📄 যে সকল চুক্তি সঠিক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত
এক. সরফ বিক্রি (الصرف)
সকল ফকীহ একমত, সরফ বিক্রি সঠিকভাবে সম্পাদন করতে উভয় বিনিময়ই কজা করতে হবে উভয়পক্ষ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই। তারা দলিল হিসাবে উপস্থাপন করেন উবাদা ইবনে সামেত রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সোনার বদলে সোনা, রুপার বদলে রুপা... হাতে হাতে বিনিময়। যদি বস্তুগুলোতে পার্থক্য হয়, তাহলে তোমরা হাতে হাতে বিনিময় করে যেরূপ খুশি বেচাকেনা করতে পার।"
দুই. সুদী সম্পদসমূহের একটির অপরটির সাথে বেচাকেনা
সকল ফকীহ একমত, সুদী সম্পদসমূহের যে কোনোটি সমজাতীয় বস্তুর বিপরীতে বেচাকেনা করা হলে তা যথাযথ হওয়ার জন্যে শর্ত হচ্ছে, বিলম্বিত না হয়ে উভয় দিকের পণ্য নগদ কব্জা করে ফেলতে হবে।
তিন. সালাম বিক্রি (السَّلَمُ)
হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের বিশাল দল শর্ত ঘোষণা করেছেন, বিক্রি যথাযথ হওয়ার জন্যে চুক্তির উভয়পক্ষ পৃথক হওয়ার পূর্বে যে পক্ষ শস্য দিবে সে পক্ষ পুঁজির টাকা কজা করতে হবে।
চার. দায়িত্বের ইজারা (إجَارَةُ الذِّمَّة)
দায়িত্বের ইজারা : এক্ষেত্রে যে উপকার অর্জিত হবে- যা ইজারাতে চুক্তিবদ্ধ বিষয়- তা কোনো ব্যক্তির দায়িত্বের সাথে সম্পর্কিত হবে। যেমন, যাত্রী হিসাবে চড়ার জন্যে বা সামানপত্র আনা নেওয়ার জন্যে এ কাজগুলো করতে সক্ষম এমন জন্তু কারো কাছে ইজারা হিসাবে চাওয়া। এ ধরনের চুক্তিতে পারিশ্রমিক ঐ মজলিসেই দেওয়া হবে কি-না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ী ফকীহদের মতে, দায়িত্বের ইজারা বিশুদ্ধভাবে করতে চুক্তির মজলিসেই দায়িত্ব গ্রহণকারী পারিশ্রমিকের অংশ গ্রহণ করবে।
পাঁচ. মুদারাবা (الْمُضَارَبَةُ)
হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের কতক ফকীহের মতে মুদারাবা চুক্তি সহীহ ও সঠিক হওয়ার জন্যে শর্ত হলো, ব্যবসা-কর্মীর হাতে বাধাহীনভাবে টাকা তুলে দেওয়া।
ছয়. মুযারাআ (الْمُزَارَعَةُ)
হানাফী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, মুযারাআ সহীহ ও সঠিক হওয়ার জন্যে শর্ত হচ্ছে, কৃষিকর্মীর হাতে চুক্তি করা কৃষিজমি তুলে দেওয়া, জমির মালিকের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা।
সাত. মুসাকাত (الْمُسَاقَةُ)
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহগণ বলেন, মুসাকাত যথাযথ ও নির্ভুলভাবে সম্পাদনের জন্যে জরুরি, কর্মী যে গাছগুলোর পরিচর্যা করবে সেগুলো তার হাতে তুলে দেওয়া।
টিকাঃ
১০০. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ২১৫; রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ২৫৮; আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৫৫৪; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৯; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২১৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫১; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৩৮০
১৩১. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫১; তাকমিলা আল-মাজমুউ, খ. ১০, পৃ. ৬৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৭
১৩২. মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১২১১।
১০০. বুখারী, মুসলিম, ইমাম মালেক, নাসাঈ, আবুদাউদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১৩৪. আল-মাজমুউ শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ৪০৪; তাকমিলাতুল মাজমূউ, খ. ১০, পৃ. ১৪
১৩৫. আত-তাজ ওয়াল ইকলীল, খ. ৪, পৃ. ৩০৭; মিনাহুল জলীল, খ. ২, পৃ. ৫০৮
১৩৬. আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ২৭৬; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ১৬৪
১৩৭. আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৫৫২; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৬ ও ৩১; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৮; আদ-দুররুল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ১৭২; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ১০৭; আল-বাজী প্রণীত আল মুনতাকা, খ. ৫, পৃ. ৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৫; আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৯
১৩৮ মুসলিম, হাদীসের বর্ণনাকারী উবাদা ইবনে সামেত রা.
