📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় প্রকার শর্তাবলি : যেগুলো শারিকাতুল মুফাওযাযার সাথে বিশিষ্ট

📄 দ্বিতীয় প্রকার শর্তাবলি : যেগুলো শারিকাতুল মুফাওযাযার সাথে বিশিষ্ট


এ শর্তগুলোর কোনো একটিতে ব্যতিক্রম হলে এই শারিকা শারিকাতুল আনানে রূপান্তরিত হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : কাফীল হওয়ার যোগ্যতা

📄 প্রথম : কাফীল হওয়ার যোগ্যতা


হানাফীদের মতে এটি উভয় শরীকের জন্য আবশ্যক শর্ত। কেননা তাদের প্রত্যেকে ব্যবসার ঋণ এবং এজাতীয় ঋণের ক্ষেত্রে অপরজনের কাফীলের স্থলাভিষিক্ত। ব্যবসাজাতীয় ঋণের নমুনা হলো কর্জ নেওয়া। এ জাতীয় যা কিছু এক শরীকের জন্য আবশ্যক অপর শরীকের জন্যও তা আবশ্যক হবে। সুতরাং যার মাঝে এই যোগ্যতার শর্তগুলো- যেমন বালেগ হওয়া, সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া ইত্যাদি পূর্ণরূপে নেই তার জন্য শারিকাতুল মুফাওয়াযা বৈধ নয়। যদি নাবালেগ শিশু অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এই শারিকা করে তবুও তা বৈধ হবে না। যেহেতু এটির প্রতিবন্ধকতা ব্যক্তিগত; শিশু তো স্বেচ্ছাদানের যোগ্য নয়। তাছাড়া এই কাফালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত প্রকারের যে ঋণ এক শরীকের ওপর আবশ্যক সেটিতে অন্য শরীকের কাফালাত গ্রহণ। এ কারণে ইমাম মুহাম্মদ রহ. মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির শারিকাতুল মুফাওয়াযায় অংশগ্রহণে নিষেধ করেন। এবং তার শ্রেণীভুক্ত যেমন মুরতাদ। কেননা তার কাফালাত তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশে সীমিত। অথচ শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় কাফালাত সীমিত নয়।

মৌলিকভাবে শারিকাতুল মুফাওয়াযার ক্ষেত্রে যারা হানাফীদের সঙ্গে একমত, তারা বিশদ বিধানে ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা হচ্ছেন মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ। তারা কাফালাতকে এই শারিকার ভিত্তি নির্ধারণ করেননি। তারা শারিকাতুল মুফাওয়াযায় নিহিত ওকালাতকে যথেষ্ট মনে করেন। তাই তাদের মতে এই শরিকায় এক শরীকের ওপর আবশ্যক অর্থদণ্ডের দায় অপর শরীকের ওপর আবশ্যক হবে না, যতক্ষণ না তার অনুমোদনক্রমে প্রথম শরীক অর্থদণ্ডের আবশ্যকীয় কারণে অংশ নেয়। ৭০

দ্বিতীয় : ইমাম আবু হানীফা ও মুহাম্মদ রহ. হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতায় সমান হওয়া শর্ত মনে করেন। তাই তাদের মতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, এক ধর্মাবলম্বী, যেমন দুজন মুসলমান বা দুজন খ্রিস্টানের মাঝে শারিকা চুক্তি সহীহ। এক্ষেত্রে এক ধর্মাবলম্বী হওয়ার স্থলবর্তী হবে দুই জিম্মী (মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক) যদিও তাদের একজন হয় আহলে কিতাব (ইহুদী বা খ্রিস্টান), আর অন্যজন হয় অগ্নিপূজক। তারা একই বিধানভুক্ত গণ্য হবে, কারণ ইসলাম ছাড়া সকল ধর্ম এক ধর্মের হুকুমভুক্ত। ৭১

