📄 তৃতীয়ত : নাকদ (النَّقْدُ)-এর অর্থ জাল মুদ্রা থেকে সঠিক মুদ্রা পৃথক করা
ব্যবসায়ী কর্তৃক মুদ্রা চেনা
ইমাম গাযালী রহ. ইহয়াউ উলুমিদ্দীন গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীর মুদ্রা চেনা আবশ্যক। এটি শিক্ষা করা, জানা নিজের জন্য নয়। বরং সে যেন নিজের অজান্তে মুসলিমের নিকট জাল মুদ্রা অর্পণ করা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। সুতরাং এই বিদ্যা অর্জনে অবহেলার কারণে পাপী হবে। কারণ, যে কোনো আমল শিক্ষা করার দ্বারা মুসলিমদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়ে থাকে, তা অর্জন করা আবশ্যক। এ সব কারণে পূর্ববর্তী মনীষীগণ মুদ্রার চিহ্নসমূহ শিক্ষা করতেন ধর্মের স্বার্থে, পার্থিব স্বার্থে নয়।
টিকাঃ
১৯. ইহয়াউ উলুমিদ্দীন, খ. ৪, পৃ. ৭৭৮; মুদ্রণ: দারুশ শায়াব
📄 মুদ্রা পরখকারীর পারিশ্রমিক
মূল্য ও মুদ্রা পরখকারীর পারিশ্রমিক কার দায়িত্বে থাকবে তা নিয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন:
মালেকী ফকীহগণের মাযহাব, যা হানাফী ফকীহগণের বিশুদ্ধ মত, তা হলো, এটি ক্রেতার দায়িত্বে থাকবে। হানাফী ফকীহগণের এ মতের ওপরই ফতোয়া। এবং এটি জাহির রেওয়ায়াতের ভাষ্য। কারণ সঠিক মুদ্রা মূল্য হিসাবে হস্তান্তর করা তার জন্য আবশ্যক। আর পরীক্ষা ব্যতীত ভালো হওয়ার বিষয়টি জানা সম্ভব না। যেমন পরিমাপের দ্বারা পরিমাণ জানা যায়। যদি হস্তগত করার পূর্বে পরখ করা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে উক্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে পণ্য হস্তগত করার পর হলে মুদ্রা পরীক্ষা করার খরচ বিক্রেতার ওপর ধার্য করা হবে।
আর শাফেয়ী ফকীহগণের মাযহাব হলো মুদ্রা পরীক্ষার খরচ বিক্রেতার ওপর আরোপিত হবে। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, মুদ্রা পরীক্ষার পারিশ্রমিক যে তা খরচ করবে তার ওপর আরোপিত হবে। সে বিক্রেতা হোক কিংবা ক্রেতা হোক। বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্রষ্টব্য: ثَمَن ও بَيْع
টিকাঃ
২০. শরহু ফাতহিল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১০৮; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫৬০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৩; শরহুল মুনতাহা, খ. ২, পৃ. ১৯১-১৯২; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ২৮; আশ-শারহুল কাবীর মায়া হাশিয়া আদ-দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ১৪৪