📄 ঋণ পরিশোধ হওয়া (اِنْقِضَاءُ الدَّيْنِ)
একবার দায়িত্বে ঋণ আবশ্যক হলে এ ঋণ দায়ে থাকবে, নিম্নে আলোচিত কোনো কারণ না হওয়া পর্যন্ত:
প্রথম: পরিশোধ করা
দেনাদার, তার স্থলবর্তী বা কাফীল অথবা অন্য কেউ যদি পাওনাদার বা তার স্থলবর্তী এমন কারো নিকট ঋণ পরিশোধ করে, যার পাওনাদারের পাওনা কজা করার অধিকার রয়েছে, তাহলে দেনাদার দায়মুক্ত হবে এবং তার দায় থেকে ঋণ রহিত হবে।
দ্বিতীয়: দায়মুক্ত করে দেওয়া
এটা এভাবে যে, বকরের নিকট যায়েদের পাওনা রয়েছে একশ দীনার। এরপর যায়েদ তাকে সমুদয় পাওনা থেকে দায়মুক্ত করে দেয়, তাহলে এ দায়মুক্তির মাধ্যমে দেনাদারের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটবে এবং ঋণ শেষ হয়ে যাবে।
তৃতীয়: দেনা পাওনায় কাটাকাটি (الْمُقَاصَّةُ)
তা হল, কোনো লোকের দেনাদারের দেনা রহিত হবে, এই পাওনাদারের কাছে ঐ দেনাদারের পাওনার বিনিময়ে। তা হতে হবে শ্রেণি, গুণ ও পরিশোধের সময়ের ক্ষেত্রে এক বরাবর।
চতুর্থ: দায় অভিন্ন হওয়া (أَتَّحَادُ الذِّمَّة)
এর সুরত হলো, যায়েদ তার সহোদর বকরের কাছে দেনাদার। এ অবস্থায় পাওনাদার বকর মারা গেল, আর তার ওয়ারিস একমাত্র তার ভাই যায়েদ। তখন যায়েদ মীরাছের মালিকানা লাভের আওতায় এ পাওনারও মালিক হয়ে যাবে। এ সবকিছুর দায় এক হয়ে যাওয়ার কারণে পাওনা রহিত হবে।
পঞ্চম: তামাদী হওয়া (التَقَادُمُ)
শরীয়তের বিবেচনায় তামাদী হওয়া ঋণ রহিত হওয়ার কারণ হতে পারে না।
ষষ্ঠ: আবশ্যক হওয়ার কারণ রহিত হয়ে যাওয়া
এর সুরত হলো, মূল্যমানসম্পন্ন বিভিন্ন বস্তুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিনিময়মূলক চুক্তি কখনো বাতিল হয়ে যায় কোনো খিয়ার প্রয়োগের ফলে বা বাতিল হওয়ার কোনো অন্য কারণ হেতু। তাহলে চুক্তি বাতিলকারীর দায়িত্বে যে দেনা এসেছিল তা নিঃশেষ হয়ে যাবে।
সপ্তম: ঋণের নবায়ন (تجديد الدين)
এর সুরত হলো মূল দেনাকে নতুন দেনা দিয়ে পরিবর্তন করা।
অষ্টম: হাওয়ালা
এর সুরত হলো, মুহাল যখন হাওয়ালা গ্রহণ করবে, তখন মুহীল ও কাফীল দায়মুক্ত হবে, যুগপৎ দেনা এবং তা পরিশোধের তাগাদা থেকে।
নবম : নিঃস্ব অবস্থায় দেনাদারের মৃত্যুবরণ (مَوْتُ الْمَدِينِ مُفْلِسًا)
এটি হানাফী ফকীহদের মত, যারা মনে করেন, দুনিয়ার বিচারে দেনাদারের দায় থেকে দেনার বিধান রহিত হয়- যদি দেনাদার নিঃস্ব হয়ে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণ ভিন্নমত পোষণ করেন।
টিকাঃ
১৭৯. মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ১৯৫, ১৯৬, ১৯৭, ২০৫, ২১৭, ২১৮
১৮০. মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ২২১
১৮১. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা: ১৫৬৮; মুরশিদুল হায়রান, ধারা ২৩৪, ২৩৬, ২৪৬
১৮২. মুরশিদুল হায়রান, ধারা ২২৪, ২২৬, ২৩০ ও ২৩১
১৮৩. মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ২৫৬-২৬১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা: ১৬৬০-১৬৭৫
১৮৪. মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ২৫৩-২৫৫
১৮৫. আল-ফাতাওয়া আল-খানিয়া, খ. ২, পৃ. ২১৮; মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ১৫০
১৮৬. আল-'উদুদ দূররিয়্যা ফী তানকীহিল ফাতাওয়াল হামীদিয়্যা, খ. ১, পৃ. ২৮৮; মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ২৫১
১৮৭. আল-'উকূদুদ দূররিয়্যা ফী তানকীহিল ফাতাওয়াল হামীদিয়্যা, খ. ১, পৃ. ২৮৮; মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ২৫২
১৮৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৯১, ২৯২
১৮১. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৭০
১৯০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৭০
১৯১. আল-ইশরাফ, খ. ২, পৃ. ২১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫৯৩