📄 ইসতিদানার বিধান
ক. মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া: স্রেফ চুক্তির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা ঋণের পরিবর্তে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। তবে কর্জ চুক্তির বিধান ভিন্ন।
খ. তাগাদা দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হওয়া: ইসতিদানার একটি বিধান হলো, মেয়াদ হয়ে গেলে ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “স্বচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা করা এক প্রকার জুলুম।”
গ. সফর করতে বাধা দেওয়া: মৌলিকভাবে ঋণদাতার অধিকার রয়েছে নগদে উসুলযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে সফর করতে বাধা দেওয়ার, যদি ঋণগ্রহীতার বর্তমান সম্পদ এই পরিমাণ না হয়, যা দ্বারা উক্ত ঋণ উসূল করা সম্ভব।
ঘ. ঋণগ্রহীতার পেছনে লেগে থাকার অধিকার: ঋণদাতার অধিকার রয়েছে ঋণগ্রহীতার পেছনে সে লেগে থাকতে পারবে। তবে ঋণদাতা যদি পুরুষ হয় আর ঋণগ্রহীতা হয় মহিলা, তবে এ সুযোগ নেই।
৫. ঋণ পরিশোধের জন্যে চাপ প্রয়োগ করে দাবি জানানোর অধিকার: ঋণগ্রহীতার জন্যে ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক, যতক্ষণ সে পরিশোধে সক্ষম থাকে। যদি সে অসমর্থ হয় আর ঋণ ছিল মিছলী বস্তু, আর তার কাছে অনুরূপ মিছলী বস্তু থাকে, তাহলে বিচারক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার কাছে থাকা বস্তুর মাধ্যমে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করবে।
চ. নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে লেনদেন-নিষিদ্ধ করা: সকল ফকীহের মতে নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে লেনদেন-নিষিদ্ধ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে জায়েয নেই।
ছ. ঋণগ্রহীতাকে আটক করা: ঋণদাতার অধিকার রয়েছে ঋণ পরিশোধে অনিচ্ছুক সচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে আটক করার দাবি জানানোর।
জ. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মতবিরোধ হলে: যদি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে মতবিরোধ হয়, আর কারো কোনো প্রমাণ না থাকে, তাহলে ঋণের গুণ, পরিমাণ ও ঋণগ্রহীতার সচ্ছলতার বিষয়ে ঋণগ্রহীতার দাবি কসমসহ গ্রহণ করা হবে।
টিকাঃ
৩৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪১; আল-মুগনী, খ. ৪,পৃ. ২৪৩; কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ১০৯; আল-আসার, আবু ইউসুফ, পৃ. ৯১৩; আল-মুহাল্লা, খ. ৮, পৃ. ৩২৪
৩৬. শারহুল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ১০, পৃ. ৪৯৮৪; আহকামুল কুরআন, জাসসাসকৃত, খ. ১, পৃ. ৫৭৪; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩১৭; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ২৪০; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪৮
৩৭. সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৮
৩৮. আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
৩৯. আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৮৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৫, পৃ. ৬৩; তাফসীরুল কুরতুবী, খ. ৩, পৃ. ৩৭২
৪০. সূরা বাকারা, আয়াত ২৮০
৪১. আসনাল মাতালিব, খ. ৪, পৃ. ১৭৭; হাশিয়া আদ-দুসূকী, খ. ২, পৃ. ১৭৫; খ. ৩, পৃ. ২৬২; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৩, পৃ. ২২১; আল-মুগনী, খ. ৮, পৃ. ৩৬০; খ. ৪, পৃ. ৪৫৫