📄 শারিকাতুল আনানের সাথে নির্দিষ্ট বিধান
প্রথম : প্রত্যেক শরীক যা কিছু কিনবে তা-ই শারিকার জন্য ক্রয়কৃত গণ্য হবে না। এর কারণ, যে শরীকের হাতে শারিকার পুঁজির কোনো অংশ নেই সে অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া কোনো বস্তু শারিকার জন্য কিনতে পারবে না। বরং পুঁজিশূন্য অবস্থায় সে যা কিনবে তা নিজের জন্য বা শারিকা ছাড়া অন্য বৈধ পন্থায় যার জন্য সে কিছু কিনতে চায়, তার জন্য হবে। তার কেনা বস্তু শারিকার মালিকানাধীন হতে পারে না।
অনুরূপভাবে ঐ শরীক যার কর্তৃত্বে শারিকার সমুদয় সম্পদ পণ্য হিসেবে আছে; মুদ্রা হিসেবে নয় অথবা তার কাছে নগদ মুদ্রা আছে, যা পণ্যের মূল্য পরিমাণ নয়, এই শরীকের কৃত মুদ্রার (অর্থাৎ মূল্যজাতীয় বস্তু দ্বারা) বিনিময়ে কেনা চুক্তি শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। এমনকি চুক্তির দাবি হিসেবে যে প্রকার ব্যবসা শারিকা সীমিত তা ভিন্ন অন্য জাতীয় পণ্য শরীক কিনলে তার কেনা পণ্যের কোনো অংশ শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। যেমন শরীক কিনল চাল অথচ শারিকার চুক্তিকৃত ব্যবসা হলো তুলার ক্ষেত্রে, অথবা এর বিপরীত হলো। ১৭৪
উপরিউক্ত আলোচনার অর্থ হলো অন্য শরীকের একান্ত অনুমতি ছাড়া শারিকাতুল আনান-এর অন্য শরীক যা কিনবে ১৭৫ তা তিনটি শর্ত ছাড়া শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। ১৭৬ ১. শরীকের হাতে শারিকার এই পরিমাণ পুঁজির অংশ থাকা যা তার ক্রয়কৃত বস্তুর মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট; ২. যদি মুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করে তবে তার হাতে পুঁজির যে অংশ থাকবে তা হবে নগদ মুদ্রা; পণ্য নয়; ৩. শরীকের ক্রয়কৃত বস্তু শারিকার চুক্তিকৃত ব্যবসা শ্রেণীভুক্ত হওয়া।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে চতুর্থ শর্ত গ্রহণ করা যায়। তা হলো: ৪. অন্য শরীক পণ্যটি তার একক মালিকানার জন্য হওয়ার স্পষ্ট অনুমোদন না দেওয়া।
যখন এই চার শর্ত পূর্ণরূপে মজুদ হবে, তখন কেনাবেচা শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে, যদিও শরীক দাবি করে যে, সে নিজের জন্য কিনেছে বা পণ্যটি কেনার সময় সে এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া অর্থাৎ পণ্যটি শারিকার জন্য কেনার কথা বলে সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত তার থাকবে। কেননা সে অপর শরীকের অবগতি ছাড়া নিজেকে ওকালাতের দায়মুক্ত করতে পারে না। এটি হানাফীদের মত। ১৭৭
৭২. অন্যান্য মাযহাবে উল্লিখিত শর্তগুলো নেই। তবে শারিকাতুল আনান ও শারিকাতুল ওজুহে শর্ত সংক্রান্ত হাম্বলীদের একটি মত রয়েছে। তা হলো, শরীকের নিজের জন্য কেনার দাবি অগ্রহণযোগ্য। তবে উভয়ে শারিকাহর এক্ষেত্রে তারা কসমসহ শরীরকর সত্যায়নের মতকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ১৭৮ শাফেয়ী মাযহাবের স্পষ্ট বক্তব্যমতে শারিকাতুল আনান-এ হাম্বলীদের উলিখিত মত আসলযোগ্য। ১৭৯ এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, শরীক একজন আমীন যে একটি সম্ভাব্য বিষয় দাবি করেছে। তার তরফ থেকে জানা ছাড়া এটা জানা সম্ভব নয়। যদি কেনার সময় তার নিয়ত স্পষ্টভাবে জানার ও সে সংক্রান্ত সাক্ষ্য রাখার সম্ভাবনা থাকত তাহলে কসম ছাড়া শরীকের বক্তব্য গ্রহণ করা হতো। বরং শাফেয়ীদের বক্তব্য হলো, নিজের জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদিও এতে সে লাভবান হয় এবং শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদিও এতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তাদের মতে, শরীক যদি শারিকাহর জন্য কেনার