📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘ. লাভের হকদার হওয়া

📄 ঘ. লাভের হকদার হওয়া


শ্রম বা জামানাত ছাড়া সম্পদ লাভের হকদার হওয়া যায় না। সম্পদ দিয়ে এর হকদার হওয়া যায়। কেননা সম্পদের বর্ধনই তো লাভ। তাই সম্পদের মালিকের তা প্রাপ্য। একারণেই পুঁজিদাতা মুদারাবায় লাভের হকদার। শ্রমদানের মাধ্যমে লাভের হকদার হবে যখন শ্রমদান হবে লাভের কারণ। যেমন ইজারার সাথে বিবেচনা করে মুদারাবার লাভে শ্রমিক মুযারিবের অংশ।

জামানতের মাধ্যমে লাভের হকদার হওয়া যায়। যেমন শারিকাতুল ওজুহ-এর ক্ষেত্রে। এর দলিল : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ অর্থাৎ ১১৬ 'যে ব্যক্তি কোনো বস্তুর দায় নেবে বস্তুর লাভ তার হবে।' এজন্যই এক ব্যক্তি কোনো একটি কাজ, যেমন কাপড় সেলাইয়ের অর্ডার নিল আর নির্দিষ্ট ও জ্ঞাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তা আঞ্জাম দেয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো। এরপর এই পারিশ্রমিকের চেয়ে আরো কমে এই কাজ অন্য কারো দ্বারা করালো এবং উভয় পারিশ্রমিকের মধ্যবর্তী অর্থ সে হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভক্ষণ করল; এমন কারবার জায়েয। কেননা সে কাজ না করলেও শুধু কাজের দায়গ্রহণ করেছে। অথচ হতে পারে তার কোনো মৌল পুঁজি ছিল না।

এই তিনটি কারণ, যেগুলো দ্বারা লাভের হকদার হওয়া যায়, এর একটিও যদি বর্তমান না থাকে, সেক্ষেত্রে লাভ প্রাপ্য হওয়ার অন্য কোনো পন্থা নেই। এজন্য কারো অপরকে এ কথা বলা ঠিক নয় যে, তুমি তোমার সম্পদে হস্তক্ষেপ করো এই শর্তে যে, লাভ আমার হবে অথবা আমাদের মাঝে বণ্টিত হবে। সকল ফকীহর মতে এটি অর্থহীন কথা ছাড়া কিছু হবে না। আর লাভ সম্পূর্ণ পুঁজি বিনিয়োগকারীর হবে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া। ১১৭

শারিকাতুল আমওয়াল-এর দুপ্রকার : মুফাওয়াযা ও আনান-এর ক্ষেত্রে সাধারণত পুঁজি ও শ্রমদান উভয়টি হয়ে থাকে। আমরা যেমনটা জেনেছি, শারিকাতুল মুফাওয়াযায় লাভ সর্বদা সমানহারে বণ্টিত হবে। আর শারিকাতুল আনান-এর লাভ বণ্টন হবে উভয়ের পুঁজি অনুসারে, যদি শ্রমদানের বিষয়টি উভয় শরীক অগ্রাহ্য করে। শ্রমদানের দরুন লাভের পরিমাণ নির্ধারিত করার অধিকার উভয় শরীকের আছে। যে লাভ এককভাবে হবে তার, যার জন্য চুক্তিতে শ্রমদানের শর্ত করা হবে, এটি হবে পুঁজিতে তার প্রদত্ত পরিমাণ অনুপাতে চুক্তির দাবি অনুযায়ী লাভের অংশের অতিরিক্ত। যেন এই লাভের পরিমাণ শ্রমদানকারী শরীক কোনো পুঁজি, শ্রম বা জামানাত ছাড়া গ্রহণের হকদার না হয়। এক্ষেত্রে অপর শরীকের শ্রমদানের শর্ত করুক বা না করুক, এই শরীক শর্ত অনুযায়ী শ্রমদান করুক বা না করুক, বিধান অভিন্ন। অভিন্নতার কারণ হলো শ্রমদানের শর্ত; শ্রমদান বর্তমান হওয়া নয়।

এ কারণেই শারিকাতুল আনান-এ উভয়ের পুঁজি সমান হওয়া আর লাভে কমবেশ হওয়া, অথবা পুঁজিতে কমবেশ করে লাভ সমানহারে বণ্টন হওয়া, উভয়টি আমাদের বর্ণিত পন্থা অনুযায়ী বৈধ; নিঃশর্তভাবে এবং যখন শ্রমদানের শর্ত করা হবে না তখন নয়। এর অন্যথা হলে শর্ত বাতিল হবে, আর উভয়ের পুঁজি হিসেবে লাভ বণ্টন হবে। লোকসান হলে সর্বাবস্থায় উভয়ের পুঁজি অনুপাতে হবে। কেননা লোকসান পুঁজির ব্যয়কৃত অংশ। সুতরাং তা পুঁজি অনুপাতে নির্ধারিত হবে।

হানাফী ফকীহ আন্নাহর-এর গ্রন্থকার বলেন : যদি উভয় শরীক নিজেদের শ্রমদানের শর্ত করে- যদি পুঁজি সমান হয় আর লাভে কমবেশ করা হয়, তাহলে আমাদের তিন ইমামের মতে জায়েয। যুফার রহ. ভিন্নমত পোষণ করেন। উভয়ের শর্ত অনুযায়ী লাভ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে, যদিও এক শরীকই শ্রমদান করুক না কেন।

যদি এক শরীকের জন্য শ্রমদানের শর্ত করে আর উভয়ের পুঁজি অনুপাতে লাভের শর্ত করে তাহলে এটা জায়েয। যে শরীকের শ্রম নেই তার পুঁজি শ্রমদানকারী শরীকের নিকট পণ্য হিসেবে থাকবে। এর লাভ তার, ক্ষতিও তার। যদি শ্রমদানকারী শরীকের জন্য তার পুঁজির আনুপাতিক হার থেকে বেশি পরিমাণ লাভের শর্ত করে তাহলে এটা জায়েয। শ্রম ছাড়া শরীকের সম্পদ শ্রমদানকারীর কাছে মুদারাবার পুঁজি হিসেবে থাকবে। যদি এই শ্রম ছাড়া শরীকের জন্য আনুপাতিক হিসেবে তার পুঁজির বেশি পরিমাণ লাভের শর্ত করে, তাহলে এই শর্ত সহীহ নয়। তার পুঁজি শ্রমদানকারীর নিকট পণ্য হিসেবে থাকবে, প্রত্যেকে সর্বদা নিজ পুঁজির লভ্যাংশ পাবে। আর লোকসান উভয়ের মাঝে নিজ পুঁজি অনুপাতে ধর্তব্য হবে। ১১৮

মালেকী ও শাফেয়ীগণের মতে লভ্যাংশের মূলনীতি লোকসানের মতোই; উভয়ের পুঁজি অনুপাতে তা বণ্টিত হওয়া আবশ্যক। যদি চুক্তিতে এর বিপরীত শর্ত করা হয় তাহলে চুক্তিই বাতিল হবে। ১১৯

হাম্বলীদের মতে, লাভ উভয়ের পুঁজি অনুপাতে। তবে এর বিপরীত শর্ত করা হলে শর্ত অনুযায়ী লাভের বণ্টন হবে। ১২০ কতক মুতাআখখির (পরবর্তী) হাম্বলী ফকীহ হানাফীদের সাথে পুরোপুরি অভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের মতে লাভ বণ্টন হবে উভয়ের পুঁজি অনুপাতে। তবে শ্রমদানকারীর জন্য অতিরিক্ত লাভের শর্ত করা হলে সে শর্ত সহীহ। ১২১

মালেকীগণ পুঁজি অনুপাতে শ্রমদানের শর্ত যোগ করেন। এর অন্যথা হলে শারিকা বাতিল হবে। যেমন পুঁজিতে এক শরীকের অংশ হলো একশ, অপর শরীকের দুইশ, এরপর তারা সমান শ্রমদানের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলো। (পুঁজির তারতম্য হওয়ার পর সমান শ্রমদানের শর্ত করায় এই চুক্তি বাতিল হবে।) যদি এই যৌথচুক্তি তারা বাস্তবায়ন করে তাহলে এক-তৃতীয়াংশের শরীক অপর শরীকের কাছে তার এক ষষ্ঠাংশ শ্রমের সমপারিশ্রমিক উসুল করার হকদার হবে। তবে চুক্তি সহীহভাবে সম্পাদন হওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবা হিসেবে কোনো শরীকের আংশিক বা পূর্ণ শ্রম দান বৈধ। ১২২

অন্যান্য মাযহাবের স্পষ্ট ভাষ্যমতে শারিকাতুল আনান-এ এক শরীকের পক্ষ থেকে শ্রমদান সহীহ। অর্থাৎ এক শরীক অপর শরীককে হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দেবে। এর অন্যথা হবে না, তাই অনুমতিপ্রাপ্ত শরীক শারিকার পূর্ণ পুঁজিতে কার্য পরিচালনা করবে। অপর শরীক ইচ্ছা হলে শুধু নিজ পুঁজিতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এই শরীককে তার নিজ পুঁজিতে হস্তক্ষেপ না করার শর্ত করা বৈধ নয়। বরং এমন শর্ত চুক্তি বাতিলের কারণ হবে, যেহেতু এর মাধ্যমে মালিককে নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করা হয়।

