📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় : আনুপাতিক হারে লাভের পরিমাণ জানা থাকা

📄 দ্বিতীয় : আনুপাতিক হারে লাভের পরিমাণ জানা থাকা


প্রত্যেক শরীকের লাভের অংশ হতে হবে ব্যাপক অংশে নির্দিষ্ট, যা মোট পুঁজিতে প্রত্যেক শরীকের অংশ হিসাবে ধার্য হবে। যেমন অর্ধেক। সুতরাং যদি আনুপাতিক পরিমাণ উল্লেখ ছাড়া শরীকের জন্য লাভের একটি অংশ থাকবে, এই মর্মে চুক্তি হয় তাহলে সে চুক্তি ফাসেদ হবে। কেননা যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য হলো লাভ অর্জন। সুতরাং লাভ অজ্ঞাত থাকলে মূল চুক্তি ফাসেদ হবে। যেমন বিক্রি ও ইজারার ক্ষেত্রে মূলবস্তু এবং তার বিনিময় অজ্ঞাত থাকলে বিক্রি ও ইজারা ফাসেদ হয়ে যায়।

একইভাবে চুক্তি ফাসেদ হবে যদি লাভে শরীকের পরিমাণ জ্ঞাত হলেও পুরো লাভের বিচারে পরিমাণ অজ্ঞাত হয়। যেমন একশ বা তার কম-বেশ। কেননা এভাবে লাভের অংশ নির্ধারণ করা চুক্তির চাহিদা অর্থাৎ লাভে উভয়ের অংশী হওয়ার পরিপন্থী। হতে পারে এক শরীকের জন্য নির্ধারিত অংশ পরিমাণই লাভ অর্জিত হবে। তখন তা একজনের অংশে চলে যাবে। অন্য কারো তাতে কোনো অংশ থাকবে না। তারা বলেন, এমন নির্ধারণ যৌথ কারবারের চুক্তি বাতিল করে দেবে। কেননা শর্তকৃত লভ্যাংশই যদি পূর্ণ অর্জিত লাভ হয় তাহলে শারিকাতে (যৌথ কারবার) যে শরীক লাভ থেকে কোনো অংশ নেয়নি তার নিকট থেকে ধার নেওয়া হয়ে যাবে অথবা তা হবে ইবযা (কাউকে পুঁজির লাভ একক ভাবে প্রদান)। তবে শারিকার পুঁজি বহির্ভূত সম্পদ থেকে শরীকের জন্য নির্দিষ্ট জ্ঞাত পরিমাণ পারিশ্রমিক, যেমন প্রতিমাসে পঞ্চাশ বা একশ দীনার নির্ধারণ করা হয়, তাহলে আল মুহীতুল বুরহানী থেকে আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়‍্যায় উদ্ধৃত করা হয়েছে, শারিকা সহীহ হবে; আর শর্ত বাতিল গণ্য হবে। ৬৮

উল্লিখিত শর্তটি সর্বজনগৃহীত। এ মাসআলায় ইবনুল মুনযির রহ. আলেম সমাজের ঐকমত্য উল্লেখ করেছেন। দুই শরীকের কারো জন্য লাভের নির্দিষ্ট অংক যেমন একশত দীনার শর্ত করা হলে শারিকা সহীহ হবে না। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংকের লাভ এক শরীকের জন্য নির্ধারণ করা হোক বা লাভের আনুপাতিক হার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিরিক্ত নির্ধারণ করা হোক অথবা সে আনুপাতিক হার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কম নির্ধারণ করা হোক বিধান অভিন্ন। কেননা উল্লিখিত সকল অবস্থায় কোনো এক শরীকের জন্য সম্পূর্ণ লাভ বিশিষ্ট করা হতে পারে। আর তা যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য পরিপন্থী। অথবা হানাফীদের পরিভাষা অনুযায়ী যৌথ কারবার বাতিলকারী।

এ পর্যায়ভুক্ত মাসআলা হলো, যদি এক শরীকের জন্য যৌথ কারবারের দ্রব্যাদির নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কোনো দ্রব্যের অর্জিত লাভ প্রদানের শর্ত করা হয়। যেমন এই কাপড় বা এই দু কাপড়ের একটি অথবা অনুরূপভাবে সফরের লাভ, যেমন প্যারিসের এই সফর অথবা এই সফর এবং তার পরবর্তী লন্ডনের সফর অথবা এই মাস বা এই বছরের লাভ কোনো এক শরীককে প্রদানের শর্ত করা হলে যৌথ কারবার বাতিল হবে।

হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে এক শরীক যদি অপর শরীককে বলে, অর্ধেক পণ্যের লাভ তোমার, তাহলে এটিও উল্লিখিত মাসআলার পর্যায়ভুক্ত হয়ে শর্তের কারণে বাতিল হবে। কেননা এর পরিণতি হলো, লাভের একটি অংশে একজনের প্রাধান্য হবে এ ধারণায় যে, এ লাভ সে অর্ধেকে তার কাজ থেকে অর্জিত। তবে যারা মনে করেন 'অর্ধেকের লাভ' আর 'লাভের অর্ধেক' এক তাদের মত ভিন্ন। তাদের নিকট তা জায়েয হবে। ৬৯

টিকাঃ
৬৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৯, ৮১; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৫; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ২, পৃ. ৩৫০; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪
৬৯. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৪, ১৪৮, ১৪৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় প্রকার শর্তাবলি : যেগুলো শারিকাতুল মুফাওযাযার সাথে বিশিষ্ট

📄 দ্বিতীয় প্রকার শর্তাবলি : যেগুলো শারিকাতুল মুফাওযাযার সাথে বিশিষ্ট


এ শর্তগুলোর কোনো একটিতে ব্যতিক্রম হলে এই শারিকা শারিকাতুল আনানে রূপান্তরিত হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : কাফীল হওয়ার যোগ্যতা

📄 প্রথম : কাফীল হওয়ার যোগ্যতা


হানাফীদের মতে এটি উভয় শরীকের জন্য আবশ্যক শর্ত। কেননা তাদের প্রত্যেকে ব্যবসার ঋণ এবং এজাতীয় ঋণের ক্ষেত্রে অপরজনের কাফীলের স্থলাভিষিক্ত। ব্যবসাজাতীয় ঋণের নমুনা হলো কর্জ নেওয়া। এ জাতীয় যা কিছু এক শরীকের জন্য আবশ্যক অপর শরীকের জন্যও তা আবশ্যক হবে। সুতরাং যার মাঝে এই যোগ্যতার শর্তগুলো- যেমন বালেগ হওয়া, সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া ইত্যাদি পূর্ণরূপে নেই তার জন্য শারিকাতুল মুফাওয়াযা বৈধ নয়। যদি নাবালেগ শিশু অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এই শারিকা করে তবুও তা বৈধ হবে না। যেহেতু এটির প্রতিবন্ধকতা ব্যক্তিগত; শিশু তো স্বেচ্ছাদানের যোগ্য নয়। তাছাড়া এই কাফালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত প্রকারের যে ঋণ এক শরীকের ওপর আবশ্যক সেটিতে অন্য শরীকের কাফালাত গ্রহণ। এ কারণে ইমাম মুহাম্মদ রহ. মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির শারিকাতুল মুফাওয়াযায় অংশগ্রহণে নিষেধ করেন। এবং তার শ্রেণীভুক্ত যেমন মুরতাদ। কেননা তার কাফালাত তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশে সীমিত। অথচ শারিকাতুল মুফাওয়াযা-য় কাফালাত সীমিত নয়।

মৌলিকভাবে শারিকাতুল মুফাওয়াযার ক্ষেত্রে যারা হানাফীদের সঙ্গে একমত, তারা বিশদ বিধানে ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা হচ্ছেন মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ। তারা কাফালাতকে এই শারিকার ভিত্তি নির্ধারণ করেননি। তারা শারিকাতুল মুফাওয়াযায় নিহিত ওকালাতকে যথেষ্ট মনে করেন। তাই তাদের মতে এই শরিকায় এক শরীকের ওপর আবশ্যক অর্থদণ্ডের দায় অপর শরীকের ওপর আবশ্যক হবে না, যতক্ষণ না তার অনুমোদনক্রমে প্রথম শরীক অর্থদণ্ডের আবশ্যকীয় কারণে অংশ নেয়। ৭০