দাবি করে আর নিজ অংশ দোষের কারণে ফেরত দিতে চায় তাহলে শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে না। যেহেতু বাহ্য অবস্থা হলো বস্তুটি তাকে সুযোগ দেয়া হবে না। তবে বিক্রেতা যদি শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে শরীককে সত্যায়ন করে, শাফেয়ীদের মতে তাকে চুক্তির বিভাজনের এবং তার একক অংশ ফেরত দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। কেননা শরীক নিজ অংশের ক্ষেত্রে মূলব্যক্তি আর শরীকের অংশের ক্ষেত্রে সে ওকীল। তাই তার এক চুক্তি প্রকারান্তরে দুই চুক্তি। ১৮০ মালেকীদের মতে, নিজের জন্য কেনার দাবিতে শরীককে সকল প্রকার শারিকায় সত্যায়ন করা হবে। তবে ওয়ারিছদের মাঝে সম্পাদিত শারিকাতুল জাবর এর বিষয় ভিন্ন। শারিকাতুল মুফাওয়াযায় তারা স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি বলেছেন। এক্ষেত্রে তারা পণ্যের কেনাকে সীমিত করেছেন শরীকের জন্য ও তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত বিষয়াদি অর্থাৎ খাবার পানীয় ও পোশাক কেনার ক্ষেত্রে; অন্য পণ্যাদি স্থাবর সম্পত্তি ও প্রাণী কেনার ক্ষেত্র নয়। ১৮১
দ্বিতীয় : হানাফীদের মতে, এক শরীকের ওপর যে ঋণ আবশ্যক হবে তা আদায়ের জন্য অপর শরীককে বলা হবে না। এর কারণ, শারিকাতুল আনান একমাত্র ওকালাতের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়। তবে পারস্পরিক দায়গ্রহণের কথা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে ভিন্ন কথা। যেমনটা ফতোয়া খানিয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও ইবনুল হুমাম রহ. এক্ষেত্রেও কাফালাত বাতিল হওয়ার মতকে সমর্থন করেছেন। সমর্থন করার কারণ, এই কাফালাত অজ্ঞাত বিষয়ের কাফালাত। স্পষ্ট কাফালাতও অজ্ঞাত বিষয়ের জন্য বৈধ হয় না। সুতরাং স্পষ্ট কাফালাতের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কাফালাত বৈধ হওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। ১৮২
হাম্বলীদের মতে, শারিকা চুক্তি সংক্রান্ত শারিকাতুল আনান-এর শরীকের নগদ বস্তু বা ঋণের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এই শরীক শুধু ব্যবসার ক্ষেত্রে অনুমতিপ্রাপ্ত। আর স্বীকারোক্তি ব্যবসার অংশ নয়। তাই তার স্বীকারোক্তি শুধু তার অংশের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে। ১৮৩ তারা এভাবেই নিঃশর্ত মত ব্যক্ত করেছেন। সম্পদ তার হাতে রয়েছে কিনা এ সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ দেননি। তবে ঋণ হবে ব্যবসার অনুগামী, যেমন শারিকার জন্য কেনা পণ্যের মূল্য অথবা বহনকারী, সংরক্ষক ও প্রহরীর পারিশ্রমিক, যেহেতু এটি হবে তার স্বীকারোক্তি। যেমন পণ্য অর্পণ করা স্বীকৃতি প্রকাশ করে, অথবা এটি হবে মূল্য কব্জা করতে দেয়া।
হানাফীদের মতে এই বিশদ বিবরণ নেই। হাম্বলীগণ কখনো এ মত উল্লেখ করেন। হাম্বলী ফকীহ কাজী রহ.-এর মত-এর উত্তর দেওয়ার জন্য। শারিকা চুক্তির ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে শরীকের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন কাজী ইয়াস রহ.। তিনি বলেন, নিশ্চয় শরীকের অধিকার আছে পণ্য কিনে মজলিসে মূল্য অর্পণ না করার। তাই মূল্য সংক্রান্ত তার স্বীকারোক্তি যদি গ্রহণ না করা হয় তাহলে লোকদের সম্পদ নষ্ট হবে। আর লোকেরাও তার সাথে লেনদেন থেকে বিরত থাকবে। আল-ইনসাফ গ্রন্থপ্রণেতা তার সূত্রে এ মতটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন এটিই সঠিক। ১৮৪
