📄 চ. সম্পদ মালিকের নিকট ফিরে আসার দিক বিবেচনায়
ফিকহবিদগণ মালিকের হাতছাড়া হওয়ার পর পুনরায় তার নিকট ফিরে আসার (অর্থাৎ হস্তগত হওয়ার) সম্ভাবনার দিক থেকে সম্পদকে দুই প্রকারে বিভক্ত করেছেন।
১. (ফিরে পাওয়ার) সম্ভাবনাহীন সম্পদ (ضمار /যিমার); ২. (ফিরে পাওয়ার) সম্ভাবনাময় সম্পদ (مرجو/মারয়)। সম্ভাবনাহীন সম্পদ হলো যার মালিক উক্ত সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার কারণে এবং তা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাহত হওয়ার কারণে তাতে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন করতে পারে না। ضمار (অর্থাৎ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাহীন) শব্দটির মূল হলো الإضمار যার শাব্দিক অর্থ আড়াল করা, গোপন করা। এই ভিত্তিতে হানাফী ফিকহবিদ মুহীত নামক গ্রন্থের লেখক সম্ভাবনাহীন সম্পদের সংজ্ঞা দেন: যা মূল মালিকানায় থাকে তবে তা এমনভাবে হাতছাড়া হয় যে, সাধারণত তা ফিরে পাওয়ার আশা করা যায় না।
ইমাম ইবনুল জাওযীর সহচরগণ বলেন, যিমার (ضمار/সম্ভাবনাহীন)-এর ব্যাখ্যা হলো এমন সম্পদ যার অস্তিত্ব আছে, তবে তা লাভ করার পথ রুদ্ধ। এর উদাহরণ, ছিনিয়ে নেওয়া সম্পদ; যদি মালিকের নিকট ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না থাকে, নিখোঁজ সম্পদ; যেমন: হারানো উট, পলাতক দাস। মালিকের তার ওপর কোনো সামর্থ্য না থাকার দরুন তা ধ্বংসপ্রাপ্ত বস্তুতুল্য, এমনিভাবে সমুদ্রের ভিতর পড়ে যাওয়া সম্পদ। কারণ, তা না থাকার সমতুল্য এবং অরণ্য-মরুতে প্রোথিত সম্পদ- যদি মালিক পুঁতে রাখার স্থান ভুলে যায়, (ঋণ গ্রহীতা কর্তৃক) অস্বীকার করা ঋণ- যদি ঋণী ব্যক্তি প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করে আর ঋণদাতার নিকট তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না থাকে।
আর সম্ভাবনাময় সম্পদ হলো এমন সম্পদ, মালিক যা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। কেননা, যার হাতে তা রয়েছে সে মালিকের মালিকানা স্বীকার করে এবং মালিক (সম্পদের) দাবি করলে অথবা ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হলে ফেরত দিতে অস্বীকার করে না। সম্ভাবনাময় সম্পদের আরেক শ্রেণী হলো এমন ঋণ যা আওতার মধ্যে রয়েছে এবং ঋণ প্রদানকারী যা উসুল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। কেননা ঋণের বস্তুটি বিদ্যমান, ঋণী ঋণ স্বীকারও করছে এবং সে তা ফেরত দিতে সক্ষম অথবা তা অস্বীকার করলেও মালিকের নিকট তার বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে। আর এটিকে এভাবে الرَّجَاءُ (আশা করা) হতে مَرْجُو (মারযু বা সম্ভাবনাময়) বলে নামকরণ করা হয়েছে, যার শাব্দিক অর্থ এমন ধারণা যার দ্বারা আনন্দ লাভ করা সম্ভব হয়।
