📄 সাধারণ শর্তসমূহ
এই শর্তগুলো যৌথ কারবারের মূল তিন প্রকার : শারিকাতুল আমওয়াল, শারিকাতুল আমাল ও শারিকাতুল ওজুহ-এর কোনো এক প্রকারের সাথে নির্দিষ্ট নয়। এগুলো সাধারণ শর্ত; তা বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত: প্রথম প্রকার: মুফাওয়াযা ও আনান উভয় শারিকার ক্ষেত্রে:
📄 প্রথম : ওকালাত গ্রহণের যোগ্যতা
দুটি বিষয়ের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করা যায়:
১. ওকালাতের জন্য চুক্তিকৃত কার্য পরিচালনার যোগ্যতা: যেন তা দ্বারা শারিকার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। শারিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভের ক্ষেত্রে অংশীদারী। কেননা এর পন্থা হলো, দুজন শরীকের প্রত্যেকে অপরের ওকীল হবে তার কর্তৃত্বাধীন বস্তুর অর্ধেকে আর বাকি অর্ধেকে হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে সে হবে মূল ব্যক্তি। অন্যথায় পুরো অংশে মূল ব্যক্তি পূর্ণ লাভ অর্জনে একক ব্যক্তি হবে। অপরের পক্ষ থেকে কার্য সম্পাদনকারী সাধারণত কর্তৃত্ব বা ওকালাতের ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন করে। ধরে নেয়া যাক কর্তৃত্ব নেই, তাহলে শুধু ওকালাতই অবশিষ্ট থাকল। ৬১
সুতরাং ঘাস কাটা, কাঠ কাটা, শিকার করা ইত্যাদি এমন কাজ যেগুলোতে শারিকা বৈধ নয়, যেহেতু এগুলো ওকালাত গ্রহণের অযোগ্য। এগুলোর ক্ষেত্রে মালিকানার কারণটি যে সম্পাদন করে (অর্থাৎ শিকার করা, ধরা বা গ্রহণ করা) তার জন্যই মালিকানা সাব্যস্ত হয়, যেমন অন্যান্য মুবাহ বিষয়ের মালিকানার ক্ষেত্রে। শরীয়ত এগুলোর ক্ষেত্রে আগে হাতে নেওয়াকে মালিকানার কারণ সাব্যস্ত করেছে। ৬২
২. প্রত্যেক শরীকের ওকীল বানানো ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা কেননা প্রত্যেক শরীক অর্ধেক সম্পদে ওকীল এবং অন্য অর্ধেকে মূল ব্যক্তি। সুতরাং ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত নয় এমন বালক এবং এমন বিকারগ্রস্ত যে সুস্থমস্তিক নয় তাদের পক্ষ থেকে যৌথ কারবার সহীহ নয়। ৬৩
উল্লিখিত শর্তটির উভয় অংশ সর্বজনগৃহীত। ৬৪ কেননা সকলে একমত যে, শারিকাতে ওকালাত অন্তর্ভুক্ত। তবে এই শর্তের প্রয়োগক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ:
ক. মুবাহ বিষয়াদি: হানাফীদের মতে এটি ওকালাত গ্রহণের যোগ্য নয়। তবে অন্যদের মতে তা ওকালাত গ্রহণের যোগ্য। এ কারণে মালেকীগণ শারিকাতুল আবদানের (যৌথ কায়িক পরিশ্রম) উদাহরণ দিয়েছেন, একাধিক শিকারীর শিকার সন্ধান অথবা একাধিক খননকারীর খনিজসম্পদ সন্ধান- যা বর্তমানে যৌথ পেট্রোল কারবার সদৃশ- এবং খননকাজে যৌথ অংশগ্রহণ করা। মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা বৈধ হওয়া হাম্বলীদের স্পষ্ট মত। এমনকি তারা এই শারিকাকে শারিকাতুল আমালের একটি পৃথক প্রকার নির্ধারণ করেছেন। ৬৫
খ. লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবকের যৌথ কারবার: শাফেয়ী ও হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবক লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির সম্পদ দিয়ে যৌথ কারবার করা বৈধ। কেননা এই সম্পদ দ্বারা তার জন্য মুদারাবা করা জায়েয। অথচ মুদারাবার ক্ষেত্রে শ্রমিক লাভের একটা অংশ নিয়ে যায়। সুতরাং যৌথ কারবার জায়েয হওয়া তো আরো অধিক যুক্তিযুক্ত। যেহেতু এর লাভ পুরোটাই পুঁজিদাতা ব্যক্তি পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মত হলো, দুই শরীকের একজন যদি মারা যায় আর মৃত শরীকের ওয়ারিস লেনদেন-নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এই ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে শারিকা কল্যাণকর মনে হলে তা অব্যাহত রাখা। এর প্রয়োজনীয় শর্ত হলো, কার্য সম্পাদনকারী শরীকের বিশ্বস্ত হওয়া। যদি তার আমানতদারি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানা যায়, পরে সম্পদও নষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবককে জরিমানা বহন করতে হবে। কারণ, অপর শরীকের আমানতদারির খোঁজ নিতে সে ত্রুটি করেছে। ৬৬
