📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মিলক (الْمُلْكُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

📄 মিলক (الْمُلْكُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ


শাব্দিক ভাবে মিল্ক (الْمُلْكُ) শব্দটি মীম অক্ষরে যবর, যের এবং পেশ সহকারে পড়া যায়। এর অর্থ হলো, কোন বস্তুর অধিকারী হওয়া এবং একক কর্তৃত্বে স্বতন্ত্রভাবে তা ব্যবহারে সক্ষম হওয়া।

পরিভাষাগত ভাবে: আধুনিক ফিক্‌হবিদগণ মিলকিয়‍্যাহ (الْمُلْكِيَّةُ) শব্দ দ্বারা মালিকানা অর্থ প্রকাশ করেন, যা পূর্ববর্তী ফিকহবিদগণ মিলক (الْمُلْكُ) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেছেন।

ইমাম কারাফী রহ. মালিকানা শরীয়তের একটি বিধান হওয়ার বিবেচনা করে এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন: মালিকানা হলো শরীয়তের একটি বিধান, যা বস্তু বা মুনাফার মধ্যে সীমিত। যার চাহিদা হলো তাকে যার সাথে সম্পৃক্ত করা হয় তার মালিকানাধীন বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়ার অথবা তার ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জিত হয়।

আল্লামা ইবনুশ্ শাত বলেন: মালিকানা হলো শরীয়তসম্মত উপায়ে মানুষ নিজের অথবা কারও পক্ষ থেকে বস্তু বা মুনাফা দ্বারা উপকৃত হওয়া বা বিনিময় গ্রহণ করা অথবা বিশেষভাবে উপকৃত হতে সক্ষম হওয়া।

টিকাঃ
১. লিসানুল আরব, আল-কামুসুল মুহীত, আল-মিসবাহুল মুনীর ملك-مادة
২. আল-ফুরুক, খ. ৩, পৃ. ২০৯
৩. আল-ফুরুকের টীকা: ইদরারুশ শুরুক আলা আনওয়াইল ফুরুক, খ. ৩, পৃ. ২০৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ

📄 সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ


الْحَقُّ (আল-হক): সত্য, ন্যায়, অধিকার
এ শব্দটি الْبَاطِلُ (অন্যায়)-এর বিপরীত শব্দরূপে ব্যবহৃত হয়। আরো ব্যবহৃত হয় অংশ, হিস্যা, স্থির, বিদ্যমান এবং অনস্বীকার্য অর্থে। পরিভাষায় ‘হক’ শব্দটি এমন একটি সুদৃঢ় অধিকারের জন্য ব্যবহৃত হয় যা আল্লাহর অধিকার এবং মানুষের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। অধিকার ও মালিকানার মধ্যে সম্পর্ক হলো, মালিকানার তুলনায় অধিকার ব্যাপকার্থ জ্ঞাপক।

টিকাঃ
৪. আল-কামুসুল মুহীত, লিসানুল আরব, আল-মিসবাহুল মুনীর
৫. বৈরুতের দারুল মারেফা কর্তৃক প্রকাশিত শাতেবী রচিত আল-মুওয়াফাকাত, খ. ২, পৃ. ২১৮-২১৯; আল-হালবী কর্তৃক প্রকাশিত তাইসিরুত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১৭৫; দারুল কিতাবিল আরাবি কর্তৃক মুদ্রিত কাশফুল আসরার, খ. ৪, পৃ. ১৩৬; আল হালবী কর্তৃক মুদ্রিত শারহুত তালবীহ, খ. ২, পৃ. ১৪০; আল-কুল্লিয়‍্যাতুল আযহারিয়‍্যা কর্তৃক মুদ্রিত কাওয়াইদু ইবনে রজব, পৃ. ১৮৮-১৯৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মালিকানার সাথে সম্পর্কিত বিধানসমূহ

📄 মালিকানার সাথে সম্পর্কিত বিধানসমূহ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইসলামে মালিকানার মর্যাদা