স্বাধীন এবং গোলামের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ নয়, যদিও গোলাম মুকাতাব (নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আযাদ হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ) বা লেনদেনের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়। একইভাবে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর মাঝে, মুসলমান ও কাফেরের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ নয়। যেহেতু উপরিউক্ত শর্ত- উভয়ে কর্তৃত্বের যোগ্য হওয়া-অনুপস্থিত। কারণ স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য অনুমতি থাকলেও গোলাম ও শিশু লেনদেনে নিষিদ্ধ ব্যক্তি। কাফের শূকর কিনতে ও বিক্রি করতে পারবে, অথচ মুসলমান তেমন করতে পারে না। (তাই তাদের মাঝেও মুফাওয়াযার কারবার হতে পারে না।)

আবু ইউসুফ রহ. ওকালাত ও কাফালাতের যোগ্যতায় সমান হওয়া যথেষ্ট মনে করেন। এছাড়া অন্য বিষয়ের তারতম্য বিবেচনা করেন না। এ কারণে তিনি আহলে কিতাব ও অগ্নিপূজকের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ হওয়ার সাথে তুলনা করে মুসলমান ও জিম্মীর মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযার সংঘটন বিশুদ্ধ মনে করেন। ওকালাত ও কাফালাতের যোগ্যতায় সমান হওয়ার পর কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপের যোগ্যতার কমবেশ সত্ত্বেও উপরিউক্ত চুক্তি তার মতে বৈধ। তবে তিনি মুসলমান ও কাফেরের যৌথ কারবার মাকরূহ মনে করেন। কেননা কাফের ইসলামে বৈধ হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে অবগত থাকবে না। আর খোঁজ পেলেও সে বৈধ ক্ষেত্রগুলোর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্র, যেমন সুদ ও এ জাতীয় বিষয় থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে না। এভাবে তার সাথে যৌথ কারবারের কারণে মুসলমান অবৈধ ও হারাম বস্তু ভক্ষণের শিকার হবে। ৭২

মুসলমান ও কাফেরের যৌথ কারবারকে শাফেয়ীরা মাকরূহ মনে করেন। মালেকী ও হাম্বলীগণ মাকরূহ হওয়ার ত্রুটি দূর করেন এই শর্ত আরোপ করেন, কাফের শরীক মুসলিম শরীকের উপস্থিতি ছাড়া কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ, তখন যৌথ কারবারে কাফেরের হস্তক্ষেপ দ্বারা শরীয়তের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পাদন করা থেকে নিরাপদ থাকা যাবে। আর যে সকল হস্তক্ষেপে মুসলিম শরীক অনুপস্থিত থাকবে আর সে ক্ষেত্রে শরীয়ত নির্দেশিত ক্ষেত্রের বাইরে অন্য ক্ষেত্রে যেমন সুদচুক্তি, মদ ও মৃত জন্তু কেনা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হবে, হাম্বলীদের স্পষ্ট ভাষ্যমতে সে চুক্তি ফাসেদ হওয়ার সাথে সাথে দন্ড ও দায় কাফেরের ওপর আবশ্যক হবে। আর যেক্ষেত্রে হারাম বিষয়ে চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট, সেক্ষেত্রে মূলনীতি হলো চুক্তিটি বৈধ হওয়া।

জায়েয হওয়ার পক্ষে তাদের দলিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসী ইহুদীদের সাথে খায়বারের ভূমিতে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেকের বিনিময়ে যৌথ কারবার করেছিলেন। এমনিভাবে মদীনায় এক ইহুদীর নিকট থেকে তিনি খাবার কিনেছেন এবং তার কাছে নিজ বর্ম বন্ধক রেখেছেন। এরপর তা বন্ধক থাকা অবস্থায় নবীজীর ওফাত হয়েছে। ৭৩ এটিও তাদের সাথে কৃত চুক্তি। মালেকীদের বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো মতবিরোধ প্রকাশিত হয় না। তবে তারা বলেন, যদি মুসলিম শরীক তার কাফের শরীকের সুদী কারবারে সন্দিহান হয় তাহলে তার লাভটুকু দান করে দেওয়া মুস্তাহাব। আর যদি মদ সংক্রান্ত কারবারে সন্দিহান হয় তাহলে সমুদয় অর্থ সদকা করা উচিত। ৭৪

