📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তিন : যখন বিক্রীত পণ্যের মূল্য নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতান্তর হয়

📄 তিন : যখন বিক্রীত পণ্যের মূল্য নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতান্তর হয়


তিন: যখন বিক্রীত পণ্যের মূল্য নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতান্তর হয়
যে সকল ক্ষেত্রে বস্তুর কীমাত ধার্য করা আবশ্যক, এটি হচ্ছে তার তৃতীয় স্থান। যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে পণ্যের মূল্য নিয়ে মতান্তর হয়, বিক্রেতা বলে, আমি এতো টাকায় বিক্রি করেছি, ক্রেতা বলে, আমি এতো টাকা করে কিনেছি, তাদের কারো পক্ষে দলিল প্রমাণ থাকলে বা সাক্ষী থাকলে তার পক্ষে ফয়সালা হবে। কিন্তু যদি তাদের কারোরই কোনো দলিল প্রমাণ না থাকে, বিক্রি বহাল রাখতে তারা উভয়ে সম্মত না থাকলে প্রত্যেকে নিজ নিজ দাবির পক্ষে এবং অন্যের দাবির বিপক্ষে শপথ করবে। ফলে সে বিক্রি ভেঙ্গে যাবে।

বিক্রি ভেঙ্গে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিক্রেতা মূল্য ফেরত দেবে, ক্রেতা বিক্রীত পণ্যটি ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু যদি তা ইতিমধ্যে ধ্বংস বা বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার জরিমানা বা বদল কিভাবে প্রদান করা হবে তা নিয়ে ফকীহগণ মতান্তর করেছেন।

হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মত, এটি শাফেয়ী মাযহাবের নবভী রহ.-এর মত, তিনি হাভী নামক গ্রন্থে এ মতটির সত্যায়ন করেছেন। এটি মুহাযযাব গ্রন্থের গ্রন্থকারেরও মত, তাওযীহ এবং আরো কতক গ্রন্থ অনুসারে এটি মালেকী মাযহাবের আলেমদের একটি মত, ক্রেতা এ অবস্থায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া পণ্যের কীমাত প্রদান করবে, মূল বস্তুটি মিছলী হোক বা কীমী, বিধান এরূপই থাকবে। শাফেয়ী মাযহাবের আলেমদের যেটি প্রসিদ্ধ মত, খতীব শারবীনী যা উল্লেখ করেছেন। মালেকী মাযহাবের এটিও একটি মত, বিক্রীত পণ্যটি মিছলী হলে ক্রেতা তার মিছল বা সদৃশ বস্তু প্রদান করবে, যদি কীমী হয় তাহলে কীমাত প্রদান করবে।

টিকাঃ
২৫. মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৭৪৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৯৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩০১; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়

📄 যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়


যে সব ক্ষেত্রে কীমাত ও সদৃশ বস্তু উভয়টি আদায় করতে হয়
জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে কতক স্থান এমনও রয়েছে, যেখানে একই সাথে সদৃশ বস্তু প্রদান করা এবং তার মূল্য পরিশোধ করা উভয় ধরনের বিধান কার্যকর হয়।

এমনটা হয়, যদি যে সকল প্রাণী মানুষ সচরাচর শিকার করে সে সবের কোনটি কারো মালিকানাধীন হয়, কোনো ইহরামবাঁধা লোক তা হত্যা করে অথবা ইহরামবিহীন ব্যক্তি তা হারাম শরীফের ভিতরে গিয়ে মেরে ফেলে, তাহলে তার একই সাথে মালিকের ক্ষতিসাধন এবং আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করার যৌথ অপরাধ করা হবে। ফলে তার শাস্তির বিধানও হবে দুদিক থেকে। সে মালিককে সে জন্তুটির কীমাত পরিশোধ করবে এবং সদৃশ বস্তুও প্রদান করবে আল্লাহর বিধান অমান্য করার প্রেক্ষিতে।

এ মাসআলাটি অপর এক মাসআলার সদৃশ। তা হলো, শিকারজাতীয় প্রাণী কারো মালিকানাধীন, এর মালিক ইহরামে না থাকা অবস্থায় তার নিকট থেকে অপর একজন ধার নিল। এরপর সে প্রাণীটি এ লোকের নিকট মারা গেল। এ অবস্থায় যে ধার নিয়েছে তার মূল্য ও সদৃশ প্রাণী প্রদান এ উভয় ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ সম্পর্কে দলিল হচ্ছে মহান আল্লাহর নির্দেশ : فَجَزَاء মِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ “তার বদলা হচ্ছে সে যা হত্যা করেছে তার অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু।”

এতো হচ্ছে, যদি গৃহপালিত জন্তুর মধ্যে শিকার প্রাণীর অনুরূপ প্রাণী পাওয়া যায় তার বিধান। কিন্তু যদি গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে তার অনুরূপ কোনো প্রাণী না পাওয়া যায়, যেমন কারো মালিকানাধীন চড়ুই পাখি, তা শিকার বা হত্যা করলে দুটি কীমাত প্রদান আবশ্যক হবে। এক. মালিকের ক্ষতিপূরণ এবং দুই. আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন।

টিকাঃ
২৬. সূরা মায়েদা, আয়াত ৯৫
২৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ২, পৃ. ২০৩; আল-মানছুর, খ. ২, পৃ. ৩৩৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৪১ ও ৪৩; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ১, পৃ. ১৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00