📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সাধারণ ও বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় যৌথ চুক্তির প্রকারভেদ

📄 সাধারণ ও বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় যৌথ চুক্তির প্রকারভেদ


হানাফী ফকীহদের মতে এই বিবেচনায় যৌথ চুক্তি দু'প্রকার: ১. مُطْلَقَةٌ : মুতলাক বা শর্তমুক্ত; ২. মুকাইয়াদ বা مُقَيَّدَةً: শর্তযুক্ত।
মুতলাক বা শর্তহীন হলো যাকে এক বা একাধিক শরীকের কাঙ্ক্ষিত কোনো শর্ত দ্বারা শর্তযুক্ত করা হয় না। যেমন নির্দিষ্ট ব্যবসাকেন্দ্র, সময়, স্থান অথবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে লেনদেনের শর্ত না করা। অর্থাৎ দুই শরীক সব ধরনের ব্যবসায়ে যৌথ অংশগ্রহণ করবে এবং কোনো ধরনের কোনো শর্ত করবে না। এই নিঃশর্ত রাখার দিক তারা দুইয়ের অধিক গ্রহণ করবে না- শর্তহীন সময় বা অন্য কিছু- তাহলে তা হবে শারিকাতুল আনানে।
শারিকাতুল মুফাওয়াযায় অবশ্যই সকল প্রকার ব্যবসা নিঃশর্ত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমনটা হিদায়া'র স্পষ্টভাষ্য দ্বারা বুঝে আসে। যদিও আল বাহরুর রায়েকে রয়েছে, এই শারিকা কখনো নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসার শর্তে শর্তযুক্ত হতে পারে। ৫২ নিঃশর্ত সময় এই কারবারে একটি সম্ভাব্য বিষয়, আবশ্যিক নয়।
শর্তযুক্ত যৌথচুক্তি হলো যা উল্লিখিত শর্তাদিযুক্ত হয়। যেমন কোনো বস্তু, সময় বা স্থানের শর্তযুক্ত হওয়া। যেমন বিভিন্ন শস্য, তৈরি পোশাক, যানবাহন বা তরিতরকারীর শর্ত করা। অথবা এ বছরের তুলার মওসুমে বা এই জেলায় কারবার পরিচালনার শর্ত করা। কতক দোকান বা ব্যবসাকেন্দ্রের শর্ত করা শারিকাতুল মুফাওয়াযায় গৃহীত নয়। কোনো সময়ের সাথে যুক্ত করা মুফাওয়াযা ও আনান উভয় শারিকায় হতে পারে।
'শর্তমুক্ত' ও 'শর্তযুক্ত' সময়ের শর্ত যুক্ত করার কারণে শারিকার এই প্রকারভেদ সকল মাযহাবে বিদিত। শাফেয়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে এক শরীকের কার্য সম্পাদন শর্তযুক্ত করে অন্য শরীকের কার্য পরিচালনা শর্তমুক্ত করা জায়েয। তবে কতক ফকীহ থেকে বর্ণিত, এক্ষেত্রে প্রত্যেক শরীকের কার্য পরিচালনার সীমা নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক। সময় নির্দিষ্ট করার কারণে শারিকা বাতিল হবে- কতক মালেকীর বক্তব্যে এর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তাদের স্পষ্ট বিধান হলো, মেয়াদ অনাবশ্যক হলেও শারিকা বৈধ হবে। ৫৩

টিকাঃ
৫২. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫১
৫৩. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১৩; হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 জোরপূর্বক যৌথচুক্তি : شَرِكَةُ الْجَبْرِ

