁজির স্থলবর্তী। এ কারণে যদি উভয়ে শর্ত করে এক শরীকের ওপর দুই তৃতীয়াংশ কাজের দায় আর অপরের জন্য এক তৃতীয়াংশ, আর ক্ষতি উভয়ে অর্ধেক হারে বহন করবে, তাহলে ক্ষতিবহন সংক্রান্ত শর্ত বাতিল হবে। এবং ক্ষতি উভয়ের শর্তকৃত কাজের দায় অনুপাতে বহন করা আবশ্যক হবে। ২০৫ হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, (কাজ ও দায়বদ্ধতা) নিঃশর্ত রাখা হলে তা কাজ ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে সমানহারে বণ্টনের অর্থে গ্রহণ করা হবে। যেমন জিআলার (পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মজদুর নিয়োগ শর্তমুক্ত হলে) বিধান, যেহেতু এক্ষেত্রে (কারো অংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে) অগ্রাধিকার প্রদানমূলক কোনো দলিল মজুদ নেই। ২০৬

অধিকাংশ মালেকী ফকীহের মতে, শারিকাতুল আমাল-এর উভয় শরীকের কাজ অনুপাতে লাভ বণ্টন আবশ্যক। এতে সামান্য ব্যবধানের বেশি করা যাবে না। এটি শারিকা চুক্তি সম্পাদনকালের বিধান। চুক্তি সম্পাদনের পর কোনো শরীক স্বেচ্ছাশ্রম দিলে তাতে কোনো নিষেধ নেই, যদিও সে পুরো কাজ স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে করে। যদি উভয়ের কাজের হার ও লাভের হারে বিস্তর ব্যবধানের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদিত হয়, তাহলে এটি ফাসেদ চুক্তি হবে। আর প্রত্যেক শরীক অপরের পক্ষ থেকে কৃত কাজ অনুপাতে লাভ উসুল করবে। ২০৭

তবে মালেকীগণ বিধানগত এই কাজের কঠোরতার সাথে সাথে শারিকার কাজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে কোনো শরীক শ্রমদান করে যে লাভ পায় তা গ্রহণের ক্ষেত্রে উদার মত দেন। তারা উক্ত লাভ এই শরীকের একক বলে মত দেন। যেমন তারা শারিকাতুল আমওয়াল-এ উলিখিত ক্ষেত্রে এই মত দিয়েছেন। ২০৮

দ্রষ্টব্য : কাজের প্রকার এবং স্থান এক হওয়া হানাফীদের মতে শারিকাতুল আমাল সহীহ হওয়ার জন্যে শর্ত নয়। এটি হাম্বলীদের বিশুদ্ধ মত। তবে শারিকাতুল তাকাব্বুল বৈধ হওয়ার মত অনুযায়ী যুফার রহ.-এর মত উল্লিখিত মতের বিপরীত। উল্লিখিত মতের কারণ হচ্ছে, শারিকার উদ্দেশ্য অর্থাৎ লাভ অর্জন করা, কাজের প্রকার এক হওয়া ও অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অর্জিত হওয়া সম্ভব, যেমন সম্ভব কাজের স্থান এক হওয়া এবং একাধিক হওয়া সত্ত্বেও অর্জিত হওয়া। ২০৯

মালেকীগণ ও হাম্বলী ফকীহ আবুল খাত্তাবের মতে, কাজের প্রকার এক হওয়া শর্ত। তবে মালেকীগণ উভয় শরীকের কাজ পরস্পর আবশ্যকীয় হওয়া এবং একজনের কাজ অপরের কাজের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে এক জাতীয় হওয়া গণ্য করেন। যেমন সুতা তৈরি করা ও বুনন করা, স্বর্ণ ও রূপা ছাঁচে ঢালা এবং গয়না তৈরি করা। বরং কতক মালেকী ফকীহের মতে শিল্প বা কাজে উভয় শরীক সমান সুচারুরূপে করার যোগ্য হওয়া শর্ত। এমন কঠোর শর্তারোপের কারণ, এক শরীকের শ্রমঅর্জিত লাভ ও কষ্টের ফল ভক্ষণ থেকে অন্য শরীককে বাঁচানো। তবে ইবনে কুদামা রহ. তাদেরকে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, যদি এক শরীক বলে, আমি কাজ গ্রহণ করব আর তুমি কাজ করবে তাহলে উভয়ের কাজ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও শারিকা চুক্তি বৈধ হয়। ২১০

শ্রমদানের জায়গা এক হওয়ার শর্ত আল মুদাওয়ানা-য় বর্ণিত মালেকী মাযহাবের মত। তবে পরবর্তী মালেকী ফকীহগণ এর বিপরীত মতকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তারা আল মুদাওয়ানা-য় বর্ণিত মতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মতটি প্রযোজ্য সে ক্ষেত্রে যেখানে উভয়ের জায়গায় কাজের প্রচলন এক না হয়, যেন এক শরীক অপর শরীকের উপার্জন ভক্ষণ করা আবশ্যক না হয় অথবা মতটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যখন এক শরীকের জায়গার কাজটি অপর শরীকের জায়গার কাজ থেকে পৃথক হয়। অর্থাৎ শরীকদ্বয় তাদের গ্রহণকৃত কাজে একে অপরকে তার জায়গায় সহযোগিতা করতে পারে না অথবা মতটি প্রযোজ্য তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে একজনের কর্তৃত্বে গৃহীত কাজে অপর শরীকের কর্তৃত্ব সচল না হয় সেক্ষেত্রে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, উদ্দেশ্য যদি ব্যবসা হয় তাহলে পেশার প্রতি লক্ষ্য করা হবে না। ২১১