টিকাঃ
৭০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬০-৬১; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮; আল-খিরাশী, আলা-খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬১; আশ-শরহুল কাবীর, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৯৮
৭১. এটি ফাতহুল কাদীর গ্রন্থকারের কারণ বিশেষণ। আল-ইনায়া গ্রন্থকারের কারণ বিশেষণ ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, উভয়ে যিম্মী হওয়ার বিবেচনায় সমান হওয়ার কারণে। (আল-ইনায়া আলাল হিদায়া, ফাতহুল কাদীরসহ, খ. ৫, পৃ. ৭)
৭২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৭-৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮
৭৩. ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে হাদীসটি বুখারী রহ. উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ১৩; ছাপা, আস সালাফিয়্যা; মুসলিম রহ., খ. ৩, পৃ. ১১৮৬ ছাপা হালাবী, আয় হাদীসটি বুখারী রহ. উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৯৯; ছাপা আস সালাফিয়্যা।
৭৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১০; মাতালিবু উলিন মুহা, খ. ৩, পৃ. ২৪৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ামী, খ. ২, পৃ. ১৭২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬১; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তৃতীয় : কোনো শরীকের পক্ষ থেকে শ্রমদানের শর্ত না করা

📄 তৃতীয় : কোনো শরীকের পক্ষ থেকে শ্রমদানের শর্ত না করা


যদি (শারিকাতুল মুফাওয়াযায়) কোনো এক শরীকের শ্রমদানের শর্ত করা হয় তাহলে হানাফীদের মতে এই যৌথ কারবার বাতিল হবে। ৭৫ কেননা এই শর্তারোপ মৌলিক কার্য পরিচালনার যেগুলোতে অংশগ্রহণ সম্ভব সেগুলোতে সমতাবিধান শীর্ষক করা মুফাওয়াযা চুক্তির বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী। মালেকীদের মত এক্ষেত্রে হানাফীদের মতের কাছাকাছি। যেহেতু সাধারণভাবে সকল যৌথ পুঁজির কারবারে তাদের শর্ত হলো, মূল পুঁজি অনুসারে শরীকের শ্রমদান। অর্থাৎ প্রত্যেক শরীক তার পুঁজি অনুপাতে শ্রমদান করবে। সুতরাং যদি মূল পুঁজির অর্ধেক তার হয় তাহলে এই কারবারে তাকে অর্ধেক শ্রমদান করতে হবে। আর যদি তার প্রদত্ত পুঁজি হয় তিন ভাগের দুভাগ তাহলে ওই পরিমাণ শ্রমদান করতে হবে। এটিই মৌলনীতি, যদি ব্যতিক্রম কোনো শর্ত না করা হয়। যেমন এক বা দুই তৃতীয়াংশ শ্রমদানের শর্ত করা হয় অর্ধেক পুঁজি দেওয়া শরীকের জন্য; সেক্ষেত্রে শারিকা ফাসেদ হবে, আর লাভ বণ্টিত হবে পুঁজিতে প্রদত্ত পরিমাণ অনুসারে। প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার প্রাপ্য শ্রমের বিনিময় উসুল করবে। শর্ত করা ছাড়া কোনো শরীক যদি স্বেচ্ছাদান হিসেবে অতিরিক্ত শ্রমদান করে, তাহলে তাতে সমস্যা নেই। এটি তার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও স্বেচ্ছাদান। ৭৬

টিকাঃ
৭৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩৫০
৭৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭০; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সাধারণভাবে মূল পুঁজির কারবারের সাথে নির্দিষ্ট শর্তাবলি