তবে এই শরীক যদি অঙ্গীকার করে যে, সে শ্রমদান করবে না এবং নিজের জন্য তা শর্ত করে, তাহলে হাম্বলীদের মতে এভাবে শ্রমদান এক শরীকের জন্য সীমিত করা বৈধ। এরপর এই শরীকের জন্য শ্রমদানের বদলা হিসেবে যদি পুঁজিতে তার অংশ অনুপাতে প্রাপ্য লভ্যাংশের অতিরিক্ত লাভ দেওয়া হয় তাহলে এই কারবার শারিকাতুল আনান ও মুদারাবা-য় পরিণত হবে। আর যদি অতিরিক্ত লাভ ছাড়া পুঁজি অনুপাতে লাভ নির্ধারণ করা হয় তাহলে এটি শারিকা হবে না। বরং হবে ইবযা। আর যদি অতিরিক্ত লভ্যাংশ শ্রমদানকারী শরীক ছাড়া অন্য শরীকের জন্য নির্ধারণ করা হয় তাহলে বিশুদ্ধতম বর্ণনা অনুসারে নির্ধারণের শর্ত বাতিল হবে। আর এটিও ইবযা হবে যা তাদের বক্তব্যের দাবি। তবে ইবনে কুদামা রহ.-এর বক্তব্যে স্পষ্ট বিবৃত হয়েছে যে, শারিকাতুল আনান যৌথ শ্রমদানের দাবি করে। ১২৩

টিকাঃ
১১৬. الخراج بالضان হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ হযরত আয়েশা রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। খ. ৩, পৃ. ৭৮০; তাহকীক, ইযযত উবায়দ, ইবনেল কাত্তান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, যেমন উল্লিখিত রয়েছে আত তালখীসুল হাবীব-এ, খ. ৩, পৃ. ২২; হাপা, শারিকাতুত তিবাআতিল ফান্নিয়‍্যাহ।
১১৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬২; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩১; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৬, পৃ. ৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫২; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ৭০; আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; আশ শারকাওয়ী, আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১২; আল বাজুরী আলা ইবনি কাসিম, খ. ১, পৃ. ৪০০; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৪০
১১৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫২
১১৯. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ৭০; আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫
১২০. আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৪০
১২১. জ্ঞাতব্য যে শারিকাতুল মুফাওয়াযা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এটি তাদের মত। রদ্দুর মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫২; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৯
১২২. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬১; আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৩
১২৩. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; আল ফুরু, খ. ২, পৃ. ৭২৫; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুফাওযাযা ও আনান- উভয়ে প্রযোজ্য বিধান

📄 মুফাওযাযা ও আনান- উভয়ে প্রযোজ্য বিধান


প্রথম : শরীকদের প্রদত্ত পুঁজির গুণ ও শ্রেণী ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এ দুটি কারবার বৈধ হওয়া, যখন কতক বিজ্ঞ ব্যক্তির নির্ধারণে উভয়ের সম্পদের সমতা হয়। এটিই উদ্দিষ্ট শর্তপূরণের জন্য যথেষ্ট। মুফাওয়াযা বা আনান কোনোটাতেই হানাফীগণ পুঁজির শ্রেণী ও গুণ এক হওয়ার শর্ত করেন না। উভয় শরীকের সম্পদ ভিন্ন শ্রেণীর হলেও এই দুটি কারবার সহীহ হবে। তারা সমান হিসেবে নির্ধারণ করুক বা তারতম্য হিসাব করে, আর এই তারতম্য যে পর্যায়ের-ই হোক না কেন, অথবা চুক্তির সময় তারা পরিমাপ না করুক, বিধান অভিন্ন। ১২৪ ভিন্ন শ্রেণীর পুঁজি দ্বারাও জায়েয হবে, যেমন এক শরীকের পক্ষ থেকে দীনার অপর শরীকের পক্ষ থেকে দিরহাম দেওয়া হলো। ভিন্ন গুণের মুদ্রা দ্বারাও হবে, যেমন সাদা ও কালো, যদিও এগুলোর বাজারমূল্যে তারতম্য হয়। ১২৫

মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে উভয়ের পুঁজি বিশেষত মুদ্রার ক্ষেত্রে এক জাতীয় হওয়া শর্ত, গুণ এক হওয়া নয়। এটি আশহাব ও সাহনূন রহ. ছাড়া অধিকাংশ মালেকী ফকীহর মত।

দ্বিতীয় : উভয়ের সম্পদ অমিশ্রণ হওয়া সত্ত্বেও উভয় চুক্তি বৈধ হওয়া; এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীগণের মত। শাফেয়ীদের মতপার্থক্য রয়েছে, যেমনটা ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

তৃতীয় : উভয়ের সম্পদ অর্পণ ছাড়াই শারিকাদ্বয় বৈধ হওয়া। শারিকাতুল মুফাওয়াযা বা শারিকাতুল আনান কোনোটি সহীহ হওয়ার জন্য এই শর্ত নেই যে, প্রত্যেক শরীক অপর শরীককে তার সম্পদের ব্যবহারে জটিলতামুক্ত সুযোগ করে দেবে। মুদারাবা এ থেকে ভিন্ন; মুদারাবার বৈধতা শ্রমিকের কাছে পুঁজি প্রদানের ওপর নির্ভর করে।

চতুর্থ : প্রত্যেক শরীকের নগদে ও বাকিতে বিক্রির অধিকার। প্রত্যেক শরীকের দরদাম করে, লাভ করে সমান মূল্য দিয়ে বা মূল্যের কম দিয়ে এবং যেভাবে ভালো মনে করে কেনাবেচার অধিকার রয়েছে। কেননা এটি ব্যবসায়ীদের স্বভাব। প্রত্যেক শরীকের বিক্রীত পণ্য কজা করা, মূল্য কজা করা, পণ্য ও মূল্য কজা করা, ঋণ নিয়ে বিবাদ করা, ঋণ আদায়ের দাবি করা, হাওয়ালা করা, হাওয়ালা গ্রহণ করা এবং যে পণ্যে সে অথবা তার সঙ্গী শরীক দায়িত্ববান তা দোষের কারণে ফেরত দেওয়ার অধিকার আছে। বাকিতে বিক্রির ক্ষেত্রে হানাফীদের মত হলো, প্রত্যেক শরীকের নগদ ও বাকিতে বেচাকেনা করার অধিকার আছে, যেহেতু এভাবে ও যেভাবে সম্ভব ব্যবসায়ীদের লেনদেনের ধারা বর্তমান। শারিকা চুক্তিতে এই ধারা ও স্বভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এর কারণ, হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ করার যে অনুমতি এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত তা নিঃশর্ত, যেমন শর্ত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।

শারিকা চুক্তিতে যদি পরস্পর শর্তাবদ্ধ হয় যে, তারা শুধু নগদে বিক্রি করবে; বাকিতে নয়, অথবা বাকিতে বিক্রি করবে; নগদে নয় অথবা শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে এই শর্তাবদ্ধ হয় যে, এক শরীক নগদে বিক্রি করবে আর অপরজন বাকিতে বিক্রি করবে। তাহলে উভয়ের কৃত শর্তে তারা বহাল থাকবে। বরং চুক্তি সম্পাদনের পর যদি তারা এই শর্তাদিতে আবদ্ধ হয় তাহলেও তার বাস্তবায়ন আবশ্যক। একইভাবে যদি এক শরীক অপর শরীককে শারিকাতুল আনান-এ নির্দিষ্ট কোনো পন্থায় বিক্রি করতে নিষেধ করে, যেমন তাকে বাকিতে বিক্রি করতে বা নগদে বিক্রি করতে নিষেধ করল, তাহলে এই শরীকের জন্য সে নিষিদ্ধ পন্থা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এমনকি যদি সে এর বিরোধিতা করে তাহলে শরীকের অংশের ক্ষতিপূরণ তার ওপর বর্তাবে। এ কারণেই ইবনে নুজাইম ফতোয়া দিয়েছেন, যে শরীককে তার শরীক নিষেধ করার পর সে বাকিতে বিক্রি করে তার বিক্রি শুধু তার অংশে কার্যকর হবে; আর শরীকের অংশের বিক্রি তার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এমনকি যদি সে তাকে না জানায় তাহলে বিক্রি বাতিল হবে। অর্থাৎ তখন অংশ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। ১২৬

নগদ ও বাকিতে বিক্রি করা সংক্রান্ত যে বিধান আলোচনা করা হয়েছে, বাকি ও নগদে কেনার ক্ষেত্রে বিধান অনুরূপ। তারা এক্ষেত্রে মতবিরোধ করতে পারবে না, যদিও অন্যত্র তারা মতবিরোধ করতে পারে। তারা যখন মুফাওয়াযা করবে তখন খরিদ করা হবে শুধুই শারিকার জন্যে। উভয় শরীকের ব্যক্তিগত চাহিদা বাদে। শারিকাতুল আনান সর্বদা এমন নয়, এ সম্পর্কিত আলোচনা সামনে আসছে।

তবে ফাতাওয়া কাযীখানে বলা হয়েছে, যদি মুফাওয়াযার শরীক বাকিতে কোনো খাদ্যদ্রব্য কেনে তাহলে তার দায় উভয়ের কাঁধে আসবে। কিন্তু যদি এ কাজটি আনান-এর শরীক করে তবে তার মূল্য পরিশোধের দায় শুধু তার উপর বর্তাবে। যদি মুফাওয়াযার শরীক সালাম বিক্রিতে শস্য বিক্রি করে তবে তা তার অপর শরীকের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। ১২৭

মালেকী ও হাম্বলীগণের মত হানাফীদের অনুরূপ, প্রত্যেক শরীকের বাকি ও নগদে কেনাবেচা করার অধিকার আছে। তবে তারা মুফাওয়াযা ও আনান-এর মাঝে বিধানগত পার্থক্য করেন না। ১২৮ শাফেয়ীগণ ও কতক হাম্বলী ফকীহর মতে বাকীতে বিক্রি জায়েয নেই। যেহেতু এতে ধোঁকা এবং শারিকার পুঁজি নষ্ট হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এই বিধান সকল শরীকের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য। ১২৯ শাফেয়ীদের মতে, যদি নিঃশর্তভাবে বাকীতে অথবা ব্যাপক শব্দ ব্যবহার করে অনুমতি দেওয়া হয়, যেমন তোমার যেভাবে ইচছা বিক্রি করো তবে এই অনুমতি প্রচলিত মেয়াদে ধর্তব্য হবে; অন্য মেয়াদে যেমন দশ বছর ইত্যাদির অর্থে নয়। ১৩০

