📄 ছিনতাই ও অপহরণ এবং তার ক্ষতিপূরণ
সকল আলেম এ কথায় একমত, যদি কোনো লোক কারো কোনো বস্তু ছিনিয়ে নেয় তবে সে ব্যক্তিই ওই বস্তুর জিম্মাদার হবে। যদি বস্তুটি ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বে যেমন ছিল তেমন নিখুঁত থাকে, তাতে এমন কোনো ত্রুটি বা ক্ষতি সাধিত না হয়- যার দ্বারা বস্তুটির উপকার প্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটে- তবে হুবহু সে বস্তুটিই ফিরিয়ে দিতে হবে। এ সম্পর্কে সামুরা ইবনে জুনদুব রা. বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُوَدِّيَ "যে নেবে সে তা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এটি তার জিম্মায়ই থাকবে।”
যদি ছিনিয়ে নেওয়া বস্তুটি নিখুঁত অবস্থায় না থাকে অথবা ধ্বংস করে ফেলা হয় অথবা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তা কেমন বস্তু তা লক্ষ করতে হবে। যদি তা মিছলী হয় তাহলে অপহরণকারীকে সে বস্তুর সদৃশ বস্তুই ফিরিয়ে দিতে হবে। এ সম্পর্কিত দলিল মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ: فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ "তোমাদের ওপর কেউ যদি জুলুম ও নির্যাতন করে তবে তোমাদের ওপর সে যতটা নির্যাতন চালাবে তোমরা তার সাথে ঠিক তার বরাবর আচরণ করো।
তা ছাড়া সদৃশ বস্তু ফিরিয়ে দিলে তা একেবারে সে বস্তুটিই দেওয়ার তুল্য হয়; বস্তু হিসেবেও, মূল্য হিসেবেও। তাই তা দেওয়াই হবে মূল মালিকের জন্যে অধিক ক্ষতিরোধক। হেদায়া-এর গ্রন্থকার আল্লামা মারগীনানী সদৃশ বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনায় কারণ হিসেবে এর উল্লেখ করেছেন।
যদি মিছলী বস্তু যে কোনো কারণে সে ফিরিয়ে দিতে না পারে, তাহলে তাকে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন্ দিনের মূল্য ধার্য হবে তা নিয়ে- যেমনটা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে- বিতর্ক রয়েছে। সে হিসেবেই ভিন্ন ভিন্ন ফয়সালা ব্যক্ত করা হবে। যদি ছিনিয়ে নেওয়া বস্তুটি কীমী হয় তবে তো ছিনতাইকারীকে অবশ্যই মূল্য ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রেও কোন্ দিনের মূল্য গৃহীত হবে তা নিয়ে ফকীহদের নানা মত রয়েছে, যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য : ضَمَانٌ ؛ غَصْبٌ
টিকাঃ
২৫. তিরমিযী, খ. ৩, পৃ. ৫৫৭; হাদীসের বর্ণনাকারী সামুরা ইবনে জুনদুব রা.। তাঁর নিকট শুনেছেন হাসান বসরী রহ.। ইবনে হাজার কৃত আত-তালখীসুল হাবীর, খ. ৩, পৃ. ৫৩।
২৬. সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৪
২৭. আল-হিদায়া ও তাকমীলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৮, পৃ. ২৪৬
২৮. প্রাগুক্ত; আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যা, পৃ. ২১৬; আল-কালয়ুবী, খ. ২, পৃ. ২৫৯; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৩৭৬