📄 সাধারণভাবে মূল পুঁজির কারবারের সাথে নির্দিষ্ট শর্তাবলি


সাধারণভাবে অর্থাৎ যৌথ কারবারটি মুফাওয়াযা বা আনান যাই হোক।

প্রথম শর্ত : মূল পুঁজি হতে হবে নগদ; ঋণ নয়। কারণ, যে ব্যবসার মাধ্যমে যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য অর্থাৎ লাভ অর্জিত হবে তা ঋণ দ্বারা অর্জিত হবে না। সুতরাং ঋণকে মূল পুঁজি বানানো যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য পরিপন্থী। ৭৭

দ্বিতীয় শর্ত : পুঁজি মূল্যজাতীয় হওয়া : পুঁজি মৌলিক অর্থ হবে, যেমন টাকশালের ছাপমারা সোনা, রূপা অথবা প্রচলিত অন্য মুদ্রা অথবা ছাপহীন স্বর্ণ-রৌপ্য ৭৮ -যদি এগুলো দ্বারা লেনদেনের প্রচলন থাকে- এটি হানাফী মাযহাবের স্থিরীকৃত মত।

সকল পণ্য অর্থাৎ মৌলিক দুটি মুদ্রা জাতীয় ধাতু স্বর্ণ ও রৌপ্য ছাড়া অন্য কোনো বস্তু যৌথ কারবারের পুঁজি বা কোনো শরীকের প্রদেয় পুঁজির অংশ হতে পারে না। ৭৯ যদিও এ বস্তুগুলো পাত্র বা ওজন দ্বারা পরিমাপযোগ্য অথবা কাছাকাছি গড়নের গুনে গুনে বিক্রি করার বস্তু হয়। জাহিরুর রিওয়ায়াহ-মতে এটি আবু হানীফা রহ.-এর মত। তার সাথে অভিন্ন মত পোষণ করেন আবু ইউসুফ রহ. ও কতক হাম্বলী ফকীহ।

ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং অনেক শাফেয়ী ফকীহর মতে এ পণ্যজাতীয় বস্তু দুপ্রকারে বিভক্ত। প্রথম প্রকার : পাত্র দ্বারা পরিমাপযোগ্য বস্তু, ওজন করে পরিমাপযোগ্য বস্তু এবং কাছাকাছি গড়নের গণনাযোগ্য পণ্য। দ্বিতীয় প্রকার : অন্যান্য পণ্য।

অন্য ভাষায়, তারা মিছলী বস্তুর ও মূল্য জাতীয় বস্তুর (الْمُتَقَوَّم) মাঝে পার্থক্য করেন। সাধারণভাবে দ্বিতীয় প্রকারে যৌথ কারবার সংঘটিত হতে পারে না বলে মত দিয়েছেন। আর প্রথম প্রকারে হওয়ার মত দিয়েছেন, দুজনের সম্পদ এক শ্রেণীভুক্ত হলে সেগুলো মিশ্রণের পর। এ মতের কারণ, এই প্রকারভুক্ত বস্তুগুলো পণ্যসর্বস্ব বস্তু নয়। বরং এক বিচারে এগুলো পণ্য, যেহেতু নির্দিষ্ট করলে এগুলো নির্দিষ্ট হয়। আবার এক হিসাবে এগুলো মূল্য, যেহেতু অন্যান্য মূল্যের মতো এগুলো দ্বারা দায়িত্বে আবশ্যক ঋণ রেখে কোনো বস্তু কেনা যায়। সুতরাং এ বস্তুগুলোর উভয় সাদৃশ্যে প্রতি লক্ষ রেখে পদক্ষেপ গ্রহণ সঙ্গত। সে হিসাবে উভয়ের সম্পদ এক করার পূর্বে পণ্যের সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ করা হয়েছে। তাই তখন শারিকা সংঘটন নিষিদ্ধ। আর উভয়ের সম্পদ এক করার পর মূল্যের সাদৃশ্যে প্রতি লক্ষ করে এগুলো দ্বারা শারিকা সংঘটন করা অনুমোদিত হলো। কেননা উভয়ের সম্পদ এক করার মাধ্যমে শারিকার অস্তিত্ব লাভ হয়। ফলে সম্পদ এক করার মাধ্যমে যৌথ চুক্তির বিষয়টি শক্তি অর্জন করে।

