📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. الاختكار (আল-ইহতিকার): মজুতকরণ
আভিধানিকভাবে ইহতিকার (الاختكار) মজুতকরণ শব্দটি নির্গত হয়েছে الحكر থেকে। যার অর্থ: জুলুম, অন্যায়, বক্রতা, কঠোরতা এবং অন্যায় আচরণ। আর খাদ্য মজুতকরণ বলতে বোঝায় মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্যদ্রব্য আটকে রাখা ও গুদামজাত করা। الْحُكْرَةُ শব্দটি বিশেষ্য, যা الاخْتِكَارُ-এর মূল। এর অর্থ: পণ্য মজুত করা, মজুতদারি।

পরিভাষায় মজুতকরণ: বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণের নানা শর্তারোপের ফলে মজুতকরণের পারিভাষিক সংজ্ঞা বিভিন্ন ভাবে বর্ণিত রয়েছে। তবে সব অভিমত ও সংজ্ঞার সারকথা হলো, মজুতকরণ বলতে বোঝায় মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্য আটকে রাখা, গুদামজাত করা। মজুতকরণ বিষয়টি পরিভাষা ও প্রথা-প্রচলনের ওপর নির্ভর করে। মজুতকরণ মূলত মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিপন্থী। তবে মজুতকরণ উচ্চমূল্য প্রতিরোধকল্পে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

খ. الكمين (আত-তাহমীন): মূল্য নির্ধারণ
তাহমীন (التثمين) শব্দটি মাসদার (মূলধাতু)। বলা হয় : ثَمَّنْتَ الشَّيْء "আমি আন্দাজ অনুমানের মাধ্যমে এর মূল্য নির্ধারণ করেছি।"

গ. التقويم (আত-তাকভীম): মূল্য নির্দিষ্টকরণ
تقويم الشئ-এর অর্থ : কোনো বস্তুর মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া যা সকলের নিকট সুবিদিত থাকবে।

টিকাঃ
৫. আসাসুল বালাগাহ, আল-কামূসুল মুহীত, আল-মিসবাহুল মুনীর। حكر-মাদে ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৫, প্রকাশ দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি; আল-ইখতিয়ারু লিতা'লীলিল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৬০, প্রকাশক: দারুল মা'রিফা।
৬. আল-মিসবাহুল মুনীর।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 মূল্য নির্ধারণে শরীয়তের বিধান

📄 মূল্য নির্ধারণে শরীয়তের বিধান


চার মাযহাবের ফকীহগণ একমত যে, মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ মূলত নিষিদ্ধ। তবে ফিকহবিদগণের মতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তা বৈধ রয়েছে। যার বিবরণ সামনে আসছে।

মূল্য নির্ধারণ মূলত নিষিদ্ধ, এর সপক্ষে বাদায়েউস সানায়ে-এর গ্রন্থকার পবিত্র কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কিন্তু তোমাদের পরস্পর রাজি হয়ে ব্যবসা করা বৈধ।" এ আয়াত পারস্পরিক সম্মতি ও সন্তুষ্টির শর্তারোপ করেছে। অথচ মূল্য নির্ধারণে পারস্পরিক সম্মতি ও সন্তুষ্টি থাকে না।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لَا يَحِلُّ مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ "কোনো মুসলিমের মাল হালাল হবে না, যদি না সে সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদান করে।"

আল-মুগনী গ্রন্থকার আনাস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার মদীনায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছিল। তখন লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আপনি এসবের মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ ، إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ أَلْقَى اللَّهَ وَلَيْসَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يُطَالِبُنِي بِمَظْلَمَةٍ فِي دَمٍ وَلَا মَالِ "আল্লাহ তাআলা পণ্যের মূল্য নির্ধারণকারী, রিজিক সংকোচনকারী ও সম্প্রসারণকারী। আমি আশাবাদী, আল্লাহ তাআলার সাথে আমি সাক্ষাৎ করব এ অবস্থায় যে, কারো জীবন বা সম্পদে অবিচার, অন্যায় আচরণ করার প্রেক্ষিতে তোমাদের কেউই আমার বিরুদ্ধে কোনো নালিশ করবে না।"

