📄 তামাল্লুক (التَّمَلُّكُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
তামাল্লুক (تَمَلُّكُ) শব্দটি مُلْكٌ-এর ক্রিয়ামূল, যা مَلَكَ-এর অনুগত হয়ে আসে। যার মূল শব্দ হলো مَلَكَ (মালাকা) বলা হয়: مَلَكَ الشَّيْءَ “সে বস্তুটি স্বাধীনভাবে ব্যবহারের ক্ষমতাসহ তা আয়ত্ত করল।” مَلْكَهُ تَمْلِيكًا “সে তাকে মালিক বানিয়েছে।” تَمَلَّكَ الشَّيْءَ تَمَلُّكًا “সে জোরপূর্বক বস্তুর মালিক হয়েছে, সে তা দখল করেছে।”
পরিভাষায় মালিকানা হলো, ইচ্ছামতো ব্যবহার করার ক্ষমতা যা শুরু থেকেই শরীয়ত কর্তৃক সাব্যস্ত। শাফেয়ী ফিক্হবিদ ইবনে সুবকী মালিকানার সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: এমন একটি শরয়ী বিধান যা বস্তু বা মুনাফার ওপর সক্ষমতা প্রদান করে, যার চাহিদা হলো মালিক তা দ্বারা উপকৃত হতে পারবে। এবং তা এমন থাকা অবস্থায় তার বিনিময় নিতে পারবে।
আল্লামা জুরজানী রহ. এভাবে সংজ্ঞা প্রদান করেন: মালিকানা হলো মানুষ ও বস্তুর মাঝে এমন সম্পর্ক যা তার ইখতিয়ার মতো ব্যবহার করার স্বাধীনতা প্রদান করে, আর অন্যের ব্যবহারে সৃষ্টি করে অন্তরায়। সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলো শাব্দিক সংজ্ঞা থেকে ভিন্ন ও পৃথক হয় না।
টিকাঃ
১. মুখতারুস সিহাহ, লিসানুল আরব, আল-কামুসুল মুহীত, মূলবর্ণ ملك
২. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৫৬
৩. সুকৃতীর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩১৬
৪. জুরজানী রচিত আত্-তারিফাত, মূলবর্ণ ملك
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ক. الاخصاص (আল-ইখতিসাস): নির্দিষ্ট হওয়া
ইখতিসাস (الاختصاص) হলো اختص بالشيء (সে বস্তুর স্বাতন্ত্র্য লাভ করল)-এর মাসদার বা শব্দমূল। এটি তামাল্লুক (تَمَلُّكُ) (মালিকানা লাভ) থেকে ব্যাপক অর্থজ্ঞাপক।
খ. الْحِيَازَةُ (আল-হিয়াযাহ): যুক্তকরণ
হিয়াযাহ (الْحِيَازَةُ) হলো حَازَ এর ক্রিয়ামূল, আর তা হলো الضَّمُ (মিলানো)। যে নিজের সাথে কোনো বস্তু যুক্ত করল, সে মিলিয়ে নিল। ফিক্হবিদগণের মতে এটি মালিকানা লাভের একটি কারণ।
টিকাঃ
৫. মুখতারুস সিহাহ, মূল বর্ণ- হৌয
৬. সুয়ূতী রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩১৭; ইবনে নুজাইম রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৪১১
📄 তামাল্লুক বা মালিকানা লাভ-এর শরয়ী বিধান
বিষয়বস্তুর ভিন্নতার দরুন মালিকানার বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মালিকানা লাভের কারণসমূহের শরীয়ত সম্মত হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হওয়া ইত্যাদি হিসেবে যেমন বিশুদ্ধ, অশুদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ মালিকানা ইত্যাদি আরোপিত বিধান কার্যকর হয়, তেমনি শরয়ী বিধান ফরয ও ওয়াজিব ইত্যাদির বিধানও জারি হয়।
📄 মালিকানা লাভের শর্ত ও কারণসমূহ
মালিকানা লাভ হলো মানুষের বৈশিষ্ট্য। মানুষ ছাড়া অন্য কিছুতে মালিকানা লাভের যোগ্যতা নেই।
মালিকানা শুদ্ধ হওয়ার জন্য মৌলিক দুটি শর্ত রয়েছে।
ক. মালিকানার যোগ্য হওয়া।
খ. মালিকানা লাভে প্রতিবন্ধকতা না থাকা।
মালিকানা লাভের বিভিন্ন কারণ বা উপকরণ রয়েছে। যথা: বিনিময় ও লেনদেন জাতীয় চুক্তি (যেমন ক্রয়-বিক্রয়), উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ প্রাপ্তি, দান, অনুদান, অসিয়তকৃত সম্পদ বা ওয়াকফকৃত সম্পদ হাতে আসা, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ প্রাপ্তি, বৈধ বস্তু আয়ত্তকরণ, অনাবাদ ভূমি আবাদকরণ, শর্ত সাপেক্ষে রাস্তায় পাওয়া বস্তুর মালিক হওয়া, মৃত ব্যক্তির রক্তপণ বা গর্ভস্থ ভ্রূণের রক্তপণ গ্রহণ, অপহৃত সম্পদের ক্ষতিপূরণ প্রদান—যদি অপহরণকারীর সম্পদের সাথে তা মিশিয়ে ফেলার পর তা পৃথক করা অসম্ভব হয়, যার ফলে অপহরণকারী উক্ত সম্পদের মালিক হয় এবং তার দায়িত্বে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান ওয়াজিব হয়।