📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 কজা করার স্থলবর্তী

📄 কজা করার স্থলবর্তী


কব্জা করার স্থলবর্তী যে বস্তুটি চুক্তির পর কব্জা করার উপযোগী হবে তাতে দু অবস্থা। চুক্তি করার আগেই হয়তো তা সে লোকের হাতে রয়েছে যে তা কজা করবে অথবা তার হাতে নেই, চুক্তির অপরপক্ষের হাতে রয়েছে।

প্রথম অবস্থা: চুক্তির পর কজা করলে যা চুক্তির একপক্ষের হাতে আসবে, চুক্তির পূর্বেই তা যদি তার হাতে থাকে, যেমন- কোনো কিছু কেউ বিক্রি করল বা দান করল বা বন্ধক রাখল ছিনতাইকারীর নিকট বা যে ধার নিয়েছে তার নিকট বা যার কাছে আমানত রাখা আছে তার নিকট বা যে ভাড়া নিয়েছে তার নিকট, তাহলে পূর্ব থেকে বিদ্যমান কজাই কি চুক্তির কজার স্থলবর্তী হবে, না-কি হবে না? তা নিয়ে ফকীহগণ মতবিরোধ করে তিনটি মত বর্ণনা করেছেন।

প্রথম মত: মালেকী ও হাম্বলী ফকীহদের মত: পূর্ববর্তী কজাই চুক্তির ফলশ্রুতিতে কজা করার স্থলবর্তী হবে শর্তহীনভাবে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী দখল আমানতের দখল হোক বা ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার দখল হোক, এখন যে কজা করার উপযোগী হয়েছে তা আমানতের কব্জা হোক বা ক্ষতিপূরণের কজা হোক; এখানে অনুমতিরও শর্ত নেই, পূর্ববর্তী কজার পর দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়াও শর্ত নয়।

সকল ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দখলই চুক্তির প্রেক্ষিতে কজা করার স্থলবর্তী বলে গণ্য হবে। কেননা অব্যাহত কজাই সত্যিকার কজা, যেহেতু তাতে কজাকারীর যে কোনো কাজ করার সুযোগ ও অধিকার ছিল, সে অবস্থাতেই কব্জা করার উপযোগী চুক্তি সম্পাদন হয়েছে, ফলে তার সে সুযোগ ও অধিকার অব্যাহত থেকেছে। এক্ষেত্রে এ মর্মে কোনো দলিল নেই যে, চুক্তির পরই কব্জা বাস্তবায়িত হতে হবে, এর পূর্বের কজা গণ্য হবে না।

দ্বিতীয় মত: হানাফী ফকীহদের মত এক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, যদি চুক্তি করার সময় চুক্তিবদ্ধ বস্তুটি কজায় থাকে তাহলে পূর্বের কজা এবং চুক্তির পর প্রাপ্য কজা উভয়টি একই পর্যায়ের হলে, পূর্ববর্তী কব্জা এবং চুক্তি-পরবর্তী কজাটির একটি অপরটির স্থলবর্তী হবে। যেমন উভয়টি আমানতের কজা বা উভয়টি ক্ষতিপূরণের কজা হলো। এর কারণ উভয়টি এক বরাবর হলেই একটি অপরটির স্থলবর্তী হওয়া অধিক বাস্তবায়িত হয়। তখন একটি অপরটির চাহিদা পূরণ করে। এখানে চাহিদা হচ্ছে, কজা বাস্তবায়িত হওয়া যা পূর্বের কজা দ্বারাই অর্জিত হয়েছে।

তৃতীয় মত: এটি শাফেয়ী ফকীহদের মত: প্রথম কজাই দ্বিতীয় কজার স্থলবর্তী হবে, প্রথম কজাটি ক্ষতিপূরণের কজা হোক বা আমানতের কব্জা হোক, এমনিভাবে চুক্তির পরবর্তী কজাটি আমানতের কজা হোক বা ক্ষতিপূরণের কজা হোক। তবে দ্বিতীয় কজাটি প্রথম কজার স্থলবর্তী হওয়া সঠিক হতে দুটো বিষয় শর্ত হিসাবে জরুরি:
এক. যদি বস্তুটিতে চুক্তির অপরপক্ষের আটকে রাখার অধিকার থাকে তাহলে তার অনুমতি নিতে হবে।
দুই. এতটুকু সময় অতিবাহিত হওয়া যতটুকুতে কব্জা করা বাস্তবায়িত হতে পারে।