ইবনে কুদামা বলেন, এখানে দু ভাবে প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছে: ১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূল্য নির্ধারণ করেননি, অথচ জনগণ সেটাই কামনা করেছিল। মূল্য নির্ধারণ করা যদি বৈধ হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ স. তাদের আহ্বানে সাড়া দিতেন। ২. রাসূলুল্লাহ স. বিষয়টিকে জুলুম ও অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর জুলুম হারাম।

তিনি উমর রা.-এর বর্ণিত হাদীস দ্বারাও দলিল দিয়েছেন। একদিন তিনি হাতিব ইবনে আবি বালতাআ রা.-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বাজারে কিশমিশ বিক্রি করছিলেন। উমর রা. তাকে বললেন, হয়তো তুমি পণ্যের হার বাড়িয়ে দাও অথবা আমাদের বাজার থেকে এ কিশমিশ উঠিয়ে নাও। এরপর উমর রা. যখন চলে গেলেন তিনি নিজে বিষয়টি নিয়ে হিসাবনিকাশ করলেন। অতঃপর হাতিবের বাড়ীতে গিয়ে তাকে বললেন, তোমাকে আমি যা বলেছিলাম এটা আমার পক্ষ হতে কোনো আবশ্যিক বিধান নয় এবং কোনো ফয়সালা নয়। বরং এটা আমি শহরবাসীর কল্যাণ কামনা করে বলেছিলাম। সুতরাং তুমি যেখানে ইচ্ছা বিক্রি করো এবং যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো।

যৌক্তিক প্রমাণ:
তারা আকলী বা যৌক্তিকভাবেও প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। তা হলো, সমাজের প্রতিটি মানুষেরই তার নিজস্ব সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা রয়েছে। মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে জনগণের উক্ত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা। অথচ রাষ্ট্রের শাসক মুসলিমদের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে আদেশপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শাসক কর্তৃক বিক্রেতার কল্যাণার্থে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার বিবেচনার চেয়ে ক্রেতার কল্যাণার্থে পণ্যের মূল্য কমিয়ে দেওয়ার বিবেচনা কোনভাবেই উত্তম নয়। তা ছাড়া মূল্য হলো চুক্তি সম্পাদনকারীর অধিকার। সুতরাং মূল্য সাব্যস্ত করার অধিকারও তারই থাকবে।

সেই সাথে লক্ষণীয়, মূল্য নির্ধারণ করা সাধারণ মানুষের জন্যে সম্পদে উচ্চমূল্য ও সংকট সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ পণ্য সরবরাহকারী বা আমদানিকারকদের নিকট যখন এ সংবাদ পৌঁছবে, তারা তাদের পণ্য সে শহরে আমদানি করবে না বা পৌঁছাবে না যে শহরে তারা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবে। আর যার নিকট পণ্য মজুত রয়েছে সেও তা বিক্রি করতে চাইবে না, বরং গোপন করে ফেলবে। এ অবস্থায় ভোক্তারা পণ্য খুঁজবে, কিন্তু পাবে না। বড়জোর যৎসামান্য পণ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। তখন তারা উক্ত পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এর মূল্য বাড়িয়ে দেবে। এতে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে। এবং উভয় পক্ষ (ক্রেতা-বিক্রেতা) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার উদ্দেশ্য পূরণ ও প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে; আর মালিকপক্ষ তাদের সম্পদ বা পণ্য বিক্রি করা হতে বিরত থাকার ফলে। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটানোর প্রেক্ষিতে মূল্য নির্ধারণ করা হারাম ও অবৈধ হয়ে যায়।

