📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ক. الثَّমَنُ (আছ-ছামান): মূল্য
ছামান-এর শাব্দিক অর্থ বিনিময়, বদল। এর বহুবচন أَثْمَانُ (আছমান)। বলা হয় : قَدْ ثَمَّনْتُهُ تَثْمِينًا "আমি বস্তুটিকে বিনিময় ও বদল নির্ধারণ করেছি।" বিক্রিত পণ্যের বিনিময় ও বদল হিসাবে ক্রেতার নিকট থেকে বিক্রেতা যেহেতু মূল্য হস্তগত করে, তাই তাকে ছামান বলে। তা নগদ টাকা পয়সা হতে পারে, কোনো জিনিসও হতে পারে। এভাবে এ কথাই সাব্যস্ত, পণ্যের বিনিময়ে যা-ই পাওয়া যাবে তা-ই হবে তার সামান। ফকীহদের পরিভাষায় কীমাত হলো, বিক্রীত পণ্য লাভের জন্যে ক্রেতা বদল হিসাবে বিক্রেতাকে যা প্রদান করে। দিরহাম, দীনার ও নগদ অর্থ সম্পদেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেহেতু ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর আলোচনা করে বদল সাব্যস্ত করে, তাই ছামান নির্ধারিত হয় পরস্পরের সম্মতিতে। তা কীমাত বা যথার্থ মূল্যের বরাবর হতে পারে, তা থেকে বেশিও হতে পারে, কমও হতে পারে।

খ. السعر (আস-সি'র): দর
সি'র-এর শাব্দিক অর্থ : মূল্য, দাম, দাম হিসাবে যা ধার্য হয়। এর বহুবচন أسعار (আস'আর) বলা হয়: قَدْ سَمَّরُوا "তারা একটি মূল্যে একমত হয়েছে।" الشيء سَمَّরْتُ تَسْعِيرًا "আমি বস্তুটির চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি।" আরো বলা হয়: لَهُ سعر "বস্তুটি উচ্চমূল্য হয়ে গেছে।" এর বিপরীতে বলা হয়: لَيْসَ লَهُ سعر "বস্তুটির মূল্য নেমে গেছে।" سعر السوق "বাজারমূল্য অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে মূল্য প্রচলিত রয়েছে।" التسعير "মূল্য নির্ধারণ অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক কোনো বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া।"

ফকীহ ও আলেমগণ সি'র (سعر) শব্দটি তার শাব্দিক অর্থেই ব্যবহার করে থাকেন। অতএব, তাদের দৃষ্টিতে সি'র হচ্ছে বিক্রেতা পণ্যের যে মূল্য নির্ধারণ করে অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক যা নির্ধারিত হয়। এর বিপরীতে কীমাত হচ্ছে মূল্য নির্ধারণে পারদর্শী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বস্তুর নির্ধারিত যথার্থ মূল্য।

গ. المثل (আল-মিছল): সদৃশ
মিছল শব্দটির শাব্দিক অর্থ সমতুল্য, সদৃশ। বলা হয়: هَذَا مِثْلُهُ "এটি সেটির সমতুল্য।" এ অর্থে هَذَا মَثَلُ ও বলা যায়। যেমন বলা হয়: هَذَا شَبَهُهُ অথবা هَذَا شَبِيهُهُ। ফকীহগণ মিছলী (مثلي) শব্দটি ব্যবহার করেন এমন বস্তু বোঝাতে যে বস্তুর সমুদয় একক একটি অপরটির সদৃশ, যার দরুন তার কোনো একটির স্থলে অপরটি রাখা যায়; তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হয় না।

মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাতে বলা হয়েছে: মিছলী (مثلي) বলা হয় এমন বস্তুকে, উল্লেখযোগ্য তারতম্য ব্যতীত যার সদৃশ বস্তু বাজারে পাওয়া যায়। তাই যে সকল বস্তু কোনো পাত্র দিয়ে পরিমাপ করে বেচাকেনা করা হয়, যে সকল বস্তু ওজন করে বা গুণে গুণে বেচাকেনা করা হয়- এ সবই মিছলী-এর অন্তর্ভুক্ত। যে সব বস্তু মিছলী নয় সেগুলোকে বলা হয় القيمي (কীয়ামী)।