দ্বিতীয় অবস্থা: বস্তুটি যদি মালিকের হাতে থাকে। যেমন বিক্রীত পণ্য রয়েছে বিক্রেতার হাতে, দানের বস্তু রয়েছে এখনও দাতার হাতে, সেক্ষেত্রে ফকীহগণ বিক্রীত পণ্য বিক্রেতার হাতে থাকা এবং দানের বস্তু দাতার হাতে থাকার মাঝে কোনো কাজ কজা করার স্থলবর্তী হওয়ার প্রশ্নে পার্থক্য করেছেন। বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে: বিক্রীত পণ্য বিক্রেতার হাতে থাকা অবস্থায় কোনো কাজ কজার স্থলবর্তী হওয়ার প্রশ্নে ফকীহদের তিনটি মত হয়েছে।

এক. হানাফী ফকীহদের মত: বিক্রেতার হাতে এখনও পণ্য রয়ে গেছে, এ অবস্থায় তা ক্রেতা কজা করার স্থলবর্তী হবে ক্রেতার সে পণ্য ধ্বংস করা বা তাকে ত্রুটিপূর্ণ করে ফেলা বা তার আকার আকৃতিতে পরিবর্তন ঘটানো বা তা ব্যবহার করার মাধ্যমে তাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যেহেতু কজা করাই হয় তাতে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যে কোনো কাজ করার ক্ষমতালাভের জন্যে। বস্তু ধ্বংস করা, তা খুঁতযুক্ত করে ফেলা, আকার আকৃতি পাল্টে ফেলা বা তা ব্যবহার করাই হচ্ছে বস্তুতে প্রকৃত অধিকার ও দখলের বহিঃপ্রকাশ।

দুই. শাফেয়ী ফকীহদের মত: ক্রেতা যদি পণ্যটি বিক্রেতার কাছ থেকে কজা করার পূর্বে তা ধ্বংস করে ফেলে, যা বাহ্যিক ও প্রকাশ্যভাবে হতে পারে বা শরীয়তের দৃষ্টিতে ধ্বংস হতে পারে, তাহলে তার এ ধ্বংস করাই কব্জা বলে ধর্তব্য হবে, যদি সে জানে যে সে পণ্যটি ধ্বংস করেছে।

তিন. হাম্বলী ফকীহদের মত: বিক্রেতার হাতে থাকা অবস্থায় ক্রেতা যদি পণ্যবস্তুটি ধ্বংস করে দেয় তাহলে এটি ক্রেতার কজা গণ্য করা হবে। তাই ক্রেতার মূল্য পরিশোধের বিধান বহাল থাকবে। যেহেতু এটি এখন তার সম্পদ, সে নিজেই তা ধ্বংস করেছে। তার এই ধ্বংস করা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছায় হোক। ক্রেতার সম্পদ হিসাবে ক্রেতা তার মূল্য পরিশোধ করবে যদি পূর্বে না দিয়ে থাকে।

টিকাঃ
১০৪. শারহু মিয়ারা আলাত তুহফা, খ. ১, পৃ. ১১১; মাজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়া রচিত আল-মুহাররার, খ. ১, পৃ. ৩৭৪; ইবনে তাইমিয়া কৃত নাযারিয়্যাতুল আকদ, পৃ. ২৩৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৪৯ ও ২৭৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৩৪
১০৫. মাজমাউয যামানাত, পৃ. ২১৭; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৪৮ এবং খ. ৬, পৃ. ১২৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ২২
১০৬. আল-মাজমুউ শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ২৮১; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২৮; ফাতহুল আযীয, খ. ১০, পৃ. ৬৫-৭১
১০৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৪৬; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫৬১
১০৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৬; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৪৯৯ এবং খ. ৭, পৃ. ২৫১
১০৯. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৯১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৩১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২৪
১১০. রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ৩৭৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বিভিন্ন চুক্তি ও লেনদেনে কজা করার শর্তারোপ এবং তার প্রতিক্রিয়া

