📄 তাদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক কর্তৃক ভক্ষণ
ফিকহবিদগণের মাযহাব হলো যদি তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক- যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে- তারা দায়িত্ব পালন করার দরুন স্বীয় জীবিকা অর্জন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয় অথবা ভক্ষণ করার মতো কোনো সম্পদ তাদের হাতে না থাকে, তাহলে এতিমের সম্পদ থেকে গ্রহণযোগ্য পরিমাণ ভক্ষণ করা তাদের জন্য বৈধ হবে। আর যদি দুইজনের কেউ স্বীয় জীবিকা উপার্জন করা থেকে বিরত না থাকে অথবা তাদের হাতে ভক্ষণ করার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে তাদের জন্য মুস্তাহাব হলো, যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করছে তাদের সম্পদ থেকে ভক্ষণ না করা। আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের কারণে:
وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُل بِالْمَعْرُوفِ
"যে ধনী সে যেন পরিহার করে, আর যে গরীব সে যেন উত্তম পন্থায় ভক্ষণ করে।" বিস্তারিত বিবরণের জন্য وِلايَةٌ وَيَتِيمٌ দেখুন।
টিকাঃ
৪৭. তাফসিরুল কুরতুবী, খ. ৫, পৃ. ৪১-৪৪
৪৮. সূরা নিসা, আয়াত ৬
ফিকহবিদগণের মাযহাব হলো যদি তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক- যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে- তারা দায়িত্ব পালন করার দরুন স্বীয় জীবিকা অর্জন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয় অথবা ভক্ষণ করার মতো কোনো সম্পদ তাদের হাতে না থাকে, তাহলে এতিমের সম্পদ থেকে গ্রহণযোগ্য পরিমাণ ভক্ষণ করা তাদের জন্য বৈধ হবে। আর যদি দুইজনের কেউ স্বীয় জীবিকা উপার্জন করা থেকে বিরত না থাকে অথবা তাদের হাতে ভক্ষণ করার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে তাদের জন্য মুস্তাহাব হলো, যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করছে তাদের সম্পদ থেকে ভক্ষণ না করা। আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের কারণে:
وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُل بِالْمَعْرُوفِ
"যে ধনী সে যেন পরিহার করে, আর যে গরীব সে যেন উত্তম পন্থায় ভক্ষণ করে।" বিস্তারিত বিবরণের জন্য وِلايَةٌ وَيَتِيمٌ দেখুন।
টিকাঃ
৪৭. তাফসিরুল কুরতুবী, খ. ৫, পৃ. ৪১-৪৪
৪৮. সূরা নিসা, আয়াত ৬
📄 সম্পদ বৃদ্ধি ও সম্পদের উন্নয়ন
মালিকের এবং জাতির কল্যাণার্থে সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ইসলাম সম্পদের উন্নয়নকে শরীয়তসম্মত করেছে। সম্পদ সংরক্ষণ শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যবসা, কৃষি, শিল্প বা অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহপ্রদত্ত বিধানের গণ্ডির ভেতরে থেকে সম্পদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য اِحْيَاءُ দেখুন।
মালিকের এবং জাতির কল্যাণার্থে সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ইসলাম সম্পদের উন্নয়নকে শরীয়তসম্মত করেছে। সম্পদ সংরক্ষণ শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যবসা, কৃষি, শিল্প বা অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহপ্রদত্ত বিধানের গণ্ডির ভেতরে থেকে সম্পদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য اِحْيَاءُ দেখুন।
📄 সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকার
সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকার হয়তো আল্লাহর অধিকার হবে অথবা মানুষের অধিকার হবে।
মহান আল্লাহর অধিকার হলো যা জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত; কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং তা সকলের ওপর বর্তায়। এ ধরনের অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এই প্রকার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত: সম্পদের যাকাত, ঈদুল ফিতরের সদকা, কাফফারা, কৃষি ভূমির খারাজ ইত্যাদি।