পঞ্চম : হানাফী, মালেকী ও কতক হাম্বলী ফকীহর মতে কেনা, বেচা ও সকল হস্তক্ষেপে, যেমন তাদের কোনো ব্যবসার প্রয়োজনে মজদুর, কারিগর, নির্মাতা ও পশু চিকিৎসককে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করা এবং জন্তু বা ঠেলাগাড়ি ভাড়া নেওয়া এবং শারিকার সুবিধার খাতগুলোতে ব্যয় করা- এ সকল কারবার করার অধিকার প্রত্যেক শরীকের আছে। তবে এক শরীকের নিয়োগকৃত ওকীলকে অন্য শরীকের অপসারণ করা বৈধ, যখনই সে চায়, ওকীলের ওকীলের অবস্থার অনুরূপ। ১৩১

শাফেয়ীগণ ও অধিকাংশ হাম্বলী ফকীহর মতে এক শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য শরীকের ওকীল নিয়োগের অধিকার নেই। এর কারণ, অপর শরীক তার ক্ষমতা প্রয়োগকেই অনুমোদন করেছে। আর তাদের মূলনীতি হলো, যে (অন্যের) অনুমতি ছাড়া শ্রমদান করতে পারে না সে (তার) অনুমতি ছাড়া ওকীল নিয়োগ করতে পারে না। ১৩২

ষষ্ঠ : শারিকায় শ্রমদানের জন্য কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অধিকার রয়েছে উভয় শরীকের। নিয়োগদান শারিকার সম্পদ সংস্কার করার জন্য হোক, যেমন শারিকার গবাদিপশুকে সুস্থ করা বা যন্ত্রগুলো তৈরি করা অথবা সম্পদ পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য হোক বা সম্পদ দ্বারা ব্যবসা করার জন্য হোক অথবা অন্য যে কারণেই হোক না কেন। অপর শরীকের অনুমোদনে তা বাস্তবায়িত হবে। নিয়োগদানের অধিকার থাকার কারণ, ব্যবসায়ীদের স্বভাব হলো, যে সকল খাতের লাভ ব্যবসায়ে অর্জিত হবে সে খাতগুলোতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মজদুর নিয়োগ করা। ১৩৩

সপ্তম : যে শরীক নিজে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমদান করে তার পারিশ্রমিক দেওয়া আবশ্যক হবে কার? তার পারিশ্রমিক শারিকার পক্ষ থেকে দেওয়া আবশ্যক। যদি সে নিজেকে খেদমতের উদ্দেশ্যে শ্রমদানে নিয়োগ না করে, শারিকাতুল আনানে খেদমততুল্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়, তাহলে পারিশ্রমিক এককভাবে তার জন্যই হবে।

আর শারিকাতুল মুফাওয়াযার ক্ষেত্রে, ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া থেকে স্পষ্টভাষ্যে তারা উদ্ধৃত করেছেন, যদি দুই শরীকের একজন কোনো বস্তু সংরক্ষণ, কাপড় সেলাই বা কোনো কাজের জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমদান করে, তাহলে পারিশ্রমিক উভয়ের মাঝে বণ্টন হবে। আর যদি নিজে সেবার জন্য শ্রমদান করে, তাহলে পারিশ্রমিক এককভাবে তার মালিকানাধীন হবে। ১৩৪ এটি বাদায়েউস সানায়ে থেকে গৃহীত মত। সেবাদানের বিষয়টি ভিন্ন হওয়ার কারণ কাসানী এভাবে বলেন, এক্ষেত্রে শরীক অন্য শরীক বাদে নিজের জন্য কাজ গ্রহণের অধিকার লাভ করে। অন্য ক্ষেত্রগুলো এর ব্যতিক্রম। যখন সে সেবাদানকে আবশ্যক করল এবং তা আঞ্জাম দিল, তখন সে নিজের জন্য একক আবশ্যকীয় দায় পূর্ণ করল। সুতরাং অনুরূপভাবে বিশেষভাবে তার জন্য পারিশ্রমিক সাব্যস্ত হবে। যদি সে সেবাদান ছাড়া অন্য কোনো কাজ গ্রহণ করে, তা নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়, তাহলে এই কাজগ্রহণ ও আবশ্যক করে নেওয়া উভয় শরীকের ওপর বর্তাবে। কেননা এ জাতীয় কাজ অংশীদারী গ্রহণ করে। আবশ্যকীয় কাজ যদি একজন এককভাবে আঞ্জাম দেয় তবুও উভয়ের পক্ষ থেকে শ্রমদান ধর্তব্য হবে। আর যে শ্রমদান করেছে সে হবে তার শরীকের অংশের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাদানকারী। তাই পারিশ্রমিক উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে। ১৩৫ অনুরূপ বিধান প্রতিটি কাজের যা তাদের একজন করবে সেটার পারিশ্রমিক উভয়ের মাঝে বণ্টিত হবে।

মুফাওয়াযা বা আনান কোনোটির শরীক তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো কাজের জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমদান করে এর পারিশ্রমিক এককভাবে ভোগ করার অধিকার নেই। তবে অন্য শরীক স্পষ্ট অনুমতি দিলে ভিন্ন কথা। এর কারণ, কোনো শরীক অপর শরীকের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া শারিকা চুক্তির কোনো দাবি পরিবর্তনের অধিকার রাখে না, যেমনটা ইবনুল হুমাম ও অন্যদের স্থিরীকৃত মত।

মালেকী ও হাম্বলীগণের স্থিরীকৃত মত হলো, শারিকা চুক্তির বাইরে সে তার শ্রমদানের পারিশ্রমিক এককভাবে গ্রহণ করবে, যদিও সে কাজটি শারিকার শ্রেণীভুক্ত কাজ হোক না কেন। যেমন সে শারিকার শ্রেণীভুক্ত তৈরি পোশাক একই ব্যবসার প্রকারে মুদারাবার জন্য পুঁজি নিল। মোদ্দাকথা হলো, যদি সে অন্য কাজের কারণে শারিকাভুক্ত কাজ সম্পর্কে অমনোযোগী হয় তাহলে অবশ্যই তার শরীকের অনুমতি লাগবে। যেন এই অনুমতির সে তার কাজের মাধ্যমে স্বেচ্ছাদান করতে পারে। অনুমতি না নিয়ে করলে এই শরীকের অধিকার রয়েছে, তার পক্ষ থেকে যে শ্রমদান সে করেছে তার পারিশ্রমিক সে তার কাছ থেকে উসুল করতে পারবে। ১৩৬

অষ্টম : হানাফী, মালেকী ও কতক হাম্বলী ফকীহর মতে তৃতীয় ব্যক্তিকে মুদারাবার পুঁজি হিসেবে শারিকার পুঁজি প্রদানের অধিকার রয়েছে প্রত্যেক শরীকের। কেননা মুদারাবা শারিকা থেকে লঘু, আর ভারী বিষয় লঘু বিষয়কে অনুগামী করে। মুদারাবা লঘু হওয়ার কারণ হচ্ছে, মুদারাবার লোকসান এককভাবে পুঁজিদাতার হয়। অথচ শারিকার ক্ষেত্রে তা উভয় শরীকের ওপর নিজ পুঁজির পরিমাণ অনুযায়ী বর্তায়। ফাসিদ মুদারাবায় মুদারিব শ্রমিক লভ্যাংশ পায় না। অথচ ফাসিদ শারিকায় উভয় শরীকের মাঝে তা নিজ পুঁজি অনুপাতে বণ্টিত হয়। তা ছাড়া শারিকার মৌলিক দাবি লাভ ও পুঁজিতে অংশীদার হওয়া আর মুদারাবার মৌল দাবি হলো লাভে যৌথভাবে অংশগ্রহণ; পুঁজিতে নয়। ১৩৭ তবে মালেকীগণ মুদারাবা জায়েয হওয়ার জন্য সম্পদ ব্যাপ্ত হওয়ার শর্ত করেন।

শাফেয়ীগণ ও হাম্বলীগণ, যারা এক শরীকের অনুমতি ছাড়া অপর শরীকের উকীল নিয়োগ করা, ব্যবসার জন্য মজদুর নিয়োগ করা বৈধ বলেন না তাদের মতে, তৃতীয় ব্যক্তিকে শারিকার পুঁজি মুদারাবার পুঁজি হিসেবে প্রদান জায়েয নয়।

নবম : হানাফীদের মতে, প্রত্যেক শরীকের শারিকার পুঁজি গচ্ছিত রাখার জন্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কেননা তার জন্য এই পুঁজি একজন পাহারাদারের দায়িত্বে রাখা বৈধ, যাকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এটি সংরক্ষণের জন্য সে দিতে পারে। সুতরাং পারিশ্রমিক ছাড়া সংরক্ষণের জন্য দেওয়া তো জায়েয হওয়ার অধিক উপযুক্ত। তা ছাড়া গচ্ছিত রাখা ব্যবসার অন্যতম স্বার্থ, যেহেতু এর মাধ্যমে চুরি, রাস্তার ও অন্য বিষয়ের বিপদ থেকে সংরক্ষণ হয়। ১৩৮

হানাফীগণ ছাড়া অন্যদের মতে, নেহায়েত প্রয়োজন হওয়া ছাড়া শরীকের গচ্ছিত রাখা জায়েয নেই। যেহেতু গচ্ছিত রাখার মাধ্যমে কখনো কখনো সম্পদ নষ্ট হয়। সুতরাং যদি প্রয়োজন ছাড়া শরীক তা গচ্ছিত রাখে আর নষ্ট হয় তাহলে সে তার ক্ষতিপূরণ দেবে। ১৩৯