টিকাঃ
৭. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১২৯; আয-যায়লাই, খ. ৬, পৃ. ২৮; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ২৩৭; আল-ইখতিয়ার, খ. ৪, পৃ. ১৬০; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ১, পৃ. ৬৩৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪৫৬; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৮৬; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৩, পৃ. ৪১১; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৮; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৬২; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ৪৪; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৪০
৮. সূরা নিসা, আয়াত ২৯
৯. হাদীসটি ইমাম আহমদ র. বর্ণনা করেছেন (খ. ৫, পৃ. ৭২; আল-মায়মানিয়া), আবু হাররা আর রিকাশির হাদীস। তার সকল সূত্রে হাদীসটি সহীহ। বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ১২৯
১০. আনাস রা. বর্ণিত হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (খ. ৩, পৃ. ৭৩১, তাহকীক: ইযযত উবাইদ দা'আস)। ইবন হাজার বলেন, এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী যথাযথ রয়েছে।
১১. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬; আল-ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৬০; আল হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; মাওয়াহিবুল জলীল, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়া, পৃ. ২৬০; আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা, খ. ৫, পৃ. ১৮; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৮৬; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৩, পৃ. ৪১১; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ৬২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৪১; সুবুলুস সালাম, খ. ৩, পৃ. ৩৬
১২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৪০; নায়লুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ২২০
১৩. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; আয-যায়লাই, খ. ৬, পৃ. ২৮; আল-জাওহারাতুন নাইয়িরা, খ. ২, পৃ. ৩৮৭; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ২৩৭; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ৫৪৮; আল-ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৬১; নায়লুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ২২০
১৪. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৪০; শারহুল ইকনা, খ. ৩, পৃ. ১৫০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 মূল্য নির্ধারণ বৈধ হওয়ার শর্তসমূহ

📄 মূল্য নির্ধারণ বৈধ হওয়ার শর্তসমূহ


পূর্বেই আলোচনা হয়েছে, নীতিগত কথা হলো মূল্য নির্ধারণ বৈধ নয় এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণের জগতে হুকুমদাতার অনুপ্রবেশ বা অন্যায় হস্তক্ষেপও বৈধ নয়। তবে সেখানে এমন কিছু অবস্থা রয়েছে যেগুলোর প্রেক্ষিতে মূল্য নির্ধারণে হুকুমদাতা ও শাসকের অনুপ্রবেশ এবং হস্তক্ষেপ বৈধ। অথবা বিভিন্ন বক্তব্য অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করা কর্তব্য বলে গণ্য হয়।

বিভিন্ন অবস্থা:
ক. মালিকদের পক্ষ থেকে মূল্য অনেক বাড়িয়ে দেওয়া:
খাদ্যদ্রব্য ও পণ্যের মালিকরা যদি বাজারমূল্য বা ন্যায্যমূল্য থেকে পণ্যের মূল্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় হানাফী ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ হতে সাধারণ জনগণ তথা ভোক্তাদের জন্য ভোগ্যপণ্যের মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া বৈধ হবে-যদি খাদ্যদ্রব্যের মালিকরা এর মূল্য বাজারদরের চেয়ে অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয় এবং পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা ব্যতীত মুসলিমদের ক্রয়ক্ষমতার অধিকার রক্ষা করা সম্ভব না হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষক বুদ্ধিজীবীগণের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যকর হবে। এটাই গ্রহণযোগ্য বক্তব্য এবং এ অনুযায়ীই ফতোয়া দেওয়া হয়। যেহেতু এর দ্বারা মুসলিমদের অধিকার ধ্বংস হতে রক্ষা পায় এবং জনসাধারণের ক্ষতি প্রতিহত করা সম্ভব হয়। ইমাম যায়লায়ী এবং আরো অনেকের মতে বাজারমূল্য অতিক্রম করে অতি মুনাফার বিষয়টি তখনই বিবেচিত হবে যখন পণ্য দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করা হবে।

