📄 যে সকল চুক্তি আবশ্যক হতে কজা পাওয়া শর্ত
এ ধরনের চুক্তি চারটি। নিম্নে সেগুলোর আলোচনা করা হচ্ছে:
এক. হিবা বা দান-অনুদান (هِبَة)
হিবা আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে কজা করা শর্ত হিসাবে তার পরিধি কতটুকু, তা নিয়ে ফকীহদের মতবিরোধ হয়েছে। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, হিবা আবশ্যিক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত। যদি কব্জা করার আগে হিবাকারী হিবা প্রত্যাহার করতে চায় করতে পারবে। হানাফী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, হিবা কব্জা করলেই তা আবশ্যিক হয় না, তা ফিরিয়ে নেওয়া যায়। তবে যদি হিবাকারী তার আত্মীয়-স্বজনকে দান করে থাকে তবে তা আর ফেরত নেওয়া যায় না।
দুই. ওয়াকফ (الوقف)
ওয়াকফ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে কজার পরিধি কী তা নিয়ে ফকীহগণ তিনটি মত ব্যক্ত করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ এবং হানাফী মাযহাবের ইমাম আবু ইউসুফ এর মত হচ্ছে, ওয়াকফ করার দ্বারাই তা পূর্ণ এবং আবশ্যিক হয়ে যায়, তা কব্জা করা আবশ্যিক নয়। ইমাম মুহাম্মদ এবং মালেকী ফকীহদের মতে, ওয়াকফ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্যে কজা শর্ত।
তিন. কর্জ বা ঋণ (الْقَرْضِ)
ফকীহগণ কর্জের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদে মালিকানা বা তার আবশ্যক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত হবে কি-না, তা নিয়ে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে কজা করার দ্বারা লেনদেনটা আবশ্যিক হয়ে যায়।
চার. বন্ধক (الرّهن)
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের অভিমত, বন্ধক আবশ্যিক হতে কজা করা শর্ত। তাই বন্ধক গ্রহীতা বন্ধক রাখা বস্তু কজা করার পূর্বে বন্ধকদাতা তা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
টিকাঃ
১৫২. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ৩৭৫; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮৫; আল-মুহায্যাব, খ. ১, পৃ. ৪৫৪; কিফায়াতুল আখয়ার, খ. ১, পৃ. ১৭৬; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ২৫৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৯১
১৫৩. মুসতাদরাকে হাকেম, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৫৪, মুসলিম, খ. ৪, পৃ. ২২৭৩।
১৫. ইবনে ফারাজ কুরতুবী রচিত আকজিয়াতু রাসূলিল্লাহ, পৃ. ৫০৪
১৫৬. মাজাল্লা আল-আহকামুল আদলিয়্যা, ধারা: ৮৬৪-৮৬৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১২৯
১৫৭. আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ১০১
১৫৮. বুখারী, ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৩৯২; মুসলিম শরীফ, খ. ৩, পৃ. ১২৫৫
১৫৮. আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮১
১৬০. আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮১; বায়হাকী, খ. ৬, পৃ. ১৬১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯।
১৬১. তাহাভী কৃত শারহু মাআনিল আছার, খ. ৪, পৃ. ৯৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৪৭
১৮২. শারহু মাআনিল আছার, খ. ৪, পৃ. ৯৮
১৬৩. লিসানুল হুক্কাম, পৃ. ১১৪; খাযানাতুল ফিকহ, পৃ. ২৬৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯; আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৪৭
১৬৪. লুবাবুল লুবাব, পৃ. ২৩৯; কিফায়াতুত তালিব আর-রাব্বানী, খ. ২, পৃ. ২০৩ ও ২১২
১৬৫. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২২৬
১৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২৮; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৩৯৭
📄 বন্ধকে রাখা বস্তুতে কজা বহাল রাখা
বন্ধক রাখা বস্তুতে কজা বহাল রাখা জরুরি কি-না? এ বিষয়ে ফকীহদের তিনটি মত হয়েছে:
এক. হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের মত তারা বলেন, বন্ধক রাখা বস্তুতে কজা অব্যাহত রাখা শর্ত বা জরুরি নয়। তাই বন্ধক রাখার পর বন্ধকদাতা যদি বন্ধকগ্রহীতার নিকট তা ধার হিসাবে বা আমানত হিসাবে চায়, তাহলে তা সহীহ হবে, তাকে ধার বা আমানত হিসাবে দেওয়া যাবে। এর কারণ, বন্ধক এমন এক চুক্তি যার কেবল সূচনায় কব্জা করার বিবেচনা করতে হবে। হিবার ন্যায় তাতে কজা অব্যাহত রাখা শর্ত নয়। তাই বন্ধকগ্রহীতার অধিকার রয়েছে যে কোনো সময় সে বন্ধকে রাখা বস্তু ফিরিয়ে দিতে পারে।
يُغْتَفَرُ فِي الْبَقَاءِ مَا لَا يُغْتَفَرُ فِي الْإِبْتِدَاءِ : অর্থাৎ বহাল থাকাকালে এমন অনেক কিছু ছাড় দেওয়া যাবে সূচনাকালে যা ছাড় দেওয়া যাবে না।
দুই. মালেকী ফকীহদের অভিমত : তারা বলেন, বন্ধক সঠিক রাখার জন্যে শর্ত হচ্ছে, যে পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করবে সে পর্যন্ত কজা বহাল রাখা। তাই বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকে রাখা বস্তু কব্জা করার পর যদি ধার দেওয়া বা আমানত রাখা যেভাবে হোক তা বন্ধকদাতার হাতে ফেরত দেয়, বন্ধক বাতিল হয়ে যাবে। তারা কারণ হিসাবে বলেন, বন্ধক রাখার শুরুতে যে কারণে বন্ধক রাখা হয়েছে-ঋণ পরিশোধে দৃঢ় অঙ্গীকার- তা কজা করার দ্বারা অর্জিত হয়েছে। এ অঙ্গীকার বহাল থাকা আবশ্যক, তাই বন্ধকে কজাও অব্যাহত থাকা আবশ্যক।
তিন. হাম্বলী ফকীহদের মত : তারা বলেন, বন্ধক-চুক্তি আবশ্যিক থাকার জন্যে বন্ধক রাখা বস্তুতে বন্ধকগ্রহীতার কজা অব্যাহত রাখতে হবে। যে কোনোভাবে যদি বন্ধকগ্রহীতা তা তার হাত থেকে স্বেচ্ছায় বন্ধকদাতার হাতে অথবা অন্য কারো হাতে তুলে দেয়, তাহলে বন্ধকের আবশ্যিক থাকা আর অটুট থাকবে না। বন্ধক রাখার চুক্তিটা এমন হয়ে যাবে, যেন বন্ধক রাখা বস্তু আদৌ কব্জা করা হয়নি। সে তা ইজারা হিসাবে ছাতছাড়া করুক, ধার দেওয়া হিসাবে বা আমানত রাখা ইত্যাকার যে কোনো পন্থায় তা তার নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করুক। যদি জিনিসটা আবার তার হাতে আসে, তাহলে বন্ধকের পূর্বতন আবশ্যিক হওয়ার বিধান ফিরে আসবে মধ্যবর্তী সময়সহ। এ সময় নতুনভাবে আবার বন্ধকচুক্তি করতে হবে না, যেহেতু ধরা হবে, মাঝে এমন কিছু হয়নি যা তা বাতিল করে দিয়েছে। যেন বন্ধক চুক্তি হওয়ার পর তা কব্জা করার ক্ষেত্রে শুরুতেই বিলম্ব করা হয়েছে। যদি অন্যায়ভাবে বন্ধকগ্রহীতার নিয়ন্ত্রণ থেকে তা সরিয়ে ফেলা হয়, যেমন তার হাত থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বা চুরি করা হয়, দাস-দাসী যদি পালিয়ে যায় অথবা অন্য কোনো পন্থায় সম্পদ বিনষ্ট হয়, তাহলে বন্ধকচুক্তির আবশ্যকতা বহাল থাকবে। যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে ও বিধানগতভাবে ধরে নেওয়া হবে তার হাতেই তা রয়েছে, তা তার হাত থেকে ছুটে যায়নি।
তারা তাদের এ কথার দলিল হিসাবে বলেন, বন্ধক রাখা হয় ঋণ পরিশোধের বিষয়টি মজবুত করার জন্যে। প্রয়োজনে যেন বন্ধক রাখা বস্তুটি বিক্রি করে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়। যদি বন্ধকগ্রহীতার হাতে বন্ধক রাখা বস্তুটি সার্বক্ষণিকভাবে না থাকে তাহলে বন্ধক রাখার এ উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। এভাবে হাতে থাকা অব্যাহত থাকার উপর বন্ধক আবশ্যক হওয়া নির্ভর করে। তাই হাতে থাকতে হবে অব্যাহতভাবে।
টিকাঃ