দশম : ইমাম আবু হানীফা, মুহাম্মদ ও হানাফী ফকীহদের মতে, রাস্তা আশঙ্কামুক্ত হলে প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া শারিকার সম্পদ নিয়ে সফর করার অধিকার রাখে। কেননা শারিকাকে শর্তমুক্ত রাখা হয়েছে। তা কোনো জায়গার সাথে শর্তযুক্ত নয়। তাই প্রত্যেক শরীকের হস্তক্ষেপ নিঃশর্তভাবে প্রয়োগ হবে। যেহেতু দলিল ছাড়া শর্তমুক্ত বিষয়কে শর্তযুক্ত করা যায় না। এখানে দলিল অনুপস্থিত। এরপর সফর নিকটে হোক বা দূরে, সম্পদ হালকা হোক বা ভারী, বিধান একই। তবে দুটি অংশেই মতভেদ রয়েছে। ১৪০

শাফেয়ীগণ ও আবু ইউসুফ রহ.-এর মতে, স্পষ্ট অনুমতি, প্রচলনে পরিচিত অনুমতি বা তীব্র প্রয়োজন ছাড়া শরীকের জন্য শারিকার সম্পদ নিয়ে সফর করা বৈধ নয়।

'প্রচলনে পরিচিত অনুমতি'র একটি হলো, শারিকা চুক্তি জাহাজে সম্পাদিত হলো। এরপর গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত থাকল। তীব্র প্রয়োজনের একটি হলো, বড় বিপদ বা প্রবলপরাক্রম শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য শহরবাসীকে শহর থেকে নির্বাসিত করা।

যদি শরীক বিরোধিতা করে অননুমোদনপ্রাপ্ত এলাকা সফর করে, সম্পদ ধ্বংস হলে তাকে সঙ্গী শরীকের অংশের ক্ষতিপূরণ অবশ্যই দিতে হবে; কিন্তু সে যদি কোনো কিছু বিক্রি করে তাহলে তার বিক্রি বহাল থাকবে। এ মাসআলার সাথে ক্ষতিপূরণ সাব্যস্ত হওয়ার কোনো বৈপরীত্য নেই। ১৪১ শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে মালেকীদের মত অনুরূপ। শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় তাদের মত সুবিধা লক্ষ্য রাখার শর্তযুক্ত। ১৪২

একাদশ : হানাফীদের মতে শারিকার বিক্রি হয়ে যাওয়া সম্পদ ইকালা করার অধিকার রয়েছে প্রত্যেক শরীকের। পণ্যের বিক্রেতা সে হোক বা তার শরীক। কেননা ইকালা (পণ্য বিক্রির পর ফেরত নেয়া) প্রকারান্তরে ক্রয় করা। আর প্রত্যেক শরীক নিজে বা তার শরীক যা বিক্রি করেছে তা ইকালা করার অধিকার রাখে। ১৪৩ এটি মালেকীদেরও মাযহাবসম্মত মত এবং হাম্বলীদের নির্ভরযোগ্য মত। যদিও তাদের মতে ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে, দুই সম্ভাবনার এক সম্ভাবনামতে ইকালা হচ্ছে বিক্রি ভেঙ্গে দেওয়া। তবে তারা এটিকে সুবিধার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন, যেমন মূল্য পরিশোধে ক্রেতার অপারগতা বা শারিকা চুক্তির স্পষ্ট লোকসান হওয়া ইত্যাদি হলে ইকালা করা যাবে। ১৪৪

দ্বাদশ : শারিকার সম্পদ নষ্ট করা বা স্বেচ্ছায় দান করা দুই শরীকের কারো জন্য বৈধ নয়, যেহেতু শারিকার উদ্দেশ্য হলো লাভ অর্জন করা। সুতরাং যতক্ষণ অন্য শরীকের স্পষ্ট অনুমতি থাকবে না, কম বা বেশি শারিকার সম্পদ হেবা করা বা ঋণ দেওয়ার অধিকার নেই কোনো শরীকের। ১৪৫ কেননা হেবা করা স্রেফ স্বেচ্ছাদান আর ঋণ দেওয়া প্রথম অবস্থায় স্বেচ্ছাদান, যেহেতু ঋণ হলো তাৎক্ষণিক নগদ বিনিময় ছাড়া সম্পদ হস্তান্তর। সুতরাং যদি কোনো শরীক তা (হেবা বা ঋণ দেওয়া) করে তাহলে স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া অপর শরীকের ওপর তা বর্তাবে না। এই কাজ শুধু তার অংশের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হবে।

তবে পরবর্তী ফকীহগণ হেবা নিষিদ্ধ হওয়া থেকে কিছু বিষয়কে ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করেছেন। যেমন গোশত, রুটি ও ফলমূল ইত্যাদির ক্ষেত্রে তারা হেবার অনুমোদন দিয়েছেন। যেগুলো লোকেরা পরস্পর হাদিয়া দেয় এবং সেগুলোতে উদারতার আচরণ করে। আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়‍্যাতে উদ্ধৃত হয়েছে, শরীকের অধিকার রয়েছে শারিকার সম্পদ দ্বারা হাদিয়া দেওয়ার ও দাওয়াতের আয়োজন করার। এক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। বিশুদ্ধ মত হলো, এর পরিমাণ প্রচলনের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রচলন হলো যে পরিমাণ খরচ ব্যবসায়ীরা অন্যায় গণ্য করে না। ১৪৬

অনুরূপভাবে আবু ইউসুফ রহ.-এর মত, যে শরীক বিক্রির দায়িত্ব পালন করে সে পণ্যের মূল্য হেবা করা অথবা ক্রেতাকে মূল্য থেকে অব্যাহতি দান করা আর অন্য শরীকের মূল্য হেবা করা বা মূল্য থেকে দায়মুক্ত করার বিধান এক; প্রত্যেকের কাজ দু'জনের মধ্যেই সীমিত থাকবে। এই মতকে হানাফী ফকীহগণ নির্ভরযোগ্য মত হিসাবে গ্রহণ করেননি। আবু ইউসুফ রহ.-এর বিপরীতে তাঁদের মত হলো, যে শরীক বিক্রির দায়িত্ব আঞ্জাম দেয় সে যদি ক্রেতাকে পণ্যের মূল্য হেবা করে বা মূল্য থেকে দায়মুক্ত করে, তাহলে অপর শরীকের ওপর তা বর্তাবে না। অন্য শরীক তার কাছে নিজ অংশের যেটুকু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেটুকু উসুল করবে। যেমন বিক্রির জন্য নিয়োগকৃত ওকীলের অবস্থা। যদি ওকীল এমন (হেবা বা দায়মুক্তি) করে তাহলে তা বাস্তবায়িত হয়। আর তার নিয়োগদানকারী তার কাছ থেকে তার মূল্য উসুল করে। ১৪৭

মালেকীদের মতেও বিধান অনুরূপ। তবে তারা অনুমোদিত মূল্যের দায়মুক্ত করাকে আংশিক মূলহ্রাসের সাথে সীমাবদ্ধ করেন। এছাড়া অন্য বিষয়ে তারা নিঃশর্ত মত দেন। সুতরাং চুক্তি সম্পাদনকারীর পক্ষ থেকে মূল্যহ্রাস হওয়ার অথবা অন্য শরীকের পক্ষ থেকে মূল্যহ্রাস সমান। অনুরূপভাবে তারা ব্যাপকভাবে শরীকের জন্য অনুমোদিত স্বেচ্ছাদানকে সীমিত করেন ঐ খরচে যা প্রচলন অনুমোদন করে এবং যা শারিকার মূল সম্পদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। এটি একটি ব্যাপক মৌলনীতি, যা শারিকার সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে আগ্রহদানের জন্য হাদিয়া উপঢৌকন, দাওয়াত নিমন্ত্রণ ও ঋণ দেয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। হাম্বলীদের অনুরূপ মত রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে তারা কম ছাড় দেন এবং শারিকার উপকারের বিষয়টি অধিক লক্ষ্য রাখেন। ১৪৮

ত্রয়োদশ : শরীকের অনুমতি ছাড়া অন্য শরীক যাকাত আদায় করতে পারবে না। এর কারণ, তাদের যৌথচুক্তি হয়েছে ব্যবসা-সংক্রান্ত। আর যাকাত ব্যবসা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়। উপরন্ত মালিকের অনুমতি ছাড়া যাকাত প্রদান যথাযথভাবে আদায় হবে না। যেহেতু যাকাত সহীহভাবে প্রদানের জন্য নিয়ত শর্ত। ফলে অন্য শরীকের যাকাত প্রদান স্বেচ্ছাদানের সাথে যুক্ত হবে। আর এই শরীক অন্যের সম্পদ দিয়ে স্বেচ্ছাদানের অধিকার রাখে না। তবে অন্য শরীক অনুমতি দিলে তার অনুমতির কারণে যাকাত প্রদান সহীহ হবে। ১৪৯

চতুর্দশ : এক শরীক অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া শারিকার সম্পদ নিজের একক সম্পদের সাথে একত্র করা জায়েয নেই। এর কারণ, একত্র করা একাধিক হক স্বাধীন হস্তক্ষেপে বিভিন্ন বাধা আবশ্যক করে। সুতরাং (এভাবে) এক শরীকের ওপর অন্য শরীককে কর্তৃত্ববান হতে দেওয়া যাবে না, যেন তার কর্তৃত্ব সম্পদের মালিকের অনুমোদনকৃত সীমা অতিক্রম না করে। হানাফী ও হাম্বলীগণ স্পষ্ট ভাষায় এটি উল্লেখ করেছেন। ১৫০

