📄 অংশীদারী
অংশীদারী কারবারে কীমী সম্পদ পুঁজি হিসাবে বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। যেহেতু অন্য মূল্যধারী বস্তুর সাথে একে মিলানো সম্ভব নয়। যেহেতু এ কীমী বস্তু হচ্ছে স্বতন্ত্র সম্পদ। মিলানো যখন সম্ভব হবে না, তাতে অংশীদারী কারবার কি করে সম্ভব হবে? এমন হওয়া খুবই সম্ভব, কীমী বস্তুর কিছু বিনষ্ট হবে। তাহলে এই বিনষ্টে কীমী বস্তুর মালিক একা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাহলে আর অংশীদারী রইল কোথায়?
তা ছাড়া যদি অংশীদারী কারবার ভেঙ্গে দেওয়া হয় তাহলে কীমী বস্তুর মালিককে তার বিনিয়োগকৃত বস্তু বা তার সমতুল্য বস্তু ফিরিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কীমী বস্তুর অবর্তমানে যখন সমতুল্য বস্তু প্রদানের পালা, তখন সমতুল্য বস্তুও পাওয়া যাবে না, যেহেতু তা মিছলী নয়।
এ পর্যায়ে বলা যেতে পারে, সূচনাতেই কীমী বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করে তা বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু তা জায়েয নয় এজন্যে যে, বিনিয়োগকৃত এ কীমী বস্তুতে পরবর্তী সময়ে বিক্রির পূর্বেই মূল্য বৃদ্ধি পেলে তাতে অন্য জনও অংশীদার হবে। অথচ এটি বেচাকেনার সময় তার যে মূল্য হবে অংশীদারী চুক্তিকালে তার অস্তিত্ব ছিল না, তাই তাতে কারো মালিকানাও ছিল না।
এ হচ্ছে সামগ্রিকভাবে আলেম ও ফকীহদের অভিমত। অবশ্য তাতে মালেকী মাযহাবের আলেমদের মতপার্থক্য রয়েছে। তারা বলেন, যে কোনো মূল্যযুক্ত বস্তুতে অংশীদারী জায়েয, তা কোনো প্রাণী হোক বা বস্তু সামগ্রী। এ সবই মূল্য নির্ধারণ করার পর পুঁজি বলে সাব্যস্ত হবে। বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য : شركة
টিকাঃ
১৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৫৯; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১১৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৬; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩২০