📄 জোরপূর্বক যৌথচুক্তি : شَرِكَةُ الْجَبْرِ


এটি এমন শারিকা যা মালেকী ফকীহগণ এককভাবে সাব্যস্ত করেন। এক্ষেত্রে তাদের দলিল হযরত ওমর রা.-এর ফয়সালা। তাদের কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন استحقاق شخص الدُّخُول مَعَ مُشتَرِي سلعة لنفسه من سُوقِهَا الْمُعَدَّ لَهَا ، عَلَى وَجْهِ : as مخصوص 'কোনো পণ্য পণ্যের নির্ধারিত বার্জার থেকে যে নিজের জন্য কিনেছে তার সাথে বিশেষভাবে কোনো ব্যক্তির অংশগ্রহণের দাবি করা।' সামনের শর্তগুলো থেকে এটি আরো সুস্পষ্ট হবে। তারা এর জন্য সাতটি শর্ত উল্লেখ করেছেন।
তিনটি শর্ত বিশেষভাবে পণ্যসম্পর্কিত। সেগুলো হচ্ছে, ১. পণ্য ক্রয় করা হবে তা বিক্রির জন্য প্রস্তুত/নির্ধারিত বাজারে। কোনো বাড়ী, কোনো একমুখী বা উভয়মুখী গলিতে নয়; নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুসারে; ২. তার ক্রয় হবে ব্যবসার জন্য। ক্রেতা নিজ শপথ দ্বারা অন্য কিছুর জন্য না হওয়া রদ করবে। তবে অন্য অবস্থা ও দলিলাদি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে ভিন্ন কথা। যেমন দক্ষতা অর্জনের জন্য বা বিয়ের বাসরের জন্য কেনার বারবার দাবি করা (তখন তার কথা গৃহীত হবে না।) ৩. কেনা দ্বারা উদ্দিষ্ট ব্যবসা হতে হবে যে শহর থেকে কিনেছে সে শহরেই; অন্য কোনো স্থান নিকটবর্তী হলেও সেখানে নয়। ৫৪
তিনটি শর্ত ব্যবসায় জড়িত শরীক-সম্পর্কিত: ১. কেনার সময় উপস্থিত থাকা; ২. ক্রেতার কাছ থেকে বাড়িয়ে না নেওয়া; ৩. কেনা পণ্যের বিক্রেতা হওয়া। তাদের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে এই বাজারের ব্যবসায়ী হওয়া শর্ত নয়।
একটি শর্ত ক্রেতার সাথে সম্পর্কিত। তা হলো, উপস্থিত ব্যবসায়ীদেরকে সে বলবে না, সে নিজের একচেটিয়া মালিকানায় পণ্য নিতে চাচ্ছে, এক্ষেত্রে সে কারো অংশীদারী চাচ্ছে না। সুতরাং যে মূল্য বাড়ানোর প্রতিযোগিতা করতে চায় সে তা করতে পারে।
যখন এই সকল শর্ত পূর্ণরূপে থাকবে তখন উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শারিকার জন্য বাধ্য করার অধিকার সাব্যস্ত হবে। এক্ষেত্রে মেয়াদ যত দীর্ঘ হোক না কেন, কেনা পণ্য বাকি থাকাই মৌল বিষয়। শারিকা করতে অনিচ্ছুক হলে ক্রেতাকে তা মেনে নেওয়া পর্যন্ত বন্দী রাখা হবে। তবে এক বছর অতিক্রান্ত হলে শুফআর মতো এটিও রহিত হওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ক্রেতার জন্য যে-কোনো কারণে- লোকসান বাস্তব হওয়া বা লোকসানের আশঙ্কা হওয়া- উপস্থিত শরীকদেরকে তার সাথে শরীক হতে বাধ্য করার অধিকার নেই, সকল শর্ত পূর্ণরূপে বিদ্যমান হওয়ার পরও। তবে উপস্থিত অন্য ব্যবসায়ীর যদি পণ্যের দরদাম করার সময় তাকে বলে, আমাদেরকে শরীক বানাও, তখন সে হ্যাঁ বলে উত্তর দিল বা চুপ থাকলে তাদেরকে শরীক বানানো হবে।
তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে যা বুঝে আসে তা হচ্ছে, 'আমাদেরকে শরীক করো' বলে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব প্রদানে ক্রেতার হ্যাঁ উত্তর পণ্য কেনার সময় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির স্থলবর্তী। সুতরাং বিক্রয়চুক্তি পূর্ণ হওয়ার আগে তাদের চলে যাওয়া শারিকায় অংশগ্রহণে বাধা হবে না। তবে ক্রেতা হ্যাঁ বা না বলে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নীরব থাকলে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব প্রদানটি উক্ত পণ্য কেনার সময়ে উপস্থিতির স্থলবর্তী বলে ধর্তব্য হবে না।
তবে সেক্ষেত্রে তাদের অধিকার থাকবে তার নিকট থেকে কসম আদায় করার এই মর্মে যে, সে তাদের বিরুদ্ধে পণ্য কিনেনি। ৫৫

টিকাঃ
৫৪. আল-ফাওয়াকিছুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৪; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৬, ৩৬৭
৫৫. আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭৪; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৭২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শারিকা বা যৌথচুক্তির শব্দ : صِيغَةُ عَقْدِ الشَّرِكَةِ

