📄 শারিকাতুল আনান-এর শরীকের জন্য তার শরীক ছাড়া অন্য কারো সাথে শারিকা চুক্তি সম্পাদন করা
শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীকের জন্য তার শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শারিকা : মুফাওয়াযা বা আনান-এ চুক্তিবদ্ধ হওয়া জায়েয নেই। এর কারণ, বস্তু নিজের অনুরূপ বস্তুকে অনুগামী করতে পারে না। তাহলে তার ঊর্ধ্ব বিষয়কে কীভাবে অনুগামী করবে? তবে যদিও সে শারিকায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অধিকার রাখে না তবে সে ওকীল নিয়োগের অধিকার রাখে। সুতরাং যদি সে শারিকা চুক্তি করে তাহলে শারিকা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে শারিকা চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে তাতে অন্তর্ভুক্ত ওকালাত বাতিল হওয়া আবশ্যক নয়। এর কারণ, অংশ বিষয় বাতিল হওয়ার কারণে পুরো বিষয় বাতিল হওয়া আবশ্যক নয়। এটি হানাফীদের মত। ১৯৪
অন্যান্য শরীকের অনুমতি ছাড়া শ্রমদানের জন্য শারিকার পুঁজি তৃতীয় ব্যক্তিকে দেওয়া শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের মতে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। যদিও বিনিময় ছাড়া শারিকার সেবাদানের উদ্দেশ্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে দেয়া হোক না কেন। (বিনিময় ছাড়া সেবাদানের নাম হলো ইবযা)। এর কারণ, শারিকা চুক্তিতে শরীকদের অনুমোদন শুধু শরীকের কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপে সীমিত; অন্য কারো কর্তৃত্বে ও হস্তক্ষেপে শরীকদের অনুমোদন নেই। ১৮৫ তাই এ মাসআলাটির বিধান কোনো শরীকের শারিকা চুক্তি থেকে সরে গিয়ে অন্যকে তার স্থলবর্তী করার অনুরূপ বিধান। (এক্ষেত্রে অন্যান্য শরীকের অনুমোদন যেমন আবশ্যক, তেমন অন্যকে শ্রমদানের জন্য শারিকার পুঁজি প্রদানে শরীকদের অনুমোদন আবশ্যক।)
টিকাঃ
১৯৪. তারা এমনটি বলেছেন। এর কারণ হিসেবে যা মনে হয় তা হলো, শরীক তার হাতে থাকা নিজ সম্পদ ও শারিকার সম্পদের অর্ধেকের ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তি আর বাকি অর্ধেককে সে উওকীল। কিতাবগুলোর ভাষ্য এ ব্যাপারে প্রায় পার্থক্যমুক্ত। তবে স্পষ্টকরণে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। দ্রষ্টব্য: বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৯; আল-ফাতাওয়া আল- হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩২২
১৮৫. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩২; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৬
📄 আনান ও ওজূহ-এর বিধান
এই দুটি শারিকা মুফাওয়াযা বা আনান-এর আওতাধীন হবে। সুতরাং শারিকাতুল মুফাওয়াযার শ্রেণীভুক্ত হলে পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার বিধান প্রয়োগ হবে। আর শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হলে পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর বিধান প্রয়োগ হবে। যদি এ দুটির কোনোটির শ্রেণীভুক্ত হওয়া থেকে শর্তমুক্ত হয় তাহলে শারিকাটি হবে শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত। কেননা শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হওয়া সর্বদার মৌলনীতি। ১৯৬
তবে শারিকাতুল আমাল শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হলে তা সর্বদা দুটি মাসআলায় শারিকাতুল মুফাওয়াযার বিধান গ্রহণ করে।