তৃতীয় : হানাফী ফকীহদের মতে, এক শরীক যে চুক্তির কার্যক্রম সম্পাদন করে সে চুক্তির হকগুলো সে শরীকের মাঝে সীমিত থাকবে, যেহেতু যতক্ষণ পর্যন্ত একথা স্বীকৃত থাকবে, কোনো কাফালা নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তির হকগুলো চুক্তি সম্পাদনকারীর জন্যই হবে। সুতরাং কোনো শরীক শারিকার সম্পদ বিক্রি করলে বা ভাড়া দিলে সে শরীকই মূল্য বা ভাড়া উসুল করবে এবং তার কাছে বিক্রিত পণ্য বা ভাড়া দেয়া বস্তু অর্পণের দাবি করা হবে। মতবিরোধ হলে সে সময় সে বিবাদ করবে। হয়তো সে দলিল দেবে বা তাকে দলিল শোনানো হবে। হয়তো তাকে কসম খেতে বলা হবে বা সে কসম খেতে বলবে। এসকল বিষয়ে তার শরীক ও অন্য কেউ এক বরাবর। শরীকের পক্ষে বা বিপক্ষে এখানে কিছুই করা হবে না। বন্ধক রাখার ক্ষেত্রে ক্রেতা হলো চুক্তিকারী আর বন্ধক গ্রহণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা হলো চুক্তি কারী। যদিও অন্য ব্যক্তি সে চুক্তিতে শরীক ছিল যা ঋণ আবশ্যক করেছে। এর কারণ, বন্ধক রাখা হলো অন্য শরীকের সম্পদ থেকে তার ঋণ পূর্ণ পরিশোধ করা যেহেতু আলোচনা চলছে শারিকার কোনো বস্তু বন্ধক রাখার বিষয়ে আর কেউ অন্যের ঋণ তার সম্পদ থেকে তার অনুমতি ছাড়া পরিশোধের অধিকার রাখে না। আর বন্ধক গ্রহণ করা হলো এককভাবে অংশ পূর্ণরূপে গ্রহণ করা। আর এটিও তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ করার অধিকার রাখে না ১৮৫। ১৮৬
মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীকের জন্য অপর শরীকের জানা ও অনুমতি ছাড়া একক ক্ষমতায় শারিকায় কিছু করার অধিকার নেই। ১৮৭
হাম্বলীদের মত সম্পর্কে আলমুগনী গ্রন্থে ইবনে কুদামা রহ. বলেন, শারিকাতুল আনান-এর প্রত্যেক শরীকের জন্য পণ্য ও মূল্য কব্জা করার এবং কব্জা করতে দেওয়া, ঋণ নিয়ে বিবাদ করা, ঋণ আদায়ের দাবি করা, হাওয়ালা করা ও হাওয়ালা গ্রহণ করা, যে চুক্তি সে বা তার শরীক সম্পাদন করেছে দোষের কারণে সে চুক্তির পণ্য ফেরত দেয়া ইত্যাদি কার্যক্রম তার বাস্তবায়ন করার অধিকার আছে। কেননা চুক্তির হকগুলো চুক্তিকারীর সাথে বিশিষ্ট নয়। ১৮৮ শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীক এককভাবে দোষের কারণে পণ্য ফিরিয়ে দেওয়ার হক রাখে। ১৮৯
যে ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রযোজ্য হয়
চতুর্থ : সকল ফকীহের ঐকমত্যে এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের জন্য প্রযোজ্য হওয়া ব্যবসার সাথে সীমিত। সুতরাং এক শরীক যদি কোনো বস্তু গসব করে বা নষ্ট করে, তাহলে সে শরীক এককভাবে ক্ষতিপূরণ বহন করবে। এক্ষেত্রে অন্য শরীক তার সাথে অংশ নেবে না। বিপরীতে শরীক যদি কোনো জিনিস শারিকার জন্য সহীহভাবে ক্রয় করে, আর চুক্তির দাবি হিসেবে সে তা কেনার অধিকারও রাখে তাহলে তার কেনা তার জন্য এবং তার শরীকের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই শরীক যদি নিজ সম্পদ থেকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে তাহলে তার শরীকের নিকট থেকে মূল্যে তার অংশ উসুল করতে পারে। বরং বিক্রি যদি ফাসিদ হয় আর কেনা বস্তু যদি নষ্ট হয় তাহলে সে এ বস্তুটির ক্ষতিপূরণ বহন করবে না। বরং ক্ষতিপূরণ বহনে অন্য শরীক তার সাথে অংশগ্রহণ করবে। তা হবে ব্যবসার পুঁজিতে উভয়ের আনুপাতিক অংশ হিসেবে।
শারিকাতুল আনান-এর এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্যক্রমে শারিকার পুঁজির লাভ হওয়া যথেষ্ট মনে করেন ইমাম আবু ইউসুফ রহ., যেমনটা তাঁর মত শারিকাতুল মুফাওয়াযার কোনো শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রয়োগ হওয়ার ক্ষেত্রে।