📄 শারিকা বা যৌথচুক্তির শব্দ : صِيغَةُ عَقْدِ الشَّرِكَةِ


প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণের মাধ্যমে যৌথচুক্তি সংঘটিত হয়। মূল পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল আনান সংঘটনে এর নমুনা হচ্ছে: এক ব্যক্তি অপরকে বলবে, আমি একশ দীনার দিয়ে তোমার সাথে যৌথ কারবারে শরীক হলাম। এ মর্মে যে, আমরা তা দিয়ে ব্যবসা করব আর লাভ আমাদের মাঝে অর্ধেক অনুপাতে বণ্টিত হবে। এভাবে বলল এবং ব্যবসাকে প্রকারমুক্ত রাখল অথবা কোনো প্রকারের সাথে যুক্ত করল, যেমন তৈরী পশমের পোশাক অথবা যে কোনো তৈরি পোশাক। এরপর অপর ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে।
পুঁজির ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযায় এর নমুনা হলো এক ব্যক্তি অপরকে বলবে- উভয়ে স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান বা জিম্মী- আমি তোমার সাথে আমার ও তোমার সমুদয় অর্থে শরীক হলাম (এই ব্যক্তির অর্থ ঐ ব্যক্তির অর্থের পরিমাণ) এ মর্মে যে, এ পুঁজি দ্বারা আমরা সকল প্রকার ব্যবসায় করব আর ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকে অপরের কাফীল। এরপর অপর ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে।
মুখে বলার স্থলাভিষিক্ত হবে কাজ দ্বারা বোঝানো। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি তার মালিকানাধীন সমুদয় অর্থ বের করে, আর অপরকে বলে, তুমি অনুরূপ অর্থ বের করো এবং পণ্য কেনো। আল্লাহ আমাদেরকে যে লাভ দেবেন তা আমাদের মাঝে সমান হারে অথবা দুই তৃতীয়াংশ তোমার আর এক তৃতীয়াংশ আমার এই হারে বণ্টিত হবে; অপর ব্যক্তি কোনো কথা বলল না। তবে সে তার অর্থ নিল আর নিজ অর্থ দিল। তার সঙ্গীর ইশারা অনুসারে কাজ করল, তাহলে এটিও বিশুদ্ধ শারিকাতুল আনান হবে।
শারিকাতুল মুফাওয়াযার ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এক ব্যক্তি তার মালিকানার সমুদয় অর্থ বের করল এবং তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক কোনো সঙ্গীকে বলল, এ পরিমাণ অর্থ বের করো। এই শর্তে যে, দুজনের সমুদয় অর্থ দিয়ে আমরা সকল প্রকার ব্যবসা করব। সমানহারে আমাদের মাঝে লাভ বণ্টিত হবে। ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে একজন হবে অপরের কাফীল; তারপর অপর ব্যক্তি কোনো কথা বলল না। কিন্তু তার সঙ্গীর ইশারা অনুযায়ী সবকিছু করল। তাহলে এটিও বিশুদ্ধ শারিকাতুল মুফাওয়াযা হবে। এটি হানাফীদের মত। ৫৬
কাজ দ্বারা বোঝানো যথেষ্ট, এটি মালেকী ও হাম্বলীদেরও মত। কারণ তারা বলার ক্ষেত্রে প্রচলনে অনুমতি বোঝানোকে বিবেচনা করেন- যদি তা শব্দজাতীয় বা শব্দের স্থলবর্তী কোনো কিছু না হয়; যেমন লেখা বা বোবা ব্যক্তির স্পষ্ট ইশারা হয়, তাহলেও তা অনুমতি বুঝাবে। এজন্য মালেকীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, দু'জনের একজন অপর জনকে যদি বলে, আমাকে শরীক করে নাও আর অপর ব্যক্তি নীরব থাকার মাধ্যমে তার সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলেও যথেষ্ট। দু'জনের সম্পদ একসাথে করা বা যৌথ কারবারে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করাও এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে। যেমন হাম্বলীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, যৌথ কারবার নিয়ে দুই ব্যক্তির কথা বলা এবং কাছাকাছি সময়ে উভয়ের সম্পদ একত্র করা এবং কাজ শুরু করা যৌথ কারবার অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট।
শাফেয়ীদের মতে, কাজ দিয়ে বোঝানো শব্দ বা তার স্থলবর্তী হবে না। কারণ, মালিকের কাছে নিজ সম্পদের সংরক্ষণ হচ্ছে মৌলিক অবস্থা। সুতরাং মালিকের মালিকানা থেকে বের করতে হলে অতিরিক্ত শক্তিসম্পন্ন কোনো নির্দেশ লাগবে। এমনকি 'আমরা শরীক হলাম' বলা দ্বারা শারিকা সংঘটিত হওয়ার মতকে শাফেয়ীগণ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ এ সম্ভাবনা আছে যে, উল্লিখিত শব্দ দিয়ে বিগত কোনো যৌথ কারবার বা হস্তক্ষেপমুক্ত প্রতিষ্ঠিত যৌথ মালিকানার সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং শারিকা সংঘটিত হওয়ার জন্যে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বাক্য হওয়া জরুরি।