প্রথম মাসআলা : এক শরীকের কাজ গ্রহণ উভয়ের জন্য দায় আবশ্যক করে। তারা উভয়ে এক ব্যক্তি হলে যে বিধান হতো সে বিধানের অনুরূপ বিধান হবে। যদিও তা তাদের একজনের জন্য নিজে শ্রমদান আবশ্যক করে না, যতক্ষণ না কাজের অর্ডারদাতা নিজে শ্রমদানের শর্ত করে। এই শর্ত করা ছাড়া কাজ গ্রহণকারী শরীক শ্রমদান করা বা তার শরীকের শ্রমদান করা অথবা তাতে তৃতীয় কারো শ্রমদান করা সমান। যেমন তারা দুজন কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মজদুর নিয়োগ করল, যে গ্রহণকৃত কাজ আঞ্জামে সক্ষম। কেননা এক্ষেত্রে নিঃশর্ত কাজ আঞ্জাম দেওয়াই হলো চুক্তির বিষয়। ১৯৭
তবে কাজের অর্ডারদাতার পক্ষ থেকে শর্ত করা হলে শ্রমদান হবে শর্তের অনুগামী। তবে উভয়ের জন্য দায়বদ্ধতা আবশ্যক হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে মাসআলা পূর্বাবস্থায় বহাল থাকবে। যে শরীকের কাছে কাজে শ্রমদানের দাবি করা হয়নি এই শর্ত তাকে দায়বদ্ধতার বিধান থেকে মুক্ত করবে না। তবে হ্যাঁ, এই শর্ত শারিকা অব্যাহত থাকার সময় তার অধিকার আদায়ের দাবি করা শর্তমুক্ত করে- যদি এই শরীক কাজ গ্রহণকারী না হয়। তবে কাজগ্রহণে যদি এই শর্ত না থাকে, তাহলে শারিকা সমাপ্তির পরও দায়বদ্ধতা অব্যাহত থাকবে।
এই মূলনীতির আলোকে আহরিত মাসআলা হলো :
১. কাজের নির্দেশদাতার অধিকার রয়েছে যে শরীককে ইচ্ছা তার কাছে পূর্ণ কাজের তাগাদা করার;
২. নির্দেশদাতার কাছে পূর্ণ পারিশ্রমিক আদায়ের অধিকার রয়েছে যে কোনো শরীকের;
৩. ইচ্ছামত যে-কোনো শরীককে পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদানের মাধ্যমে নির্দেশদাতার দায়মুক্তি। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের মত। ১৯৮
দ্বিতীয় মাসআলা : কোনো শরীকের কারণে দুই শরীকের শ্রমদানের বস্তুটি যদি দোষযুক্ত হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার ক্ষতিপূরণ উভয়ের ওপর আবশ্যক হবে। কাজের নির্দেশদাতা এই ক্ষতিপূরণ যে-কোনো শরীকের কাছ থেকে দাবি করার অধিকার রাখে। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের মত। ১৯৯
হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, কোনো শরীকের ব্যবহারে অবহেলা হওয়ার সাথে যৌথ ক্ষতিপূরণ ঝুলন্ত। যদি কারো ব্যবহারে অবহেলাহেতু পণ্যটি দোষযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এককভাবে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক হবে। ২০০
হানাফীদের মতে, শারিকাতুল আনান শ্রেণীভুক্ত এ দুই মাসআলা ছাড়া শারিকাতুল আমাল অন্যান্য ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর মতোই। এ জন্যই তারা শারিকাতুল আমালের শ্রেণীভিন্নতার অর্থাৎ মুফাওয়াযা ও আনান ভিত্তিতে শরীকের স্বীকারোক্তির বিধান ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেন। সুতরাং শারিকাতুল আমাল-এর কোনো শরীক অতীত সময়ের সাথে যুক্ত করে কোনো ব্যবহৃত বস্তুর মূল্য যেমন সাবান, পরিষ্কারক দ্রব্য বা অন্যজাতীয় দ্রব্যের মূল্য অথবা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বা দোকানভাড়া সংক্রান্ত কোনো ঋণের স্বীকারোক্তি করে, আর তার শরীক তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাহলে অপর শরীকের বিপরীতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদি এটি শারিকাতুল মুফাওয়াযার শ্রেণীভুক্ত হয়। আর প্রমাণ ছাড়া তাকে সত্যায়িত করা হবে না, যদি এটি শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হয়। এর কারণ, স্বীকারকারীর জন্য তার দেওয়া স্বীকারোক্তি আবশ্যক। আর অপর শরীকের জন্য তার স্বীকারোক্তি আবশ্যক নয়, তবে যদি সে অপর শরীকের কাফীল হয় তাহলে ভিন্ন কথা। আর শারিকাতুল মুফাওয়াযায় শরীকের অবস্থা এমনই অর্থাৎ প্রত্যেকে অপর শরীকের কাফীল। আর শারিকাতুল আনান কাফালাতের শর্তমুক্ত হলে তা কাফালাতমুক্ত হয়। তবে বিক্রিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আগে বা ইজারার সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে ঋণের স্বীকারোক্তি দায় নিঃশর্তভাবে শারিকার ওপর আবশ্যক হবে। এক্ষেত্রে মুফাওয়াযা ও আনানের কোনো পার্থক্য নেই।
অনুরূপ দুই শরীকের শ্রমদানের বস্তু; যেমন কাপড়ের কোনো অংশ কোনো দাবিদার দাবি করল, তাতে এক শরীক তার মালিকানা স্বীকার করে আর অপরজন অস্বীকার করে, তাহলে মুফাওয়াযা ছাড়া অন্য শারিকায় স্বীকারকারীকে তার শরীকের বিপক্ষে সত্যায়ন করা হবে না। তবে এক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ভিন্নমত পোষণ করেন। এ মাসআলায় তিনি সাধারণ যুক্তি ছেড়ে সূক্ষ্ম যুক্তি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, শারিকাতুল আনানেও স্বীকারকারী শরীকের স্বীকারোক্তির দায় শারিকার ওপর আবশ্যক হবে; শ্রমদানের ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনানকে শারিকাতুল মুফাওয়াযার সাথে যুক্ত করার বিবেচনায়। যেমন যৌথ দায়বদ্ধতা ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনানকে শারিকাতুল মুফাওয়াযা-র সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ২০১
মালেকীদের মতে, শারিকাতুল আমালের ক্ষেত্রে উভয় শরীক এক ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত। ২০২ এই ব্যাপক মূল বিধানের দাবি হলো প্রত্যেক শরীকের স্বীকারোক্তি গৃহীত হওয়া এবং নিঃশর্তভাবে উভয়ের ওপর তা প্রয়োগ হওয়া। এক্ষেত্রে মুফাওয়াযা ও আনানে কোনো পার্থক্য হবে না। এবং নগদ ও ঋণজাতীয় বস্তুতেও পার্থক্য হবে না।
হাম্বলীদের মতে, এক শরীকের স্বীকারোক্তি উভয়ের ওপর প্রয়োগ হবে, যদি তার কর্তৃত্বে থাকা বস্তু সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি হয়ে থাকে। কেননা এখানে তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর যদি কর্তৃত্বে অবর্তমান বস্তু সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি হয় তাহলে স্বীকারোক্তি কার্যকর হবে না, যেহেতু এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব অনুপস্থিত। ২০৩
টিকাঃ
১৯৬. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২; আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১
১৯৭. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫১১
১৯৮. আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
১৯৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২০০. হাওয়াশীত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১১; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯
২০১. 'আল বাজীরামী আলাল মানহাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০
২০২. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৩১
২০৩. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩
📄 শারিকাতুল আমাল-এর উভয় শরীকের মাঝে উপার্জন বণ্টন এবং উভয়ের ক্ষতি বহন করা
হানাফী, হাম্বলী ও কতক মালেকী ফকীহের মতে, শারিকাতুল আমাল শারিকাতুল আনানভুক্ত হলে তা থেকে লব্ধ উপাজর্ন উভয় শরীকের মাঝে শর্তকৃত হারে বণ্টিত হবে। এক্ষেত্রে উভয় শরীকের জন্য শর্তের সমন্বয় বা শ্রমদানের শর্তের সাথে এই শর্তের অসমন্বয়কে বিবেচনা করা হবে না। এ বিধানের কারণ ও শারিকাতুল ওজুহ-এ লাভ বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বিধানের বিপরীত হওয়ার কারণ ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
এটি একটি মৌলিক নীতি। উভয় শরীক শ্রমদান করম্নক বা এক শরীক, শ্রমদানে অনিচ্ছুক শরীক কোনো ওজরের কারণে; যেমন সফর বা অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে; যেমন অলসতা ও অহংকারের কারণে শ্রমদানে বিরত থাকুক না কেন এই মৌলনীতি কার্যকর। কেননা শ্রমদাতা শরীক অপর শরীকের সাহায্যকারী, আর শর্তকৃত বিষয় হলো নিঃশর্ত শ্রমদান। এ কারণে শ্রমদানের জন্য মজদুর নিয়োগ করা, এমনকি বিনামূল্যে সহযোগিতা নিতে কোনো বাধা নেই। ২০৪
যদি উভয় শরীক নির্দিষ্ট অংশ অনুপাতে শর্তকৃত শ্রমদানে উদ্যোগী না হয়, তাহলে শ্রমদান আবশ্যক হবে উভয়ের শর্তকৃত লাভ অনুপাতে। কেননা লাভ অনুপাতে শ্রম বণ্টনই মূল নীতি। সুতরাং স্পষ্ট বক্তব্য ছাড়া এর অন্যথা করা যাবে না।
শারিকাতুল আমাল-এর ক্ষতি কাজের দায় অনুপাতেই বণ্টিত হবে। কাজের দায় বলে উদ্দেশ্য প্রত্যেক শরীকের জন্য যে পরিমাণ কাজ করার শর্ত করা হয়েছে তার পরিমাণ হিসাব। শারিকাতুল আমওয়ালে যেমন পুঁজির পরিমাণ হিসেবে ক্ষতি বহন করা লাগে, তেমনি শারিকাতুল আমাল-এর শর্তকৃত কাজের পরিমাণ হিসেবে ক্ষতি বহন করা আবশ্যক, যেহেতু কাজের দায়বদ্ধতা এই শারিকায় পুঁজির স্থলবর্তী। এ কারণে যদি উভয়ে শর্ত করে এক শরীকের ওপর দুই তৃতীয়াংশ কাজের দায় আর অপরের জন্য এক তৃতীয়াংশ, আর ক্ষতি উভয়ে অর্ধেক হারে বহন করবে, তাহলে ক্ষতিবহন সংক্রান্ত শর্ত বাতিল হবে। এবং ক্ষতি উভয়ের শর্তকৃত কাজের দায় অনুপাতে বহন করা আবশ্যক হবে। ২০৫ হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, (কাজ ও দায়বদ্ধতা) নিঃশর্ত রাখা হলে তা কাজ ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে সমানহারে বণ্টনের অর্থে গ্রহণ করা হবে। যেমন জিআলার (পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মজদুর নিয়োগ শর্তমুক্ত হলে) বিধান, যেহেতু এক্ষেত্রে (কারো অংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে) অগ্রাধিকার প্রদানমূলক কোনো দলিল মজুদ নেই। ২০৬
অধিকাংশ মালেকী ফকীহের মতে, শারিকাতুল আমাল-এর উভয় শরীকের কাজ অনুপাতে লাভ বণ্টন আবশ্যক। এতে সামান্য ব্যবধানের বেশি করা যাবে না। এটি শারিকা চুক্তি সম্পাদনকালের বিধান। চুক্তি সম্পাদনের পর কোনো শরীক স্বেচ্ছাশ্রম দিলে তাতে কোনো নিষেধ নেই, যদিও সে পুরো কাজ স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে করে। যদি উভয়ের কাজের হার ও লাভের হারে বিস্তর ব্যবধানের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদিত হয়, তাহলে এটি ফাসেদ চুক্তি হবে। আর প্রত্যেক শরীক অপরের পক্ষ থেকে কৃত কাজ অনুপাতে লাভ উসুল করবে। ২০৭