মাবসুত গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, ভাড়া করা যানবাহন যা শারিকাতুল আনান-এর এক শরীক তার একান্ত কোনো প্রয়োজনে, যেমন তার পরিবারের খাবার বহন করার জন্যে ভাড়া করলে এই বাহনটি এককভাবে তার জন্য হবে। ১৯০ সুতরাং তার শরীক এটি ব্যবহার করলে ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে যদি প্রথম শরীক শারিকার প্রয়োজনে, যেমন শারিকার কোনো পণ্য বহন করার জন্যে বাহনটি ভাড়া করে, তাহলে এই বাহনটি যৌথ ভাড়ার আওতাধীন হবে। তখন এর বিধান হবে, যদি উভয় শরীক বাহনটি ভাড়া করত তখন আরোপিত বিধানের অনুরূপ। এমনকি যদি অন্য কেউ পূর্বে বহনকৃত পণ্যের সদৃশ পণ্য বহন করে আর বাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কোনো ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে না। ১৯১
টিকাঃ
১৭৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮, ৭২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫
১৭৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩, ৩৬২
১৭৫. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়ায় উদ্ধৃত আংশিক বক্তব্যে এই বিশেষায়ণের বিপলীত মত বোঝা যায়। সতর্কীকরণ ছাড়া পরস্পর বিরোধী মতামত উল্লেখ করার ক্ষেত্রে হিন্দিয়্যা গ্রন্থকারগণ তেমন খেয়াল করেন না। তবে এই বিশেষায়ণের বিপরীত মতের উপর নির্ভর করা যায় না, খ. ২, পৃ. ৩১১। ফাতাওয়া খানিয়াতে এক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযা ও শারিকাতুল আনানের পার্থক্যের স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫।
১৭৬. স্পষ্ট, যে সম্পদ শারিকাহর আওতাভুক্ত হবে না তা হলো শরীকের হাতে থাকা শারিকাহর নগদ পুঁজির অতিরিক্ত সম্পদ। এছাড়া অবশিষ্ট সম্পদ শারিকাহর জন্যই হবে। মুষারাবার আলোচনায় ইবনে আবিদীন এর সাদৃশ একটি মত সমর্থন করেছেন। রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫০৭
১৭৭. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩
১৭৮. আল ফুরু', খ. ২, পৃ. ৭২৯
১৭৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
১৮০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬;
১৮১. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১
১৮২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২০৯; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১, ৩৫৬, ৩৬৩
১৮৩. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩১; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০
১৮৪. আশ শরহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ১২৪; আল ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪২১
১৮৫. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩
১৮৬. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭০
১৮7. আল-খিরাশী, আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৫
১৮৮. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯, ১৩০
১৮৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০
১৯০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩২৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৪; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬
১৯১. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০২; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩০
📄 বাজারদরের কম মূল্যে শারিকাতুল আনান-এর শরীকের বিক্রি করা
শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, অনেক লোকসান দিয়ে শরীক কেনাবেচা করবে না। যদি এমন লোকসান কেনাবেচা করে, তাহলে শুধু তার অংশে চুক্তি সহীহ হবে। এবং এ সময়ে ক্রেতা বা বিক্রেতার ইচ্ছাধিকার থাকবে। তবে যদি শরীক দায়ে আবশ্যক মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করে, তাহলে সকলের ক্ষেত্রেই চুক্তিটি সহীহ ও ধর্তব্য হবে। আর এককভাবে ক্রেতার জন্য কেনা হয়েছে বলে ধরা হবে; শারিকাহর জন্য নয়। ১৯২