📄 বিভিন্ন চুক্তি ও লেনদেনে কজা করার শর্তারোপ এবং তার প্রতিক্রিয়া


চুক্তিতে কব্জা করার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, কজাকৃত বিষয়টির দায়দায়িত্ব অন্যের নিকট থেকে কব্জাকারীর দায়িত্বে এসে পড়ে। ফলে সে এখন তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সে যা কজা করে তার বদল ও বিনিময় প্রদান তার জন্যে আবশ্যক হয়ে যায়। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো:

প্রথম প্রতিক্রিয়া: দায়দায়িত্ব কব্জাকারীর দায়িত্বে চলে আসা
যে কজা করবে কজাকৃত বস্তুর দায়দায়িত্ব তার কাঁধে চলে আসবে, এ কথায় দায়দায়িত্ব বলে বোঝানো হয়েছে, বস্তুটি ধ্বংস হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তাতে কোনো খুঁত সৃষ্টি হলে তার ক্ষতিপূরণ বা অন্য সম্ভাব্য পরিণতি বহন করা। যে সকল চুক্তিতে এ ধরনের দায়ভার গ্রহণের বিষয় রয়েছে সেগুলো হচ্ছে: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া, জিনিস ধার নেওয়া, বন্ধক রাখা, যে বিবাহে মহর নির্দিষ্ট বস্তু।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল চুক্তিতে মালিকানা পরিবর্তনের জন্যে কজা করা শর্ত

📄 যে সকল চুক্তিতে মালিকানা পরিবর্তনের জন্যে কজা করা শর্ত


যে সকল চুক্তিতে মালিকানা পরিবর্তনে কব্জা করা সামগ্রিকভাবে/ কোনো না কোনো ভাবে শর্ত সেগুলো মোট পাঁচ প্রকার:

এক. হিবা বা দান-অনুদান (الهبة)
যা হিবা বা অনুদান হিসাবে দেওয়া হচ্ছে তা গ্রহীতা কজা করা সে বস্তুটির মালিকানা পরিবর্তনে শর্ত কি-না, এ বিষয়ে ফকীহদের দুটো মত রয়েছে:
এক. হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহদের অভিমত: যাকে দেওয়া হবে সে কজা করা দানকৃত বস্তুর মালিকানা পরিবর্তনে শর্ত। সে তা কব্জা না করা পর্যন্ত তার মালিকানায় পরিবর্তন ঘটবে না।
দুই. মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ ও ইবনে আবী লায়লার অভিমত: যাকে দান করা হবে, বস্তুটির মালিকানায় পরিবর্তন হয়ে তার মালিকানায় চলে যেতে কজা করা শর্ত নয়। বরং দান-অনুদান ইত্যাদির চুক্তিই মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্যে যথেষ্ট।

দুই. ওয়াকফ (الْوَقْف)
ওয়াকফ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্যে ওয়াকফকৃত সম্পদ কব্জা করা জরুরি ও শর্ত কি-না, তা নিয়ে ফকীহগণ মতবিরোধ করেছেন।
শাফেয়ী ফকীহদের অভিমত, হাম্বলী ফকীহদের গৃহীত যথাযথ মত এবং আবু ইউসুফের মত হচ্ছে, ওয়াকফ যদি যথা নিয়মে করা হয়, তাহলে তা থেকে ওয়াকফকারীর মালিকানা বিলীন হয়ে যায়, তাতে অপরপক্ষের কব্জা করা শর্ত নয়।
মালেকী ফকীহদের মত, ইমাম আহমদ-এর অন্যতম অভিমত এবং ইমাম মুহাম্মদ ও ইবনে আবী লায়লার মত হচ্ছে, ওয়াকফকারীর মালিকানা দূর এবং ওয়াকফ পূর্ণ হওয়ার জন্যে যে কোনো এক ধরনের কজা পাওয়া জরুরি।
আবু হানিফা রহ.-এর মত হচ্ছে, ওয়াকফকৃত বস্তুটিতে ওয়াকফকারীর মালিকানা যথারীতি বহাল থাকবে। তবে যদি ১. বিচারক ওয়াকফ হিসাবে মালিকানা না থাকার ফয়সালা প্রদান করেন বা ২. ওয়াকফকারী তার মৃত্যু পর্যন্ত তার মালিকানা থাকার শর্ত করে তাহলে তার মৃত্যুর পর-এ দু অবস্থায় ওয়াকফকারীর মালিকানা দূর হয়ে যাবে।

