📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বিক্রি ছাড়া অন্য কোনোভাবে ক্রয়কৃত বস্তুর মালিকানা প্রদান

📄 বিক্রি ছাড়া অন্য কোনোভাবে ক্রয়কৃত বস্তুর মালিকানা প্রদান


হানাফী ও মালেকী ফিকহবিদগণের মত, এটি শাফেয়ী ফিক্‌হবিদগণেরও একটি উক্তি, হস্তগত করার পূর্বে ক্রয়কৃত বস্তুর মালিকানা কারো নিকট বিক্রি ছাড়া অন্যভাবে প্রদান করা বৈধ। হানাফী ফিক্‌হবিদগণ হস্তগত করার পূর্বে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে বিক্রিকৃত পণ্যের মুনাফার মালিকানা প্রদানকে এই বিধান থেকে ব্যতিক্রম ও ভিন্ন বিবেচনা করেন। কারণ, মুনাফা অস্থাবর সম্পত্তির পর্যায়ে। তাই মূলনীতি হিসাবে হস্তগত করার পূর্বে তার মালিকানা প্রদান নিষিদ্ধ হবে।

শাফেয়ী ফিক্‌হবিদদের বিশুদ্ধ উক্তি এবং হাম্বলী ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো, হস্তগত করার পূর্বে দান করা এবং ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা প্রদান জায়েয নেই। যে সকল পণ্যে হস্তগত করার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ সেগুলো নিয়ে ফিকহবিদগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিস্তারিত জানতে بيع পরিভাষা এবং بيع مالم يقبض আলোচনা দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
১৩. আতাসী রচিত শরহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ১৭২, ১৭৪; বাদায়েউস সানায়ে’, খ. ৫, পৃ. ১৮০; আল-জামালিয়্যা থেকে মুদ্রিত; কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৭৯; আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ১৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৯
১৪. আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৪৫৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া থেকে মুদ্রিত; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৯; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৪১; শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৭; আলামুল কুতুব থেকে মুদ্রিত
১৫. তাহজিবুল ফুরুক বিহামিশিল ফুরুক, খ. ১, পৃ. ১৯৩; কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৮৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 উপকৃত হওয়ার অধিকার প্রদান

📄 উপকৃত হওয়ার অধিকার প্রদান


উপকৃত হওয়ার অধিকার প্রদান-এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে শুধু তার নিজেকে উপকৃত করার অনুমতি প্রদান করা। যেমন: কাউকে শিক্ষালয়ের হোস্টেল, অশ্বশালা, বৈঠকখানা, মসজিদ, বাজার ইত্যাদি স্থান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে। কেবল নিজেই সে এগুলোর দ্বারা উপকৃত হতে পারবে, তার জন্য নিষেধ হলো, ভাড়ায় প্রদান করা বা কোনো ধরনের বিনিময় পদ্ধতিতে মালিকানা প্রদান বা ওয়াকফকৃত গৃহে অন্য কাউকে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া ইত্যাদি। তাই এসব কোনো কিছু সে করতে পারবে না। বিস্তারিত জানতে ملك আলোচনা দ্রষ্টব্য

টিকাঃ
১৬. কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৮৭; তাহজিবুল ফুরুক বিহামিশিল ফুরুক, খ. ১, পৃ. ১৯৩; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়‍্যা, খ. ৬, পৃ. ২৯৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুনাফার মালিকানা প্রদান

📄 মুনাফার মালিকানা প্রদান


মুনাফার মালিকানা প্রদানের অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে স্বয়ং পূর্ণ মুনাফা ভোগের অনুমতি দেওয়ার সাথে সাথে অন্যকে উপকৃত করার সুযোগ প্রদানের অনুমতি দেওয়া। যেমন: ভাড়া প্রদান করা। সুতরাং যে ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নেবে তার জন্য সুযোগ আছে অন্যকে তা ভাড়ায় প্রদান করা অথবা বিনিময় ছাড়া বাস করতে দেওয়ার। রীতি ও প্রচলন অনুসারে মালিকগণ যেভাবে ব্যবহার করেন তদ্রূপ সেও এই মুনাফাকে ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে এটি হলো ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বিক মালিকানা প্রদান। যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়া গ্রহণ করবে সে উক্ত মেয়াদের আওতায় সার্বিক ভাবে মুনাফার মালিকানা লাভ করবে। উক্ত মেয়াদের মধ্যে মুনাফার আওতায় বৈধ সব ধরনের কাজ সে করতে পারবে যে পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ভিন্নতার দরুন মূল পণ্য (অর্থাৎ বাড়ি) প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এভাবে সাব্যস্ত হয়, মুনাফার মালিকানা প্রদান মূল বস্তুতে মালিকানা প্রদানের সমতুল্য। বিস্তারিত জানতে ملك দ্রষ্টব্য।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তামলীক বা মালিকানা প্রদানের শব্দ দ্বারা বিবাহ