টিকাঃ
২০৪. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪-৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২০৫. 'হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১; আল-বিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২০৬. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২০৭. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৮৪
২০৮. 'আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩
২০৯. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২১০. বাদাইউস সানাইঈ, খ. ৬, পৃ. ৭৭; আল-বিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২১১. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৮; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ফাসিদ শারিকা

📄 ফাসিদ শারিকা


الشركة الفَاسِدَةُ : যে শারিকায় শারিকা বৈধ হওয়ার সকল শর্ত পূর্ণ উপস্থিত থাকে না তা-ই হচ্ছে ফাসিদ শারিকা। যেমন ওকীল নিয়োগ করা বা ওকীল হওয়ার যোগ্যতা, চুক্তিক্ষেত্র, ওকালাত গ্রহণের যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে উভয় শরীকের মাঝে লাভ বণ্টিত হওয়া ইত্যাদি শর্ত না থাকা। ২১২

ফকীহগণ ফাসিদ শারিকার বিভিন্ন উদাহরণ দিয়েছেন। তন্মধ্যে উলেস্নখযোগ্য কয়েকটি :
প্রথম : সাধারণ মুবাহ বিষয়াদির অর্জনে শারিকা চুক্তি। যেমন কাঠ কাটা, ঘাস তোলা, শিকার করা, পানি সংগ্রহ করা, পাহাড়ী ফল পাড়া, বৈধ ভূমি থেকে পেট্রোল বা সৃষ্টিজাত খনিজ দ্রব্য; যেমন স্বর্ণ, লোহা, তামা অথবা অজ্ঞাত মালিকের প্রোথিত ভান্ডার উত্তোলন করা অথবা মালিকানাহীন মাটি দ্বারা কাঁচা বা পাকা ইট তৈরি করা ইত্যাদি বিষয়ের জন্য শারিকা চুক্তি করা। হানাফীদের মতে এই শারিকা ফাসিদ। কেননা শারিকা ওকালাতকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ শারিকার ক্ষেত্র ওকালাত গ্রহণের অনুপযুক্ত। কেননা মুবাহ বস্তুতে যার আগে কর্তৃত্ব হাসিল হয় সে তার মালিক হয়, তার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন। সুতরাং এ জাতীয় বস্তু একজন নিয়ে অন্যজনকে সে বস্তুতে ওকীল বানানো সম্ভব নয়। তবে যদি মাটি, অনুরূপ পলিমাটি ২১৩ কারো মালিকানাধীন হয়, আর দুজন এই মর্মে শারিকা চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, তারা এটা কিনবে, পোড়াবে এবং বিক্রি করবে তাহলে এটি বিশুদ্ধ শারিকা বলে গণ্য হবে।

মালেকী ও হাম্বলীগণের মতে, নিঃশর্তভাবে মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের জন্য শারিকা চুক্তি করা বৈধ। ২১৪

সাধারণত এমন হয়ে থাকে, দুজন ব্যক্তির যৌথ মালিকানাধীন একটি পশু বা ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে, যা একজন অপরজনকে এই শর্তে দেয় যে, সে তা ভাড়ায় খাটাবে এবং এর জন্য শ্রম দেবে, আর লাভের দুই তৃতীয়াংশ হবে এই শরীকের। আর যে শরীক শ্রমদান করেনি সে এক তৃতীয়াংশ লভ্যাংশ পাবে। হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী ফকীহগণ এবং হাম্বলী ফকীহ ইবনে আকীল ও কাজীর মতে এই শারিকা ফাসিদ। কেননা এই শারিকার পুঁজি হলো উপকার। আর উপকার পণ্যজাতীয় বস্তুর সমপর্যায়ভুক্ত। ২১৫ তাই তাদের মালিকানা অনুপাতে আয় সাব্যস্ত হবে। যে শ্রম দেবে তার শ্রম অনুপাতে সে পারিশ্রমিক পাবে, তা যতই হোক। ইবনে আবেদীন বলেন, যৌথ কারবারের কাজের সাথে তার তুলনা করা হবে না। নয়তো আমরা বলতাম, তার কোন পারিশ্রমিক মিলবে না। এর কারণ, ধর্তব্য কাজগুলো সে এ দুজনের বাইরে অন্য কারো জন্য করেছে।

এই মাসআলার সদৃশ একটি মাসআলা রয়েছে। তা হলো, একজনের গবাদি পশু বা ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। সে আরেকজনকে তা শ্রম খাটানোর জন্য দিল। পারিশ্রমিক উভয়ের সম্মতিপূর্ণ নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে বণ্টিত হবে। ইমাম আহমদ ও আওযায়ী রহ.-এর মুযারাআ চুক্তি বৈধ হওয়ার বিবেচনায় তাদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে এটি বৈধ। অনুরূপ বিধান প্রতিটি বস্তুর, যা প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রম খাটাতে দেওয়া হয়। লাভের অংশের বিনিময়ে তা অন্যকে দেওয়া বৈধ। তবে এটি সকল আহলে ইলমের মতে ফাসিদ, যেহেতু এতে তীব্র প্রতারণা ও অজ্ঞতার সুযোগ রয়েছে। তাই উভয় শরীকের মালিকানা অনুপাতে বস্তুতে তাদের অধিকার থাকবে। তাই যে শ্রম দেবে সে অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক লাভ করবে তা যাই হোক না কেন।

