📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় : মালিকানা লাভের অধিকারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রদত্ত শর্তাবলি

📄 দ্বিতীয় : মালিকানা লাভের অধিকারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রদত্ত শর্তাবলি


নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এর আওতাভুক্ত।

ক. অনাবাদ ভূমি আবাদকরণ
রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ছাড়া শুধু অনাবাদ ভূমি আবাদ করার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা লাভ হবে কি? অথবা উক্ত ভূমির মালিক হওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি শর্ত, ফিক্‌হবিদগণ এ বিষয় নিয়ে মতভেদ করেছেন। শাফেয়ী ফকীহগণ, হাম্বলী ফিক্‌হবিদগণ এবং হানাফী ফকীহ্‌দের মধ্যে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মত হলো, ভূমি আবাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি শর্ত নয়। আবু হানিফা রহ. এবং মালেকী ফিক্‌হবিদগণ তাদের বিরোধিতা করেন। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: পরিভাষা إِحْيَاءُ الْمَوَاتِ

খ. খনির মালিকানা লাভ
মালেকী ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো, সকল খনির মালিকানা রাষ্ট্রের তথা সকল মুসলিমের, খনিজ দ্রব্য ঘন হোক কিংবা তরল, খনি প্রকাশিত হোক কিংবা ভূগর্ভের ভিতরে থাকুক, বিশেষ মালিকানাধীন ভূমিতে হোক কিংবা মালিকানাহীন ভূমিতে হোক। রাষ্ট্র তা নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়া দেওয়া কিংবা মালিক বানিয়ে জায়গির হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া ইত্যাদি জনকল্যাণ মূলক যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
অনাবাদ ভূমিতে প্রকাশ্য খনি আবিষ্কৃত হলে হানাফী, শাফেয়ী এবং হাম্বলী ফিক্‌হবিদগণের নিকট বিষয়টি অনুরূপ, তাতে রাষ্ট্রের মালিকানা হবে। তাদের মতানুসারে অনাবাদ ভূমি আবাদ করার দ্বারাই মালিকানা সাব্যস্ত হবে না। কারণ এর দ্বারা সাধারণ মুসলিমের ক্ষতি সাধিত হবে। অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য ভূগর্ভের ভিতরের খনির ক্ষেত্রেও। শাফেয়ী মাযহাবের প্রাধান্য পাওয়া মতানুসারে এবং হাম্বলী ফকীহগণের দুই বর্ণনার যেটি অধিক প্রকাশিত সেটি অনুসারে, অনাবাদ ভূমি আবাদ করার দ্বারাই মালিকানা লাভ হয় না। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা إحياء الْمَوَاتِ দ্রষ্টব্য।

গ. সীমা/আইল
সীমানা নির্ধারণ করা অর্থাৎ আইল দেওয়া অনাবাদ ভূমি আবাদ করার জন্য শর্ত। সকল ফিক্‌হবিদ: হানাফী, মালেকী, হাম্বলী এবং শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধ মাযহাব হলো, রাসূল সা. ছাড়া অন্য মুসলিম নেতৃবৃন্দের নিজেদের জন্য কোনো ভূমি সংরক্ষিত করার অধিকার নেই। তবে তারা এমন কিছু স্থান সংরক্ষিত রাখতে পারবে যেখানে মুসলিম যোদ্ধাদের ঘোড়া, কর হিসেবে প্রাপ্ত পশু, যাকাতের উট এবং মানুষের হারানো পশু বিচরণ করবে এভাবে, যেন তাতে অন্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ চারণভূমি কল্যাণের সাথে শর্তযুক্ত। তাই তাতে সম্প্রসারণ জায়েয হবে না। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা إِحْيَاءُ الْمَوَاتِ وَحَمّى দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
৫৪. ইবনে রুশদ রচিত আল-মুকাদ্দামাতুল মুমাহহাদাত, খ. ১, পৃ. ২২৫; হাশিয়া দুসূকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ১, পৃ. ৪৮৬; বুলগাতুস সালেক, খ. ১, পৃ. ২২৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তৃতীয় : মালিকানা নিয়ন্ত্রণের অধিকারে দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রতি প্রদত্ত শর্তাবলি

📄 তৃতীয় : মালিকানা নিয়ন্ত্রণের অধিকারে দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রতি প্রদত্ত শর্তাবলি


