📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঋণের ক্ষেত্রে পরস্পর নির্ধারিত শর্তসমূহ

📄 ঋণের ক্ষেত্রে পরস্পর নির্ধারিত শর্তসমূহ


ঋণের মধ্যে দু'পক্ষ যে সকল শর্ত মেনে চলে সে শর্তসমূহ কয়েক প্রকার হতে পারে:

ক. ঋণের দাবি দৃঢ়করণের শর্তারোপ:
ফকীহদের মতে বন্ধক, জিম্মাদার, সাক্ষ্য এ সবই অথবা এর মধ্যে থেকে যে-কোনোটির শর্তে ঋণ লেনদেন বৈধ। কেননা এ সবই প্রত্যয়ন ও সত্যায়ন, এগুলোর দ্বারা ঋণদাতা অতিরিক্ত কিছু লাভ করে না।

খ. ভিন্ন কোনো দেশে ঋণ পরিশোধের শর্তারোপ:
এ শর্তটি সাধারণত হুন্ডির ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। শাফেয়ী ফকীহদের মতে এবং হাম্বলী মাযহাবের এক মতে এটি হারাম। মালেকীদের মতেও হারাম; তবে তীব্র প্রয়োজন হলে জায়েয। হানাফীদের মতে এরূপ শর্তারোপ মাকরূহ।

গ. কম পরিশোধের শর্তারোপ:
ঋণচুক্তি করার সময় শর্তারোপ করা হলো যে, ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতাকে বৈশিষ্ট্যে কিংবা পরিমাণে কম দিবে। এক্ষেত্রে শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মত হলো, এ শর্ত অকার্যকর এবং তা কোনো কিছুকে আবশ্যক করবে না।

ঘ. নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্তারোপ:
অধিকাংশ ফকীহ—হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দ—মতে, চুক্তিতে এই শর্ত উল্লেখ থাকলেও ঋণ পরিশোধে বিলম্বকরণ মোটে জরুরি নয়। পক্ষান্তরে মালেকীগণ ও ইবনুল কাইয়িম-এর মতে, শর্ত দিয়ে মেয়াদ নির্ধারণ করা বৈধ।

ঙ. হুবহু প্রদত্ত ঋণই ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তারোপ:
হাম্বলীগণ বলেছেন, যদি ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে ঋণ হিসাবে প্রদত্ত বস্তুটিই সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত করে, তাহলে তা সঠিক হবে না।

চ. ঋণদাতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্তারোপ:
ফকীহদের সর্বসম্মত মতানুসারে ঋণ পরিশোধের সময় দাতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্তারোপ মূল চুক্তিটিই বাতিল করে দেয়। এই সকল আধিক্য সুদ হিসেবেই গণ্য হবে।

ছ. ঋণের মধ্যে আরেকটি চুক্তির শর্তারোপ:
একটি ঋণচুক্তির মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, বর্গা চাষ, সেচ বা আরেকটি ঋণের শর্তারোপের বিধান সম্পর্কে ফকীহগণ আলোচনা করেছেন।