তবে এ পণ্য জাতীয় বস্তু এক শ্রেণীভুক্ত হলেই কেবল যৌথচুক্তি বৈধ হওয়ার কারণ হবে। এক শ্রেণীর বস্তুকে অন্য শ্রেণীভুক্ত বস্তুর সাথে মেলানো হলে, যেমন গমকে যবের সাথে, তেলকে ঘির সাথে মেলানো হলে, এই মিশ্রণ মিছলী বস্তু থেকে তার মিছলী হওয়ার বৈশিষ্ট্য দূর করে দেবে।

আর বস্তুর এই গুণ দূর হওয়ার পরিণতি হলো, মূল পুঁজি ও লাভ অজ্ঞাত হওয়া এবং লাভ বণ্টনে বিবাদ হওয়া। যেহেতু এর মূল্যমান নির্ধারণের জন্য এর পরিমাণ জানার প্রয়োজন হবে। আর মূল্যমান নির্ধারণ একটি ধারণার বিষয়। নির্ধারণকারীর ভিন্নতার দরুন মূল্য বিভিন্ন হয়। অথচ মিছলী বস্তুর ভিন্ন অবস্থা। যেহেতু তার অনুরূপ বস্তু পাওয়া যায়। (সুতরাং মিছলী বস্তু এক শ্রেণীভুক্ত হলে মূল পুঁজি ও লাভের ক্ষেত্রে বিবাদের কোনো আশঙ্কা নেই।)

অধিকাংশ হাম্বলী ফকীহ এবং কতক শাফেয়ীর মতে যে-কোনো ছাপই হোক না কেন, ছাপকৃত মুদ্রা মূল পুঁজি হওয়া শর্ত। হাম্বলী ফকীহ ইবনে কুদামা বলেন, এক্ষেত্রে খাঁদ থাকার কোনো ছাড় নেই। তবে মুদ্রা তৈরিতে অপরিহার্য পরিমাণে খাঁদ থাকলে তার বিধান ভিন্ন। ৮০

মালেকীদের মতে, প্রত্যেক শরীক স্বর্ণ বা রৌপ্য জমা দিলে যৌথচুক্তির সংঘটন বৈধ হবে। একইভাবে একজন স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করলে আর অপরজন তেমনই করলে চুক্তির সংঘটন বৈধ হবে। অথবা এক পক্ষ থেকে নগদ বস্তু, অন্য পক্ষ থেকে পণ্য অথবা উভয়ের পক্ষ থেকে পণ্য একত্র করলেও যৌথচুক্তি সংঘটিত হবে। উভয়ের পণ্য এক শ্রেণীভুক্ত হোক বা বিভিন্ন শ্রেণীভুক্ত। একপক্ষ থেকে শুধু স্বর্ণ, অপর পক্ষ থেকে শুধু রৌপ্য একত্র করা হলে তাদের মতে চুক্তির সংঘটন বৈধ হবে না, যদিও প্রত্যেক শরীক অপর শরীককে তার প্রদেয় দ্রুত পরিশোধ করে। এর কারণ, এভাবে কারবার করলে একসাথে শারিকা ও সারফ (মুদ্রা কেনাবেচা) করা হয়। এমনিভাবে পরিমাণ ও গুণের বিচারে এক হলেও দু প্রকার খাবারের সমন্বয়ে শারিকা বৈধ নয়। ৮১