তিন, ঋণ বা কর্জ : (الْقَرْضِ)
কর্হদাতার ঋণ হিসাবে প্রদত্ত সম্পদে কর্জগ্রহীতার মালিকানা প্রতিষ্ঠাকালে তা কজা করা জরুরি ও শর্ত কি-না, তা নিয়ে ফকীহদের তিনটি মত তৈরি হয়েছে:
এক. আবু হানীফা ও মুহাম্মদের অভিমত, শাফেয়ীদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত, হাম্বলীদেরও মত এটিই যে, কর্জগ্রহীতা কর্জদাতার কর্জ হিসাবে প্রদত্ত সম্পদ কজা করলেই সে তার মালিক হতে পারবে।
দুই. মালেকী মাযহাবের ফকীহদের মত : ঋণগ্রহীতা ঋণদাতার যে পরিমাণ সম্পদ ঋণ হিসাবে নিবে, ঋণগ্রহণের চুক্তির দ্বারাই সে সেটুকুর পূর্ণ মালিকানা লাভ করবে। সে তা কজা না করলেও তা তার সম্পদে গণ্য হবে।
তিন. ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত যা শাফেয়ীদের একটি মত। তা হলো, ঋণগ্রহীতা ঋণের সম্পদে তাসাররুফ (التّصَرُّف) করার দ্বারাই তার মালিক হয়ে যাবে।

চার. বস্তু ধার নেওয়া (الْعَارِيَّة)
শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহদের মত হলো, যে লোক কোনো বস্তু ধার নেবে সে ওই বস্তু কব্জা করুক বা না করুক, কোনো ভাবে বস্তুর উপকার তার মালিকানায় আসবে না। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মত হচ্ছে, এখানে কব্জা করা শর্ত। কজা করলে ধার নেওয়া বস্তুর উপকার যে ধার নিয়েছে তার মালিকানায় চলে আসবে।

পাঁচ: ফাসেদ বিনিময় ও চুক্তিসমূহ (الْمُعَاوَضَاتُ الْفَاسِدَةُ)
শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী- এ তিন মাযহাবের ফকীহবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেছেন, ফাসেদ বা ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি বাতিলতুল্য; তাই তা মোটে সংঘটিতই হবে না। হানাফী ফকীহগণ এ বিষয়ে যা বলেছেন তা হলো, যদি দ্বিতীয় পক্ষ পণ্যটি কজা করে তাহলে পণ্যের মালিকানা প্রথম পক্ষের নিকট থেকে দ্বিতীয় পক্ষে চলে আসবে।