যাকাতের অধ্যায়ে এই বিভাজনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাহীন সম্পদে যাকাত এবং তৎসংক্রান্ত বিধান নিয়ে ফিক্হবিদগণ মতভেদ করেছেন। (ضمار অধ্যায় দেখুন)
টিকাঃ
৩৩. আয-যারকানী আলাল মুআত্তা, খ. ২, পৃ. ১০৬
৩৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ২, পৃ. ১৭৪
৩৫. ইছারুল ইনসাফ ফি আছারিল খিলাফ, পৃ. ৬০
৩৬. হিদায়াসহ ফাতহুল কাদীর, খ. ২, পৃ. ১২২; মাজমাউল আনহুর, খ. ১, পৃ. ১৯৪; রদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ৯; আল-বিনায়া আলাল হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৫; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ২, পৃ. ২২৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ১, পৃ. ১৭৪; খিরাশী, খ. ২, পৃ. ১৮০; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ২, পৃ. ২৯৭; ইবনে আব্দুল বার, আল-কাফী, পৃ. ৯৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ১, পৃ. ৪০৯; তুহফাতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৩২; আল-মুবদি, খ. ২, পৃ. ২৯৫
৩৭. আল-কামুসুল মুহীত, আসাসুল বালাগা, পৃ. ২৯১; আবু ওবাইদ, আল-আমওয়াল, পৃ. ৪৬৬
📄 ছ. বর্ধনশীল হওয়ার দিক বিবেচনায়
বর্ধনশীল হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে ফিক্হবিদগণ সম্পদকে দুইভাগে বিভক্ত করেছেন। ১. বর্ধনশীল সম্পদ (نام) ; ২. স্থির সম্পদ (قنية)।
বর্ধনশীল সম্পদ হলো যা বৃদ্ধি পায় এবং আধিক্য লাভ করে। (বর্ধনশীল) শব্দটি النُّمُوّ থেকে নির্গত, যার আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া এবং আধিক্য লাভ করা। শরীয়তের দৃষ্টিতে বর্ধন দুই প্রকার: ১. প্রকৃত (حَقِيقِيٌّ); ২. অপ্রকৃত (تَقْدِيرِيٌّ)।
প্রকৃত বর্ধন হলো বংশ বিস্তার বা ব্যবসার মাধ্যমে বৃদ্ধি লাভ করা। আর অপ্রকৃত বর্ধন হলো সম্পদ মালিক অথবা মালিকের প্রতিনিধির হাতে থাকার দরুন তাতে বৃদ্ধির সক্ষমতা।
স্থির সম্পদ হলো এমন সম্পদ যা মানুষ নিজের (ব্যক্তিগত কাজের) জন্য গ্রহণ করে। ব্যবসার জন্য গ্রহণ করে না। আযহারী বলেন: স্থির সম্পদ হলো এমন সম্পদ যা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় এবং ব্যবহার করার কারণে সে তা বিক্রি করতে পারে না।
যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে বিভাজনের প্রভাব প্রকাশিত হয়। কারণ বর্ধনশীল সম্পদে যাকাত ফরয হয়; স্থির সম্পদে ফরয হয় না। যার বিস্তারিত বিবরণ যাকাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
টিকাঃ
৩৮. আল-মিসবাহ, আল-ফুরুক লিল আসকারী, খ. ১৭৩; আল-মুগরিব, রাদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ৭
৩৯. আযহারী, আয-যাহির, পৃ. ১৫৮; আন-নাজমুল মুস্তা'যাব, খ. ১, পৃ. ২৬৯; আল- মিসবাহুল মুনীর, আল-মুগরিব
বর্ধনশীল হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে ফিক্হবিদগণ সম্পদকে দুইভাগে বিভক্ত করেছেন। ১. বর্ধনশীল সম্পদ (نام) ; ২. স্থির সম্পদ (قنية)।