১০০ ফাতহুল আযীয, খ. ৮, পৃ. ১৬৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৮; আল-বাজী প্রণীত মুনতাকা, খ. ৪, পৃ. ২৬০, এবং খ. ৫, পৃ. ৩; আল ইশরাফ, খ. ১, পৃ. ২৫৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৬
১৪০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ১৭২ ও ১৭৮
১৪০. ফাতহুল আযীয, খ. ১২, পৃ. ২০৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৭৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮১; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২০৮ ও ৩০১
১৪৪. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩৬০; মাজাল্লা আল-আহকামুশ শারঈয়্যা, ধারা: ৫৩৯
১৪৫ রদ্দুল মুহতার, খ. ৮, পৃ. ২৮৩; আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ৪, পৃ. ৩৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০; রওজাতুত তালেবীন; খ. ৫, পৃ. ১১৮; আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৫১৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৫
১৪৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০
১৪৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২০
১৪৮ আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৫
১৪৯. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩২৭
১৫০ রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ২৭৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১৭৮
১৫১ রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৮৬; ফাতহুল আযীয, খ. ১২, পৃ. ১৩১; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৫৫; আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ৪, পৃ. ৩৯৪
📄 যে সকল চুক্তি আবশ্যক হতে কজা পাওয়া শর্ত
এ ধরনের চুক্তি চারটি। নিম্নে সেগুলোর আলোচনা করা হচ্ছে:
এক. হিবা বা দান-অনুদান (هِبَة)
হিবা আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে কজা করা শর্ত হিসাবে তার পরিধি কতটুকু, তা নিয়ে ফকীহদের মতবিরোধ হয়েছে। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, হিবা আবশ্যিক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত। যদি কব্জা করার আগে হিবাকারী হিবা প্রত্যাহার করতে চায় করতে পারবে। হানাফী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, হিবা কব্জা করলেই তা আবশ্যিক হয় না, তা ফিরিয়ে নেওয়া যায়। তবে যদি হিবাকারী তার আত্মীয়-স্বজনকে দান করে থাকে তবে তা আর ফেরত নেওয়া যায় না।
দুই. ওয়াকফ (الوقف)
ওয়াকফ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে কজার পরিধি কী তা নিয়ে ফকীহগণ তিনটি মত ব্যক্ত করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ এবং হানাফী মাযহাবের ইমাম আবু ইউসুফ এর মত হচ্ছে, ওয়াকফ করার দ্বারাই তা পূর্ণ এবং আবশ্যিক হয়ে যায়, তা কব্জা করা আবশ্যিক নয়। ইমাম মুহাম্মদ এবং মালেকী ফকীহদের মতে, ওয়াকফ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্যে কজা শর্ত।
তিন. কর্জ বা ঋণ (الْقَرْضِ)
ফকীহগণ কর্জের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদে মালিকানা বা তার আবশ্যক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত হবে কি-না, তা নিয়ে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে কজা করার দ্বারা লেনদেনটা আবশ্যিক হয়ে যায়।
চার. বন্ধক (الرّهن)
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহদের অভিমত, বন্ধক আবশ্যিক হতে কজা করা শর্ত। তাই বন্ধক গ্রহীতা বন্ধক রাখা বস্তু কজা করার পূর্বে বন্ধকদাতা তা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
