📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শরীয়তে বারণকৃতদের নিকট সম্পদ সোপর্দকরণ

📄 শরীয়তে বারণকৃতদের নিকট সম্পদ সোপর্দকরণ


সকল ফিকহবিদের মাযহাব হলো ছোট শিশু বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে সম্পদ সোপর্দ করা যাবে না। এ সম্পর্কে দলিল ও প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ:
وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ "তোমরা ইয়াতিমদেরকে পরীক্ষা করো- যে পর্যন্ত তারা বিবাহের বয়সে উপনীত না হয়। যদি তোমরা তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা দেখতে পাও তবে তাদের নিকট তাদের সম্পদ সোপর্দ করো।"
ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেন: শিশু যদি সাবালক হওয়ার সাথে সাথে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হয় আর তার সম্পদ অসিয়তকৃত ব্যক্তি বা অভিভাবকের নিকট থাকে তাহলে তার সম্পদ তার নিকট সোপর্দ করা হবে। কিন্তু যদি শিশুটি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন না হয়ে সাবালক হয়, তাহলে পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা হবে না। যখন পঁচিশ বছরে উপনীত হবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা হবে এবং সে নিজ ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারবে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য رُشْدُ ও صَفْحَة অধ্যায় দেখুন।
সকল ফিকহবিদ-যারা নির্বোধ লোকের নিকট সম্পদ সোপর্দ করার পক্ষপাতী নন- তদের মাযহাব হলো, নির্বোধের মাঝে বুদ্ধিমত্তা পরিলক্ষিত হওয়ার পর তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা যাবে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য حَجْرٌ অধ্যায় দেখুন।

টিকাঃ
৪৪. সূরা নিসা, আয়াত ৬
৪৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৫, পৃ. ৫৬

সকল ফিকহবিদের মাযহাব হলো ছোট শিশু বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে সম্পদ সোপর্দ করা যাবে না। এ সম্পর্কে দলিল ও প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ:
وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ "তোমরা ইয়াতিমদেরকে পরীক্ষা করো- যে পর্যন্ত তারা বিবাহের বয়সে উপনীত না হয়। যদি তোমরা তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা দেখতে পাও তবে তাদের নিকট তাদের সম্পদ সোপর্দ করো।"
ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেন: শিশু যদি সাবালক হওয়ার সাথে সাথে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হয় আর তার সম্পদ অসিয়তকৃত ব্যক্তি বা অভিভাবকের নিকট থাকে তাহলে তার সম্পদ তার নিকট সোপর্দ করা হবে। কিন্তু যদি শিশুটি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন না হয়ে সাবালক হয়, তাহলে পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা হবে না। যখন পঁচিশ বছরে উপনীত হবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা হবে এবং সে নিজ ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারবে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য رُشْدُ ও صَفْحَة অধ্যায় দেখুন।
সকল ফিকহবিদ-যারা নির্বোধ লোকের নিকট সম্পদ সোপর্দ করার পক্ষপাতী নন- তদের মাযহাব হলো, নির্বোধের মাঝে বুদ্ধিমত্তা পরিলক্ষিত হওয়ার পর তার নিকট সম্পদ সোপর্দ করা যাবে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য حَجْرٌ অধ্যায় দেখুন।

টিকাঃ
৪৪. সূরা নিসা, আয়াত ৬
৪৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৫, পৃ. ৫৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সম্পদ উপার্জন

📄 সম্পদ উপার্জন


ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য এবং যাদের ভরণপোষণ ওয়াজিব তাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ উপার্জন করা ফরজ। যদি ফরজ পরিমাণের পর আর উপার্জন না করে তাহলে তার তা করার অবকাশ আছে। যদি নিজের এবং পরিবারের জন্য সঞ্চয় করার লক্ষ্যে উপার্জন করে তাহলে তারও অবকাশ আছে। গরীবের প্রতি সমবেদনা অথবা আত্মীয়স্বজনকে প্রতিদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফরজ পরিমাণের চেয়ে বেশি উপার্জন মুস্তাহাব। কারণ, নফল ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বনের চেয়ে অতিরিক্ত উপার্জন উত্তম। উপার্জনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যা كَسْبٌ পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
৪৬. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৫, পৃ. ৩৪৮; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৬, পৃ. ৩৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪৪৮