তারা শারিকাতুল মুফাওয়াযার শব্দ দিয়ে শারিকাতুল আনান সংঘটিত হওয়া বৈধ মনে করেন। যদি তা শারিকাতুল আনান-এর নিয়তযুক্ত হয়। অন্যথায় শব্দ বাতিল গণ্য হবে, যেহেতু তাদের মতে শারিকাতুল মুফাওয়াযা বৈধ নয়। মোদ্দাকথা, তাদের মতে শারিকার উপযুক্ত শব্দ হলো যা শারিকাতুল আনান-এর ইঙ্গিতবাহী, যেহেতু ইঙ্গিতের মাধ্যমে চুক্তি সংঘটন বৈধ। ৫৭
কাজ গ্রহণের ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার নমুনা হলো, কাফালাত গ্রহণের যোগ্য দুজনের একজন অপর জনকে বলবে : আমি তোমার সাথে শরীক হলাম সকল কাজে অথবা এই পেশায় (সেলাই করা, ছুতারের কাজ বা কাসারের কাজ) ৫৮ এই মর্মে যে, আমাদের উভয়ে কাজ গ্রহণ করবে আর আমি ও তুমি কাজের দায়, ক্ষতি ও লাভে সমান শরীক এবং এ মর্মে যে, যৌথ কারবারের কারণে প্রত্যেকের ওপর যা আবশ্যক হবে অপরজন তার কাফীল। এরপর অপরজন প্রস্তাব গ্রহণ করবে। উল্লিখিত শব্দের অনুপস্থিতিতে পারস্পরিক চুক্তি হলে এটি হবে শারিকাতুল আনান। তবে অবশ্যই দুজনকে ওকালাত গ্রহণের যোগ্য হতে হবে, যেমনটা স্পষ্ট বিবৃত হয়েছে। ৫৯
ওজুহের ক্ষেত্রে শারিকাতুল মুফাওয়াযার নমুনা হলো: কাফালাত গ্রহণের যোগ্য দুজনের একজন অপর জনকে বলবে, আমি তোমার সাথে শরীক হলাম এই মর্মে যে, আমি আর তুমি যৌথ ব্যবসা করব। বাকিতে কিনে নগদে বিক্রি করব। আমরা যা কিনব সে বস্তু, তার মূল্য ও লাভের ক্ষেত্রে সমতাবিধান এবং ব্যবসার ঋণ ও এজাতীয় যে দায় প্রত্যেকের আবশ্যক হয় সেগুলোতে প্রত্যেকে অপরের কাফীল হবো। তখন অপরজন তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
উপরিউক্ত শব্দে শর্তাদির কোনোটি লঙ্ঘিত হলে এই কারবার শারিকাতুল আনানে পরিণত হবে। তবে সর্বাবস্থায় উভয়ের ওকালাত গ্রহণের যোগ্য হওয়া এবং বস্তুর মূল্যের দায় অনুপাতে উভয়ের মাঝে লাভ বণ্টিত হওয়া আবশ্যক। সামনে শর্তাদির আলোচনায় এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা আসছে।
এক শরীক যদি অপরকে বলে, আমি তোমার সাথে মুফাওয়াযা করলাম (فَاوَضَتُكَ) আর সে তা গ্রহণ করে, তাহলে এ প্রস্তাব গ্রহণ যথেষ্ট। কেননা তার শব্দ (فَوَضَكَ) যৌথ কারবারের সকল বিষয়ে পূর্ণ সমতা বোঝায়। যখন উভয় শরীক এই শব্দ উল্লেখ করবে তখন তার হুকুম সাব্যস্ত হবে, শব্দকে তার অর্থে বিবেচনা করে। ৬০

টিকাঃ
৫৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৭; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৮; আল-খিরাশী আলা খলীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭২; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০১
৫৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১২-২১৩
৫৮. এই শেষোক্ত মত কাসানী রহ.-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত। (শারিকাতুল আমাল হলো কাপড় সেলাই বা রাঙ্গানো ইত্যাদি কাজে দুব্যক্তির শরীক হওয়া। বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭।) যদিও মুফাওয়াযার ভিত্তিতে অন্যান্য শারিকায় সকল পেশা ও কর্মের ব্যাপক অন্তর্ভুক্তি কিয়াসের দাবি। বরং উপযুক্ত শব্দ হলো নিঃশর্ত অন্তর্ভুক্তি কিয়াসের দাবি যেন গ্রহণ করা যায় এমন কাজ গ্রহণে দুই শরীকের কারো কোন বাধা না থাকে। এটিই তারা মাজাল্লায় গ্রহণ করেছেন; (মাদ্দাহ-১৩৫৯)
৫৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭, ৬৩ ও ৬৫
৬০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৭, ৬৩ ও ৬৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যৌথ চুক্তির শর্তাদি

📄 যৌথ চুক্তির শর্তাদি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00