📄 ইসলামে মালিকানার মর্যাদা


ইসলাম মালিকানা রক্ষা করেছে, তাই মালিকানায় সীমালঙ্ঘন করা অবৈধ সাব্যস্ত করেছে। এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণ হলো আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِل
“তোমরা পরস্পর অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করো না।”
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِل
“হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করো না।”

রাসূলুল্লাহ স.-এর হাদীস:
إِنْ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ
“তোমাদের একের জান, মাল ও সম্মান তোমাদের অপরের জন্য হারাম।”

তিনি আরো বলেন:
أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنْ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ
“আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদেশ করা হয়েছে, যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে। তারা যদি উক্ত কার্যসমূহ সম্পাদন করে তাহলে তারা আমার থেকে তাদের প্রাণের ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে ইসলামের অধিকারের ব্যাপারটি ব্যতিক্রম; তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে হবে।”

ইমামুল হারামাইন বলেন, গ্রহণযোগ্য সূত্র হলো, মালিকগণ স্বীয় মালিকানায় স্বতন্ত্র অধিকারী। তাই যথাযথ অধিকার ছাড়া মালিক হিসেবে অন্য কেউ তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। প্রয়োজনের তাগিদে সম্পদের মালিকগণ তাতে বিনিময় করে থাকেন। সুতরাং অধিকার ছাড়া অন্যের সম্পদ দখল, আধিপত্য বিস্তার বা হস্তক্ষেপ হারাম, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: ‘ব্যক্তি তার সন্তান, পিতা এবং সকল মানুষের তুলনায় স্বীয় সম্পদের বেশি অধিকার রাখে।’

ইসলাম সম্পদের মালিকানা লাভ করাকে (আল্লাহর) প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিপালকের দানরূপে সাব্যস্ত করেছে। কারণ, সম্পদের প্রকৃত মালিক হলেন মহান আল্লাহ তাআলা। তবে তিনি মানুষকে মালিকানার অধিকার লাভ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং সম্পদে তাকে প্রতিনিধি সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ
“তিনি তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন তা থেকে খরচ করো।”

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَأَتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ
“তিনি তোমাদেরকে যে সম্পদ দান করেছেন তোমরা তা থেকে প্রদান করো”।

উপরিউক্ত অর্থের সমর্থনে অনেক আয়াত রয়েছে। আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তোমাদের সামনে বিদ্যমান সম্পদসমূহ সৃষ্টিগতভাবে আল্লাহর সম্পদ। তিনি তোমাদেরকে কেবল তা ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তিনি তোমাদেরকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রতিনিধি বানিয়েছেন। তাই এই সকল সম্পদ প্রকৃতপক্ষে তোমাদের সম্পদ নয়। সম্পদে তোমাদের রয়েছে প্রতিনিধির অবস্থান। তাই মহান আল্লাহ সম্পদের মধ্যে ফকীর, মিসকিন, আত্মীয়স্বজন প্রমুখের জন্য অনেক অধিকার ফরয করেছেন।

টিকাঃ
৬. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮
৭. সূরা নিসা, আয়াত: ২৯
৮. হাদীস: বুখারী, (বরাত ফাতহুল বারী, খ. ১০, পৃ. ৭-৮), মুসলিম (খ. ৩, পৃ. ১৩০৫-১৩০৬) যা আবি বকরা রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের একাংশ।
৯. হাদীস: বুখারী, (বরাত ফাতহুল বারী, খ. ১, পৃ. ৭৫) যা ইবনে উমর রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের একাংশ।
১০. ইমামুল হরামাইন রচিত আল-গায়াছা, পৃ. ৪৯৪-৪৯৫, তাহকীক: আব্দুল আজিম আদদীব, কাতার
১১. মাজমুউল ফাতাওয়া, খ. ২৯, পৃ. ১৮৯; রিয়াদ
১২. সূরা হাদীদ, আয়াত ৭
১৩. সূরা নূর, আয়াত ৩৩
১৪. তাফসীরুল কাশশাফ, খ. ৪, পৃ. ৬১ আল্লামা যামখশারী কর্তৃক রচিত, প্রকাশক: মুস্তফা হালবী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00