উল্লিখিত শারিকাসমূহ অবৈধ ও ফাসিদ হওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীদের সাথে অভিন্ন মত পোষণ করেন মালেকী, শাফেয়ী ফকীহগণ ও নিঃসঙ্কোচে হাম্বলী ফকীহ ইবনে আকীল, আর কতক সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাম্বলী ফকীহ কাজী রহ.। ২১৬ তাদের মতের উৎস ও দলিল হচ্ছে কাফীযুত তাহহান ২১৭ নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীসটি। কাফীযুত তাহহান অর্থ পেষণকৃত শস্যের কিছু অংশের বিনিময়ে পেষণের চুক্তি করা। ২১৮ এমন করা হলে তা হবে ফাসিদ ইজারা চুক্তি। ফাসিদ ইজারার অর্থে গ্রহণ করা ছাড়া এ হাদীসের অন্য প্রয়োগক্ষেত্র নেই। সুতরাং গবাদি পশু বা ঘোড়ার গাড়ির মাসআলায় লাভ পাবে এগুলোর মালিক। কেননা এগুলোতে বহন করার দ্বারাই বিনিময়ের হকদার হওয়া যায়। আর শ্রমদানকারী পাবে অনুরূপ শ্রমদানের পারিশ্রমিক।

এই কারবার সহীহ হওয়ার জন্য নিকটবর্তী চিন্তা হলো, এই কারবারকে মুদারাবার সাথে যুক্ত করে দেওয়া। কিছু মুদারাবা পণ্য জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সহীহ হয় না। উপরন্তু তা একটি ব্যবসা। অথচ এখানে শ্রমদান ব্যবসার সাথে সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট।

চতুর্থ : পশুর শারিকা চুক্তিতে অধিকাংশ যা ঘটে তা হলো, এক লোকের একটি গরম রয়েছে। তখন সে তা অন্য একজনকে দেয় ঘাস খাওয়ানো ও দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে। এই শর্তে যে, যে কোনো হারে যেমন অর্ধেক অর্ধেক হারে উপার্জন উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে।

এটিও ফাসিদ শারিকা। এটি শারিকাতুল আমওয়াল-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেহেতু এটি পুঁজি জাতীয় বস্তুমুক্ত চুক্তি, যে বস্তু দিয়ে তারা ব্যবসা করবে। এটি শারিকাতুত তাকাবুল বা শারিকাতুল ওজুহ-এর অন্তর্ভুক্তও নয়। এই অন্তর্ভুক্ত না হওয়া তো স্পষ্ট।

উপার্জিত লাভ এক শরীকের মালিকানাধীন বস্তুর প্রবৃদ্ধিমাত্র। সে শরীক হলো গরমর মালিক। তাই সে লাভ পাবে। অপরজন শুধু ঘাস-তৃণের বাজারমূল্য এবং অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক পাবে। অনুরূপ বিধান রেশম পোকার, এর মালিক যদি তা অন্য ব্যক্তিকে তৃণলতা খাওয়ানো এবং সেবার উদ্দেশ্যে দেয় এই শর্তে যে, উপার্জন বষ্টিত হবে উভয়ের মাঝে। অনুরূপ বিধান মুরগী অন্যকে দেওয়ার, এই শর্তে যে, ডিম উভয়ের মাঝে অর্ধেক হারে বণ্টন হবে।

তারা বলেন, এ কারবার বৈধ হওয়ার হীলা হলো, মালিক বস্তুটির অর্ধেক বা এক তৃতীয়াংশ নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে, মূল্য যত কম হোক না কেন, বিক্রি করবে। এরপর বস্তু থেকে আরো যা অর্জন সম্ভব হবে তা উভয়ের মাঝে উল্লিখিত হারে বণ্টন হবে। আমরা ইমাম আহমদ রহ. ও ইমাম আওযায়ী রহ.-এর স্পষ্ট বক্তব্য জেনেছি। তাদের মতে এ জাতীয় সকল শারিকা শ্রমদানের মাধ্যমে বস্তুর প্রবৃদ্ধি ঘটানোর মতো বৈধ। যেমন জেনেছি অধিকাংশ আলেম এ বিষয়ে তাঁদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। এমনকি কতক শাফেয়ী ফকীহ বলেছেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিত এ জাতীয় কারবার থেকে বিরত থাকা, যেহেতু এতে অনেক ক্ষতি রয়েছে। ২১৯ তবে মালেকীগণ একটি শাখা মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যা হাম্বলী মতের সদৃশ। তা হলো, তারা দুজনের শারিকা চুক্তি সহীহ বলেন, যাদের একজন নর পাখি আনবে আর অন্যজন মাদী পাখি আনবে। উভয়ের পাখি হবে এমন যেগুলোর নর-মাদী উভয়টিকে লালনপালন করা হয়, যেমন কবুতর; এরপর একটিকে অন্যটির সাথে বিয়ে দেবে এই শর্তে যে, এগুলোর ছানা সমানহারে উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে আর প্রত্যেকে নিজ পাখির খরচ বহন করবে, আর মারা গেলে ক্ষতিপূরণ বহন করবে। তবে একজন স্বেচ্ছায় অপরের পাখির খরচ বহন করতে পারে। এই শারিকা বৈধ হওয়ার কারণ, তাদের বক্তব্যের পূর্বাপর যে ইঙ্গিত বহন করে সে মতে এগুলো এমন বস্তু যা ব্যবসা ছাড়া অন্য পন্থায় প্রবৃদ্ধি লাভ করে। তাই এগুলোকে ব্যবসা দ্বারা প্রবৃদ্ধি লাভ করা বস্তুর সমপর্যায়ের গণ্য করা হবে। ২২০