তারা বলেন, বাজারদরের স্বাভাবিক মূল্যের বিনিময়ে কোনো শরীকের বিক্রির অধিকার নেই, যদি অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে আগ্রহী ক্রেতা থাকে। এমনকি যদি শরীক কার্যত বিক্রি করে, আর খেয়ারের সময়ে অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে আগ্রহী ক্রেতা প্রকাশ পায়, তাহলে শরীকের জন্য আবশ্যক পূর্ব বিক্রিচুক্তি বাতিল করা। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে। ১৯৩
টিকাঃ
১৯২. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫
১৯৩. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৬, পৃ. ৮
📄 শারিকাতুল আনান-এর শরীকের জন্য তার শরীক ছাড়া অন্য কারো সাথে শারিকা চুক্তি সম্পাদন করা
শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীকের জন্য তার শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শারিকা : মুফাওয়াযা বা আনান-এ চুক্তিবদ্ধ হওয়া জায়েয নেই। এর কারণ, বস্তু নিজের অনুরূপ বস্তুকে অনুগামী করতে পারে না। তাহলে তার ঊর্ধ্ব বিষয়কে কীভাবে অনুগামী করবে? তবে যদিও সে শারিকায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অধিকার রাখে না তবে সে ওকীল নিয়োগের অধিকার রাখে। সুতরাং যদি সে শারিকা চুক্তি করে তাহলে শারিকা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে শারিকা চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে তাতে অন্তর্ভুক্ত ওকালাত বাতিল হওয়া আবশ্যক নয়। এর কারণ, অংশ বিষয় বাতিল হওয়ার কারণে পুরো বিষয় বাতিল হওয়া আবশ্যক নয়। এটি হানাফীদের মত। ১৯৪
অন্যান্য শরীকের অনুমতি ছাড়া শ্রমদানের জন্য শারিকার পুঁজি তৃতীয় ব্যক্তিকে দেওয়া শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের মতে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। যদিও বিনিময় ছাড়া শারিকার সেবাদানের উদ্দেশ্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে দেয়া হোক না কেন। (বিনিময় ছাড়া সেবাদানের নাম হলো ইবযা)। এর কারণ, শারিকা চুক্তিতে শরীকদের অনুমোদন শুধু শরীকের কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপে সীমিত; অন্য কারো কর্তৃত্বে ও হস্তক্ষেপে শরীকদের অনুমোদন নেই। ১৮৫ তাই এ মাসআলাটির বিধান কোনো শরীকের শারিকা চুক্তি থেকে সরে গিয়ে অন্যকে তার স্থলবর্তী করার অনুরূপ বিধান। (এক্ষেত্রে অন্যান্য শরীকের অনুমোদন যেমন আবশ্যক, তেমন অন্যকে শ্রমদানের জন্য শারিকার পুঁজি প্রদানে শরীকদের অনুমোদন আবশ্যক।)
টিকাঃ
১৯৪. তারা এমনটি বলেছেন। এর কারণ হিসেবে যা মনে হয় তা হলো, শরীক তার হাতে থাকা নিজ সম্পদ ও শারিকার সম্পদের অর্ধেকের ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তি আর বাকি অর্ধেককে সে উওকীল। কিতাবগুলোর ভাষ্য এ ব্যাপারে প্রায় পার্থক্যমুক্ত। তবে স্পষ্টকরণে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। দ্রষ্টব্য: বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৯; আল-ফাতাওয়া আল- হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩২২
১৮৫. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩২; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৬
📄 আনান ও ওজূহ-এর বিধান