জ্ঞাতব্য : শরীকের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনুমতি : যেমন এক শরীক অপর শরীককে বলল, তোমার যেভাবে ভালো মনে হয় নিয়ন্ত্রণ করো। তার এ কথা বলার দরুন ব্যবসায়ে সংঘটিত সকল কারবারের ক্ষেত্রে, যেমন বন্ধক রাখা, বন্ধক গ্রহণ করা, সফর করা, একক সম্পদের সাথে একত্র করা এবং তৃতীয় ব্যক্তির সাথে যৌথচুক্তি করা ইত্যাদিতে স্বতন্ত্র অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। কারো মতে উল্লিখিত কাজগুলো অনুমতি ছাড়া অবৈধ হয়, তার মতে এক্ষেত্রে সাধারণ অনুমতিই যথেষ্ট।

কিন্তু এই ব্যাপক অনুমতি হেবা করা, ঋণ দেওয়া ইত্যাদি কারবার যেগুলো সম্পদকে নষ্ট করা বা বিনিময়ছাড়া মালিক বানানোর শ্রেণীভুক্ত সেগুলো করার অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। জাতীয় কারবারগুলো যৌথভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য স্পষ্ট অনুমোদন আবশ্যক। হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ এ মত স্পষ্টভাবে বলেছেন। ১৫১

টিকাঃ
১২৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬১; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৬
১২৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১, ৩৫২
১২৬. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪-৩৫৫ ও ৩৫৭; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮-৭১; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৬; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ৩২৩
১২৭. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪-৩৫৫ ও ৩৫৭; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮-৭১; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৬; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ৩২৩
১২৮. হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২০৯; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৫০
১২৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৪-২১৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৮-৯
১৩০. টীকাসহ, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৯
১৩১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৯; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৬; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯, ১৩২; আল ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪১৭; আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৯
১৩২. আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৫৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২২৬; আল ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪১৭
১৩৩. বাদায়েউস সানায়ে, র. ৬, পৃ. ৬০, ৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৪
১৩৪. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১০
১৩৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৫
১৩৬. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৯; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১৪; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৩
১৩৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৯; আল ঈনায়া, আল হিদায়া, ফাতহুল কাদীরসহ, খ. ৫, পৃ. ২৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮; আল ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪১৪
১৩৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮-৬৯; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৫; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫
১৩৯. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩২
১৪০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭১; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৪
১৪১. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫
১৪২. আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৪
১৪৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭১
১৪৪. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৩
১৪৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬
১৪৬. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১২
১৪৭. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৭; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫-৩৫৬
১৪৮. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৯, ২৬০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮-১৬৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৯৫
১৪৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৬২
১৫০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৬, ৫০৮
১৫১. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬; নিহায়াতুর মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৮; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুফাওযাযার সাথে নির্দিষ্ট বিধান

📄 মুফাওযাযার সাথে নির্দিষ্ট বিধান


এ বিধানগুলোর মূলকথা হলো, শারিকাতুল মুফাওয়াযা'র দুই শরীক ব্যবসা ও ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে বিধানগত বিচারে এক ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত, যদিও বাস্তবে তারা দুজন। ১৫২ এ বিধানের মূল কারণ হলো শারিকাতুল মুফাওয়াযা ওকালাত ও কাফালাতকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেহেতু প্রত্যেক শরীক অন্য শরীকের আবশ্যক বিষয়াদিতে তার ওকীল; আর তার ওপর আরোপিত বিষয়াদিতে তার কাফীল। ১৫৩ এই মূলনীতির ভিত্তিতে কয়েকটি শাখা মাসআলা ও বিভিন্ন ফলাফল আহরিত হয়:

প্রথমত : এক শরীক যা কিছু কিনবে তা শারিকার জন্য কেনা বলে ধর্তব্য হবে। তবে তার নিজস্ব প্রয়োজনীয় বিষয়াদি এবং তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদি এর ব্যতিক্রম। এভাবে যে কোনো শরীকের যাবতীয় ক্রয়কৃত বিষয় শারিকার জন্য ধর্তব্য হওয়ার কারণ হলো, শারিকাতুল মুফাওয়াযা চুক্তির দাবি হলো, যা কিছুতে যৌথ অংশগ্রহণ সহীহ তাতে সমতাবিধান করা। ব্যবসায়িক চুক্তি যৌথ অংশগ্রহণ সহীহ বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত। ইজারাও এর অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু ইজারা হলো উপকার কেনা। আর উপকার ভোগ যৌথভাবে হওয়া বৈধ। সুতরাং এক শরীক যা ভাড়া করবে তাও শারিকার জন্য বলে ধর্তব্য হবে। হানাফীগণ এ মতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ১৫৪

মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদিকে ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করার কারণ হচ্ছে, প্রচলন এগুলোকে ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করে। যেহেতু এগুলো এমন কিছু যা প্রত্যেক শরীকের নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য এককভাবে প্রয়োজন হয়। এতে অপর শরীক কোনো দায় বহন করে না। আর প্রচলনমতে যা শর্ত তা স্পষ্ট বাক্যে শর্ত করার অনুরূপ। তাই এই মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদি এককভাবে তার ক্রেতার মালিকানাধীন হবে। যদিও উল্লিখিত ইঙ্গিতকে অগ্রাহ্য করলে এগুলো শারিকাতুল মুফাওয়াযার আওতাধীন বিষয়, যেহেতু এগুলো ব্যবসাযোগ্য পণ্য ও যৌথ মালিকানা গ্রহণযোগ্য, শারিকার জন্য উপযুক্ত এবং যেহেতু উপকার কেনা শারিকা গ্রহণ করে। এমন মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, ঘর, বসবাসের জন্য যা ভাড়া নেওয়া হয়, ঠেলাগাড়ি, জাহাজ, বিমান ও গবাদি পশু যেগুলো আরোহণ করার জন্য অথবা বিশেষ ফায়দার জন্য বহন করা যেমন হজ্জ, কর্মস্থল থেকে দূরে ছুটিকালীন সময় কাটানো এবং এককভাবে কারো সামানাপত্র বহন করা।

এক্ষেত্রে অন্য একটি পার্থক্য রয়েছে। মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদির পূর্ণ মূল্য এর ক্রেতা বহন করবে, যেহেতু এ বিষয়গুলো এককভাবে তার মালিকানাধীন। এ কারণে যদি কোনো শরীক বস্তুগুলোর মূল্য শারিকার সম্পদ থেকে পরিশোধ করে তাহলে অপর শরীকের অধিকার রয়েছে মূল্যে তার অংশ আদায় করার।

মুতাআখখির মালেকী ফকীহদের মতে, শারিকাতুল মুফাওয়াযার শরীকের একক ব্যক্তিগত খরচ, তার পানাহার, পোশাক, সামানপত্র নিঃশর্তভাবে বাদ যাবে। শারিকার সম্পদ থেকে শরীক এই খরচ ব্যয় করলেও তা হিসাবভুক্ত হবে না। দুই শরীকের প্রদত্ত পুঁজির অংশ, উভয়ের খরচ, উভয়ের দেশের মূল্যমান এগুলো সবগুলো ভিন্ন হোক বা অভিন্ন, বিধান এক। এরপর তারা এর কারণ বলেছেন যে, সাধারণত এগুলো সামান্য খরচ বা ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত। ১৫৫

শরীকের পারিবারিক খরচ বাদ দেয়ার জন্য শর্ত হলো উভয়ের শরীকের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সমান হওয়া এবং সামাজিক বিচারে এক পর্যায়ের হওয়া। অন্যথায় পারিবারিক খরচ হিসাবভুক্ত হবে। সুতরাং এক শরীক যদি তার অংশের অতিরিক্ত সম্পদ নেয় তাহলে তার খরচকৃত সম্পদে অপর শরীক নিজ অংশ ফেরত নেবে। ১৫৬ মালেকী ফকীহগণ মুফাওয়াযা-র শরীককে নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য কেনার দাবিতে সত্যবাদী মনে করেন খাদ্যদ্রব্য ও পোশাক ইত্যাদিতে, সকল কিছুতে নয়। ১৫৭

শারিকাতুল মুফাওয়াযায় এক শরীকের ঋণের স্বীকারোক্তি অন্য শরীকের জন্য প্রয়োগ হওয়া
দ্বিতীয়ত : শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় এক শরীকের জন্য ব্যবসার ঋণ বা এর স্থলবর্তী যে ঋণ আবশ্যক হয় তা অপর শরীকের জন্যও আবশ্যক হবে। এক শরীকের ঋণের স্বীকারোক্তি, তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার ওপর ঋণ আবশ্যক হওয়ার এবং কাফালাত হিসেবে তার শরীকের জন্যও আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট; এটি হানাফীদের মত। ১৫৮

মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, উপরিউক্ত বিধান শারিকা বিদ্যমান অবস্থায় ঋণের স্বীকারোক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো নগদ বস্তু যেমন গচ্ছিত সম্পদ বা বন্ধককৃত সম্পদ, অথবা ঋণের স্বীকারোক্তি হয় শারিকা চুক্তি শেষ হওয়ার পর, তাহলে স্বীকারকারী শরীকের জন্য নগদ বস্তু বা ঋণের অংশ আবশ্যক হবে। ১৫৯ এরপর সে তার শরীকের অংশের জন্যে নিছক সাক্ষী হবে। যার জন্যে স্বীকৃতি সে এই সাক্ষীর সাথে কসম খাবে। এবং শরীকের অংশের সে হকদার হবে। ১৬০

হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, শিরকাতুল আনানে যে পর্যন্ত তা বহাল থাকবে শরীক ঋণ নেওয়ার বা শারিকা হিসাবে কোনো পণ্য নেওয়ার কথা থাকবে। কেউ কেউ তা পছন্দও করেছেন। তাহলে তা মুফাওয়াযায়ও অবশ্যই আসবে। ১৬১

