📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 شَرِكَةُ مُلْك বা যৌথ মালিকানার প্রকারভেদ

📄 شَرِكَةُ مُلْك বা যৌথ মালিকানার প্রকারভেদ


যৌথ মালিকানা প্রথমত দুই প্রকার: شركة الدين বা যৌথ ঋণ কিংবা অন্য কিছুতে যৌথ মালিকানা।
ক. شركة الدين বা যৌথ ঋণ: شركة الدين হলো দুজন বা ততোধিক ব্যক্তি একটি ঋণের হকদার হওয়া। যেমন একজন ব্যবসায়ীর দায়ে একশ দীনার ঋণ থাকা, কোনো যৌথ কারবারের অংশীদাররা তাদের ভাগ হিসাবে সে দীনারগুলোর প্রাপক হবে।
খ. ঋণ ছাড়া অন্যকিছুর যৌথ মালিকানা/অধিকার (شَرِكَةُ غَيْرِ الدَّيْنِ) : কোনো নগদ বস্তু বা প্রাপ্য বা উপকারে যৌথ অধিকার। যেমন অধিকার বিভিন্ন যানবাহনে, যৌথ মালিকানার দোকানে বিভিন্ন কাপড় বা বিভিন্ন খাবারে অধিকার। যেমন শুফআর অধিকার দুই শরীকের, তৃতীয় শরীক বিক্রি করার ক্ষেত্রে। ব্যাপকভাবে ঘরে বসবাসের অধিকার বা জমি চাষের অধিকার জমি ভাড়া নেওয়া ব্যক্তির জন্য। বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহদের মাঝে এই ভাগের ক্ষেত্রে কোনো মতপার্থক্য নেই। ২

টিকাঃ
২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৩; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৫৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ১০৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১১; হাওয়াশিত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২০৯; হাওয়াশিল ইরাকী, আলা তুহফাতি ইবনি আসীম, খ. ২, পৃ. ২১০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত বা বাধ্যতামূলক যৌথ মালিকানা

📄 ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত বা বাধ্যতামূলক যৌথ মালিকানা


