📄 কীমাত (الْقِيمَةُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
কীমাত (القيمة)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
কীমাত অর্থ হলো, মূল্য, দাম, কোনো বস্তুর যথার্থ মূল্য। এর বহুবচন الْقِيمُ (কিয়াম)। এর অর্থ : নির্ধারণ করার মাধ্যমে নিরূপিত মূল্য। শরীয়তের পরিভাষায় কীমাত হলো, কোনো বস্তুর যথার্থ মূল্য যা তার যথাযথ মান নির্ধারক; তা থেকে বেশিও নয়, কমও নয়।
টিকাঃ
১. আল-মিসবাহুল মুনীর, লিসানুল আরব, তাজুল আরূস, قوم ماده
২. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ২১; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৫১ ও ১৬৬
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ক. الثَّমَنُ (আছ-ছামান): মূল্য
ছামান-এর শাব্দিক অর্থ বিনিময়, বদল। এর বহুবচন أَثْمَانُ (আছমান)। বলা হয় : قَدْ ثَمَّনْتُهُ تَثْمِينًا "আমি বস্তুটিকে বিনিময় ও বদল নির্ধারণ করেছি।" বিক্রিত পণ্যের বিনিময় ও বদল হিসাবে ক্রেতার নিকট থেকে বিক্রেতা যেহেতু মূল্য হস্তগত করে, তাই তাকে ছামান বলে। তা নগদ টাকা পয়সা হতে পারে, কোনো জিনিসও হতে পারে। এভাবে এ কথাই সাব্যস্ত, পণ্যের বিনিময়ে যা-ই পাওয়া যাবে তা-ই হবে তার সামান। ফকীহদের পরিভাষায় কীমাত হলো, বিক্রীত পণ্য লাভের জন্যে ক্রেতা বদল হিসাবে বিক্রেতাকে যা প্রদান করে। দিরহাম, দীনার ও নগদ অর্থ সম্পদেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেহেতু ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর আলোচনা করে বদল সাব্যস্ত করে, তাই ছামান নির্ধারিত হয় পরস্পরের সম্মতিতে। তা কীমাত বা যথার্থ মূল্যের বরাবর হতে পারে, তা থেকে বেশিও হতে পারে, কমও হতে পারে।
খ. السعر (আস-সি'র): দর
সি'র-এর শাব্দিক অর্থ : মূল্য, দাম, দাম হিসাবে যা ধার্য হয়। এর বহুবচন أسعار (আস'আর) বলা হয়: قَدْ سَمَّরُوا "তারা একটি মূল্যে একমত হয়েছে।" الشيء سَمَّরْتُ تَسْعِيرًا "আমি বস্তুটির চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি।" আরো বলা হয়: لَهُ سعر "বস্তুটি উচ্চমূল্য হয়ে গেছে।" এর বিপরীতে বলা হয়: لَيْসَ লَهُ سعر "বস্তুটির মূল্য নেমে গেছে।" سعر السوق "বাজারমূল্য অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে মূল্য প্রচলিত রয়েছে।" التسعير "মূল্য নির্ধারণ অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক কোনো বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া।"
ফকীহ ও আলেমগণ সি'র (سعر) শব্দটি তার শাব্দিক অর্থেই ব্যবহার করে থাকেন। অতএব, তাদের দৃষ্টিতে সি'র হচ্ছে বিক্রেতা পণ্যের যে মূল্য নির্ধারণ করে অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক যা নির্ধারিত হয়। এর বিপরীতে কীমাত হচ্ছে মূল্য নির্ধারণে পারদর্শী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বস্তুর নির্ধারিত যথার্থ মূল্য।
গ. المثل (আল-মিছল): সদৃশ
মিছল শব্দটির শাব্দিক অর্থ সমতুল্য, সদৃশ। বলা হয়: هَذَا مِثْلُهُ "এটি সেটির সমতুল্য।" এ অর্থে هَذَا মَثَلُ ও বলা যায়। যেমন বলা হয়: هَذَا شَبَهُهُ অথবা هَذَا شَبِيهُهُ। ফকীহগণ মিছলী (مثلي) শব্দটি ব্যবহার করেন এমন বস্তু বোঝাতে যে বস্তুর সমুদয় একক একটি অপরটির সদৃশ, যার দরুন তার কোনো একটির স্থলে অপরটি রাখা যায়; তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হয় না।
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাতে বলা হয়েছে: মিছলী (مثلي) বলা হয় এমন বস্তুকে, উল্লেখযোগ্য তারতম্য ব্যতীত যার সদৃশ বস্তু বাজারে পাওয়া যায়। তাই যে সকল বস্তু কোনো পাত্র দিয়ে পরিমাপ করে বেচাকেনা করা হয়, যে সকল বস্তু ওজন করে বা গুণে গুণে বেচাকেনা করা হয়- এ সবই মিছলী-এর অন্তর্ভুক্ত। যে সব বস্তু মিছলী নয় সেগুলোকে বলা হয় القيمي (কীয়ামী)।
এভাবে যাবতীয় পণ্য দুভাবে বিভক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে القيمي (কীয়ামী) বস্তুতে ধর্তব্য হবে القيمة (কীমাত) এবং المثلي (মিছলী) বস্তুতে ধর্তব্য হবে সাদৃশ্য ও তুল্যতা।
টিকাঃ
৩. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহ আল-মুনীর, তাজুল আরূস ثمن ماده
৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৩৪; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৫, পৃ. ২৭৭
৫. আল-মিসবাহুল মুনীর, লিসানুল আরব, তাজুল আরূস سعر-মাদে
৬. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৫৬; কাওয়াইদুল ফিক্ লিল বারকাতী, পৃ. ৩২১; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৮; মাওসূআহ, খ. ১১, পৃ. ৩১
৭. আল-মিসবাহুল মুনীর, লিসানুল আরব
৮. মাজাল্লা তুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ১৪৫-১৪৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৫৮ এবং খ. ৭, পৃ. ১৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৮১
📄 কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান
কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান
কীমাতের সাথে সম্পর্কিত বিধিবিধান নানা প্রকার। নিম্নে সেগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হচ্ছে:
📄 যেসব ক্ষেত্রে কীমাত ধার্য করা অপরিহার্য
যেসব ক্ষেত্রে কীমাত ধার্য করা অপরিহার্য
নিম্নলিখিত তিনটি স্থানে বস্তুর কীমাত ধার্য করা আবশ্যক:
এক. কীমী বস্তুতে, যখন তাতে জামানত বা জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক হয়।
দুই. যখন মিছলী জিনিসের সদৃশ ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয় এবং
তিন. যখন বিক্রীত পণ্যের মূল্য নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতানৈক্য হয়।