তৃতীয় : শারিকাতুল মুফাওয়াযার পক্ষে মতদানকারী সকলের ঐক্যমতে শারিকার সম্পদে এক শরীকের পরিচালিত চুক্তির হকসমূহ উভয় শরীকের বিচারে সমান। হকসমূহের উদাহরণ হলো, দোষের কারণে পণ্য ফেরত দেওয়া, ১৬২ পণ্যের হকদার বের হলে মূল্য উসুল করা, পণ্য বা মূল্য অর্পণের দাবি করা, এই দুটোকে কব্জা করা বা কজা করতে দেওয়া। এ সকল বিষয় তাদের পক্ষে হোক বা বিপক্ষে, বিধান অভিন্ন। সুতরাং কোনো শরীক যদি শারিকার জন্য কোনো বস্তু কেনে, আর কারণ বর্তমান থাকার কারণে এই অধিকারগুলোর কোনোটি প্রয়োগ করতে চায়, তাহলে প্রয়োগের অধিকার তার জন্য সীমিত হবে না। বরং তার শরীকের জন্যও প্রয়োগের অধিকার সাব্যস্ত হবে। যে কারবারগুলো কেনার শ্রেণীভুক্ত সেগুলোর বিধান অনুরূপ। ১৬৩

কেউ শারিকা চুক্তির কোনো পণ্য কেনার পর তাতে কোনো দোষ পেলে তার অধিকার থাকে দুই শরীকের যাকে ইচ্ছা তার কাছে বস্তুটি ফেরত দেওয়ার। যদি ক্রেতার কাছে থাকা পণ্যের কোনো হকদার প্রকাশিত হয়, তাহলে তার বিধান যেমন প্রকাশ পেল যে, পণ্যটি গসবকৃত বা চুক্তিকৃত। তাহলে ক্রেতার অধিকার রয়েছে যে শরীককে ইচ্ছা তার কাছে প্রদত্ত মূল্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করবে। যদিও সে শরীক হয়তো বিক্রির চুক্তি সম্পাদন করেনি বা মূল্য কজা করেনি।

অনুরূপভাবে ক্রেতার অধিকার রয়েছে চুক্তির প্রথম অবস্থায় দুই শরীকের যাকে ইচ্ছা তার নিকট পণ্য অর্পণের দাবি করার, যদিও সে শরীক তার কাছে পণ্যটি বিক্রি করেনি। আর প্রত্যেক শরীকের মূল্য কব্জা করার অধিকার রয়েছে, অধিকার রয়েছে দাবিকৃত পণ্য অর্পণ করার। অথবা একজন কব্জা করবে অপরজন অর্পণ করবে অথবা এর বিপরীত করবে, এমন সব করার অধিকার রয়েছে। তবে যদি কোনো শরীক নিজের ব্যক্তিগত কোনো বস্তু বিক্রি করে বা ভাড়া দেয় সেক্ষেত্রে চুক্তির অধিকারগুলো একান্ত তার জন্য সাব্যস্ত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিকট থেকে এমন বস্তু কিনবে সে অপর শরীককে পণ্য সোপর্দ করার দাবি করার অধিকার পাবে না। আর অপর শরীকও তার কাছে মূল্য উসুলের দাবি করার অধিকার পাবে না। ১৬৪

চতুর্থ : শারিকাতুল মুফাওয়াযা-র শরীকের কার্যক্রম তার ও তার শরীকের জন্য বাস্তবায়িত হবে, এমন সকল ক্ষেত্রে যার লাভ ও উপকার শারিকা ভোগ করে। এক্ষেত্রে এ কার্যক্রম ব্যবসা বা তার সংশ্লিষ্ট কারবার জাতীয় হোক বা অন্য কিছু, বিধান অভিন্ন।

এই বিধান শারিকাতুল মুফাওয়াযার পক্ষে মতদানকারী সকলের ঐকমত্যপূর্ণ। অর্থাৎ হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীগণ। মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, সুবিধা পরিপন্থী প্রতিটি কারবার এক শরীকের পূর্ব অনুমতি ছাড়া অন্য শরীকের শারিকার জন্য বাস্তবায়ন অপর শরীকের পরবর্তী অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। যদি অন্য শরীক অনুমতি না দেয় তাহলে তা শুধু এই কারবারকারী শরীকের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হবে। আর সে অপর শরীকের হকের ক্ষতিপূরণ দেবে। সুতরাং যদি তৃতীয় ব্যক্তিকে মূল মূল্যের দায়িত্ব দেয়া হয় এমন চুক্তিতে যা সে বা তার শরীক সম্পাদন করে, আর লাভের অনুপাত হলো একশতে পঞ্চাশ, এরপর তার শরীক যদি অনুমোদন না করে তাহলে একশতে পঁচিশ দীনার হারে তার শরীক তার নিকট থেকে উসুল করবে, যদি শারিকা হয়ে থাকে আধাঅধি লাভের অনুপাতে। কেননা মুহাবাত স্বেচ্ছাদানের ন্যায়। তবে এক্ষেত্রে মুহাবাতের জন্য পুঁজিদাতা শারিকার মঙ্গলার্থে ঝুঁকিগ্রহণকারী কর্মীর প্রতি সদয় আচরণ করছে।

পঞ্চম : হানাফীদের নিকট যার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত সে মুফাওয়াযা করলে তা সহীহ ও কার্যকর হবে। মুহাবাতের অপবাদ কোনো প্রভাব ফেলবে না। এর কারণ, এক্ষেত্রে দুজন শরীক হবে এক ব্যক্তি তুল্য। আনান এর বিপরীত। তাতে একজন অপর জনের ওকীল হয়। নিয়ম হচ্ছে, অপবাদের স্থান ওকালাত থেকে বাদ রাখা হয়। এটি আবু হানীফা রহ.-এর মত। তবে যদি ওকীলকে বলা হয়, তুমি যার সাথে ইচ্ছা লেনদেন করো, তাহলে সে স্বাভাবিক মূল্যে লেনদেন করতে পারবে। আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. এ সময় যে কোনো অবস্থায় স্বাভাবিক মূল্যে লেনদেন সহীহ হওয়াকে আবশ্যিক বলেছেন। ১৬৫

মালেকীগণ বলেন, মুফাওয়াযায় এক শরীকের অনুমতি না নিয়ে অপর শরীক যে কোনো কর্তৃত্ব করতে পারবে যদি তা শারিকার কল্যাণে হয়। সেক্ষেত্রে মুহাবাতের স্থানে বিক্রিরও তারা অনুমতি দেন যদি মুহাবাত প্রমাণিত না হয়। ১৬৬

শারিকাতুল মুফাওয়াযায় তৃতীয় ব্যক্তির সাথে চুক্তি করা ( مُشَارَكَةُ الْمُفَارِضِ لِشَخْصِ ثَالِثٍ )
শারিকাতুল মুফাওয়াযার শরীকের শারিকাতুল আনান চুক্তি করার অধিকার আছে। এই চুক্তি অপর শরীকের অধিকারে বাস্তবায়িত হবে, সে পছন্দ বা অপছন্দ করুক না কেন। কেননা শারিকাতুল আনান শারিকাতুল মুফাওয়াযা থেকে লঘু। তাই শারিকাতুল মুফাওয়াযার আওতায় শারিকাতুল আনান সম্পাদন করতে এবং মুফাওয়াযার অনুগামীরূপে সংঘটিত হতে কোনো বাধা নেই। যেমন সাধারণভাবে যে-কোনো শারিকার আওতায় মুদারাবা চুক্তি সম্পাদন বৈধ। মুদারাবার সম্পাদন এভাবে হবে যে, শারিকার পুঁজি দিয়ে কোনো শরীক তৃতীয় ব্যক্তির সাথে মুদারাবার চুক্তিতে আবদ্ধ হবে। এটি সাহেবাইনের মত। ১৬৭

এর কারণ হলো, শারিকাতুল মুফাওয়াযার আওতায় অন্য শারিকাতুল মুফাওয়াযা সম্পাদন বৈধ নয়। অর্থাৎ শারিকাতুল মুফাওয়াযার কোনো শরীকের জন্য অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া তৃতীয় ব্যক্তির সাথে শারিকাতুল মুফাওয়াযার চুক্তিবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়। কারণ, বস্তু তার অনুরূপ বস্তুকে নিজের অধীন করতে পারে না।

ইমাম আবু ইউসুফ রহ. উক্ত মতটি গ্রহণ করেছেন। ১৬৮ মুতাআখখির হানাফী ফকীহদের মতে এটিই নির্ভরযোগ্য মত। তবে তারা শারিকাতুল মুফাওয়াযার সম্পাদন বৈধ না হওয়ার ব্যাখ্যা করেছেন, এই চুক্তি শারিকাতুল আনান-এ পরিণত হবে। যার সাথে এই শরীক দ্বিতীয় শারিকা চুক্তি করল যে যদি এমন হয় যে, ঐ ব্যক্তির পক্ষে এই শরীকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তবু এই শারিকার লাভ তার ও তার প্রথম শরীকের মাঝে ভাগ হবে। ১৬৯

ইমাম মুহাম্মদ রহ. শারিকাতুল মুফাওয়াযার শরীক অন্য শারিকাতুল মুফাওয়াযা সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক আছে বলে মনে করেন না। হাসান বিন যিয়াদ রা.-এর সূত্রে ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মত বর্ণিত হয়েছে, শারিকাতুল মুফাওয়াযার শরীকের অন্য শারিকাতুল মুফাওয়াযা সম্পাদনের অধিকার নেই এবং তার জন্য শারিকাতুল আনান সম্পাদনের সুযোগ নেই। এর কারণ, উভয় নবচুক্তিতে প্রথম শারিকার চুক্তিকৃত দাবিকে পরিবর্তন করা হচ্ছে, যেহেতু প্রথম শারিকার পুঁজিতে অবর্তমান নতুন শরীকের এতে অধিকার সাব্যস্ত হয়। আর মূলপুঁজিতে অবর্তমান ব্যক্তির অধিকার সাব্যস্ত করা সকল শরীকের সম্মতি ছাড়া জায়েয নয়। ১৭০

হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো আবু হানীফা রহ.-এর মতের সমর্থন। ১৭১ মালেকীদের মতে, শারিকাতুল মুফাওয়াযার শরীকের জন্য শারিকার আংশিক পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযা বা অন্য কোনো শারিকা সম্পাদনের সুযোগ আছে। তবে এই আংশিক পুঁজি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত হতে হবে, অনির্দিষ্ট ও ব্যাপক নয়। যেমন কোনো শরীক শারিকার পুঁজি থেকে একশ দীনার আলাদা করল, আর তৃতীয় ব্যক্তি অনুরূপ একশ দীনার আনল। এরপর তারা উভয়ে দুইশ দীনারে ব্যবসা করল। এই তৃতীয় ব্যক্তি হবে প্রথম শারিকার বাকি পুঁজি থেকে সম্পর্ক মুক্ত। ১৭২

টিকাঃ
১৫২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৩
১৫৩. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৭
১৫৪. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৯; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮-৩৪৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৩-৭৪
১৫৫. আল খিরশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৬৪
১৫৬. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৪; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭০-১৭১
১৫৭. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১
১৫৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭২; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩০৯; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪১; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৫৯. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৩
১৬০. আল ফুরূ', খ. ২, পৃ. ৭২৬
১৬১. আল খিরশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬১-২৬২
১৬২. হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২০৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৫৩; বুলগাতুস মালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮
১৬৩. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৬
১৬৪. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১০
১৬৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭২-৭৩; রদ্দুর মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬; আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৪; আল বিরশী আলা খলীল, টীকাসহ, খ. ৪, পৃ. ২৫৯
১৬৬. রদ্দুর মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ২২৫; আল আতাসী, আলাল মাজালা, খ. ৪, পৃ. ২৯৭
১৬৭. আল ফাওযাকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৪
১৬৮. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৪
১৬৯. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩১৩; রদ্দুর মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬
১৭০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৪; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৭
১৭১. মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৬
১৭২. আল খিরশী আলা খলীল ও টীকা, খ. ৪, পৃ. ২৫৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শারিকাতুল আনানের সাথে নির্দিষ্ট বিধান

📄 শারিকাতুল আনানের সাথে নির্দিষ্ট বিধান


প্রথম : প্রত্যেক শরীক যা কিছু কিনবে তা-ই শারিকার জন্য ক্রয়কৃত গণ্য হবে না। এর কারণ, যে শরীকের হাতে শারিকার পুঁজির কোনো অংশ নেই সে অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া কোনো বস্তু শারিকার জন্য কিনতে পারবে না। বরং পুঁজিশূন্য অবস্থায় সে যা কিনবে তা নিজের জন্য বা শারিকা ছাড়া অন্য বৈধ পন্থায় যার জন্য সে কিছু কিনতে চায়, তার জন্য হবে। তার কেনা বস্তু শারিকার মালিকানাধীন হতে পারে না।

অনুরূপভাবে ঐ শরীক যার কর্তৃত্বে শারিকার সমুদয় সম্পদ পণ্য হিসেবে আছে; মুদ্রা হিসেবে নয় অথবা তার কাছে নগদ মুদ্রা আছে, যা পণ্যের মূল্য পরিমাণ নয়, এই শরীকের কৃত মুদ্রার (অর্থাৎ মূল্যজাতীয় বস্তু দ্বারা) বিনিময়ে কেনা চুক্তি শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। এমনকি চুক্তির দাবি হিসেবে যে প্রকার ব্যবসা শারিকা সীমিত তা ভিন্ন অন্য জাতীয় পণ্য শরীক কিনলে তার কেনা পণ্যের কোনো অংশ শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। যেমন শরীক কিনল চাল অথচ শারিকার চুক্তিকৃত ব্যবসা হলো তুলার ক্ষেত্রে, অথবা এর বিপরীত হলো। ১৭৪

উপরিউক্ত আলোচনার অর্থ হলো অন্য শরীকের একান্ত অনুমতি ছাড়া শারিকাতুল আনান-এর অন্য শরীক যা কিনবে ১৭৫ তা তিনটি শর্ত ছাড়া শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে না। ১৭৬ ১. শরীকের হাতে শারিকার এই পরিমাণ পুঁজির অংশ থাকা যা তার ক্রয়কৃত বস্তুর মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট; ২. যদি মুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করে তবে তার হাতে পুঁজির যে অংশ থাকবে তা হবে নগদ মুদ্রা; পণ্য নয়; ৩. শরীকের ক্রয়কৃত বস্তু শারিকার চুক্তিকৃত ব্যবসা শ্রেণীভুক্ত হওয়া।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে চতুর্থ শর্ত গ্রহণ করা যায়। তা হলো: ৪. অন্য শরীক পণ্যটি তার একক মালিকানার জন্য হওয়ার স্পষ্ট অনুমোদন না দেওয়া।

যখন এই চার শর্ত পূর্ণরূপে মজুদ হবে, তখন কেনাবেচা শারিকার জন্য সাব্যস্ত হবে, যদিও শরীক দাবি করে যে, সে নিজের জন্য কিনেছে বা পণ্যটি কেনার সময় সে এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া অর্থাৎ পণ্যটি শারিকার জন্য কেনার কথা বলে সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত তার থাকবে। কেননা সে অপর শরীকের অবগতি ছাড়া নিজেকে ওকালাতের দায়মুক্ত করতে পারে না। এটি হানাফীদের মত। ১৭৭

৭২. অন্যান্য মাযহাবে উল্লিখিত শর্তগুলো নেই। তবে শারিকাতুল আনান ও শারিকাতুল ওজুহে শর্ত সংক্রান্ত হাম্বলীদের একটি মত রয়েছে। তা হলো, শরীকের নিজের জন্য কেনার দাবি অগ্রহণযোগ্য। তবে উভয়ে শারিকাহর এক্ষেত্রে তারা কসমসহ শরীরকর সত্যায়নের মতকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ১৭৮ শাফেয়ী মাযহাবের স্পষ্ট বক্তব্যমতে শারিকাতুল আনান-এ হাম্বলীদের উলিখিত মত আসলযোগ্য। ১৭৯ এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, শরীক একজন আমীন যে একটি সম্ভাব্য বিষয় দাবি করেছে। তার তরফ থেকে জানা ছাড়া এটা জানা সম্ভব নয়। যদি কেনার সময় তার নিয়ত স্পষ্টভাবে জানার ও সে সংক্রান্ত সাক্ষ্য রাখার সম্ভাবনা থাকত তাহলে কসম ছাড়া শরীকের বক্তব্য গ্রহণ করা হতো। বরং শাফেয়ীদের বক্তব্য হলো, নিজের জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদিও এতে সে লাভবান হয় এবং শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে, যদিও এতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তাদের মতে, শরীক যদি শারিকাহর জন্য কেনার দাবি করে আর নিজ অংশ দোষের কারণে ফেরত দিতে চায় তাহলে শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে তাকে সত্যায়ন করা হবে না। যেহেতু বাহ্য অবস্থা হলো বস্তুটি তাকে সুযোগ দেয়া হবে না। তবে বিক্রেতা যদি শারিকাহর জন্য কেনার দাবিতে শরীককে সত্যায়ন করে, শাফেয়ীদের মতে তাকে চুক্তির বিভাজনের এবং তার একক অংশ ফেরত দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। কেননা শরীক নিজ অংশের ক্ষেত্রে মূলব্যক্তি আর শরীকের অংশের ক্ষেত্রে সে ওকীল। তাই তার এক চুক্তি প্রকারান্তরে দুই চুক্তি। ১৮০ মালেকীদের মতে, নিজের জন্য কেনার দাবিতে শরীককে সকল প্রকার শারিকায় সত্যায়ন করা হবে। তবে ওয়ারিছদের মাঝে সম্পাদিত শারিকাতুল জাবর এর বিষয় ভিন্ন। শারিকাতুল মুফাওয়াযায় তারা স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি বলেছেন। এক্ষেত্রে তারা পণ্যের কেনাকে সীমিত করেছেন শরীকের জন্য ও তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত বিষয়াদি অর্থাৎ খাবার পানীয় ও পোশাক কেনার ক্ষেত্রে; অন্য পণ্যাদি স্থাবর সম্পত্তি ও প্রাণী কেনার ক্ষেত্র নয়। ১৮১

দ্বিতীয় : হানাফীদের মতে, এক শরীকের ওপর যে ঋণ আবশ্যক হবে তা আদায়ের জন্য অপর শরীককে বলা হবে না। এর কারণ, শারিকাতুল আনান একমাত্র ওকালাতের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়। তবে পারস্পরিক দায়গ্রহণের কথা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে ভিন্ন কথা। যেমনটা ফতোয়া খানিয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও ইবনুল হুমাম রহ. এক্ষেত্রেও কাফালাত বাতিল হওয়ার মতকে সমর্থন করেছেন। সমর্থন করার কারণ, এই কাফালাত অজ্ঞাত বিষয়ের কাফালাত। স্পষ্ট কাফালাতও অজ্ঞাত বিষয়ের জন্য বৈধ হয় না। সুতরাং স্পষ্ট কাফালাতের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কাফালাত বৈধ হওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। ১৮২

