📄 ঋণগ্রহণের কারণসমূহ
প্রথম: আল্লাহর বিভিন্ন হকের জন্য ঋণগ্রহণ
সম্পদসংশ্লিষ্ট আল্লাহ তাআলার বিভিন্ন হক; যেমন- যাকাত। আদায়ে সক্ষম সচ্ছল ব্যক্তি ছাড়া কারো ওপর যাকাত আবশ্যক হয় না। প্রতিটি আর্থিক ইবাদতে সচ্ছলতার বিবেচনা করা হয়। সুতরাং সর্বসম্মতিক্রমে ঋণ গ্রহণে তাকে বাধ্য করা যাবে না, যেন যাকাত বা এ জাতীয় কোনোটি আদায় তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে। যে ইবাদত ফরজ হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা সক্ষমতার শর্ত করেছেন; যেমন হজ। যদি ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধের আশা না রাখে, তাহলে মালেকীদের মতে উল্লিখিত শ্রেণীর লোকদের আর্থিক ইবাদতের জন্য ঋণগ্রহণ করা মাকরূহ বা হারাম; আর হানাফীদের মতে অনুত্তম। পক্ষান্তরে ঋণগ্রহীতা যদি ঋণশোধের আশা রাখে, তাহলে এ জাতীয় ইবাদতের জন্য ঋণগ্রহণ মালেকী ও শাফেয়ী ফকীহদের মতে ওয়াজিব এবং হানাফীদের মতে উত্তম। আল-মুগনী কিতাব হতে হাম্বলীদের মত যা প্রতিভাত হয় তা হলো, ঋণগ্রহণের মাধ্যমে হজ আদায় করা সম্ভব হলেও ঋণগ্রহণ করা তার জন্য আবশ্যক নয়। তবে নিজের বা অন্যের ক্ষতির আশঙ্কা না হলে এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ঋণগ্রহণ করা মুস্তাহাব।
সচ্ছল অবস্থায় কারো ওপর আল্লাহর আর্থিক কোনো হক আবশ্যক হয়, এরপর ওই হক আদায়ের পূর্বে সে দরিদ্র হয়ে যায়, তাহলে কি সে হক আদায়ের জন্য তাকে ঋণগ্রহণে বাধ্য করা হবে? এক্ষেত্রে হানাফী ফকীহগণ দুটি অবস্থার পৃথক পৃথক বিধানের কথা বলেছেন। যদি এই ব্যক্তির কাছে সম্পদ না থাকায় সে ঋণ করতে চায়, আর তার প্রবল ধারণা হয় যে, ঋণ নিয়ে সে যাকাত আদায় করতে পারবে এবং ঋণ আদায়ের চেষ্টা করে সে ঋণ আদায়ে সক্ষম হবে, তাহলে তার জন্য ঋণ নেওয়া অধিক উত্তম। পক্ষান্তরে যদি তার প্রবল ধারণা হয়, ঋণ গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ঋণ পরিশোধে সে সক্ষম হবে না, তাহলে তার জন্য উত্তম হলো ঋণ না করা। হাম্বলী মাযহাবের মত হলো, কারো ওপর যাকাত আবশ্যক হওয়ার পর সম্পদ নষ্ট হলে/খোয়া গেলে, যদি তার পক্ষে যাকাত আদায় করা সম্ভব হয় যাকাত আদায় করবে। অন্যথায় সচ্ছল হওয়া এবং নিজের বা অপরের ক্ষতি-কষ্ট ছাড়া যাকাত আদায়ে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয়: বান্দাদের হক আদায়ের জন্য ঋণগ্রহণ
ক. প্রাণের হক রক্ষায় ঋণগ্রহণ: নিরূপায় ব্যক্তির নিজ প্রাণ রক্ষার্থে ঋণগ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ, প্রাণরক্ষা সম্পদ রক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহগণ স্পষ্টভাবে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ঋণ পরিশোধের আশা থাকলে যে-কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য ঋণগ্রহণ জায়েয; যদিও ঋণগ্রহণ না করে ধৈর্য ধরা উত্তম। যদি ঋণ পরিশোধের আশা না থাকে তাহলে ঋণ নেওয়া হারাম এবং ধৈর্য ধরা ওয়াজিব।
খ. অন্যের হক আদায়ের জন্য ঋণগ্রহণ
প্রথম: ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণগ্রহণ: অসচ্ছল ব্যক্তিকে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণগ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন : “যদি ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হয় তাহলে সচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত।”
দ্বিতীয়: স্ত্রীকে খোরপোষ প্রদানের জন্য ঋণগ্রহণ: ফকীহদের ঐকমত্যে স্ত্রীকে খোরপোষ দেওয়া ওয়াজিব, স্বামী সচ্ছল হোক বা অসচ্ছল। যদি স্বামী সচ্ছল হয়েও খোরপোষ দিতে অস্বীকার করে, তবে বলপ্রয়োগ করে হলেও স্বামীর সম্পদ থেকে খোরপোষ দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে যদি স্বামী অসচ্ছল হয়, তাহলে হানাফী ফকীহদের মতে, বিচারক স্ত্রীর খোরপোষের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন এবং স্বামীর নাম বলে স্ত্রীকে ঋণগ্রহণ করতে আদেশ করবেন।