মানুষের অধিকার হলো কতিপয় লোকের অন্যের ওপর আর্থিক অধিকার, যেমন : পণ্যের মূল্য, ঋণ, ভরণপোষণ ইত্যাদি। বিস্তারিত বিবরণের জন্য حَقٌّ পরিভাষা দেখুন।
সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকার হয়তো আল্লাহর অধিকার হবে অথবা মানুষের অধিকার হবে।
মহান আল্লাহর অধিকার হলো যা জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত; কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং তা সকলের ওপর বর্তায়। এ ধরনের অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এই প্রকার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত: সম্পদের যাকাত, ঈদুল ফিতরের সদকা, কাফফারা, কৃষি ভূমির খারাজ ইত্যাদি।
মানুষের অধিকার হলো কতিপয় লোকের অন্যের ওপর আর্থিক অধিকার, যেমন : পণ্যের মূল্য, ঋণ, ভরণপোষণ ইত্যাদি। বিস্তারিত বিবরণের জন্য حَقٌّ পরিভাষা দেখুন।
📄 বিভিন্ন সম্পদ : সুদী এবং অন্যান্য
সম্পদ দুই প্রকারে বিভক্ত:
ক. সুদী সম্পদ: ফিক্হবিদগণ ঐ ছয় প্রকার সম্পদ সুদী হওয়ার কথায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আবু সাঈদ খুদরী রা. কর্তৃক বর্ণিত রাসূল স.- এর হাদীসে যে ছয় প্রকারের উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ স. বলেন:
الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبَرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ ، مثلاً بمثْلٍ ، يَدًا يَدٍ ، فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَرَادَ فَقَدْ أَرْبَى ، الْأَخِذُ وَالْمُعْطِي فِيهِ سَوَاءً
"স্বর্ণ স্বর্ণের বিনিময়ে, রৌপ্য রৌপ্যের বিনিময়ে, গম গমের বিনিময়ে, খেজুর খেজুরের বিনিময়ে এবং লবণ লবণের বিনিময়ে সমান সমান করে বিক্রি হবে এবং নগদ বিক্রি হবে। সুতরাং যে লোক বাড়িয়ে দেয় অথবা বাড়িয়ে চায় সে সুদ লেনদেন করে। গ্রহীতা এবং দাতা এ ক্ষেত্রে সমান (পাপী)।"
ফিকহবিদগণ এই ছয় প্রকার ছাড়া অন্য বস্তুর ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণের জন্য ↳ পরিভাষা দেখুন।
খ. সুদবিহীন সম্পদ: হাদীসে বর্ণিত ছয় প্রকার এবং হারামের কারণ থাকার ভিত্তিতে ফিক্হবিদগণ এই ছয় প্রকারের সাথে আরো যা যোগ করেন সেগুলো ছাড়া অন্য সম্পদ। বিস্তারিত বিবরণের জন্য ↳ পরিভাষা দেখুন।
টিকাঃ
৪৯. মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ২১১, প্রকাশক: হালাবী
সম্পদ দুই প্রকারে বিভক্ত:
ক. সুদী সম্পদ: ফিক্হবিদগণ ঐ ছয় প্রকার সম্পদ সুদী হওয়ার কথায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আবু সাঈদ খুদরী রা. কর্তৃক বর্ণিত রাসূল স.- এর হাদীসে যে ছয় প্রকারের উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ স. বলেন:
الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبَرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ ، مثلاً بمثْلٍ ، يَدًا يَدٍ ، فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَرَادَ فَقَدْ أَرْبَى ، الْأَخِذُ وَالْمُعْطِي فِيهِ سَوَاءً
"স্বর্ণ স্বর্ণের বিনিময়ে, রৌপ্য রৌপ্যের বিনিময়ে, গম গমের বিনিময়ে, খেজুর খেজুরের বিনিময়ে এবং লবণ লবণের বিনিময়ে সমান সমান করে বিক্রি হবে এবং নগদ বিক্রি হবে। সুতরাং যে লোক বাড়িয়ে দেয় অথবা বাড়িয়ে চায় সে সুদ লেনদেন করে। গ্রহীতা এবং দাতা এ ক্ষেত্রে সমান (পাপী)।"
ফিকহবিদগণ এই ছয় প্রকার ছাড়া অন্য বস্তুর ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণের জন্য ↳ পরিভাষা দেখুন।
খ. সুদবিহীন সম্পদ: হাদীসে বর্ণিত ছয় প্রকার এবং হারামের কারণ থাকার ভিত্তিতে ফিক্হবিদগণ এই ছয় প্রকারের সাথে আরো যা যোগ করেন সেগুলো ছাড়া অন্য সম্পদ। বিস্তারিত বিবরণের জন্য ↳ পরিভাষা দেখুন।
টিকাঃ
৪৯. মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ২১১, প্রকাশক: হালাবী