এভাবে যাবতীয় পণ্য দুভাবে বিভক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে القيمي (কীয়ামী) বস্তুতে ধর্তব্য হবে القيمة (কীমাত) এবং المثلي (মিছলী) বস্তুতে ধর্তব্য হবে সাদৃশ্য ও তুল্যতা।

টিকাঃ
৩. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহ আল-মুনীর, তাজুল আরূস ثمن ماده
৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৩৪; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৫, পৃ. ২৭৭
৫. আল-মিসবাহুল মুনীর, লিসানুল আরব, তাজুল আরূস سعر-মাদে
৬. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৫৬; কাওয়াইদুল ফিক্‌ লিল বারকাতী, পৃ. ৩২১; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৮; মাওসূআহ, খ. ১১, পৃ. ৩১
৭. আল-মিসবাহুল মুনীর, লিসানুল আরব
৮. মাজাল্লা তুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ১৪৫-১৪৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৫৮ এবং খ. ৭, পৃ. ১৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৮১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান

📄 কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান


কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান
কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান নানা প্রকার। নিম্নে সেগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হচ্ছে:

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যেসব ক্ষেত্রে কীমাত ধার্য করা অপরিহার্য

📄 যেসব ক্ষেত্রে কীমাত ধার্য করা অপরিহার্য


যেসব ক্ষেত্রে কীমাত ধার্য করা অপরিহার্য
নিম্নলিখিত তিনটি স্থানে বস্তুর কীমাত ধার্য করা আবশ্যক:
এক. কীমী বস্তুতে, যখন তাতে জামানত বা জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক হয়।
দুই. যখন মিছলী জিনিসের সদৃশ ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয় এবং
তিন. যখন বিক্রীত পণ্যের মূল্য নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতানৈক্য হয়।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 এক. কীমী বস্তুতে যখন জামানত বা জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক

📄 এক. কীমী বস্তুতে যখন জামানত বা জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক


এক. কীমী বস্তুতে যখন জামানত বা জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক
নমুনাস্বরূপ এখানে এ ধরনের কতক অবস্থা উল্লেখ করা হচ্ছে:

০১. ফাসেদ বিক্রির পণ্য ফেরত দেওয়ার সময়:
যে কোনো কারণে বিক্রি ফাসেদ হলে তা ভেঙ্গে দেওয়া কর্তব্য, এটি মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং তাঁর অধিকার। এ অবস্থায় ক্রেতার কর্তব্য পণ্যটি বিক্রেতার হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিক্রেতার কর্তব্য তার মূল্য বাবদ যা নেওয়া হয়েছিল তা ক্রেতাকে ফেরত দেওয়া। যদি বিক্রিত পণ্যটি ক্রেতার নিকট থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়ে যায়, আর পণ্যটি যদি হয় কীয়ামী (القيمي) যেমন: কোনো প্রাণী, কোনো আসবাব বা স্থায়ী সম্পত্তি-জমি, তাহলে ক্রেতা এ অবস্থায় পণ্যের কীমাত-মূল্য পরিশোধ করবে। এটি হানাফী মাযহাবের আলেমদের অভিমত ও ফতোয়া। ইবনে মানসুর ও আবু তালেব ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে এ কথাই বর্ণনা করেছেন।

কাজী তার মুজাররাদ নামক গ্রন্থে এবং ইবনে আকীল তার ফুসূল নামক গ্রন্থে আবু বকর আব্দুল আযীয-এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন: বিক্রয় যখন কোনো কারণে ফাসেদ হবে, তাতে যা কব্জা করা হয়েছিল সে নামের সে ধরনের কোনো বস্তু বিক্রেতাকে ফেরত দিতে হবে। শায়খ তাকীউদ্দীনও এটি পছন্দ করে মন্তব্য করেছেন, এটিই তাদের মাযহাবের কিয়াস।