হাম্বলীদের মতে, শারিকা চুক্তি সংক্রান্ত শারিকাতুল আনান-এর শরীকের নগদ বস্তু বা ঋণের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এই শরীক শুধু ব্যবসার ক্ষেত্রে অনুমতিপ্রাপ্ত। আর স্বীকারোক্তি ব্যবসার অংশ নয়। তাই তার স্বীকারোক্তি শুধু তার অংশের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে। ১৮৩ তারা এভাবেই নিঃশর্ত মত ব্যক্ত করেছেন। সম্পদ তার হাতে রয়েছে কিনা এ সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ দেননি। তবে ঋণ হবে ব্যবসার অনুগামী, যেমন শারিকার জন্য কেনা পণ্যের মূল্য অথবা বহনকারী, সংরক্ষক ও প্রহরীর পারিশ্রমিক, যেহেতু এটি হবে তার স্বীকারোক্তি। যেমন পণ্য অর্পণ করা স্বীকৃতি প্রকাশ করে, অথবা এটি হবে মূল্য কব্জা করতে দেয়া।

হানাফীদের মতে এই বিশদ বিবরণ নেই। হাম্বলীগণ কখনো এ মত উল্লেখ করেন। হাম্বলী ফকীহ কাজী রহ.-এর মত-এর উত্তর দেওয়ার জন্য। শারিকা চুক্তির ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে শরীকের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন কাজী ইয়াস রহ.। তিনি বলেন, নিশ্চয় শরীকের অধিকার আছে পণ্য কিনে মজলিসে মূল্য অর্পণ না করার। তাই মূল্য সংক্রান্ত তার স্বীকারোক্তি যদি গ্রহণ না করা হয় তাহলে লোকদের সম্পদ নষ্ট হবে। আর লোকেরাও তার সাথে লেনদেন থেকে বিরত থাকবে। আল-ইনসাফ গ্রন্থপ্রণেতা তার সূত্রে এ মতটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন এটিই সঠিক। ১৮৪

তৃতীয় : হানাফী ফকীহদের মতে, এক শরীক যে চুক্তির কার্যক্রম সম্পাদন করে সে চুক্তির হকগুলো সে শরীকের মাঝে সীমিত থাকবে, যেহেতু যতক্ষণ পর্যন্ত একথা স্বীকৃত থাকবে, কোনো কাফালা নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তির হকগুলো চুক্তি সম্পাদনকারীর জন্যই হবে। সুতরাং কোনো শরীক শারিকার সম্পদ বিক্রি করলে বা ভাড়া দিলে সে শরীকই মূল্য বা ভাড়া উসুল করবে এবং তার কাছে বিক্রিত পণ্য বা ভাড়া দেয়া বস্তু অর্পণের দাবি করা হবে। মতবিরোধ হলে সে সময় সে বিবাদ করবে। হয়তো সে দলিল দেবে বা তাকে দলিল শোনানো হবে। হয়তো তাকে কসম খেতে বলা হবে বা সে কসম খেতে বলবে। এসকল বিষয়ে তার শরীক ও অন্য কেউ এক বরাবর। শরীকের পক্ষে বা বিপক্ষে এখানে কিছুই করা হবে না। বন্ধক রাখার ক্ষেত্রে ক্রেতা হলো চুক্তিকারী আর বন্ধক গ্রহণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা হলো চুক্তি কারী। যদিও অন্য ব্যক্তি সে চুক্তিতে শরীক ছিল যা ঋণ আবশ্যক করেছে। এর কারণ, বন্ধক রাখা হলো অন্য শরীকের সম্পদ থেকে তার ঋণ পূর্ণ পরিশোধ করা যেহেতু আলোচনা চলছে শারিকার কোনো বস্তু বন্ধক রাখার বিষয়ে আর কেউ অন্যের ঋণ তার সম্পদ থেকে তার অনুমতি ছাড়া পরিশোধের অধিকার রাখে না। আর বন্ধক গ্রহণ করা হলো এককভাবে অংশ পূর্ণরূপে গ্রহণ করা। আর এটিও তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ করার অধিকার রাখে না ১৮৫। ১৮৬

মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীকের জন্য অপর শরীকের জানা ও অনুমতি ছাড়া একক ক্ষমতায় শারিকায় কিছু করার অধিকার নেই। ১৮৭

হাম্বলীদের মত সম্পর্কে আলমুগনী গ্রন্থে ইবনে কুদামা রহ. বলেন, শারিকাতুল আনান-এর প্রত্যেক শরীকের জন্য পণ্য ও মূল্য কব্জা করার এবং কব্জা করতে দেওয়া, ঋণ নিয়ে বিবাদ করা, ঋণ আদায়ের দাবি করা, হাওয়ালা করা ও হাওয়ালা গ্রহণ করা, যে চুক্তি সে বা তার শরীক সম্পাদন করেছে দোষের কারণে সে চুক্তির পণ্য ফেরত দেয়া ইত্যাদি কার্যক্রম তার বাস্তবায়ন করার অধিকার আছে। কেননা চুক্তির হকগুলো চুক্তিকারীর সাথে বিশিষ্ট নয়। ১৮৮ শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে, শারিকাতুল আনান-এর কোনো শরীক এককভাবে দোষের কারণে পণ্য ফিরিয়ে দেওয়ার হক রাখে। ১৮৯

যে ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান-এর এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রযোজ্য হয়
চতুর্থ : সকল ফকীহের ঐকমত্যে এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের জন্য প্রযোজ্য হওয়া ব্যবসার সাথে সীমিত। সুতরাং এক শরীক যদি কোনো বস্তু গসব করে বা নষ্ট করে, তাহলে সে শরীক এককভাবে ক্ষতিপূরণ বহন করবে। এক্ষেত্রে অন্য শরীক তার সাথে অংশ নেবে না। বিপরীতে শরীক যদি কোনো জিনিস শারিকার জন্য সহীহভাবে ক্রয় করে, আর চুক্তির দাবি হিসেবে সে তা কেনার অধিকারও রাখে তাহলে তার কেনা তার জন্য এবং তার শরীকের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই শরীক যদি নিজ সম্পদ থেকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে তাহলে তার শরীকের নিকট থেকে মূল্যে তার অংশ উসুল করতে পারে। বরং বিক্রি যদি ফাসিদ হয় আর কেনা বস্তু যদি নষ্ট হয় তাহলে সে এ বস্তুটির ক্ষতিপূরণ বহন করবে না। বরং ক্ষতিপূরণ বহনে অন্য শরীক তার সাথে অংশগ্রহণ করবে। তা হবে ব্যবসার পুঁজিতে উভয়ের আনুপাতিক অংশ হিসেবে।

শারিকাতুল আনান-এর এক শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্যক্রমে শারিকার পুঁজির লাভ হওয়া যথেষ্ট মনে করেন ইমাম আবু ইউসুফ রহ., যেমনটা তাঁর মত শারিকাতুল মুফাওয়াযার কোনো শরীকের কার্যক্রম অন্য শরীকের ওপর প্রয়োগ হওয়ার ক্ষেত্রে।

মাবসুত গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, ভাড়া করা যানবাহন যা শারিকাতুল আনান-এর এক শরীক তার একান্ত কোনো প্রয়োজনে, যেমন তার পরিবারের খাবার বহন করার জন্যে ভাড়া করলে এই বাহনটি এককভাবে তার জন্য হবে। ১৯০ সুতরাং তার শরীক এটি ব্যবহার করলে ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে যদি প্রথম শরীক শারিকার প্রয়োজনে, যেমন শারিকার কোনো পণ্য বহন করার জন্যে বাহনটি ভাড়া করে, তাহলে এই বাহনটি যৌথ ভাড়ার আওতাধীন হবে। তখন এর বিধান হবে, যদি উভয় শরীক বাহনটি ভাড়া করত তখন আরোপিত বিধানের অনুরূপ। এমনকি যদি অন্য কেউ পূর্বে বহনকৃত পণ্যের সদৃশ পণ্য বহন করে আর বাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কোনো ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে না। ১৯১

টিকাঃ
১৭৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮, ৭২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫
১৭৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩, ৩৬২
১৭৫. আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়ায় উদ্ধৃত আংশিক বক্তব্যে এই বিশেষায়ণের বিপলীত মত বোঝা যায়। সতর্কীকরণ ছাড়া পরস্পর বিরোধী মতামত উল্লেখ করার ক্ষেত্রে হিন্দিয়্যা গ্রন্থকারগণ তেমন খেয়াল করেন না। তবে এই বিশেষায়ণের বিপরীত মতের উপর নির্ভর করা যায় না, খ. ২, পৃ. ৩১১। ফাতাওয়া খানিয়াতে এক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযা ও শারিকাতুল আনানের পার্থক্যের স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৫।
১৭৬. স্পষ্ট, যে সম্পদ শারিকাহর আওতাভুক্ত হবে না তা হলো শরীকের হাতে থাকা শারিকাহর নগদ পুঁজির অতিরিক্ত সম্পদ। এছাড়া অবশিষ্ট সম্পদ শারিকাহর জন্যই হবে। মুষারাবার আলোচনায় ইবনে আবিদীন এর সাদৃশ একটি মত সমর্থন করেছেন। রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫০৭
১৭৭. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩
১৭৮. আল ফুরু', খ. ২, পৃ. ৭২৯
১৭৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬
১৮০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৬;
১৮১. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭১
১৮২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২০৯; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১, ৩৫৬, ৩৬৩
১৮৩. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩১; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০
১৮৪. আশ শরহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ১২৪; আল ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ৪২১
১৮৫. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৩
১৮৬. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭০
১৮7. আল-খিরাশী, আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৫
১৮৮. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৯, ১৩০
১৮৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১০
১৯০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩২৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৭৪; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৬
১৯১. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৩; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০২; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00