তবে মালেকীগণ বিধানগত এই কাজের কঠোরতার সাথে সাথে শারিকার কাজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে কোনো শরীক শ্রমদান করে যে লাভ পায় তা গ্রহণের ক্ষেত্রে উদার মত দেন। তারা উক্ত লাভ এই শরীকের একক বলে মত দেন। যেমন তারা শারিকাতুল আমওয়াল-এ উলিখিত ক্ষেত্রে এই মত দিয়েছেন। ২০৮
দ্রষ্টব্য : কাজের প্রকার এবং স্থান এক হওয়া হানাফীদের মতে শারিকাতুল আমাল সহীহ হওয়ার জন্যে শর্ত নয়। এটি হাম্বলীদের বিশুদ্ধ মত। তবে শারিকাতুল তাকাব্বুল বৈধ হওয়ার মত অনুযায়ী যুফার রহ.-এর মত উল্লিখিত মতের বিপরীত। উল্লিখিত মতের কারণ হচ্ছে, শারিকার উদ্দেশ্য অর্থাৎ লাভ অর্জন করা, কাজের প্রকার এক হওয়া ও অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অর্জিত হওয়া সম্ভব, যেমন সম্ভব কাজের স্থান এক হওয়া এবং একাধিক হওয়া সত্ত্বেও অর্জিত হওয়া। ২০৯
মালেকীগণ ও হাম্বলী ফকীহ আবুল খাত্তাবের মতে, কাজের প্রকার এক হওয়া শর্ত। তবে মালেকীগণ উভয় শরীকের কাজ পরস্পর আবশ্যকীয় হওয়া এবং একজনের কাজ অপরের কাজের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে এক জাতীয় হওয়া গণ্য করেন। যেমন সুতা তৈরি করা ও বুনন করা, স্বর্ণ ও রূপা ছাঁচে ঢালা এবং গয়না তৈরি করা। বরং কতক মালেকী ফকীহের মতে শিল্প বা কাজে উভয় শরীক সমান সুচারুরূপে করার যোগ্য হওয়া শর্ত। এমন কঠোর শর্তারোপের কারণ, এক শরীকের শ্রমঅর্জিত লাভ ও কষ্টের ফল ভক্ষণ থেকে অন্য শরীককে বাঁচানো। তবে ইবনে কুদামা রহ. তাদেরকে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, যদি এক শরীক বলে, আমি কাজ গ্রহণ করব আর তুমি কাজ করবে তাহলে উভয়ের কাজ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও শারিকা চুক্তি বৈধ হয়। ২১০
শ্রমদানের জায়গা এক হওয়ার শর্ত আল মুদাওয়ানা-য় বর্ণিত মালেকী মাযহাবের মত। তবে পরবর্তী মালেকী ফকীহগণ এর বিপরীত মতকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তারা আল মুদাওয়ানা-য় বর্ণিত মতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মতটি প্রযোজ্য সে ক্ষেত্রে যেখানে উভয়ের জায়গায় কাজের প্রচলন এক না হয়, যেন এক শরীক অপর শরীকের উপার্জন ভক্ষণ করা আবশ্যক না হয় অথবা মতটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যখন এক শরীকের জায়গার কাজটি অপর শরীকের জায়গার কাজ থেকে পৃথক হয়। অর্থাৎ শরীকদ্বয় তাদের গ্রহণকৃত কাজে একে অপরকে তার জায়গায় সহযোগিতা করতে পারে না অথবা মতটি প্রযোজ্য তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে একজনের কর্তৃত্বে গৃহীত কাজে অপর শরীকের কর্তৃত্ব সচল না হয় সেক্ষেত্রে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, উদ্দেশ্য যদি ব্যবসা হয় তাহলে পেশার প্রতি লক্ষ্য করা হবে না। ২১১
টিকাঃ
২০৪. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪-৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২০৫. 'হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১১; আল-বিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
২০৬. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২০৭. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৮৪
২০৮. 'আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩
২০৯. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২১০. বাদাইউস সানাইঈ, খ. ৬, পৃ. ৭৭; আল-বিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৫
