📄 ক্রয়কৃত বস্তু হস্তগত করার পূর্বে বিক্রির মাধ্যমে তার মালিকানা প্রদান
হানাফী ও শাফেয়ী ফিক্হবিদদের মাযহাব, এটি ইমাম আহমদ রহ.-এর একটি বর্ণনা এবং মালেকী ফিক্হবিদগণের একটি উক্তি: কজা করার পূর্বে বিক্রির মাধ্যমে কাউকে মালিকানা প্রদান জায়েয নেই—তা খাবার জাতীয় বস্তু হোক কিংবা অন্য কিছু হোক।
তারা হস্তগত করার পূর্বে খাবার বিক্রি করা হতে রাসূলুল্লাহ স. যে নিষেধ করেছেন তা দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন। তারা আরো প্রমাণ পেশ করেন এই হাদীস দ্বারা:
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ عَتَابَ بْنَ أَسَيْدٍ إِلَى مَكَّةَ قَالَ : انْهَهُمْ عَنْ بَيْعِ مَا لَمْ يَقْبِضُوهُ ، وَعَنْ رِبْحِ مَا لَمْ يَضْمَنُوهُ
“রাসূলুল্লাহ স. আত্তাব ইবনে উসাইদকে মক্কায় প্রেরণকালে বললেন, তুমি তাদেরকে পণ্য হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি করা থেকে নিষেধ করবে। এবং ঐ বস্তুর লাভগ্রহণ থেকে নিষেধ করবে যার ক্ষতিপূরণ তারা প্রদান করে না।”
দ্বিতীয়ত (হস্তগত না করার কারণে) তার মালিকানা পূর্ণতা লাভ করে নি। সুতরাং অনির্দিষ্ট বস্তুর ন্যায় তা বিক্রি করা জায়েয হবে না।
হানাফী ফিকহবিদগণ বিক্রিকৃত স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান বর্ণনা করেন এবং বিক্রি বাতিলের প্রতারণা না থাকার কারণে হস্তগত করার পূর্বে মালিকানা প্রদানকে বৈধতা দিয়ে থাকেন।
মালেকী ফিক্হবিদগণ মনে করেন: যদি (পণ্য) খাদ্যশস্য না হয়, তাহলে হস্তগত করার পূর্বে বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা প্রদান বৈধ। এবং দলিল প্রদান করেন আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত হাদীস দ্বারা:
مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبْعْهُ حَتَّى يَكْتَالَ
“রাসূলুল্লাহ স. বলেন, যে ব্যক্তি খাবার ক্রয় করে সে তা না মাপা পর্যন্ত যেন বিক্রি না করে”।
তাদের মতে বিশুদ্ধ কথা হলো, এই নিষেধটি কিয়াস-ঊর্ধ্ব একটি বিষয়। তাই তার সাথে খাবার ছাড়া অন্য বিষয়কে তুলনা করা যাবে না। কেউ কেউ বলেন: বিষয়টি (যুক্তি বহির্ভূত নয়, বরং) বোধগম্য। কারণ এটি প্রকাশে শরীয়তপ্রণেতার একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হলো, যদি হস্তগত করার পূর্বেই তা বিক্রি করার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়, তাহলে কতক সম্পদের মালিক তা প্রকাশের পূর্বেই বিক্রি করবে। পক্ষান্তরে যদি তা থেকে বারণ করা হয় তাহলে পরিমাপকারী ও বোঝা বহনকারী লোকেরা উপকৃত হবে এবং এভাবে গরীবদেরকে সাহায্য করা হবে। ফলে এর দ্বারা মানুষ আন্তরিক দৃঢ়তা লাভ করবে, বিশেষত অভাব ও দুর্ভিক্ষের সময়। বিস্তারিত জানতে بيع مَالَمْ يُقْبَضُ শিরোনাম দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
৮. হাদীস : نهى عن بيع الطعام قبل قبضه বুখারী (ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ৩৪৯) ইবনে হাজমের বর্ণনায় আছে: أما الذي نهى عنه النبي فهو الطعام أن يباع حتى يقبض
৯. হাদীস : بعث عتاب بن أسيد إلى مكة أخرجه البيهقى (খ. ৫, পৃ. ৩১৩ দায়িরাতুল মায়ারিফিল উসমানী কর্তৃক মুদ্রিত) যা ইয়ালা বিন উমাইয়ার হাদীসে নিম্নের শব্দে বর্ণিত।
استعمل النبي صلى الله عليه وسلم عتاب بن اسيد على مكة فقال : انى قد أمتك على أهل الله عز وجل بتقوى الله عز وجل ولا يأكل آخر منهم من ربح ما لم يضمن .... وأن يبيع أحرهم ما ليس عرضة وفي اسناده انقطاع.
১০. ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২৭, রিয়াদ থেকে মুদ্রিত; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৩, পৃ. ৫০৬; দুরারুল হুককাম, খ. ১, পৃ. ২০১
১১. দুরারুল হুককাম, খ. ১, পৃ. ২০১, হাদীস من ابتاع طعاما فلا يبعه حتى يكتاله أخرجه مسلم (খ. ৩, পৃ. ১১৬০, প্রকাশক: হালাবী)। হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস রা.
১২. আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ১৭১, দারুল কলম হতে মুদ্রিত, দুসুকীর টীকা, খ. ৩, পৃ. ১৫১ হালবী মুদ্রিত
📄 বিক্রি ছাড়া অন্য কোনোভাবে ক্রয়কৃত বস্তুর মালিকানা প্রদান
হানাফী ও মালেকী ফিকহবিদগণের মত, এটি শাফেয়ী ফিক্হবিদগণেরও একটি উক্তি, হস্তগত করার পূর্বে ক্রয়কৃত বস্তুর মালিকানা কারো নিকট বিক্রি ছাড়া অন্যভাবে প্রদান করা বৈধ। হানাফী ফিক্হবিদগণ হস্তগত করার পূর্বে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে বিক্রিকৃত পণ্যের মুনাফার মালিকানা প্রদানকে এই বিধান থেকে ব্যতিক্রম ও ভিন্ন বিবেচনা করেন। কারণ, মুনাফা অস্থাবর সম্পত্তির পর্যায়ে। তাই মূলনীতি হিসাবে হস্তগত করার পূর্বে তার মালিকানা প্রদান নিষিদ্ধ হবে।
শাফেয়ী ফিক্হবিদদের বিশুদ্ধ উক্তি এবং হাম্বলী ফিক্হবিদগণের মাযহাব হলো, হস্তগত করার পূর্বে দান করা এবং ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা প্রদান জায়েয নেই। যে সকল পণ্যে হস্তগত করার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ সেগুলো নিয়ে ফিকহবিদগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিস্তারিত জানতে بيع পরিভাষা এবং بيع مالم يقبض আলোচনা দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
১৩. আতাসী রচিত শরহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ১৭২, ১৭৪; বাদায়েউস সানায়ে’, খ. ৫, পৃ. ১৮০; আল-জামালিয়্যা থেকে মুদ্রিত; কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৭৯; আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ১৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৯
১৪. আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৪৫৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া থেকে মুদ্রিত; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৯; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৪১; শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৭; আলামুল কুতুব থেকে মুদ্রিত
১৫. তাহজিবুল ফুরুক বিহামিশিল ফুরুক, খ. ১, পৃ. ১৯৩; কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৮৭
📄 উপকৃত হওয়ার অধিকার প্রদান
উপকৃত হওয়ার অধিকার প্রদান-এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে শুধু তার নিজেকে উপকৃত করার অনুমতি প্রদান করা। যেমন: কাউকে শিক্ষালয়ের হোস্টেল, অশ্বশালা, বৈঠকখানা, মসজিদ, বাজার ইত্যাদি স্থান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে। কেবল নিজেই সে এগুলোর দ্বারা উপকৃত হতে পারবে, তার জন্য নিষেধ হলো, ভাড়ায় প্রদান করা বা কোনো ধরনের বিনিময় পদ্ধতিতে মালিকানা প্রদান বা ওয়াকফকৃত গৃহে অন্য কাউকে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া ইত্যাদি। তাই এসব কোনো কিছু সে করতে পারবে না। বিস্তারিত জানতে ملك আলোচনা দ্রষ্টব্য
টিকাঃ
১৬. কারাফী রচিত আল-ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৮৭; তাহজিবুল ফুরুক বিহামিশিল ফুরুক, খ. ১, পৃ. ১৯৩; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যা, খ. ৬, পৃ. ২৯৯
📄 মুনাফার মালিকানা প্রদান
মুনাফার মালিকানা প্রদানের অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে স্বয়ং পূর্ণ মুনাফা ভোগের অনুমতি দেওয়ার সাথে সাথে অন্যকে উপকৃত করার সুযোগ প্রদানের অনুমতি দেওয়া। যেমন: ভাড়া প্রদান করা। সুতরাং যে ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নেবে তার জন্য সুযোগ আছে অন্যকে তা ভাড়ায় প্রদান করা অথবা বিনিময় ছাড়া বাস করতে দেওয়ার। রীতি ও প্রচলন অনুসারে মালিকগণ যেভাবে ব্যবহার করেন তদ্রূপ সেও এই মুনাফাকে ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে এটি হলো ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বিক মালিকানা প্রদান। যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়া গ্রহণ করবে সে উক্ত মেয়াদের আওতায় সার্বিক ভাবে মুনাফার মালিকানা লাভ করবে। উক্ত মেয়াদের মধ্যে মুনাফার আওতায় বৈধ সব ধরনের কাজ সে করতে পারবে যে পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ভিন্নতার দরুন মূল পণ্য (অর্থাৎ বাড়ি) প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এভাবে সাব্যস্ত হয়, মুনাফার মালিকানা প্রদান মূল বস্তুতে মালিকানা প্রদানের সমতুল্য। বিস্তারিত জানতে ملك দ্রষ্টব্য।