📄 শারিকা বা যৌথচুক্তির শব্দ : صِيغَةُ عَقْدِ الشَّرِكَةِ
প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণের মাধ্যমে যৌথচুক্তি সংঘটিত হয়। মূল পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান সংঘটনে এর নমুনা হচ্ছে: এক ব্যক্তি অপরকে বলবে, আমি একশ দীনার দিয়ে তোমার সাথে যৌথ কারবারে শরীক হলাম। এ মর্মে যে, আমরা তা দিয়ে ব্যবসা করব আর লাভ আমাদের মাঝে অর্ধেক অনুপাতে বণ্টিত হবে। এভাবে বলল এবং ব্যবসাকে প্রকারমুক্ত রাখল অথবা কোনো প্রকারের সাথে যুক্ত করল, যেমন তৈরী পশমের পোশাক অথবা যে কোনো তৈরি পোশাক। এরপর অপর ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে।
পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযায় এর নমুনা হলো এক ব্যক্তি অপরকে বলবে- উভয়ে স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান বা জিম্মী- আমি তোমার সাথে আমার ও তোমার সমুদয় অর্থে শরীক হলাম (এই ব্যক্তির অর্থ ঐ ব্যক্তির অর্থের পরিমাণ) এ মর্মে যে, এ পুঁজি দ্বারা আমরা সকল প্রকার ব্যবসায় করব আর ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকে অপরের কাফীল। এরপর অপর ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে।
মুখে বলার স্থলাভিষিক্ত হবে কাজ দ্বারা বোঝানো। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি তার মালিকানাধীন সমুদয় অর্থ বের করে, আর অপরকে বলে, তুমি অনুরূপ অর্থ বের করো এবং পণ্য কেনো। আল্লাহ আমাদেরকে যে লাভ দেবেন তা আমাদের মাঝে সমান হারে অথবা দুই তৃতীয়াংশ তোমার আর এক তৃতীয়াংশ আমার এই হারে বণ্টিত হবে; অপর ব্যক্তি কোনো কথা বলল না। তবে সে তার অর্থ নিল আর নিজ অর্থ দিল। তার সঙ্গীর ইশারা অনুসারে কাজ করল, তাহলে এটিও বিশুদ্ধ শারিকাতুল আনান হবে।
শারিকাতুল মুফাওয়াযার ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এক ব্যক্তি তার মালিকানার সমুদয় অর্থ বের করল এবং তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক কোনো সঙ্গীকে বলল, এ পরিমাণ অর্থ বের করো। এই শর্তে যে, দুজনের সমুদয় অর্থ দিয়ে আমরা সকল প্রকার ব্যবসা করব। সমানহারে আমাদের মাঝে লাভ বণ্টিত হবে। ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে একজন হবে অপরের কাফীল; তারপর অপর ব্যক্তি কোনো কথা বলল না। কিন্তু তার সঙ্গীর ইশারা অনুযায়ী সবকিছু করল। তাহলে এটিও বিশুদ্ধ শারিকাতুল মুফাওয়াযা হবে। এটি হানাফীদের মত। ৫৬
কাজ দ্বারা বোঝানো যথেষ্ট, এটি মালেকী ও হাম্বলীদেরও মত। কারণ তারা বলার ক্ষেত্রে প্রচলনে অনুমতি বোঝানোকে বিবেচনা করেন- যদি তা শব্দজাতীয় বা শব্দের স্থলবর্তী কোনো কিছু না হয়; যেমন লেখা বা বোবা ব্যক্তির স্পষ্ট ইশারা হয়, তাহলেও তা অনুমতি বুঝাবে। এজন্য মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, দু'জনের একজন অপর জনকে যদি বলে, আমাকে শরীক করে নাও আর অপর ব্যক্তি নীরব থাকার মাধ্যমে তার সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলেও যথেষ্ট। দু'জনের সম্পদ একসাথে করা বা যৌথ কারবারে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করাও এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে। যেমন হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, যৌথ কারবার নিয়ে দুই ব্যক্তির কথা বলা এবং কাছাকাছি সময়ে উভয়ের সম্পদ একত্র করা এবং কাজ শুরু করা যৌথ কারবার অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট।
