📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়

📄 যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়


যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়
জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে কতক স্থান এমনও রয়েছে, যেখানে একই সাথে সদৃশ বস্তু প্রদান করা এবং তার মূল্য পরিশোধ করা উভয় ধরনের বিধান কার্যকর হয়।

এমনটা হয়, যদি যে সকল প্রাণী মানুষ সচরাচর শিকার করে সে সবের কোনটি কারো মালিকানাধীন হয়, কোনো ইহরামবাঁধা লোক তা হত্যা করে অথবা ইহরামবিহীন ব্যক্তি তা হারাম শরীফের ভিতরে গিয়ে মেরে ফেলে, তাহলে তার একই সাথে মালিকের ক্ষতিসাধন এবং আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করার যৌথ অপরাধ করা হবে। ফলে তার শাস্তির বিধানও হবে দুদিক থেকে। সে মালিককে সে জন্তুটির কীমাত পরিশোধ করবে এবং সদৃশ বস্তুও প্রদান করবে আল্লাহর বিধান অমান্য করার প্রেক্ষিতে।

এ মাসআলাটি অপর এক মাসআলার সদৃশ। তা হলো, শিকারজাতীয় প্রাণী কারো মালিকানাধীন, এর মালিক ইহরামে না থাকা অবস্থায় তার নিকট থেকে অপর একজন ধার নিল। এরপর সে প্রাণীটি এ লোকের নিকট মারা গেল। এ অবস্থায় যে ধার নিয়েছে তার মূল্য ও সদৃশ প্রাণী প্রদান এ উভয় ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ সম্পর্কে দলিল হচ্ছে মহান আল্লাহর নির্দেশ : فَجَزَاء মِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ “তার বদলা হচ্ছে সে যা হত্যা করেছে তার অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু।”

এতো হচ্ছে, যদি গৃহপালিত জন্তুর মধ্যে শিকার প্রাণীর অনুরূপ প্রাণী পাওয়া যায় তার বিধান। কিন্তু যদি গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে তার অনুরূপ কোনো প্রাণী না পাওয়া যায়, যেমন কারো মালিকানাধীন চড়ুই পাখি, তা শিকার বা হত্যা করলে দুটি কীমাত প্রদান আবশ্যক হবে। এক. মালিকের ক্ষতিপূরণ এবং দুই. আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন।

টিকাঃ
২৬. সূরা মায়েদা, আয়াত ৯৫
২৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ২, পৃ. ২০৩; আল-মানছুর, খ. ২, পৃ. ৩৩৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৪১ ও ৪৩; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ১, পৃ. ১৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00