খ. ভোক্তাদের পণ্যচাহিদা:
এ প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, ভোক্তাদের যখন পণ্যের চাহিদা থাকবে তখন প্রশাসনের লোকজনের পক্ষ হতে সাধারণের জন্য পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা উচিত হবে না। তবে এর দ্বারা যদি জনগণের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা প্রতিরোধকল্পে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে পারবে। যেমন মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ বিষয়টিকে জনকল্যাণের সাথে শর্তারোপ করেছেন। একই শর্তারোপের বিষয়টি শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহগণও ব্যক্ত করেছেন।
অনুরূপভাবে জনগণ যদি জিহাদের জন্য যুদ্ধাস্ত্র ও হাতিয়ারের প্রয়োজন বোধ করে তাহলে অস্ত্রমালিকদের কর্তব্য হবে ন্যায্যমূল্যে অস্ত্র বিক্রি করা। অস্ত্রব্যব্যবসায়ীদেরকে অস্ত্র আটকে রাখার বা গোপন করার সুযোগ দেওয়া যাবে না, যার ফলে দুশমনরা তাদের ওপর জয়ী হয়ে যাবে অথবা অস্ত্রব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামাফিক পণ্য বিক্রি করবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, এ সুযোগও দেওয়া যাবে না।
ইবনে তাইমিয়া বলেন, প্রশাসনের লোকজন সাধারণ মানুষের পণ্যের চাহিদার সময় পণ্যমালিকদেরকে ন্যায্য মূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করবে। যেমন কারো নিকট এমন খাদ্যদ্রব্য রয়েছে যা তার প্রয়োজন অতিরিক্ত, অপরদিকে সাধারণ জনগণ উক্ত পণ্যের বিরাট চাহিদা ও তীব্র অভাব বোধ করছে। তখন সাধারণের নিকট উক্ত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে তাদের বাধ্য করবে সরকার। এ কারণেই ফকীহগণ বলেন, কেউ যদি অপরের নিকট থেকে তার সঞ্চিত মজুতকৃত খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করতে বাধ্য হয়, তাহলে তা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও তার নিকট হতে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে গ্রহণ করবে। যদি পণ্যের মালিক উপযুক্ত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য ব্যতীত বিক্রি করতে রাজি না হয়, তবুও সে উপযুক্ত মূল্যই পাবে, এর চেয়ে বেশি পাবে না। এ বক্তব্যের মূলে রয়েছে গোলাম আজাদ করার হাদীসটি। তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: مَنْ أَعْتَقَ شِركًا لَهُ فِي عَبْدِ ، فَكَانَ لَهُ مِنَ الْمَالِ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ ، قُوْمَ عَلَيْهِ قِيمَةُ الْعَدْلِ ، فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ ، وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ "কেউ যদি শরিকানা গোলামে তার অংশ মুক্ত করে দেয় তাহলে সে গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ প্রদান করবে। গোলামের একটি ন্যায়সংগত মূল্য সাব্যস্ত করা হবে, অতঃপর গোলামের শরিকদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অংশের মূল্য প্রদান করবে। আর এর বিনিময়ে গোলাম আজাদ হয়ে যাবে। অন্যথায় গোলামের যতটুকু অংশ সে আজাদ করেছে ততটুকুই মুক্ত হবে।"
ইবনুল কাইয়িম বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে যে আদেশ দিয়েছেন তা হলো পূর্ণ গোলামের বাজার মূল্য নির্ণয় করা। প্রকৃত অর্থে মূল্য নির্ধারণ এটাকেই বলে। সুতরাং শরীয়ত যখন গোলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে আজাদ করার লক্ষ্যে বাজারমূল্য দিয়ে তার মালিকের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনা আবশ্যক করেছে এবং তার মালিককে অতিরিক্ত মূল্য না দিতে চেয়েছে; তাহলে সাধারণকে যখন অতীব গুরুত্বপূর্ণ কোনো বস্তুর মালিকানার সুযোগ করে দিতে হবে যেমন, খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, পোশাক ইত্যাদি দ্রব্য তখন কী হবে? অর্থাৎ তখনও অতিরিক্ত মূল্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

গ. উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের পণ্য মজুতকরণ:
খাদ্যদ্রব্য মজুত করা বা গুদামজাত করা হারাম, এ বিষয়ে ফকীহদের কোনো দ্বিমত নেই। যেমনভাবে ফকীহদের মধ্যে একথাতেও দ্বিমত নেই যে, মজুতকরণের শাস্তি হলো মজুতকৃত পণ্য জোরপূর্বক গ্রহণ করে ভোক্তাদের নিকট ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া এবং সাথে মজুতকারীকে তিরস্কার ও শাস্তিও দেওয়া; মজুদদারির আলোচনায় এ সম্পর্কিত বিবরণ বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছে। আর প্রশাসনের পক্ষ হতে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করাই হচ্ছে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ। এ বিশ্লেষণ ইবনে তাইমিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এমন সময়ে যখন কোনো কোনো ফকীহ এমন লোককে মজুতকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন যার জন্য মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।