ইবনে আবী লায়লা রহ.-এর মতে নিঃশর্তভাবে সকল পণ্যের সমন্বয়ে শারিকা বৈধ। কটনের ক্ষেত্রে চুক্তির সময়ের পণ্যমূল্য ধর্তব্য। ইমাম আহমদ রহ.-এর এমন একটি বর্ণনা রয়েছে, যা হাম্বলী ফকীহ আবু বকর ও আবুল খাত্তাব গ্রহণ করেছেন। এর কারণ, উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসারে পণ্যের সমন্বয়ে শারিকার সংঘটন বিশুদ্ধ বলা হলে তা শারিকার উদ্দেশ্য পরিপন্থী হচ্ছে না। কারণ, শারিকার উদ্দেশ্য হলো উভয় শরীকের সম্পদে প্রত্যেক শরীকের হস্তক্ষেপ বৈধ হওয়া এবং এরপর লাভ কটন করা। এই উদ্দেশ্য মূল্যজাতীয় বস্তু দ্বারা যেমন অর্জিত হয়, অন্য বস্তু দ্বারাও তেমন সম্ভব। এক্ষেত্রে তারা দলিলরূপে গ্রহণ করেছেন যাকাতের নেসাব নির্ধারণের সময় ব্যবসার পণ্যের বাজারমূল্য বিবেচনা করা। ৮২ (যাকাতের নেসাব নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ব্যবসার পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করা হয়, তেমনিভাবে লাভ কটনের সময় চুক্তির সময়ে বহাল বাজারমূল্য বিবেচ্য হবে।)

তৃতীয় শর্ত : পুঁজি উপস্থিত থাকা : أَنْ يَكُونَ رَأْسُ الْمَالِ حَاضِرًا
হানাফীদের মতে, পুঁজি উপস্থিত থাকা শর্ত। কাসানী বলেন, চুক্তির সময় নয়, বরং পণ্য ক্রয়ের সময় উপস্থিত থাকা শর্ত। কারণ তখন উপস্থিত থাকা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট। উদ্দেশ্য হলো, লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবসা করা। এ কারণে যে শরীক অপর শরীককে এক হাজার দীনার প্রদান করে এ শর্তে যে, সে অনুরূপ একহাজার দীনার প্রদত্ত অর্থের সাথে মেলাবে। এরপর সে ব্যবসা করবে আর লাভ উভয়ের মাঝে কটন হবে, তাহলে প্রথম শরীক বিশুদ্ধ শারিকা সংঘটন করেছে বলে ধর্তব্য হবে- যদি অপর শরীক শর্তমতো কাজ করে। যদিও দ্বিতীয় শরীক প্রথম শরীককে লোকসানে শামিল করতে পারে না, যতক্ষণ না সে প্রমাণ পেশ করবে যে, উভয়ের ঐকমত্যে গৃহীত কাজই সে করেছে।

এভাবেই বলেছেন কাসানী ও ইবনুল হুমাম। ইবনে আবেদীনও এই মতের কাছাকাছি। খিযানাতুল মুফতীন ও খানিয়ার সূত্রে ফাতাওয়া হিন্দিয়‍্যায় বক্তব্য হলো, চুক্তির সময় বা পণ্যক্রয়ের সময় পুঁজি উপস্থিত থাকা শর্ত। উভয় অবস্থায়- চুক্তি ও পণ্যক্রয়ের সময়-অনুপস্থিত সম্পদের বিনিময়ে শারিকা সহীহ হবে না। ৮৩

মুদারাবার সাথে তুলনা করে হাম্বলীগণ চুক্তির সময় উভয়ের সম্পদ উপস্থিত থাকার শর্ত করেছেন। তাদের মতে, চুক্তির সময় উভয়ের সম্পদ উপস্থিত থাকা শারিকাকে দৃঢ় করে। যেহেতু সম্পদের উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে শারিকার কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ দেয়, আর শারিকার উদ্দেশ্য অর্জন বিলম্বিত হয় না। তবে সেই সাথে তারা বলেছেন, অনুপস্থিত সম্পদ বা দায়ে আবশ্যক সম্পদের ভিত্তিতে শারিকা সম্পাদিত হয়, এরপর সম্পদ উপস্থিত করা হয় এবং শরীকের হস্তক্ষেপ করার মতো উভয় শরীক সে সম্পদে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে এই হস্তক্ষেপ দ্বারাই শারিকা সংঘটিত হবে।

