📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পরিচিতি

📄 পরিচিতি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সাওম (السَّوْمُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

📄 সাওম (السَّوْمُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ


সওম (السوم)-এর অর্থ : বিক্রেতা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতাকে পণ্য দেখানো, দাম বলা। এ অর্থগুলো হয় যখন ৩ এর কর্তা হয় বিক্রেতা। যখন এটি ক্রেতার ক্রিয়া হয় তার অর্থ দাঁড়ায় : দর করা, দাম জানতে চাওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই আসতে পারে, নাও আসতে পারে। বলা হয় : سمْتُ بِالسِّلْعَة أَسُومُ بِهَا থেকে আসে। কেউ কাউকে বলে, এত মূল্যে তুমি পণ্য গ্রহণ করবে? জবাবে সে বলবে, سُمْتُ فَلَانًا سَلْعَتِي سَوْمًا “আমি এত মূল্যে পণ্য গ্রহণ করেছি।”

মুসাওয়ামাহ্ (الْمُسَاوَمَةُ) হচ্ছে : ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে পণ্য ও পণ্যের মূল্য নিয়ে দর কষাকষি করা, দরদাম করা। আল্লামা ফাইউমী বলেন : سَامَ الْبَائِعُ السَّلْعَةَ سَوْمًا এর অর্থ হলো, বিক্রেতা বিক্রয়ের জন্যে পণ্য পেশ করেছে। سَامَهَا الْمُشتري সَامَتِ الرَّاعِيَةُ وَالْمَاشِيَةُ وَالْغَنَمُ وَاسْتَامَهَا تَسُومُ سَوْمًا এর অর্থ : জন্তু নিজে নিজে যেখানে ইচ্ছা চড়তে লাগল; তাই একে সায়েমা (৩) বলে। আস-সাওওয়াম ওয়াস সায়িমাহ (السَّوَامُ وَالسَّائِمَةُ) হলো, বিচরণশীল জন্তু। أَسَامَهَا هُوَ وَسَامَهَا এর অর্থ হচ্ছে, জন্তু চরালো।

ফকীহদের ব্যবহারে শব্দটি দু স্থানে দু অর্থে আসে।
এক. যাকাতের আলোচনায় গবাদি পশু মাঠে চরে বেড়ানো এবং এ অর্থে গবাদি পশুর নামকরণ হয় সায়িমাহ্ (سَائِمَة) এবং
দুই. বেচাকেনার আলোচনায় : বিক্রেতা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতাকে পণ্য দেখানো, দাম বলা এবং ক্রেতার দাম জানতে চাওয়া এবং দরদাম করা।

টিকাঃ
১. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহ আল মুনীর, আল-মুজামুল ওয়াসীত ماده-سوم
২. ইবনে আবেদীন, খ. ২, পৃ. ১৫-১৬ এবং খ. ৪, পৃ. ১৩২; কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৪ ও ১৮৩; কাশশাফুল কিনা’, খ. ২, পৃ. ১৮৩; এবং খ. ৩, পৃ. ১৮৩; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ১, পৃ. ৩৯৬; আয-যাহের, পৃ. ১৯৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. النجش (আন-নাজশ) : ধোঁকা, প্রতারণা
নাজশ (الخش) শব্দটির জীম অক্ষরে সাকিন হলে তা হবে মাসদার, অর্থ হবে দালালি করা। শব্দটি নাজাশ-যীম অক্ষরে যবরসহ হলে তা হবে ইসমে মাসদার, অর্থ হবে : দালালি। অর্থাৎ কেনার কোনো ইচ্ছা না থাকলেও দামাদামি করে পণ্যের মূল্য বাড়ানো, পণ্যে অনুপস্থিত গুণাবলির আলোচনা করে ক্রেতাকে পণ্য কিনতে প্ররোচিত করা এবং পণ্য চালু করা—এটাই হচ্ছে দালালি। এ ধরনের আচরণ ও কর্ম বিবাহ এবং আরো নানা ক্ষেত্রে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। النَّحْشُ (নাজশ) ও السَّوْمُ (সাওম)-এ দুটোতে পার্থক্য হচ্ছে, দালাল দামাদামি করলেও মূলত সে জিনিসটি কিনতে আগ্রহী নয়, অপরদিকে ক্রেতা দামাদামি করে কেনার আগ্রহে।

৪. الْمُزَائِدَةُ (আল-মুযাইয়াদাহ্): নিলামে বিক্রি
এর অপর নাম বায়’উদ দালালাহ (بيع الدلالة) দালালা বিক্রি। এ বিক্রিতে নিয়ম হচ্ছে, একাধিক ব্যক্তি একই বস্তু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সেক্ষেত্রে ক্রেতাদের একজন দাম বলার পর অপরজন তার অধিক বলে। এভাবে যে সর্বাধিক মূল্য দিতে রাজি হয় তার নিকট বস্তুটি বিক্রয় করা হয়। একে বাংলা ভাষায় নিলামে বিক্রি বলে। এভাবে বিক্রি করা জায়েয।

টিকাঃ
৩. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহ আল-মুনীর, আদ-দুররুল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৩২
৪. আল-মুজামুল ওয়াসীত, زید ماده; ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ১৩৩; কাশশাফুল কিনা’, খ. ৩, পৃ. ১৮৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সাওম (السَّوْمُ)-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান

📄 সাওম (السَّوْمُ)-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান


সাওম শব্দটি যেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতা ও জন্তুর সাথে সম্পর্কিত তাই সাওম সংক্রান্ত বিধি-বিধান দুভাগে বিভক্ত: এক. জন্তুর সাথে সম্পর্কিত; মূলত এর সম্পর্ক গবাদি পশুতে যাকাত ফরজ হওয়ার সাথে এবং দুই. ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে সম্পর্কিত। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে সম্পর্কিত বিধানাবলি কেবল আলোচনা করা হচ্ছে।

ক্রয়বিক্রয়ের সাথে সম্পর্কিত সাওম সংক্রান্ত বিধান, কোনো এক দামে ক্রেতা ও বিক্রেতা একমত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দাম চড়ানো জায়েয, তা হারামও নয়, মাকরূহও নয়। এ অবস্থায় এটি নিলামতুল্য। যেহেতু নিলাম জায়েয, তাই এভাবে দাম চড়ানোও জায়েয। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতা কোনো এক দামে একমত হওয়ার পর এর দাম চড়ানো হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতে মাকরূহ। মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী অন্য তিন মাযহাবে এটি হারাম। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য : بُيُوعٌ مَنْهِيُّ عَنْهَا ، وَمُزَائِدَةً

অধিকাংশ আলেম অবশ্য বলেছেন, বিক্রয়চুক্তির যাবতীয় শর্ত ও রুকন সম্পন্ন হওয়ায় এ অবস্থাতে বিক্রয় সম্পন্ন হবে, বিক্রেতা মূল্য চড়ালেও বিক্রয় বাতিল হবে না। হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেছেন, খিয়ারুশ শর্ত ও খিয়ারুল মজলিস থাকা অবস্থায় এমন দাম চড়ালে বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু এভাবে দাম চড়ানো নিষেধ, নিষেধ করার পরও তা করা হলে তা ফাসেদ ও বাতিল বলে গণ্য হয়। এ হচ্ছে এ সম্পর্কে মোটামুটি কথা।

টিকাঃ
৫. ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ১৩২; আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৫৬; কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৮৩; কাশশাফুল কিনা’, খ. ৩, পৃ. ১৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00