১৭৩. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৫১১; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ১২৪; দুরারুল হক্কাম, আলী হায়দার প্রণীত, খ. ২, পৃ. ১৬১
১৭৪. মাজাল্লা আল-আহকামুল আদলিয়্যা, ধারা: ৫৫
১৭৫. আল-ইশরাফ, কাজী আব্দুল ওয়াহহাব প্রণীত, খ. ২, পৃ. ২; আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ৩৫২; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৩০
১৭৬. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২৩৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৭৪
📄 বিভিন্ন চুক্তিতে কজা করার প্রভাব প্রতিক্রিয়া
চুক্তিতে কব্জা করার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, কজাকৃত বিষয়টির দায়দায়িত্ব অন্যের নিকট থেকে কব্জাকারীর দায়িত্বে এসে পড়ে। ফলে সে এখন তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সে যা কজা করে তার বদল ও বিনিময় প্রদান তার জন্যে আবশ্যক হয়ে যায়। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো:
প্রথম প্রতিক্রিয়া: দায়দায়িত্ব কব্জাকারীর দায়িত্বে চলে আসা
যে কজা করবে কজাকৃত বস্তুর দায়দায়িত্ব তার কাঁধে চলে আসবে, এ কথায় দায়দায়িত্ব বলে বোঝানো হয়েছে, বস্তুটি ধ্বংস হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তাতে কোনো খুঁত সৃষ্টি হলে তার ক্ষতিপূরণ বা অন্য সম্ভাব্য পরিণতি বহন করা। যে সকল চুক্তিতে এ ধরনের দায়ভার গ্রহণের বিষয় রয়েছে সেগুলো হচ্ছে: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া, জিনিস ধার নেওয়া, বন্ধক রাখা, যে বিবাহে মহর নির্দিষ্ট বস্তু।
📄 প্রথম প্রতিক্রিয়া : দায়দায়িত্ব কজাকারীর দায়িত্বে চলে আসা
যে কজা করবে কজাকৃত বস্তুর দায়দায়িত্ব তার কাঁধে চলে আসবে, এ কথায় দায়দায়িত্ব বলে বোঝানো হয়েছে, বস্তুটি ধ্বংস হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তাতে কোনো খুঁত সৃষ্টি হলে তার ক্ষতিপূরণ বা অন্য সম্ভাব্য পরিণতি বহন করা।
প্রথম: যথাযথ ও আবশ্যক বিক্রিচুক্তি পণ্যে ক্ষতিপূরণ ও দায়দায়িত্ব
ফকীহগণ মতবিরোধ করেছেন, পণ্যের দায়ভার কার উপর, ক্রেতা কজা করার পূর্বে বা কজা করার পর। বিক্রয়ের পর ক্রেতা পণ্যটি কজা করার পূর্বে পণ্যের দায়দায়িত্ব কি বিক্রেতার কাছে থাকবে? কব্জা করা ব্যতীত তা ক্রেতার নিকট যাবে না, না চুক্তি সম্পন্ন হলেই দায়ভার ক্রেতার কাঁধে চলে আসবে, ক্রেতা কজা করুক বা না করুক? এ বিষয়গুলো নিয়ে সৃষ্ট মতপার্থক্য বিস্তারিতভাবে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের সম্মিলিত অভিমত পণ্য বিক্রেতার দায়িত্বে থাকবে, ক্রেতা তা কজা করে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। যখনই কব্জা করবে দায়ভার তার কাঁধে চলে আসবে। মালেকী ফকীহদের মত অনুযায়ী, যেগুলোতে পরিমাপ ও ওজন ইত্যাদি করা হয় সেগুলোতে তারা হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের সাথে ঐকমত্য প্রকাশ করে বলেন, কজা করার পূর্ব পর্যন্ত এগুলো বিক্রেতার দায়িত্বে থাকবে। যখন ক্রেতা তা কজা করবে তা ক্রেতার দায়িত্বে চলে আসবে যদি তা পুরোপুরি ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার বস্তু হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়: ইজারাকৃত বস্তু বা কাজে জামানত
ক. ইজারাকৃত বস্তুতে ক্ষতিপূরণ ও দায়দায়িত্ব
নির্দিষ্ট বস্তু বা ব্যক্তিকে ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়দায়িত্ব: ফকীহদের মধ্যে এ কথায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে ভাড়া নিলে সে ব্যক্তি বা বস্তু এবং তার উপকার যা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য সবই, দ্বিতীয় পক্ষ কজা না করা পর্যন্ত যে ইজারা দিবে তার দায়িত্বে থাকবে। এ কথাতেও তারা একমত, কজা করার পরও যে বস্তু বা ব্যক্তিকে ইজারা নেওয়া হবে তার দায়দায়িত্ব যে ইজারা নিবে তার কাঁধে ন্যস্ত হবে না, বরং এটি তার হাতে আমানত হিসাবে থাকবে।