স্মর্তব্য যে, ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা এ দুটি যোগ্যতা বিবেচ্য সে ক্ষেত্রে, যেখানে উভয়ের সাথে কাজ যুক্ত হবে। যদি শুধু একজনের সাথে যুক্ত হয় তাহলে হানাফীদের মতে এটি শুধু শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে হতে পারে। সেখানে শর্ত হলো, অনুমতি প্রদানকারীর ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা আর অনুমতিপ্রাপ্তের ওকীল হওয়ার যোগ্যতা। এজন্য এক্ষেত্রে শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এ অবস্থায় অনুমতি প্রদানকারী অন্ধ হতে পারে। যদিও উভয়ের সম্পদ একত্র করার ক্ষেত্রে ওকীল নিয়োগ আবশ্যক। তবে অনুমতিপ্রাপ্তের চক্ষুষ্মান হওয়া আবশ্যক। ৬৭
টিকাঃ
৬১. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩০
৬২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; পুরোটা রয়েছে বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৩
৬৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৮
৬৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১০৯
৬৫. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২২৫ ও ২৬৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭১; মাতালিবু উনিল নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৫; দালীলুত তালিব, পৃ. ১২৭
৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
৬৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩
দুটি বিষয়ের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করা যায় :
১. ওকালাতের জন্য চুক্তিকৃত কার্য পরিচালনার যোগ্যতা : যেন তা দ্বারা শারিকার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। শারিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভের ক্ষেত্রে অংশীদারী। কেননা এর পন্থা হলো, দুজন শরীকের প্রত্যেকে অপরের ওকীল হবে তার কর্তৃত্বাধীন বস্তুর অর্ধেকে আর বাকি অর্ধেকে হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে সে হবে মূল ব্যক্তি। অন্যথায় পুরো অংশে মূল ব্যক্তি পূর্ণ লাভ অর্জনে একক ব্যক্তি হবে। অপরের পক্ষ থেকে কার্য সম্পাদনকারী সাধারণত কর্তৃত্ব বা ওকালাতের ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন করে। ধরে নেয়া যাক কর্তৃত্ব নেই, তাহলে শুধু ওকালাতই অবশিষ্ট থাকল। ৬১
সুতরাং ঘাস কাটা, কাঠ কাটা, শিকার করা ইত্যাদি এমন কাজ যেগুলোতে শারিকা বৈধ নয়, যেহেতু এগুলো ওকালাত গ্রহণের অযোগ্য। এগুলোর ক্ষেত্রে মালিকানার কারণটি যে সম্পাদন করে (অর্থাৎ শিকার করা, ধরা বা গ্রহণ করা) তার জন্যই মালিকানা সাব্যস্ত হয়, যেমন অন্যান্য মুবাহ বিষয়ের মালিকানার ক্ষেত্রে। শরীয়ত এগুলোর ক্ষেত্রে আগে হাতে নেওয়াকে মালিকানার কারণ সাব্যস্ত করেছে। ৬২
২. প্রত্যেক শরীকের ওকীল বানানো ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা কেননা প্রত্যেক শরীক অর্ধেক সম্পদে ওকীল এবং অন্য অর্ধেকে মূল ব্যক্তি। সুতরাং ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত নয় এমন বালক এবং এমন বিকারগ্রস্ত যে সুস্থমস্তিক নয় তাদের পক্ষ থেকে যৌথ কারবার সহীহ নয়। ৬৩
উল্লিখিত শর্তটির উভয় অংশ সর্বজনগৃহীত। ৬৪ কেননা সকলে একমত যে, শারিকাতে ওকালাত অন্তর্ভুক্ত। তবে এই শর্তের প্রয়োগক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ :
ক. মুবাহ বিষয়াদি : হানাফীদের মতে এটি ওকালাত গ্রহণের যোগ্য নয়। তবে অন্যদের মতে তা ওকালাত গ্রহণের যোগ্য। এ কারণে মালেকীগণ শারিকাতুল আবদানের (যৌথ কায়িক পরিশ্রম) উদাহরণ দিয়েছেন, একাধিক শিকারীর শিকার সন্ধান অথবা একাধিক খননকারীর খনিজসম্পদ সন্ধান- যা বর্তমানে যৌথ পেট্রোল কারবার সদৃশ- এবং খননকাজে যৌথ অংশগ্রহণ করা। মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা বৈধ হওয়া হাম্বলীদের স্পষ্ট মত। এমনকি তারা এই শারিকাকে শারিকাতুল আমালের একটি পৃথক প্রকার নির্ধারণ করেছেন। ৬৫
খ. লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবকের যৌথ কারবার : শাফেয়ী ও হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবক লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির সম্পদ দিয়ে যৌথ কারবার করা বৈধ। কেননা এই সম্পদ দ্বারা তার জন্য মুদারাবা করা জায়েয। অথচ মুদারাবার ক্ষেত্রে শ্রমিক লাভের একটা অংশ নিয়ে যায়। সুতরাং যৌথ কারবার জায়েয হওয়া তো আরো অধিক যুক্তিযুক্ত। যেহেতু এর লাভ পুরোটাই পুঁজিদাতা ব্যক্তি পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মত হলো, দুই শরীকের একজন যদি মারা যায় আর মৃত শরীকের ওয়ারিস লেনদেন-নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এই ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে শারিকা কল্যাণকর মনে হলে তা অব্যাহত রাখা। এর প্রয়োজনীয় শর্ত হলো, কার্য সম্পাদনকারী শরীকের বিশ্বস্ত হওয়া। যদি তার আমানতদারি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানা যায়, পরে সম্পদও নষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবককে জরিমানা বহন করতে হবে। কারণ, অপর শরীকের আমানতদারির খোঁজ নিতে সে ত্রুটি করেছে। ৬৬
স্মর্তব্য যে, ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা এ দুটি যোগ্যতা বিবেচ্য সে ক্ষেত্রে, যেখানে উভয়ের সাথে কাজ যুক্ত হবে। যদি শুধু একজনের সাথে যুক্ত হয় তাহলে হানাফীদের মতে এটি শুধু শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে হতে পারে। সেখানে শর্ত হলো, অনুমতি প্রদানকারীর ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা আর অনুমতিপ্রাপ্তের ওকীল হওয়ার যোগ্যতা। এজন্য এক্ষেত্রে শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এ অবস্থায় অনুমতি প্রদানকারী অন্ধ হতে পারে। যদিও উভয়ের সম্পদ একত্র করার ক্ষেত্রে ওকীল নিয়োগ আবশ্যক। তবে অনুমতিপ্রাপ্তের চক্ষুষ্মান হওয়া আবশ্যক। ৬৭
টিকাঃ
৬১. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩০
৬২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; পুরোটা রয়েছে বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৩
৬৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৮
৬৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১০৯
৬৫. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২২৫ ও ২৬৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭১; মাতালিবু উনিল নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৫; দালীলুত তালিব, পৃ. ১২৭
৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
৬৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩
📄 দ্বিতীয় : আনুপাতিক হারে লাভের পরিমাণ জানা থাকা