শাফেয়ীদের মতে, কাজ দিয়ে বোঝানো শব্দ বা তার স্থলবর্তী হবে না। কারণ, মালিকের কাছে নিজ সম্পদের সংরক্ষণ হচ্ছে মৌলিক অবস্থা। সুতরাং মালিকের মালিকানা থেকে বের করতে হলে অতিরিক্ত শক্তিসম্পন্ন কোনো নির্দেশ লাগবে। এমনকি 'আমরা শরীক হলাম' বলা দ্বারা শারিকা সংঘটিত হওয়ার মতকে শাফেয়ীগণ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ এ সম্ভাবনা আছে যে, উল্লিখিত শব্দ দিয়ে বিগত কোনো যৌথ কারবার বা হস্তক্ষেপমুক্ত প্রতিষ্ঠিত যৌথ মালিকানার সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং শারিকা সংঘটিত হওয়ার জন্যে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বাক্য হওয়া জরুরি।
তারা শারিকাতুল মুফাওয়াযার শব্দ দিয়ে শারিকাতুল আনান সংঘটিত হওয়া বৈধ মনে করেন। যদি তা শারিকাতুল আনান-এর নিয়তযুক্ত হয়। অন্যথায় শব্দ বাতিল গণ্য হবে, যেহেতু তাদের মতে শারিকাতুল মুফাওয়াযা বৈধ নয়। মোদ্দাকথা, তাদের মতে শারিকার উপযুক্ত শব্দ হলো যা শারিকাতুল আনান-এর ইঙ্গিতবাহী, যেহেতু ইঙ্গিতের মাধ্যমে চুক্তি সংঘটন বৈধ। ৫৭
কাজ গ্রহণের ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার নমুনা হলো, কাফালাত গ্রহণের যোগ্য দুজনের একজন অপর জনকে বলবে : আমি তোমার সাথে শরীক হলাম সকল কাজে অথবা এই পেশায় (সেলাই করা, ছুতারের কাজ বা কাসারের কাজ) ৫৮ এই মর্মে যে, আমাদের উভয়ে কাজ গ্রহণ করবে আর আমি ও তুমি কাজের দায়, ক্ষতি ও লাভে সমান শরীক এবং এ মর্মে যে, যৌথ কারবারের কারণে প্রত্যেকের ওপর যা আবশ্যক হবে অপরজন তার কাফীল। এরপর অপরজন প্রস্তাব গ্রহণ করবে। উল্লিখিত শব্দের অনুপস্থিতিতে পারস্পরিক চুক্তি হলে এটি হবে শারিকাতুল আনান। তবে অবশ্যই দুজনকে ওকালাত গ্রহণের যোগ্য হতে হবে, যেমনটা স্পষ্ট বিবৃত হয়েছে। ৫৯
ওজুহের ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার নমুনা হলো: কাফালাত গ্রহণের যোগ্য দুজনের একজন অপর জনকে বলবে, আমি তোমার সাথে শরীক হলাম এই মর্মে যে, আমি আর তুমি যৌথ ব্যবসা করব। বাকিতে কিনে নগদে বিক্রি করব। আমরা যা কিনব সে বস্তু, তার মূল্য ও লাভের ক্ষেত্রে সমতাবিধান এবং ব্যবসার ঋণ ও এজাতীয় যে দায় প্রত্যেকের আবশ্যক হয় সেগুলোতে প্রত্যেকে অপরের কাফীল হবো। তখন অপরজন তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
উপরিউক্ত শব্দে শর্তাদির কোনোটি লঙ্ঘিত হলে এই কারবার শারিকাতুল আনানে পরিণত হবে। তবে সর্বাবস্থায় উভয়ের ওকালাত গ্রহণের যোগ্য হওয়া এবং বস্তুর মূল্যের দায় অনুপাতে উভয়ের মাঝে লাভ বণ্টিত হওয়া আবশ্যক। সামনে শর্তাদির আলোচনায় এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা আসছে।
এক শরীক যদি অপরকে বলে, আমি তোমার সাথে মুফাওয়াযা করলাম (فَاوَضَتُكَ) আর সে তা গ্রহণ করে, তাহলে এ প্রস্তাব গ্রহণ যথেষ্ট। কেননা তার শব্দ (فَوَضَكَ) যৌথ কারবারের সকল বিষয়ে পূর্ণ সমতা বোঝায়। যখন উভয় শরীক এই শব্দ উল্লেখ করবে তখন তার হুকুম সাব্যস্ত হবে, শব্দকে তার অর্থে বিবেচনা করে। ৬০
টিকাঃ
৫৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৭; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০১
৫৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২-২১৩
৫৮. এই শেষোক্ত মত কাসানী রহ.-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত। (শারিকাতুল আমাল হলো কাপড় সেলাই বা রাঙ্গানো ইত্যাদি কাজে দুব্যক্তির শরীক হওয়া। বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭।) যদিও মুফাওয়াযার ভিত্তিতে অন্যান্য শারিকায় সকল পেশা ও কর্মের ব্যাপক অন্তর্ভুক্তি কিয়াসের দাবি। বরং উপযুক্ত শব্দ হলো নিঃশর্ত অন্তর্ভুক্তি কিয়াসের দাবি যেন গ্রহণ করা যায় এমন কাজ গ্রহণে দুই শরীকের কারো কোন বাধা না থাকে। এটিই তারা মাজাল্লায় গ্রহণ করেছেন; (মাদ্দাহ-১৩৫৯)