মালেকী আলেম খিরাশী খলীল রহ.-এর বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা করেছেন তা থেকে বোঝা যায়, পুঁজি উপস্থিত করা বা উপস্থিতির স্থলবর্তী কোনো কিছু করা মালেকীদের মতে শর্ত। তবে পুঁজির ক্ষেত্রে নগদ অর্থের মধ্যে তিনি আলোচনা সীমিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি এক শরীকের নগদ অর্থ অনুপস্থিত থাকে তাহলে শারিকা সহীহ হবে না। তবে যদি নগদ অর্থ কাছাকাছি সময়ে হস্তগত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর সম্পদ হাতে আসার পূর্বে ব্যবসা শুরু না করার ব্যাপারে উভয়ে একমত হয়, তাহলে শারিকা সহীহ হবে। পক্ষান্তরে যদি দূরবর্তী সময়ে সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথবা কাছাকাছি সময়ে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই উভয় শরীক ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করতে একমত হয়, অথবা উভয় শরীকের নগদ অর্থ অনুপস্থিত থাকে, যদিও তা কাছাকাছি সময়ে উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে- উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রে শারিকা শুদ্ধ হবে না। তাদের কতকের মতে দূরবর্তী সময় হলো চার দিন। কারো মতে তা দশ দিশ। শেষোক্তটি খিরাশীর স্থিরীকৃত মত। তবে খিরাশী অন্য ব্যাখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার অর্থ এই শর্ত আবশ্যক হওয়ার শর্ত; সহীহ হওয়ার শর্ত নয়। ৮৪

চতুর্থ শর্ত : উভয়ের সম্পদ এক করা : الْخَلْطُ
হানাফী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে শারিকাতুল আমওয়ালে (যৌথপুঁজির কারবার) উভয় শরীকের সম্পদ এক করা শর্ত নয়। মালেকীদের সঠিক রায় হলো, এটি মৌলিকভাবে শারিকা সহীহ হওয়ার শর্ত নয়। বরং ইবনুল কাসিমের মতে তা শারিকা আবশ্যক হওয়ার শর্তও নয়। অধিকাংশ মালেকী ফকীহ তার সাথে অভিন্ন মত পোষণ করেন। ইবনে রুশদ ছাড়া অন্যদের মতে চুক্তি সংঘটন করলেই অর্থাৎ চুক্তির শব্দ পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমেই শারিকা আবশ্যক হয়। চুক্তির সংঘটন 'আমরা শরীক হলাম' অথবা মৌখিক বা কার্যত কোনো আচরণ যা এই অর্থ ধারণ করে তা দ্বারা হোক না কেন। শর্ত হলো শুধু পুঁজির ক্ষেত্রে উভয় শরীকের দায় বা দায়িত্ব গ্রহণ। সুতরাং জামানাতের পূর্বে সম্পদ নষ্ট হলে মালিকের দায়ে বর্তাবে; অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে শারিকা প্রযোজ্য হবে। এ অংশ দ্বারা শারিকার উদ্দেশ্যে যা কিনবে, তা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শারিকার জন্য কেনা হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। তবে অবশিষ্ট পুঁজির মালিক যদি তার শরীকের সম্পদ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানার পর পণ্য কেনে, আর তার শরীক অংশগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হয় অথবা ক্রয়কারী শরীক দাবি করে যে পণ্যটি সে নিজের জন্য কিনেছে তাহলে এই পণ্যের মালিকানা ক্রেতার সাথে নির্দিষ্ট হবে। তবে মালেকী ফকীহদের মতে সম্পদ একত্র করার শর্ত মিছলী (বাজারে যার সদৃশ বিদ্যমান) বস্তুর সাথে নির্দিষ্ট। কীমী বস্তুর (বাজারে যার সদৃশ থাকে না) জামানত উভয়ের সম্পদ একত্র করার ওপর নির্ভরশীল নয়।