খ. ইজারাকৃত কাজে ক্ষতিপূরণ ও দায়দায়িত্ব
ব্যক্তিগত কর্মচারী বা মজুরের দায় হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী সকল মাযহাবের সকল ফকীহ এ কথায় একমত, এ ধরনের লোকের হাতে কাজে নিয়োগদাতা ব্যক্তির যে সম্পদ থাকে, কর্মচারী তার কোনো দায় বহন করে না।
সাধারণ শ্রমিকের দায় নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। হানাফী ফকীহদের মতে, তার কোনো কাজের দরুন ক্ষতি হলে সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে। মালেকী ফকীহগণের মতে, মানুষ যেহেতু অনেক বিগড়ে গেছে, তাই কারিগর এবং সাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত সকল সাধারণ শ্রমিক ও মজুরকে ক্ষতি করলে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে।
তৃতীয়: ধার নেওয়া বস্তুর দায়
ফকীহদের মাঝে এ কথায় কোনো বিরোধ নেই, ধার নেওয়া বস্তু যে পর্যন্ত মালিকের হাতে থাকবে সে-ই তার দায় বহন করবে।
চতুর্থ: বন্ধক রাখা বস্তুর দায়
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, বন্ধক রাখা বস্তু বন্ধকদাতার দায়িত্বেই থাকবে যে পর্যন্ত তার হাত থেকে বন্ধকগ্রহীতা তা কজা না করবে।
পঞ্চম: নির্ধারিত মহরের দায়
ফকীহগণ এ বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য করেছেন। হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের মতে, মহর নির্ধারিত হোক, তা স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্বপর্যন্ত তা স্বামীর দায়িত্বে থাকবে। যখন স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেবে তা স্ত্রীর দায়িত্বে চলে যাবে।
টিকাঃ
১৭৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২১০; মাজমাউয যামানাত, পৃ. ১৩; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ২২৬; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪১৫; আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ২৪; আল-মুবদি, খ. ৫, পৃ. ১১৩; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৮৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ৩৯ ও ৪৯
১৭৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২১১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৫০০; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ২২৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১১; আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ২৮; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৯১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৭১; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩৭৬
১৭৯. তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৫, পৃ. ১৩৪; মাজমাউল আনহুর ওয়াদ দুররিল মুসাফফা, খ. ২, পৃ. ৩৯১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ২৬; আল-ইনসাফ, খ. ৬, পৃ. ৭২
১৮০. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৪, পৃ. ২১০; মাজমাউয যামানাত, পৃ. ২৭
১৮১. আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৮৩
১৮২. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ২২৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১০
১৮৩. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ২২৮; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪১৫