৫৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭, ৬৩ ও ৬৫
৬০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭, ৬৩ ও ৬৫
📄 যৌথ চুক্তির শর্তাদি
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 সাধারণ শর্তসমূহ
এই শর্তগুলো যৌথ কারবারের মূল তিন প্রকার : শারিকাতুল আমওয়াল, শারিকাতুল আমাল ও শারিকাতুল ওজুহ-এর কোনো এক প্রকারের সাথে নির্দিষ্ট নয়। এগুলো সাধারণ শর্ত; তা বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত: প্রথম প্রকার: মুফাওয়াযা ও আনান উভয় শারিকার ক্ষেত্রে:
📄 প্রথম : ওকালাত গ্রহণের যোগ্যতা
দুটি বিষয়ের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করা যায়:
১. ওকালাতের জন্য চুক্তিকৃত কার্য পরিচালনার যোগ্যতা: যেন তা দ্বারা শারিকার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। শারিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভের ক্ষেত্রে অংশীদারী। কেননা এর পন্থা হলো, দুজন শরীকের প্রত্যেকে অপরের ওকীল হবে তার কর্তৃত্বাধীন বস্তুর অর্ধেকে আর বাকি অর্ধেকে হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে সে হবে মূল ব্যক্তি। অন্যথায় পুরো অংশে মূল ব্যক্তি পূর্ণ লাভ অর্জনে একক ব্যক্তি হবে। অপরের পক্ষ থেকে কার্য সম্পাদনকারী সাধারণত কর্তৃত্ব বা ওকালাতের ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন করে। ধরে নেয়া যাক কর্তৃত্ব নেই, তাহলে শুধু ওকালাতই অবশিষ্ট থাকল। ৬১
সুতরাং ঘাস কাটা, কাঠ কাটা, শিকার করা ইত্যাদি এমন কাজ যেগুলোতে শারিকা বৈধ নয়, যেহেতু এগুলো ওকালাত গ্রহণের অযোগ্য। এগুলোর ক্ষেত্রে মালিকানার কারণটি যে সম্পাদন করে (অর্থাৎ শিকার করা, ধরা বা গ্রহণ করা) তার জন্যই মালিকানা সাব্যস্ত হয়, যেমন অন্যান্য মুবাহ বিষয়ের মালিকানার ক্ষেত্রে। শরীয়ত এগুলোর ক্ষেত্রে আগে হাতে নেওয়াকে মালিকানার কারণ সাব্যস্ত করেছে। ৬২
২. প্রত্যেক শরীকের ওকীল বানানো ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা কেননা প্রত্যেক শরীক অর্ধেক সম্পদে ওকীল এবং অন্য অর্ধেকে মূল ব্যক্তি। সুতরাং ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত নয় এমন বালক এবং এমন বিকারগ্রস্ত যে সুস্থমস্তিক নয় তাদের পক্ষ থেকে যৌথ কারবার সহীহ নয়। ৬৩
উল্লিখিত শর্তটির উভয় অংশ সর্বজনগৃহীত। ৬৪ কেননা সকলে একমত যে, শারিকাতে ওকালাত অন্তর্ভুক্ত। তবে এই শর্তের প্রয়োগক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ:
ক. মুবাহ বিষয়াদি: হানাফীদের মতে এটি ওকালাত গ্রহণের যোগ্য নয়। তবে অন্যদের মতে তা ওকালাত গ্রহণের যোগ্য। এ কারণে মালেকীগণ শারিকাতুল আবদানের (যৌথ কায়িক পরিশ্রম) উদাহরণ দিয়েছেন, একাধিক শিকারীর শিকার সন্ধান অথবা একাধিক খননকারীর খনিজসম্পদ সন্ধান- যা বর্তমানে যৌথ পেট্রোল কারবার সদৃশ- এবং খননকাজে যৌথ অংশগ্রহণ করা। মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা বৈধ হওয়া হাম্বলীদের স্পষ্ট মত। এমনকি তারা এই শারিকাকে শারিকাতুল আমালের একটি পৃথক প্রকার নির্ধারণ করেছেন। ৬৫
খ. লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবকের যৌথ কারবার: শাফেয়ী ও হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবক লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির সম্পদ দিয়ে যৌথ কারবার করা বৈধ। কেননা এই সম্পদ দ্বারা তার জন্য মুদারাবা করা জায়েয। অথচ মুদারাবার ক্ষেত্রে শ্রমিক লাভের একটা অংশ নিয়ে যায়। সুতরাং যৌথ কারবার জায়েয হওয়া তো আরো অধিক যুক্তিযুক্ত। যেহেতু এর লাভ পুরোটাই পুঁজিদাতা ব্যক্তি পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মত