টিকাঃ
১১২. তাকমিলা রদ্দুল মুহতার, খ. ৮, পৃ. ৪২৪ ও ৪৭০; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, ইবনে নুজাইম রচিত, পৃ. ৩৫৩; মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ৮০, ৮২ ও ৮৩; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ৩৭৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪০০; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৭৪; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, সুয়ূতী রচিত, পৃ. ৩১৯; মাজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়া রচিত আল-মুহাররার, খ. ১, পৃ. ৩৭৪; আল-কাওয়ায়েদ, ইবনু রজব কৃত, পৃ. ৭১
১১৩. সূরা মায়েদা, আয়াত ১
১১৪. আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ১০১
১১৫. মুসতাদরাকে হাকেম, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১১৬. মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, আয়েশা রা.-এর হাদীস।
১১৭. বায়হাকীর সুনানে কুবরা, উমর রা.-এর হাদীস।
১১৮. বায়হাকী তাঁর সুনানে কুবরায় উল্লেখ করেছেন।
১১৯. কাশফুল আসরার আলা উসূলে বাযদাভী, আব্দুল আযীয বুখারী প্রণীত, খ. ২, পৃ. ৬৯।
১২০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৮৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬০০; আল-কাফী, খ. ২, পৃ. ৪৫৫; আল-ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ৪১; আল-মাবসুত, খ. ১২, পৃ. ৩৫
১২১. আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ৩৬৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬০০; আল-কাফী, খ. ২, পৃ. ৪৫৫; আ- ইখতিয়ার, খ. ৩, পৃ. ৪১; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৩, পৃ. ৩৬৪; আল-মাবসূত, খ. ১২, পৃ. ৩৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৮৩
১২২. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৩, পৃ. ৩৫৭; আল-হিদায়া ফাতহুল কাদীরসহ, খ. ৫, পৃ. ৪১৮, ৪৪৭-৪৪৮
১২০ রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ১৬৪; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, ইবনে নুজাইম রচিত, হাশিয়া হামাভী সহ, খ. ২, পৃ. ২০৪; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৯১; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩১০; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৫৭; আল-মুহাররার, খ. ১, পৃ. ৩৩৪; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৩৯৭
১২৪. আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ২২৬; আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৮৮
১২৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ৩৯৬; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৪, পৃ. ৩৫; ফাতহুল আযীয, খ. ৯, পৃ. ৩৯২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩১০; সুয়ূতীর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩২০
১২৬ রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ১৬৪; আতাসী প্রণীত শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৪৪০
১২৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ২১৪ এবং খ. ৭, পৃ. ৩৯৬; লিসানুল হুক্কাম, পৃ. ৮৭; আতাসী রচিত শারহুল মাজাল্লা, খ. ১, পৃ. ১৩৮ এবং খ. ৩, পৃ. ৩০৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১১৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২২৭
১২৮. এর দ্বারা সে সকল চুক্তি বোঝানো হয়েছে যেগুলো বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি করে এবং চুক্তির উভয় পক্ষকে সম্পদসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা স্বীকার করতে বাধ্য করে। যেমন: বেচাকেনা, ভাড়া, সালাম বিক্রি ইত্যাদি।
১২৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ৪৯ ও ৯৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২২৯; আল-মাজমুউ, খ. ৯, পৃ. ৩৭৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল চুক্তি সঠিক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত

📄 যে সকল চুক্তি সঠিক হওয়ার জন্যে কজা শর্ত


এক. সরফ বিক্রি (الصرف)
সকল ফকীহ একমত, সরফ বিক্রি সঠিকভাবে সম্পাদন করতে উভয় বিনিময়ই কজা করতে হবে উভয়পক্ষ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই। তারা দলিল হিসাবে উপস্থাপন করেন উবাদা ইবনে সামেত রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সোনার বদলে সোনা, রুপার বদলে রুপা... হাতে হাতে বিনিময়। যদি বস্তুগুলোতে পার্থক্য হয়, তাহলে তোমরা হাতে হাতে বিনিময় করে যেরূপ খুশি বেচাকেনা করতে পার।"

দুই. সুদী সম্পদসমূহের একটির অপরটির সাথে বেচাকেনা
সকল ফকীহ একমত, সুদী সম্পদসমূহের যে কোনোটি সমজাতীয় বস্তুর বিপরীতে বেচাকেনা করা হলে তা যথাযথ হওয়ার জন্যে শর্ত হচ্ছে, বিলম্বিত না হয়ে উভয় দিকের পণ্য নগদ কব্জা করে ফেলতে হবে।

তিন. সালাম বিক্রি (السَّلَمُ)
হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের বিশাল দল শর্ত ঘোষণা করেছেন, বিক্রি যথাযথ হওয়ার জন্যে চুক্তির উভয়পক্ষ পৃথক হওয়ার পূর্বে যে পক্ষ শস্য দিবে সে পক্ষ পুঁজির টাকা কজা করতে হবে।