টিকাঃ
২১২. 'শারিকা সহীহ হওয়ার অন্যান্য শর্ত পেছনে উল্লিখিত হয়েছে। ১. শারিকাতুল আমওয়াল-এর পুঁজি নগদ হওয়া; ঋণ নয়। ২. শারিকাতুল আমওয়াল-এর পুঁজি মূল্যজাতীয় বস্তু হওয়া। ৩. চুক্তির সময় বা পণ্য ক্রয়ের সময় পুঁজি উপস্থিত থাকা। ৪. শারিকাতুল আমাল-এ চুক্তির ক্ষেত্র কাজ হওয়া। ৫. উল্লিখিত কাজ এমন হওয়া, ইজারা চুক্তির মাধ্যমে যার দাবি করা যায়।
২১৩. 'পলিমাটি, যাকে তার সাথে থাকা পানি বহন করে। কাঁচ তৈরিতে এর দখল রয়েছে। মুহীতুল মুহীত, কিতাবের শব্দ হলো, বালুর মতো মাটি, পানি যাকে বয়ে আনে।
২১৪. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩১-৩২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬০; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৭-২৬৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১০-২১৫
২১৫. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২১৬. 'ইসলামী শরীয়ার কোন বিধান কিয়াসের বিপরীতে হওয়া সংক্রান্ত যে বিতর্ক আজ রাষ্ট্র হয়ে আছে তা কারোর অজানা নয়। এ সংক্রান্ত ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার শিষ্য ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর দীর্ঘ আলোচনা দেখুন ইলামুল মুওয়াককিঈন কিতাবে। তবে কোন বিধান কিয়াস বহির্ভূত হওয়ার অর্থ হলো ঐ বিধানের মর্ম বোধগম্য না হওয়া। সুতরাং যে বিধানের মর্ম বোধগম্য আর সে বিধানে বিশেষায়ণের দলীল অনুপস্থিত সে বিধানের ভিত্তিতে কিয়াস করার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। (তাইসরুত তাহরীর ফী উসূলিল ফিকহ, খ. ২, পৃ. ২৭৯
২১৭. 'কফীয قیر একটি পরিমাপমাত্র। আট মাকু ধারণ করে এটি। তবে এখানে এটি উদ্দিষ্ট নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট পরিমাপমাত্র উদ্দেশ্য, যা তাহহানের জন্য নির্ধারিত। যেমন রিতিল। দ্রষ্টব্য: আল-মিসবাহুল মুনীর।
২১৮. 'হাদীসটি দারাকুতনী আবু সাঈদ খুদরী রা. এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন, ৭০/৭৪, ছাপা দারুল মাহাসিন। হাদীসটির সনদ সহীহ আত তালখীসুল হাবীর, খ. ৩, পৃ. ৬০
২১৯. 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২২৬; আশ-শারকাওয়ী, আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৬-১১৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২২০. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ফাসিদ শারিকার বিধানবলি

📄 ফাসিদ শারিকার বিধানবলি


أَحْكَ مُ الشَّركة الْفَاسِدَة
প্রথম : বিশুদ্ধ শারিকা দ্বারা যে উপকার অর্জিত হয় ফাসিদ শারিকা দ্বারা তা হয় না। এটি হানাফীদের স্থিরীকৃত মত। শারিকা যেহেতু শাফেয়ীদের নিকট স্বতন্ত্র চুক্তি নয়, বরং অন্যান্য ওকালাতের ন্যায় একটি ওকালাত, তাই তারা বলেন, ফাসিদ শারিকার শরীকের যাবতীয় কার্যক্রম অনুমতি থাকার কারণে কার্যকর হবে। হাম্বলীদের মতও অনুরূপ। ২২১

দ্বিতীয় : হানাফীদের মতে, যে শারিকায় সম্পদ রয়েছে তা এককভাবে শ্রমদানকারী শরীকের মালিকানাধীন হবে। সাধারণ মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের শারিকা চুক্তির ক্ষেত্রে যখন এক শরীক সে বস্তু গ্রহণ করবে আর অপরজন তাকে সহযোগিতার কোনো চেষ্টা করবে না, সেক্ষেত্রে বস্তুটি যে নিয়েছে তার হবে। কারণ মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কারণ সে সরাসরি সম্পাদন করেছে। তার শরীকের এতে কোনো অংশ নেই। যদি উভয়ে একসাথে নেয়, তাহলে উভয়ের মাঝে অর্ধেক হারে বণ্টিত হবে। কেননা উভয়ে মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অংশগ্রহণ করেছে।

সুতরাং তারা উভয়ে যদি তা বিক্রি করে, বিভিন্ন মূল্যমানধারী বস্তুর ক্ষেত্রে মূল্যের বিবেচনা করে, যেমন কাঠ ও ঘাস এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বস্তু বিদ্যমান জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সদৃশ বস্তুর বিবেচনা করে, যেমন পাত্রের পরিমাপে পানি এবং ওজন করে খনিজ দ্রব্য, আর উভয়ের মালিকানার হার তো জানা রয়েছেই, তাহলে বস্তুর মূল্য উভয়ের মাঝে উল্লিখিত হারে বণ্টন হবে। আর যদি আনুপাতিক হার মনে না থাকে, তাহলে অর্ধেক মূল্যের ক্ষেত্রে উভয়ের দাবিকে সত্যায়ন করা হবে। কেননা এক্ষেত্রে দাবি বাহ্য অবস্থার বিপরীত নয়। যেহেতু তারা দুইজন একইসাথে তা অর্জন করেছে এবং তাতে তাদের কর্তৃত্ব বহাল রয়েছে। সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থা এটাই যে, বস্তুর মালিকানায় তারা সমপর্যায়ের। বস্তুর অর্ধেকের বেশি অংশে এক শরীকের দাবি প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা হবে না, যেহেতু এক্ষেত্রে তার দাবি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত।