টিকাঃ
১০১. বুখারীতে হাদীসটি উদ্ধৃত হয়েছে। ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ১৪৫, হাদীসটির বর্ণনাকারী আয়েশা রা.।
১০২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৬৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৮১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩১০; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৬; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২০৮
১০৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৫; তাবঈনুল হাকায়েক ও হাশিয়া শালাবী, খ. ৪, পৃ. ১৭৫; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭৪; মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৫০; আয যুরকানী আলা খলীল, খ. ৫, পৃ. ২২৯; আল-বাহযা, খ. ২, পৃ. ২৮৮; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩১; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪২; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৭৫-৩৮৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৪; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; আল মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩৬; আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়‍্যা, পৃ. ১৩১
১০৪. ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৭৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩১১; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩
১০৫. আন-নুতাফু লিস সুগদী, খ. ১, পৃ. ৪৯৩; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৬; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭০; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৬; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪২; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৫৭-৩৭৯-৩৮০; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২০৮; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩১
১০৬. আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২০৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩
১০৭. আদ-দুররুল মুখতার ও হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ১৭০; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৬
১০৮. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩
১০৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭০; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৬
১১০. আন-নুতাফু লিস সুগদী, খ. ১, পৃ. ৪৯৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ২০২; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৩; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭০
১১১. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৬
১১২. মিয়ারাতু আলাত তুহফা, খ. ২, পৃ. ১৯৬; আল-বাহযা, খ. ২, পৃ. ২৮৮; আল-মুগনী ইবনে কুদামা, খ. ৬, পৃ. ৪৩১; আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্হিয়্যা, পৃ. ১৩২; ই'লামুল মুওয়াক্বিয়ীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৫
১১৩ তিরমিযী, খ. ৩,পৃ. ৬২৬; হাদীসটির বর্ণনাকারী আমর বিন আউফ রা.
১১৪. আল-বাহজা, খ. ২, পৃ. ২৮৮; কিফায়াতুত তালিব আর রাব্বানী ও হাশিয়াতুল আদাবী, খ. ২, পৃ. ১৫৩; আল-খিরাশী ও হাশিয়া আদাবী, খ. ৫, পৃ. ২৩২; আত-তাজু ওয়াল ইকলীল, খ. ৪, পৃ. ৫৪৮; আয-যুরকানী আলা খলীল, খ. ৫, পৃ. ২২৯; আল-কাফি লি ইবনে আবদিল বার, পৃ. ৩৫৮
১১৫. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৫-২২৭
১১৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৫; আন-নুতাফু লিস সুগদী, খ. ১, পৃ. ৪৯৩; কিফায়াতুত তালিব আর রাব্বানী ও হাশিয়া আদাবী, খ. ২, পৃ. ১৪৯; আল-বাহজা, খ. ২, পৃ. ২৮৭; আল-কাওয়ানীন আল ফিকহিয়‍্যা, পৃ. ২৯৩; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩২; আয-যুরক্বানী আলা খলীল, খ. ৫, পৃ. ২২৮; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৫৪৬; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪২; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৭৫ ও ৩৮৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৪
১১৭. আল-কাফি ফি আহলিল মদীনা, খ. ২, পৃ. ৩৫৯
১১৮. আল-মুগনী লি ইবনে কুদামা, খ. ৬, পৃ. ৪৩৬
১১৯. হাদীসটি ইবনে হাজার আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে হারেছ বিন আবি উসামা সূত্রে উল্লেখ করেছেন, খ. ৩, পৃ. ৩৪।
১২০. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৯৫
১২১. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৪; আল-মুবদি', খ. ৪, পৃ. ২০৯
১২২, রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭২; আন-নুতাফু লিস সুগদী, খ. ১, পৃ. ৪৯৩; আল-খিরাশী ও হাশিয়া আদাবী, খ. ৫, পৃ. ২৩০; আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়‍্যা, পৃ. ২৯৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঋণদাতার জন্য উপহার অতিরিক্ত প্রদানের একটি মাধ্যম

📄 ঋণদাতার জন্য উপহার অতিরিক্ত প্রদানের একটি মাধ্যম


ঋণ পরিশোধের পূর্বে ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে উপহার প্রদানের বৈধতার বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন:

এক. হানাফীদের অভিমত : ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে ঋণ পরিশোধের পূর্বে উপহার দিতে অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি বোঝা যায়, ঋণসংক্রান্ত কারণেই তাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে, তাহলে উত্তম হলো ঋণদাতা সেই উপহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

দুই. মালেকীদের অভিমত: ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত করার আশায় ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে ঋণদাতাকে উপঢৌকন দেওয়া বৈধ নয় এবং ঋণদাতার যদি এ উদ্দেশ্যটি জানা থাকে তবে তা গ্রহণ করাও হালাল নয়। উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি ঋণগ্রহীতার উল্লিখিত উদ্দেশ্য না থাকে এবং তার নিয়ত শুদ্ধ থাকে তবে সে পাওনাদারকে উপহার দিতে পারে।

তিন. শাফেয়ীদের মতে, ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে প্রদত্ত উপহার কোনো শর্ত ছাড়া ঋণদাতার গ্রহণ করা মাকরুহ নয়। তবে ঋণ পরিশোধ হওয়ার আগে এসব থেকে দূরে থাকাই উত্তম।

