📄 নাসা (النَّسَاءُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
নাসা (النِّسَاءُ) অর্থ বিলম্ব করা। বলা হয় : نَسَا اللهُ أَجَلَهُ “আল্লাহ তার মৃত্যু বিলম্বিত করুন।” বাবে থেকে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যখন আল্লাহ মৃত্যু বিলম্বিত করেন, বলা হয় : فِى أَجَلِهِ نَسَأَ اللهُ وَأَنْسَأَ فِيْهِ “আল্লাহ তার মৃত্যু বিলম্বিত করেছেন।” নাসা-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কোনো পার্থক্য নেই।
টিকাঃ
১. আল-মিসবাহুল মুনীর, আল কামুস, ইবনে আরাবী রচিত আহকামুল কুরআন, খ. ২, পৃ. ৫০১, মুদ্রণ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
نقد (আন-নাব্দ) : নগদ
নাব্দ (نَقْدٌ)-এর আভিধানিক অর্থ হলো দিরহামে বাছাই করে তা থেকে খাঁদ/ভেজাল মুদ্রা বের করে ফেলা, দিরহাম হস্তগত করা, গ্রহণ করা, দান করা। এ শব্দটি বাকির বিপরীত। বলা হয়ে থাকে : نَقَدْتُ لَهُ الدَّرَاهِمَ ثَمَنَ الْمَبِيعِ : أَعْطَيْتُهُ حَالاً فَانْتَقَدَهَا “আমি তাকে পণ্যের মূল্যে নগদ দিরহাম প্রদান করেছি, অতঃপর সে তা হস্তগত করেছে।”
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা.-এর উট সম্পর্কীয় হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন : فَتَقَدَنِي ثَمَنَهُ অর্থাৎ তিনি আমাকে তার নগদ মূল্য প্রদান করেছেন। পরিভাষায় নাদ হচ্ছে স্বর্ণ ও রৌপ্য। সেই সাথে এটি বাকির বিপরীত। নাসা শব্দটি বাকি অর্থে নাব্দ (নগদ)- এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
টিকাঃ
২. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২১
৩. লিসানুল আরব, আল-মিসবাহুল মুনীর
৪. জাবের রা.-এর হাদীসটি ইমাম বুখারী (ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৩১৪ মুদ্রণ: সালাফিয়া) ও মুসলিমে (খ. ৩, পৃ. ১২২১, প্রকাশক: ইসা আল-হালাবী) উদ্ধৃত হয়েছে
৫. লিসানুল আরব; আমীমুল ইহসান বরকতী রচিত কাওয়াইদুল ফিকহ
📄 বাকি (النَّسَاءُ)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 চুক্তিসমূহে বাকি
ফকীহদের এ কথায় কোনো মতভেদ নেই, যেসব চুক্তিতে দুই বিনিময়ের পরিমাণে পার্থক্য করা হারাম, সেসব চুক্তির মধ্যে বাকি লেনদেনও হারাম এবং হস্তগত করার পূর্বে ক্রেতা-বিক্রেতা পৃথক হওয়াও হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন : عينا بعين এবং يَدًا بِيَدِ অর্থাৎ নগদ বস্তুর নগদ বিক্রি হতে হবে। দ্বিতীয়ত বাকি হারাম হওয়ার বিষয়টি অতি জোড়ালো। যেহেতু কম-বেশি করে বিক্রি করাই হারাম, সেহেতু বাকিতে বিক্রি হারাম না হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। দুই শ্রেণির পণ্যের ক্ষেত্রে নগদ বিক্রিতে কম-বেশি করা জায়েয, তবে বাকিতে তা জায়েয নয়।
দুই শ্রেণির পণ্যের মধ্যে কম-বেশি করে বিক্রি জায়েয, এক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন কেবল সাঈদ বিন জুবাইর রা.। তিনি বলেন, যে দুই বস্তুর উপকার কাছাকাছি সেই দুই বস্তুর মধ্যে নগদ বা বাকি কোনো ভাবেই কম-বেশি করে বিক্রি জায়েয নয়। সাঈদ বিন জুবাইরের উক্তিকে নিম্নের হাদীস প্রত্যাখ্যান করে। হাদীস হলো:
بِيعُوا الذَهَبَ بِالْفِضَّةِ كَيْفَ شِدَمْ يَدًا بِيَد ، وبِيعُوا الْبُرَ بِالدَمْرِ كَيْفَ شِئْدَمْ يَدًا بِيَدِ ، وَبِيعُوا الشَّعِيرَ بِالأَمْرِ كَيْفَ شِدَمْ يَدًا بِيَدِ