যদি এক শরীক মুবাহ বস্তু গ্রহণ করে, আর অপরজন তাকে এ পরিমাণ সাহায্য করে, যা গ্রহণ বলে বিবেচিত নয়, সে সাহায্য কাজ হোক বা অন্যকিছু, যেমন একজন বস্তুটি উপড়ে তুলে দিল আর অপরজন বস্তু জমা করেছে অথবা একজন বস্তুটি উপড়ে তুলল, জমা করল ও বাঁধল, আর অপরজন তা বহন করল। অথবা একজন পানি সংগ্রহ করল আর অপরজন পানি বহন করার জন্য মশক, পাত্র, গাধা বা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে এলো- এ সকল অবস্থায় যে বস্তুটি নেবে তারই মালিকানাধীন হবে। আর যে সাহায্য করেছে তাকে এই ব্যক্তি আমাদের উল্লিখিত মতানুসারে তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক অথবা তার অনুরূপ যন্ত্রের পারিশ্রমিক, সে পারিশ্রমিক যত হোক না কেন, দেওয়া আবশ্যক হবে।। এর কারণ, প্রথম ব্যক্তি ফাসিদ চুক্তি দিয়ে তার উপকার উসুল করেছে। (তাই এক্ষেত্রে ফাসিদ শারিকার বিধানাবলি প্রয়োগ হবে।) ২২২

মালেকী ও শাফেয়ীগণ এককভাবে একজনের শ্রমদানের ক্ষেত্রে হানাফীদের সাথে অভিন্ন মতপোষণ করেন। তবে উভয় শরীকের পক্ষ থেকে কাজটি হলে তারা তিনটি অবস্থায় ভাগ করেন : ১. উভয়ের কাজ পরস্পর ভিন্ন হওয়া। তখন প্রত্যেকে নিজ উপার্জন লাভ করবে; ২. উভয় কাজ মিশ্রিত হওয়া। তবে এভাবে মিশ্রিত হওয়া যে, একের কাজ অপরের দিকে সম্বন্ধ হয়ে বিভ্রাট হবে না। সেক্ষেত্রে উপার্জন উলিস্নখিত অনুপাতে বণ্টিত হবে; ৩. কাজ দুটি এমনভাবে মিশে যাওয়া যে, দুটির সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে তারা হানাফীদের সাথে ভিন্নমত করেন। এ অবস্থায় তাদের মতে দুটি সম্ভাব্য অবস্থা রয়েছে। প্রথম সম্ভাবনা : উভয়ে সমান উপার্জন ভোগ করা। কেননা এটি মূল অবস্থা; মালেকীদের বাহ্যিক বক্তব্য এটিই। দ্বিতীয় সম্ভাবনা : উভয়কে আপোষ রফার জন্য ছেড়ে দেওয়া। এখানে একটি ভিন্নমতের ক্ষেত্র রয়েছে।

মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের জন্য শারিকা চুক্তির আওতায় এক শরীক এককভাবে যে মুবাহ বিষয়াদি অর্জন করে সে বিষয়গুলো তার ও অপর শরীকের মাঝে বণ্টিত হবে, যতক্ষণ ধরে নেওয়া হবে যে, উভয়ের মাঝে বণ্টনের নিয়তে সে বস্তুটি তারা অর্জন করেছে। কারণ মুবাহ বস্তু অর্জনে স্থলবর্তী বানানো সহীহ। এটি মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের মত। ২২৩

হাম্বলীদের মতে, উভয় শরীকের কাজ করার অবস্থায় লাভ উভয়ের মাঝে সমানহারে বণ্টিত হবে। কেননা লাভের হকদার হওয়ার কারণ হচ্ছে শ্রমদান যৌথ। এরপর প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার জন্য করা নিজ শ্রমের পারিশ্রমিক উসুল করবে। অর্থাৎ দুইজনের চুক্তি হলে প্রত্যেকে নিজ কাজের পারিশ্রমিকের অর্ধেক, আর তিনজনের চুক্তি হলে তার কাজের পারিশ্রমিকের এক তৃতীয়াংশ, এবং চারজনের চুক্তি হলে কাজের পারিশ্রমিকের এক চতুর্থাংশ, এভাবে যতজনের চুক্তি তত অংশ হিসেবে নিজ পারিশ্রমিকের অংশ উসুল করবে। তবে হাম্বলী ফকীহ আবু জাফর রহ. শারিকাতুল আমওয়াল-এর ক্ষেত্রে সহীহ শারিকা ও ফাসিদ শারিকা-র লাভ বণ্টনে সমতাবিধানের মত দেন। সুতরাং উভয় শরীক যদি শর্ত করে তাহলে লাভ উভয়ের শর্ত হিসেবে বণ্টিত হবে।

কেননা (লাভের পরিমাণ) অজানা থাকা সত্ত্বেও শারিকা চুক্তি সহীহ। সুতরাং ফাসিদ শারিকায় নির্ধারিত লাভ সাব্যস্ত হবে, যেমন নিকাহ ফাসিদ হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত মহর সাব্যস্ত হয়। ২২৪

মালেকী ও শাফেয়ীদের মতে শারিকাতুল ওজুহ পুঁজিশূন্য ফাসিদ শারিকার শ্রেণীভুক্ত। তাদের মতে এই শারিকার তিনটি অবস্থা রয়েছে :

প্রথম অবস্থা : দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এই মর্মে এক হলো যে, একজন নিজ দায়ে আবশ্যক ঋণের বিনিময়ে যা কিনবে অপরজন সে বস্তুতে তার শরীক হবে। আর লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে। কতক মালেকী ফকীহ এটিকে শারিকাতুয যিমাম (شركة الذمم) নামে পৃথক করেন। ২২৫