ঘ. নির্দিষ্ট মানুষের জন্য বেচাকেনা সীমাবদ্ধকরণ:
ইবনে তাইমিয়া বলেন, আলেমদের কারো এ কথায় দ্বিমত নেই, মূল্য নির্ধারণ করা আবশ্যক হবে তখন, যখন খাদ্য অথবা অন্য কোনো পণ্য নির্দিষ্টসংখ্যক পরিচিত মানুষ ব্যতীত অন্য কেউ বিক্রি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তখন মূল্যনির্ধারণ করা আবশ্যক হবে, যেন বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্য ব্যতীত বিক্রি করতে না পারে এবং ক্রেতাদের বাজারমূল্য ব্যতীত ক্রয় করতে না হয়। যেহেতু উপরিউক্ত সিদ্ধান্ত পরোক্ষভাবে অন্যদেরকে উক্ত পণ্য অন্যদের নিকট বিক্রি করতে বা অন্যদের থেকে ক্রয় করতে নিষেধ করেছে। সুতরাং যদি তাদের ইচ্ছামত মূল্যে বিক্রি করার বা ক্রয় করার সুযোগ দেওয়া হয় তবে এটা জুলুম হবে অন্যান্য বিক্রেতার ওপর যারা উক্ত পণ্য বিক্রি করতে ইচ্ছুক এবং ক্রেতা, যারা তাদের নিকট হতে ক্রয় করতে ইচ্ছুক, তাদের ওপরও জুলুম হবে। সুতরাং এ অবস্থায় মূল্য নির্ধারণ করা ওয়াজিব কোনো রকম দ্বিমত ছাড়াই। তাদেরকে বাধ্যকরণের প্রকৃত অর্থ হলো তারা যেন ন্যায্য মূল্য ব্যতীত বিক্রি না করে, ক্রয়ও না করে।

ঙ. ক্রেতাদের বিপক্ষে বিক্রেতাদের অথবা বিক্রেতাদের বিপক্ষে ক্রেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া:
ব্যবসায়ীরা বা পণ্যের মালিকরা যদি সিন্ডিকেট করে এবং ঐক্যবদ্ধ হয় অস্বাভাবিক বেশি মূল্য নির্ধারণে যা তাদের জন্য অতিরিক্ত মুনাফার কারণ হবে অথবা ক্রেতারা সিন্ডিকেট করে, তাদের কেউ কোনো পণ্য কিনলে সকলে তাতে অংশগ্রহণ করবে, ফলে সাধারণ মানুষের পণ্যে ক্ষতি করে, তাহলে সরকারের পক্ষ হতে মূল্য নির্ধারণ করা ওয়াজিব। এ অভিমত ইবনে তাইমিয়ার এবং আরো অনেকে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। যারা অর্থের বিনিময়ে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করেন বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু রাখেন তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে একাধিক আলেম যেমন- ইমাম আবু হানিফা রহ. ও তার সহচরগণ নিষেধ করেছেন। কারণ, তারা যখন ঐক্যবদ্ধ হবে আর সাধারণ মানুষ তাদের পণ্যের প্রতি মুখাপেক্ষী হবে তখন তারা এর মূল্য বাড়িয়ে দেবে। সুতরাং বিক্রেতারা যারা তাদের পক্ষ হতে নির্দিষ্ট মূল্য ছাড়া পণ্য বিক্রি করবে না বলে সিন্ডিকেট করেছে, তদের প্রতিহত করাই শ্রেয়। অনুরূপ ক্রেতারা যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের কেউ কোনো কিছু ক্রয় করলে তাতে তারা সকলে অংশগ্রহণ করবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পণ্য ক্ষতির সম্মুখীন হবে; তাদের প্রতিহত করাও উত্তম বলে বিবেচিত হবে। কারণ, তাদের এ ধরনের ঘোষণা জুলুম ও সীমালঙ্ঘনে সহায়ক। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।”