তৃতীয়: সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়স্বজনের খরচের জন্য ঋণগ্রহণ করা: অসচ্ছল, উপার্জনে অক্ষম ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের খরচ দেওয়া মৌলিকভাবে পিতার ওপর আবশ্যক। সচ্ছল পিতা খরচ প্রদানে অসম্মত হলে খরচ প্রদানে তাকে বাধ্য করা হবে; আর সন্তানদেরকে পিতার নাম দিয়ে ঋণগ্রহণ করার আদেশ করা হবে। শাফেয়ী ফকীহদের মতে, বিচারকের অনুমতিক্রমে সন্তানদের ঋণ গ্রহণের অধিকার রয়েছে।
সম্পদ পূর্ণ হালাল বানানোর জন্য ঋণগ্রহণ: হালাল সম্পদ দ্বারা হজ করা মুস্তাহাব। যদি কারো কাছে হজ পরিমাণ সম্পদ হালাল না থাকে, কিছু সম্পদ সন্দেহযুক্ত হয়; আর সে পূর্ণ হালাল সম্পদ দিয়ে হজ করতে চায়, তবে ফাতাওয়ায়ে কাজীখানে বিবৃত হয়েছে, হজের জন্য সে ঋণ করবে। আর এ ঋণ নিজ সম্পদ থেকে শোধ করবে।
টিকাঃ
৮. ইবনে আবিদীন, খ. ২, পৃ. ১১৪ ও ১৪১; আল-হাত্তাব, খ. ২, পৃ. ৫০৫; আল-উম্ম, খ. ২, পৃ. ১১৬; আদ-দুসুকী, খ. ২, পৃ. ৭
৯. আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ১৭০
১০. ফাতাওয়া কাযীখান, খ. ১, পৃ. ২৫৬; ইবনে আবিদীন, খ. ২, পৃ. ১৪০
১১. আশ-শারহুল কাবীর ও আল-মুগনী, খ. ২, পৃ. ৪৬৫
১২. মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৫৪৫; আশ-শিরওয়ানী, খ. ৫, পৃ. ৩৭
১৩. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৫, পৃ. ৩৬৬
১৪. হাশিয়া শিরওয়ানী আলাত তুহফা, খ. ৫, পৃ. ৩৭
১৫. আদ-দুসূকী, আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ১, পৃ. ৪৯৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৪৮
১৬. সূরা বাকারা, আয়াত ২৮০
১৭. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৯০; হাশিয়া আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৭০; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৪৮
১৮. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৭, পৃ. ২০৩; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ২, পৃ. ৬৮৬; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ২০২; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২০৫; শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ৩, পৃ. ২৫২ ও ২৫৭; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৫, পৃ. ৬৪৬ ও ৬৪৯
১৯. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ২, পৃ. ৬৭৩, ৬৭৭ ও ৬৮৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৩, পৃ. ৫৪; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ১, পৃ. ৫৫১; ফাতহুল কাদীর, খ. ৩, পৃ. ৩২৫; আল-হিদায়া ও ফাতহুল কাদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৬
২০. মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ১৯৩; হাশিয়া আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৭৪
২১. আল-ইকনা, খ. ৪, পৃ. ১৪৪; হাশিয়া কালয়ূবী, খ. ৪, পৃ. ৮৫; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৮, পৃ. ৩৪৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪৮
২২. শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ৩, পৃ. ২৫৭
২৩. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ১, পৃ. ২২০
📄 ঋণগ্রহণ বৈধ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: ঋণদাতা কোনো উপকার গ্রহণ না করা