শাফেয়ীদের মতে এক্ষেত্রে প্রত্যেক শরীক যা কিনবে তা এককভাবে তার জন্য হবে। এর লাভ ক্ষতি উভয়টি সে ভোগ করবে। ২২৬ এর অর্থ হলো, উভয়ে একসাথে যা কিনবে শুধু তা চুক্তিতে কৃত শর্তানুযায়ী উভয়ের যৌথ মালিকানাধীন হবে।

কিন্তু মালেকীগণ বলেন, শারিকা ফাসিদ হওয়া সত্ত্বেও তারা যে বস্তু একসাথে কিনবে আর যে বস্তু একজন কিনবে, উভয়টি তাদের নির্ধারণকৃত শর্ত অনুযায়ী যৌথ মালিকানাধীন হবে। ২২৭

লক্ষণীয়, উল্লিখিত অবস্থায় মালেকী ও শাফেয়ীগণ উভয়ে কেনার ক্ষেত্রে একে অপরকে ওকীল না বানানোর ভিত্তিতে আলোচনা করেছেন। যদি একে অপরকে ওকীল বানানো হয়ে থাকে, তাহলে মুতাআখখির শাফেয়ী ফকীহদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, এই শারিকা যথার্থ শারিকাতুল আনান হবে; পুঁজির পরিমাণ না জানা থাকলে উভয়ের মাঝে লাভের হার উল্লেখ করার শর্তে। এমন হলে যে শরীক কেনার দায়িত্বমুক্ত, এককভাবে তার ওপর আবশ্যক মূল্য তার দেনা হিসেবে থাকবে। ২২৮

নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে উভয়ের শারিকানার জন্য নির্দিষ্ট বস্তু কেনার অনুমতি দেওয়া বা ওকীল বানানো সহীহ। সকলের মতে এটি যৌথ মালিকানা অপরিহার্য করে, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। যেমন যদি তারা উভয়ে নিজের ওপর আবশ্যক ঋণের বিনিময়ে একসাথে সে বস্তু কিনতো তাহলে যেমন যৌথ মালিকানা সাব্যস্ত হতো অনুরূপ এক্ষেত্রে যৌথ মালিকানা সাব্যস্ত হবে।

মালেকীগণ ও কতক শাফেয়ী ফকীহ বলেন, বিক্রেতা প্রত্যেক শরীকের কাছে শুধু তার অংশের মূল্য দাবি করবে, যদি এক শরীকের পক্ষে অপর শরীকের যামানের শর্ত না করা হয়। শাফেয়ীদের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে ওকীল এক্ষেত্রে কাফীলের স্থলবর্তী। ২২৯

দ্বিতীয় অবস্থা : একজন প্রখ্যাত ও একজন অখ্যাত ব্যক্তি শারিকা চুক্তিবদ্ধ হলো এই মর্মে যে, প্রখ্যাত ব্যক্তি কিনবে আর অখ্যাত ব্যক্তি বিক্রি করবে। এই শারিকায় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি যা কিনবে তা এককভাবে তার মালিকানাধীন হবে। আর অখ্যাত ব্যক্তি হবে ফাসিদ জিআলা (পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করা)-র শ্রমদাতার ন্যায়, যেহেতু শ্রমের বিনিময় অজ্ঞাত। তাই সে প্রখ্যাত ব্যক্তির নিকট তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিকের হকদার হবে। যেমনটা শাফেয়ীদের স্থিরীকৃত মত। ২৩০

মালেকীদের বক্তব্যে প্রথম অবস্থা থেকে এ অবস্থার বিধানে কোনো পরিবর্তন নেই। তবে স্পষ্টভাবে তারা উল্লেখ করেছেন, প্রত্যেক শরীক অপরের পক্ষ থেকে কৃত শ্রমের পারিশ্রমিক আদায় করবে। এ মতে তাদের কতক ভিন্নমত করেছেন এবং এই শারিকা সহীহ হওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছেন।

তৃতীয় অবস্থা : অখ্যাত ব্যক্তির সম্পদে প্রখ্যাত ব্যক্তি শ্রমদান করবে, অখ্যাত ব্যক্তি সম্পদ তার কাছে অর্পণ করা ছাড়াই। অথবা (এভাবে বলা যায়) প্রখ্যাত ব্যক্তির দায়িত্ব শুধু অখ্যাত ব্যক্তির সম্পদ বিক্রি করা, যদিও সে তার কাছে সম্পদ অর্পণ করে।

শাফেয়ীগণ উল্লেখ করেছেন, এই শারিকা উভয় অবস্থাতেই ফাসিদ মুদারাবা হবে। হয়তো পুঁজি নগদ না হওয়ার কারণে অথবা পুঁজি মুদারাবার শ্রমিকের হাতে অর্পণ না করার কারণে। তাই মুদারাবার শ্রমিকের প্রাপ্য হবে শুধু তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক, অন্যকিছু নয়। ২৩১

মালেকীগণ প্রথম অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেননি। দ্বিতীয় অবস্থায় তারা শাফেয়ীদের সাথে একমত, শ্রমিক তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক পাবে। তারা এটিকে জুঅল (جعل) নামে অভিহিত করেছেন। তারা যোগ করেছেন, প্রতারণা থাকায় ক্রেতার ইচ্ছাধিকার থাকবে, যদি পণ্য অবশিষ্ট থাকে। অন্যথায় তার অধিকার রয়েছে পণ্যের বাজারমূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটি গ্রহণ করার। ২৩২

তৃতীয় : যে শারিকার পুঁজি হবে এক শরীকের পক্ষ থেকে, আর যে কোনো কারণে শারিকা ফাসিদ হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে কর্তৃত্ব থাকবে পুঁজিদাতা শরীকের আর অপর শরীক পাবে তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। এটি হানাফীদের মত কেননা কর্তৃত্ব মালিকানার বর্ধিত ফল। যেমন অনুরূপ মত তারা দিয়েছেন ফাসিদ মুযারাআ চুক্তিতে, সেক্ষেত্রে ফসল বীজদাতার জন্য হবে।