এই দুটি শারিকা মুফাওয়াযা বা আনান-এর আওতাধীন হবে। সুতরাং শারিকাতুল মুফাওয়াযার শ্রেণীভুক্ত হলে পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার বিধান প্রয়োগ হবে। আর শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হলে পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর বিধান প্রয়োগ হবে। যদি এ দুটির কোনোটির শ্রেণীভুক্ত হওয়া থেকে শর্তমুক্ত হয় তাহলে শারিকাটি হবে শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত। কেননা শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হওয়া সর্বদার মৌলনীতি। ১৯৬
তবে শারিকাতুল আমাল শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হলে তা সর্বদা দুটি মাসআলায় শারিকাতুল মুফাওয়াযার বিধান গ্রহণ করে।
প্রথম মাসআলা : এক শরীকের কাজ গ্রহণ উভয়ের জন্য দায় আবশ্যক করে। তারা উভয়ে এক ব্যক্তি হলে যে বিধান হতো সে বিধানের অনুরূপ বিধান হবে। যদিও তা তাদের একজনের জন্য নিজে শ্রমদান আবশ্যক করে না, যতক্ষণ না কাজের অর্ডারদাতা নিজে শ্রমদানের শর্ত করে। এই শর্ত করা ছাড়া কাজ গ্রহণকারী শরীক শ্রমদান করা বা তার শরীকের শ্রমদান করা অথবা তাতে তৃতীয় কারো শ্রমদান করা সমান। যেমন তারা দুজন কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মজদুর নিয়োগ করল, যে গ্রহণকৃত কাজ আঞ্জামে সক্ষম। কেননা এক্ষেত্রে নিঃশর্ত কাজ আঞ্জাম দেওয়াই হলো চুক্তির বিষয়। ১৯৭
তবে কাজের অর্ডারদাতার পক্ষ থেকে শর্ত করা হলে শ্রমদান হবে শর্তের অনুগামী। তবে উভয়ের জন্য দায়বদ্ধতা আবশ্যক হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে মাসআলা পূর্বাবস্থায় বহাল থাকবে। যে শরীকের কাছে কাজে শ্রমদানের দাবি করা হয়নি এই শর্ত তাকে দায়বদ্ধতার বিধান থেকে মুক্ত করবে না। তবে হ্যাঁ, এই শর্ত শারিকা অব্যাহত থাকার সময় তার অধিকার আদায়ের দাবি করা শর্তমুক্ত করে- যদি এই শরীক কাজ গ্রহণকারী না হয়। তবে কাজগ্রহণে যদি এই শর্ত না থাকে, তাহলে শারিকা সমাপ্তির পরও দায়বদ্ধতা অব্যাহত থাকবে।
এই মূলনীতির আলোকে আহরিত মাসআলা হলো :
১. কাজের নির্দেশদাতার অধিকার রয়েছে যে শরীককে ইচ্ছা তার কাছে পূর্ণ কাজের তাগাদা করার;
২. নির্দেশদাতার কাছে পূর্ণ পারিশ্রমিক আদায়ের অধিকার রয়েছে যে কোনো শরীকের;
৩. ইচ্ছামত যে-কোনো শরীককে পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদানের মাধ্যমে নির্দেশদাতার দায়মুক্তি। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের মত। ১৯৮
দ্বিতীয় মাসআলা : কোনো শরীকের কারণে দুই শরীকের শ্রমদানের বস্তুটি যদি দোষযুক্ত হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার ক্ষতিপূরণ উভয়ের ওপর আবশ্যক হবে। কাজের নির্দেশদাতা এই ক্ষতিপূরণ যে-কোনো শরীকের কাছ থেকে দাবি করার অধিকার রাখে। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের মত। ১৯৯
হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, কোনো শরীকের ব্যবহারে অবহেলা হওয়ার সাথে যৌথ ক্ষতিপূরণ ঝুলন্ত। যদি কারো ব্যবহারে অবহেলাহেতু পণ্যটি দোষযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এককভাবে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক হবে। ২০০
হানাফীদের মতে, শারিকাতুল আনান শ্রেণীভুক্ত এ দুই মাসআলা ছাড়া শারিকাতুল আমাল অন্যান্য ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর মতোই। এ জন্যই তারা শারিকাতুল আমালের শ্রেণীভিন্নতার অর্থাৎ মুফাওয়াযা ও আনান ভিত্তিতে শরীকের স্বীকারোক্তির বিধান ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেন। সুতরাং শারিকাতুল আমাল-এর কোনো শরীক অতীত সময়ের সাথে যুক্ত করে কোনো ব্যবহৃত বস্তুর মূল্য যেমন সাবান, পরিষ্কারক দ্রব্য বা অন্যজাতীয় দ্রব্যের মূল্য অথবা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বা দোকানভাড়া সংক্রান্ত