২১১. 'আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৮; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২
📄 ফাসিদ শারিকা
الشركة الفَاسِدَةُ : যে শারিকায় শারিকা বৈধ হওয়ার সকল শর্ত পূর্ণ উপস্থিত থাকে না তা-ই হচ্ছে ফাসিদ শারিকা। যেমন ওকীল নিয়োগ করা বা ওকীল হওয়ার যোগ্যতা, চুক্তিক্ষেত্র, ওকালাত গ্রহণের যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে উভয় শরীকের মাঝে লাভ বণ্টিত হওয়া ইত্যাদি শর্ত না থাকা। ২১২
ফকীহগণ ফাসিদ শারিকার বিভিন্ন উদাহরণ দিয়েছেন। তন্মধ্যে উলেস্নখযোগ্য কয়েকটি :
প্রথম : সাধারণ মুবাহ বিষয়াদির অর্জনে শারিকা চুক্তি। যেমন কাঠ কাটা, ঘাস তোলা, শিকার করা, পানি সংগ্রহ করা, পাহাড়ী ফল পাড়া, বৈধ ভূমি থেকে পেট্রোল বা সৃষ্টিজাত খনিজ দ্রব্য; যেমন স্বর্ণ, লোহা, তামা অথবা অজ্ঞাত মালিকের প্রোথিত ভান্ডার উত্তোলন করা অথবা মালিকানাহীন মাটি দ্বারা কাঁচা বা পাকা ইট তৈরি করা ইত্যাদি বিষয়ের জন্য শারিকা চুক্তি করা। হানাফীদের মতে এই শারিকা ফাসিদ। কেননা শারিকা ওকালাতকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ শারিকার ক্ষেত্র ওকালাত গ্রহণের অনুপযুক্ত। কেননা মুবাহ বস্তুতে যার আগে কর্তৃত্ব হাসিল হয় সে তার মালিক হয়, তার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন। সুতরাং এ জাতীয় বস্তু একজন নিয়ে অন্যজনকে সে বস্তুতে ওকীল বানানো সম্ভব নয়। তবে যদি মাটি, অনুরূপ পলিমাটি ২১৩ কারো মালিকানাধীন হয়, আর দুজন এই মর্মে শারিকা চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, তারা এটা কিনবে, পোড়াবে এবং বিক্রি করবে তাহলে এটি বিশুদ্ধ শারিকা বলে গণ্য হবে।
মালেকী ও হাম্বলীগণের মতে, নিঃশর্তভাবে মুবাহ বিষয়াদি অর্জনের জন্য শারিকা চুক্তি করা বৈধ। ২১৪
সাধারণত এমন হয়ে থাকে, দুজন ব্যক্তির যৌথ মালিকানাধীন একটি পশু বা ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে, যা একজন অপরজনকে এই শর্তে দেয় যে, সে তা ভাড়ায় খাটাবে এবং এর জন্য শ্রম দেবে, আর লাভের দুই তৃতীয়াংশ হবে এই শরীকের। আর যে শরীক শ্রমদান করেনি সে এক তৃতীয়াংশ লভ্যাংশ পাবে। হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী ফকীহগণ এবং হাম্বলী ফকীহ ইবনে আকীল ও কাজীর মতে এই শারিকা ফাসিদ। কেননা এই শারিকার পুঁজি হলো উপকার। আর উপকার পণ্যজাতীয় বস্তুর সমপর্যায়ভুক্ত। ২১৫ তাই তাদের মালিকানা অনুপাতে আয় সাব্যস্ত হবে। যে শ্রম দেবে তার শ্রম অনুপাতে সে পারিশ্রমিক পাবে, তা যতই হোক। ইবনে আবেদীন বলেন, যৌথ কারবারের কাজের সাথে তার তুলনা করা হবে না। নয়তো আমরা বলতাম, তার কোন পারিশ্রমিক মিলবে না। এর কারণ, ধর্তব্য কাজগুলো সে এ দুজনের বাইরে অন্য কারো জন্য করেছে।
এই মাসআলার সদৃশ একটি মাসআলা রয়েছে। তা হলো, একজনের গবাদি পশু বা ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। সে আরেকজনকে তা শ্রম খাটানোর জন্য দিল। পারিশ্রমিক উভয়ের সম্মতিপূর্ণ নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে বণ্টিত হবে। ইমাম আহমদ ও আওযায়ী রহ.-এর মুযারাআ চুক্তি বৈধ হওয়ার বিবেচনায় তাদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে এটি বৈধ। অনুরূপ বিধান প্রতিটি বস্তুর, যা প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রম খাটাতে দেওয়া হয়। লাভের অংশের বিনিময়ে তা অন্যকে দেওয়া বৈধ। তবে এটি সকল আহলে ইলমের মতে ফাসিদ, যেহেতু এতে তীব্র প্রতারণা ও অজ্ঞতার সুযোগ রয়েছে। তাই উভয় শরীকের মালিকানা অনুপাতে বস্তুতে তাদের অধিকার থাকবে। তাই যে শ্রম দেবে সে অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক লাভ করবে তা যাই হোক না কেন।