হলো, দুই শরীকের একজন যদি মারা যায় আর মৃত শরীকের ওয়ারিস লেনদেন-নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এই ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে শারিকা কল্যাণকর মনে হলে তা অব্যাহত রাখা। এর প্রয়োজনীয় শর্ত হলো, কার্য সম্পাদনকারী শরীকের বিশ্বস্ত হওয়া। যদি তার আমানতদারি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানা যায়, পরে সম্পদও নষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবককে জরিমানা বহন করতে হবে। কারণ, অপর শরীকের আমানতদারির খোঁজ নিতে সে ত্রুটি করেছে। ৬৬
স্মর্তব্য যে, ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা এ দুটি যোগ্যতা বিবেচ্য সে ক্ষেত্রে, যেখানে উভয়ের সাথে কাজ যুক্ত হবে। যদি শুধু একজনের সাথে যুক্ত হয় তাহলে হানাফীদের মতে এটি শুধু শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে হতে পারে। সেখানে শর্ত হলো, অনুমতি প্রদানকারীর ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা আর অনুমতিপ্রাপ্তের ওকীল হওয়ার যোগ্যতা। এজন্য এক্ষেত্রে শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এ অবস্থায় অনুমতি প্রদানকারী অন্ধ হতে পারে। যদিও উভয়ের সম্পদ একত্র করার ক্ষেত্রে ওকীল নিয়োগ আবশ্যক। তবে অনুমতিপ্রাপ্তের চক্ষুষ্মান হওয়া আবশ্যক। ৬৭
টিকাঃ
৬১. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩০
৬২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; পুরোটা রয়েছে বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৩
৬৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৮
৬৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১০৯
৬৫. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২২৫ ও ২৬৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭১; মাতালিবু উনিল নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৫; দালীলুত তালিব, পৃ. ১২৭
৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
৬৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩
দুটি বিষয়ের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করা যায় :
১. ওকালাতের জন্য চুক্তিকৃত কার্য পরিচালনার যোগ্যতা : যেন তা দ্বারা শারিকার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। শারিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভের ক্ষেত্রে অংশীদারী। কেননা এর পন্থা হলো, দুজন শরীকের প্রত্যেকে অপরের ওকীল হবে তার কর্তৃত্বাধীন বস্তুর অর্ধেকে আর বাকি অর্ধেকে হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে সে হবে মূল ব্যক্তি। অন্যথায় পুরো অংশে মূল ব্যক্তি পূর্ণ লাভ অর্জনে একক ব্যক্তি হবে। অপরের পক্ষ থেকে কার্য সম্পাদনকারী সাধারণত কর্তৃত্ব বা ওকালাতের ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন করে। ধরে নেয়া যাক কর্তৃত্ব নেই, তাহলে শুধু ওকালাতই অবশিষ্ট থাকল। ৬১
সুতরাং ঘাস কাটা, কাঠ কাটা, শিকার করা ইত্যাদি এমন কাজ যেগুলোতে শারিকা বৈধ নয়, যেহেতু এগুলো ওকালাত গ্রহণের অযোগ্য। এগুলোর ক্ষেত্রে মালিকানার কারণটি যে সম্পাদন করে (অর্থাৎ শিকার করা, ধরা বা গ্রহণ করা) তার জন্যই মালিকানা সাব্যস্ত হয়, যেমন অন্যান্য মুবাহ বিষয়ের মালিকানার ক্ষেত্রে। শরীয়ত এগুলোর ক্ষেত্রে আগে হাতে নেওয়াকে মালিকানার কারণ সাব্যস্ত করেছে। ৬২
২. প্রত্যেক শরীকের ওকীল বানানো ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা কেননা প্রত্যেক শরীক অর্ধেক সম্পদে ওকীল এবং অন্য অর্ধেকে মূল ব্যক্তি। সুতরাং ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত নয় এমন বালক এবং এমন বিকারগ্রস্ত যে সুস্থমস্তিক নয় তাদের পক্ষ থেকে যৌথ কারবার সহীহ নয়। ৬৩