ক্ষতিসাধন এবং ক্ষতিসাধনের প্রতিশোধ ছাড়া জনস্বার্থের চাহিদা অনুসারে মালিকের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তির অধিকার রয়েছে। আগত বিষয়গুলোতে এটি প্রতীয়মান হবে।

ক. মূল্য নির্ধারণ (التسعير)
মূল্য নির্ধারণের অর্থ, বাদশাহ কিংবা তার প্রতিনিধি মানুষের জন্য মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং তাদেরকে তার নির্দিষ্ট করা মূল্যে ক্রয়বিক্রয় করতে বাধ্য করা। ফিক্‌হবিদগণ এ কথায় একমত যে, মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিধান হলো, তা হারাম। তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তা জায়েয। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা تسعير দ্রষ্টব্য।

খ. কুক্ষিগতকরণ ও মজুতদারি (الاختكار)
মজুতদারি হলো খাদ্যশস্য এবং এ জাতীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখা। ফিক্‌হবিদগণ একমত, তারা যে সব শর্ত বিবেচনা করেছেন সে সব শর্ত অনুযায়ী মজুতদারি নিষিদ্ধ। কারণ, এতে মানুষের ক্ষতি করা হয় এবং তাদেরকে কষ্টে ও সংকীর্ণতায় রাখা হয়। এবং তারা এ কথাতেও একমত হয়েছেন যে, শাসক মজুতদারকে মজুদকৃত পণ্য বাজারে উঠানোর এবং মানুষের কাছে বিক্রি করার জন্য আদেশ করবেন। বিস্তারিত জানার জন্য পরিভাষা احتكار দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
৫৫. আয-যাওয়াজির, খ. ১, পৃ. ১৮৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 রাষ্ট্র কর্তৃক মালিকানা হরণের সীমা

📄 রাষ্ট্র কর্তৃক মালিকানা হরণের সীমা


জনস্বার্থে রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যক্তির মালিকানা হরণের অধিকার আছে। ইবনে হাজার হাইছামী রহ. বলেন, আলেমগণ একমত পোষণ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তির নিকট খাদ্যশস্য থাকে এবং মানুষের তা সংগ্রহ করা আবশ্যক হয় তাহলে অসুবিধা দূরকরণার্থে তাকে তা বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে। এর বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : জনস্বার্থে বিশেষ মালিকানায় ভূমির মালিকানা নিয়ে নেওয়া

📄 প্রথম : জনস্বার্থে বিশেষ মালিকানায় ভূমির মালিকানা নিয়ে নেওয়া


ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো, যদি মসজিদে মানুষ সংকুলান না হয় তাহলে পার্শ্ববর্তী জমি বিশেষ মালিকানা হিসেবে নিয়ে তা সম্প্রসারণ করা জায়েয। এমনিভাবে যদি পাবলিক রাস্তা তৈরি করা অথবা তা সম্প্রসারণ করা ইত্যাদি প্রয়োজন হয়, তাহলে এমনটি করা জায়েয হবে। তবে অবশ্যই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক কর্তৃক নির্ধারিত ন্যায়সঙ্গত বিনিময় দিতে হবে।

মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়‍্যা-এর ভাষ্য হলো, প্রয়োজনে মূল্যের বিনিময়ে বাদশার নির্দেশে যে কারো মালিকানা হরণ করে রাস্তার সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে মূল্য পরিশোধ করা পর্যন্ত তার দখল থেকে নিয়ে নিতে পারবে না। কারণ সাহাবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, যখন মসজিদে হারামের স্থান সংকট হলো তখন তারা মূল্যের বিনিময়ে ভূমির মালিকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের ভূমি নিয়ে নেন এবং মসজিদে হারাম সম্প্রসারণ করেন। উসমান রা.-এর মাধ্যমেও মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ হয়েছে।

টিকাঃ
৫৬. ধারা: ১২১৬, আল-বাহজা শরহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ৭৬; দ্রষ্টব্য আতাসী রচিত শরহু মাজাল্লাতিল আহকামিল আদলিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ১৫৮
৫৭. ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৭৯; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ২৫৩; মুখতাসারুল মুযানী, খ. ২, পৃ. ৩০৯; আত-তুরুকুল হুকমিয়‍্যা, পৃ. ২৫৯, মাওয়ারদী রচিত আল-আহকামুস সুলতানিয়া, পৃ. ২৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00