উল্লিখিত শারিকাসমূহ অবৈধ ও ফাসিদ হওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীদের সাথে অভিন্ন মত পোষণ করেন মালেকী, শাফেয়ী ফকীহগণ ও নিঃসঙ্কোচে হাম্বলী ফকীহ ইবনে আকীল, আর কতক সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাম্বলী ফকীহ কাজী রহ.। ২১৬ তাদের মতের উৎস ও দলিল হচ্ছে কাফীযুত তাহহান ২১৭ নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীসটি। কাফীযুত তাহহান অর্থ পেষণকৃত শস্যের কিছু অংশের বিনিময়ে পেষণের চুক্তি করা। ২১৮ এমন করা হলে তা হবে ফাসিদ ইজারা চুক্তি। ফাসিদ ইজারার অর্থে গ্রহণ করা ছাড়া এ হাদীসের অন্য প্রয়োগক্ষেত্র নেই। সুতরাং গবাদি পশু বা ঘোড়ার গাড়ির মাসআলায় লাভ পাবে এগুলোর মালিক। কেননা এগুলোতে বহন করার দ্বারাই বিনিময়ের হকদার হওয়া যায়। আর শ্রমদানকারী পাবে অনুরূপ শ্রমদানের পারিশ্রমিক।
এই কারবার সহীহ হওয়ার জন্য নিকটবর্তী চিন্তা হলো, এই কারবারকে মুদারাবার সাথে যুক্ত করে দেওয়া। কিছু মুদারাবা পণ্য জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সহীহ হয় না। উপরন্তু তা একটি ব্যবসা। অথচ এখানে শ্রমদান ব্যবসার সাথে সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট।
চতুর্থ : পশুর শারিকা চুক্তিতে অধিকাংশ যা ঘটে তা হলো, এক লোকের একটি গরম রয়েছে। তখন সে তা অন্য একজনকে দেয় ঘাস খাওয়ানো ও দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে। এই শর্তে যে, যে কোনো হারে যেমন অর্ধেক অর্ধেক হারে উপার্জন উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে।
এটিও ফাসিদ শারিকা। এটি শারিকাতুল আমওয়াল-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেহেতু এটি পুঁজি জাতীয় বস্তুমুক্ত চুক্তি, যে বস্তু দিয়ে তারা ব্যবসা করবে। এটি শারিকাতুত তাকাবুল বা শারিকাতুল ওজুহ-এর অন্তর্ভুক্তও নয়। এই অন্তর্ভুক্ত না হওয়া তো স্পষ্ট।
উপার্জিত লাভ এক শরীকের মালিকানাধীন বস্তুর প্রবৃদ্ধিমাত্র। সে শরীক হলো গরমর মালিক। তাই সে লাভ পাবে। অপরজন শুধু ঘাস-তৃণের বাজারমূল্য এবং অনুরূপ শ্রমের পারিশ্রমিক পাবে। অনুরূপ বিধান রেশম পোকার, এর মালিক যদি তা অন্য ব্যক্তিকে তৃণলতা খাওয়ানো এবং সেবার উদ্দেশ্যে দেয় এই শর্তে যে, উপার্জন বষ্টিত হবে উভয়ের মাঝে। অনুরূপ বিধান মুরগী অন্যকে দেওয়ার, এই শর্তে যে, ডিম উভয়ের মাঝে অর্ধেক হারে বণ্টন হবে।
তারা বলেন, এ কারবার বৈধ হওয়ার হীলা হলো, মালিক বস্তুটির অর্ধেক বা এক তৃতীয়াংশ নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে, মূল্য যত কম হোক না কেন, বিক্রি করবে। এরপর বস্তু থেকে আরো যা অর্জন সম্ভব হবে তা উভয়ের মাঝে উল্লিখিত হারে বণ্টন হবে। আমরা ইমাম আহমদ রহ. ও ইমাম আওযায়ী রহ.