প্রত্যেক শরীকের লাভের অংশ হতে হবে ব্যাপক অংশে নির্দিষ্ট, যা মোট পুঁজিতে প্রত্যেক শরীকের অংশ হিসাবে ধার্য হবে। যেমন অর্ধেক। সুতরাং যদি আনুপাতিক পরিমাণ উল্লেখ ছাড়া শরীকের জন্য লাভের একটি অংশ থাকবে, এই মর্মে চুক্তি হয় তাহলে সে চুক্তি ফাসেদ হবে। কেননা যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য হলো লাভ অর্জন। সুতরাং লাভ অজ্ঞাত থাকলে মূল চুক্তি ফাসেদ হবে। যেমন বিক্রি ও ইজারার ক্ষেত্রে মূলবস্তু এবং তার বিনিময় অজ্ঞাত থাকলে বিক্রি ও ইজারা ফাসেদ হয়ে যায়।
একইভাবে চুক্তি ফাসেদ হবে যদি লাভে শরীকের পরিমাণ জ্ঞাত হলেও পুরো লাভের বিচারে পরিমাণ অজ্ঞাত হয়। যেমন একশ বা তার কম-বেশ। কেননা এভাবে লাভের অংশ নির্ধারণ করা চুক্তির চাহিদা অর্থাৎ লাভে উভয়ের অংশী হওয়ার পরিপন্থী। হতে পারে এক শরীকের জন্য নির্ধারিত অংশ পরিমাণই লাভ অর্জিত হবে। তখন তা একজনের অংশে চলে যাবে। অন্য কারো তাতে কোনো অংশ থাকবে না। তারা বলেন, এমন নির্ধারণ যৌথ কারবারের চুক্তি বাতিল করে দেবে। কেননা শর্তকৃত লভ্যাংশই যদি পূর্ণ অর্জিত লাভ হয় তাহলে শারিকাতে (যৌথ কারবার) যে শরীক লাভ থেকে কোনো অংশ নেয়নি তার নিকট থেকে ধার নেওয়া হয়ে যাবে অথবা তা হবে ইবযা (কাউকে পুঁজির লাভ একক ভাবে প্রদান)। তবে শারিকার পুঁজি বহির্ভূত সম্পদ থেকে শরীকের জন্য নির্দিষ্ট জ্ঞাত পরিমাণ পারিশ্রমিক, যেমন প্রতিমাসে পঞ্চাশ বা একশ দীনার নির্ধারণ করা হয়, তাহলে আল মুহীতুল বুরহানী থেকে আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যায় উদ্ধৃত করা হয়েছে, শারিকা সহীহ হবে; আর শর্ত বাতিল গণ্য হবে। ৬৮
উল্লিখিত শর্তটি সর্বজনগৃহীত। এ মাসআলায় ইবনুল মুনযির রহ. আলেম সমাজের ঐকমত্য উল্লেখ করেছেন। দুই শরীকের কারো জন্য লাভের নির্দিষ্ট অংক যেমন একশত দীনার শর্ত করা হলে শারিকা সহীহ হবে না। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংকের লাভ এক শরীকের জন্য নির্ধারণ করা হোক বা লাভের আনুপাতিক হার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিরিক্ত নির্ধারণ করা হোক অথবা সে আনুপাতিক হার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কম নির্ধারণ করা হোক বিধান অভিন্ন। কেননা উল্লিখিত সকল অবস্থায় কোনো এক শরীকের জন্য সম্পূর্ণ লাভ বিশিষ্ট করা হতে পারে। আর তা যৌথ কারবারের উদ্দেশ্য পরিপন্থী। অথবা হানাফীদের পরিভাষা অনুযায়ী যৌথ কারবার বাতিলকারী।
এ পর্যায়ভুক্ত মাসআলা হলো, যদি এক শরীকের জন্য যৌথ কারবারের দ্রব্যাদির নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কোনো দ্রব্যের অর্জিত লাভ প্রদানের শর্ত করা হয়। যেমন এই কাপড় বা এই দু কাপড়ের একটি অথবা অনুরূপভাবে সফরের লাভ, যেমন প্যারিসের এই সফর অথবা এই সফর এবং তার পরবর্তী লন্ডনের সফর অথবা এই মাস বা এই বছরের লাভ কোনো এক শরীককে প্রদানের শর্ত করা হলে যৌথ কারবার বাতিল হবে।
হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্যমতে এক শরীক যদি অপর শরীককে বলে, অর্ধেক পণ্যের লাভ তোমার, তাহলে এটিও উল্লিখিত মাসআলার পর্যায়ভুক্ত হয়ে শর্তের কারণে বাতিল হবে। কেননা এর পরিণতি হলো, লাভের একটি অংশে একজনের প্রাধান্য হবে এ ধারণায় যে, এ লাভ সে অর্ধেকে তার কাজ থেকে অর্জিত। তবে যারা মনে করেন 'অর্ধেকের লাভ' আর 'লাভের অর্ধেক' এক তাদের মত ভিন্ন। তাদের নিকট তা জায়েয হবে। ৬৯
টিকাঃ
৬৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৯, ৮১; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৫; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৩৫০; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৪
৬৯. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১২৪, ১৪৮, ১৪৯; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০০
📄 দ্বিতীয় প্রকার শর্তাবলি : যেগুলো শারিকাতুল মুফাওযাযার সাথে বিশিষ্ট
এ শর্তগুলোর কোনো একটিতে ব্যতিক্রম হলে এই শারিকা শারিকাতুল আনানে রূপান্তরিত হবে।