মালেকী মাযহাবের আলেমগণ এ সম্পর্কে আলোচনা করার প্রেক্ষিতে ফাসেদ বিক্রয়ে দুটো প্রকারের উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন: ফাসেদ বিক্রয়ের একটি প্রকার হচ্ছে যা ফাসেদ হওয়ার বিষয়ে সকল আলেম একমত এবং অপর প্রকার হচ্ছে তার বিপরীত; যা কারো দৃষ্টিতে ফাসেদ কারো দৃষ্টিতে নয়। পরবর্তী প্রকারটিতে, ফাসেদ হওয়ার বিষয়ে যেখানে সকলে একমত নন, তাতে- যদিও এটি অধিকাংশের মত নয়- যদি বিক্রিত পণ্যটি ক্রেতার হাতে বিনাশ হয়ে থাকে, তাহলে মূল্য হিসাবে সে যা প্রদান করেছিল তা এখন জরিমানা বলে ধর্তব্য হবে, অর্থাৎ সে মূল্য ও ছামান তাকে ফেরত দেওয়া হবে না। অবশ্য তা থেকে যদি কিছু পরিমাণ ব্যতিক্রম হিসেবে বাদ রাখা হয় তবে তা জরিমানাতে গণ্য হবে না। যদি বিক্রি ফাসেদ হওয়ার বিষয়ে সকল আলেম একমত থাকেন, এ অবস্থায় পণ্যটি ক্রেতার হাতে বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়, তাহলে পণ্যটি মিছলী হলে সে ধরনের সে পরিমাণ বস্তু বিক্রেতাকে সে বুঝিয়ে দেবে। যদি মিছলী না হয়ে তা কীমী হয়, তাহলে তার কীমাত ফেরত দেবে, মূলত মূল্য যা-ই থাকুক। খলীল এ মতটি পোষণ করেছেন, এটিই তাদের মাঝে প্রসিদ্ধ। ইবনে শাস ও ইবনে হাজিবও এ পন্থা ও পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এর মূলে রয়েছেন ইবনে ইউনুস এবং তিনি তা ইবনে কাসিম-এর মত বলে উল্লেখ করেছেন- যা তার মুদাওয়ানা গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি।

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি যা ইবনে কাসিম-এর প্রসিদ্ধ মত, এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে রুশদ, ইবনে বাশীর, লাখামী ও মাযীরী। তা হলো, পণ্যটি বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হলে তার কীমাত ফেরত দিতে হবে, মূল জিনিসটি কীয়ামী হোক বা মিছলী তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, ফাসেদ বিক্রির ক্ষেত্রে যদি পণ্যটি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে বস্তুটি মিছলী হলে সদৃশ অপর একটি ফেরত দেবে, যদি কীমী হয় তাহলে বস্তুটির চূড়ান্ত মূল্য ফেরত দেবে। এটি মুগনিল মুহতাজ ও আসনাল মাতালিব-এর ন্যায় শাফেয়ী মাযহাবের কতক ফিকহী গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে আর-রাউযুল মুরবি গ্রন্থের টীকায় শিহাব রামালী লিখেছেন, মিসলী বস্তু ধ্বংস হলে তার পরিবর্তে সদৃশ মিছলী বস্তু প্রদান করতে হবে, এটি ইমাম শাফেয়ী রহ. সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য মাওয়ারদী বলেছেন, মিছলী বস্তুর বদলে তার মূল্য পরিশোধ করাও সহীহ ও সঠিক। আল-বাহরুর মুহীত গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, মাওয়ারদীর এই কথাটিতে কারোরই দ্বিমত নেই।

যারকাশী আলোচনা করেছেন: আল্লামা রাফেয়ী পণ্যের মূল্য আদায় করা আবশ্যক হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন। পণ্যটি মিছলী না কীমী, তিনি তাতে যেমন কোনো পার্থক্য করেননি, এ দুধরনের বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনাও করেননি। মাওয়ারদী এ কথাগুলো সুস্পষ্ট ভাষায় আলোচনা করলেও যারকাশী বলেছেন, এ মতটি দুর্বল।

হানাফী মাযহাবের আলেমগণ ফাসেদ বিক্রি ও বাতিল বিক্রিতে পার্থক্য করেন। এখানে সে পার্থক্যের আলোকে ফাসেদ বিক্রির সুরতে পণ্য ধ্বংস হওয়ার দরুন হুবহু তা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে কী করণীয় তা আলোচনা করা হলো। অন্য কোনো মাযহাবে ফাসেদ ও বাতিল বিক্রিতে কোনো পার্থক্য নেই। অতএব, বিক্রি বাতিল হলে অন্যান্য মাযহাবের আলেমদের মতে কী করণীয় তা উপরিউক্ত আলোচনাতেই বিবৃত হয়ে গেছে।

হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতে, যদি বিক্রি বাতিল হয় তাহলে পণ্যটি বিক্রেতার নিকট ফেরত দিতে হবে। যদি তা ক্রেতার হাতে বিনষ্ট হয়ে যায় তবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে ক্রেতাকে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে না। তার দৃষ্টিতে পণ্যটি ক্রেতার হাতে ছিল আমানত হিসাবে, আমানত নষ্ট হয়ে গেলে তার কোনো ভর্তুকি দিতে হয় না। কিন্তু আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. বলেন, ক্রেতা সে বস্তুর মূল্য পরিশোধ করবে। যেহেতু মূল্য ফেরত না দিলে ক্রেতার সে বস্তুটি কব্জা করা হবে বিনামূল্যে, যদিও সে বস্তুটির মালিক হয়নি। অথচ বিক্রেতা তার বিনামূল্যে কব্জা করায় রাজী নয়, তাই তাকে বস্তুটির মূল্য ফেরত দিতে হবে।

কোন্ দিনের মূল্য প্রদান জরুরি?
বিক্রয় ফাসিদ হয়ে বস্তুটি ফেরত দেওয়ার বিধান হলে, যদি বস্তুটি বিনষ্ট হয়ে যায় তবে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বস্তুটির কোন্ দিনের মূল্য ধর্তব্য হবে- তা নিয়ে ফকীহগণ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতে, এটি মালেকী আলেমদেরও প্রসিদ্ধ মত, শাফেয়ী আলেমদেরও এটি একটি মত: ক্রেতা যেদিন পণ্যটি নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল সেদিন বাজারে সেটির যে যথার্থ মূল্য ছিল তা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে হানাফী আলেমগণ আরো বলেন, যদি ক্রেতার হাতে থাকাকালে তার মূল্য বাড়ে ক্রেতাকে সে বর্ধিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। এ মাসআলাটি অপর একটি মাসআলার তুল্য। তা হলো, যদি কেউ কোন বস্তু অপহরণ করার পর তা তার হাতে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে যেদিন সে অপহরণ করেছিল সেদিন তার যে মূল্য ও কীমাত ছিল তা আদায় করতে হবে; ইতোমধ্যে তার দাম বাড়লেও তাকে সে বর্ধিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ এ সম্পর্কে যা বলেন, কাজী তা তাঁর লেখাগ্রন্থে আলোচনা করেছেন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. সুস্পষ্টভাবে এই মত ব্যক্ত করেছেন, এটি হানাফী মাযহাবের ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মত এবং শাফেয়ীদের একটি মত। তা হলো, পণ্যটা যেদিন বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়েছে সেদিন সেটির যে মূল্য ছিল তা পরিশোধ করতে হবে। তারা বলেন: ক্রেতার জিনিসটি নিজের কাছে রাখার অনুমতি ছিল; সে অবৈধভাবে জিনিসটি তার কাছে রাখে নাই। ফলে তা কোনো জিনিস ধার নেওয়ার তুল্য হলো। ধার নেওয়া বস্তু বিনষ্ট হলে যেদিন বিনষ্ট হয়েছে সেদিনের মূল্য পরিশোধ করতে হয়; এ কথায় সকল আলেম ও ফকীহ একমত। তেমনি পণ্যটি যেদিন বিনষ্ট হয়েছে সেদিনের বাজার মূল্য প্রদান করতে হবে।

শাফেয়ী আলেমদের এক্ষেত্রে মূল মাযহাব যেটি তা হচ্ছে, জিনিসটি ক্রেতার হাতে যাওয়ার পর যেদিন তা বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়েছে, এ ক'দিনের মধ্যে বাজারে জিনিসটির সর্বোচ্চ যে দাম উঠেছে তা প্রদান করতে হবে। এর কারণ, বিক্রি বাতিল হওয়ার দরুন, ক্রেতাকে বিক্রি বাতিল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই তা ফেরত দিতে বলা হচ্ছে। মৌখিকভাবে না বলা হলেও কার্যত শরীয়ত তাকে প্রতি মুহর্তেই এ নির্দেশ দিচ্ছে। যেহেতু সে নির্দেশ পালন করে সে তা ফেরত দেয়নি তাই সে এখন তার সর্বোচ্চ মূল্য ফেরত দিবে।