ঋণদানের প্রেক্ষিতে ঋণদাতার উপকার গ্রহণ হয় তো চুক্তিতে কৃত শর্ত অনুসারে হবে অথবা শর্ত ছাড়া। যদি চুক্তিতে কৃত শর্তের ভিত্তিতে হয় তাহলে সবার মতে এই উপকার গ্রহণ হারাম। আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “প্রতিটি এমন ঋণ যা উপকার বহন করে তা সুদ।” ফকীহদের সর্বসম্মত মতানুসারে ঋণ পরিশোধের সময় দাতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্তারোপ মূল চুক্তিটিই বাতিল করে দেয়। তবে ঋণদাতা যদি ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে এমন কোনো সুবিধা ভোগ করে যা চুক্তিতে শর্ত করা হয়নি, তবে তা হানাফী, শাফেয়ী মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের সকল ফকীহর মতে বৈধ।
দ্বিতীয় শর্ত: অন্য চুক্তি যোগ না হওয়া
ইসতিদানা চুক্তি সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, এই চুক্তির সাথে অন্য চুক্তি যুক্ত না হওয়া। অন্য চুক্তি মূল ইসতিদানা চুক্তিতে যোগ করা হোক অথবা অন্য চুক্তির বিষয়ে উভয়পক্ষ ইসতিদানা চুক্তির পর একমত হোক, বিধান অভিন্ন। যেমন কর্জগ্রহীতা তার বাড়ি কর্জদাতার কাছে ভাড়া দেবে, অথবা কর্জগ্রহীতা করযদাতার বাড়ি ভাড়া নেবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণ ও বিক্রি একসাথে করতে নিষেধ করেছেন।
টিকাঃ
২৪. হারিছ ইবনু আবী উসামা তার মুসনাদ গ্রন্থে আলী রা.-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
২৫. ফাতহুল কাদীর, খ. ৪, পৃ. ৪৫২; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৪২
২৬. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২১; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪৭; আসহালুল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ২১৮; ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৯৫
২৭. জাবের বিন আবদুল্লাহ রা.-এর সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
২৮. হাদীসে যে শব্দ এসেছে তা বোঝায় এমন উট, যা সপ্তম বছরে পদার্পণ করেছে।
২৯. আবু রাফি রা.-এর সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
৩০. হাশিয়া আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২২৪; আসহালুল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ৩১৮; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২০; আল-মুহাল্লা, খ. ৮, পৃ. ৮৬; আল-আসার, মুহাম্মদ বিন হাসান, পৃ. ১৩২
৩১. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২০
৩২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২০; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪৭; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৯
📄 বাইতুল মাল থেকে ঋণগ্রহণ অথবা বাইতুল মালের জন্যে ঋণগ্রহণ
এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, বাইতুল মালের জন্যে অথবা বাইতুল মাল থেকে ঋণগ্রহণ করা জায়েয।
বাইতুল মাল থেকে ঋণগ্রহণ: এটি জায়েয হওয়ার প্রমাণ হলো এ হাদীস। বর্ণিত আছে, আবু বকর রা. বাইতুল মাল থেকে সাত হাজার দিরহাম ঋণ নিয়েছিলেন। উমর রা. বলেন, আমি আল্লাহর সম্পদকে আমার ক্ষেত্রে একজন ইয়াতীমের সম্পদের স্থান দান করেছি। সুতরাং প্রয়োজন হলে আমি তা থেকে নেব, এরপর যখন স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে তখন পরিশোধ করব।
বাইতুল মালের পক্ষ থেকে ঋণ নেওয়া: এর প্রমাণ হলো আবু রাফে' রা. থেকে বর্ণিত হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটি উট ঋণ নিয়েছিলেন। এরপর নবী স.-এর দরবারে যাকাতের উট এলো। তখন নবীজী আবু রাফে' রা. কে আদেশ করলেন, ঐ ব্যক্তিকে উটটি পরিশোধ করার।
তবে এ জন্য শর্ত হলো বাইতুল মালের দায়িত্ব যার কাঁধে তার সম্মতিক্রমে স্বচ্ছল আমানতদার ব্যক্তিকে এই ঋণ প্রদান করা হবে। শাফেয়ী ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, ওয়াকফকারী ওয়াকফ করতে বিচারক বা প্রশাসকের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। ইয়াতীমের সম্পদ, নিরুদ্দেশ ব্যক্তির সম্পদ ও কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য।