ফিক্‌হবিদগণের মাযহাব হলো নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য এবং যাদের ভরণপোষণ ওয়াজিব তাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ উপার্জন করা ফরজ। যদি ফরজ পরিমাণের পর আর উপার্জন না করে তাহলে তার তা করার অবকাশ আছে। যদি নিজের এবং পরিবারের জন্য সঞ্চয় করার লক্ষ্যে উপার্জন করে তাহলে তারও অবকাশ আছে। গরীবের প্রতি সমবেদনা অথবা আত্মীয়স্বজনকে প্রতিদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফরজ পরিমাণের চেয়ে বেশি উপার্জন মুস্তাহাব। কারণ, নফল ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বনের চেয়ে অতিরিক্ত উপার্জন উত্তম। উপার্জনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যা كَسْبٌ পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
৪৬. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৫, পৃ. ৩৪৮; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৬, পৃ. ৩৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪৪৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে

📄 যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে


📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তাদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক কর্তৃক ভক্ষণ

📄 তাদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক কর্তৃক ভক্ষণ


ফিকহবিদগণের মাযহাব হলো যদি তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক- যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে- তারা দায়িত্ব পালন করার দরুন স্বীয় জীবিকা অর্জন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয় অথবা ভক্ষণ করার মতো কোনো সম্পদ তাদের হাতে না থাকে, তাহলে এতিমের সম্পদ থেকে গ্রহণযোগ্য পরিমাণ ভক্ষণ করা তাদের জন্য বৈধ হবে। আর যদি দুইজনের কেউ স্বীয় জীবিকা উপার্জন করা থেকে বিরত না থাকে অথবা তাদের হাতে ভক্ষণ করার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে তাদের জন্য মুস্তাহাব হলো, যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করছে তাদের সম্পদ থেকে ভক্ষণ না করা। আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের কারণে:
وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُل بِالْمَعْرُوفِ
"যে ধনী সে যেন পরিহার করে, আর যে গরীব সে যেন উত্তম পন্থায় ভক্ষণ করে।" বিস্তারিত বিবরণের জন্য وِلايَةٌ وَيَتِيمٌ দেখুন।

টিকাঃ
৪৭. তাফসিরুল কুরতুবী, খ. ৫, পৃ. ৪১-৪৪
৪৮. সূরা নিসা, আয়াত ৬

ফিকহবিদগণের মাযহাব হলো যদি তত্ত্বাবধানকারী এবং অভিভাবক- যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব রয়েছে- তারা দায়িত্ব পালন করার দরুন স্বীয় জীবিকা অর্জন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয় অথবা ভক্ষণ করার মতো কোনো সম্পদ তাদের হাতে না থাকে, তাহলে এতিমের সম্পদ থেকে গ্রহণযোগ্য পরিমাণ ভক্ষণ করা তাদের জন্য বৈধ হবে। আর যদি দুইজনের কেউ স্বীয় জীবিকা উপার্জন করা থেকে বিরত না থাকে অথবা তাদের হাতে ভক্ষণ করার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে তাদের জন্য মুস্তাহাব হলো, যাদের তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করছে তাদের সম্পদ থেকে ভক্ষণ না করা। আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের কারণে:
وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُل بِالْمَعْرُوفِ
"যে ধনী সে যেন পরিহার করে, আর যে গরীব সে যেন উত্তম পন্থায় ভক্ষণ করে।" বিস্তারিত বিবরণের জন্য وِلايَةٌ وَيَتِيمٌ দেখুন।

টিকাঃ
৪৭. তাফসিরুল কুরতুবী, খ. ৫, পৃ. ৪১-৪৪
৪৮. সূরা নিসা, আয়াত ৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00