কিছু ঘর, ঘোড়ার গাড়ি বা কিছু গবাদিপশুর মালিক কোনো ব্যক্তি যদি অপরকে ভাড়ায় খাটানোর জন্য সেগুলো দেয় এই শর্তে যে, ভাড়া উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে, তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তি পাবে শুধু তার অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে মালিকের।

যেমন যদি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে ইচ্ছুক কোনো ব্যক্তির ঘোড়ার গাড়ি বা গবাদিপশুর প্রয়োজন হয়, যেটি তার পণ্য স্থানান্তর করবে, সেক্ষেত্রে ঘোড়ার গাড়ি বা পশুর মালিক যদি স্রেফ এই শর্তে বাহন দিতে রাজি হয় যে, অর্ধেক লাভ সে পাবে তাহলে এই শর্ত বাতিল হবে আর শারিকা-চুক্তি ফাসিদ হবে। সমুদয় লাভ পাবে পণ্য মালিক। কেননা লাভ তার মালিকানা বস্তুর বর্ধিত ফল। ঘোড়ার গাড়ি বা পশুর মালিক পাবে শুধু অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক। যেহেতু সে ফাসিদ চুক্তিতে এর মুনাফা উসুল করেছে। ২৩৩

হানাফী ছাড়া অন্যদের মত, অনুরূপ লাভ হবে পুঁজির অনুগামী। ২৩৪ এ কারণে শাফেয়ীগণ বলেন, যদি তিনজন যৌথচুক্তিতে আবদ্ধ হয়, একজন সম্পদ দিয়ে, অন্যজন এই সম্পদ দিয়ে পণ্য কেনার মাধ্যমে আর তৃতীয়জন এই পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে, এই শর্তে যে, লাভ বণ্টন হবে তাদের মাঝে; তাহলে লাভ পাবে সম্পদের মালিক। অন্য দুই শরীক পাবে শুধু নিজ শ্রমের প্রচলিত পারিশ্রমিক। ২৩৫

চতুর্থ : ফকীহদের ঐকমত্যে যদি উভয় শরীকের পক্ষ থেকে পুঁজি দেওয়া হয় তাহলে এই পুঁজির ক্ষেত্রে প্রদত্ত অংশ অনুযায়ী উভয়ের কর্তৃত্ব থাকবে। যেমন শারিকাতুল আমওয়াল-এ লাভের ক্ষেত্রে উভয় শরীকের প্রত্যেকের অংশ যদি অজানা থাকে (তাহলে পুঁজিতে প্রদেয় পরিমাণ অনুসারে লাভ বণ্টিত হয়।) যেমন এক ব্যক্তির মালবাহী গাড়ি আছে, আর অপরের আছে আরোহণের গাড়ি। এরপর তারা শারিকা চুক্তিবদ্ধ হলো যে, প্রত্যেকে নিজের ও অপরের মালিকানার অংশ ভাড়া দেবে আর অর্জিত লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে সমানহারে অথবা নির্দিষ্ট অনুপাতে, তাহলে এই শারিকা ফাসিদ হবে। কারণ এই শারিকার সারকথা হলো, প্রত্যেক শরীক অপরকে বলল, তুমি তোমার মালিকানাধীন ঐ বস্তুর মুনাফা এবং আমার মালিকানাধীন এই বস্তুর মুনাফা বিক্রি করো এই শর্তে যে, এটি ও ঐটির মূল্য আমাদের মাঝে এত হারে বণ্টন হবে। এমন চুক্তি তো স্রেফ কোনো শ্রম বা সামান ছাড়া অন্যের সম্পদ দ্বারা লাভ অর্জন করা মাত্র। অথচ পুঁজি, শ্রম বা সামান ছাড়া লাভ অর্জন করা যায় না।

তবে এই ফাসিদ শারিকাকে যদি বাস্তবায়নের অর্থে গ্রহণ করা হয়, উভয়ে যদি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া দেয়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ মালিকানা বস্তুর ভাড়া পাবে। আর যদি এক চুক্তির অধীনে প্রত্যেকে নিজ নিজ গাড়ি ভাড়া দেয় নির্দিষ্ট শ্রমক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, তাহলে এটি হবে সঠিক ইজারা চুক্তি। অর্জিত লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে, প্রত্যেকের মালিকানাধীন বস্তুর অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে। যেভাবে পৃথক দুটি বিক্রিত বস্তুর ক্ষেত্রে বাজারদর হিসেবে মূল্য ভাগ করা হয় সেভাবে। ২৩৬ লাভ উভয়ের শর্ত অনুযায়ী বণ্টিত হবে না। এর কারণ, ফাসিদ শারিকার অন্তর্নিহিত শর্ত অর্থহীন শর্ত, এই শর্তের কোনো বিবেচনা করা হবে না। ২৩৭

এই বিধান যেটিকে এই প্রকার শারিকা (অর্থাৎ যেখানে পুঁজি উভয় শরীকের হয়) ব্যাপক মূলনীতিরূপে গ্রহণ করেছে তা অধিকাংশ আহলে ইলমের মত। এ বিধানে ঐকমত্য পোষণ করেছেন মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ। তারা বলেন, প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের পক্ষ থেকে কৃত শ্রমের অনুরূপ পারিশ্রমিক উসুল করবে। তবে যদি কোনো শরীক স্বেচ্ছাদান হিসেবে শ্রমদান করে তাহলে সে উসুল করবে না।