চ. একদল মানুষের নির্দিষ্ট কোন পেশা গ্রহণ এবং তাতে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা:
এটা মূলত কর্ম, পেশা ও শিল্পের জন্য একদল লোককে নির্দিষ্টকরণ। একদল মানুষকে শিল্প, কারিগরি, পণ্যউৎপাদন, নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ গ্রহণে বাধ্য করা। যেমন- কৃষিকাজ, কাপড় বুনন তথা তাঁতশিল্প, ইমারত নির্মাণ ইত্যাদি। প্রশাসনের পক্ষ হতে একদল মানুষকে উপযুক্ত মজুরি ও পারিশ্রমিক দিয়ে এ পেশা ও কাজে বাধ্য করা হবে যদি তারা এ পেশা গ্রহণ করতে না চায়। তারা যদি উপযুক্ত মজুরি, পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি দাবি করে তাহলে সে সুযোগ দেওয়া যাবে না, আবার সাধারণ মানুষকে তাদের ওপর অবিচার করারও সুযোগ দেওয়া হবে না। অর্থাৎ তাদের উপযুক্ত মজুরি ও প্রাপ্য থেকে কম দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়িমের সিদ্ধান্তের সারকথা হলো, যদি মূল্য নির্ধারণ করা ব্যতীত জাতীয় স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকার তাদের ওপর ন্যায়সঙ্গত মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। তাতে উপযুক্ত মূল্যের চেয়ে কমাবে না, বাড়াবেও না। আর যদি জনসাধারণের চাহিদা ও প্রয়োজন মূল্য নির্ধারণ ব্যতীতই স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পায় তাহলে এমনটি করবে না।

এ আলোচনা এ কথা সাব্যস্ত করে যে, উপরিউক্ত অবস্থাসমূহই শুধু নির্দিষ্ট অবস্থা ও প্রেক্ষিত নয় যেখানে মূল্য নির্ধারণ করা আবশ্যক, বরং যখনই এমন অবস্থা হবে যে, মূল্য নির্ধারণ করা ব্যতীত ভোক্তার চাহিদা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে না, তখনই জনস্বার্থ রক্ষার্থে মূল্য নির্ধারণ করা সরকারের আশু কর্তব্য বলে গণ্য হবে। ফলে যে বছর পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে সরকারের কর্তব্য হবে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া। এ বক্তব্য ইমাম মালেকের এবং এ দৃষ্টিভঙ্গি শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহগণেরও।

মূল্যনির্ধারণে যে শর্তটি পূরণ করা আবশ্যিক:
ফিকহী সূত্র ও রচনাসমূহে এবং ফকীহগণের বিভিন্ন অভিমতে অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিলে যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে, মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একান্ত আবশ্যিক বিষয় হলো, ইনসাফের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। কারণ, মূল্যনির্ধারণ একমাত্র তখনই জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারবে যখন এর মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হবে। বিক্রেতাকে লাভ করতে বাধা দেওয়া যাবে না, আবার তাকে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করারও অবকাশ দেওয়া হবে না।
এ কারনেই ইমাম মালেক রহ. যখন গোশত বিক্রেতাদের জন্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি দেখলেন, তিনি শর্তারোপ করলেন, তাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করতে পশুর ক্রয়মূল্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্থাৎ তারা পশুর ক্রয়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, কসাইবৃত্তির খরচ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যথায় তাদের এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার এবং বাজার থেকে ওঠে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ বক্তব্য কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-বাজীর বক্তব্যের কাছাকাছি যে, মূল্য নির্ধারণে যদি ব্যবসায়ীদের কোনো মুনাফা না থাকে তাহলে বিষয়টি মূল্য বিপর্যয়ে চলে যাবে এবং খাদ্যপণ্য গোপন করা এবং মানুষের সম্পদ বিনষ্ট ইত্যাদি পর্যায়ে নেমে যাবে।