📄 তামলীক বা মালিকানা প্রদানের শব্দ দ্বারা বিবাহ


হানাফী ও মালেকী ফিক্‌হবিদ, মুজাহিদ, সুফিয়ান ছাওরী, আবু ছাওর ও আবু উবাইদের মত হলো, মালিকানা প্রদানের শব্দ এবং এমন যে কোনো শব্দ যা তৎক্ষণাৎ সত্তার মালিকানা প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে, তা দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হতে পারে। তাদের দলিল রাসূলুল্লাহ স.-এর হাদীস:
مَلْكُتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآن
“তোমার সাথে যে পরিমাণ কুরআন আছে আমি তোমাকে তার দরুন তার মালিকানা প্রদান করলাম”।
উক্ত হাদীসটি বিবাহ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত মালিকানা প্রদান করা হলে উপভোগের মালিকানা অর্জিত হয়। তাই বিবাহে তা ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে সাব্যস্ত হলো, তামলীক হচ্ছে বিবাহের সাবাব বা কারণ, আর কারণ উল্লেখ করে মূল বিষয় অর্থ গ্রহণ করা রূপকের একটি ব্যবহার।

শাফেয়ী ফিক্‌হবিদগণ এবং সকল হাম্বলী ফিক্‌হবিদ মনে করেন, মুসলিমের হাদীস, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতের বিনিময়ে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালেমা দ্বারা তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধরূপে পেয়েছ”-এর কারণে মালিকানা প্রদান শব্দের দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হবে না। তারা বলেন: আল্লাহর বলা শব্দ হলো التزويج (তাযভীজ) এবং النكاح (ইনকাহ) (অর্থাৎ বিবাহ সংঘটিত করা)। এ দু শব্দ ছাড়া বিবাহ সংঘটনের অর্থে কুরআনে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। তাই কিয়াস না করে সতর্কতামূলক এ শব্দগুলোতেই ক্ষান্ত হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত বিবাহের মধ্যে মুস্তাহাব বিষয় থাকার কারণে তা ইবাদতের প্রতি আকর্ষণ করে। আর ইবাদতের জিকিরসমূহ শরীয়ত থেকে নির্ধারিত। এক্ষেত্রে শরীয়তের বর্ণিত শব্দদ্বয় হলো তাযভীজ (التزويج) এবং ইনকাহ (النكاح) (অর্থাৎ বিবাহ সংঘটিত করা), অন্য কিছু নয়।

টিকাঃ
১৭. হাদীস: বুখারী (বরাত ফাতহুল বারী, খ. ৯, পৃ. ১৭৫; আস-সালাফিয়া থেকে মুদ্রিত); মুসলিম (খ. ২, পৃ. ১০৪১, আল-হাবী থেকে মুদ্রিত)
১৮. হিদায়ার ব্যাখ্যা গ্রন্থ আল বিনায়া, খ. ৪, পৃ. ১৯-২১, যায়লায়ী, খ. ২, পৃ. ৯৬, ফাতহুল কাদীর, খ. ২, পৃ. ৩৪৬, আল-আমিরিয়া থেকে মুদ্রিত; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ১, পৃ. ২৭৭
১৯. হাদীস: মুসলিম (খ. ২, পৃ. ৮৮৯, প্রকাশক: হালাবী) যা জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা.-এর হাদীসের একাংশ
২০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ১৪০, প্রকাশক: হালবী; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৬, পৃ. ২০৭; আল-ইনসাফ, খ. ৮, পৃ. ৪৫; দারু ইহয়াউত তুরাসিল আরাবী থেকে মুদ্রিত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00