ক. ইচ্ছাকৃত যৌথ মালিকানা (الاختيارية) হলো যা দুই বা ততোধিক শরীকের ইচ্ছায় সংঘটিত হয়ে থাকে। যা চুক্তির মাধ্যমে হতে পারে বা চুক্তি ছাড়া। শুরু থেকে চুক্তি যৌথ হোক বা যৌথ চুক্তি হঠাৎ হোক অথবা চুক্তির পর সম্পদে অংশীদারি হোক।
শুরু থেকে চুক্তি যৌথভাবে সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে যৌথ মালিকানার উদাহরণ হলো দুজন হাল চাষ বা আরোহণের জন্য কোনো জন্তু কিনল অথবা পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসায় শুরু করল। এমনিভাবে এ ধরনের বা অন্য কোনো ধরনের কোনো পণ্য কিনল বা হেবা কবুল করল বা অসিয়্যত বা সদকা কবুল করল।
নতুন ভাবে যৌথ চুক্তি হওয়া বা চুক্তি সংঘটনের পর সম্পদে যৌথ মালিকানার নমুনা হলো, এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেনাবেচা অথবা হেবা বা অসিয়ত গ্রহণ সংঘটিত হলো। তারপর তার সাথে এক ব্যক্তি শরীক হলে সে ব্যক্তি বিনিময়সহ বা বিনিময় ছাড়া তার অংশীদারী গ্রহণ করল।
চুক্তি ছাড়া যৌথ কারবার সংঘটনের নমুনা হলো দুজন ব্যক্তি তাদের সম্পদ একসাথে মিশিয়ে ফেলল বা উভয়ের পাতানো জাল দিয়ে উভয়ে এক শিকার ধরল অথবা উভয়ে মিলে একটি পতিত ভূমি আবাদ করল। ৩
খ. অনিচ্ছাকৃত বা জবরদস্তিমূলক মালিকানা হচ্ছে, যা দুই বা ততোধিক শরীকের অনিচ্ছাসত্ত্বেও সংঘটিত হয়। যেমন একসাথে রাখা বিভিন্ন থলে ছিদ্র হয়ে গেল আর থলের বস্তু মিশে গেল। ফলে অসম্ভব না হলেও, একত্র হয়ে যাওয়ার কারণে এগুলোকে আলাদা আলাদা করা কষ্টকর। তবে যদি এক শরীক বাকীদের অনুমতি ছাড়া মেশায় তাহলে ইবনে আবেদীন বলেন, এই শরীক নিজ সম্পদের সাথে যা কিছু মিশিয়েছে সেগুলোর সে মালিক হবে। আর বাড়াবাড়ির কারণে সে অনুরূপ বস্তু দিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ে দায়বদ্ধ থাকবে। ফলে এখানে কোনো যৌথ মালিকানা থাকবে না। ৪
উল্লিখিত মাসআলায় কোনো মতভেদ নেই। তবে এর সদৃশ একটি মাসআলায় মতভেদ রয়েছে। তা হলো, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে নিজ সম্পদের সাথে অন্যের সম্পদ মেশানোর কারণে কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পদের মালিক হওয়া। আর সম্পদ মেশানোটা এমনভাবে হবে যে, দুজনের সম্পদ আলাদা করা সম্ভব হয় না বা আলাদা করা কষ্টকর। হানাফীগণ বলেন, এর মাধ্যমে সে মালিক হবে। তবে তার দায়িত্বে অন্যকে পরিবর্ত প্রদানের দায় সাব্যস্ত হবে। ইবনুল কাসিম, তার সাথে অধিকাংশ মালেকী ফকীহ, হাম্বলীদের মধ্যে কাজী ইয়ায রহ.-এ মত পোষণ করেন। কাজী ইয়ায বলেন, এটি মাযহাবের কিয়াসসম্মত মত। এটি শাফেয়ী রহ.-এর একটি মত। অধিকাংশ পরবর্তী শাফেয়ী ফকীহ এটিকে নির্ভরযোগ্য মত বলেছেন। তবে তাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মতটিতে তারা শর্ত আরোপ করেছেন, পরিবর্ত প্রদান না করা পর্যন্ত মিশ্রণের কারণে যে অংশের মালিক সে হয়েছে তাতে সে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এর কারণ, এভাবে সে যে বস্তুর মালিক হয়েছে যদি সে তার সন্তোষমূলক বিনিময় প্রদানের মাধ্যমে মালিক হতো তাহলে নিজ জিম্মায় মালিককে সন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত সে তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারতো না। সুতরাং সন্তোষ ছাড়া মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার বিধান অধিক আমলযোগ্য।
তিন মাযহাবের কতক ফকীহ এই বলপূর্বক মালিকানা সাব্যস্ত হওয়াকে নাকচ করেন। তারা বলেন, এ সম্পদ যৌথ মালিকানাধীন হবে। এটি শাফেয়ী রহ.-এর একটি মত। তাকী আসুবকী রহ. এ মতটি গ্রহণ করেছেন এবং এর সমর্থনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। মালেকী ফকীহদের মধ্যে আশহাব রহ. এবং অধিকাংশ পরবর্তী হাম্বলী ফকীহদের মত এটিই। ৫

টিকাঃ
৩. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৩; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১২-১৪; তানভীরুল আবছার, ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ, খ. ৩, পৃ. ৩৬২; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৭১; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৪; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৫০৯
৪. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৪; আল-ইতহাফ বি আশবাহি ইবনি নুজাইম, পৃ. ৪৪৮
৫. ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৪, ১৮৪ ও ১৮৭; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১৬৫ ও ২১৩, ৩১৯-৩২০; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ৩১৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৯২; আশ শারকাভী, আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১০৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪১০; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৪

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যৌথ মালিকানার বিধানাবলি

📄 যৌথ মালিকানার বিধানাবলি


যৌথ মালিকানায় দুই বা ততোধিক শরীকের প্রত্যেকে অপরের অংশের বিবেচনায় অপরিচিত ব্যক্তি। কেননা এই যৌথ কারবার কেউ কারো প্রতিনিধিত্ব করে না। এবং কোনো শরীকের অপর শরীকের সম্পদে কোনো মালিকানাও সাব্যস্ত হয় না। তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে এক শরীকের ওপর অন্যের কোনো কর্তৃত্বও নেই। অথচ সম্পদে কর্তৃত্ব করার বৈধতার পন্থা হলো মালিকানা বা কর্তৃত্ব, এ বিষয়টিতে মতভেদের কোনোই সম্ভাবনা নেই।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 এই বিধানের ভিত্তিতে আহরিত বিভিন্ন মাসআলা