চার. দায়িত্বের ইজারা (إجَارَةُ الذِّمَّة)
দায়িত্বের ইজারা : এক্ষেত্রে যে উপকার অর্জিত হবে- যা ইজারাতে চুক্তিবদ্ধ বিষয়- তা কোনো ব্যক্তির দায়িত্বের সাথে সম্পর্কিত হবে। যেমন, যাত্রী হিসাবে চড়ার জন্যে বা সামানপত্র আনা নেওয়ার জন্যে এ কাজগুলো করতে সক্ষম এমন জন্তু কারো কাছে ইজারা হিসাবে চাওয়া। এ ধরনের চুক্তিতে পারিশ্রমিক ঐ মজলিসেই দেওয়া হবে কি-না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ী ফকীহদের মতে, দায়িত্বের ইজারা বিশুদ্ধভাবে করতে চুক্তির মজলিসেই দায়িত্ব গ্রহণকারী পারিশ্রমিকের অংশ গ্রহণ করবে।

পাঁচ. মুদারাবা (الْمُضَارَبَةُ)
হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের কতক ফকীহের মতে মুদারাবা চুক্তি সহীহ ও সঠিক হওয়ার জন্যে শর্ত হলো, ব্যবসা-কর্মীর হাতে বাধাহীনভাবে টাকা তুলে দেওয়া।

ছয়. মুযারাআ (الْمُزَارَعَةُ)
হানাফী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, মুযারাআ সহীহ ও সঠিক হওয়ার জন্যে শর্ত হচ্ছে, কৃষিকর্মীর হাতে চুক্তি করা কৃষিজমি তুলে দেওয়া, জমির মালিকের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা।

সাত. মুসাকাত (الْمُسَاقَةُ)
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহগণ বলেন, মুসাকাত যথাযথ ও নির্ভুলভাবে সম্পাদনের জন্যে জরুরি, কর্মী যে গাছগুলোর পরিচর্যা করবে সেগুলো তার হাতে তুলে দেওয়া।

টিকাঃ
১০০. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ২১৫; রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ২৫৮; আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৫৫৪; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৯; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২১৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫১; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৩৮০
১৩১. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫১; তাকমিলা আল-মাজমুউ, খ. ১০, পৃ. ৬৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৭
১৩২. মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১২১১।
১০০. বুখারী, মুসলিম, ইমাম মালেক, নাসাঈ, আবুদাউদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১৩৪. আল-মাজমুউ শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ৪০৪; তাকমিলাতুল মাজমূউ, খ. ১০, পৃ. ১৪
১৩৫. আত-তাজ ওয়াল ইকলীল, খ. ৪, পৃ. ৩০৭; মিনাহুল জলীল, খ. ২, পৃ. ৫০৮
১৩৬. আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়‍্যা, পৃ. ২৭৬; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ১৬৪
১৩৭. আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৫৫২; আল-উম, খ. ৩, পৃ. ২৬ ও ৩১; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৮; আদ-দুররুল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ১৭২; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ১০৭; আল-বাজী প্রণীত আল মুনতাকা, খ. ৫, পৃ. ৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৫; আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৯
১৩৮ মুসলিম, হাদীসের বর্ণনাকারী উবাদা ইবনে সামেত রা.
১০০ ফাতহুল আযীয, খ. ৮, পৃ. ১৬৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৮; আল-বাজী প্রণীত মুনতাকা, খ. ৪, পৃ. ২৬০, এবং খ. ৫, পৃ. ৩; আল ইশরাফ, খ. ১, পৃ. ২৫৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২১৬
১৪০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ১৭২ ও ১৭৮
১৪০. ফাতহুল আযীয, খ. ১২, পৃ. ২০৫; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৭৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬; আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮১; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২০৮ ও ৩০১
১৪৪. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩৬০; মাজাল্লা আল-আহকামুশ শারঈয়‍্যা, ধারা: ৫৩৯
১৪৫ রদ্দুল মুহতার, খ. ৮, পৃ. ২৮৩; আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ৪, পৃ. ৩৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০; রওজাতুত তালেবীন; খ. ৫, পৃ. ১১৮; আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৫১৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৫
১৪৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১০
১৪৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২০
১৪৮ আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৫
১৪৯. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩২৭
১৫০ রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ২৭৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১৭৮
১৫১ রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৮৬; ফাতহুল আযীয, খ. ১২, পৃ. ১৩১; রওজাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৫৫; আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ৪, পৃ. ৩৯৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00