বর্ধনশীল সম্পদ হলো যা বৃদ্ধি পায় এবং আধিক্য লাভ করে। (বর্ধনশীল) শব্দটি النُّمُوّ থেকে নির্গত, যার আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া এবং আধিক্য লাভ করা। শরীয়তের দৃষ্টিতে বর্ধন দুই প্রকার: ১. প্রকৃত (حَقِيقِيٌّ); ২. অপ্রকৃত (تَقْدِيرِيٌّ)।
প্রকৃত বর্ধন হলো বংশ বিস্তার বা ব্যবসার মাধ্যমে বৃদ্ধি লাভ করা। আর অপ্রকৃত বর্ধন হলো সম্পদ মালিক অথবা মালিকের প্রতিনিধির হাতে থাকার দরুন তাতে বৃদ্ধির সক্ষমতা।
স্থির সম্পদ হলো এমন সম্পদ যা মানুষ নিজের (ব্যক্তিগত কাজের) জন্য গ্রহণ করে। ব্যবসার জন্য গ্রহণ করে না। আযহারী বলেন: স্থির সম্পদ হলো এমন সম্পদ যা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় এবং ব্যবহার করার কারণে সে তা বিক্রি করতে পারে না।
যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে বিভাজনের প্রভাব প্রকাশিত হয়। কারণ বর্ধনশীল সম্পদে যাকাত ফরয হয়; স্থির সম্পদে ফরয হয় না। যার বিস্তারিত বিবরণ যাকাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
টিকাঃ
৩৮. আল-মিসবাহ, আল-ফুরুক লিল আসকারী, খ. ১৭৩; আল-মুগরিব, রাদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ৭
৩৯. আযহারী, আয-যাহির, পৃ. ১৫৮; আন-নাজমুল মুস্তা'যাব, খ. ১, পৃ. ২৬৯; আল- মিসবাহুল মুনীর, আল-মুগরিব
📄 প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সম্পদের যাকাত
যাকাতের হকদারদের মাঝে যাকাত বিতরণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করা ফরয, এ দিক থেকে সম্পদ দুই প্রকার: ১. অপ্রকাশ্য (باطنة); ২. প্রকাশ্য (ظاهرة)।
সকল ফিক্হবিদের মত হলো, অপ্রকাশ্য সম্পদের যাকাত প্রদানের বিষয়টি মালিকের ওপর ন্যস্ত। অপর দিকে প্রকাশ্য সম্পদে রয়েছে বিস্তারিত বিবরণ যা ; যাকাত অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য।
যাকাতের হকদারদের মাঝে যাকাত বিতরণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করা ফরয, এ দিক থেকে সম্পদ দুই প্রকার: ১. অপ্রকাশ্য (باطنة); ২. প্রকাশ্য (ظاهرة)।
সকল ফিক্হবিদের মত হলো, অপ্রকাশ্য সম্পদের যাকাত প্রদানের বিষয়টি মালিকের ওপর ন্যস্ত। অপর দিকে প্রকাশ্য সম্পদে রয়েছে বিস্তারিত বিবরণ যা ; যাকাত অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য।
📄 অবৈধ সম্পদ থেকে নিষ্কৃতি
মুসলিমের হাতে থাকা সম্পদ যদি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে তা রেখে দেওয়া বৈধ হবে না। উক্ত সম্পদ পরিহার করতে হবে। উক্ত সম্পদ হয়তো অবিমিশ্র অবৈধ সম্পদ হবে যার বিধান এবং তা থেকে মুক্তি লাভের পদ্ধতি كَسْبٌ (কাস্ব) বা উপার্জন পরিভাষাতে আলোচিত হয়েছে। অথবা উক্ত সম্পদ মিশ্র হবে অর্থাৎ কিছু বৈধ আর কিছু অবৈধ হবে। এবং একটি আরেকটি থেকে পৃথক করা সম্ভব হবে না। সকল ফিক্হবিদের মত হলো, যার হাতে এই (মিশ্র) সম্পদ আছে তার অন্য সম্পদ থেকে এ অবৈধ পরিমাণ সম্পদ আলাদা করা এবং তা প্রাপ্য ব্যক্তিকে প্রদান করা আবশ্যক। আর তাহলেই অবশিষ্টাংশ তার হাতে বৈধরূপে থাকবে।