টিকাঃ
১৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ২১৪; আল-ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৬১; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ২৩৭; আয-যায়লাই, খ. ৬, পৃ. ২৮
১৬. আয-যায়লাই, খ. ২, পৃ. ২৮; আল-ইনায়া, খ. ৮, পৃ. ১৯২; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ২৩৭; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬
১৭. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ২৭-২৮ ও ৪১; আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, পৃ. ২৫৩-২৬২-২৬৩; আল-মাওয়াক ও আল-হাততাব, খ. ৪, পৃ. ৩৮০
১৮. আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ১৭, ৪১; আত তুরুকুল হুকমিয়‍্যা, পৃ. ২৬২
১৯. হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (খ. ২, পৃ. ১১৩৯), ইবনে ওমর রা.-এর বর্ণিত হাদীস।
২০. আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, পৃ. ২৫৯
২১. আল-ইখতিয়ার, খ. ৪, পৃ. ১৬১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খ. ৩, পৃ. ২১৪; শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ৪, আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা, খ. ৫, পৃ. ১৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪৫৬; কাশশাফুল কিনা, খ. ২, পৃ. ৩৬
২২. আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ১৭-১৮
২৩. আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ১৭-১৯; আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, পৃ. ২৪৫
২৪. আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ১৭-১৯; আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, পৃ. ২৪৫
২৫. আত-তুরুকুল হুকমিয়‍্যা, পৃ. ২৪৭
২৬. সূরা মায়িদা, আয়াত ২
২৭. আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, পৃ.২৪৭
২৮. আল-হিসবা ফিল ইসলাম, পৃ. ৪৪-৪৫; আত-তুরুকুল হিকামিয়া, পৃ. ২৬৪
২৯. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬; আয-যায়লাই, খ. ৬, পৃ. ২৮; আল-আহকামুস সুলতানিয়া লিল মাওয়ারদী, পৃ. ২৫৬; নায়লুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ২২০
৩০. আল-মুনতাকা শারহুল মুওয়াত্তা, খ. ৫, পৃ. ১৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৩৮০
৩১. আল-মুনতাকা শারহুল মুওয়াত্তা, খ. ৫, পৃ. ১৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি

📄 মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি


অধিকাংশ ফকীহ যারা মূল্য নির্ধারণ করা বৈধ বলেছেন তারা মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, ইমাম তথা সরকারি কর্মকর্তার কর্তব্য হবে উক্ত (নির্দিষ্ট) পণ্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করা, আর অন্যদের উপস্থিত করা তাদের সততার স্বীকৃতির জন্য। এভাবে অভিজ্ঞ, জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে তিনি মূল্য নির্ধারণ করবেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কিভাবে পণ্য ক্রয় করে এবং কিভাবে বিক্রি করতে চায়? এভাবে তাদের দাবির বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন আর দ্রব্যমূল্য জনগণের উপযোগী করার চেষ্টা করবেন যেন তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।

আবুল ওয়ালিদ আল-বাজী বলেন, এর কারণ, এ পদ্ধতিতেই ক্রেতা-বিক্রেতার উপকৃত হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি উদঘাটন করা সম্ভব হবে। তাতে বিক্রেতার জন্য এ পরিমাণ লাভের সুযোগ দিতে হবে যেটুকু হলে তারা তাদের অবস্থান বা পেশার অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে। আবার জনগণের ক্ষতিসাধনের অভিযোগও আসবে না। আলেমদের কারো মতেই বৈধ হবে না, ব্যবসায়ীরা পণ্যটি কত মূল্যে ক্রয় করেছে সে দিকে না তাকিয়েই এমন আদেশ দেওয়া যে, তোমরা পণ্যটি এত টাকা মূল্যে বিক্রি করবে, তাতে তোমরা লাভবান হও বা ক্ষতিগ্রস্ত হও। অনুরূপভাবে তাদেরকে এমন কথা বলাও বৈধ হবে না যে, তোমরা যে মূল্যে ক্রয় করেছ সে মূল্যেই বিক্রি করতে হবে।

টিকাঃ
৩২. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৫৬; আল-ইখতিয়ার, খ. ৪, পৃ. ১৬১; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৯৩; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ২৩৭; আল ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৩, পৃ. ২১৪; আল-মুনতাক্বা লিলবাজি, খ. ৫, পৃ. ১৮, আল-মাওয়াকু বিহামিশিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৩৮০
৩৩. আল-মুনতাক্বা, খ. ৫, পৃ. ১৯,
৩৪. আত-তুরুকুল হুকমিয়‍্যা, পৃ. ২৫৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية