📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 রাষ্ট্র কর্তৃক মালিকানা হরণের সীমা

📄 রাষ্ট্র কর্তৃক মালিকানা হরণের সীমা


জনস্বার্থে রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যক্তির মালিকানা হরণের অধিকার আছে। ইবনে হাজার হাইছামী রহ. বলেন, আলেমগণ একমত পোষণ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তির নিকট খাদ্যশস্য থাকে এবং মানুষের তা সংগ্রহ করা আবশ্যক হয় তাহলে অসুবিধা দূরকরণার্থে তাকে তা বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে। এর বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : জনস্বার্থে বিশেষ মালিকানায় ভূমির মালিকানা নিয়ে নেওয়া

📄 প্রথম : জনস্বার্থে বিশেষ মালিকানায় ভূমির মালিকানা নিয়ে নেওয়া


ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো, যদি মসজিদে মানুষ সংকুলান না হয় তাহলে পার্শ্ববর্তী জমি বিশেষ মালিকানা হিসেবে নিয়ে তা সম্প্রসারণ করা জায়েয। এমনিভাবে যদি পাবলিক রাস্তা তৈরি করা অথবা তা সম্প্রসারণ করা ইত্যাদি প্রয়োজন হয়, তাহলে এমনটি করা জায়েয হবে। তবে অবশ্যই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক কর্তৃক নির্ধারিত ন্যায়সঙ্গত বিনিময় দিতে হবে।

মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়‍্যা-এর ভাষ্য হলো, প্রয়োজনে মূল্যের বিনিময়ে বাদশার নির্দেশে যে কারো মালিকানা হরণ করে রাস্তার সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে মূল্য পরিশোধ করা পর্যন্ত তার দখল থেকে নিয়ে নিতে পারবে না। কারণ সাহাবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, যখন মসজিদে হারামের স্থান সংকট হলো তখন তারা মূল্যের বিনিময়ে ভূমির মালিকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের ভূমি নিয়ে নেন এবং মসজিদে হারাম সম্প্রসারণ করেন। উসমান রা.-এর মাধ্যমেও মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ হয়েছে।

টিকাঃ
৫৬. ধারা: ১২১৬, আল-বাহজা শরহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ৭৬; দ্রষ্টব্য আতাসী রচিত শরহু মাজাল্লাতিল আহকামিল আদলিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ১৫৮
৫৭. ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৭৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৩; মুখতাসারুল মুযানী, খ. ২, পৃ. ৩০৯; আত-তুরুকুল হুকমিয়‍্যা, পৃ. ২৫৯, মাওয়ারদী রচিত আল-আহকামুস সুলতানিয়া, পৃ. ২৪৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তিস্বার্থের জন্য মালিকানা হরণ

📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তিস্বার্থের জন্য মালিকানা হরণ


ফিকহবিদগণের মাযহাব হলো, যদি একের ব্যক্তিস্বার্থ অন্যের ব্যক্তিস্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে বিবেচনায় যে শক্তিশালী এবং যাকে দেওয়ার মাধ্যমে ফেতনা দূর করা যাবে সে অগ্রাধিকার পাবে। এই ভিত্তিতে শরীয়ত কারো মালিকানার স্বার্থে অপর কারো মালিকানা হরণ করা বা জোরপূর্বক মালিকানা লাভ করার অনুমতি প্রদান করেছে, যা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে:

ক. শুফআহ (বা অগ্রক্রয়ের অধিকার)
শুফআর শাব্দিক অর্থ মিলানো, যুক্ত করা। শরীয়তের পরিভাষায় শুফআহ হলো,

تَمْلِيكُ البَقْعَةِ حَبْرًا عَلَى الْمُشْتَرِي بِمَا قَامَ عَلَيْهِ بِمِثْلِهِ إِذَا كَانَ مِثْلِيًّا ، وَإِلَّا فَبِقِيمَتِهِ

“ক্রেতা যেরূপ বস্তুর বিনিময়ে অথবা যে মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করেছে সেরূপ বস্তু বা মূল্যের বিনিময়ে ক্রেতার বিপরীতে বল প্রয়োগে অপর কাউকে ভূমির মালিক বানানো।”

সর্বসম্মতভাবে ভূমির অংশীদারের জন্য এবং মতভেদসহ প্রতিবেশীর জন্য শুফআ সাব্যস্ত হবে। অধিকাংশ ফিক্‌হবিদ (মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের) ফকীহদের মত হলো, প্রতিবেশীর জন্য শুফআ সাব্যস্ত হবে না। অপরদিকে হানাফী ফিক্‌হবিদগণের মতে যে নিকট প্রতিবেশীর জমি বিক্রিত জমির সাথে সংযুক্ত তার জন্য শুফআ সাব্যস্ত হবে। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা شفعة দ্রষ্টব্য।

খ. ঋণদাতার স্বার্থে জোরপূর্বক ঋণ গ্রহণকারীর সম্পদ বিক্রি করা
আবু হানিফা রহ. ছাড়া সকল ফিক্‌হবিদ পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণ গ্রহণকারীর সম্পদ বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন—যদি তার সম্পদ থাকে। যদি পাওনাদাররা দাবি করে তাহলে বিচারক তা বাজেয়াপ্ত করতে পারে। অতঃপর বিচারক তার সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারদের অংশ অনুযায়ী তাদের মাঝে তা বণ্টন করবে—যদি ঋণ গ্রহণকারী নিজে বিক্রি করতে রাজি না হয়। এই বিধান সকল ঋণে কার্যকর হবে। তা কর্জ বাবদ ঋণ হোক কিংবা কেনাবেচা বাবত ঋণ হোক, ভরণপোষণের ঋণ হোক বা মুক্তিপণের ঋণ কিংবা বিনিময়ের ঋণ হোক।

গ. ঋণ পরিশোধের জন্য বন্ধকী বস্তু বিক্রি করা
ঋণ পরিশোধের জন্য অথবা বন্ধকী বস্তু বিক্রির জন্য শাসক বন্ধকদাতাকে বাধ্য করতে পারবে। যদি সে অস্বীকার করে তাহলে সকল ফিকবিদের মতে শাসক তা বিক্রি করে দিতে পারবে। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা رَهْنٌ দ্রষ্টব্য।

ঘ. যে সকল বস্তু বণ্টন করা যায় না অথবা বণ্টনে ক্ষতি হয়
এমন বস্তু যা বণ্টন করা যায় না, অথবা বণ্টনে ক্ষতি হয়; তার দুই অংশীদারের একজন যদি বিক্রি দাবি করে এবং অপরজন বিক্রিতে অসম্মত থাকে, তাহলে অস্বীকারকারীকে শাসক বিক্রি করতে বাধ্য করার অধিকার রাখে। যদি সে বিক্রি না করে তাহলে আবেদনকারীর ক্ষতি দূর করার জন্য শাসক তার অংশীদারের পক্ষ থেকে বিক্রি করবে। কারণ যে বিক্রি করতে চাইছে সে এককভাবে তার অংশ বিক্রি করলে তার মূল্য কমে যাবে। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা قسمة দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
৫৮. হাশিয়া ইবনে আবেদীন আলাদ দুররিল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ১৩৭
৫৯. তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীরসহ শরহুল ইনায়া আলাল হিদায়া, খ. ৭, পৃ. ৪০৬-৪০৮; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৮, পৃ. ১৪৩; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৫, পৃ. ১৩৭; হাশিয়া দুসুকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৪৭৩; হাশিয়া আল-আদাভী, খ. ২, পৃ. ২২৯; আল-উম্ম, খ. ৩, পৃ. ২৩১; ফাতহুল আযীয, খ. ১১, পৃ. ৩৬৪-৩৮২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৯৭; আল-গায়াতুল কাসওয়া, খ. ২, পৃ. ৫৯৭; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩০৮
৬০. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৬, পৃ. ১৪৭; বাদায়েউস সানায়ে’, খ. ৯, পৃ. ৪৪৭২; আশ-শারহুল কাবীর, হাশিয়া দুসূকী সহ, খ. ৩, পৃ. ২৬৪; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৮৪; আর-রওযা, খ. ৪, পৃ. ১২৭; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১১৯; ইবনে কুদামাকৃত আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৫৩; আর-রাওযুল মুরবি, খ. ৫, পৃ. ১৬২
৬১. ইবনে রাজাব কৃত আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৩২-৩৩; তাবসিরাতুল হুককাম, খ. ২, পৃ. ২১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00