উভয়ের সম্পদ বাস্তবিকভাবে একত্র করা অর্থাৎ এমনভাবে একত্র করা যে, কারো সম্পদ আলাদা করা যায় না- তা অবাশ্যক নয়। এটি ইবনুল কাসিম-এর পছন্দনীয় মত। অধিকাংশ মালেকী ফকীহ এ মতের অনুসারী। বরং বিধানগত বিচারে একত্র করা যথেষ্ট। তা এভাবে যে, দুই শরীকের সম্পদ এক ব্যক্তির সংরক্ষিত স্থানে রাখা হলো অথবা দুই শরীকের সংরক্ষিত স্থানে রাখা হলো এভাবে যে, এক দোকানে উভয়ের সম্পদ আলাদা করে রাখা হলো আর এক শরীকের কাছে দোকানের চাবি থাকল অথবা প্রত্যেকের সম্পদ আলাদাভাবে এক একজন সংরক্ষকের কাছে রাখা হলো, আর উভয় সংরক্ষক একজন শরীকের নিকট অথবা উভয়ের সম্পদ রাখা স্থানের নিয়ন্ত্রক অথবা তাদের পছন্দমত কোনো বিশ্বস্ত লোকের হাতে তা অর্পণ করল।

শাফেয়ীদের মতে উভয়ের সম্পদ একত্র না করলে যৌথচুক্তি সম্পাদিত হবে না। অনুরূপ যদি এক করা হয়; তারপরও আলাদা থাকে শ্রেণীভিন্নতার কারণে, যেমন দুই দেশের দুই ছাঁচে তৈরি মুদ্রা অথবা সোনা ও রূপার মুদ্রা অথবা প্রকারগত ভিন্নতার কারণে, যেমন নতুন মুদ্রা ও পুরোনো মুদ্রা তাহলেও যৌথচুক্তি সম্পাদিদ হবে না। কারণ, মিশ্রিত মুদ্রাগুলোর পরস্পর ভিন্নতার দরুন তা হবে অমিশ্রণ ঘটানোর মতো। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক শরীক তার প্রদত্ত সম্পদের লাভ ও ক্ষতি বহন করবে। একত্র করার পূর্বে কারো সম্পদ নষ্ট হলে তা শুধু তার মালিকের দায় থেকে নষ্ট হবে। মালিক অন্য শরীকের নিকট থেকে ক্ষতি উসুল করতে পারবে না। চুক্তির পর সম্পদ একত্র করা শাফেয়ীদের মতে বিবেচ্য নয়। যদিও কতক শাফেয়ীর মতে, চুক্তির পর মজলিস ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্বে উভয়ের সম্পদ এক করা হলেও চলবে। সেক্ষেত্রে বিলম্বিতভাবে এই সম্পদ একত্র করার পর সম্পদে হস্তক্ষেপের জন্য প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন হবে। স্পষ্টত দুইজন যে সম্পদ মীরাস হিসেবে বা কেনার সূত্রে বা তাদেরকে হেবা করার দরুন লাভ করে তা নিজে নিজেই চার প্রকার মিশ্রণে মিশ্রিত হয়; যদিও তা বিভিন্ন মূল্যের পণ্যজাতীয় বস্তু হোক না কেন। ৮৫

টিকাঃ
৭৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬০; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৭
৭৮. এ দুটিকে আভিধানিক ভাবে تبر বলা হয়, আগুনে এগুলোকে গলানো পর্যন্ত। অর্থাৎ খনিজে মিশ্রিত মাটি থেকে পরিষ্কার করার আগে। অন্যথায় এগুলোর নাম نقرة আল মিসবাহ অভিধানে আছে, نقرة অর্থ ঐ রৌপ্যটুকরা, যাকে খনিজ মাটি থেকে পরিস্কার করে আগুনে গলানো হয়েছে।
৭৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫০; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৯ ও ৩৬১; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১৫-১৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩০৬; আল-ফুরূ, খ. ২, পৃ. ৪১৭
৮০. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৬; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৬; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৭
৮১. আশ-শরহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৪৫৮-৪৬১; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৬; আল বাহজা শরহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১২
৮২. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৫
৮৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬০; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১৪ ও ২২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩০৬
৮৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৭; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৭, ৪৯৯, ৫০১; আল- খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৫৮
৮৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৮; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২,,. ২১৩; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৫৩; আল- খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৬, পৃ. ৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00