টিকাঃ
৩৩. হাদীসটি ইমাম মালেক বালাগ সূত্রে, বায়হাকী অবিচ্ছিন্ন সনদে উল্লেখ করেছেন।
৩৪. আবু রাফি রা.-এর সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
📄 ইসতিদানার বিধান
ক. মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া: স্রেফ চুক্তির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা ঋণের পরিবর্তে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। তবে কর্জ চুক্তির বিধান ভিন্ন।
খ. তাগাদা দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হওয়া: ইসতিদানার একটি বিধান হলো, মেয়াদ হয়ে গেলে ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “স্বচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা করা এক প্রকার জুলুম।”
গ. সফর করতে বাধা দেওয়া: মৌলিকভাবে ঋণদাতার অধিকার রয়েছে নগদে উসুলযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে সফর করতে বাধা দেওয়ার, যদি ঋণগ্রহীতার বর্তমান সম্পদ এই পরিমাণ না হয়, যা দ্বারা উক্ত ঋণ উসূল করা সম্ভব।
ঘ. ঋণগ্রহীতার পেছনে লেগে থাকার অধিকার: ঋণদাতার অধিকার রয়েছে ঋণগ্রহীতার পেছনে সে লেগে থাকতে পারবে। তবে ঋণদাতা যদি পুরুষ হয় আর ঋণগ্রহীতা হয় মহিলা, তবে এ সুযোগ নেই।
৫. ঋণ পরিশোধের জন্যে চাপ প্রয়োগ করে দাবি জানানোর অধিকার: ঋণগ্রহীতার জন্যে ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক, যতক্ষণ সে পরিশোধে সক্ষম থাকে। যদি সে অসমর্থ হয় আর ঋণ ছিল মিছলী বস্তু, আর তার কাছে অনুরূপ মিছলী বস্তু থাকে, তাহলে বিচারক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার কাছে থাকা বস্তুর মাধ্যমে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করবে।
চ. নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে লেনদেন-নিষিদ্ধ করা: সকল ফকীহের মতে নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে লেনদেন-নিষিদ্ধ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে জায়েয নেই।
ছ. ঋণগ্রহীতাকে আটক করা: ঋণদাতার অধিকার রয়েছে ঋণ পরিশোধে অনিচ্ছুক সচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে আটক করার দাবি জানানোর।
জ. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মতবিরোধ হলে: যদি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে মতবিরোধ হয়, আর কারো কোনো প্রমাণ না থাকে, তাহলে ঋণের গুণ, পরিমাণ ও ঋণগ্রহীতার সচ্ছলতার বিষয়ে ঋণগ্রহীতার দাবি কসমসহ গ্রহণ করা হবে।
টিকাঃ
৩৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪১; আল-মুগনী, খ. ৪,পৃ. ২৪৩; কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ১০৯; আল-আসার, আবু ইউসুফ, পৃ. ৯১৩; আল-মুহাল্লা, খ. ৮, পৃ. ৩২৪
৩৬. শারহুল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ১০, পৃ. ৪৯৮৪; আহকামুল কুরআন, জাসসাসকৃত, খ. ১, পৃ. ৫৭৪; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩১৭; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ২৪০; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৪৮
৩৭. সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৮
৩৮. আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
৩৯. আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৮৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৫, পৃ. ৬৩; তাফসীরুল কুরতুবী, খ. ৩, পৃ. ৩৭২
৪০. সূরা বাকারা, আয়াত ২৮০
৪১. আসনাল মাতালিব, খ. ৪, পৃ. ১৭৭; হাশিয়া আদ-দুসূকী, খ. ২, পৃ. ১৭৫; খ. ৩, পৃ. ২৬২; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৩, পৃ. ২২১; আল-মুগনী, খ. ৮, পৃ. ৩৬০; খ. ৪, পৃ. ৪৫৫