-এর স্পষ্ট বক্তব্য জেনেছি। তাদের মতে এ জাতীয় সকল শারিকা শ্রমদানের মাধ্যমে বস্তুর প্রবৃদ্ধি ঘটানোর মতো বৈধ। যেমন জেনেছি অধিকাংশ আলেম এ বিষয়ে তাঁদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। এমনকি কতক শাফেয়ী ফকীহ বলেছেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিত এ জাতীয় কারবার থেকে বিরত থাকা, যেহেতু এতে অনেক ক্ষতি রয়েছে। ২১৯ তবে মালেকীগণ একটি শাখা মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যা হাম্বলী মতের সদৃশ। তা হলো, তারা দুজনের শারিকা চুক্তি সহীহ বলেন, যাদের একজন নর পাখি আনবে আর অন্যজন মাদী পাখি আনবে। উভয়ের পাখি হবে এমন যেগুলোর নর-মাদী উভয়টিকে লালনপালন করা হয়, যেমন কবুতর; এরপর একটিকে অন্যটির সাথে বিয়ে দেবে এই শর্তে যে, এগুলোর ছানা সমানহারে উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে আর প্রত্যেকে নিজ পাখির খরচ বহন করবে, আর মারা গেলে ক্ষতিপূরণ বহন করবে। তবে একজন স্বেচ্ছায় অপরের পাখির খরচ বহন করতে পারে। এই শারিকা বৈধ হওয়ার কারণ, তাদের বক্তব্যের পূর্বাপর যে ইঙ্গিত বহন করে সে মতে এগুলো এমন বস্তু যা ব্যবসা ছাড়া অন্য পন্থায় প্রবৃদ্ধি লাভ করে। তাই এগুলোকে ব্যবসা দ্বারা প্রবৃদ্ধি লাভ করা বস্তুর সমপর্যায়ের গণ্য করা হবে। ২২০
টিকাঃ
২১২. 'শারিকা সহীহ হওয়ার অন্যান্য শর্ত পেছনে উল্লিখিত হয়েছে। ১. শারিকাতুল আমওয়াল-এর পুঁজি নগদ হওয়া; ঋণ নয়। ২. শারিকাতুল আমওয়াল-এর পুঁজি মূল্যজাতীয় বস্তু হওয়া। ৩. চুক্তির সময় বা পণ্য ক্রয়ের সময় পুঁজি উপস্থিত থাকা। ৪. শারিকাতুল আমাল-এ চুক্তির ক্ষেত্র কাজ হওয়া। ৫. উল্লিখিত কাজ এমন হওয়া, ইজারা চুক্তির মাধ্যমে যার দাবি করা যায়।
২১৩. 'পলিমাটি, যাকে তার সাথে থাকা পানি বহন করে। কাঁচ তৈরিতে এর দখল রয়েছে। মুহীতুল মুহীত, কিতাবের শব্দ হলো, বালুর মতো মাটি, পানি যাকে বয়ে আনে।
২১৪. 'ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩১-৩২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬০; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৭-২৬৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১০-২১৫
২১৫. 'রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১
২১৬. 'ইসলামী শরীয়ার কোন বিধান কিয়াসের বিপরীতে হওয়া সংক্রান্ত যে বিতর্ক আজ রাষ্ট্র হয়ে আছে তা কারোর অজানা নয়। এ সংক্রান্ত ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার শিষ্য ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর দীর্ঘ আলোচনা দেখুন ইলামুল মুওয়াককিঈন কিতাবে। তবে কোন বিধান কিয়াস বহির্ভূত হওয়ার অর্থ হলো ঐ বিধানের মর্ম বোধগম্য না হওয়া। সুতরাং যে বিধানের মর্ম বোধগম্য আর সে বিধানে বিশেষায়ণের দলীল অনুপস্থিত সে বিধানের ভিত্তিতে কিয়াস করার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। (তাইসরুত তাহরীর ফী উসূলিল ফিকহ, খ. ২, পৃ. ২৭৯
২১৭. 'কফীয قیر একটি পরিমাপমাত্র। আট মাকু ধারণ করে এটি। তবে এখানে এটি উদ্দিষ্ট নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট পরিমাপমাত্র উদ্দেশ্য, যা তাহহানের জন্য নির্ধারিত। যেমন রিতিল। দ্রষ্টব্য: আল-মিসবাহুল মুনীর।
২১৮. 'হাদীসটি দারাকুতনী আবু সাঈদ খুদরী রা. এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন, ৭০/৭৪, ছাপা দারুল মাহাসিন। হাদীসটির সনদ সহীহ আত তালখীসুল হাবীর, খ. ৩, পৃ. ৬০
২১৯. 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২২৬; আশ-শারকাওয়ী, আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১৬-১১৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
২২০. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১