এটি হাম্বলী মাযহাবেরও একটি মত, অপহরণের আলোচনায় খারকী তা উল্লেখ করেছেন। ইবনে কুদামা এ সম্পর্কে বলেন, বিক্রি ফাসেদ হওয়ার ক্ষেত্রে সে বিধান কার্যকর হবে, বরং এখানে তা অধিকতর প্রযোজ্য হবে। ফাসেদ বিক্রির পর যখন তার মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে তখনও তা ছিল মূল মালিক অর্থাৎ বিক্রেতার মালিকানায়। এ অবস্থায় তাতে ক্ষতি সাধিত হলে ক্রেতাকে ঐ বর্ধিত মূল্য হিসেবে জরিমানা আদায় করতে হবে। তাই যদি জিনিসটি বিনষ্ট বা বিলীন হয় তবে তো তাকে অবশ্যই বর্ধিত মূল্য হিসেবে জরিমানা আদায় করতে হবে। মালেকীদের অপর একটি মত হচ্ছে, যেদিন বিক্রি সম্পন্ন হয়েছিল সেদিন বাজারে তার যা মূল্য ছিল তা আদায় করতে হবে।

০২. অপহরণের পর লুণ্ঠিত মাল ফেরত দেওয়ার সময়
কেউ কোনো বস্তু লুট বা অপহরণ করলে, ছিনিয়ে নিলে তা যে পর্যন্ত টিকে থাকবে তা ফেরত দেওয়াই হবে অবশ্য কর্তব্য। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤدِّي "আদায় না করা পর্যন্ত হাত যা নিয়েছে তা ফেরত দেওয়া তার অবশ্য কর্তব্য।" যদি তার হাতে থাকা অবস্থায় তা ধ্বংস হয়ে যায় বা বিনষ্ট হয়ে যায় তবে তার বদল ও বিনিময় প্রদান করা কর্তব্য। যেহেতু মূল বস্তু ফেরত দেওয়া কর্তব্য ছিল, তা আর এখন সম্ভব নয়, তাই যা তার সমমূল্যের তা ফেরত দেওয়া অপরিহার্য হবে।

যে জিনিসটি লুট করার পর বিনষ্ট হয়েছে তা যদি মিছলী বস্তু হয়, যেমন তা ছিল পাত্র দিয়ে মেপে দেওয়ার জিনিস বা ওজন করে বিক্রি করার জিনিস বা গুণে গুণে বিক্রি করা হয় এমন বস্তু, তাহলে লুণ্ঠনকারী সে জাতীয় বস্তুই ফেরত দিবে। যেহেতু ছিনিয়ে নেওয়ার জরিমানা হচ্ছে সীমালঙ্ঘনজনিত জরিমানা। এক্ষেত্রে শরীয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে, বরাবর ও পূর্ণ সদৃশ হবে এ জরিমানা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:
فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاشْتَرُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ
"তোমাদের প্রতি যে কেউ অত্যাচার বা বাড়াবাড়ি করবে তোমরাও তাদের সাথে তেমন আচরণ করবে যেমনটা তারা তোমাদের সাথে করেছে।"

সাধারণভাবে সদৃশ হবে সে বস্তু যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবে মূলবস্তুর সদৃশ। যেমন: ডিমের বদলে ডিম প্রদান। যদি বস্তুর পরিবর্তে তার মূল্য প্রদান করা হয় তবে তা বাহ্যিকভাবে সদৃশ না হলেও অভ্যন্তরীণ সদৃশ বলে গণ্য হবে, যেমন ডিমের বদলে তার মূল্য। এটিও সদৃশ বলে গণ্য হবে, যেহেতু এ মূল্য দ্বারা পুনরায় ডিম সংগ্রহ করা যাবে। যেহেতু লুণ্ঠন ও অপহরণের পর প্রদত্ত জরিমানা হচ্ছে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বস্তুর ক্ষতিপূরণ। তাই এক্ষেত্রে যা সর্বাংশে সদৃশ ও বরাবর তা প্রদান করাই হবে যথার্থ। তাই বস্তুর পরিবর্তে বস্তু প্রদান হবে পূর্ণ বদল। যদি বস্তুর পরিবর্তে বস্তু প্রদান করা একান্তই সম্ভবপর না হয় তবে তার মূল্য প্রদান এবং তা গ্রহণ করা হবে।