চার. হাম্বলীদের অভিমত হলো, ঋণগ্রহীতা যদি ঋণ পরিশোধের আগে ঋণদাতাকে উপহার দেয় এবং ঋণদাতা সেটিকে ঋণ পরিশোধের অংশ বা বিনিময় হিসেবে গণ্য না করে তাহলে সেটি জায়েয হবে না। তবে ঋণচুক্তির আগেও যদি তাদের মধ্যে এরূপ উপহার প্রদানের অভ্যাস থাকে তবে সেটি জায়েয।

টিকাঃ
১২৩. অর্থাৎ ঋণদাতার কাছে যদি পরিষ্কার না হয় যে, ঋণগ্রহীতা কি ঋণের দরুন এ উপহার দিচ্ছে, না-কি তা নয়।
১২৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ২০৩
১২৫. আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ২৯৩; আল-কাফি লি-ইবনে আব্দিল বার, খ. ২, পৃ. ৩৫৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৫৪৬; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩০
১২৬. আয-যুরকানী আলা খলীল, খ. ৫, পৃ. ২২৭; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩০
১২৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১১৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৭
১২৮. মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩০৫; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২১০; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩৭
১২৯. হাদীসটি ইবনে মাজাহ (খ. ২, পৃ. ৮১৩) উদ্ধৃত করেছেন।
১৩০. তাহযীবু ইবনিল কাইয়িম লি মুখতাসারি সুনানে আবি দাউদ লিল-মুনযীরি, খ. ৫, পৃ. ১৫০
১৩১. হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর হাদীস গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। ফাতহুল বারী, খ. ৭, পৃ. ১২৯
১৩২. ইগাসাতুল লাহফান, খ. ১, পৃ. ৩৬৪; ইলামুল মুওয়াক্বিয়ীন, খ. ৩, পৃ. ১৫৪ ও ১৮৪।
১৩৩. আল-মুবদী, খ. ৪, পৃ. ২১০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সুনামের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময় প্রদানের শর্তারোপ

📄 সুনামের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময় প্রদানের শর্তারোপ


যে নিজের খ্যাতি বা সুনাম ব্যবহার করে অন্যকে ঋণ পাইয়ে দেয়, সে তার সুনামের বিনিময়ে পারিশ্রমিক (কমিশন) নেওয়ার শর্ত করা জায়েয কিনা, এ ব্যাপারে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন।

শাফেয়ীগণ বলেন, কেউ যদি অন্যকে বলে, আমাকে ১০০ (টাকা) ঋণ নিয়ে দাও তাহলে তোমাকে ১০ (টাকা) দেব। তাহলে এটি কমিশন।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, কেউ তার ভাইদেরকে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঋণ পাইয়ে দেবে, এটি আমি পছন্দ করি না। কাজী আবু ইয়ালা এ কথাটির ব্যাখ্যা করে বলেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত নয়, এমন কাউকে ঋণ পেতে যখন কেউ প্রভাব খাটায়, সেক্ষেত্রে ঋণদাতার সম্পদের সাথে প্রতারণার কারণে তা পছন্দনীয় নয়। আর যদি সে আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত হয় তাহলে এতে দোষ নেই।

ইবনে কুদামা বলেন: যদি কেউ বলে, আমাকে অমুকের কাছ থেকে ১০০ (টাকা) ঋণ এনে দাও তাহলে তোমাকে ১০ (টাকা) দেব। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি বলে, আমার পক্ষে জিম্মাদার হও, তোমাকে এতো দেব, সেটি জায়েয হবে না।

সুনামের মূল্যের ব্যাপারে মালেকী মাযহাবে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি সরাসরি হারাম। কারো মতে, সাধারণভাবে মাকরূহ। আবার কেউ একটু ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সুনামধারী ব্যক্তি যদি এ কাজ করতে গিয়ে কষ্ট ও সফর করার কারণে তার বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করেন তাহলে তা জায়েয।

টিকাঃ
১৪৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২০
১৫০. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৩০
১৫১. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২২৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩০৬; আল-মুবদি, খ. ৪, পৃ. ২১২
১৫২. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৪১
১৫৩. আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00