📄 এই বিধানের ভিত্তিতে আহরিত বিভিন্ন মাসআলা


১. যৌথ মালিকানার কোনো এক শরীকের অপর শরীকের সম্পদে কোনো পারস্পরিক চুক্তি যেমন বিক্রি, ইজারা বা ভাড়া দেওয়া বা ধার দেওয়া ইত্যাদি সংঘটনের অধিকার নেই। তবে তার এই শরীক অনুমতি দিলে সে করতে পারবে। যদি কেউ সীমাতিক্রম করে যেমন যৌথ মালিকানাধীন বস্তু ভাড়া বা ধার দেয়, তারপর ভাড়াগ্রহীতা বা ধারগ্রহীতার হাতে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এই শরীকের তার শরীককে তার অংশের ক্ষতিপূরণ দেওয়া আবশ্যক; এ মাসআলাতেও কোনো মতভেদ নেই। ৬
২. যৌথ মালিকানায় প্রত্যেক শরীকের অধিকার আছে তার অংশ অন্য শরীকের কাছে বিক্রি করা অথবা অন্য যে কোনোভাবে এমনকি অসীয়তের মাধ্যমে নিজ অংশ মালিকানামুক্ত করে শরীকের দায়িত্বে দিয়ে দেওয়ার। তবে যৌথ মালিকানাধীন বস্তু ভাগ করা ছাড়া হেবা করা যায় না, (ভাগ করার পর) যে পর্যন্ত হেবার বস্তুটি অপর শরীক কবুল না করে। (ততক্ষণ তাতে হেবা সম্পন্ন হবে না।) ক্ষতির অবস্থা এর ব্যতিক্রম, যার আলোচনা সামনে আসছে। ৭
হানাফী ফকীহগণ এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এটি সামগ্রিকভাবে ঐকমত্যপূর্ণ মত। যৌথ মালিকানার বস্তু হেবা করা সকল আলেমের মতে বৈধ। এমনই মালেকী, হাম্বলী ও শাফেয়ী ফকীহগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। হানাফী ফকীহদের মতে যৌথ মালিকানার বস্তু হেবা করা জায়েয নয়-এর অর্থ হলো : তৎক্ষণাৎ মালিকানা সাব্যস্ত হবে না। তবে হেবা সহীহ হবে, বস্তুটি ভাগ করে অর্পণ করার ওপর মালিকানা স্থগিত থাকবে। ৮
৩. হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের মতে এক শরীকের নিজ অংশ অন্য শরীক ছাড়া অন্য কারো কাছে সে শরীকের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা জায়েয। তবে ক্ষতির অবস্থা ব্যতিক্রম। হানাফী ফকীহগণ একটি অবস্থাকে এর ব্যতিক্রম বলেছেন। তা হলো, ব্যাপক ও বিস্তৃত করা ছাড়া দু'সম্পদের মিশ্রণ ঘটানো। এক্ষেত্রে শরীকের অনুমতি ছাড়া বিক্রি জায়েয নেই। কারণ এ অবস্থায় প্রতিটি সম্পদ তার মালিকের মালিকানাধীন, যদিও এগুলোকে পৃথক করা কষ্টকর অথবা অসম্ভব। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে মিশ্রণ ঘটানো হোক বা শরীকদের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত মিশ্রণের কারণে মিশ্রণ হোক, বিধান অভিন্ন।
এ অবস্থায় অর্থাৎ ব্যাপক বানানো ছাড়া দু'সম্পদের মিশ্রণ ঘটানো হলে এক শরীকে তার শরীকের অনুমতি নিতে হবে, যেন এ শরীক ছাড়া অন্য কারো কাছে তার বিক্রি বৈধ হয়। এ বিধান ততক্ষণ, যতক্ষণ সম্পদ থাকে যৌথ যা ভাগ করা হয়নি। ৯
এই অবস্থা (শরীক ছাড়া অন্য কারো কাছে বিক্রি বৈধ হওয়া শরীকের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল) এবং অন্য অবস্থার মাঝে (যখন বিক্রির বৈধতা শরীকের অনুমতি নির্ভর নয়) বিক্রি বৈধ হওয়ার বিধানে পার্থক্যের কারণ হলো, দুই শরীকের মাঝে সম্পদ যৌথ থাকা অবস্থায় এই যৌথ মালিকানাধীন বস্তুর প্রতিটি অংশ তা যত ছোট ও ক্ষুদ্র হোক না কেন শরীকদের যৌথ মালিকানাধীন হয়ে যায়। দুই শরীকের মাঝে সম্পদ যৌথ হওয়া যে কোনো ভাবে হতে পারে। যেমন দুজন একটি বস্তু মীরাছ হিসেবে পাওয়া বা অন্য কোনো কারণ যা যৌথ মালিকানা দাবি করে যেমন দুজন একসাথে কোনো বস্তু ক্রয় করা বা একজন অপরজনকে সে বস্তুর যৌথ অংশে শরীক করা।
আর যৌথ অংশ শরীকের কাছে বা অন্য কারো কাছে বিক্রি করা জায়েয। যেহেতু এটি অর্পণে ও গ্রহণে কোনো বাধা নেই। যৌথ অংশ আলাদা করা অর্পণ করার জন্য শর্তও নয়। এ কারণে সত্তাগতভাবে যা ভাগ হওয়া কবুল করে না যেমন পশু ও ছোট ঘর ইত্যাদির যৌথ অংশের বিক্রি বৈধ হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে বিক্রেতা শরীকের অনুমতি ছাড়া যৌথ মালিকানাধীন বস্তু পুরোটা অর্পণ করলে সে হবে লুন্ঠনকারী বা ছিনতাইকারী পর্যায়ভুক্ত। আর তার ক্রেতা হবে ছিনতাইকারী থেকে ছিনতাই করার পর্যায়ভুক্ত; ঐ শরীকের অংশ বিবেচনায় যা সে শরীক বিক্রি করেনি।