দ্বিতীয় : ইমাম আবু হানীফা ও মুহাম্মদ রহ. হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতায় সমান হওয়া শর্ত মনে করেন। তাই তাদের মতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, এক ধর্মাবলম্বী, যেমন দুজন মুসলমান বা দুজন খ্রিস্টানের মাঝে শারিকা চুক্তি সহীহ। এক্ষেত্রে এক ধর্মাবলম্বী হওয়ার স্থলবর্তী হবে দুই জিম্মী (মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক) যদিও তাদের একজন হয় আহলে কিতাব (ইহুদী বা খ্রিস্টান), আর অন্যজন হয় অগ্নিপূজক। তারা একই বিধানভুক্ত গণ্য হবে, কারণ ইসলাম ছাড়া সকল ধর্ম এক ধর্মের হুকুমভুক্ত। ৭১

স্বাধীন এবং গোলামের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ নয়, যদিও গোলাম মুকাতাব (নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আযাদ হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ) বা লেনদেনের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়। একইভাবে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর মাঝে, মুসলমান ও কাফেরের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ নয়। যেহেতু উপরিউক্ত শর্ত- উভয়ে কর্তৃত্বের যোগ্য হওয়া-অনুপস্থিত। কারণ স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য অনুমতি থাকলেও গোলাম ও শিশু লেনদেনে নিষিদ্ধ ব্যক্তি। কাফের শূকর কিনতে ও বিক্রি করতে পারবে, অথচ মুসলমান তেমন করতে পারে না। (তাই তাদের মাঝেও মুফাওয়াযার কারবার হতে পারে না।)

আবু ইউসুফ রহ. ওকালাত ও কাফালাতের যোগ্যতায় সমান হওয়া যথেষ্ট মনে করেন। এছাড়া অন্য বিষয়ের তারতম্য বিবেচনা করেন না। এ কারণে তিনি আহলে কিতাব ও অগ্নিপূজকের মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযা সহীহ হওয়ার সাথে তুলনা করে মুসলমান ও জিম্মীর মাঝে শারিকাতুল মুফাওয়াযার সংঘটন বিশুদ্ধ মনে করেন। ওকালাত ও কাফালাতের যোগ্যতায় সমান হওয়ার পর কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপের যোগ্যতার কমবেশ সত্ত্বেও উপরিউক্ত চুক্তি তার মতে বৈধ। তবে তিনি মুসলমান ও কাফেরের যৌথ কারবার মাকরূহ মনে করেন। কেননা কাফের ইসলামে বৈধ হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে অবগত থাকবে না। আর খোঁজ পেলেও সে বৈধ ক্ষেত্রগুলোর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্র, যেমন সুদ ও এ জাতীয় বিষয় থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে না। এভাবে তার সাথে যৌথ কারবারের কারণে মুসলমান অবৈধ ও হারাম বস্তু ভক্ষণের শিকার হবে। ৭২

মুসলমান ও কাফেরের যৌথ কারবারকে শাফেয়ীরা মাকরূহ মনে করেন। মালেকী ও হাম্বলীগণ মাকরূহ হওয়ার ত্রুটি দূর করেন এই শর্ত আরোপ করেন, কাফের শরীক মুসলিম শরীকের উপস্থিতি ছাড়া কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ, তখন যৌথ কারবারে কাফেরের হস্তক্ষেপ দ্বারা শরীয়তের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পাদন করা থেকে নিরাপদ থাকা যাবে। আর যে সকল হস্তক্ষেপে মুসলিম শরীক অনুপস্থিত থাকবে আর সে ক্ষেত্রে শরীয়ত নির্দেশিত ক্ষেত্রের বাইরে অন্য ক্ষেত্রে যেমন সুদচুক্তি, মদ ও মৃত জন্তু কেনা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হবে, হাম্বলীদের স্পষ্ট ভাষ্যমতে সে চুক্তি ফাসেদ হওয়ার সাথে সাথে দন্ড ও দায় কাফেরের ওপর আবশ্যক হবে। আর যেক্ষেত্রে হারাম বিষয়ে চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট, সেক্ষেত্রে মূলনীতি হলো চুক্তিটি বৈধ হওয়া।