যদি অপহৃত বস্তুটি মিছলী না হয়ে কীমী হয়, তাহলে যেহেতু এ অবস্থায় বস্তুর পূর্ণ সদৃশ বস্তু পাওয়া সম্ভব নয়, তাই এক্ষেত্রে মূল্য প্রদান করতে হবে, যেহেতু এটিই তার সম্ভাব্য সদৃশ।

জরিমানা হিসেবে মূল্য প্রদান সম্পর্কে দলিল হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর বর্ণিত হাদীস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ أَعْتَقَ شِركًا لَهُ فِي عَبْدِ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوْمَ عَلَيْهِ قِيمَةُ الْعَدْلِ
"যদি কেউ কোনো ক্রীতদাসে থাকা তার আংশিক মালিকানা থেকে ক্রীতদাসকে মুক্তি প্রদান করে, (তবে যেহেতু অপর অংশীদারের ক্ষতি করা হয়, তাই) তার যদি সে দাসের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে সে অপর অংশীদারকে তার অংশের মূল্য হিসাব করে (ক্ষতিপূরণ বাবদ) প্রদান করবে।"

এক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংশীদারের অংশ নির্ণয় করতে ক্রীতদাসের মূল্য নির্ধারণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। যেহেতু একজন তার অংশ মুক্ত করে দেওয়ায় অপর জনের অংশ বিনষ্ট করা হয়েছে, তাই যে মুক্ত করেছে তাকে অপরজনের অংশের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ অবস্থায় নবী স. ক্রীতদাসের সদৃশ ক্রীতদাস প্রদানের নির্দেশ দেননি, যেহেতু এ জাতীয় জিনিসগুলো সার্বিকভাবে সমপর্যায়ের হয় না, বরং নানা বৈশিষ্ট্যের দরুন এগুলোর একটি অপরটি থেকে ভিন্ন বলে পরিগণিত হয়, কখনোই একটিকে অপরটির সমতুল্য বিবেচনা করা হয় না। তাই এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করাই হচ্ছে ন্যায়ানুগ ও অধিক সঙ্গত। তাই এটিই এখানে অনুসৃত হবে। হাদীসটিতে যদিও ক্রীতদাসের আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু তা এমনি সকল বস্তুটিতেই পরিব্যাপ্ত হবে যেগুলোর সমতুল্য বস্তু সচরাচর পাওয়া যায় না।

আম্বরী থেকে বর্ণিত হয়েছে, যে কোন বস্তুর সদৃশ বস্তু ফেরত দিতে হবে। মূল বস্তুটি মিছলী হোক বা কীমী, তাতে বিধানে পরিবর্তন ঘটবে না। তিনি একটি হাদীসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন উম্মুল মুমেনীন আয়েশা রা.। তিনি বলেন,
أَهْدَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَاءً فِيهِ طَعَامٌ ، فَمَا مَلَكْتُ نَفْسِي أَنْ كَسَرْتُهُ ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَفَّارَتِهِ ؟ فَقَالَ : إِنَاءً كَإِنَاءٍ وَطَعَامٌ كَطَعَامٍ
"সাফিয়্যা রা.-এর ন্যায় আর কাউকে আমি দেখি নাই, বিশেষ কোনো খাবার তৈরি করলেই তিনি তা কোনো পাত্রে করে নবীর কাছে পাঠাতেন। (এ ভাবে আমার ঘরে পাঠানো হলে) আমি নিজেকে সংবরণ করতে পারিনি, খাবারের পাত্রটা ভেঙ্গে ফেলি। (ফলে খাবারটাও বিনষ্ট হয়।) পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এর কাফফারা ও প্রতিবিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, পাত্রের বদলে পাত্র, খাবারের বদলে খাবার।"

অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আনাস রা. বর্ণনা করেছেন।
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عِنْدَ بَعْضٍ نِسَائِهِ ، فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ مَعَ خادم بِقَصْعَة فِيهَا طَعَامٌ ، فَضَرَبَتْ بَيَدِهَا فَكَسَرَتِ الْقَصْعَةَ فَضَمَّهَا وَجَعَلَ فِيهَا الطَّعَامَ ، وَقَالَ : كُلُوا ، وَحَبَسَ الرَّسُولَ وَالْقَصْعَةَ حَتَّى فَرَعُوا ، فَدَفَعَ الْقَصْعَةَ الصَّحِيحَةَ ، وَحَبَسَ الْمَكْسُورَةَ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোনো এক স্ত্রীর ঘরে ছিলেন। অপর এক উম্মুল মুমিনীন নবীজীর নিকট একটি পেয়ালায় খাবার দিয়ে তার খাদেমকে পাঠান। যার ঘরে নবী স. ছিলেন তিনি সে পাত্রে আঘাত করে তা ভেঙ্গে ফেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সে স্ত্রীর নিকট হতে অপর একটি পাত্র নিয়ে তাতে সে খাবারটি রাখেন। এরপর ঘরের সকলকে বলেন, তোমরা খাও। সবাই খাওয়া শেষ না করা পর্যন্ত তিনি সে পেয়ালা ধরে রাখলেন। এরপর ভাঙ্গা পেয়ালা রেখে ভালো পেয়ালাটি ফেরত পাঠালেন।"

অপর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উট কর্জ হিসাবে নেওয়ার পর অপর একটি উট বদল হিসাবে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।

লুণ্ঠিত দ্রব্যে কোন দিনের মূল্য প্রদান জরুরি?
হানাফী ও মালেকী মাযহাবের আলেমদের মত, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর এটি একটি মত, যেদিন অপহরণকারী অপহরণ করেছে, (এরপর তা ধ্বংস হয়েছে,) সেদিন এটির যে মূল্য ছিল তা প্রদান করতে হবে।

শাফেয়ী মাযহাবের আলেমদের এ সম্পর্কে মত হচ্ছে, লুট বা ছিনতাই করার পর তা ধ্বংস হওয়ার সময়ের মাঝে এটির সর্বোচ্চ যে মূল্য উঠেছে তা প্রদান করতে হবে। যেহেতু যখন এর সর্বোচ্চ মূল্য উঠেছে তখনও কব্জা করে রেখেছিল অপহরণকারী বা লুণ্ঠনকারীই। তাই তাকে এ সর্বোচ্চ মূল্যই প্রদান করতে হবে।

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ এক্ষেত্রে যেদিন লুণ্ঠিত বস্তুটি বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়েছে সেদিনের মূল্য ফেরত দেওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৯. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ১২৫; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৪১৯; ইবনে রাজাব কৃত আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৬৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৫৩
১০. মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৫৮০-৫৮১; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ২৭; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৭১-৭২
১১. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪০; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৬; আল-মানুছুর ফিল কাওয়াইদ, খ. ২, পৃ. ৩৩৯
১২. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩
১৩. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১২৫; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৭১; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ২৭; আল-মাজমু, খ. ৯, পৃ. ৩৬৪; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৫৩; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২,,. ৪১৯।
১৪. হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে জামে তিরমিযী গ্রন্থে, খ. ৩, পৃ. ৫৫৭।
১৫. সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৪
১৬ সহীহ বুখারীর বর্ণনা যা ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করা হয়েছে, খ. ৫, পৃ. ১৩৭; সহীহ মুসলিম, খ. ২, পৃ. ১১৩৯
১৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ১৫০; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১১; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৪৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৮২; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৭৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৩৮; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৪১৮
১৮. সুনানে নাসায়ী, খ. ৭, পৃ. ৭১
১৯. বুখারীর বর্ণনা; ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ১২৪
২০. মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১২২৪; আবু রাফে রা.-এর বর্ণনা
২১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ১৫১; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১১; দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৪৪৩; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৪৯; মুর্গনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৮৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২৭৯; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৪১৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00