“তোমরা রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ যেভাবে ইচ্ছা নগদ বিক্রি করো, খেজুরের বিনিময়ে গম যেভাবে ইচ্ছা নগদ বিক্রি করো এবং খেজুরের বিনিময়ে যব যেভাবে ইচ্ছা নগদ বিক্রি করো।”
আর বাকি লেনদেনের মাসআলায় যেই দুই শ্রেণির পণ্যের মধ্যে একটি ইল্লাত (কারণ) পাওয়া গেলেই সুদের বিধান কার্যকর হয়, যেমন পরিমাপযোগ্য পণ্যের বিনিময়ে পরিমাপযোগ্য পণ্য, আহারযোগ্য পণ্যের বিনিময়ে আহারযোগ্য পণ্য। যারা সুদের জন্যে একটি কারণই যথেষ্ট বলেন তাদের মতে এই দুই শ্রেণির একটিকে অপরটির বিনিময়ে বাকিতে বিক্রি করা কোনো মতভেদ ছাড়াই হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন: فَإِذَا اخْتَلَفَدْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِدَمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدِ “এসব শ্রেণির পণ্য ভিন্ন ভিন্ন হলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো- যদি তা নগদ হয়।”
অন্য এক বর্ণনায় এরূপ আছে:
لا بَأْسَ ببيع الذَّهَبِ بِالْفِضَّةِ وَالْفِضَةُ أَكْثَرُهُمَا : يَدًا بِيَدٍ ، وَأَمَّا نَسِيئَةٌ فَلَا ، وَلَا بَأْسَ بِبَيْعِ الْبُرِ بِالشَّعِيرِ والشعير أكثرهما يَدًا بَيَدَ ، وَأَمَّا نَسِيئَةً فَلَا
“রৌপ্যের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়া অবস্থায় রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ নগদ বিক্রিতে সমস্যা নেই। কিন্তু বাকি হলে তা বৈধ হবে না। আর যবের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়া অবস্থায় যবের বিনিময়ে গম নগদ বিক্রিতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাকি হলে তা বৈধ হবে না।”
তবে যদি দুটি বিনিময়ের একটি মূল্য হয় আর অপরটি হয় পণ্য, তাহলে কোনোরূপ মতভেদ ছাড়াই পণ্য বাকিতে বিক্রি করা যাবে। কারণ শরীয়তপ্রণেতা সালাম-বিক্রি (অর্থাৎ অগ্রিম মূল্য পরিশোধযোগ্য বিক্রি)-এর ব্যাপারে সুযোগ প্রদান করেছেন। আর মূলধনের মধ্যে মূল হচ্ছে দিরহাম ও দীনার। সুতরাং যদি সালাম-বিক্রির ক্ষেত্রে বাকি পরিশোধ করা হারাম করা হয়, তাহলে পরিমাণযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে সালাম বিক্রির পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য পরিভাষা, এবং তৎপরবর্তী পরিভাষা দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
৬. হাদীসটি উবাদা বিন সামেত রা. বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসের অংশ। ইমাম মুসলিম (খ. ৩, পৃ. ১২১০ প্রকাশক: ইসা হালাবী) কর্তৃক উদ্ধৃত।
৭. হাদীসটি আবু বাকরা নুফাই বিন হারেস রা.-এর, ইমাম মুসলিম (খ. ৩, পৃ. ১২১৩; ঈসা আল-হালবী) কর্তৃক উদ্ধৃত।
৮. হাদীসটির বর্ণনাকারী উবাদা বিন সামেত রা.। তিরমিযী, খ. ৩, পৃ. ৫৩২, প্রকাশক: হালাবী; সহীহ মুসলিম (খ. ৩, পৃ. ১২১১)
৯. হাদীসটি উবাদা বিন সামেতের বর্ণিত, মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১২১১, প্রকাশক: ইসা হালাবী
১০. হাদীসটি উবাদা বিন সামেতের বর্ণনায় ইমাম আবু দাউদ (খ. ৩, পৃ. ৬৪৬ মুদ্রণ: হিমস) কর্তৃক উদ্ধৃত
১১. ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১১; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪১১; তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৪, পৃ. ৮৭-৮৮; আল-কাওয়ানিনুল ফিক্হিয়্যা, পৃ. ১৬৬, মুদ্রণ দারুল কলম
১২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪১০