এভাবে অর্পণের পর যদি বস্তুটি নষ্ট হয় তাহলে যে শরীক বিক্রি করেনি তার অধিকার রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতা এ দুইজনের যার কাছ থেকে ইচ্ছা সে নিজ অংশের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে। যদি সে ক্রেতার নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে তাহলে ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে।
যৌথ মালিকানায় থাকা অযৌথ অংশ তার মালিকের অধীনে থাকবে। তবে যদি যৌথ অংশের সাথে মিলে যায় বা সেটাকে পৃথক করা কষ্টকর হয় তাহলে ভিন্ন বিষয়। তবে এই মিলে যাওয়া বা আলাদা করা কষ্টকর হওয়া বস্তুটির অর্পণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে না, যদি সে তা বিক্রি করে। তবে যৌথ কারবারের শরীক ভিন্ন অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে শরীকের অনুমতি ছাড়া সে অংশ বিক্রি করলে এ বিক্রি অর্পণ করার পরিপন্থী ও প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে অর্পণ করা ও গ্রহণ করা অসম্ভব এই শরীকের অংশের মিশ্রণ ছাড়া, তাই শরীকের অনুমতির ওপর বিক্রি স্থগিত থাকবে। ১০
আয যাখীরা গ্রন্থে আল কারাফী আল মালেকী বলেন, উদাহরণত যদি কোনো পশুর মালিকানায় দুজন শরীক হয় মীরাছ বা অন্য কোনো মাধ্যমে, তাহলে এক শরীকের অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া সে পশুতে কোনো হস্তক্ষেপ করা জায়েয হবে না। যদি এক শরীক তার অংশ বিক্রি করে এবং অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া সমুদয় বস্তু ক্রেতাকে অর্পণ করে তাহলে নীতিমালা অনুসারে সে জরিমানার দায়বদ্ধ থাকবে। কেননা তার সর্বাধিক সুন্দর অবস্থান হলো এ বস্তু তার হাতে আমানত হিসেবে গচ্ছিত। এ অবস্থায় তা অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা হলে শরীক নিজের বাড়াবাড়ির কারণে দায়বদ্ধ থাকবে। তবে অর্পণ করতে অক্ষমতার কারণে বিক্রি অবৈধ হওয়া আবশ্যক হবে না। যদি তার শরীক উপস্থিত থাকে, তাহলে বিক্রি তার অধীন করা হবে। তখন তার ও ক্রেতার মাঝে কথাবার্তা হয়ে যা ফয়সালা হওয়ার হবে। আর যদি যে অনুপস্থিত থাকে তাহলে এ বিষয় বিচারকের কাছে তোলা হবে। তিনি বিক্রির অনুমতি দেবেন এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির সম্পদ নিজ কর্তৃত্বে রাখবেন। ১১

টিকাঃ
৬. বাদায়িউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৬৫; রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৩
৭. মাজাল্লা তুল আহকাম আল-আদালিয়্যা, ধারা : ১০৭৫ হাওয়াশী তুহফাতি ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২, ১৮৫; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৪৯৪
৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৬; তাকমিলাতু ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১২৩; আল-ঈনায়া, আলাল হিদায়া, খ. ৭, পৃ. ১২১; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ৩২৯
৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৩৪৬-৩৬৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৩; হাশিয়াতু শিবরুমালাসী, আলা নিহায়াতিল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৮৩
১০. আল বাহজা আলাত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২১৬
১১. টীকাসহ নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৮০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৩; হাওয়াশী তুহফা ইবনি আসিম, খ. ২, পৃ. ২১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00