কোনো ঋণের স্বীকারোক্তি করে, আর তার শরীক তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাহলে অপর শরীকের বিপরীতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদি এটি শারিকাতুল মুফাওয়াযার শ্রেণীভুক্ত হয়। আর প্রমাণ ছাড়া তাকে সত্যায়িত করা হবে না, যদি এটি শারিকাতুল আনান-এর শ্রেণীভুক্ত হয়। এর কারণ, স্বীকারকারীর জন্য তার দেওয়া স্বীকারোক্তি আবশ্যক। আর অপর শরীকের জন্য তার স্বীকারোক্তি আবশ্যক নয়, তবে যদি সে অপর শরীকের কাফীল হয় তাহলে ভিন্ন কথা। আর শারিকাতুল মুফাওয়াযায় শরীকের অবস্থা এমনই অর্থাৎ প্রত্যেকে অপর শরীকের কাফীল। আর শারিকাতুল আনান কাফালাতের শর্তমুক্ত হলে তা কাফালাতমুক্ত হয়। তবে বিক্রিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আগে বা ইজারার সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে ঋণের স্বীকারোক্তি দায় নিঃশর্তভাবে শারিকার ওপর আবশ্যক হবে। এক্ষেত্রে মুফাওয়াযা ও আনানের কোনো পার্থক্য নেই।
অনুরূপ দুই শরীকের শ্রমদানের বস্তু; যেমন কাপড়ের কোনো অংশ কোনো দাবিদার দাবি করল, তাতে এক শরীক তার মালিকানা স্বীকার করে আর অপরজন অস্বীকার করে, তাহলে মুফাওয়াযা ছাড়া অন্য শারিকায় স্বীকারকারীকে তার শরীকের বিপক্ষে সত্যায়ন করা হবে না। তবে এক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ভিন্নমত পোষণ করেন। এ মাসআলায় তিনি সাধারণ যুক্তি ছেড়ে সূক্ষ্ম যুক্তি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, শারিকাতুল আনানেও স্বীকারকারী শরীকের স্বীকারোক্তির দায় শারিকার ওপর আবশ্যক হবে; শ্রমদানের ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনানকে শারিকাতুল মুফাওয়াযার সাথে যুক্ত করার বিবেচনায়। যেমন যৌথ দায়বদ্ধতা ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনানকে শারিকাতুল মুফাওয়াযা-র সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ২০১
মালেকীদের মতে, শারিকাতুল আমালের ক্ষেত্রে উভয় শরীক এক ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত। ২০২ এই ব্যাপক মূল বিধানের দাবি হলো প্রত্যেক শরীকের স্বীকারোক্তি গৃহীত হওয়া এবং নিঃশর্তভাবে উভয়ের ওপর তা প্রয়োগ হওয়া। এক্ষেত্রে মুফাওয়াযা ও আনানে কোনো পার্থক্য হবে না। এবং নগদ ও ঋণজাতীয় বস্তুতেও পার্থক্য হবে না।
হাম্বলীদের মতে, এক শরীকের স্বীকারোক্তি উভয়ের ওপর প্রয়োগ হবে, যদি তার কর্তৃত্বে থাকা বস্তু সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি হয়ে থাকে। কেননা এখানে তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর যদি কর্তৃত্বে অবর্তমান বস্তু সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি হয় তাহলে স্বীকারোক্তি কার্যকর হবে না, যেহেতু এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব অনুপস্থিত। ২০৩
টিকাঃ
১৯৬. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২; আশ-শারকাওয়ী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১
১৯৭. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫১১
১৯৮. আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৭১
১৯৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২
২০০. হাওয়াশীত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১১; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯
২০১. 'আল বাজীরামী আলাল মানহাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০
২০২. 'বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৩১
২০৩. 'নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