জায়েয হওয়ার পক্ষে তাদের দলিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসী ইহুদীদের সাথে খায়বারের ভূমিতে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেকের বিনিময়ে যৌথ কারবার করেছিলেন। এমনিভাবে মদীনায় এক ইহুদীর নিকট থেকে তিনি খাবার কিনেছেন এবং তার কাছে নিজ বর্ম বন্ধক রেখেছেন। এরপর তা বন্ধক থাকা অবস্থায় নবীজীর ওফাত হয়েছে। ৭৩ এটিও তাদের সাথে কৃত চুক্তি। মালেকীদের বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো মতবিরোধ প্রকাশিত হয় না। তবে তারা বলেন, যদি মুসলিম শরীক তার কাফের শরীকের সুদী কারবারে সন্দিহান হয় তাহলে তার লাভটুকু দান করে দেওয়া মুস্তাহাব। আর যদি মদ সংক্রান্ত কারবারে সন্দিহান হয় তাহলে সমুদয় অর্থ সদকা করা উচিত। ৭৪

টিকাঃ
৭০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬০-৬১; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮; আল-খিরাশী, আলা-খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬১; আশ-শরহুল কাবীর, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৯৮
৭১. এটি ফাতহুল কাদীর গ্রন্থকারের কারণ বিশেষণ। আল-ইনায়া গ্রন্থকারের কারণ বিশেষণ ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, উভয়ে যিম্মী হওয়ার বিবেচনায় সমান হওয়ার কারণে। (আল-ইনায়া আলাল হিদায়া, ফাতহুল কাদীরসহ, খ. ৫, পৃ. ৭)
৭২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৭-৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮
৭৩. ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে হাদীসটি বুখারী রহ. উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ১৩; ছাপা, আস সালাফিয়্যা; মুসলিম রহ., খ. ৩, পৃ. ১১৮৬ ছাপা হালাবী, আয় হাদীসটি বুখারী রহ. উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৯৯; ছাপা আস সালাফিয়্যা।
৭৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১১০; মাতালিবু উলিন মুহা, খ. ৩, পৃ. ২৪৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ামী, খ. ২, পৃ. ১৭২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬১; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তৃতীয় : কোনো শরীকের পক্ষ থেকে শ্রমদানের শর্ত না করা

📄 তৃতীয় : কোনো শরীকের পক্ষ থেকে শ্রমদানের শর্ত না করা


যদি (শারিকাতুল মুফাওয়াযায়) কোনো এক শরীকের শ্রমদানের শর্ত করা হয় তাহলে হানাফীদের মতে এই যৌথ কারবার বাতিল হবে। ৭৫ কেননা এই শর্তারোপ মৌলিক কার্য পরিচালনার যেগুলোতে অংশগ্রহণ সম্ভব সেগুলোতে সমতাবিধান শীর্ষক করা মুফাওয়াযা চুক্তির বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী। মালেকীদের মত এক্ষেত্রে হানাফীদের মতের কাছাকাছি। যেহেতু সাধারণভাবে সকল যৌথ পুঁজির কারবারে তাদের শর্ত হলো, মূল পুঁজি অনুসারে শরীকের শ্রমদান। অর্থাৎ প্রত্যেক শরীক তার পুঁজি অনুপাতে শ্রমদান করবে। সুতরাং যদি মূল পুঁজির অর্ধেক তার হয় তাহলে এই কারবারে তাকে অর্ধেক শ্রমদান করতে হবে। আর যদি তার প্রদত্ত পুঁজি হয় তিন ভাগের দুভাগ তাহলে ওই পরিমাণ শ্রমদান করতে হবে। এটিই মৌলনীতি, যদি ব্যতিক্রম কোনো শর্ত না করা হয়। যেমন এক বা দুই তৃতীয়াংশ শ্রমদানের শর্ত করা হয় অর্ধেক পুঁজি দেওয়া শরীকের জন্য; সেক্ষেত্রে শারিকা ফাসেদ হবে, আর লাভ বণ্টিত হবে পুঁজিতে প্রদত্ত পরিমাণ অনুসারে। প্রত্যেক শরীক অপর শরীকের নিকট থেকে তার প্রাপ্য শ্রমের বিনিময় উসুল করবে। শর্ত করা ছাড়া কোনো শরীক যদি স্বেচ্ছাদান হিসেবে অতিরিক্ত শ্রমদান করে, তাহলে তাতে সমস্যা নেই। এটি তার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও স্বেচ্ছাদান। ৭৬

টিকাঃ
৭৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩৫০
৭৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭০; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00