📄 ঋণদাতার জন্য উপহার অতিরিক্ত প্রদানের একটি মাধ্যম
ঋণ পরিশোধের পূর্বে ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে উপহার প্রদানের বৈধতার বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন:
এক. হানাফীদের অভিমত : ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে ঋণ পরিশোধের পূর্বে উপহার দিতে অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি বোঝা যায়, ঋণসংক্রান্ত কারণেই তাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে, তাহলে উত্তম হলো ঋণদাতা সেই উপহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
দুই. মালেকীদের অভিমত: ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত করার আশায় ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে ঋণদাতাকে উপঢৌকন দেওয়া বৈধ নয় এবং ঋণদাতার যদি এ উদ্দেশ্যটি জানা থাকে তবে তা গ্রহণ করাও হালাল নয়। উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি ঋণগ্রহীতার উল্লিখিত উদ্দেশ্য না থাকে এবং তার নিয়ত শুদ্ধ থাকে তবে সে পাওনাদারকে উপহার দিতে পারে।
তিন. শাফেয়ীদের মতে, ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে প্রদত্ত উপহার কোনো শর্ত ছাড়া ঋণদাতার গ্রহণ করা মাকরুহ নয়। তবে ঋণ পরিশোধ হওয়ার আগে এসব থেকে দূরে থাকাই উত্তম।
চার. হাম্বলীদের অভিমত হলো, ঋণগ্রহীতা যদি ঋণ পরিশোধের আগে ঋণদাতাকে উপহার দেয় এবং ঋণদাতা সেটিকে ঋণ পরিশোধের অংশ বা বিনিময় হিসেবে গণ্য না করে তাহলে সেটি জায়েয হবে না। তবে ঋণচুক্তির আগেও যদি তাদের মধ্যে এরূপ উপহার প্রদানের অভ্যাস থাকে তবে সেটি জায়েয।
টিকাঃ
১২৩. অর্থাৎ ঋণদাতার কাছে যদি পরিষ্কার না হয় যে, ঋণগ্রহীতা কি ঋণের দরুন এ উপহার দিচ্ছে, না-কি তা নয়।
১২৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ২০৩
১২৫. আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ২৯৩; আল-কাফি লি-ইবনে আব্দিল বার, খ. ২, পৃ. ৩৫৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৫৪৬; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩০
১২৬. আয-যুরকানী আলা খলীল, খ. ৫, পৃ. ২২৭; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩০
১২৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১১৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৭
১২৮. মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩০৫; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২১০; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩৭
১২৯. হাদীসটি ইবনে মাজাহ (খ. ২, পৃ. ৮১৩) উদ্ধৃত করেছেন।
১৩০. তাহযীবু ইবনিল কাইয়িম লি মুখতাসারি সুনানে আবি দাউদ লিল-মুনযীরি, খ. ৫, পৃ. ১৫০
১৩১. হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর হাদীস গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৭, পৃ. ১২৯
১৩২. ইগাসাতুল লাহফান, খ. ১, পৃ. ৩৬৪; ইলামুল মুওয়াক্বিয়ীন, খ. ৩, পৃ. ১৫৪ ও ১৮৪।
১৩৩. আল-মুবদী, খ. ৪, পৃ. ২১০
📄 সুনামের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময় প্রদানের শর্তারোপ
যে নিজের খ্যাতি বা সুনাম ব্যবহার করে অন্যকে ঋণ পাইয়ে দেয়, সে তার সুনামের বিনিময়ে পারিশ্রমিক (কমিশন) নেওয়ার শর্ত করা জায়েয কিনা, এ ব্যাপারে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন।
শাফেয়ীগণ বলেন, কেউ যদি অন্যকে বলে, আমাকে ১০০ (টাকা) ঋণ নিয়ে দাও তাহলে তোমাকে ১০ (টাকা) দেব। তাহলে এটি কমিশন।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, কেউ তার ভাইদেরকে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঋণ পাইয়ে দেবে, এটি আমি পছন্দ করি না। কাজী আবু ইয়ালা এ কথাটির ব্যাখ্যা করে বলেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত নয়, এমন কাউকে ঋণ পেতে যখন কেউ প্রভাব খাটায়, সেক্ষেত্রে ঋণদাতার সম্পদের সাথে প্রতারণার কারণে তা পছন্দনীয় নয়। আর যদি সে আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত হয় তাহলে এতে দোষ নেই।
ইবনে কুদামা বলেন: যদি কেউ বলে, আমাকে অমুকের কাছ থেকে ১০০ (টাকা) ঋণ এনে দাও তাহলে তোমাকে ১০ (টাকা) দেব। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি বলে, আমার পক্ষে জিম্মাদার হও, তোমাকে এতো দেব, সেটি জায়েয হবে না।
সুনামের মূল্যের ব্যাপারে মালেকী মাযহাবে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি সরাসরি হারাম। কারো মতে, সাধারণভাবে মাকরূহ। আবার কেউ একটু ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সুনামধারী ব্যক্তি যদি এ কাজ করতে গিয়ে কষ্ট ও সফর করার কারণে তার বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করেন তাহলে তা জায়েয।
টিকাঃ
১৪৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২০
১৫০. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩০
১৫১. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৬; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২১২
১৫২. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৪১
১৫৩. আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৮৮