উল্লিখিত শর্তটির উভয় অংশ সর্বজনগৃহীত। ৬৪ কেননা সকলে একমত যে, শারিকাতে ওকালাত অন্তর্ভুক্ত। তবে এই শর্তের প্রয়োগক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ :
ক. মুবাহ বিষয়াদি : হানাফীদের মতে এটি ওকালাত গ্রহণের যোগ্য নয়। তবে অন্যদের মতে তা ওকালাত গ্রহণের যোগ্য। এ কারণে মালেকীগণ শারিকাতুল আবদানের (যৌথ কায়িক পরিশ্রম) উদাহরণ দিয়েছেন, একাধিক শিকারীর শিকার সন্ধান অথবা একাধিক খননকারীর খনিজসম্পদ সন্ধান- যা বর্তমানে যৌথ পেট্রোল কারবার সদৃশ- এবং খননকাজে যৌথ অংশগ্রহণ করা। মুবাহ বিষয়াদি অর্জনে শারিকা বৈধ হওয়া হাম্বলীদের স্পষ্ট মত। এমনকি তারা এই শারিকাকে শারিকাতুল আমালের একটি পৃথক প্রকার নির্ধারণ করেছেন। ৬৫
খ. লেনদেন নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবকের যৌথ কারবার : শাফেয়ী ও হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির অভিভাবক লেনদেন-নিষিদ্ধ ব্যক্তির সম্পদ দিয়ে যৌথ কারবার করা বৈধ। কেননা এই সম্পদ দ্বারা তার জন্য মুদারাবা করা জায়েয। অথচ মুদারাবার ক্ষেত্রে শ্রমিক লাভের একটা অংশ নিয়ে যায়। সুতরাং যৌথ কারবার জায়েয হওয়া তো আরো অধিক যুক্তিযুক্ত। যেহেতু এর লাভ পুরোটাই পুঁজিদাতা ব্যক্তি পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মত হলো, দুই শরীকের একজন যদি মারা যায় আর মৃত শরীকের ওয়ারিস লেনদেন-নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এই ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে শারিকা কল্যাণকর মনে হলে তা অব্যাহত রাখা। এর প্রয়োজনীয় শর্ত হলো, কার্য সম্পাদনকারী শরীকের বিশ্বস্ত হওয়া। যদি তার আমানতদারি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানা যায়, পরে সম্পদও নষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবককে জরিমানা বহন করতে হবে। কারণ, অপর শরীকের আমানতদারির খোঁজ নিতে সে ত্রুটি করেছে। ৬৬
স্মর্তব্য যে, ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা ও ওকীল হওয়ার যোগ্যতা এ দুটি যোগ্যতা বিবেচ্য সে ক্ষেত্রে, যেখানে উভয়ের সাথে কাজ যুক্ত হবে। যদি শুধু একজনের সাথে যুক্ত হয় তাহলে হানাফীদের মতে এটি শুধু শারিকাতুল আনান-এর ক্ষেত্রে হতে পারে। সেখানে শর্ত হলো, অনুমতি প্রদানকারীর ওকীল নিয়োগের যোগ্যতা আর অনুমতিপ্রাপ্তের ওকীল হওয়ার যোগ্যতা। এজন্য এক্ষেত্রে শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এ অবস্থায় অনুমতি প্রদানকারী অন্ধ হতে পারে। যদিও উভয়ের সম্পদ একত্র করার ক্ষেত্রে ওকীল নিয়োগ আবশ্যক। তবে অনুমতিপ্রাপ্তের চক্ষুষ্মান হওয়া আবশ্যক। ৬৭
টিকাঃ
৬১. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩০
৬২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৫; পুরোটা রয়েছে বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৩
৬৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৮
৬৪. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১০৯
৬৫. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২২৫ ও ২৬৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭১; মাতালিবু উনিল নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫৪৫; দালীলুত তালিব, পৃ. ১২৭
৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, টীকাসহ, খ. ৫, পৃ. ৫; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১৩৪
৬৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