টিকাঃ
১৫২. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ৩৭৫; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮৫; আল-মুহায্যাব, খ. ১, পৃ. ৪৫৪; কিফায়াতুল আখয়ার, খ. ১, পৃ. ১৭৬; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ২৫৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৯১
১৫৩. মুসতাদরাকে হাকেম, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৫৪, মুসলিম, খ. ৪, পৃ. ২২৭৩।
১৫. ইবনে ফারাজ কুরতুবী রচিত আকজিয়াতু রাসূলিল্লাহ, পৃ. ৫০৪
১৫৬. মাজাল্লা আল-আহকামুল আদলিয়্যা, ধারা: ৮৬৪-৮৬৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১২৯
১৫৭. আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ১০১
১৫৮. বুখারী, ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৩৯২; মুসলিম শরীফ, খ. ৩, পৃ. ১২৫৫
১৫৮. আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮১
১৬০. আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৮১; বায়হাকী, খ. ৬, পৃ. ১৬১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯।
১৬১. তাহাভী কৃত শারহু মাআনিল আছার, খ. ৪, পৃ. ৯৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৪৭
১৮২. শারহু মাআনিল আছার, খ. ৪, পৃ. ৯৮
১৬৩. লিসানুল হুক্কাম, পৃ. ১১৪; খাযানাতুল ফিকহ, পৃ. ২৬৮; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ২১৯; আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৭১; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৪৭
১৬৪. লুবাবুল লুবাব, পৃ. ২৩৯; কিফায়াতুত তালিব আর-রাব্বানী, খ. ২, পৃ. ২০৩ ও ২১২
১৬৫. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২২৬
১৬৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২৮; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৩৯৭
📄 বন্ধকে রাখা বস্তুতে কজা বহাল রাখা
বন্ধক রাখা বস্তুতে কজা বহাল রাখা জরুরি কি-না? এ বিষয়ে ফকীহদের তিনটি মত হয়েছে:
এক. হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের মত তারা বলেন, বন্ধক রাখা বস্তুতে কজা অব্যাহত রাখা শর্ত বা জরুরি নয়। তাই বন্ধক রাখার পর বন্ধকদাতা যদি বন্ধকগ্রহীতার নিকট তা ধার হিসাবে বা আমানত হিসাবে চায়, তাহলে তা সহীহ হবে, তাকে ধার বা আমানত হিসাবে দেওয়া যাবে। এর কারণ, বন্ধক এমন এক চুক্তি যার কেবল সূচনায় কব্জা করার বিবেচনা করতে হবে। হিবার ন্যায় তাতে কজা অব্যাহত রাখা শর্ত নয়। তাই বন্ধকগ্রহীতার অধিকার রয়েছে যে কোনো সময় সে বন্ধকে রাখা বস্তু ফিরিয়ে দিতে পারে।
يُغْتَفَرُ فِي الْبَقَاءِ مَا لَا يُغْتَفَرُ فِي الْإِبْتِدَاءِ : অর্থাৎ বহাল থাকাকালে এমন অনেক কিছু ছাড় দেওয়া যাবে সূচনাকালে যা ছাড় দেওয়া যাবে না।
দুই. মালেকী ফকীহদের অভিমত : তারা বলেন, বন্ধক সঠিক রাখার জন্যে শর্ত হচ্ছে, যে পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করবে সে পর্যন্ত কজা বহাল রাখা। তাই বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকে রাখা বস্তু কব্জা করার পর যদি ধার দেওয়া বা আমানত রাখা যেভাবে হোক তা বন্ধকদাতার হাতে ফেরত দেয়, বন্ধক বাতিল হয়ে যাবে। তারা কারণ হিসাবে বলেন, বন্ধক রাখার শুরুতে যে কারণে বন্ধক রাখা হয়েছে-ঋণ পরিশোধে দৃঢ় অঙ্গীকার- তা কজা করার দ্বারা অর্জিত হয়েছে। এ অঙ্গীকার বহাল থাকা আবশ্যক, তাই বন্ধকে কজাও অব্যাহত থাকা আবশ্যক।