বৈধ-অবৈধ সম্পদের ক্ষেত্রে ইমাম আহমদ রহ. বলেন: সম্পদ যদি অধিক পরিমাণ হয় তাহলে অবৈধটুকু পৃথক করে অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করবে। আর যদি সম্পদ সামান্য পরিমাণ হয় তাহলে পুরোটা পরিহার করবে। কারণ, সামান্য সম্পদ থেকে যদি কিছু গ্রহণ করে তাহলে অবৈধ থেকে নিরাপদ থাকা কঠিন। পক্ষান্তরে অধিক পরিমাণ সম্পদের কথা ভিন্ন।
কতিপয় কট্টরপন্থী সুফীর মাযহাব হলো- যেমনটি ইবনুল আরাবি বলেন: বৈধ সম্পদের সাথে যদি অবৈধ সম্পদ এমনভাবে মিশে যায় যে, তা পৃথক করা যায় না। অতঃপর (অনুমানভিত্তিক কিছু) অবৈধ সম্পদকে পৃথক করা হয় তাহলে উক্ত সম্পদ বৈধ হবে না। কারণ, সম্ভাবনা আছে যে অংশ পৃথক করা হয়েছে সেই অংশটাই বৈধ আর যে অংশ রয়ে গেছে সেই অংশটাই অবৈধ।
টিকাঃ
৪০. ইবনে আরাবী, আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ২৪৫; বাদায়েউল ফাওয়াইদ, খ. ৩, পৃ. ২৫৭; জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, খ. ১, পৃ. ২০০
মুসলিমের হাতে থাকা সম্পদ যদি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে তা রেখে দেওয়া বৈধ হবে না। উক্ত সম্পদ পরিহার করতে হবে। উক্ত সম্পদ হয়তো অবিমিশ্র অবৈধ সম্পদ হবে যার বিধান এবং তা থেকে মুক্তি লাভের পদ্ধতি كَسْبٌ (কাস্ব) বা উপার্জন পরিভাষাতে আলোচিত হয়েছে। অথবা উক্ত সম্পদ মিশ্র হবে অর্থাৎ কিছু বৈধ আর কিছু অবৈধ হবে। এবং একটি আরেকটি থেকে পৃথক করা সম্ভব হবে না। সকল ফিক্হবিদের মত হলো, যার হাতে এই (মিশ্র) সম্পদ আছে তার অন্য সম্পদ থেকে এ অবৈধ পরিমাণ সম্পদ আলাদা করা এবং তা প্রাপ্য ব্যক্তিকে প্রদান করা আবশ্যক। আর তাহলেই অবশিষ্টাংশ তার হাতে বৈধরূপে থাকবে।
বৈধ-অবৈধ সম্পদের ক্ষেত্রে ইমাম আহমদ রহ. বলেন: সম্পদ যদি অধিক পরিমাণ হয় তাহলে অবৈধটুকু পৃথক করে অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করবে। আর যদি সম্পদ সামান্য পরিমাণ হয় তাহলে পুরোটা পরিহার করবে। কারণ, সামান্য সম্পদ থেকে যদি কিছু গ্রহণ করে তাহলে অবৈধ থেকে নিরাপদ থাকা কঠিন। পক্ষান্তরে অধিক পরিমাণ সম্পদের কথা ভিন্ন।
কতিপয় কট্টরপন্থী সুফীর মাযহাব হলো- যেমনটি ইবনুল আরাবি বলেন: বৈধ সম্পদের সাথে যদি অবৈধ সম্পদ এমনভাবে মিশে যায় যে, তা পৃথক করা যায় না। অতঃপর (অনুমানভিত্তিক কিছু) অবৈধ সম্পদকে পৃথক করা হয় তাহলে উক্ত সম্পদ বৈধ হবে না। কারণ, সম্ভাবনা আছে যে অংশ পৃথক করা হয়েছে সেই অংশটাই বৈধ আর যে অংশ রয়ে গেছে সেই অংশটাই অবৈধ।
টিকাঃ
৪০. ইবনে আরাবী, আহকামুল কুরআন, খ. ১, পৃ. ২৪৫; বাদায়েউল ফাওয়াইদ, খ. ৩, পৃ. ২৫৭; জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, খ. ১, পৃ. ২০০