তবে মালেকীগণ মুযারাআ সংক্রান্ত তাদের আহরিত মৌলনীতিতে অটল। যেমনটা আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি। তারা সে মূলনীতির ক্ষেত্র এলেই সে নীতি অনুসারে মত দিয়েছেন। এজন্যই তাদেরকে বলতে পাই, যদি তিনজন লোক শারিকা চুক্তিবদ্ধ হয় : একজন বাড়ি দিয়ে, অন্যজন গবাদিপশু দিয়ে, আর অন্যজন চাকরি দিয়ে এই শর্তে যে, পেষণের কাজ নির্দিষ্ট একজন করবে, আর সে যেন হয় পশুর মালিক, তাহলে এককভাবে যে শ্রমদান করবে সে পাবে পূর্ণ লাভ। অন্যদের প্রদত্ত বিষয়াদি অনুসারে সেগুলোর যথাযথ ভাড়া প্রদান করা আবশ্যক হবে এই শ্রমদানকারীর ওপর। ২৩৮ সম্ভবত তাদের ছাড়া এই মত অন্য কারোর নেই। অনুরূপ মত মালবাহী গাড়ী ও আরোহণের গাড়ির উল্লিখিত মাসআলায়, যদি এককভাবে এক শরীক শ্রমদান করে।

উল্লিখিত ব্যাপক মূলবিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে কখনো কখনো মতভিন্নতা হতে পারে। হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, যেমন ইবনে কুদামা রহ. উল্লেখ করেছেন দুই পশুর মাসআলায়, দুই শরীক যদি নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট বস্তুর বাহনকে নিজ দায়ে গ্রহণ করে। এরপর তারা বাহন দুটিতে বা অন্য বাহনে বহন করে তাহলে এটি সহীহ শারিকা হবে। আর পারিশ্রমিক বষ্টিত হবে উভয়ের শর্ত অনুযায়ী। ২৩৯

তবে হানাফীদের মূলনীতি এ মতের সমর্থন করে না। এর কারণ, তাদের মতে চুক্তি সহীহ হওয়ার জন্য উভয় শরীকের যৌথ কবুল করা আবশ্যক; এই কবুল করা ইবনে কুদামা রহ.-এর উল্লিখিত কবুল করার পূর্বে। ২৪০ ইবনে কুদামা পুনরায় আলোচনা করেছেন। তিনি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শারিকা চুক্তি সহীহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এমনকি সে অবস্থাতেও সহীহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যখন উভয় শরীক নিজ নিজ বাহন ভাড়া দেয়। তাদের মতে মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা সহীহ হওয়ার সাথে তুলনা করে। ২৪১

টিকাঃ
২২১. ‘বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬; কাওয়াঈদ ইবনে রজব, পৃ. ৬৫
২২২. ‘ফাতহুল কাদীর আল-ঈনায়া, খ. ৫, পৃ. ৩২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬০-৩৬১
২২৩. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২; আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১
২২৪. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫১১
২২৫. 'আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২২৬. 'মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২২৭. 'হাওয়াশীত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১১; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯
২২৮. 'আল বাজীরামী আলাল মানহাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০
২২৯. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৩১
২৩০. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩
২৩১. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪-৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২৩২. 'হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২৩৩. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৩৪. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৮৪
২৩৫. 'আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩
২৩৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২৩৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৭; আল-খিরশী, খ. ৪, পৃ. ২৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২৩৮. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১
২৩৯. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২৪০. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২৪১. 'আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


ফাসিদ শারিকায় বিক্রেতা এক শরীকের কাছে যা বিক্রি করেছে তার মূল্য কিভাবে দাবি করবে, যদি এক শরীক অনুপস্থিত থাকে আর অপর শরীক উপস্থিত থাকে?

মালেকীগণ বলেন, এর তিনটি অবস্থা রয়েছে :
প্রথম অবস্থা : ফাসিদ শারিকার বিষয়টি বিক্রেতার জানা রয়েছে। তখন সে উপস্থিত শরীকের নিকট শুধু তার অংশের মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার পাবে।

দ্বিতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা চুক্তি সম্পর্কে জানে, তবে শারিকা যে ফাসিদ তা জানে না। তখন বিক্রেতা উপস্থিত শরীকের কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করার অধিকার রাখে, যদিও এমন হতে পারে যে, এই শরীক তার নিকট থেকে পণ্য কিনেনি।

তৃতীয় অবস্থা : বিক্রেতা তাদের শারিকা সম্পর্কেই জানে না। এ অবস্থায় উপস্থিত শরীক খোদ যদি তার নিকট থেকে পণ্য কিনে থাকে তাহলে তার কাছে সমুদয় মূল্য আদায়ের দাবি করবে। কেননা বিক্রেতা তার সাথে এ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি যে, সে অর্ধেক মূল্যের ক্ষেত্রে অন্যের উকিল। (আর বাকি অর্ধেকে সে মূল ব্যক্তি, সুতরাং বিক্রেতা তার কাছে পূর্ণ মূল্য দাবি করবে মূল ব্যক্তি হিসেবেই।) আর যদি উপস্থিত শরীক তার কাছ থেকে না কিনে থাকে, তাহলে বিক্রেতা এই শরীককে শুধু মূল্যে থাকা তার অংশ আদায়ের দাবি জানাবে। কেননা উপস্থিত শরীক তো শুধু সেই আংশিক মূল্যের পরিবর্ত পণ্যের মালিক।

এ মাসআলা এভাবেই তারা উল্লেখ করেছেন লাখামীর সূত্রে। তবে খিরাশী যা উল্লেখ করেছেন তাতে মতভিন্নতা রয়েছে। ইচ্ছে হলে দেখে নিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00