তিন. হাম্বলী ফকীহদের মত : তারা বলেন, বন্ধক-চুক্তি আবশ্যিক থাকার জন্যে বন্ধক রাখা বস্তুতে বন্ধকগ্রহীতার কজা অব্যাহত রাখতে হবে। যে কোনোভাবে যদি বন্ধকগ্রহীতা তা তার হাত থেকে স্বেচ্ছায় বন্ধকদাতার হাতে অথবা অন্য কারো হাতে তুলে দেয়, তাহলে বন্ধকের আবশ্যিক থাকা আর অটুট থাকবে না। বন্ধক রাখার চুক্তিটা এমন হয়ে যাবে, যেন বন্ধক রাখা বস্তু আদৌ কব্জা করা হয়নি। সে তা ইজারা হিসাবে ছাতছাড়া করুক, ধার দেওয়া হিসাবে বা আমানত রাখা ইত্যাকার যে কোনো পন্থায় তা তার নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করুক। যদি জিনিসটা আবার তার হাতে আসে, তাহলে বন্ধকের পূর্বতন আবশ্যিক হওয়ার বিধান ফিরে আসবে মধ্যবর্তী সময়সহ। এ সময় নতুনভাবে আবার বন্ধকচুক্তি করতে হবে না, যেহেতু ধরা হবে, মাঝে এমন কিছু হয়নি যা তা বাতিল করে দিয়েছে। যেন বন্ধক চুক্তি হওয়ার পর তা কব্জা করার ক্ষেত্রে শুরুতেই বিলম্ব করা হয়েছে। যদি অন্যায়ভাবে বন্ধকগ্রহীতার নিয়ন্ত্রণ থেকে তা সরিয়ে ফেলা হয়, যেমন তার হাত থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বা চুরি করা হয়, দাস-দাসী যদি পালিয়ে যায় অথবা অন্য কোনো পন্থায় সম্পদ বিনষ্ট হয়, তাহলে বন্ধকচুক্তির আবশ্যকতা বহাল থাকবে। যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে ও বিধানগতভাবে ধরে নেওয়া হবে তার হাতেই তা রয়েছে, তা তার হাত থেকে ছুটে যায়নি।
তারা তাদের এ কথার দলিল হিসাবে বলেন, বন্ধক রাখা হয় ঋণ পরিশোধের বিষয়টি মজবুত করার জন্যে। প্রয়োজনে যেন বন্ধক রাখা বস্তুটি বিক্রি করে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়। যদি বন্ধকগ্রহীতার হাতে বন্ধক রাখা বস্তুটি সার্বক্ষণিকভাবে না থাকে তাহলে বন্ধক রাখার এ উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। এভাবে হাতে থাকা অব্যাহত থাকার উপর বন্ধক আবশ্যক হওয়া নির্ভর করে। তাই হাতে থাকতে হবে অব্যাহতভাবে।
টিকাঃ
১৭৩. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৫১১; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ১২৪; দুরারুল হক্কাম, আলী হায়দার প্রণীত, খ. ২, পৃ. ১৬১
১৭৪. মাজাল্লা আল-আহকামুল আদলিয়্যা, ধারা: ৫৫
১৭৫. আল-ইশরাফ, কাজী আব্দুল ওয়াহহাব প্রণীত, খ. ২, পৃ. ২; আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ৩৫২; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৩০
১৭৬. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২৩৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৭৪
📄 বিভিন্ন চুক্তিতে কজা করার প্রভাব প্রতিক্রিয়া
চুক্তিতে কব্জা করার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, কজাকৃত বিষয়টির দায়দায়িত্ব অন্যের নিকট থেকে কব্জাকারীর দায়িত্বে এসে পড়ে। ফলে সে এখন তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সে যা কজা করে তার বদল ও বিনিময় প্রদান তার জন্যে আবশ্যক হয়ে যায়। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো:
প্রথম প্রতিক্রিয়া: দায়দায়িত্ব কব্জাকারীর দায়িত্বে চলে আসা
যে কজা করবে কজাকৃত বস্তুর দায়দায়িত্ব তার কাঁধে চলে আসবে, এ কথায় দায়দায়িত্ব বলে বোঝানো হয়েছে, বস্তুটি ধ্বংস হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তাতে কোনো খুঁত সৃষ্টি হলে তার ক্ষতিপূরণ বা অন্য সম্ভাব্য পরিণতি বহন করা। যে সকল চুক্তিতে এ ধরনের দায়ভার গ্রহণের বিষয় রয়েছে সেগুলো হচ্ছে: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া, জিনিস ধার নেওয়া, বন্ধক রাখা, যে বিবাহে মহর নির্দিষ্ট বস্তু।